GeoRenus Editorial Team

Identity Theft-কে বলা হয়ে থাকে ডিজিটাল ডাকাতি, যেখানে আপনার পরিচয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য অন্য একজন চুরি করে। এই চুরি করা তথ্য ব্যবহার করে অপরাধী নানা ধরনের প্রতারণামূলক কাজ করে থাকে। এবং এসব অপরাধের চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো প্রতারণামূলক কাজ করা। চুরির এইসব তথ্য ব্যবহার করে অপরাধীরা আপনার থেকে কয়েক থেকে কয়েকশো ডলার হাতিয়ে নিতে পারে।
বর্তমানের যুগকে বলা হয়ে থাকে ইন্টারনেটের যুগ। ইন্টারনেটের বিস্তৃত দুনিয়ায় আজকাল কোন কিছুই যেন গোপন নয়, এখানে আমাদের ব্যক্তিগত সবকিছুই ভেসে বেড়ায় ইন্টারনেটের জটিল নেটওয়ার্কে। এই ইন্টারনেটের ব্যবহারে যেমন আমাদের জীবন হয়েছে সহজ ও সুন্দর, তেমন করেই অনেক ধরনের অপরাধের সম্মুখীন হতে হয় আমাদেরকে প্রতিনিয়তই। ইন্টারনেটের এই জগতে এমন একটি খুব সাধারণ অপরাধ হচ্ছে Identity Theft.
Identity Theft-কে বাংলায় পরিচয় চুরি বলা হয়ে থাকে। এটি মূলত বুঝায় যখন কোন এক ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন: জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, ব্যাংক একাউন্ট নম্বর, ক্রেডিট কার্ড নম্বর ইত্যাদি, অন্য কেউ হাতিয়ে নেয় এবং নিজের স্বার্থের জন্য সেগুলোকে ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে সংগঠিত খুব সাধারণ একটি সাইবার অপরাধ হচ্ছে এই Identity Theft এবং অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
Identity Theft অপরাধীরা বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। ডিজিটাল প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব অপরাধমূলক কাজ করাকে বলা হয়ে থাকে Cyber Fraud. এই Cyber Fraud বিভিন্নভাবে করা যায়, যেমন সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশিং, ম্যালওয়্যার এবং অনেক সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ।
Identity Theft এর সকল প্রকারের মধ্যে Financial Identity Theft-এর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। Financial Identity Theft-এ অপরাধীরা ক্রেডিট, পণ্য, পরিষেবা বা সুবিধা পেতে অন্য ব্যক্তির পরিচয় বা তথ্য ব্যবহার করে। এসব চুরি হওয়া তথ্যাবলী আর্থিক সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হয়। চুরির ঘটনা ভিকটিম তখনই টের পায় যখন সে তার ব্যালেন্স চেক করে।
এই ধরনের চুরিতে, প্রথমে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপরে অন্য কোন রোগীর প্রেসক্রিপশন বা রিপোর্ট ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যেসব রিপোর্টে তার কোন জটিল সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কথা উল্লেখ করা হয়। তাই এই প্রতারণামূলক চিকিৎসার জন্য তাকে আলাদা করে অনেক বেশি বিল পরিশোধ করতে হয়।
এই ধরনের চুরিতে চোর ভুক্তভোগীর সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (SSN) জানতে চায়। যদি চোররা এই নম্বর পেয়ে থাকে, তাহলে তারা ভুক্তভোগীর অনেক ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে তারা ক্রেডিট কার্ড এবং লোনের জন্য আবেদন করে এবং তারপরে বকেয়া ব্যালেন্স পরিশোধ করে না।
এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে তখন যখন কেউ নতুন একাউন্ট খুলতে অথবা তার আগের একাউন্টগুলোর পরিচালনার যে কোন পর্যায়ে একটি শিশুর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে। এ ধরনের চুরির ঘটনা তুলনামূলক সহজ এবং অনেক ক্ষতিকর হতে পারে কারণ এই চুরির ঘটনা আবিষ্কার এবং এর হাত থেকে বাঁচতে অনেক বেশি সময় লাগে।
এই ধরনের চুরির ঘটনা একটু অস্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রমধর্মী। এক্ষেত্রে একজন অপরাধী, ভুক্তভোগীদের আসল (চুরি করা) এবং জাল তথ্য একত্রিত করে একটি নতুন পরিচয় তৈরি করে। এই পরিচয় ব্যবহার করে জালিয়াতি অ্যাকাউন্ট খুলে এবং প্রতারণামূলক কাজগুলো করে থাকে। এই পরিচয় ব্যবহারের ফলে সকল ভক্তিভোগীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।
Criminal Identity Theft বলতে বুঝায় যখন একজন অপরাধী তার অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারের সময় নিজেকে অন্য একজন ব্যক্তি হিসাবে পুলিশের কাছে পরিচয় দেয়, যাতে তখন সে গ্রেপ্তারের হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারে।
সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিশিং, ম্যালওয়্যার এবং সাইবার অ্যাটাকের মাধ্যমে অপরাধীরা Identity Theft-এর মত অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব পদ্ধতির মাধ্যমে অপরাধমূলক কাজ করা কে Cyber Fraud বলা হয়ে থাকে। তাই এসব পদ্ধতিকে Cyber Fraud-এর প্রকারভেদ হিসেবেও বলা হয় যেতে পারে।
এছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার জন্য অপরাধীরা পুরাতন ফেলে দেওয়া অথবা চুরি করা হার্ডডিক্স এনালাইসিস করে, কম্পিউটার ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট হ্যাক করে, কম্পিউটার ভিত্তিক পাবলিক রেকর্ড অ্যাকসেস সহ আরও অনেক ধরনের কাজ করে থাকে।
Social engineering অনেকটা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল-এর মত। এখানে অপরাধী, ভুক্তভোগীর থেকে ব্যক্তিগত তথ্য আদায়ের জন্য, ভুক্তভোগীর আবেগকে কাজে লাগায় এবং মনস্তাত্ত্বিক ম্যানিপুলেশন করে। অতঃপর এই আবেগের বশবর্তী হয়ে লোকজন তাদের সকল তথ্য অপরাধীর কাছে ফাঁস করে দেয়। এটা অনেকটা দুর্গের দেয়াল ভাঙ্গার চেয়ে, গেট খুলে প্রবেশ করার মত অবস্থা।
এই অপরাধ কৌশলে মূলত ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী বা ভিকটিমের অন্যান্য বিশ্বস্ত কোন সূত্র থেকে বৈধ ইমেল বা টেক্সটের মত হুবহু একই মেসেজ পাঠানো হয়। ই-মেইলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এর জন্য যে কোন লিংক বা ব্যাংক লেনদেনের ভুয়া তথ্য বা কোন ভুয়া অফারের তথ্য থাকতে পারে। ভুক্তভোগী ওই লিংক বা মেইলে প্রবেশ করলে, সাথে সাথে অপরাধী তার ব্যক্তিগত তথ্যের এক্সেস পেয়ে যায়।
এটি এমন একটি সফ্টওয়্যার যা কম্পিউটারের ক্ষতি বা পুরোপুরি অকার্যকর করার জন্য তৈরী করা হয়। এটি ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে, ফাইল ডিলেট ফেলতে পারে। এমনকি কম্পিউটার বা ডিভাইসের ক্ষেত্রে একটা স্থায়ী পথ তৈরি করে দেয় যা দ্বারা অপরাধী সব সময় ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য পেতে পারে।
আপনি যদি নিয়মিত আপনার একাউন্টের হিসাব চেক না করে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য Identity Theft শনাক্ত করা অনেক কঠিন হতে পারে। তবে কিছু লক্ষণগুলির প্রতি নজর রাখলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনি এই অপরাধের শিকার হয়েছেন কিনা-
চাইলেই অনেক ধরনের Identity Theft রোধ করা যায়। একটি খুব কার্যকরী পদ্ধতি হল বার বার নিজের ব্যক্তিগত নথি ও তথ্যাবলীর উপর নজর রাখা এবং অবিলম্বে যে কোন অসঙ্গতি দেখা দিলে তা মোকাবেলা করা। এছাড়াও আপনি নিজের কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন-
Financial Losses: Identity Theft-এর ক্ষেত্রে অপরাধীর একটি মেইন লক্ষ্য আর্থিক স্বার্থ হাসিল করা। চোররা নানা ধরনের বৈধ বা অননুমোদিত কেনাকাটা, নতুন ক্রেডিট কার্ড খোলা, বা ভুক্তভোগীর নামে ঋণ নেওয়ার জন্য এই অপরাধ করে থাকে। কোন কোন সময় এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ক্ষেত্র বিশেষে অনেক বেশি হয়ে থাকে।
Credit Losses: Identity Theft একজন ভুক্তভোগীর ক্রেডিট হিস্ট্রিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করতে পারে। ফেইক অ্যাকাউন্ট খোলা, অবৈধ বিল, এবং ক্রেডিট রিপোর্টে অন্যান্য নেতিবাচক লক্ষনের ফলে, ভুক্তভোগী পরবর্তীতে যখন নতুন লোনের আবেদন করে তখন গ্রহনযোগ্য হন না, অথবা উচ্চ সুদের হার এবং ঋণ সুরক্ষিত করতে অসুবিধায় পরতে পারে।
Reputational Damage: অনেক সময় ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে অপরাধীরা অনেক ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে থাকে যা ভুক্তভোগীরা সামাজিক স্ট্যাটাস বা রেপুটেশনের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চাকরি হারাতে পারেন বা চাকরি নাও পেতে পারেন, সামাজিকভাবে অবহেলিত এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।
Legal Consequences: অনেক ক্ষেত্রে Identity Theft-এর শিকার ভুক্তভোগীরা, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধমূলক কাজের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারেন। এটি ভুক্তভোগীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে।
ইন্টারনেটের জগৎ রঙিন, এটি মানুষের জীবনকে করেছে সহজ, করেছে অধিক উপভোগ্য। তবে ইন্টারনেটের কিছু কালো ছায়াও রয়েছে, যা মানুষের জীবনকে করে দিতে পারে দুর্বিষহ, এনে দিতে পারে ভয়াবহ পরিণতি। এমনই কিছু ইন্টারনেট প্রযুক্তির খারাপ ব্যবহারের উদাহরণ হল Cyber Fraud এবং Identity Theft। এইসব অপরাধের সংখ্যা এতই যে শুধুমাত্র ২০২৩ সালে FTC (Federal Trade Commission) ১.৪ মিলিয়ন Identity Theft-এর রিপোর্ট পেয়েছে। এছাড়াও সারা বিশ্বে গড়ে প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে একটি সাইবার অ্যাটাক এবং প্রতিদিন প্রায় ২২০০ থেকে ২৩০০ এরও বেশি অ্যাটাক হয়ে থাকে।
ইন্টারনেট ভিত্তিক অপরাধ আপনার জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমনকি আপনার সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে চরম দুর্দশায় ফেলে দিতে পারে। তাই আপনার প্রতিদিনের হাতিয়ার ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হন, এবং কোন প্রকার অসঙ্গতি দেখা দিলেই সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এই সব অপরাধের সম্মুখীন হলে সাথে সাথে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। পাশাপাশি আমাদের সকলের উচিত, সরকার কর্তৃক জারিকৃত সাইবার সিকিউরিটির সকল আইন মেনে চলা।

ইম্প্যাথি ম্যাপিং মূলত একধরনের ট্যুলস। এটি গ্রাহকদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভব, উপলব্ধি সহ নানাবিধ তথ্য, উপাত্ত এর সমন্বয়ে গঠিত সুশৃঙ্খল এবং সুবিন্যস্ত একটি চার্ট। উল্লেখিত বিষয় সমূহ সম্পর্কিত তথ্য উপাত্তের খুব চমৎকার একটা ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন পাওয়া যায় এই ইম্প্যাথি ম্যাপিং এর মাধ্যমে। যা মূলত আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে ভালভাবে বুঝতে সহায়তা করে।








