ডিজিটাল ব্যাংকিং কী? ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারিত

ডিজিটাল ব্যাংক বলতে মূলত এমন ব্যাংককে বোঝানো হয়, যার সকল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস হচ্ছে ক্লাউড-বেইজড, অর্থাৎ, এই ব্যাংকের কোনো ফিজিকাল লোকেশান থাকে না। তবে অনেক সময় ডিজিটাল ব্যাংকিং, ই-ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং - এই শব্দগুলোকে সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল ব্যাংকের সকল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ট্রেডিশনাল ব্যাংকের মতোই, শুধু পার্থক্য হচ্ছে এই যে, ডিজিটাল ব্যাংকের সকল সুবিধা ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে ভোগ করা যায়, ব্রাঞ্চে উপস্থিত হতে হয় না।
Key Points
- অনলাইন ব্যাংকিং–এর মাধ্যমে ২৪/৭ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যায়, লেনদেনের তথ্য লাইভ অ্যাক্সেস করা যায় এবং ব্রাঞ্চে গিয়ে লেনদেন করার সময় বেচে যায়।
- ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর উত্থানের কারণে এখন সেই সকল অঞ্চলেও ব্যাংকিং সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হবে যেখানে আগে সম্ভব ছিল না।
- ডিজিটাল দুনিয়া সর্বদাই সাইবার অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকে, যার মাঝে ফিশিং, ম্যালওয়্যার, ডেটা লিক হওয়া ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যে সিনিয়র সিটিজেনরা ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর মতো ভালো একটি জিনিসের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।
ভূমিকা
দ্রুতবর্ধনশীল আর্থিক দুনিয়ায় বর্তমানে ট্রেডিশনাল্ল ফিজিকাল ব্যাংকগুলোই একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয় যারা বিভিন্ন ধরণের আর্থিক লেনদেন হ্যান্ডেল করে। ডিজিটাল বিপ্লব আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরে’ও একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে যেখানে রয়েছে কনভিনিয়েন্স, অ্যাক্সেসিবিলিটি ও ইনোভেশন। এটিই হচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংকিং’র যুগ।
খুব রিসেন্টলি বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সব কোম্পানীর থেকে আবেদন গ্রহণ করেছে যারা বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে আগ্রহী। তাই, আশা করা যাচ্ছে যে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ’ও ডিজিটাল ব্যাংকিং যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। তবে ডিজিটাল ব্যাংকিং’র পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে চাইলে আমাদের আগে জানতে হবে যে ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং থেকে আমরা আসলে কি কি এক্সপেক্ট করতে পারি।
ডিজিটাল ব্যাংকিং কী?
ডিজিটাল ব্যাংকিং বলতে অনেক সময় ই-ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং’কেও বোঝানো হয়। ডিজিটাল ব্যাংকিং বলতে মূলত ডিজিটাল ডিভাইস যেমন কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করাকে বোঝানো হয়। ট্রেডিশনাল ব্যাংকের সাথে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, ডিজিটাল ব্যাংকে গ্রাহককে কখনো ব্যাংকের শাখায় উপস্থিত হতে হয় না। ব্যাংক রিলেটেড সকল সুবিধা গ্রাহকরা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় ভোগ করতে পারেন।
বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল ব্যাংকিং
ডিজিটাল ব্যাংকিং আসলে বিভিন্ন ধরণের সেবা ও প্লাটফর্ম নিয়ে গঠিত, যা গ্রাহকের বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজন ও প্রিফারেন্সের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা। তাই এই সেকশনে আমরা ডিজিটাল ব্যাংকের ধরণগুলো সম্পর্কে জানবো।
১। অনলাইন ব্যাংকিং
অনলাইন ব্যাংকিং’কে অনেকসময় ইন্টারনেট ব্যাংকিং’ও বলা হয়, যা ডিজিটাল ব্যাংকিং - এর ফাউন্ডেশনাল পিলার। অনলাইন ব্যাংকিং বলতে একটি নিরাপদ ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করা এবং লেনদেন করাকে বোঝায়। অনলাইন ব্যাংকিং-এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফিচার অ্যাক্সেস করা যায়, যেমন - অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক করা, এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ করা, লোনের জন্য এপ্লাই করা ইত্যাদি।
অনলাইন ব্যাংকিং–এর মাধ্যমে ২৪/৭ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যায়, লেনদেনের তথ্য লাইভ অ্যাক্সেস করা যায় এবং ব্রাঞ্চে গিয়ে লেনদেন করার সময় বেচে যায়।
২। মোবাইল ব্যাংকিং
সবার হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন পৌছে যাওয়ায় আমরা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশনের উত্থান দেখতে পাচ্ছি। এই অ্যাপগুলোর সাহায্যে এখন খুব সহজেই ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন করা যাচ্ছে। তবে মোবাইল ব্যাংকিং শুধু স্মার্টফোন আর অ্যাপসের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়।
বাটন ফোনের মাধ্যমে SSID ডায়াল করে ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন করাকে’ও মোবাইল ব্যাংকিং বলা হয়। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাঝে পার্থক্য এটাই যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এ একটি ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করা হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিং-এ একটি মোবাইল ব্যবহার করা হয় নিজের অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য।
৩। নিওব্যাংক (Neobank)
নিওব্যাংক হচ্ছে ব্যাংকিং দুনিয়ার একটি ডিসরাপ্টিভ ফোর্স। এই ব্যাংকগুলো পুরোপুরি ডিজিটালি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং এদের কোনো ব্রাঞ্চ থাকে না। প্রশাসনিক কাজের জন্য একটি মেইন অফিস থাকতে পারে, তবে সেখানে ব্যাংকিং সেবা দেয়া হয় না। এই ব্যাংকের সেবা নিতে চাইলে আপনাকে তাদের ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলে তারপর সেই ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপ থেকে লেনদেন করতে হবে।
বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস
ডিজিটাল ব্যাংকিং দুনিয়ার উত্থান, গ্রাহকদের হাতের মুঠোয় অনেক ধরণের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস নিয়ে এসেছে। যেমন -
১। ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস
আমরা কিভাবে অর্থ পরিশোধ করি তা মোবাইল ওয়ালেট পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মূলত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিরাপদে লেনদেনের তথ্য সংগৃহিত থাকে, তাই কোনো ধরণের ফিজিকাল টাচ ছাড়াই পেমেন্ট করা যায়।
আবার পি-টু-পি পেমেন্ট সার্ভিসের মাধ্যমে খুব সহজেই এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা যায়। এই কারণেই Venmo, PayPal এবং Cash App-এর মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলো এখন এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
২। অনলাইন অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট
ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইনে নিজের অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করা যায়। যার মাধ্যমে ইউজাররা অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, ট্রানজেকশান হিস্টোরি চেক করা এবং লেনদেন করতে পারেন।
আবার ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এখন চাইলে অনলাইনে স্টক ও বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা যায়।
৩। ডিজিটাল লোন
ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর সুবাদে এখন পারসোনাল লোনের জন্য অ্যাপ্লাই করা অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। আবার একইভাবে এখন বন্ধকী ঋণের জন্যেও এপ্লাই করা যাচ্ছে।
৪। রোবো-অ্যাডভাইজর
রোবো-অ্যাডভাইজর বলতে অটোমেটেড ইনভেস্টমেন্ট প্লাটফর্ম বোঝানো হয়, যেখানে অ্যালগরিদমের সাহায্যে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইস প্রদান ও পোর্টফোলিও ম্যানেজ করা হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্পর্কে একেবারে কিছু না জানা মানুষ’ও এখন নিজের অলস টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
৫। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং টুলস
ডিজিটাল বাজেটিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যমে এখন নিজের আয়-ব্যয় হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ করা এখন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। আবার অনেক ব্যাংক রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং-এর জন্য আলাদা করে টুল অফার করছে। সেই টুল ব্যবহার করে নিজের আর্থিক প্রয়োজন ক্যালকুলেট ও সেভিংস গোল সেট করা অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর সুবিধা
ডিজিটাল ব্যাংকিং কাস্টমার ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনেক ধরণের সুবিধা বয়ে নিয়ে এসেছে। যেমন -
১। কনভিনিয়েন্স
ডিজিটাল ব্যাংকিং সার্ভিস গ্রাহকদের জন্য ২৪/৭ অ্যাভেইলএবল। অর্থাৎ, এখন আর কাউকে ট্রেডিশনাল কর্মঘন্টার মাঝে ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষ করতে হয় না। বরং, ঘরে বসে যেকোনো সময় এখন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা যায়।
আবার একই কারণে ব্যাংকিং-এর জিওগ্রাফিকাল বাধা’ও দূর হয়ে গিয়েছে। আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যাংকিং সেবা পৌছে দেয়া ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর উত্থানের কারণে এখন সেই সকল অঞ্চলেও ব্যাংকিং সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হবে যেখানে আগে সম্ভব ছিল না।
২। এফিশিয়েন্সি
অনেক ডিজিটাল ব্যাংক ও নিওব্যাংক ট্রেডিশনাল ফিজিকাল ব্যাংকগুলোর চাইতে অনেক কম পরিমাণ ফি চার্জ করে। যেমন - কম এটিএম চার্জ, কম অ্যাকাউন্ট মেইনটেনেন্স চার্জ, কম ট্রানজেকশান চার্জ ইত্যাদি। এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ ট্রেডিশনাল ব্যাংকগুলোর মতো ডিজিটাল ব্যাংকের কোনো ব্রাঞ্চ মেইনটেইন করতে হয় না। তাই ট্রেডিশনাল ব্যাংকের চাইতে নিওব্যাংক বা ডিজিটাল ব্যাংকের প্রশাসনিক খরচ সাধারণত অনেক কম হয়ে থাকে।
আবার ডিজিটাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে কাগজের ব্যবহার একদম হয় না বললেই চলে, তাই এতে করে গ্রাহকের ও ব্যাংকের, উভয়েরই অনেক টাকা সেভ হয়।
৩। বেটার সিকিউরিটি সিস্টেম
MFA বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকগুলো গ্রাহমের তথ্যের সিকিউরিটি এনশিওর করে থাকে। এর মাঝে পাসওয়ার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসিয়াল ইনফরমেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে। অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করতে চাইলে গ্রাহককে এইসব তথ্য দিয়ে তারপর অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করতে হয়।
আবার অনেক ব্যাংক লেনদেনের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য এনক্রিপশন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে থাকে। এতে করে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হওয়ার সময় ইনফরমেশন পুরোপুরি এনক্রিপ্টেড থাকে এবং হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
৪। পারসোনালাইজড সার্ভিস
গ্রাহককে পারসোনালাইজড সার্ভিস দেয়ার জন্য এখন ডিজিটাল ব্যাংকগুলো ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করছে, এতে করে গ্রাহকের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন হয়ে উঠেছে অনেক বেশি সহজ।
আবার আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের সাহায্যে গ্রাহকরা এখন নিজেদের অ্যাপে বিভিন্ন অ্যালার্ট সেট করে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। যেমন - লো ব্যালেন্স অ্যালার্ট, বড় অংকের লেনদেনের রিচেক, মাসিক বিল পেমেন্ট রিমাইন্ডার ইত্যাদি।
ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ
ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর প্রচুর পরিমাণ সুবিধা থাকলেও, বর্তমান সময়ে উন্নত দেশগুলোতে ডিজিটাল ব্যাংক রিলেটেড বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বা প্রবলেম দেখা যাচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশে’ও ডিজিটাল ব্যাংকিং শুরু হতে চলেছে, তাই বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকগুলোকে’ও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।
১। সিকিউরিটি ও ডেটা প্রাইভেসি
ডিজিটাল দুনিয়া সর্বদাই সাইবার অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকে, যার মাঝে ফিশিং, ম্যালওয়্যার, ডেটা লিক হওয়া ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। তাই ব্যাংক ও গ্রাহক, উভয়কেই নিজেদের ডেটা সিকিউরিটি মেইনটেইন করার জন্য সবচেয়ে লেটেস্ট টুলস ও টেকনোলজিগুলো ব্যবহার করতে হবে।
আবার গ্রাহকদের পার্সোনালাইজড সার্ভিস দেয়ার জন্য ডিজিটাল ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরণের ডেটা স্টোর ও অ্যানালাইজ করে থাকে। তাই এই ডেটা ঠিক কিভাবে ও কি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটাও একটা কনসার্নের বিষয়। গ্রাহকদের উচিত এমন ব্যাংক সিলেক্ট করা যারা নিজেদের ডেটা পলিসি নিয়ে যথেষ্ট ট্রান্সপারেন্ট থাকে।
২। ডিজিটাল ডিভিশন
সবকিছুই এখন ডিজিটাল হয়ে উঠছে এবং লেটেস্ট সব টেকনোলজি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে লেটেস্ট ডিভাইস। তবে জনসংখ্যার একটি অংশের পক্ষে কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইস অ্যাক্সেস করা সম্ভব হচ্ছে না, আবার ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সম্পর্কেও অনেকে জানেন। তাই এখানে নতুন আরেকটি বিভেদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
আবার আমাদের পরিবারে বয়স্ক মানুষজন যারা আছেন, তারা কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইস তেমন একটা ব্যবহার করতে পারেন না। তাই সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যে সিনিয়র সিটিজেনরা ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর মতো ভালো একটি জিনিসের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।
৩। রেগুলেটরি ও কমপ্লায়েন্স ইস্যু
ব্যাংকিং সেক্টরের রেগুলেশন ক্রমাগতই পরিবর্তিত হতে থাকে। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন জটিল কমপ্লায়েন্স ইস্যু মোকাবিলা করে ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়, যা ডিজিটাল ব্যাংক ও নিওব্যাংকগুলোর জন্য কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আবার ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম যেহেতু পুরোটাই ক্লাউডে হয়ে থাকে, তাই এই সেবার ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার মানদণ্ড এখনো কিছুটা ঘোলাটে।
৪। কাস্টমার সাপোর্ট ও সার্ভিস কোয়ালিটি
ডিজিটাল ব্যাংকিং - এর ক্ষেত্রে যেহেতু ব্যাংক রিপ্রেজেন্টেটিভ সামনাসামনি অবস্থান করছেন না, তাই জটিল কোনো সমস্যার সমাধান বা পার্সোনালাইজড সার্ভিস দেয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি সমস্যার কারণ হতে পারে।
আবার টেকনিকাল গ্লিচ ও পাওয়ার কাটের কারণে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা বিঘ্ন হতে পারে, এতে করে গ্রাহকরা’ও ভোগান্তির শিকার হতে পারেন।
ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর ভবিষ্যৎ
যেহেতু ডিজিটাল ব্যাংকিং সেক্টর এখনো ম্যাচুরিটি স্টেজে আসেনি, তাই প্রতিনিয়তই এই সেক্টরে আসছে পরিবর্তন। তবে নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমনের কারণে আমরা আশা করতে পারি যে আগামীতে আমরা এই সেক্টরে আরো আকর্ষণীয় কিছু ট্রেন্ড দেখতে পাবো।
১। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং
আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে তৈরি চ্যাটবটগুলো দিন দিন আরো বেশি পাওয়ারফুল হয়ে উঠছে, তাই আগামীতে চ্যাটবট সার্ভিসে আমরা আরো ভালো কিছু বিষয় দেখবো বলে আশা করছি। আবার এতে করে ব্যাংকগুলোর জন্যেও পার্সোনালাইজড সার্ভিস অফার করা সহজ হয়ে উঠবে।
আবার মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে গ্রাহকদের ক্রেডিট স্কোর যাচাই করা এখন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। তাই আশা করা যাচ্ছে যে আগামীতে ব্যাংকগুলো নিজেদের কুঋণের পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
২। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি
অনেক ডিজিটাল ব্যাংক’ই এখন নিজেদের সার্ভিসে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে, এতে করে আন্তঃদেশীয় লেনদেন হয়ে উঠছে আরো নিরাপদ। তবে আশা করা যাচ্ছে যে আগামীতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি আরো বেশি স্ট্রিমলাইনড হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি এখনো অবৈধ হলেও, উন্নত দেশগুলোর অনেক ব্যাংক’ই এখন নিজেদের প্লাটফর্মে ক্রিপ্টোকারেন্সি অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। এতে করে গ্রাহকরা ব্যাংকের প্লাটফর্মেই ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন।
৩। ওপেন ব্যাংকিং
ওপেন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজেই তাদের আর্থিক তথ্য থার্ড পার্টি প্রোভাইডারদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। এতে করে ডেভেলপারদের জন্য নতুন নতুন ব্যাংকিং প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ডেভেলপ করা সহজ হয়।
আবার, বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপের সাথে আরো সহজে ইন্টিগ্রেট করার উদ্দেশ্যে এখন বিভিন্ন ব্যাংক তাদের এপিআই শেয়ার করছে। এতে করে গ্রাহকদের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করা আরো বেশি কনভিনিয়েন্ট হয়ে উঠছে।
৪। বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন
ব্যাংকিং সেক্টরে বিভিন্ন ধরণের বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিকগনিশন, ফেশিয়াল রিকগনিশন ও আইরিশ স্ক্যানিং আরো বেশি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে করে গ্রাহকদের ব্যাংকিং ডেটার সিকিউরিটি আরো বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
আবার বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন ব্যবহারের ফলে পাসওয়ার্ড ও পিন নাম্বারের প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে, ফলে লেনদেন আরো বেশি কনভিনিয়েন্ট হয়ে উঠছে।
পরিসংহার
পরিবর্তিত হতে থাকা ব্যাংকিং দুনিয়ার সবচেয়ে নতুন উদ্ভাবন এই ডিজিটাল ব্যাংক। এখনো ডিজিটাল ব্যাংকিং সেক্টর খুবই নতুন পর্যায়ে রয়েছে, তাই এর প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের সংখ্যা খুবই কম। সময়ের সাথে সাথে এই সেক্টরে আরো নতুন নতুন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস যোগ হবে বলেই আশা করছি। আর আশা করি পুরো ডিজিটাল ব্যাংকিং সেক্টর সম্পর্কে আশা করি এই ব্লগে আপনাদের ভালো একটি ধারণা প্রদান করতে পেরেছি।
- https://sdk.finance/what-is-digital-banking
- https://fi.money/blog/posts/what-is-digital-banking-meaning-types-products-and-services
- https://tavaga.com/blog/digital-banking-and-its-foray-into-the-banking-sector/
- https://www.g2.com/articles/digital-banking
- https://blog.genome.eu/articles/what-is-digital-banking-types-and-services-it-offers/
Next to read
অ্যাড অন মডেল (Add On Model)


সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)

মোট মুনাফা (Gross profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং উদাহরণ

রিব্র্যান্ডিং (Rebranding)

বিক্রয়ের ১০টি ভুল যেগুলো প্রতিটি বিক্রয়কর্মীর এড়ানো উচিৎ

‘SWOT’ Analysis

বিজনেস অ্যানালিসিস কী, কেনো, কীভাবে করবেন?

ব্র্যান্ড আর্কিটেকচার কী? সংজ্ঞা, মডেল এবং উদাহরণ

পঞ্জি স্কিম সংজ্ঞা এবং উদাহরণ
