হোয়াইট কলার ক্রাইম (White Collar Crime)

আইন ও সমাজের দৃষ্টিতে, "ক্রাইম" শব্দটি দিয়ে আমরা কি বুঝি? সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা থেকে শুরু করে সহিংসতা, ডাকাতি, খুন, জটিল আর্থিক প্রতারণা এর মত শাস্তিযোগ্য অপরাধ গুলো। কিন্তু যদি এমন হয়, উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তি, বড় কোনো প্রতারণা করে, অথবা সিস্টেমেটিক্যালি সেগুলো সরাসরি ভায়োলেন্স এর সাথে জড়িত নয়? তখন এই কম প্রকাশ্য, কিন্তু সমানভাবে ধ্বংসাত্মক, অপরাধ গুলোকে নাম দেয়া হয় "হোয়াইট কলার ক্রাইম "। ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট এর শুরু থেকেই সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, কর্পোরেট জালিয়াতি, পাম্প এন্ড ডাম্প, এবং মানি লন্ডারিং এর মত হোয়াইট কলার ক্রাইম গুলো সংঘটিত হয়ে আসছে। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অনুসারে, white collar crime এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বছরে 300 বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হয়। আর, দিন দিন এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হয়েই যাচ্ছে।
Key Points
- ২০২১ সালের হিসাবে হোয়াইট-কলার ক্রাইম থেকে বার্ষিক ক্ষতি ৪২৬ বিলিয়ন থেকে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।
- শুধু ২০২২ সালেই ৪,১৮০ টি হোয়াইট-কলার প্রসিকিউশন ছিল।
- অনুমান করা হয় যে হোয়াইট-কলার ক্রাইমের 90% ই রিপোর্ট করা হয় না।
- ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫৩% বেড়েছে এই ক্রাইম।
হোয়াইট কলার ক্রাইম কি?
হোয়াইট কলার ক্রাইম টার্ম টা ১৯৪৯ সালে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন, সমাজবিজ্ঞানী, Edwin Sutherland। তার মতে, উচ্চপদস্থ কিংবা হাই প্রোফাইল কোনো ব্যক্তি যখন কোনো অপরাধ করে সেগুলোই হল হোয়াইট কলার ক্রাইম। কিন্তু এই হোয়াইট কলার ক্রাইম নামকরণের কারণ কি?
তিনি এই অপরাধ গুলোকে "ব্লু কলার" ক্রাইমের সাথে ডিফারেনশিয়েট করতেই "হোয়াইট কলার" টার্ম টি ব্যবহার করেছেন। ব্লু কলার বলতে সাধারণত এমন অপরাধী কে বুঝানো হয়েছে যারা অনেকে বেশি ভায়োলেন্ট, যার মধ্যে ফিজিক্যাল ফাইটিং বা খুন এর মত বিষয় গুলো জড়িত। আর "হোয়াইট কলার" বোঝায় যে এই অপরাধগুলি সাধারণত এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত যারা সাদা-কলার শার্ট পরেন। অর্থাৎ, অফিসের সেটিংসে কাজ করেন, তারা হাই প্রোফাইল এবং অহিংস প্রকৃতির লোক, ভায়োলেন্স এ অংশ নেন না।
সহজ ভাষায়, তিনি ভায়োলেন্ট ও নন ভায়োলেন্ট দুটি ক্রাইম কে বর্ননা করার জন্য, ব্লু ও হোয়াইট কালার কনট্রাস্ট এর উদাহরণ দিয়েছেন৷ ব্লু কলার সরাসরি সহিংসতার সাথে জড়িত, আর হোয়াইট কলার কোনো ফিজিক্যাল ভায়োলেন্স ব্যতীত সকল রকম প্রতারণা, জালিয়াতির অংশ। সাধারণত, সমাজের উচ্চবর্গের লোকেদের নেতৃত্বেই হোয়াইট কলার ক্রাইম হয়ে থাকে। কিন্তু দুটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ধরুন, একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির একজন বিশ্বস্ত, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত লাভের জন্য তাদের প্রতিযোগীর কাছে ওষুধের সিক্রেট ফর্মূলা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কোনো ভায়োলেন্স না করে কিংবা হতাহতের ঘটনা না ঘটিয়ে এই কাজটি করে ফেলতে পারছেন। কারণ, কোম্পানির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়ায় তার কাছে বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসের একসেস আছে। আর হাই প্রোফাইল পজিশনের আড়ালে, কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তির এই কাজটিই ছিল হোয়াইট-কলার ক্রাইম।
হোয়াইট কলার ক্রাইম কিভাবে কাজ করে?
White Collar Crime এ অপরাধ সংঘটিত হওয়া থেকে শুরু করে, এর শেষ পরিনতি পর্যন্ত কয়েকটা ধাপ থাকে।
অপরাধ সংঘটিত করা:
হোয়াইট-কলার ক্রিমিনালরা প্রথম ধাপে তাদের পজিশন, জ্ঞান বা কর্তৃত্ব ব্যবহার করে অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, অভ্যন্তরীণ ব্যবসা, কর ফাঁকি এবং ঘুষ।
গোপন করা:
হোয়াইট-কলার ক্রাইমের অপরাধীরা তাদের একটিভিটি গোপন করার জন্য মূলত অনেক সময় নেয়। এই সময়ে তারা জাল নথি তৈরি করা, রেকর্ড পরিবর্তন করা বা তাদের অন্যায় আড়াল করার জন্য অত্যাধুনিক আর্থিক লেনদেন এর মত কাজ গুলো করে।
ভিকটিম:
হোয়াইট-কলার অপরাধে সাধারণত এমন এক বা একাধিক ভিকটিম থাকে যারা অন্যায় সম্পর্কে সচেতন না। উদাহরণস্বরূপ, একটি Ponzi স্কিমে, প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারীরা রিটার্ন পেতে থাকে, ফলে বৈধতার একটি মুখোশ তৈরি হয়। আর এভাবে বিশ্বাস অর্জন করেই পরবর্তীতে জালিয়াতি হয়। বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ হারায়।
সময়কাল:
এই অপরাধগুলি শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত, অনেক সময় ধরে, কখনও কখনও কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। সনাক্ত করতে যত বেশি সময় লাগবে, সম্ভাব্য ক্ষতি তত বেশি হবে।
তদন্ত:
সাধারণত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা হুইসেল ব্লোয়ারদের দ্বারা তদন্তের মাধ্যমে হোয়াইট কলার ক্রাইম গুলো উন্মোচিত হয়। এই তদন্তে ফাইনান্সিয়াল অডিট, ইন্টারভিউ এবং এভিডেন্স কালেকশনের মাধ্যমে অপরাধ সনাক্ত করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া:
যদি যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়, তাহলে জড়িত ব্যক্তি বা সংস্থা গুলো আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। এই অপরাধের কারণে, ফৌজদারি অভিযোগ, জরিমানা, রেস্টিটিউশন অর্ডার, এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের কারাবাসের মত শাস্তি হয়ে থাকে।
রিকভারি পিরিয়ড:
কিছু ক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্থরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষতির একটি অংশ রিকভারি করতে পারে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে হারানো সম্পদ সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা কঠিন।
হোয়াইট কলার ক্রাইম এর ধরন
ফ্রড, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ কিংবা দূর্নীতির আশ্রয়, এগুলো সবই হোয়াইট কলার ক্রাইম এর অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বব্যাপী সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের হোয়াইট কলার ক্রাইম গুলো হল:-
জালিয়াতি:
সিকিউরিটিজ জালিয়াতি: ফাইনান্সিয়াল মার্কেটে প্রতারণামূলক প্র্যাকটিস, যেমন স্টক সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা, মূল্য পরিবর্তন করা, ইত্যাদি।
মর্টগেজ জালিয়াতি:
অনেক সময়ে ঋণ দেয়ার নামে, সম্পদ বন্ধক রাখা ও পরবর্তী সম্পদ ও ঋণের অর্থ উভয়ই হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ঘটে এসব জালিয়াতি ও হোয়াইট কলার ক্রাইম এর অন্তর্ভুক্ত।
বীমা জালিয়াতি:
বর্তমানে অনেক কোম্পানি, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরঞ্জিত করে বা অযাচিত প্রচার করিয়ে বানোয়াট বীমা করায়। এবং সাধারণ মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে। এগুলোও এক ধরনের হোয়াইট কলার ক্রাইম।
আইডেন্টিটি থেফ্ট :
বেআইনিভাবে অন্য কারো ব্যক্তিগত তথ্য কালেক্ট করা এবং আর্থিক লাভের জন্য সেগুলো ব্যবহার করাও একধরনের জালিয়াতি। ইন্টারনেট ও ডিজিটালাইজেশন এর যুগে এই ক্রাইম টি অনেক বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
আত্মসাৎ:
এই অপরাধটি ঘটে যখন একাউন্ট ম্যানেজমেন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠানের ফান্ড গুলো সরিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন কর্মচারী কাউকে না জানিয়ে তাদের কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পাচার করে দিচ্ছেন।
মানি লন্ডারিং:
মানি লন্ডারিং অর্থাৎ, অর্থের অবৈধ উৎস গোপন করা এবং একে বৈধতা দেয়ার জন্য বিভিন্ন কারসাজি করা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অর্থই কিন্তু পাচার হয় মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে।
কর ফাঁকি:
ব্যক্তিগত ভাবে বা কোনো কোম্পানি তাদের কর দায় কমানোর জন্য আয়ের রিপোর্ট এ হেরফের করে। অতিরিক্তভাবে কাটছাঁট করে, আয় কম দেখায় বা অন্যান্য প্রতারণামূলক কার্যকলাপ করে। এতে সরকার কর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
ঘুষ ও দুর্নীতি:
একজন কর্মকর্তার অফিশিয়াল একশনকে প্রভাবিত করার জন্য মূল্যবান কিছু দেওয়া বা গ্রহণ করাই ঘুষ। আর ব্যক্তিগত লাভের জন্য জনসাধারণের ক্ষমতা বা পদের অপব্যবহার, কিকব্যাক বা স্বজনপ্রীতি এর মত দূর্নীতি গুলোও হোয়াইট কলার ক্রাইম বলে বিবেচিত হয়।
সাইবার ক্রাইম:
হ্যাকিং: কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে অবৈধ অ্যাক্সেস নেয়া ও কারো ক্ষতি করা।
ফিশিং: পাসওয়ার্ড বা আর্থিক বিবরণের মতো সংবেদনশীল তথ্য অর্জনের প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা।
ম্যালওয়্যার: সিস্টেমে একসেস পেতে বা ডেটা চুরি করতে ক্ষতিকারক সফ্টওয়্যার ছড়িয়ে দেয়া।
পরিবেশগত অপরাধ:
পরিবেশগত আইনের লঙ্ঘন, যেমন বিপজ্জনক বর্জ্যের অবৈধ নিষ্পত্তি, প্রাকৃতিক সম্পদের দূষণ, বা বর্জ্য পদার্থ নির্গমনের রুলস গুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়া। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম গুলো অমান্য করে পরিবেশের ব্যপক ক্ষতিসাধন করছে। আর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান গুলোর কারণে পরিবেশ এই দূষণও হোয়াইট কলার ক্রাইম এর অন্তর্ভুক্ত।
ভোক্তা প্রতারণা:
মিথ্যা বিজ্ঞাপন, বেইট-এন্ড-সুইচ স্কিম, বা নকল পণ্য বিক্রি, গ্রাহকদের ক্ষতি করে এমন জিনিস বিক্রি করা এগুলো সবই এক ধরনের হোয়াইট কলার ক্রাইম।
ঐতিহাসিক কিছু হোয়াইট কলার ক্রাইম
কিছু ঐতিহাসিক হোয়াইট-কলার ক্রাইম:
এনরন কেলেঙ্কারি (২০০১):
এনরন ছিল একটি স্বনামধন্য আমেরিকান এনার্জি কোম্পানি যেটা ২০০১ সালে বিরাট এক অ্যাকাউন্টিং জালিয়াতির কারণে ভেঙে পড়ে। সিইও জেফরি স্কিলিং এবং সিএফও অ্যান্ড্রু ফাস্টো এর মত এক্সিকিউটিভরা মূলত কোম্পানি হেড কে না জানিয়ে ব্যাপক লোন নেয় এবং তাদের লোন হাইড করতে এবং প্রোফিট বাড়াতে ভুয়া ফাইনান্সিয়াল কাঠামো ব্যবহার করে।
একপর্যায়ে ব্যপক লোনের ভারে এনরনের দেউলিয়া হয়ে যায়, ফলে জব এবং ইনভেস্ট সেক্টর এর ব্যপক ক্ষতি হয় এবং অ্যাকাউন্টিং ফার্ম আর্থার অ্যান্ডারসেনের এখানেই বিলুপ্তি হয়৷
বার্নি ম্যাডফ পঞ্জি স্কিম (২০০৮):
বার্নি ম্যাডফ এক ব্যাক্তি একটি Ponzi স্কিম অর্কেস্ট্রেট করেন যেখানে তিনি ইনভেস্টর দের অনেক বেশি রিটার্ন পাওয়ার লোভ দেখান এবং আগের সমস্ত লোন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।
ম্যাডফের স্কিমটি কয়েক দশক ধরে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিল। এবং সে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর প্রায় ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল।
২০০৮ সালে তার গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ফলে ১৫০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
টাইকো ইন্টারন্যাশনাল স্ক্যান্ডাল (২০০২):
টাইকোর সিইও, ডেনিস কোজলোস্কি এবং সিএফও, মার্ক সোয়ার্টজ, কোম্পানি থেকে ১০০ মিলিয়নের বেশি ডলার আত্মসাৎ করেছিলেন।
তারা এমপ্লয়িদের বোনাসের টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া ঋণ নেয়া ও সেই টাকা আত্মসাৎ করা এবং সেগুলো ব্যক্তিগত কাজে খরচ করার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০০২ সালে ঘটা সবচেয়ে বড় হোয়াইট কলার ক্রাইম ছিল এটি।
সেভিংস এবং লোন ক্রাইসিস (১৯৮০-১৯৯০):
মার্কিন সঞ্চয় এবং ঋণ শিল্পে ব্যাপক দুর্নীতি এবং জালিয়াতির কারণে, সেভিংস এবং লোন ক্রাইসিস এর ইন্সিডেন্ট ঘটে। তখনকার অধিকাংশ লোন কমিটির গুলো রিস্কি লেনডিং প্র্যাকসিস করার করাণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়। ফলে ফেডারেল সরকারকে এখানে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল এবং ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলিকে জামিন দিতে হয়েছিল। আর করদাতাদের বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছিল।
ভক্সওয়াগেন ডিজেলগেট (২০১৫):
২০১৫, ফেমাস বিজনেসম্যান ভক্সওয়াগেন তার ডিজেল গাড়িতে সফ্টওয়্যার ইনস্টল করার কথা স্বীকার করেছে। এগুলো দিয়ে মুলত এমিশন টেস্টে হেরফের করে, তার গাড়িগুলোকে বেশি পরিবেশ বান্ধব দেখাতেন। এবং অতিরিক্ত দামে এগুলো বিক্রি করতেন। ২০১৫ সালের অন্যতম আলোচিত একটি হোয়াইট কলার ক্রাইম এটি।
মার্থা স্টুয়ার্ট ইনসাইডার ট্রেডিং (২০০১):
মার্থা স্টুয়ার্ট, একজন ফেমাস এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের জন্য ২০০১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন।
তিনি নন-পাবলিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে তার ImClone সিস্টেমের শেয়ার গুলো চড়া দামে বিক্রি করেছিলেন। বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার জন্য পরবর্তীতে তাকে কারাগারে দণ্ডিত করা হয়েছিল।
উপসংহার
White Collar Crime গুলো হয়ত সরাসরি ভায়োলেন্ট বা সহিংস নয়, তবে এগুলোর প্রভাবও কিন্তু কম ধ্বংসাত্মক নয়। ইউএস বিজনেসের এর ৩৬ শতাংই এর কবলে আর ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫৩% বেড়েছে এই ক্রাইম। একটি কোম্পানিকে ধ্বংস করতে, একজন ব্যক্তির সারা জীবন সঞ্চয় নিশ্চিহ্ন করতে, বিনিয়োগকারীদের বিলিয়ন ডলার খরচ করতে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে যেকোনো হোয়াইট কলার ক্রাইম যথেষ্ট।
স্ট্রিক্ট রুলস, নতুন নতুন আইন প্রনয়ণ করেও একে দমন করা যাচ্ছে না। তাই, হোয়াইট কলার ক্রাইম দমনের প্রথম শর্ত, দূর্নীতি দমন ও দ্বিতীয় শর্ত আত্মসচেতনতা।
- https://www.zippia.com/advice/white-collar-crime-statistics/
- https://www.nu.edu/blog/common-white-collar-crimes/
- https://www.investopedia.com/terms/w/white-collar-crime.asp
Next to read
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রসমূহ


রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example

হোরেকা (HORECA)

ইক্যুইটির সংজ্ঞা এবং অর্থ

রিব্র্যান্ডিং (Rebranding)

অর্থনীতি কী?

ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Micro Economics কী?

সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?

সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
