GeoRenus Editorial Team

গত দুই শতাব্দীতে যা কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছিলাম, মাত্র গত দুই দশকে আমরা তার চেয়েও বেশি অর্জন করেছি। একই সাথে, আমরা অনলাইন অর্থনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্য করতে পারছি, মার্কেটপ্লেস তাদের মধ্যে একটি। শিল্প বা বিজনেস ভার্টিকাল, যাই হোক না কেন, এর জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আর বর্তমানে অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে Multi Vendor E-commerce সাইট গুলো। একটি মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস তৈরি করার মূল কারণই হল এন্ড-ইউজার কে কেনাকাটা ও ট্রানজেকশন এর জন্য একটি কনভিনিয়েন্ট মেথড ওপেন করে দেওয়া। যেমন, Amazon, eBay, Etsy, Flipkart এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি নিশ্চিত করে যে তাদের গ্রাহকরা যেন কম্পিটিটিভ মূল্যে এবং তাদের বাড়িতে বসে সহজেই হোম-ডেলিভারি সহ সবকিছুর একসেস এক ছাদের নিচেই পেয়ে যায়।
যদি " মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স " কথাটিকেই ডিকোড করি , এখানে মাল্টি ভেন্ডর বলতে বুঝায় যেখানে একাধিক ভেন্ডর তথা বিক্রেতা থাকবেন। আর ই-কমার্স প্লাটফর্ম বলতেই এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন এর সম্পৃক্ততাকে ইঙ্গিত করবে। অর্থাৎ, এটি এমন একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে অনেক ধরনের সেলার থাকবেন এবং তারা নিজ নিজ অনলাইন স্টোর থেকে প্রোডাক্ট গুলো কাস্টমারের সামনে তুলে ধরবেন।
যেমন ধরুন, আপনি যখন একজন প্রতিষ্ঠাতা বা উদ্যোক্তা হিসাবে একটি Multi Vendor e-commerce ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তখন সেখানে একাধিক বিক্রেতা থাকবে এবং তাদের সবাইকে তাদের পণ্য বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হবে। ওয়েবসাইটের মালিক হিসাবে আপনি, বিক্রেতা অনবোর্ডিং থেকে গ্রাহক সার্ভিস এবং এর মধ্যে সবকিছু পরিচালনা করতে পারবেন।
আর যখন বিক্রেতারা সেলিং পেমেন্ট পাবেন, তখন আপনি বিক্রেতাদের কাছ থেকে কমিশন নিতে পারবেন। আর আপনি যদি এই প্রোডাক্ট গুলোর জন্য ইনভেন্টরি এবং ডেলিভারিও ম্যানেজ করেন তাহলে, আপনার লাভ এবং আয় বৃদ্ধি পাবে। কারণ, বিক্রেতারা ডেলিভারি এবং গুদামজাতকরণের জন্য আলাদা অর্থ প্রদান করবে।
Multi Vendor Ecommerce এর সবচেয়ে বাস্তব উদাহরণ Daraz আমাদের সবার পরিচিত। আমরা যখন দারাজ থেকে কোনো পণ্য কিনি সেটা সরাসরি দারাজ এর পণ্য নয়। এটা তাদের প্লাটফর্মের অসংখ্য সেলারদের মধ্যে কোনো এক সেলার এর প্রোডাক্ট। যেটি দারাজের মাধ্যমে অনলাইন এ শো করা হচ্ছে এবং সেলস ম্যানেজ করা হচ্ছে।
একটি অনলাইন মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসে কী ঘটে তার একটি স্টেপ বাই স্টেপ ওয়াকথ্রু দেয়া হল-
মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স: ২০২৬ সালে এর সেলস ৫৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৮.১ ট্রিলিয়নে পৌছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে
❞একটি মাল্টি-ভেন্ডর ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা কিছুটা জটিল প্রোজেক্ট। এখানে বেশ কয়েকটি ধাপে প্লাটফর্ম তৈরি করতে হয়। Multi Vendor Ecommerce প্লাটফর্ম বিল্ডিং স্টেপ গুলো-
প্রথমেই, আপনার টার্গেটেড মার্কেট এবং নিশ সিলেক্ট করুন। পাশাপাশি, প্রতিযোগীদের সম্পর্কে রিসার্চ করুন এবং তাদের পাওয়ার এবং উইকনেস গুলো বুঝুন। আপনার বিজনেস মডেল, রেভিনিউ স্ট্রীম এবং বাজেটের একটি ক্লিয়ার আউটলাইন তৈরী করুন। বিজনেসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি কমপ্লিট প্লানিং ও ব্যাকআপ নিয়ে কাজ শুরু করুন।
প্লানিং কমপ্লিট হলে, এবার আপনার বিজনেস রেজিস্ট্রার করুন এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গুলো তৈরী করুন। এরপর আপনার কোম্পানির আইনি কাঠামোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন (যেমন, LLC, কর্পোরেশন)। এবার একটি ব্যবসায়িক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সেট আপ করুন।
একটি টেকনোলজি স্ট্যাক (প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, ফ্রেমওয়ার্ক এবং হোস্টিং) সিলেক্ট করুন। প্ল্যাটফর্মের মূল ফিচার গুলো ডেভেলপ করুন করুন৷ যেমন -
এই ধাপে কমিশন এবং রেভিনিউ ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করা হয়। এখানে আপনাকে একটি সেলার রেজিষ্ট্রেশন প্রোসেস ওপেন করতে হবে। সাথে সেলার সার্টিফিকেট ও প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যাচাই এর ব্যবস্থা করতে হবে। আর আপনার প্লাটফর্ম টি সেলার রা কি ভাবে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তাদের অনলাইন বা অফলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন।
আপনার ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেস ইউজারদের এক্সপেরিয়েন্স আরো ডেভেলপ করার জন্য একটি একটিভ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস ডিজাইন করুন। তাছাড়া যেহেতু বর্তমানে মোবাইল ইউজার এর সংখ্য অনেক বেশি তাই মোবাইল ডিভাইসে ঝামেলামুক্ত ভাবে ব্রাউজ করার জন্য প্ল্যাটফর্মকে সেভাবে অপ্টিমাইজ করুন। আর ওয়েবসাইট গঠনের ক্ষেত্রে রেসপন্সিভ ওয়েব ডিজাইন করার চেষ্টা করুন।
লেনদেন সহজতর করার জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে গুলো কম্বাইন্ড করুন। নিরাপদ পেমেন্ট প্রোসেসিং প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রাসঙ্গিক রেগুলেশনের সাথে মিল রেখে গেটওয়ে তৈরী করুন। যাতে করে কাস্টমার কিংবা ব্রান্ডের লিগ্যাল ইস্যু তে জটিলতা তৈরি না হয়।
ভেন্ডার এবং কাস্টমার উভয়কে আকর্ষণ করার জন্য একটি মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করুন। এসইও এবং অনলাইন বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে মার্কেটিং বাস্তবায়ন করতে পারেন। তাড়াছা আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ইমেইল মার্কেটিং এর ও সাহায্য নিতে পারেন। এড়াছা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কথাও বিবেচনা করে দেখতে পারেন। কারণ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ থাকলে অনেক ব্লগার কিংবা ইনফ্লুয়েন্সার আপনার প্লাটফর্মের প্রোমোশনে আগ্রহী হবে।
কাস্টমারদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সমাধান দিতে একটি কাস্টমার সাপোর্ট চ্যানেল সেট আপ করুন (যেমন, চ্যাট, ইমেল, ফোন ইত্যাদি)। এছড়াও Frequently Asked Questions সেকশন রাখার ব্যবস্থা করুন যেখানে কাস্টমার রা নিজে থেকেই সার্চ করে অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তাছাড়া বিক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সেলার সাপোর্ট চ্যানেল ওপেন করতে পারেন৷
ইউজার দের একটিভিটি ট্র্যাক করতে এনালাইসিস টুলস ব্যাবহার করুন। তাছাড়া নিয়মিত ওয়েবসাইট এর কর্মক্ষমতা, ট্রাফিক, এবং সেলস মনিটর করুন। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে এবং ওয়েবসাইট পারফরম্যান্সে উন্নতি করতে এই ডেটা গুলো ব্যবহার করুন।
কাস্টমার বা বিক্রেতার ডেটা গুলো যে কাজেই ব্যবহার করুন না কেন, এক্ষেত্রে ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে চলুন (যেমন, GDPR)। আপনার বিজনেস কি ট্যাক্স বিধান এবং ই-কমার্স আইনের সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে সে ব্যপারে খেয়াল রাখুন।
বর্তমান যুগে, একটি Multi Vendor E-commerce মার্কেটপ্লেস হল সবচেয়ে লাভজনক বিজনেস কনসেপ্ট গুলোর মধ্যে একটি। যার সাকসেস রেট ও ভবিষ্যত নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও মার্কেট গবেষক রা অনেক বেশি আশাবাদী। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ২০২৬ সালে এর সেলস ৫৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৮.১ ট্রিলিয়নে পৌছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এর টেকসই বৃদ্ধি এবং লাভজনক বিকাশ নিশ্চিত করতে, আপনাকে বিভিন্ন একটিভিটির একটি নিখুঁত কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে।
এক্ষেত্রে প্রয়োজন, ক্লিয়ার ধারণা থেকে শুরু করে রাইট ভার্টিকাল, কাস্টমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং , কোয়ালিটি কনটেন্ট , ট্রাস্টেড সেলার, কোডিং, এস ই ও, মার্কেটিং টিম, ডিজাইনিং টিম এবং লিগ্যাল ক্লারিফিকেশন। সর্বোপরি, সেলার, কাস্টমার উভয়ের সন্তুষ্টির পাশাপাশি মার্কেটপ্লেসে rapid প্রোফিট গ্রোথ ধরে রাখতে পারলে, Amazon বা eBay-এর মতো জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতা করা কঠিন কিছু নয়।

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।








