বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর: চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কার (বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে)

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বেড়াজালে আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর জর্জরিত। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং সেক্টর থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে লক্ষাধিক কোটি টাকা। ব্যাংকিং সেক্টর পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে দিয়েছেন। সবার আগে এনশিওর করতে হবে যাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আর কোনো ব্যাংক কাউকে ঋণ না দিতে পারে।
Key Points
- বাংলাদেশে নন-পারফর্মিং লোনের শতকরা হার ৯.৩২% যেখানে বিশ্বব্যাপী এই হার ৬.৮৮%। একটি সুস্থ-স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য এই হার সাধারণত ২% - এর মাঝে থাকা উচিত।
- যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে ব্যাংকগুলো অধিক মুনাফা লাভের আশায় ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেতে যথাযথ ঝুকিঁ ব্যবস্থাপনা ছাড়াই অনেক লোন দিয়েছে।
- বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে সালমান এফ রহমান একাই ৭টি ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩৬৮৬৫ কোটি টাকা।
- স্বচ্ছতা বৃদ্ধির কাজে একটি পৃথক ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা যায়। যাদের মূল কাজ হবে ব্যাংকিং সেক্টর দেখাশোনা এবং রিপোর্ট পর্যালোচনা করা।
ভূমিকা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকিং সেক্টর সর্বদা সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঋণনির্ভর অর্থনীতির প্রায় পুরোটাই তাই আমাদের ব্যাংকগুলোর উপর নির্ভরশীল। সরকারি, বেসরকারী এবং বৈদেশিক ব্যাংকগুলো নেটওয়ার্কের সাহায্যে আমাদের শিল্পের বিকাশ ঘটেছে ও বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বিগত সরকারের ১৬ বছরের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে আমাদের এই ব্যাংকিং সেক্টরকেই। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সাহায্যে এই সেক্টর থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় লক্ষ কোটি টাকা। ফলস্বরুপ, ব্যাংকগুলো এখনো তারল্য ঘাটতি, কুঋণ ও মূলধন স্বল্পতায় ভুগছে। ব্যাংকিং সেক্টর ভেঙে পরলে দেশের অর্থনীতি আরো অনেক বছর পিছিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘
তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব দ্রুতই এই সেক্টর পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও, এর কোনো বিকল্প এই মুহুর্তে নেই। আজকের লেখায় আমরা জানার চেষ্টা করবো বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অবস্থা এবং এই সেক্টর কিভাবে পুনর্গঠন করা যাবে সেই সম্পর্কে।
ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর বর্তমানে মূলত বিশাল পরিমাণ কুঋণের শিকার। শুধু একটি বা দুটি নয়, অনেকগুলো বড় বড় ব্যাংক থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিশাল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দেয়নি। এই নন-পারফর্মিং লোনগুলোর কারণে পুরো ব্যাংকিং সেক্টরের এখন নাজেহাল অবস্থা। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে নন-পারফর্মিং লোনের শতকরা হার ৯.৩২% যেখানে বিশ্বব্যাপী এই হার ৬.৮৮%। একটি সুস্থ-স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য এই হার সাধারণত ২% - এর মাঝে থাকা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা সাজেস্ট করে থাকেন।
জুন, ২০২৩ এর হিসাবমতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের মোট কুঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.২৫ লাখ কোটি টাকা। মার্চ, ২০২৩ -এ সোনালী ব্যাংকের কুঋণের পরিমাণ ছিল ১৪৯৮৮ কোটি টাকা। এই সংখ্যা ডিসেম্বর, ২০২২ - এ ছিল ১৩৩৪০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক ও রুপানী ব্যাংকেও কুঋণের পরিমাণ ভয়াবহ পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যথাক্রমে ৩০৪৯৫ কোটি টাকা ও ১০৩৫৭ কোটি টাকা। আরো ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে বেসিক ব্যাংকের, যেখানে তাদের মোট প্রদত্ত ঋণের ৬৩ শতাংশই হচ্ছে কুঋণ।
একইসাথে ব্যাংকগুলো ভুগছে বিশাল পরিমাণ মূলধন ঘাটতিতে। জনতা, অগ্রণী, রুপালী ও বেসিক ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়ে ১১০০০ কোটি টাকায়। যার ফলে তারা ব্যাসিল-৩’র রেগুলেটরি স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করতে পারছে না, আবার গ্রাহক পর্যায়েও তৈরি হয়েছে অনাস্থা।
বেসরকারি খাতে এই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এই ব্যাংকের কুঋণের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকায়। মূলত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এস. আলম গ্রুপ ২০১৮ সালে ব্যাংকটি দখল করার পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ব্যাংকটি জর্জরিত। তাই ব্যাংকটির কুঋণের বেশিরভাগ অংশের পেছনেই দায়ী এই গ্রুপ। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের সবচেয়ে বড় প্লেয়ার হিসেবে পরিচিত এই ব্যাংক এখন মূলধন স্বল্পতা ও তারল্য ঘাটতিতে ভুগছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর উপরই এখন এই ব্যাংকের টিকে থাকা নির্ভর করছে।
এভাবেই বিগত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশাল পরিমাণ অর্থ কোনো প্রকার ঝুকিঁ বিবেচনা না করেই ঋণ হিসেবে প্রদান করেছিল ব্যাংকগুলো। যার ফলে এখন এই লোনগুলো কুঋণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে এবং এর মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনীতিকে।
ব্যাংকিং সেক্টরের কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ
ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অবস্থা তো জেনে নিলাম। এখনো এই অবস্থার পেছনের মূল কারণগুলো সম্পর্কে জানা যাক।
১। উচ্চ-মাত্রার নন-পারফর্মিং লোন
এই সময়ে ব্যাংকিং সেক্টরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নন-পারফর্মিং লোন বা কুঋণ। দীর্ঘদিন যাবৎ এই অবস্থা বিরাজ করলে ব্যাংকিং সেক্টর তার মুনাফা লভ্যতা হারাবে এবং একটা সময়ে এই সেক্টরে আর মূলধন পাওয়া যাবে না। আর যথাযথ উপায়ে ব্যবসায় পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যেহেতু একে অপরের উপর নির্ভরশীল, তাই দেখা যাবে যে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতেও তারা হিমশিম খাচ্ছে। আবার উচ্চ-মাত্রার নন-পারফর্মিং লোন থাকলে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদান কমিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, ফলে তারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকে বিঘ্নিত করে।
২। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির অভাব
এখন প্রশ্ন উঠবে যে, এতো বিশাল পরিমাণ নন-পারফর্মিং লোন তৈরি হলো কীভাবে? উত্তর বেশ সহজ। যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে ব্যাংকগুলো অধিক মুনাফা লাভের আশায় ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেতে যথাযথ ঝুকিঁ ব্যবস্থাপনা ছাড়াই অনেক লোন দিয়েছে। লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন সব প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পেয়েছে, যাদের আসলে কোনো ব্যবসায়ই নেই। তাই ব্যাংকিং সেক্টরের আজকের এই অবস্থার পেছনে শুধু ব্যাংকগুলোর অসাধু কর্মকর্তাগণই দায়ী নন, বাংলাদেশ ব্যাংক’ও সমানভাবে দায়ী। ব্যাংকিং সেক্টরের সুপ্রিম কন্ট্রোলার হওয়া স্বত্ত্বেও তারা যথাযথভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
৩। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের অনেক গভীরে চলে গিয়েছে। আবার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে দেয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঋণ। যার ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে, এমন মানুষজনের জন্য ব্যাংকগুলো নিজেদের মূলধনের বেশিরভাগই ঋণ হিসেবে দিয়ে দিয়েছে। সহজ কথায় বলা যায়, এস. আলম গ্রুপ, সালমান এফ রহমানের মতো অসাধু চক্র ব্যাংকগুলোকে নিজেদের ব্যাক্তিগত টাকা ছাপানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে এতোদিন। বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে সালমান এফ রহমান একাই ৭টি ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩৬৮৬৫ কোটি টাকা।
৪। মূলধন ঘাটতি ও দেউলিয়াত্বের ঝুকিঁ
বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলো মারাত্মক মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর সমন্বিত মূলধন ঘাটতি ইতোমধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর ফলে তারা ব্যাসেল-৩’র ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্ট পূরণ করতে পারছে এবং দেউলিয়াত্বের ঝুকিঁ রয়েছে। এতোদিন বাংলাদেশ ব্যাংক সবার নজর এড়িয়ে এই ব্যাংকগুলোর জন্য নোট ইস্যু করে ঋণ দিয়ে দিয়ে এগুলোকে টিকিয়ে রেখেছে। তবে এখন সকল তথ্য বেরিয়ে আসায় ব্যাংকগুলো মারাত্মক দেউলিয়াত্বের ঝুকিঁর সম্মুখীন।
৫। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অর্থনীতিতে নেগেটিভ প্রভাব
ব্যাংকিং সেক্টরে এইসব দুর্নীতির কারণে এই সেক্টরের উপর এখন আর দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। ফলে ব্যাংকগুলো নতুন করে আর বিনিয়োগ পাচ্ছে না এবং নিজেদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না। এতে করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে এবং কর্মসংস্থান কমে যাবে। অনাস্থার কারণে সাধারণ গ্রাহকরা ইতোমধ্যে ব্যাংক থেকে প্রচুর পরিমাণ ডিপোজিট তুলে নিয়েছেন। ফলে তারল্য ঘাটতি’ও ব্যাংকগুলোর জন্য একটি মেজর সমস্যা হিসেবে দাড়িয়েছে।
সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য সমাধান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাত্রই নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরে নজর দিয়েছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যিনি জানিয়েছেন যে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করা হবে। আবার কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকায় সেগুলো ভেঙে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই ব্যাংকিং সেক্টরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে এই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকারকে নিতে হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রথমেই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত একটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন করা। এই ফোর্সের কাজ হবে সুষ্ঠু অডিটের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর নন-পারফর্মিং লোনের সঠিক পরিমাণ বের করা। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলো এবং বেসরকারী ব্যাংকগুলোর মাঝে যেগুলোর অবস্থা বেশি নাজুক (যেমন - আইবিবিএল) সেগুলোর দিকে ফোকাস করতে হবে। অডিটের পর এই ফোর্সের কাজ হবে রিকভারি প্ল্যানের মাধ্যমে লোনের অর্থ উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। প্রয়োজনে প্রশাসন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাহায্য নেয়া।
দ্বিতীয়ত, এই সেক্টরের উপর থেকে মানুষের আস্থা সরে গিয়েছে। তাই এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে অতিসত্ত্বর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হতে পারে আস্থা ফিরিয়ে প্রথম পদক্ষেপ। ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের নন-পারফর্মিং লোনের রেট, মূলধণের অবস্থা, তারল্যের অবস্থা ইত্যাদি সম্বলিত রিপোর্ট পাবলিশ করতে হবে। এতে করে ব্যাংকগুলোর ম্যানেজমেন্ট যথাযথভাবে কাজ করছে কি না তা সরকার ও জনগণ জানতে পারবে।
তৃতীয়ত, এই সেক্টর দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করতে হবে। উদাহরণস্বরুপ, বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসন অফার করা যায়, যাতে করে তারা কোনো ধরণের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যাতীত স্বাধীনভাবে ব্যাংকিং সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বোর্ড মেম্বার নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো কঠিন হতে হবে। অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে এই পজিশনগুলোতে নিয়োগ দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আভাস পেলে দ্রুত শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
যেসব ব্যাংকের অবস্থা একটু বেশিই নাজুক, সেই ব্যাংকগুলোকে একত্রিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বা একাধিক শক্তিশালী ব্যাংক গঠন করতে পারে। এতে করে ব্যাংকগুলো দেউলিয়াত্বের ঝুকিঁ থেকে রেহাই পাবে এবং অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব যতোটা সম্ভব হ্রাস করা যাবে।
স্বচ্ছতা বৃদ্ধির কাজে একটি পৃথক ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা যায়। যাদের মূল কাজ হবে ব্যাংকিং সেক্টর দেখাশোনা এবং রিপোর্ট পর্যালোচনা করা। একই সাথে তারা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সন্ধান পেলে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ভবিষ্যতে এই ধরণের সমস্যা এড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের ঋণ পোর্টফোলিও আরো ডাইভার্সিফাই করতে বাধ্য করতে হবে। এতে করে তারা কোনো নির্দিষ্ট ইন্ডাস্ট্রি বা গ্রুব অব কোম্পানীকে বেশি পরিমাণ ঋণ দিতে পারবে না। একইসাথে ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অডিটিং সিস্টেম আরো শক্তিশালী করতে হবে।
পরিসংহার
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর বর্তমানে একটি ক্রিটিকাল পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে। এই মুহুর্তে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে না আনলে অর্থনীতির বিশাল ক্ষতি হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও, মোটেও অসম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন অন্তর্বর্তীকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ ও কড়া নজরদারি। আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যাংকিং সেক্টরের আজ এই অবস্থা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এই কাজ যেন ভবিষ্যতে আর কেউ করতে না পারে, তা এনশিওর করলেই বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
- https://bdnews24.com/business/i65j7kjl9d
- https://www.tbsnews.net/economy/banking/huge-defaulted-loans-acute-risk-bangladeshs-banking-sector-imf-522898
- https://bmirror.net/state-owned-banks-non-performing-loans/
- https://thefinancialexpress.com.bd/views/reviews/npl-and-its-impact-on-the-banking-sector-of-bangladesh-1595343188
- https://en.prothomalo.com/video/iw07fuc2oy
- https://www.dhakatribune.com/business/banks/356445/s-alam-took-out-20-547c-as-loans-from-islami-bank
- https://www.tbsnews.net/economy/how-salman-f-rahman-makes-billions-free-bank-money-917131
- https://www.dhakatribune.com/business/354940/how-salman-f-rahman-stole-36-865c-from-7-banks
- https://en.prothomalo.com/business/local/tuojh2aofm
Next to read
লোগোর উদাহরন (Example of Logos)


সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?

বিনিয়োগ কি? বিনিয়োগের ধরণ এবং উদাহরণ

‘SWOT’ Analysis

ই-কমার্স: অনলাইন ব্যবসা

মার্কেটিং এ ৫ সি (5 C's Of Marketing)

সেলস এবং মার্কেটিং কিভাবে একসাথে কাজ করে

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

Generally Accepted Accounting Principle (GAAP)
