একমালিকানা ব্যবসা কি এবং কিভাবে বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসা করা যায়?

একক মালিকানা ব্যবসা হলো এমন ধরণের একটি ব্যবসা কাঠামো যেখানো কেবল একজন ব্যক্তি ই কোন একটি বিজনেস এর সকল দিক পরিচালনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি তার বিজনেসের সকল ঋণ এবং দায়িত্বের দায়ভার হন। বাংলাদেশে একক মালিকানা ব্যবসা (Sole Proprietorship Business) শুরু করা অত্যন্ত সহজ একটি কাজ। এর জন্য প্রয়োজন শুধু Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC) এ আপনার ব্যবসা টি রেজিস্টার করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সকল লাইসেন্স কিংবা পারমিট সংগ্রহ করা। দেশের মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কোন কর্মসংস্থান তৈরীর ক্ষেত্রে একক মালিকানাসম্পন্ন ব্যবসা খুবই কার্যকরী একটি পন্থা।
Key Points
- a একক মালিকানাসম্পন্ন ব্যবসা হলো এমন এক ধরণের ব্যবসা যা সম্পূর্ণ ভাবেই কেবল একজন ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশে এ ধরণের মালিকানা কে “Sole Trader” কিংবা “Individual Business” নামে আখ্যায়িত করা হয়।
- এই বিজনেসের ক্ষেত্রে বিজনেস মালিক কে অবশ্যই Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC) তে তার বিজনেসটি রেজিস্টার করতে হবে। রেজিস্টার করার মাধ্যমে তিনি সেখান থেকে TIN (Tax Identification Number) এবং BIN (Business Identification Number) সংগ্রহ করবেন।
১৮ বয়সের উপর যেকোন বাংলাদেশি নাগরিকই এ ধরণের বিজনেস রেজিস্টারের জন্য উপযুক্ত।
রেজিস্টার করার ক্ষেত্রে বিজনেসটির একটি নির্দিষ্ট স্থানীয় ঠিকানা আপনাকে প্রদান করতে হবে।
বাংলাদেশে, এই ধরণের বিজনেস কোন আইনি সত্ত্বা (Legal entity) নয়। অর্থাৎ এ ধরণের বিজনেস অন্য কোন বিজনেস কে রেজিস্টার করতে পারবেনা।
একক মালিকানা সম্পন্ন বিজনেস শুরু করার জন্য মৌলিকভাবে একটি ট্রেড লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয়।
ট্রেড লাইসেন্স টি প্রতি বছরেই রিনিউ করতে হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই আর্টিকেল টি আইনি পরামর্শ কিংবা লিগ্যাল এডভাইস সম্পর্কিত কিছু নয়। দয়া করে যেকোন কাজ করার আগে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা প্রফেশনাল দের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নিবেন।
একক মালিকানা ব্যবসা কী?
আপনি যদি নিজে নিজে কোন ব্যবসা শুরু করার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আপনি একক মালিকানা ব্যবসা বেছে নিতে পারেন। এটি হলো অন্যান্য সকল ধরণের বিজনেস গুলোর মধ্যে সবথেকে সহজ - সরল একটি পন্থা।
ধরুণ, আপনি একজন ফ্রীল্যান্সার কিংবা একজন পরামর্শ দাতা। আপনি নিজে নিজে কোন ধরণের সহকর্মী কিংবা কর্মী ছাড়া আপনার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
অভিনন্দন! এক্ষেত্রে আপনি একজন একক মালিকানা সম্পন্ন ব্যবসায়ী (sole proprietor) হয়ে উঠেছেন!
এটি সাধারণত একটি একক ব্যক্তি সম্পন্ন প্রক্রিয়া- যেখানে আপনি নিজেই বস, নিজেই কর্মী, এবং নিজেই ট্যাক্স কর্মকর্তা। অর্থাৎ, একের ভিতর সব।
এ ধরণের বিজনেসের ক্ষেত্রে আপনার নির্দিষ্ট কোন নাম কিংবা প্যাপার ওয়ার্কের প্রয়োজন হবেনা। আপনি আপনার নিজের নামেই সম্পূর্ণ ভাবে বিজনেস টি পরিচালনা করতে পারবেন।
সব থেকে ভালো পার্ট টি হলো এই যে, আপনি আপনার সমগ্র লাভ নিজের জন্যই রাখতে পারবেন। পক্ষান্তরে, সমস্ত ক্ষতি এবং দায়িত্বের বোঝাও কিন্তু আপনাকেই বহন করতে হবে।
তবে এ ধরণের বিজনেসের ক্ষেত্রে আরেকটি সুবিধা হলো এই যে, আপনাকে জটিল সব আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবেনা- যেমন টি হয় বড় ব্যবসা গুলোর ক্ষেত্রে।
আশেপাশের অনেকগুলো ছোটখাটো বিজনেসই এভাবে একক মালিকানা সম্পন্ন ব্যবসার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এবং অনেকগুলো বছরের পর এমনই থেকে যায়।
এক মালিকানা ব্যবসার বৈশিষ্ট্য
একক মালিকানা সম্পন্ন ব্যবসা হলো এমন একটি ব্যবসা যেখানে সম্পূর্ণ কম্পানিটি কেবল একজনের অধীনেই থাকে- এবং সমগ্র ব্যবসাও ঐ একজনের দ্বারাই পরিচালিত হয়।
এক্ষেত্রে, একজন ব্যক্তিই পুরো বিজনেসটির জন্য দায়বদ্ধ থাকে। সে একই সাথে পরিপূর্ণ লাভ যেমন ভোগ করে, অপরদিকে সকল রিস্ক এবং ক্ষতির দায়ভারও তাকেই নিতে হয়।
নিচে একক মালিকানা সম্পন্ন ব্যবসার কিছু মূল বৈশিষ্ট্য সমূহ উল্লেখ করা হলোঃ
বিজনেস টির একক মালিকঃ
এ ধরণের বিজনেস একজন মাত্র ব্যক্তি দ্বারাই অধিকৃত এবং পরিচালিত হয়। তিনি কম্পানির সকল সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন।
অগণিত দায়িত্বঃ
ব্যবসার মালিক কেই সকল দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হয়। ফলস্বরূপ, মাঝে মধ্যে তাকে তার নিজস্ব সম্পত্তির অংশও এই ব্যবসার পিছনে ব্যয় করতে প্রয়োজন হতে পারে।
কোন আইনি সত্ত্বা নেইঃ
মালিক ব্যতিত এ ধরণের বিজনেস আলাদা কোন আইনি সত্ত্বা হিসেবে দাঁড়াতে পারে না।
একক সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ
বিজনেস টির সকল কাজে এবং সকল ক্ষেত্রে ব্যবসার মালিককেই নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অন্য কোন কর্মী না থাকায় তিনি কারো পরামর্শও গ্রহণ করতে পারেন না।
যেকোন সময় বিজনেস বন্ধ করা যায়ঃ
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেকোন সময় কম্পানির মালিক চাইলেই তার ব্যবসা টি বন্ধ করে দিতে পারেন।
লাভ কিংবা ক্ষতির একক বন্টনঃ
এ ব্যবসার ক্ষেত্রে কম্পানি কিংবা বিজনেস এর মালিক নিজেই সকল লাভ এবং ক্ষতির অংশীদার হন। তার কোন আলাদা শেয়ার থাকে না।
একক মূলধনঃ
ব্যবসাটি শুরু করার ক্ষেত্রে যে মূলধনের প্রয়োজন হয়, ব্যবসার মালিক কে সেটি একাই বহন করতে হয়।
কম আইনি জটিলতাঃ
একক মালিকানা সম্পন্ন ব্যবসা গঠন এবং পরিচালনা এর ক্ষেত্রে প্রায় কোন ধরণের আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়না। তাই এক্ষেত্রে মালিক কে খুব কম সময়েই আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসা
দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। গত কয়েক দশক ধরে যে দেশটি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হচ্ছে। এই দেশের অর্থনীতি অনেক বৈচিত্র্যময় এবং এখানে রয়েছে একমাত্র মালিকানা সহ বিজনেসের উন্নতির অনেক সুযোগ।
একক মালিকানা বাংলাদেশের বিজনেসের মালিকানার একটি সাধারন রূপ, আর এই ধরনের মালিকানা বা ওনারশিপ ছোট-খাটো বিজনেসের জন্য আদর্শ। এই একক মালিকানা বিজনেস কাঠামোর অন্তর্গত বিজনেস গুলোর লাভ-লস এবং এর সাথে সম্পর্কিত সকল রিস্কের নিয়ন্ত্রণ থাকে মালিকের হাতে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য ব্যাপকভাবে অনুকূল। আর এই অনুকূল পরিবেশের কারণে যেসকল উদ্যোক্তারা এককভাবে মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই দেশ।
বাংলাদেশ সরকার ছোট ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, এই কারণটিও একক মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠাকারীদের বেশি করে আকৃষ্ট করে। আর সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগগুলো উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা শুরু করা এবং পরিচালনা করা অনেক সহজ করে তুলেছে।
ফলস্বরূপ- বাংলাদেশের অনেক উদ্যোক্তা এখন দেশের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সুবিধা নিতে একক মালিকানার ব্যবসায়িক মডেল পছন্দ করতেছেন এবং এভাবেই নিজেদের একক মালিকানাধীন ব্যবসা শুরু করতেছেন।
কীভাবে বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসা শুরু করতে হয়?
বাংলাদেশে একক মালিকানা ব্যবসা শুরু করা খুবই সহজ।
একক মালিকানাকে একমাত্র মালিকানা বা একমাত্র ব্যবসায়ী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এটি একটি অসংগঠিত ব্যবসা যার শুধুমাত্র একজন মালিক থাকে এবং এই ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসা থেকে অর্জিত লাভের উপর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আয়কর বা পারসোনাল ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করতে হয়।
নোট: তবে এটা বলে রাখা বাঞ্ছনীয় যে, কোনো বিদেশী বা ভিন্ন দেশের ইনভেস্টর তথা উদ্যোক্তা ঢাকা অথবা বাংলাদেশের কোথাও নিজেদের বিজনেস প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।
বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসা শুরু করার ধাপসমূহ নিচে আউটলাইন করা হয়েছে:
১। একটি নাম বাছাই করা।
২। ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি বাণিজ্যিক স্থান ভাড়া নেওয়া।
৩। আপনার স্থানীয় সরকার/সিটি কর্পোরেশন/ইউনিয়ন ইত্যাদি থেকে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন।
৪। একটি ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন এবং অর্জন করুন।
৫। ই-টিন এর জন্য আবেদন।
৬। ব্যবসার নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলুন
এবার আপনি আপনার নতুন ব্যবসা শুরু করতে প্রস্তুত।
কীভাবে বাংলাদেশে একমালিকানা রেজিস্ট্রেশন করতে হয়?
প্রথমত আপনার বিজনেসের নামের জন্য দ্যা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) থেকে অ্যাপ্রুভাল তথা অনুমোদন প্রয়োজন। অনলাইন বিজনেসের নাম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিজনেস শুরু করার জন্য আপনাকে এই সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
RJSC অফিস সমস্ত ডাটাবেজ চেক করে দেখবে এবং এই বিজনেসের নামের সাথে পূর্বের বিদ্যমান বিজনেস গুলোর নামের যদি কোনো মিল না থাকে ও সবকিছু ঠিক ঠাক থাকে, তাহলে RJSC নাম ছাড়পত্র ইস্যু করবে। এটি পরবর্তী ১৮০ দিনের জন্য বৈধ হবে।
আপনাকে এই টাইমলাইনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে। একটি বিজনেসের নাম রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রতিটি নামের জন্য ৬০০.০০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যে ডকুমেন্টগুলো লাগতে পারে:
Article of Association (AOA) Memorandum of Association (MoA)
নিবন্ধিত অফিসের অবস্থার উপর বিজ্ঞপ্তি এবং সেখানে যে কোন পরিবর্তন হতে পারে।
- কাজ করার জন্য পরিচালকের সম্মতি।
- নাম ছাড়পত্রের প্রমাণ।
অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা:
- একটি ব্যাংক একাউন্ট। A bank account
- অফিসের জন্য ভাড়া চুক্তি।
- একটি ট্রেড লাইসেন্স।
- ভ্যাট এবং ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর নিবন্ধন।
- সমস্ত ডকুমেন্ট RJSC জমা দিতে হবে।
- তবে মনে রাখবেন RJSC -এর ফি বিজনেস এর অনুমোদিত মূলধনের উপর নির্ভর করে। এছাড়াও এখানে অন্যান্য পকেট খরচ এবং প্রফেশনাল ফি যুক্ত হতে পারে।
- ট্রেড লাইসেন্স
- প্রত্যেক ব্যবসা তাদের নিকটস্থ কোন সিটি কর্পোরেশন থেকে আবেদনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স পেয়ে থাকে।
- নিম্নলিখিত ডকুমেন্টগুলি অবশ্যই আবেদনপত্রের সাথে থাকতে হবে:
- মেমোরেন্ডাম এবং অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধগুলির একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি।
- ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেটের একটি অনুলিপি।
- ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সার্টিফিকেট
- ব্যবসার ঠিকানা এবং প্রকৃতি
- lease agreement of the registered office এর একটি অনুলিপি।
- ২ কপি জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট।
- মালিকানা প্রমাণ।
- Bangladesh Investment Development Authority থেকে কাজের অনুমতি।
বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসার ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন
ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ শুরু করতে প্রতিটি কোম্পানিকে অবশ্যই ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে যথাযথ কর কর্তৃপক্ষ- (ডেপুটি কমিশন অফ ট্যাক্সেস অফ কোম্পানি সার্কেল, জোনাল্ড ট্যাক্সেশন ডিপার্টমেন্ট) এর কাছে করের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং এভাবে একটি ট্যাক্স শনাক্তকরণ নম্বর (TIN) পেতে হবে। অনলাইনে একদিনের মধ্যেই টিআইএন (TIN) নাম্বার পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসার ভ্যাট মূল্য সংযোজন কর (VAT) রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়া হয়।
নিম্নলিখিত ডকুমেন্টগুলি অবশ্যই ভ্যাট আবেদনের সাথে থাকতে হবে:
- মালিকানা ট্রেড লাইসেন্স।
- Bank Solvency Certificate।
- ব্যবসার মালিকের ২ কপি ছবি।
- ব্যবসার মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট কপি।
- যদি মালিকানা ইম্পোর্টিং অথবা এক্সপোর্টিং এর সাথে যুক্ত থাকে তবে IRC or ERC।
- প্রবন্ধ এবং স্মারকলিপি।
- টিন সার্টিফিকেট।
ভ্যাট রিটার্ন ত্রৈমাসিক জমা দিতে হয় এবং এটি ট্যাক্স ও ভ্যাট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ডিল করা হয়।
বাংলাদেশে ভ্যাটের হার ১৫%। ১লা জুলাই থেকে ৩০শে জুনের মধ্যে একটি আদর্শ কর বছর গণনা করা হয়।
একক মালিকানা ব্যবসার সুবিধা
স্থাপনের সহজতা:
এই একক মালিকানা ব্যবসা স্থাপন করা সবচেয়ে সহজ এবং কম ব্যয়বহুল ব্যবসায়িক কাঠামো।
মালিকের নিয়ন্ত্রণ:
এই ব্যবসায় একমাত্র মালিক হিসেবে আপনি আপনার ব্যবসা সম্পর্কে সকল সিদ্ধান্ত নিজে গ্রহণ করতে পারবেন এবং ব্যবসায়িক সকল বিষয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপনার নাগালের মধ্যেই রাখতে পারবেন।
কোন প্রফিট শেয়ারিং নয়:
আপনি আপনার ব্যবসা থেকে উপার্জিত সকল অর্থ নিজের কাছে রাখতে পারবেন কারো সাথে শেয়ার করতে হবে না।
সমাপ্তির সহজতা:
আপনার ব্যবসা যদি একক মালিকানাধীন ব্যবসা হয়ে থাকে, তাহলে খুব সহজেই আপনি চাইলে তা বাতিল করতে পারবেন। আর এই একমালিকানা ব্যবসা বাতিল করা কম সময় সাপেক্ষ এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম ব্যয়বহুল।
সম্মতির (কম্প্লিয়েন্স) প্রয়োজনীয়তা ন্যূনতম:
একক মালিকানা ব্যবসায় আপনি বার্ষিক রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত। শুধুমাত্র প্রতিবছর আপনার সদস্য পদ রিনিউ তথা পুনর্নবীকরন করলেই হবে।
একক মালিকানা ব্যবসার অসুবিধা
কোন আলাদা আইনি সত্ত্বা নেই:
এই একক মালিকানা ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনি আপনার ব্যবসায় অবিচ্ছেদ্য থাকবেন। আর ব্যবসায় অবিচ্ছেদ্য থাকার কারনে এটি আপনাকে ব্যবসা রিলেটেড সমস্ত ঋণ ও আইনগত পদক্ষেপের জন্য আর্থিক এবং আইনগতভাবে দায়ী করে তোলে।
সীমাহীন দায়:
পাওনাদাররা আপনার উপর ঋণের জন্য মামলা করতে পারে এবং আপনার সম্পত্তিসহ ব্যক্তিগত সম্পদের উপর নিজেদের দাবী প্রতিষ্ঠা করার জন্য আদালতের আদেশও পেতে পারে।
কোন কর্পোরেট ট্যাক্স সুবিধা বা প্রণোদনা নেই:
আপনার কর গুলি ব্যক্তিগত আয়করের হারে নির্ধারিত হয়। তাই একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য যে সকল বিশেষ কর সুবিধা আছে সে সকল সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।
সীমিত মূলধন:
একক মালিকানা ব্যবসায়- মূলধন আপনার ব্যক্তিগত অর্থ এবং ব্যবসার দ্বারা উৎপন্ন লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই এ ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণ করা কঠিন এবং সীমিত।
চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার নেই:
এই একক মালিকানা ব্যবসা আপনার সাথে বেঁচে থাকে, আবার আপনার সাথেই মারা যায় কেননা আপনি ও ব্যবসা এক এবং একই জিনিস। তবে অনেক সময় এইসকল ব্যবসার মালিকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা একই নামে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।
নিম্ন জনসাধারণের উপলব্ধি:
এই এনটিটি বা সত্ত্বাটি সিরিয়াস কোনো বিজনেসের জন্য সবচেয়ে কম পছন্দের যেহেতু কেউ আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ ধার দিতে রাজি হবে না। এছাড়াও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মচারী বা সিনিয়র লেভেল এক্সিকিউটিভরা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মতো ব্যবসায়িক কাঠামোর দিকে বা আরও উন্নত কোম্পানির প্রতি বেশি আগ্রহী। তাই তাদের এক মালিকানা বিজনেসের দিকে আকৃষ্ট করাও কঠিন।
বিজনেসের সম্পূর্ণ অংশ বা খন্ডাংশ বিক্রয়/স্থানান্তর:
এই পর্যায়ে আপনি শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা স্থানান্তর করতে পারবেন।
উপসংহার
এই কনটেন্টের মাধ্যমে, আমরা একটি একক মালিকানা ব্যবসা কী এবং বাংলাদেশে এটি শুরু করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে এবং আইনি সকল রিকোয়ারমেন্ট তথা প্রয়োজনীয়তা মেনে চলার মাধ্যমে যে কেউ বাংলাদেশে একটি সফল একক মালিকানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
- https://resource.ogrlegal.com/proprietorship-in-bangladesh/
- https://bdlplaw.com/proprietorship-business-registration-in-bangladesh.html
- https://www.usemultiplier.com/bangladesh/sole-proprietorship
- https://oldbaileybd.com/incorporating-sole-proprietorship-partnership/
- https://www.deel.com/blog/register-sole-proprietorship-in-bangladesh
- https://www.investopedia.com/terms/s/soleproprietorship.asp
- https://corporatefinanceinstitute.com/resources/management/sole-proprietorship/
- https://www.iedunote.com/sole-proprietorship
- https://byjus.com/question-answer/what-are-5-characteristics-of-a-sole-proprietorship/
Next to read
সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস (Social Business Model Canvas)


শেয়ারিং ইকোনমি মডেল (Sharing Economy Model)

বেইট এন্ড হুক মডেল (Bait & Hook Model)

Needs, Wants, Demands (প্রয়োজন, চাওয়া এবং চাহিদা)

বি-টু-বি, বি-টু-সি এবং বি-টু-জি কি? (B-to-B, B-to-C, B-to-G)

নিট মুনাফা (net profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং কিভাবে হিসাব করবেন

CSR বা Corporate Social Responsibility কী?

বিক্রয়ের ১০টি ভুল যেগুলো প্রতিটি বিক্রয়কর্মীর এড়ানো উচিৎ

এঞ্জেল বিনিয়োগ কি? এবং কিভাবে কাজ করে (What is angel investing & how does it work?)
