Paris Agreement

জলবায়ু পরিবর্তন বা জলবায়ু বিজ্ঞান কোন সহজ বিষয় নয় এবং এটি মোকাবেলা করতে তাই সকল দেশ এবং পৃথিবীর সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। সেটি বুঝতে পেরেই, এই সংকট মোকাবেলার জন্য বহু সময়ে, অনেক রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে, অনেক চুক্তি বা নীতি প্রণয়ন করেন। পৃথিবীতে এমন যত চুক্তি রয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বড় চুক্তিটি হচ্ছে প্যারিস চুক্তি।
Key Points
- জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ এবং এর ক্ষতিকার প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষার জন্য, প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের COP-21 সম্মেলনে, প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরের বছর ৪ঠা নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।
- এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রাক-শিল্প লেভেল (Pre-industrial levels) এর উপরে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস (৩.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
- সদস্য দেশগুলো "Nationally determined contributions" (NDCs) তৈরি করে, যা তাদের ক্ষতিকর গ্যাসগুলোর নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনার এবং অভিযোজন ব্যবস্থার রূপরেখা দেয়।
- এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২১ শতকের শেষার্ধে, গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন এবং এর অপসারণের একটি ভারসাম্য অর্জন করা।
Paris Agreement কি
মনে আছে, কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সময়ের কথা? পৃথিবী মনে হচ্ছিল যেন কোন একটা সাইন্স ফিকশন মুভির মঞ্চ। লকডাউনে লন্ডন, নিউইয়র্ক, সাংহাই, মেলবোর্ন, ঢাকা, কোভিড-১৯ মহামারিতে সব যেন রাতারাতি বদলে গেল। থমকে গেল পৃথিবী, ভেঙে পড়ল চিকিৎসা ব্যবস্থা, সারা পৃথিবী হয়ে উঠল যেন এক মৃত্যুপুরী।
কিন্তু যদি বলি, এই করোনা মহামারীর এই বিপর্যয়, আগামীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে তার তুলনায় কিছুই নয়? এটি এখন প্রমাণিত যে, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের হার বর্তমানে আশংকাজনক হারে বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, মেরুর বরফ গলে যাচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। গবেষকেরা বুঝতে পারছেন, যদি এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আমাদের মোকাবেলার বাইরে চলে যাবে।
জলবায়ু পরিবর্তন খুব নতুন কোন আলোচনার বিষয় নয়, বিগত প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর যাবতই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে আসছে পৃথিবীতে। কিন্তু অতীতে এই পরিবর্তনের হার কম ছিল বলে, এই বিষয় নিয়ে গবেষকদের এত বেশি মাথাব্যথা ছিল না। ঝামেলা শুরু হয় উনবিংশ শতাব্দীর পর থেকে। তখন থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের হার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ছাপিয়ে যায় অতীতের সব রেকর্ডকে। এবং বর্তমানে এই অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে।
তাই পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য ২০১৫ সালে, বিশ্বের সব দেশ একত্রিত হয়ে স্বাক্ষর করে প্যারিস চুক্তি। পৃথিবীকে সবুজ সতেজ রাখা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কমানো ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে, এই প্যারিস চুক্তি যেন আশার আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Conference of the Parties (COP) এর ২১ তম সম্মেলনে প্যারিসে, এই যুগান্তকারী প্যারিস চুক্তির খসড়া প্রণয়ন করা হয়। প্রতিবছর এই সম্মেলন ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু সে বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সরকার প্রধানরা তাদের রাষ্ট্রীয় কাজের জন্য সম্মেলন শেষ না করেই চলে যেতে বাধ্য হয়। বায়ুমণ্ডলে বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী এই দুই দেশের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে তখন চুক্তিটি তখন স্বাক্ষরিত না হলেও, পরের বছরের ২২ এপ্রিল চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।
প্যারিস চুক্তির ইতিহাস
পৃথিবীর ইতিহাসে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত যত চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় চুক্তি হচ্ছে প্যারিস চুক্তি। এই চুক্তি ২০১৫ সালের স্বাক্ষরিত হলেও শাসক ও বিশেষজ্ঞরা এমন চুক্তির সন্ধান করছিলেন বহুকাল আগে থেকেই। জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত এই চুক্তিটি, অতীতের এরকম অনেক চুক্তি বা সমঝোতার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসাবে এবং এর প্রভাব সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক মতবাদ ও তথ্যগুলো মূল্যায়ন এবং নীতি নির্ধারকদের এ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য, ১৯৮৮ সালে তাদের জাতিসংঘ কর্তৃক Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯২ সালে, ব্রাজিলের রিও ডি জেনারিতে অনুষ্ঠিত আর্থ সামিটে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণের জন্য The United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল বায়ুমণ্ডলের গ্রিনহাউজ গ্যাসের ঘনত্ব কমিয়ে এনে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদজনক অবস্থা থেকে পৃথিবীতে রক্ষা করা।
প্রথমবারের মতো উন্নত দেশগুলোর জন্য বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাসগুলো নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, ১৯৯৭ সালে পাশ করা হয় কিয়োটো প্রোটোকল। যদিও নানা জটিলতার কারণে এই আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০০৫ সালে এবং খুব অল্প সংখ্যক দেশ এতে সম্মতি দিয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে, কোপেনহেগেন-এ Conference of the Parties (COP) এর ১৫ তম সম্মেলনে, কোপেনহেগেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন কমানোর জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিল।
২০১০ সালে, মেক্সিকোতে, COP-এর পরবর্তী সম্মেলনে Green Climate Fund (GCF) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত সকল কর্মকান্ডে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। সাথে সাথে বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের হার কমিয়ে আনতে সচেষ্ট করা।
এরপর ২০১৫ সালে প্যারিসে COP-21 সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরে অংশগ্রহণ করেন। ব্যাপক আলোচনার পরে বিশ্বের সবগুলো দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গঠনের জন্য একমত পোষন করে। চুক্তিটি ওই সময়ে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং, রাষ্ট্রীয় কাজে সম্মেলন ত্যাগ করলে, চুক্তিটি আর স্বাক্ষর করা হয়নি।
তাই এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের অনুপস্থিতে চুক্তিটি তখন আলোর মুখ না দেখলেও, পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল নিউইয়র্ক সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত করা হয় বিখ্যাত প্যারিস চুক্তি। একই বছর ৪ঠা নভেম্বর থেকে চুক্তি কার্যকর করা হয়।
Paris Agreement এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা কমিয়ে, পৃথিবীকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হাত থেকে রক্ষা ও বসবাস উপযোগী রাখার লক্ষ্যে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্যারিস চুক্তির প্রাথমিক লক্ষ্য হল বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা, Pre-industrial levels এর উপরে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর নীচে সীমাবদ্ধ করা। পাশাপাশি, সম্ভব হলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
চুক্তিতে দেশগুলিকে এই তাপমাত্রার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চুক্তির অংশ হিসাবে, প্রতিটি দেশের জন্য এই ক্ষতিকর গ্যাসগুলোর নির্গমন হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়, যা "Nationally determined contributions" (NDCs) নামে পরিচিত।
চুক্তির এসব লক্ষ্য পূরণের জন্য উন্নত দেশগুলো, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা।
সবশেষে প্যারিস চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল, একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ এবং বায়ুমণ্ডল থেকে তাদের অপসারণের একটি ভারসাম্য অর্জন করা।
কিভাবে প্যারিস চুক্তি কাজ করে
প্যারিস চুক্তি সমন্বিত প্রচেষ্টায়, বিশ্বের সবগুলো দেশের অংশগ্রহণে, একটি বিস্তৃত কর্মপরিসরে কাজ করে থাকে। এটি মূলত পাঁচ বছরের জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কাজ করে।
প্রতিবছর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশ তাদের জলবায়ু সংক্রান্ত কর্ম পরিকল্পনা ও গৃহীত পদক্ষেপ এবং এর সর্বশেষ আপডেট জমা দিবে। প্রতিটি দেশের এই "Nationally determined contributions" (NDCs)-এর উপর ভিত্তি করে দেশটির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন কমানোর রূপরেখা এবং ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
চুক্তিটি তাপমাত্রা লক্ষ্য এবং অন্যান্য উদ্দেশ্য অর্জনের সম্মিলিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করার জন্য, প্রতি পাঁচ বছরে একটি Global Stocktake-এর আয়োজন করে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই Stocktake-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশগুলির NDCs-এর পর্যাপ্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা পর্যালোচনা করা। এবং চুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে, তা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো যাতে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের এই তাপমাত্রার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারে এবং সঠিকভাবে অভিযোজন করতে পারে, সেজন্য উন্নত দেশগুলো প্রতি বছর তাদেরকে আর্থিক সহায়তা ও জলবায়ু-বান্ধব প্রযুক্তিগুলো প্রদান করে।
প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে, দেশগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে এবং চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে Conference of the Parties (COP)-এর বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই মিটিংগুলি জলবায়ু কর্মকে আরও পরিমার্জিত ও শক্তিশালী করতে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মোটকথা, প্যারিস চুক্তি "Nationally determined contributions" (NDCs), বৈশ্বিক তাপমাত্রা লক্ষ্য, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা ব্যবস্থা, নিয়মিত স্টকটেকিং, আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং চলমান আলোচনার মাধ্যমে সবগুলো দেশের সমন্বয়ে কাজ করে থাকে। এটি কার্যকরভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
প্যারিস চুক্তি ও আমেরিকা
বায়ুমণ্ডলে সর্বমোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ১৫ শতাংশ নিঃসরণ করে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা একক জাতি হিসেবে, এই ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণের মধ্যে দ্বিতীয়। তাই প্যারিস চুক্তির কার্যকারীতার ক্ষেত্রে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরী ছিল।
২০১৫ সালে যখন প্যারিস চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়, সে সময়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস চুক্তির আলোচনা ও গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তখন মার্কিন জনগণও এই চুক্তি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন।
কিন্তু বিপত্তি বাজে বারাক ওবামা শাসনামলের অবসান ঘটলে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে, ২০১৭ সালের জুনে, প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে তিন বছর লাগে বলে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের ৪ঠা নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারিস চুক্তি ত্যাগ করে।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে নবাগত রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণ করলে, তিনি পুনরায় প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন। ফলে মাত্র ১০৭ দিন পরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে প্যারিস চুক্তিতে পুনরায় যোগদান করে।
এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্যারিস চুক্তির অধীনে নতুন NDC ঘোষণা করে, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, ২০০৫ সালের নির্গমনের হারের চেয়েও ৫০-৫৫% কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় দেশটি। এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বেশ কয়েকটি শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে, ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে, COP-26 সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপসংহার
বলা হয়, পৃথিবীতে আমরা যে আচরন গুলো করি, তা আত্মহত্যার সামিল। অর্থাৎ বর্তমানে, পরিবেশের প্রতি আমরা যা কিছু করে যাচ্ছি না কেন, সবকিছুর মাধ্যমে যেন আমরা নিজেদের মরন ডেকে আনছি। তাই এই সুন্দর বিশ্বকে বসবাস উপযোগী করে রাখতে পরিবেশ ধ্বংসকারী এসব কর্মকাণ্ড থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা যে হারে বাড়ছে, তাতে ছোট্ট সুন্দর এই পৃথিবীকে বসবাস উপযোগী রাখতে দরকার ছিল খুব দ্রুত কোন শক্ত ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্যারিস চুক্তি ঠিক এমনই একটি যুগান্তকারী চুক্তি যা আগামী বিশ্বকে বসবাস উপযোগী রাখতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা করতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।
- https://www.nrdc.org/stories/paris-climate-agreement-everything-you-need-know#sec-agreements
- https://www.un.org/en/climatechange/paris-agreement
- https://www.sciencedirect.com/topics/earth-and-planetary-sciences/paris-agreement
Next to read
সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস (Social Business Model Canvas)


কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)

ফ্রিমিয়াম মডেল (Freemium Model)

মার্কেটিং এর ৭'পি (7P’s of Marketing)

সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)

লোগোর প্রকারভেদ (Types of Logos)

নিট মুনাফা (net profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং কিভাবে হিসাব করবেন

হোরেকা (HORECA)

মার্কেটিং এ ৫ সি (5 C's Of Marketing)
