Skip to main content

সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy)

·
1772 views

সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy অর্থনীতির এমন একটি বিষয় যেখানে একটি দেশের সামুদ্রিক পরিবেশ কিংবা সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতিকেই সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy বলা হয়। অর্থাৎ ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। অর্থাৎ সমুদ্র থেকে আহরণকৃত যেকোনো সম্পদ যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে বা যুক্ত হয়, তাই ব্লু-ইকোনমির পর্যায়ে পড়বে।

আমরা যে রেস্টুরেন্ট গুলোতে অক্টোপাস, চিংড়ি সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবার খেয়ে থাকি এটিও কিন্তু ব্লু ইকোনমির অংশ। এই সব সামুদ্রিক মাছ জেলেরা সমুদ্রে থেকে ধোরে বাজারে বিক্রি করে, সেখান থেকে কয়েক হাত ঘুরে রেস্টুরেন্ট গুলোতে আসে। এর মাধ্যমে জেলে, মধ্যস্থতাকারী, রেষ্টুরেন্ট মালিকগুলো অর্থনৈতিক ভাবে উপকৃত হয়, ফলশ্রুতিতে জাতীয় অর্থনীতিও লাভবান হয়। উপরের ঘটনাটি শুধু সুনীল অর্থনীতি সহজে বুঝানোর জন্য বলা হলো। কিন্তু সুনীল অর্থনীতির আকার, কার্যক্রম, সম্ভাবনা এর থেকেও অনেক অনেক বড়।

সমুদ্র পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। সমুদ্র, মাছ এবং মৎস্য সম্পদের মাধ্যমে খাবার চাহিদা মেটায়, মানুষ এবং পন্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সমুদ্র নানা ধরনের প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ যেমন বালি, লবণ, কবাল্ট, গ্রাভেল, এবং কপার ইত্যাদির আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং তেল ও গ্যাস আহরণের ক্ষেত্র হিসেবেও সমুদ্র অনেক প্রয়োজনীয়। সুনীল অর্থনীতির এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা, দেশের সম্পদ বৃদ্ধি করা, সামাজিক পুঁজির সৃষ্টি করা, দেশের জিডিপিতে অবদান রাখা, সার্বিক আয় বাড়ানো এবং সর্বোপরি পরিবেশে সঞ্চয়-বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।

সর্বপ্রথম ১৯৯৪ সালে বেলজিয়ামের অধ্যাপক গুন্টার পাউলি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব মডেল হিসেবে সুনীল অর্থনীতির ধারণা দেন।

সমুদ্র পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বব্যাপী সমুদ্র ঘিরে তিন থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে সমুদ্র সম্পদ নানাভাবে অবদান রাখছে। বিশ্বের ৪৩০ কোটি মানুষের ১৫ ভাগ প্রোটিনের জোগান দিচ্ছে সামুদ্রিক মাছ, উদ্ভিদ ও প্রাণী। তাছাড়া সমুদ্রতলের গ্যাস ও তেলক্ষেত্র থেকে পৃথিবীর ৩০ ভাগ গ্যাস ও জ্বালানি তেল সরবরাহ হচ্ছে।

More to Read