GeoRenus Editorial Team

STEER Analysis হচ্ছে একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বাইরের এক বা একাধিক কমপোনেন্ট অ্যানালাইজ করা হয় এবং সেই অ্যানালিসিস থেকে প্রাপ্ত ইনসাইট ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। STEER Analysis - এর কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে - Sociocultural, Technological, Economic, Environmental এবং Regulatory Factors।
গত শতাব্দীর তুলনায় বর্তমান শতাব্দীতে যেকোনো ইন্ডাস্ট্রির ডায়নামিকস অনেক দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে প্রতিটি কোম্পানীকে নিজেদের সফলতা ধরে রাখার জন্য বেশ কিছু বাহ্যিক ফ্যাক্টর হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে। আর যতো সময় যাচ্ছে, এই ফ্যাক্টরগুলো হয়ে উঠছে ততোই বেশি শক্তিশালী। যার কারণে এখন যেকোনো কোম্পানীর সফলতার বড় একটি অংশ নির্ভর করে ঐ কোম্পানীর বাহ্যিক ফ্যাক্টরগুলো হ্যান্ডেল করার সামর্থ্যের উপর।
আর বাহ্যিক ফ্যাক্টরগুলোকে সামলাতে চাইলে আগেই সেগুলোকে বেশ ভালোভাবে অ্যানালাইজ করা প্রয়োজন। এই অ্যানালাইজ করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে STEER Analysis মেথড। আজকের লেখায় আমরা STEER Analysis - এর আদ্যোপান্ত জানবো।
STEER Analysis হচ্ছে একটি স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট টুল, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন বাহ্যিক উপাদানগুলোকে অ্যানালাইজ করা হয় যা ঐ প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। STEER শব্দটি ৫টি বাহ্যিক পরিবেশকে রিপ্রেজেন্ট করে, যথা - Sociocultural, Technological, Economic, Environmental এবং Regulatory। স্ট্র্যাটেজিকালি এসব উপাদানকে অ্যানালাইজ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ সব অপরচুনিটি এবং পটেনশিয়াল রিস্ক যাচাই করতে পারে।
মোট ৫টি উপাদান STEER Analysis - এর অন্তর্ভুক্ত। এবার উপাদানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
STEER Analysis - এর এই কমপোনেন্ট মূলত এমন সব সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোকে নিয়ে গঠিত যা প্রতিষ্ঠানের অপারেশনকে প্রভাবিত করতে পারে। সামাজিক নিয়মনীতি, কালচারাল ট্রেন্ড, ভোক্তাদের প্রিফারেন্স এবং লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিষয় এখানে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
STEER Analysis - এর এই কমপোনেন্ট বিভিন্ন টেকনোলজিকাল ট্রেন্ড মনিটর করে। বর্তমানে প্রতিনিয়ত এমন সব প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে যা বিভিন্ন কোম্পানীর জন্য ব্যবসায় করা অনেক কঠিন বা অনেক সহজ করে দিচ্ছে। তাই প্রযুক্তিগত ট্রেন্ড মনিটর করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো আসন্ন সুযোগের যথাযথ ব্যবহার এবং ঝুঁকির মোকাবেলা করতে পারে।
STEER Analysis - এর এই কমপোনেন্ট মূলত বিভিন্ন আর্থিক দিকগুলোর দিকে নজর রাখে যেমন - অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, করের হার, আমদনি-রপ্তানি ব্যয় ইত্যাদি। ইকোনমিক ফ্যাক্টরগুলো সরাসরি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা, মার্কেট ডিমান্ড এবং প্রতিষ্ঠানের প্রফিটাবিলিটিকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এগুলোর দিকে নজর রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
STEER Analysis - এর এই কমপোনেন্ট মূলত পরিবেশের দিকে নজর রাখে। সাস্টেইনেবল প্র্যাকটিস, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, কার্বন নির্গমন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ইত্যাদি এই কমপোনেন্ট - এর আওতাভুক্ত। উদাহরণস্বরুপ - বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন “গ্রিন ফার্মিং” কৃষি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তারা পরিবেশের ক্ষতি করে না, এমন সব উপায়ে ফসল উৎপাদন করছেন বলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফসল রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছেন।
STEER Analysis - এর এই কমপোনেন্ট মূলত বিভিন্ন সরকারি বিষয়ের দিকে নজর রাখে। ট্রেড পলিসি, ব্যবসায় আঈন, আমদানি-রপ্তানি নীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিষয় - এর আওতাভুক্ত। সরকারের বিভিন্ন নিয়ম-নীতি পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানের অপারেশন ক্ষতির মুখে পরতে পারে, তাই এমন পরিস্থিতি এড়াতে নিয়ম-নীতির পর্যাপ্ত মনিটরিং-এর কোনো বিকল্প নেই।
STEER Analysis - এর কমপোনেন্টগুলো সম্পর্কে আমরা জেনেছি। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে যে তাহলে STEER Analysis এবং SWOT Analysis - এর মাঝে পার্থক্য কী? SWOT Analysis - এর কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে Internal Strengths এবং Weaknesses আর External Threats এবং Opportunities। অর্থাৎ, SWOT Analysis প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় ধরনের কমপোনেন্ট কনসিডার করে।
অপরদিকে STEER Analysis মূলত প্রতিষ্ঠানের বাইরের কমপোনেন্টগুলোর দিকে ফোকাস করে।
একটি নির্দিষ্ট স্ট্রাকচারাল মেথড ব্যবহার করে STEER Analysis করা হয়। নিম্নে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো -
STEER Analysis - এর শুরুতে বিভিন্ন কমপোনেন্ট সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে। মার্কেট রিসার্চ, সরকারি রিপোর্ট, ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট, ব্লগ/আর্টিকেল, জার্নাল ইত্যাদি থেকে তথ্য কালেক্ট করা যাবে।
এবার সবগুলো কমপোনেন্টকে আলাদা আলদা করে অ্যানালাইজ করতে হবে। এই কাজে পটেনশিয়াল অপরচুনিটি এবং ঝুঁকি আইডেন্টিফাই করার জন্য SWOT অ্যানালিসিসের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। মূলত কোন কমপোনেন্ট আপনার প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে প্রভাবিক করছে বা আদৌ করছে কি না তা খুজে বের করাই এই স্টেপের উদ্দেশ্য।
ভালোভাবে অ্যানালাইজ করলে সেই কমপোনেন্টগুলোর মাঝে বিভিন্ন ট্রেন্ড দেখতে পাবেন। সেগুলো আইডেন্টিফাই করে নোট করে ফেলুন।
যেসব ট্রেন্ড আইডেন্টিফাই করেছেন এখন সেগুলোর ঝুঁকি কমানোর জন্য এবং সুযোগগুলো গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপ করুন।
মনে করুন আপনার একটি প্যাকেজিং ম্যাটারিয়াল তৈরির কারখানা রয়েছে। এখন আপনি আপনার ম্যাটারিয়ালগুলো এমনভাবে তৈরি করতে চাইছেন যাতে করে তা পরিবেশবান্ধব হয়। এই লক্ষ্যে আপনি ঠিক করলেন যে আপনি STEER Analysis করবেন।
সোসাইটাল ফ্যাক্টরগুলো অ্যানালাইজ করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে যতো দিন যাচ্ছে, মানুষ ততোই পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুকছে। তাই আপনার প্যাকেজিং ম্যাটারিয়াল যদি পরিবেশবান্ধব হয়, তাহলে আপনার ক্রেতারা তাদের পণ্যের জন্য এটা বেনেফিট হিসেবে অ্যাডভার্টাইজ করতে পারবেন। এতে করে তাদের’ও বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার’ও বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার কল্যাণে এখন পরিবেশবান্ধব ম্যাটারিয়াল তৈরি করা অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠেছে। আপনি চাইলে বায়ো-ডিগ্রেডেবল এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি কাচাঁমাল খুব সহজেই সোর্সিং করতে পারবেন।
পরিবেশবান্ধব ম্যাটারিয়াল তৈরি করে তা কমদামে ক্রেতাদের সাপ্লাই করার মাধ্যমে আপনি বিক্রয় বৃদ্ধি করতে পারবেন। আবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যেহেতু এখন আগের থেকে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আপনার ক্রেতাদের পণ্য বিক্রয় করতে কোনো সমস্যা ফেস করতে হবে না।
পরিবেশবান্ধব ম্যাটারিয়াল তৈরি করার মাধ্যমে আপনি প্লাস্টিক-দূষণ-এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে পারবেন। এতে করে আপনার প্রতিযোগীরা’ও ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রোডাক্ট তৈরি করতে বাধ্য হবে। সার্বিকভাবে এতে করে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আমাদের পরিবেশ।
এখন সব দেশের সরকার দূষণ-বিরোধী পণ্য বেশি বেশি প্রমোট করছে। তাই সম্ভাবনা আছে যে আপনার পরিবেশবান্ধব ম্যাটারিয়ালের মাধ্যমে আপনি কর-মওকুফ এবং রপ্তানি সুবিধাসহ আরো অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের বাইরের সকল কমপোনেন্ট বিবেচনা করে বোঝা হচ্ছে যে আপনার পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ম্যাটারিয়াল তৈরির সিদ্ধান্ত বেশ ফলপ্রসু হবে।
STEER Analysis ব্যবহার করে বর্তমান বিশ্বের বেশ নামকরা কিছু কোম্পানী সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করছে। এই মেথড ব্যবহার করে তারা বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে। সেগুলো হলো -
STEER Analysis ব্যবহার করে যেহেতু মূলত বাহ্যিক উপাদানগুলো সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত কালেক্ট করা হয়, তাই এই তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি ডেটা-ড্রিভেন ডিসিশান নিতে পারে। এতে করে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সেই সিদ্ধান্ত থেকে আরো বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়।
STEER Analysis ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকেই আইডেন্টিফাই করতে পারে। এতে করে তারা দ্রুত বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিকাল স্টেপ নিতে পারে যার মাধ্যমে সেই ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হয়।
STEER Analysis - এর মাধ্যমে কোম্পানীগুলো আগে থেকেই বিভিন্ন পটেনশিয়াল অপরচুনিটি আইডেন্টিফাই করতে পারে। এতে করে তারা সেই সুযোগগুলো গ্রহণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রফিটাবিলিটি বৃদ্ধি করতে পারে।
সর্বোপরি, উপরিউক্ত কাজগুলো করার মাধ্যমে কোম্পানী তার স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষা করতে পারে। আর এই কাজে STEER Analysis তাদের সাহায্য করে।
অনেকগুলো সুবিধার পাশাপাশি STEER Analysis - এর বেশ কিছু অসুবিধা’ও রয়েছে।
১। আপনাকে বুঝতে হবে যে আমাদের বাহ্যিক পরিবেশ সদা পরিবর্তনশীল। আর STEER Analysis যেহেতু নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে করা হয়, তাই সকল ধরণের সমস্যার জন্য এটি কার্যকর নয়।
২। সংগ্রহ করা ডেটা থেকে অ্যানালিসিস করে পাওয়া ইনসাইট আসলে কিভাবে ব্যবহার করা হবে তা মানুষের জাজমেন্ট-এর উপর নির্ভর করে। আর একেকজনের পার্সপেক্টিভ একেকরকম হতে পারে। এতে কনফ্লিক্ট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
৩। STEER Analysis মূলত ম্যাক্রো লেভেলের উপাদানগুলোর দিকে নজর রাখে। কিন্তু একইসময়ে মাইক্রো-লেভেলের উপাদানগুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই সবচেয়ে ভালো হয় STEER Analysis এবং SWOT Analysis একসাথে করলে।
৪। STEER Analysis সফল হওয়ার জন্য কালেক্টেড ডেটা অনেক বেশি অ্যাকুরেট হতে হবে। ভুল ডেটা থেকে অ্যানালিসিস করলে প্রাপ্ত ইনসাইট ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
প্যাকেজিং ম্যাটারিয়ালের উদাহরণটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানের বাইরের কমপোনেন্টগুলো অ্যানালাইজ করার জন্য STEER Analysis ঠিক কতো কার্যকর। আপনার প্রতিষ্ঠানের STEER Analysis করার জন্য আপনি উপরিউক্ত পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার প্রতিষ্ঠানের নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।








