GeoRenus Editorial Team

অনলাইন কনটেন্ট, ইমেইল, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে মার্কেটে থাকা প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস সম্পর্কে সম্ভাব্য কাস্টমারদের আরও ভালোভাবে সেই প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের সাথে যুক্ত হতে বা সেই সম্পর্কে জানার একটা সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার প্রোসেসকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।
গত দশকে সবচেয়ে বেশি রেভল্যুশন হওয়া সেক্টর হয়তোবা মার্কেটিং সেক্টর আর এই রেভল্যুশনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ডিজিটাল মার্কেটিং।
ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে কি? ডিজিটাল মার্কেটিং হলো, মার্কেটিং এর একটা অংশ যা ইন্টারনেট বা একই ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস এর মার্কেটিং করে।
সময়ের সাথে সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উন্নতি হলেও প্রথম ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সালের মাঝে ডিজিটাল মার্কেটিং এর নাটকীয় উন্নতি হয়, যখন ডিজিটাল মিডিয়ার সাথে কানেক্ট করতে সক্ষম ডিভাইসগুলোর ব্যবহার হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেতে থাকে। LinkedIn, Facebook, YouTube এবং Twitter এর মতো ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সালের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়াের বিকাশের সাথে সাথে কাস্টমাররা দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস এর উপর অনেক নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন। আর এইসময়ে গতানুগতিক উপায়ে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ করা থেকে এইসকল সোশ্যাল মিডিয়া আর অনেক রকমের ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।
মনে করা হয়, ১৯৯১ সালের প্রথম দিকে, Web 1.0(Archie Search Engine) এর মাধ্যমে বিজনেস টু কাস্টমার (B2C) এর থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুচনা হয় এবং এই মার্কেটিং এর ধারনা জনপ্রিয় হতে থাকে। এরপর ১৯৯৫ সালে AMAZON এর সূচনার পর থেকে মানুষের মাঝে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এখনের সময় অনুযায়ী, মার্কেটিংকে অনেক গুরুত্বপূর্ন একটা সেক্টর হিসেবে ধরা হয়। একটা কোম্পানির উন্নতির জন্য এর আয়তন আর ইনভেস্টমেন্ট থেকে কোম্পানির মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিকে বেশি গুরুত্বপুর্ন হিসেবে ধরা হয়।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য যেসকল মাধ্যম ব্যবহার করা হয় তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
কনটেন্ট মার্কেটিং হলো একটি কৌশলগত মার্কেটিং পদ্ধতি যা স্পষ্টভাবে কাস্টমারদের আকর্ষণ বজায় রাখার জন্য মূল্যবান, প্রাসঙ্গিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি এবং বিতরণ করার উপর ফোকাস করে। কনটেন্ট মার্কেটিং এর সামগ্রিক লক্ষ্য হলো টার্গেট অডিয়েন্সকে মুল্যবান তথ্য দেওয়া, ট্র্যাফিক বাড়ানো এবং কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করা। তাছাড়া কনটেন্ট মার্কেটিং ৫৪% বেশি কার্যকর ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এর তুলনায় এবং প্রায় ৬০% কাস্টমার সেইসব কোম্পানি পছন্দ করে যারা কনটেন্ট তৈরি করে। কনটেন্ট মার্কেটিং সাধারনত একটা ওয়েবসাইট এর উপর ভিত্তি করে কয়েক প্রকার চ্যানেল এর মাধ্যমে কাজ করে,
কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কিত আর্টিক্যাল বা কনটেন্ট লেখা বা ভিডিও কনটেন্ট বানানো এর মাধ্যমে এই ধাপে কাজ করা হয়।
ই-বুক, হোয়াইট পেপারস এবং একই ধরনের দীর্ঘ-ফর্ম ওয়েবসাইট ভিজিটরদের চাহিদা অনুযায়ি কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করে যা কোম্পানির সম্পর্কে জানতে কাস্টমারদের আরও আগ্রহি করে তোলে।
ইনফোগ্রাফিক্স ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের একটি ফর্ম যা ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট/ সার্ভিস অনুযায়ী কোনকিছু শিখতে সাহায্য করে।
ধরি, কোন একটা কোম্পানি স্পোর্টস এর সাথে সম্পর্কিত প্রোডাক্ট বিক্রি করে থাকে। এখন কোম্পানি থেকে তাদের মার্কেটিং এর জন্য ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট সম্পর্কিত কনটেন্ট লেখা বা ভিডিও বানানো হতে পারে। যেমনঃ সকালে এক্সারসাইজ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ (এইসময়ের আউটফিট কেমন হলে কমফোর্ট বাড়বে), কিভাবে দৌড়ান উচিত (কি রকমের জুতা ব্যবহার করা উচিত এসময়), ক্রিকেট কিভাবে ভালো খেলা যায় (কোন গ্লাভস পড়লে ব্যাট গ্রিপ করতে সুবিধা বা খেলোয়াড় অনুসারে কোন ধরনের ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহার করা উচিত) । এভাবেই এক একটা কনটেন্ট তৈরি করে সম্ভাব্য কাস্টমার যারা আছে তাদেরকে কিছু ইনফরমেশন দেওয়ার মাধ্যমে কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে জানানো যায়।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও হলো কোম্পানির ওয়েবসাইটকে উন্নত করার একটি প্রসেস যার মাধ্যমে কোন কাস্টমার বা সাধারন কোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যখন ঐ ব্যবসা বা কোম্পানির কোন প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত কোন KeyWord, Clause বা Sentence সার্চ করবে তখন যেন ঐ কোম্পানির নাম বা সম্পর্কিত সকল তথ্য সার্চ রেজাল্টের একেবারে উপরের দিকে থাকে। এসইও এর মূল লক্ষ্য হলো কোম্পানির ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য কাস্টমারদের ট্র্যাফিক নিয়ে আসা।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন মার্কেটিং এর প্রায় ৯২.০৫% মার্কেট শেয়ারের নিয়ন্ত্রন আছে Google এর কাছে, যার জন্য পুরো SEO মার্কেটিং এ Google এর একচেটিয়া প্রভাব সব কোম্পানির উপর আছে।
ধরি, একই স্পোর্টস কোম্পানি তাদের ব্র্যান্ডের মার্কেটিং এর জন্য বানানো কনটেন্টগুলো ওয়েবসাইটে যুক্ত করেছে। কিন্তু ওয়েবসাইট কোন কাস্টমারের সামনে আসছে না। এখন কোম্পানির এই ওয়েবসাইট তাদের টার্গেট কাস্টমারের সামনে আনতে দরকার সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, যাতে সার্চ রেজাল্টের একেবারে উপরের দিকে কোম্পানি সম্পর্কিত সকল তথ্য চলে আসে, আর একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তাদের দরকারী ইনফরমেশন এই কোম্পানির মাধ্যমে জানতে পারে আর সেই সাথে কোম্পানির প্রোডাক্ট নিয়েও ধারনা পায়।
প্রায় প্রতিটা নতুন কাস্টমার তাদের চাহিদায় থাকা প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দিয়ে প্রাথমিক ধারনা নিয়ে থাকে। তাছাড়া ১০% এর কম ব্যবহারকারী সার্চ ইঞ্জিনের ২য় পেজে গিয়ে সার্চ রেজাল্ট দেখায় আগ্রহী থাকে কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথম পেজে আসা রেজাল্টেই কাস্টমার সন্তুষ্ট থাকে। আবার ৩০% এর বেশি ব্যবহারকারী প্রথম সার্চ রেজাল্টেই ক্লিক করে, এগুলা থেকে একটা ধারনা পাওয়া যায় যে ব্যবসার গ্রোথ এর জন্য এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অনেক প্রয়োজনীয় একটি স্ট্র্যাটেজি।
কোন ওয়েবসাইটের পেজে বা কনটেন্ট এর সাথে বা সার্চ ইঞ্জিনের কোন রেজাল্টের শুরুর প্রথম প্যারায়, কোন ভিডিওর মাঝে বা ডেস্ক্রিপশন বক্সে থাকা কোম্পানির ওয়েবসাইটের লিঙ্ক যা একপ্রকার এডভার্টাইজিং এর মতো কাজ করে আর কোন কাস্টমার যদি এই লিঙ্কে ক্লিক করে তবে প্রতি ক্লিকের জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কোম্পানিকে দিতে হয় ঐ প্লাটফর্মকে, আর এই পুরো প্রসেসকে বলা হয় পে-পার-ক্লিক এডভার্টাইজিং।
পিপিসির সাহায্যে, একজন তার কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কিত এক বা একাধিক KeyWord/ Clause এর উপর বিড করেন যেন ঐ KeyWord/ Clause সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে ঐসকল ব্যবহারকারীর সামনে কোম্পানির ওয়েবসাইটের লিঙ্ক সব রেজাল্টের উপরে থাকে। যদি কোনও ব্যবহারকারী এই এডভার্টাইজে ক্লিক করে, তবে কোম্পানি সেই ক্লিকের জন্য অর্থ প্রদান করবে। পিপিসির ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে আছে GoogleAds, যা কোন কোম্পানি বা ব্যক্তিসত্বাকে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টের পেজগুলোতে সবথেকে উপরের স্লটগুলো দিয়ে থাকে নির্দিষ্ট পরিমার অর্থের বিনিময়ে। আরও কিছু চ্যানেল যেখানে পিপিসি ব্যবহার করা যায় সেগুলির মধ্যে রয়েছে:
১। পেইড এডস ইন ফেসবুক/ ইউটিউব
২। টুইটার এড ক্যাম্পেইন
৩। স্পন্সরড ম্যাসেজ অন লিংকডইন
২০১৯ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, ১১১বিলিয়ন ডলারের এই মার্কেটের প্রায় ৫৪% আছে Google আর Facebook এর নিয়ন্ত্রনে।
কোম্পানির ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক আরও বাড়ানোর জন্যই আসলে PPC ব্যবহার করা হয়। ধরি, সেই স্পোর্টস কোম্পানি তাদের SEO করার পর তাদের চাহিদা অনুযায়ি ফলাফল পাচ্ছে না বা আরও কাস্টমারের দরকার হচ্ছে। এইজন্য স্পোর্টস এর সাথে সম্পর্কিত KeyWord/ Clause গুলো YouTube, Facebook এ তাদের লিঙ্ক ব্যবহার করে এই ভাবে এডভার্টাইজিং করতে পারবে।
ইমেইল মার্কেটিং সবচেয়ে কম খরচের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি গুলোর মধ্যে অন্যতম । এই চ্যানেলটি কাস্টমারদের সরাসরি তাদের ইমেইল ইনবক্স এ সংযুক্ত করে। MailChimp বা ConvertKit এর মতো Email Service Provider (ESP) ছোট ব্যবসাগুলোকে এই কৌশলে আরও দক্ষতার সাথে চালাতে সাহায্য করে, তবে ইমেইল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা লাভজনক কৌশল তৈরির জন্য অন্যান্য সরঞ্জাম বা পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন।
অনেক সময় দেখা যায়, ওয়েবসাইটে একজন কাস্টমার দ্বিতীয়বার আর আসেনা বা প্রথমবার এসে সবকিছু দেখেও প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে তেমন একটা ধারনা নিতে পারেনা, আবার তার চাহিদায় থাকা প্রোডাক্ট ঐসময় থাকেনা বা কিছুদিন পর আসে। এই সকল সমস্যা দূর করতেই ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার করা হয়।
আবার উদাহরনের স্পোর্টস কোম্পানির কথাই ধরি। এই ওয়েবসাইটে একজন কাস্টমার এসে প্রোডাক্টগুলোর সম্পর্কে জানতে পারলেও তার অর্ডার দিতে সমস্যা হচ্ছিলো। এখন ওয়েবসাইট মনিটরিং টিম এই সমস্যা যদি বুঝতে পেরে ঐ কাস্টমারকে মেইল করে ওর্ডারের পুরো প্রসেসটা বুঝিয়ে দেয় তবে সেই কাস্টমার এখন সহজে অর্ডার করতে পারবে। আবার মনে করি, যেই প্রোডাক্ট কাস্টমার কিনতে এসেছিল সেই প্রোডাক্ট তখন ছিলোনা দেখে কাস্টমার চলে গেছে। এখন নতুন আসা প্রোডাক্টের মাঝে কাস্টমারের চাহিদায় থাকা সেই প্রোডাক্ট থাকলে আর মেইলের মাধ্যমে সেই আপডেটটা তাকে দেওয়া গেলে প্রোডাক্ট বিক্রিতে কোম্পানির সুবিধা হবে আবার কোম্পানির প্রমোশন করতেও অর্থ ব্যয় কম হবে।
ইমেইল মার্কেটিং এর গড় Return on Investment (ROI) হলো ৪৪ অর্থাৎ ইমেইল মার্কেটিং এড এ প্রতি ১ ডলার খরচে ৪৪ ডলার লাভ পাওয়া সম্ভব হয়।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩.৯৬ বিলিয়ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রয়েছে, যার কারনে ব্যবসায়ের মার্কেটিং এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
কোম্পানি যখন তাদের প্রোডাক্ট/ সার্ভিস মার্কেটিং এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া (FaceBook, Twitter, Pinterest, Instagram, Google+) ব্যবহার করে, তখন কৌশলটিকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে।
৬০% এর বেশি কাস্টমার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কাস্টমার ফিডব্যাকের জন্য। তাছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কাস্টমারদের মধ্যে ২৫% এর বেশি কাস্টমার তাদের ইন্টারনেট এর অধিকাংশ সময় কাটায় সোশ্যাল মিডিয়ায়, যার কারনে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কাস্টমারদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটা উপযুক্ত পদ্ধতি।
এখন স্পোর্টস কোম্পানি যদি তাদের কোম্পানির নামে একটি Facebook পেজের মাধ্যমে কোম্পানির আপডেটগুলো দিতে থাকে, নানা রকম আর্টিকেল পোস্ট করে, আবার YouTube এর থেকে কোম্পানির নামে একটি চ্যানেলের মাধ্যমে অনেক রকম খেলাধুলার টিপসসহ ভিডিও দিলো, আবার মাঝে মাঝে কোন জনপ্রিয় খেলোয়াড়কে নিয়ে পডকাস্টের আয়োজন করতে পারে। সহজ কথায় কোম্পানির নাম আরও জনপ্রিয় আর সহজে কাস্টমারের সামনে আনতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো থার্ড পার্টির ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে একটা কমিশনের ভিত্তিতে কাস্টমারের সাথে যুক্ত হওয়া এবং কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস বিক্রি করা।
AMAZON, DARAZ, ALIBABA, FOODPANDA বা FIVERR এর মতো বড় বড় থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর আদর্শ উদাহরণ। এখানে অনেক ছোট বড় কোম্পানিকে এক করার মাধ্যমে অনেক বড় একটা মার্কেটিং নেটওয়ার্ক তৈরি হয় আর নিজস্ব কোম্পানির তেমন কোন প্রকার খরচ বৃদ্ধি না করেই কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের বিক্রয়ের নাটকীয় বৃদ্ধি হতে পারে। আর এইখানে কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের মানের থেকেও থার্ড পার্টি ওয়েসাইটের জনপ্রিয়তা, রিভিউ আর মার্কেটিং অনেকাংশে নির্ভর করে কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস বিক্রির জন্য। প্রায় ৯০% ভোক্তা ব্যক্তিগত রিভিউ এর তুলনায় অনলাইন রিভিউ এ বিশ্বাস করে, সেহেতু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অবিশ্বাস্য মান দিতে পারে।
এখন সেই স্পোর্টস কোম্পানি যদি চায় তাদের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য এমন কোন থার্ড পার্টির ওয়েবসাইট ব্যবহার করবে তবে তাদের সেই কোম্পানির নিয়ম অনুসারে তাদের প্রোডাক্ট সাজিয়ে এবং একটা সাবক্রিপ্সন ফি বা কমিশন দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মার্কেটিং করতে পারে।
একটা ধারনা নেওয়া জরুরি যে আমরা এখন এমন একটা সময়ে বসবাস করছি যখন ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এর একটা বড় অবদান রয়েছে বৈশ্বিক ব্যবসা, অর্থনীতি বা বানিজ্যে। এক গবেষণায় দেখা গেছে ,
২০২০ সালের প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ওয়েবসাইট বিদ্যমান ছিলো এবং একটিভ অবস্থায় ছিলো প্রায় ৪০০ মিলিয়ন
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত।
পৃথিবীতে প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ইমেইল দেওয়া নেওয়া হয় ।
প্রায় ৪.৫২মিলিয়ন এপ্লিকেশন বিদ্যমান Android এবং Apple প্লাটফর্ম এ।
এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মধ্যে থাকার কারনে কোম্পানি বা ব্র্যান্ডগুলো পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের টার্গেটেড কাস্টমারদেরকে তাদের প্রোডাক্ট/ সার্ভিস খুবই কার্যকর এবং কম সময়ের মধ্যে পৌছে দিতে পারছে। এই অনলাইন জগৎ ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুযোগে পরিপূর্ণ এবং এটি প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশের দুনিয়াকে নতুন করে তৈরি করছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান বিশ্বেকে বদলে দিয়েছে মুলত ২ টি ভাগেঃ
কাস্টমারের জীবনে (In Consumers Lives)
ব্যবসার সম্প্রসারণে (In Business Growth)
নতুন নতুন ট্রেন্ড, সার্ভিস পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত খুব দ্রুত হারে পরিবর্তিত হচ্ছে, এমন সময়ে এই সমস্ত ট্রেন্ড বা ইস্যু এর ব্যাপারে আপডেটেড থাকা কাস্টমারদের দিক থেকে প্রয়োজনীয়। এতে করে তাদের সেবা বা পণ্য নির্ধারনে সুবিধা হয়। আর বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্রিয়াকালাপ তাদেরকে এই সমস্ত ট্রেন্ড বা ইস্যু এর ব্যাপারে প্রতিনিয়ত আপডেট করছে। যেমন উদাহরণ হিসাবে NETFLIX কেই ধরা যায়, NETFLIX তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের Top Watched সিরিজি বা মুভির এডভার্টাইজ দিয়ে যাচ্ছে এতে করে কাস্টমাররা জানতে পারছে তখনকার সময়ে কোন ছবি বা সিরিজ বেশি চলছে এবং তাদের কোনটা দেখা উচিত।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্রিয়াকালাপ এখন যেকোন মার্কেটকে কাস্টমার ভিত্তিক মার্কেটে পরিনত করতে সাহায্য করছে। কাস্টমার এখন সহজেই বিদেশি কোন প্রোডাক্ট পছন্দ করে নিজের করে নিতে পারছে। যেমন, Aadi.com.bd এর ওয়েবসাইট এ দেশীয় ফ্যাশন রিলেটেড পণ্য দেখার সময় এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সামনে Amazon.com এর পণ্য চলে আসলে সেখান থেকেও যেকোন পণ্য পছন্দ করে কাস্টমার নিজের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। এর মাধ্যমে কাস্টমারের পছন্দের রেঞ্জ খুবই সহজে একটা বড় পরিধি পায়।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ফোকাস হলো কাস্টমারের এক্সপেরিয়েন্স বাড়ানো। কাস্টমারের এখন সুযোগ আছে যেকোন প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের ফিডব্যাক বা রিভিউ দেওয়া এবং সেইটা ওয়েবসাইট বা এপ্লিকেশন যেকোন যায়গায় হতে পারে। যা ভবিষ্যৎ কাস্টমারদের প্রোডাক্ট/ সার্ভিস কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে কাস্টমারের রিভিউ বা ফিডব্যাককে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে একটা বড় পরিমাপের অডিয়েন্সের কাছে পৌছে দিয়ে সহজেই কাস্টমারের একিউজিশন বৃদ্ধি সম্ভব। আর এর মাধ্যমে কাস্টমাররাও বুঝতে পারবে কোন প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের মান কেমন কারন প্রায় ৯০% কাস্টমার অনলাইন রিভিউকে অধিক বিশ্বাস করে।
ইন্টারনেট আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর গ্রোথ এর কারনে কাস্টমারের কাছে ব্র্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স সম্পর্কিত তথ্য খুব সহজে প্রচারিত হচ্ছে। যার কারনে কাস্টমার ব্র্যান্ড বা কোম্পানির উপর নিজের বিশ্বাস রাখতে পারছে। আর এই কারনে কাস্টমাররা ঐ কোম্পানি বা ব্র্যান্ড থেকে ভালো মানের সার্ভিস পাচ্ছে।
সার্চ ইঞ্জির অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কাস্টমার প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে যেকোন তথ্য জানতে পারছে সেটা দিন রাত বা সপ্তাহের যেকোন সময় হোক না কেন। ব্যবসা সম্পর্কিত যেকোন সিদ্ধান্ত তৈরী করতে পারছে দিনের যেকোন সময়ে কারন ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাহায্যে তারা যেকোন সময় সেই ব্র্যান্ড বা ব্যবসার প্রোডাক্ট এর এক্সেস পাচ্ছে।
এইভাবেই ডিজিটাল মার্কেটিং এখন কাস্টমারদের জীবনযাপন সহজ করে ফেলেছে আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই সুযোগ বৃদ্ধির কারনে কাস্টমারের ক্রয় সম্পর্কিত আচরণ পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং একটি কাস্টমার কেন্দ্রিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে। যার ফলে কোম্পানিগুলো এখন কাস্টমারদের অধিক প্রায়োরিটি এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিরাপত্তা প্রদান করছে।
আধুনিক ব্যবসা জগতের এই উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান হয়তোবা ডিজিটাল মার্কেটিং এর। যেমন,
SEO এর মাধ্যমে এখন কোম্পানিগুলো এখন এত দ্রুত কাস্টমার একুইজিশন করতে পারছে যা এর আগে চিন্তা করা যেত না। SEO এর র্যাংক যত বেশি তত বেশি সম্ভাবনা থাকে সম্ভাব্য কাস্টমার পাওয়ার। ৭৫% অডিয়েন্স সার্চ ইঞ্জিনের ২য় পেজে দেখতে আগ্রহী হয় না সুতরাং SEO এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট কে প্রথম পেজে রাখতে পারা মানে হলো ওয়েবসাইটে আরো বেশি ট্র্যাফিক পাওয়া। এই ট্র্যাফিক অডিয়েন্স হয়তোবা নিজের ইমেইল দিয়ে সাইনআপ করে যাবে ভবিষ্যৎ ক্রয়ের জন্য আর এইভাবেই অডিয়েন্স সম্ভাব্য কাস্টমারে পরিনত হয়। যেকোন কোম্পানি এর কাছে তাদের এক্সিজটিং কাস্টমার খুব গুরুত্বপূর্ণ,সেখানে নতুন কাস্টমার পাওয়ায় তাদের ব্যাবসায় সম্প্রসারণ আরো দ্রুত হয়।
কোন চ্যানেল বা স্ট্রাটেজি কোম্পানির কাজে আসছে সেটা বুঝতে পারা যায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে। ডিজিটাল মার্কেটের একটি বড় সুবিধা হলো রিয়েল টাইম রেজাল্ট দেখা সম্ভব এখানে। যেকোন ক্যাম্পেইন চালু করার পর বিক্রয়ে হঠাৎ বৃদ্ধি দেখতে পাওয়ার মানে হলো ক্যাম্পেইন কাজে আসছে। যদি কোম্পানির উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য জানা থাকে তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আউটকাম পাওয়া আরও সহজ হয়ে যায়।
যেমন যদি কোম্পানির বিক্রয় বাড়ানোর দরকার হয় তাহলে কোম্পানির এডভার্টাইজগুলো সব ট্র্যাফিককে কাস্টমারে পরিনত করতে পারছে কিনা সেটা ট্র্যাক করা দরকার আবার যদি কোম্পানির ব্র্যান্ড এ্যওয়ারনেস বাড়ানোর দরকার হয় তাহলে ক্যাম্পেইন গুলোতে অডিয়েন্স কেমন পাচ্ছে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার সংখ্যা কেমন সেগুলো ট্র্যাক করা দরকার। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে এই জিনিসগুলো ট্র্যাক করে কোন ক্যম্পেইন চালু রাখা দরকার আর কোনটা বন্ধ করা দরকার এগুলা সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। Hubspot, Mailchimp, Hootsuite এর মতন CRM (Customer Relationship Management) এর মাধ্যমে খুব সহজেই এই ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কিত জিনিস ট্র্যাক করা সম্ভব।
অনলাইনে নিজের উপস্থিতি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কারনে। এখনকার দুনিয়ায় যদি কোন কোম্পানি অনলাইনে না থাকে তাহলে সেই কোম্পানি খোজার মত তেমন কোন মাধ্যম নেই। আধুনিক কাস্টমাররা ফোন-বুকের মাধ্যমে খোজে না। এখন সবাই Google, Facebook ব্যবহার করে। তাই ব্যবসা সম্প্রসারণ এর জন্য অনলাইনে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। গড়ে প্রতিটা ব্যক্তি দিনে ২ ঘন্টা করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। সুতরাং, সোশ্যাল মিডিয়াতে কোম্পানির ব্র্যান্ড বা কোম্পানির উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটা বড় সংখ্যার অডিয়েন্সের সামনে নিজের ব্র্যান্ড বা কোম্পানিকে উপস্থাপন করা সম্ভব।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য টার্গেট কাস্টমারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এর তুলনায় অধিক সফল হওয়ার একটা অন্যতম কারন হলো, ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ঠিক কোন ধরনের কাস্টমার কে টার্গেট করা দরকার সেটা বোঝা যায়।
ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার এডভার্টাইজ এনালাইসিস এর মাধ্যমে কোন ধরনের অডিয়েন্স বা কারা প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের সাথে বেশি যুক্ত করছে বা কারা ইন্টারেস্টেড বেশি সেটা সহজেই জানা সম্ভব যার ফলে সেই নির্দিষ্ট ধরনের বা নির্দিষ্ট কাস্টমারকে টার্গেট করে কনটেন্ট তৈরি করে বা অন্যান্য উপায়ে তাদের কাছে পৌছানো সম্ভব যেটা ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এ সম্ভব না। এইভাবে ওয়েবাসাইটের তথ্য থেকে সম্ভাব্য কাস্টমারদের ইমেইলের মাধ্যমে ইমেইল মার্কেটিং দ্বারা সর্বাধিক আউটপুট পাওয়া সম্ভব কেননা ইমেইল মার্কেটিং এর ROI (Return on Investment) সর্বাধিক।
কাস্টমারের সাথে ব্র্যান্ডের যোগাযোগ থেকে শুরু করে কাস্টমার কিভাবে ব্র্যান্ডকে নিবে ব্যবসার জন্য এই বিষয়গুলো সম্পুর্নভাবে বদলে দিয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ব্যবসা সম্প্রসারণে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রভাব বাড়তেই থাকবে যদি ব্র্যান্ড এর ডিজিটাল হওয়াটা চলমান থাকে।
যদি কোন কোম্পানি বা ব্র্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং এ নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে ভুল করে তাহলে সে নিজে থেকেই তার কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগের উপায় বন্ধ করে দিচ্ছে সাথে সাথে নতুন কাস্টমার পাওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দিচ্ছে বলে ধরা হবে। কারণ ব্র্যান্ড বা কোম্পানির ডিজিটালাইজেশন এর অভাব ব্র্যান্ড এর প্রতি কাস্টমারের বিশ্বাসের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কোন কোম্পানি যদি ভালো ডিজিটাল মার্কেটিং প্লান এক্সিকিউট করতে পারে যেমন এসইও বা কনটেন্ট মার্কেটিং বা ইমেইল মার্কেটিং তাহলে সেই কোম্পানি একদম প্রথম থেকেই কাস্টমারের ইতিবাচক প্রভাব পেতে সক্ষম হবে।
ডিজিটাল মার্কেটের সুবিধা আর অসুবিধা অবশ্যই যেকোন ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। যেহেতু ডিজিটাল মার্কেটিং যেকোন আকারের ব্যবসাকে একটা বড় কাস্টমারের কাছে পৌছাতে সাহায্য করে কম অর্থ ব্যয়ে, সেহেতু ডিজিটাল মার্কেটিং এর অবশ্যই কিছু অসুবিধা বা চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে যে কারোর জানা উচিত এটি প্রয়োগ করার আগে ।তেমন কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা হলো,
অধিক মানুষের কাছে পৌছানো (Gets a Large Number of Customers): ডিজিটাল মার্কেটিং একটি ব্র্যান্ডকে সাহায্য করে এর উপস্থিতি আরো বাড়াতে এবং একটি বিশাল সংখ্যক কাস্টমারদের কাছে পৌছানোর একটা প্লাটফর্ম দেয়। ডিজিটাল মার্কেটিং বিশ্বব্যাপী প্রদর্শনের জন্য ব্র্যান্ডটিকে প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে যার ফলে ব্র্যান্ডটি বিশ্বব্যাপী হয়ে ওঠে, সুতরাং নতুন এবং স্টার্ট-আপ ব্র্যান্ডকে ঐতিহ্যবাহী বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী বড় এবং প্রতিষ্ঠিত স্টার্ট-আপ গুলোর সাথে সমান পদক্ষেপ নিতে দেয়।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কার্যকর খরচ গুনটি যে কোন ব্যবসার জন্য খুবই কার্যকরি I অল্প বাজেটেই একটা কোম্পানি ভালো শোকেসিং সার্ভিস নিতে পারে।
যদি কোম্পানির কাস্টমার ডাটাবেজ কোম্পানির ওয়েবসাইটের সাথে লিঙ্ক করা থাকে, তবে যখনই কোন কাস্টমার সাইটে যাবে, কোম্পানি তখন টার্গেটেড অফার দিয়ে তাদের স্বাগত জানাতে পারবে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই সুবিধাটা হলো, তাদের কাস্টমারদের সকলের একটা প্রোফাইল থাকে এবং সেই প্রোফাইলের উপর ভিত্তি করে কাস্টমারদের চাহিদা কেমন, আগে কোন প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের প্রতি আগ্রহ বেশি ছিলো, কি কিনেছিলো, এটার আগের ডেটা থেকে জেনে আর এই ডেটার সাহায্যে তাদেরকে পছন্দ অনুযায়ী আরও প্রোডাক্ট/ সার্ভিস দেখানো সহজ হয় আর বিক্রিও বৃদ্ধি পায়।
ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ডের সাথে কাস্টমারের অনুগত্য তৈরিতে এবং ব্র্যান্ডের প্রতি বিশ্বাসযোগ্য হওয়া পর্যন্ত কাস্টমারের আকর্ষন বজায় রাখতে সক্ষম।
অধিক প্রতিযোগিতা (Bigger Competition): যখন কোন কোম্পানিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন কোম্পানির প্রতিযোগিতাও বৈশ্বিক পর্যায়ের সবার সাথেই হবে, ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও জিনিসটা একই। যখন ডিজিটাল মার্কেটিং যেকোন ব্র্যান্ডকে গ্লোবাল স্টেজে নিয়ে যায় তখন সেই ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতাও গ্লোবাল এর সবার সাথেই হয় ,স্বভাবতই এই কারনে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। প্রতিযোগীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং অনলাইনে কাস্টমারদের লক্ষ্য করে নেওয়া অনেকগুলি বার্তার মধ্যে মনোযোগ আকর্ষণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা বা প্রতিবন্ধিকতার একটি হলো সময়। অসংগঠিত স্ট্র্যাটেজির ব্যবহার এই সময়ের ব্যবহারকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে এছাড়াও অনলাইন এডভার্টাইজিং অপটিমাইজেশন এবং মার্কেটিং কনটেন্ট বানানোর মত কাজে অনেক সময় লাগতে পারে। এইসব কারনে HubSpot, Ahrefs, Social Media Posting, এবং সিডিউলিং ট্যুলস যেমন Hootsuite এবং Tweetdeck এর ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এ কোন কোম্পানি যখন তাদের কাস্টমারের থেকে তথ্য নিবে তখন তাদের হবে সেই তথ্য গোপন রাখা এবং ফায়ারওয়াল প্রটেক্টশন ব্যবহার করা যেন তথ্যচুরি না হয়। এখন অনেক ভাবেই সাইবার হামলা হয়ে তথ্যচুরি হতে পার।
শুধুমাত্র তখনই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল সুবিধা কাজ করবে এবং অসুবিধাগুলোকে এড়িয়ে চলা যাবে যখন, মার্কেট রিসার্চে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না হোক সেটা সঠিক প্লাটফর্ম নির্বাচনে কিংবা সঠিক কনটেন্ট বানানোতে বা ভালো খারাপ দিকগুলোর নোট নেওয়াতে। সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্টভাবে সকল পদক্ষেপ নিলে যেকোন অসুবিধা বা প্রতিবন্ধিকতা এড়িয়ে চলা সম্ভব।
ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এ এসে সফলতা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়তোবা এই Lego. Lego এর তৈরিকৃত পণ্য তাদের জন্য মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করা আরো সহজ করে তোলে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে Lego তাদের প্রথম গ্লোবাল ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইন শুরু করে “Rebuild The World” নামে, যা ছিল গত ৩০ বছরে তাদের প্রথম গ্লোবাল ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইন এ তারা তাদের এডভার্টাইজ খুবই সফলতার সাথে করে “Lego the Movie” এর মাধ্যমে যা ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ। এই ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে তারা খেলাধুলা সামগ্রী এর মার্কেটের বাইরে গিয়ে সামাজিক সমস্যাগুলোর দিকে মননিবেশ করে নিজেদের কাস্টমারের সংখ্যা বাড়াতে সংক্ষম হয়। এই ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু সমস্যা এবং ইউরোপীয় বিশ্বে ট্রান্সজেন্ডার সমস্যার দিকে ফোকাস করে আর এক গবেষণায় দেখা যায় যে ৭৯% আমেরিকানরা একটা ব্যক্তিগত কানেকশন অনুভব করে সেই সমস্ত ব্র্যান্ডের প্রতি যারা তাদের মত একই মতাদর্শের বিশ্বাসী।
এইভাবে Lego তাদের প্রথম ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে অনেক বড় একটা কাস্টমার এক্যুইজিসনে সক্ষম হয়।
ডিজিটাল কনটেন্ট মার্কেটিং এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ গুলোর একটি হলো এই হাবস্পট কোম্পানি। অধিকাংশ মার্কেটিং এক্সপার্ট ভাবে কিভাবে কনটেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে তারা তাদের ব্র্যান্ড এর সাথে কাস্টমারদের কানেক্ট করে রাখতে পারবে কিন্তু মাত্র ৪১% কনটেন্ট মার্কেটিং এক্সপার্ট ভাবে কিভাবে তারা তাদের কাস্টমার বা ভিজিটরদের প্রোডাক্ট ক্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এই একই কাজটা করে হাবস্পট।
কিভাবে হাবস্পট এটা করে? প্রথমত হাবস্পট সকল ধরনের বড় টপিকের উপর ব্লগ/ আর্টিকেল রাখে, কেউ যখন কোন সার্চ রেজাল্ট দেখতে দেখতে পেজের একদম নিচের দিকে যাবেন তখন হাবস্পট তাদের ডিটেইলস কনটেন্ট অফার করবে। এই ডিটেইলস কনটেন্ট এর শেষে তারা একটি CTA (Call to Action) অফার করবে যার মাধ্যমে তাদের ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করার কথা বলবে। এরপরও যদি ভিজিটর তাদের সফটওয়্যার ব্যবহার না করে তারপর তারা আবারো চেষ্টা করবে PoP-Up CTA এর মাধ্যমে যেখানে তারা কাস্টমারের ইমেইল সংগ্রহ করবে পরিবর্তিতে আবারো মার্কেটিং করার জন্য এরপর এই ইমেইল ব্যবহার করে ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে তারা তাদের সকল ধরনের এডভার্টাইজ এবং কাস্টমার এক্যুইজিশন ক্রিয়াকালাপ পরিচালিত করবে।
TED হলো একটি গ্লোবাল সম্মেলন যেখানে বরেণ্য লেখক, বিশেষজ্ঞ কিংবা কোন নেতারা চিন্তা উদ্দিপকিয় (thought-provoking) বিষয়ে আলোচনা করে। TED এর ইউটিউব চ্যানেলে এখন ১৬ মিলিয়ন এর অধিক সাবসক্রাইবার রয়েছে। TED এর এই এখনকার সাকসেস এর পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান হলো তাদের অডিয়েন্সদের কনটেন্ট ক্রাইটেরিয়া বুঝতে পারা এবং সেই হিসাব করে উপযুক্ত কনটেন্ট ডেলিভার করার পাশাপাশি ফ্রি কনটন্টের এর উপযুক্ত ব্যবহার।
সবার আগে TED পর্যাপ্ত মার্কেট এনালাইসিসের মাধ্যমে তাদের টার্গেট অডিয়েন্স বের করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদেরকে উপযুক্ত কনটেন্ট দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ স্পিকার এনে কনটেন্ট তৈরি করছে। যেখানে তাদের প্রতিটা ভিডিও ১৫ মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের কিন্তু সঠিক কনটেন্ট আর স্পিকার থাকার কারনে এই ছোট ভিডিওগুলোও অডিয়েন্সদের আকর্ষণ বজার রাখতে সক্ষম হচ্ছে। TED এর এই সাকসেসের আরেকটা কারন হলো তারা তাদের ফ্রি কনটেন্ট ডিজিটাল প্লাটফর্ম এ সঠিক ভাবে বিতরণ করতে পারছে, যেখানে অডিয়েন্সরা ফ্রিতে কনটেন্ট পেলেও তারা তাদের লাভ্যাংশ বুঝে নিচ্ছে।
একটি গ্লোবালি নামকরা বিউটি ব্র্যান্ড হলো Dove। এই কোম্পানি সবময় তাদের বানিজ্যিক এডভার্টাইজগুলোর মাধ্যমে তাদের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন খুবই সুন্দর ভাবে পরিচালিত করে। এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইন সর্বপ্রথম শুরু হয় “Real Beauty Campaign“ এর মাধ্যমে। যেখানে একজন ফরেনসিক আর্টিস্ট কে একজন মহিলার ছবি বা স্কেচ আকতে দেওয়া হয় কিন্তু সেই আর্টিস্ট সেই মহিলাকে দেখতে পারবে না, ছবি আকতে হবে ২ টি, একটি হবে যার ছবি তার বর্ননা মত এবং আরেকটি হবে এমন একজনের বর্ননা মত যে ওই মহিলাকে দেখেছে। স্কেচ দুটি আকা শেষে দেখা যায় যে, যে ছবি অন্য ব্যক্তির বর্ননার উপর ভিত্তি করে আকা হয়েছে সেটি বেশি সুন্দর হয়েছে অন্যটি থেকে যেটি নিজের বর্ননা নিজে সেই মহিলা দিয়েছিলো।
Dove এই আইডিয়াকে নতুন একটা পর্যায়ে নিয়ে যায় তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে। Dove, GirlGaze এবং Getty Images এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা পুরা পৃথিবীর ৩৯ এরও অধিক দেশ থেকে ১০০০০+ ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় যারা প্রত্যেকে নিজের ব্যতিত অন্য কারোর ছবি দিয়েছে যে তাদের চোখে সুন্দরের ডেফিনেশন। এই মেজর এনগেজমেন্ট এর পর থেকে Dove তাদের কোম্পানির মোট মুল্য প্রায় দ্বিগুন করে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
প্রথম দিকে একটা কথা ছিলো যে, ডিজিটাল মার্কেটিং একটি উন্মুক্ত প্রক্রিয়া, এখানে করার মত অনেক কিছু আছে কিন্তু নির্দিষ্ট জিনিস না করে অন্যের ক্ষেত্রে অর্থ বা সময় নষ্ট করলে আশানুরূপ ফল তো পাওয়া সম্ভবই না বরং কোম্পানি বা প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে যেমন খুব সহজে অনেক কাস্টমার এর কাছে পৌছানো যায় বা ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো যায় ঠিক সেভাবেই খুব অল্প ভুলেই সবকিছু হারানো সম্ভব। সেজন্য এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলে ফ্রিল্যান্সার ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের মার্কেটিং করাটাই অধিক উপযোগী। কেননা এখনকার সময়ে যেখানে গ্লোবালাইজেশন এর সাথে তাল মিলিয়ে সবাই ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ডকে প্রসস্থ করছে সেখানে ট্র্যাডিশনাল প্রক্রিয়ায় মার্কেটিং করে নিজেকে বা নিজের প্রোডাক্ট/ সার্ভিসকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেওয়া ছাড়া আর কিছু না।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।








