ই-কমার্স মার্কেটিং

360
article image

প্রচলিত একটা কথা আছে যে, প্রচারেই প্রসার। বাস্তবিক অর্থে কথাটি কিন্তু সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। তাইতো যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই প্রচারণার জন্য প্রচুর অর্থ, শ্রম, মেধা ব্যয় করে থাকে। এই কাজ থেকে বাদ যায় নি নামীদামী ব্রান্ডগুলোও। স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরেই অ্যামাজন শুধু মার্কেটিং খাতেই ব্যয় করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার।

Key Points

  • স্ট্যাটিস্টা অনুযায়ী, ২০১৭-২০২০ সালে আমেরিকার ই-কমার্স রেভ্যিনিউ ছিল $৪৩১.৬ বিলিয়ন, যা ২০২৫ সালে $৬০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।
  • ২০০০ সালের পর থেকে মোবাইল ডিভাইসের প্রসার ই-কমার্সকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে m-commerce আজ ই-কমার্সের মূল অংশ।
  • পেপ্যাল ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমে বিপ্লব ঘটিয়ে ই-কমার্সের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • ২০০৪ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠার পর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ই-কমার্সে নতুন মাত্রা যোগ করে, যেখানে ব্র্যান্ডগুলো সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে।
  • ২০২০ সালে COVID-19 মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি ২৫%-এর বেশি বৃদ্ধি পায়, কারণ লকডাউন পরিস্থিতিতে অনলাইন কেনাকাটা হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম।
  • চায়না বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স বাজার, যেখানে ২০২৩ সালে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার বিক্রির পরিমাণ ছিল।

ভূমিকা

প্রথাগত শপিং থেকে বেরিয়ে মানুষজন যেমন অনলাইন শপিং এর দিকে ঝুকছে, ঠিক তেমনি মার্কেটাররাও প্রথাগত মার্কেটিং প্রথা থেকে বেরিয়ে অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটিং এ মনযোগী হচ্ছে। ছোট-বড় প্রায় সকল ধরনের প্রতিষ্টানই প্রচারণার কাজে অনলাইনমুখী হচ্ছে। ফলে মার্কেটিং এর ধরনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন।

চিরায়ত ব্যবসার জগৎ এখন পরিবর্তন নিচ্ছে ই-কমার্স এ। আর এই ই-কমার্স এর প্রচারণার জন্য মার্কেটাররা নানাবিধ বিষয়ের সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছে ই-কমার্স মার্কেটিং। যা গ্রাহক নির্ভরশীলতা অর্জন থেকে শুরু করে বিক্রয় বৃদ্ধিসহ আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করতে পারে।

ই-কমার্স মার্কেটিং এর ধরনে রয়েছে নানান ভিন্নতা। ই-কমার্স ব্যবসায় সফল হতে চাইলে আপনার প্রতিষ্ঠানটির সেবা বা পণ্যের ধরন অনুযায়ী সঠিক মার্কেটিং চ্যানেল কিংবা স্ট্র‍্যাটেজি নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, প্রচলিত কয়েকটি ই-কমার্স মার্কেটিং চ্যানেল সম্পর্কে।

বিভিন্ন ধরনের ই-কমার্স মার্কেটিং

কন্টেন্ট মার্কেটিং (Content Marketing)

বর্তমানে বেশিরভাগ অনলাইন স্টোর এর সাফল্যের পিছনে কন্টেন্ট মার্কেটিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। সিএমআই এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭২ শতাংশ মার্কেটারের মতে কন্টেন্ট মার্কেটিং বিক্রয় বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে। তাই কন্টেন্ট মার্কেটিং এখন অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং সর্বজন সমাদৃত।

ভিডিও, আর্টিকেল, গ্রাফিক্স, অডিও সহ আরো নানাবিধ কন্টেন্ট এর মাধ্যমে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলো যে প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে থাকে তাই মূলত কন্টেন্ট মার্কেটিং। এক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের রূচি-অভিমত কিংবা আগ্রহের দিক বিবেচনায় রেখে আপনি উল্লেখিত এসব কন্টেন্ট এর মাধ্যমে আপনার পণ্য বা সেবার প্রচার-প্রসার ঘটিয়ে বিক্রয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

কন্টেন্ট মার্কেটিং করার জন্য প্রথমেই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে চিহ্নিত করতে হবে। অতঃপর তাঁদের জন্য উপযোগী কন্টেন্ট তৈরীতে মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা যখন তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি বিভিন্ন ইনফোগ্রাফিকস, ব্লগ পডকাস্ট কিংবা ইউটিউব ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে নিয়মিত পাবে, তখন গ্রাহকদের আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির প্রতি ধীরে ধীরে আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

ই-কমার্স মার্কেটিং এর অন্যান্য শাখাগুলোও কিন্তু কন্টেন্ট মার্কেটিং এর উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে হলে আগে কন্টেন্ট কে গুরুত্ব দিতে হবে। কন্টেন্ট এর মাধ্যমেই কিন্তু এক্ষেত্রে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন এর ক্ষেত্রেও কথাটা তেমনভাবে সত্যিই। সার্চ ইঞ্জিন ঐ সকল সাইটকেই গুরুত্ব দেয়, যাদের কন্টেন্ট মানসম্মত। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় দুইটি মাধ্যম হলো পডকাস্ট এবং ভিডিও তৈরী।

পডকাস্ট

বর্তমানে পডকাস্ট এর শ্রোতার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে পডকাস্ট অন্যতম ভাল একটি মাধ্যম হতে পারে। আপনি নিয়মমাফিকভাবে আপনার অভিজ্ঞতা কিংবা পরামর্শ গুলো উপস্থাপন করে পডকাস্ট তৈরী করতে পারেন। যা আপনার পণ্যকে বেশি মানুষের কাছে পৌছে দিবে এবং একই সাথে নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে পৌছে দিতেও সহায়তা করবে।

ভিডিও তৈরী

ইউটিউব কিংবা ফেসবুকে আপনার প্রতিষ্ঠানটির উপস্থিতি বা ভীত তৈরী করার জন্য ভিডিও তৈরী অত্যাবশ্যক। সঠিক উপস্থাপনা, নিয়মিত কন্টেন্ট দেওয়ার ফলে ধীরে ধীরে আপনার প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরী হবে। যা আপনার সেলস বৃদ্ধিতে কার্যকর।

কন্টেন্ট মার্কেটিং এর সুবিধাসমূহ

▪ প্রথাগত মার্কেটিং পদ্ধতিতে যেখানে বিলবোর্ড, লিফলেট, ফিল্ড ক্যাম্পেইন করে কোনো পণ্যের গুণাগুণ, মান সম্পর্কে জানান দেওয়া লাগত, সেখানে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বল্প ব্যায়ে, স্বল্প পরিশ্রমে বিরাট সংখ্যক গ্রাহকদের জানান দেওয়া যায়। আর সঠিক গ্রাহকদের কাছে সঠিক প্রচারণায় কন্টেন্ট মার্কেটিং অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

▪ গ্রাহক আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে কন্টেন্ট মার্কেটিং অতুলনীয়। আপনি যদি নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী তথ্যবহুল, মানসম্মত কন্টেন্ট প্রদান করেন, তবে গ্রাহকের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে। যা আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিকে ধীরে ধীরে ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বতার সাথে দেখতে হবেঃ

▪ কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে হলে দরকার মানসম্মত কন্টেন্ট। আর মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরী করতে কিন্তু প্রয়োজন দীর্ঘসময়, অর্থ, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা। আপনি অডিও, ভিডিও যে ধরনের কন্টেন্টই তৈরী করুন না কেন, তার গুণগত মান খারাপ হলে কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটাই কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে।

▪ এছাড়াও আপনার কন্টেন্ট টি হতে হবে প্রাসাঙ্গিক এবং গ্রাহকের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতাও থাকতে হবে। তাই গ্রাহকের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা করে নিত্যনতুন বিষয়ে নিয়মমাফিকভাবে গ্রাহক উপযোগী কন্টেন্ট প্রস্তুত করতে হবে। আর এসব দিকের সমন্বয় সাধন কিন্তু কিছুটা কষ্টসাধ্য ব্যাপারও বটে।

ই-মেইল মার্কেটিং (E-mail Marketing)

স্বনামধন্য পরিসংখ্যান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার ২০২০ এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩৯০ কোটি ই-মেইল ব্যবহারকারী রয়েছেন। ই-মেইল ব্যবহারকারীর সংখ্যার এই অপ্রতুলতায় পরিবর্তন এসেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং পদ্ধতিতেও। বিশেষ করে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ই-মেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে তাঁদের ব্যবসার প্রচার এবং প্রসার উভয়ই ঘটাচ্ছে।

▪ ডিএমএ এর ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ব্যয়কৃত ১ ইউএস ডলারের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিকভাবে লাভ হচ্ছে ৪২ ইউএস ডলার। তাই বুঝতেই পারছেন, ই-মেইল মার্কেটিং আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির জন্য কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে।

মূলত ই-মেইল মার্কেটিং হচ্ছে ই-মেইল এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিকল্পনায় এবং নিজস্ব পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকট কোনো পণ্য বা সেবার প্রচারণা করার প্রক্রিয়া। অনলাইন ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পণ্যের অধিক বিক্রয় নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহক আস্থা অর্জনে ই-মেইল মার্কেটিং অত্যাবশ্যক।

ই-মেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত তথ্য অতি দ্রুততার সাথে সুষ্ঠু এবং সুশৃঙ্খলভাবে অসংখ্য গ্রাহকদের নিকট পৌছে দেওয়া যায়। পাশাপাশি গ্রাহকদের সাথে প্রতিনিয়ত সংযুক্ত থেকে নিত্যনতুন আপডেট দেওয়া যায়। যা সাধারণত গ্রাহকদের সাথে বেশ ভাল সম্পর্ক স্থাপনে ব্যপক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তাই বুঝতেই পারছেন সেলস বৃদ্ধির জন্য একটি সুশৃঙ্খল ই-মেইল ক্যাম্পেইন কতটা জরুরী। যেভাবে একটি ফলপ্রসূ ই-মেইল ক্যাম্পেইন সাজাতে পারেনঃ

থ্যাংকিউ ই-মেইল

আপনার উৎকৃষ্ট গ্রাহকদের অর্থাৎ আপনার পণ্যের নিয়মিত গ্রাহককে ধন্যবাদ জ্ঞাপক ই-মেইল প্রদান করতে পারেন। আর ঐ ই-মেইলটি কে আরেকটু অর্থবহ এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলতে গুছানো কিছু কথার সাথে উইশ নোটস জাতীয় কিছু দিতে পারেন।

ওয়েলকাম ই-মেইল

যখন কোনো গ্রাহক আপনার কোনো পণ্য ক্রয় করবে, তখন তাকে একটি আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত ওয়েলকাম ম্যাসেজ দিয়ে ই-মেইল প্রদান করবেন। এবং ঐ ই-মেইলে আপনার অন্যান্য কিছু পণ্যের প্রোমো কোড, ভাউচার বা ডিসকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য যোগ করে দিতে পারেন। এতে আপনার পরবর্তীতে অন্য পণ্য টি বিক্রয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।

▪ যেন সর্বোপরি গ্রাহকের মনে ভাল ধারণা এবং উৎফুল্ল মনোভাব সৃষ্টি হয় সেই পদ্ধতি বা পন্থা অনুসরণ করে আপনার ই-মেইল ক্যাম্পেইনটি সাজাতে পারেন।

ই-মেইল মার্কেটিং এর সুবিধাসমূহ

▪ প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতিতে অনেক সময় সংশয় থেকে যায়, আদৌ কি প্রচারণাটি নির্দিষ্ট এবং কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকট পৌছিয়েছে কিনা। কিন্তু ইমেইল মার্কেটিং এর বদৌলতে একদম নিশ্চিতভাবেই কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকট খুব সহজে এবং সুশৃঙ্খল পন্থায় পৌছানো সম্ভব।

আর যথাযথ ট্যুলস ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি এটিও বুঝতে পারবেন যে, কত সংখ্যক মানুষ আপনার প্রেরিত ই-মেইল টি ওপেন করেছে এবং এর সাথে সংযুক্ত লিংকটিতে ক্লিক করেছে কিনা।

▪ আপনার ই-কমার্স ব্যবসার প্রচারণার জন্য এটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল মাধ্যম। কারণ সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং ইত্যাদি কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। আর ই-মেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে মেইলিং লিস্টটি তৈরী করতে কিছুটা খরচ হলেও পরবর্তীতে তেমন কোনো ব্যয় করতে হবে নাহ আপনাকে। এছাড়াও মূহুর্তের মধ্যেই আপনি যেকোনো তথ্য একটি ই-মেইলের মাধ্যমে লক্ষ কিংবা হাজারখানেক মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারবেন।

ই-মেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বতার সাথে দেখতে হবেঃ

▪ অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অনেকেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক বা প্রচার সংক্রান্ত ই-মেইল গুলো স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে রাখে। সেক্ষেত্রে আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকট প্রেরিত ই-মেইলটি তাঁদের কতৃক না খোলার সম্ভাবনাও কিন্তু প্রবল। ফলে আপনার প্রচারণার কাজ অনেকক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

▪ শুধু হাজারের পর হাজার মানুষের কাছে ই-মেইল পাঠালেই হবে নাহ, বরং এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি মেইলটি আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকটেই পাঠাচ্ছেন কিনা। যদি যথাযথ গ্রাহকের নিকট মেইল না পাঠাতে পারেন, তবে আপনার ই-মেইল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনই কিন্ত পুরোপুরি ভেস্তে যাবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)

স্ট্যাটিস্টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪২০ কোটির মতো মানুষ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, রেড্ডিট সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নানান বয়সী মানুষ যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সময়ের পরিক্রমায় এই সোশ্যাল মিডিয়া কে বর্তমানে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই মার্কেটিং এর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছেন। আর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য তো এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বর্তমানে অপরিহার্য একটি বিষয়।

আর প্রায় সববয়সী মানুষই দিনের একটা বেশ ভাল সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকরা যেকোনো পণ্য কিনবার পূর্বে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এর কার্যকরীতা যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছে। ফলে আপনার ই-স্টোর টিকে ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং গ্রাহক আস্থা অর্জন করে বিক্রয় বৃদ্ধি করতে চাইলে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে এর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

আপনি এক্ষেত্রে আপনার পণ্যের গুণাগুণ, এর ব্যবহার, কার্যকরীতা সম্পর্কিত ভিডিও কিংবা লিখিত কন্টেন্ট তৈরী করতে পারেন। যা গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে ব্যপক সহায়ক। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের প্রোমোশন করতে পারেন। তাছাড়া আপনার যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট, কন্টেন্ট ইত্যাদি বুস্টও করতে পারেন। যা আপনাকে নির্দিষ্ট এবং কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের কাছে পণ্যটি সম্পর্কিত তথ্য পৌছাতে সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রামে আপনার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত করতে হবে।

ফেসবুক স্টোর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ফেসবুক৷ আর ফেসবুক এর বিভিন্ন পেইজ বা গ্রুপ থেকে শপিং করার প্রবণতা মানুষের দিন দিন বাড়ছে। তাই আপনার একটা ফেসবুক স্টোর থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে একটি সুশৃঙ্খল গ্রুপ এবং সুসজ্জিত পেইজ তৈরীর দিকে মনোযোগী হতে হবে। গ্রুপে গ্রাহকদের ফিডব্যাক প্রদানের জন্য উদ্দুদ্ধ করতে হবে৷ এবং সেই সাথে বিভিন্ন কন্টেস্টের আয়োজনও করতে পারেন গ্রুপ একটিভ রাখার জন্য। এতে নতুন গ্রাহকের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে। ঠিক তেমনি গ্রাহক আস্থাও সৃষ্টি হবে।

ইন্সটাগ্রাম স্ট্র‍্যাটেজি

সময়ের আরেকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ইনস্টাগ্রাম। ইন্সটাগ্রাম এর সঠিক ব্যবহার করেও কিন্তু আপনি আপনার সেলস বৃদ্ধি করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিয়মিত আপনার পণ্যের বিভিন্ন আপডেট প্রদান করতে পারেন। আর এক্ষেত্রে হ্যাশট্যাগ স্ট্রাটেজি সহ অনেক বিষদ বিষ্যাদি রয়েছে। এগুলোর সঠিক ব্যবহার করে আপনার পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর সুবিধাসমূহ

▪ প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপনার কোনো পণ্য বা সেবার প্রচারণার কাজে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন কিংবা বিলবোর্ড তৈরী করে প্রচার করা লাগত। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে কোনো লিখিত কন্টেন্ট কিংবা গ্রাফিক্স ইমেইজের মাধ্যমে খুব সহজেই গ্রাহকদের নিকট সেবা বা পণ্যের প্রচার কাজ চালাতে পারছেন।

▪ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবার জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের বয়স, লিঙ্গ, অঞ্চল ইত্যাদি নির্দিষ্ট করে দিয়েও প্রচারণা চালানো যায়। ফলে একদিকে যেমন বিজ্ঞাপন খরচ কম হয়, ঠিক তেমনি কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকটই প্রচারণাটি পৌছেছে কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বতার সাথে দেখতে হবেঃ

▪ আপনার একাউন্টটির নিরাপত্তা রক্ষা অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কিছু অসাধু লোক রয়েছে যারা ইন্টারনেট এ হ্যাকিং মতো কাছে লিপ্ত। ফলে এরকম কোনো অঘটন ঘটলে দেখা যাবে, আপনার গ্রাহক সম্পর্কিত নানাবিধ তথ্য সহ আপনার অফিস কম্পিউটারটির এক্সেস ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবেই আপনার প্রতিষ্ঠানটি একটি বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

▪ অনেকক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠান নেতিবাচক সমালোচনার স্বীকার হতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যার ব্যাপার হলো যখন কোনো একটি পণ্যের জন্য কেউ কোনো নেগেটিভ ফিডব্যাক দিবে, সেটি কিন্তু যে কারো কাছেই দৃশ্যমান হবে। সেক্ষেত্রে আপনার অন্যান্য পণ্য এবং সামগ্রিকভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিই মানুষের একটা বিরূপ মনোভাব খুব সহজেই সৃষ্টি হতে পারে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)

কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা অন্য কোনো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রয় করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। মুলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে দুইটি ব্রান্ডের মাঝে যৌথ আর্থিক উদ্যেগ বলা চলে, যেখানে দুই পক্ষই লাভবান হয়। যখন অন্য কোনো ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের মারফতে কোনো একটি পণ্য বিক্রি হয়, তখন ঐ প্রতিষ্ঠান অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কে লভ্যাংশের নির্দিষ্ট একটি অংশ প্রদান করে থাকে।

মেডিয়াকিক্স এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের স্বনামধন্য ব্রান্ডগুলোর প্রায় ৮১ শতাংশই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকে। আর ফেচ প্রোফিটস এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭৩ শতাংশ বণিকই বিশ্বাস করেন যে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম তাঁদের প্রত্যাশিত রেভিনিউ অর্জনে সহায়ক।আর এই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের ফলে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোরও বিক্রয় বাড়ছে ১৬ শতাংশ হারে। তাই বুঝতেই পারছেন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কতটা কার্যকরী।

আপনার ই-কমার্স সাইট এর বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য অন্য কোনো পরিচিত এবিং কার্যকরী ওয়েবসাইটে ব্যানার এড বা রেফারেল লিংক ইত্যাদির মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি একাধিক ওয়েবসাইটের সাথে এই সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। এবং প্রত্যেককে তাঁদের ওয়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য অ্যাফিলিয়েট কোড সম্বলিত নির্দিষ্ট হাইপারলিংক দিবেন। এভাবেই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি ভিজিটর বৃদ্ধি করতে পারবেন, আয় বাড়াতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধাসমূহ

▪ প্রচলিত প্রথাগত মার্কেটিং পদ্ধতির প্রচারণার ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে সীমাবদ্ধ, সেখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর একেবারে ব্যতীক্রম। অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনার পণ্য শুধু দেশের অভ্যন্তরীণই নয় বরং খুব সহজেই বিশ্বব্যাপীও প্রচারণা চালাতে পারবেন।

▪ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবহারের সুবাধে একদিকে আপনি যেমন প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে আনতে পারবেন, ঠিক তেমনি খুব সহজেই আপনার ই-কমার্স সাইটটির জন্য নতুন গ্রাহকেরও যোগান দিতে পারবেন। ফলে একদিকে যেমন আপনার ই-কমার্স সাইটটিতে ট্রাফিক বাড়বে, পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের বিক্রয়ের হারও বেড়ে যাবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বতার সাথে দেখতে হবেঃ

▪ আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের অন্তর্গত ওয়েবসাইটের মার্কেটারদের অনেকের মাঝেই উদাসীন মনোভাবও দেখতে পাবেন। বিশেষ করে যখন অন্য আরেকটি ব্রান্ডের থেকে রেফারে বেশি অর্থ পাবে, তখন সেই ব্রান্ডের জোড়েসোড়ে প্রচার শুরু করবে এবং আপনার এডটিকে তখন কিছুটা কম গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

▪ অ্যাফিলিয়েট লিংক এর মাধ্যমে কোনো পণ্যের বিক্রয় হলে অ্যাফিলিয়েট কমিশন প্রদান করতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষ তা মূল আয়ের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্তও হয়ে থাকে। তাই বিক্রয় বৃদ্ধি হলেও লাভ তুলনামূলক কম হয়। প্রোফিট মার্জিন অনেক কম হওয়ায় অনেকক্ষেত্রে এটি সামগ্রিকভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হয় নাহ।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (Search Engine Marketing)

বর্তমানে যেকোনো সেবা, পণ্য কিংবা কোনো বিষয়াদি সম্পর্কে জানার জন্য মানুষজন বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন যেমন, গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদিতে খোজ করে থাকে। আর তাই যেকোনো ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানেরই অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে তাঁর সেবা সংশ্লিষ্ট কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সার্চ র‍্যাংকিং এ উপরে থাকা। আর এই কাজে সহায়তা করতে পারে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং মূলত কোনো একটি নির্দিষ্ট সার্চে আপনার ওয়েবসাইটকে অন্যান্য ওয়েবসাইটগুলোকে পেছনে ফেলে সবার আগে প্রদর্শিত করতে ভূমিকা রাখে। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটি এক্ষেত্রে আপনার কোনো একটি পণ্য বা সেবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের নিকট পৌছে দিতে পারে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অর্থাৎ PPC বা Pay Per Click অনুযায়ী।

পিপিসি ক্যাম্পেইন এর ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক চিহ্নিত করতে হবে। অতঃপর কি-ওয়ার্ড নির্ধারণ করতে হবে। সেইসাথে গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে পারে এমন এড ডিজাইন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি প্রোডাক্ট লিস্টিং এড এবং ডিসপ্লে এডভার্টাইসমেন্ট দুটি পদ্ধতিতে আপনার ই-কমার্স সাইটটির জন্য পিপিসি ক্যাম্পেইন করতে পারেন। এছাড়াও এসইও এর মাধ্যমে অরগ্যানিকভাবেও সাইটের ভিজিটর বাড়াতে পারেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন তথা এসইও আর এই পিপিসি উভয়ের সমন্বয়েই কিন্তু আপনি অত্যন্ত সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল ভাবে আপনার ওয়েবসাইটের প্রসার ঘটিয়ে বিক্রয় বৃদ্ধি করতে পারেন। স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের গুগল সার্চ কিংবা বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয়কৃত ১ ইউএস ডলার এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিকভাবে লাভ হচ্ছে ৮ ইউএস ডলার। ফলে বুঝতেই পারছেন আপনার ই-কমার্স ব্যবসার জন্য সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর সুবিধাসমূহ

▪ অনলাইন রিচ বৃদ্ধি করে কাঙ্ক্ষিত ভিজিটর পেতে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর ভূমিকা অনবদ্য। আর বেশিরভাগক্ষেত্রেই এটি একটি পেইড এডভার্টাইজিং প্রক্রিয়া। সেক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার পরিধি অনুযায়ী কি-ওয়ার্ড রিসার্চ সহ ডিসপ্লে এড এর ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেট নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রেখে ট্রাফিক বাড়াতে পারেন এবং সর্বোপরি বিক্রয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

▪ সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কিছু অর্থ ব্যয় করলে আপনার বিজ্ঞাপনটিকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংকিং এ উপরে রাখতে পারবেন। তাছাড়া গুগল সার্চ এড এর ক্ষেত্রে আপনার ব্রান্ডের নাম এড এর হেডলাইন, ডিসক্রিপশন, ডিসপ্লে ইউঅারএল সহ বিভিন্ন জায়গায় থাকবে। আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে সব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বতার সাথে দেখতে হবেঃ

▪ সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে যথেষ্ট সময় ব্যয় করে নিজস্ব একটা ফলপ্রসূ এবং উপযোগী কৌশল দাড়া করতে হবে। তবে এখানেই শেষ নয়, প্রতিনিয়ত নতুন সব আপডেট গুলো সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে যেন সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং আবার নিচে নেমে না যায়। তাই বুঝতেই পারছেন, এটি খুব সময়সাপেক্ষ একটি পদ্ধতি।

▪ যেহেতু সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং করতে হলে নিয়মমাফিকভাবে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ই-কমার্স ব্যবসাটি যদি ছোট এবং মাঝারি পরিসরে হয়, তবে আপনাকে বেশ ভালই বেগ পেতে হবে। কেননা বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এটি করা খুবই কষ্টকর ব্যপার। আবার অনেকক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ভিজিটর নাও পেতে পারেন।

পরিশেষে

ই-কমার্স মার্কেটিং এর সুবিধা অসুবিধা এবং সফল প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিতে এর সফল প্রয়োগ করুন। সর্বোপরি, সার্বিকভাবে বিক্রয় বৃদ্ধি করে আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করুন।

Next to read
Canvas & Methods
মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট (Minimum Viable Product)
মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট (Minimum Viable Product)

অধিক শ্রম ও অর্থ খরচের এই ঝুঁকি এড়াতে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ধরনের বিজনেস স্ট্র‍্যাটেজি যেখানে পণ্য প্রয়োজনীয় কিছু ফিচার দিয়ে বাজারজাত করা হয়। পরবর্তীতে গ্রাহকদের চাহিদা পর্যালোচনা করে ধীরে ধীরে এই পণ্যের উন্নয়ন করা হয় এবং নতুন নতুন উপাদান/ফিচার যুক্ত করা হয়। ব্যবসায়িক জগতে একে বলা হয় মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট।

কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)
Business Models
কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)
Needs, Wants, Demands (প্রয়োজন, চাওয়া এবং চাহিদা)
Business
Needs, Wants, Demands (প্রয়োজন, চাওয়া এবং চাহিদা)
‘SWOT’ Analysis
Analysis
‘SWOT’ Analysis
PESTLE বিশ্লেষণ
Analysis
PESTLE বিশ্লেষণ
ব্যবসায়কি আইন কি? উদাহরণ সহ বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়কি আইন
Business Law
ব্যবসায়কি আইন কি? উদাহরণ সহ বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়কি আইন
ই-কমার্স: অনলাইন ব্যবসা
E-Commerce
ই-কমার্স: অনলাইন ব্যবসা
অ্যাম্বুশ মার্কেটিং (Ambush Marketing)
Marketing
অ্যাম্বুশ মার্কেটিং (Ambush Marketing)
ব্র্যান্ড আর্কিটেকচার কী? সংজ্ঞা, মডেল এবং উদাহরণ
Branding
ব্র্যান্ড আর্কিটেকচার কী? সংজ্ঞা, মডেল এবং উদাহরণ
পঞ্জি স্কিম সংজ্ঞা এবং উদাহরণ
Crime and Fraud
পঞ্জি স্কিম সংজ্ঞা এবং উদাহরণ