অর্থনৈতিক মন্দা বা Recession কী?

350
article image

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া এবং বেশ কয়েকমাস এই অবস্থা স্থায়ী হওয়াকেই মন্দা বা অর্থনৈতিক মন্দা বলে। অর্থনীতির ভাষায়, ধারাবাহিক ভাবে দুটি অর্থনৈতিক পিরিয়ডে বা ৬ মাস পর্যন্ত জিডিপি গ্রোথ রেট নিম্নমুখী বা নেগেটিভ থাকলে তাকে মন্দা বা রেসিশন বলে। ৬ মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে কোন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনাতীত ভাবে হ্রাস পাওয়াকে মন্দা বুঝায়। এই পরিস্থিতিতে একটি দেশের জিডিপি কমবে, উৎপাদন কমবে, আয় কমবে, বেকারত্বের হার বাড়বে, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে, জীবন-যাত্রার উপর খারাপ প্রভাব পরবে। এই অবস্থা যখন দীর্ঘায়িত হয় এবং চরম আকার ধারণ করে তখন তাকে মহামন্দা বলে।

Key Points

  • অর্থনৈতিক বাজে পরিস্থিতিকেই মন্দা বা অর্থনৈতিক মন্দা বলে।
  • মন্দা চলাকালীন সময়ে বেকারত্বের হার অনেক বেড়ে যায়।
  • মন্দা সব ধরনের ব্যবসা যেমন ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহত্তর ব্যবসাতেও খারাপ প্রভাব বিস্তার করে।
  • মন্দা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেই মন্দার সৃষ্টি হয়।
  • কখন বা কিভাবে মন্দা দেখা দিবে তার পূর্বাভাস দেওয়ার‌ একক কোনো উপায় নেই।

মন্দা বা অর্থনৈতিক মন্দা কী?

একটি বিজনেস সাইকেল উত্থান-পতন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নতির হার যদি দীর্ঘ সময় ধরে হ্রাস পায় তবে সেটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়।

১৯৬০-২০০৮ সাল পর্যন্ত ২১ টি উন্নত অর্থনীতি সমৃদ্ধ দেশে মোট ১২২ টি মন্দা হয়েছে।

১৯২৯ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয় যাকে The great Depression বলা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যথাক্রমে ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১, ২০০৯ সালে হয়েছিল চারটি বৈশ্বিক মন্দা।

মন্দা বিষয়টি আরো সহজে বুঝা যাক!

একটি দেশের অর্থনীতি কয়েকটি প্রধান জিনিসের উপর নির্ভর করে থাকে। যেমন:- জিডিপি, জিএনপি, রেমিট্যান্স, ফরেন রিজার্ভ, বৈদেশিক বিনিয়োগের হার বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট, আমদানি-রপ্তানির হার, মুদ্রাস্ফীতির হার, বেকারত্বের হার ইত্যাদি বিষয়ের উপর।

কোন দেশের এই জিডিপি এর প্রবৃদ্ধি ৩‌ থেকে ৬ মাস সময় পর্যন্ত থমকে গেলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাবে, পণ্যের বিক্রি কমে যাবে, পণ্যের বিক্রি কমে গেলে। কোম্পানি গুলো বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাই শুরু করবে, কোম্পানির শেয়ারের দর পতন শুরু হবে, মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, কোম্পানি গুলো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে। যার ফলে ব্যাংক গুলোতে খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে। দেশের আমদানি খাত গুলো স্থবির হয়ে যাবে, বৈদেশিক রিজার্ভ কমে যাবে, ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রার মান কমতে শুরু করবে। এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থার সৃষ্টি হবে তাকেই মন্দা বা অর্থনৈতিক মন্দা বলা হয়।

১৯২৯ সালে যু্ক্তরাষ্টের মহামন্দা

১৯২০ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তখন দেশটির অর্থনীতি দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। উল্লেখযোগ্য বড় শহরগুলোতে গড়ে ওঠে ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বড় কলকারখানা। একই সময় মার্কিন প্রশাসন কৃষি ও রেলখাতেও উন্নয়নের কাজ শুরু করেছিল। যার ফলে লক্ষ লক্ষ নাগরিকের স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং তারা উল্লেখযোগ্য হারে আয় করতে থাকেন।

কয়েকবছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থা আরো পাল্টে যায়। নতুন নতুন কলকারখানার সঙ্গে তৈরি হয় উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কর্পোরেট অফিস এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থানের অভাব না থাকায় প্রায় সকল নাগরিকের হাতেই প্রচুর অর্থ ছিল। আর এই কারণেই তারা শেয়ার বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কেউ কেউ তো নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে স্থায়ী বিনিয়োগকারীও হয়ে ওঠেন। আর এর সংখ্যা দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেই সময় একজন বাবুর্চি হতে শুরু করে একজন কারখানার মালিক প্রায় সবাই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে হাজার মানুষের ভিড় ছিল নিত্যদিনের চিত্র।

১৯২৯ সালের আগস্টে এসে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজার চরম শিখরে আরোহন করে। কিন্তু ততদিনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়াও উপলব্ধি করতে থাকে সবাই। ঐ বছরের গ্রীষ্মে দেশটির জাতীয় উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে এবং মার্কিন নাগরিকরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করায় কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। তখন একদল নাগরিক, ব্যবসায়ের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেগুলো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন।

এতে করে স্থানীয় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় তৎকালীন সরকার। সব মিলিয়ে এক ধরনের অনিয়ম এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে। কিন্তু এত শত সমস্যার মাঝে একদিনের জন্যেও শেয়ারের দাম কমেনি! অতঃপর ১৯২৯ সালের অক্টোবরের শেষদিকে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কিছু সংখ্যক ভীতু বিনিয়োগকারী সেই সময় তাদের সব শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন। আর তাদের মদদ দিচ্ছিলেন কিছু সংখ্যক অসাধু বিনিয়োগকারী।

শুধুমাত্র ২৪ অক্টোবর একদিনে বিক্রি হয়েছিলো প্রায় ১২.৯ মিলিয়ন শেয়ার! আর এটিকে একটি সুযোগ ভেবে লক্ষ লক্ষ লোক ব্যাংক থেকে ঋণ করে শেয়ার ক্রয় করেন। গ্রেট ডিপ্রেশনের ইতিহাসে সেদিনকে "কালো বৃহস্পতিবার" হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মূলত সেদিনই অর্থনৈতিক মহামন্দার দিকে প্রথম পা ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এর চার দিন পর ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খায়। সেদিন প্রায় ১৬ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রি হয়েছিল। মূলত বিপর্যয় বুঝতে পেরে, একটি মহল চারদিন আগে ক্রয় করা শেয়ারগুলো বিক্রি করতে থাকে। কিন্তু মধ্যম ও নিম্ন পর্যায়ের শেয়ারগ্রহীতারা সেটি বুঝতে না পেরে, কম দামে পাওয়ার লোভে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেসব শেয়ার কেনেন। আর এরই মাঝে শুরু হয় দরপতন। হাহাকার নেমে আসে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। ইতিহাসে ঐ দিনটিকে "কালো মঙ্গলবার" হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থনীতিবিদরা।

১৯২৯ সালের অক্টোবরের ঐ দুই দিনে প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েন নতুন বিনিয়োগকারীরা। আর এর প্রভাব পড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ছোট-বড় সকল ক্ষেত্রে। কয়েকদিনের মধ্যে শিল্পকারখানার উৎপাদন অর্ধেক হ্রাস পায়। ব্যবসায়ে নিশ্চিত ক্ষতি বুঝতে পেরে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করে। কোথাও কোথাও গুলিবর্ষণ করে কর্মীদের মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটে। দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও, ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছিলেন না বিক্রেতারা। মাত্র ১ বছরের মাথায় প্রায় ১ কোটি মার্কিন নাগরিক বেকার হয়ে পড়েন, যা ১৯৩১ সালে গিয়ে দেড় কোটিতে ঠেকে। রাষ্ট্রপতি হার্বার্ট হুভারের প্রশাসনও এই অবস্থায় দিশেহারা হয়ে যায়। তারা তাদের বেশকিছু বড় প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানেও লক্ষ লক্ষ লোক বেকার হয়ে পড়েন।

অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে আমরা কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি

১| অন্তত ৪-৬ মাসের খরচের টাকা এমার্জেন্সি ফান্ডে জমা করে রাখতে পারি

মন্দা থেকে বাঁচতে হলে সবচেয়ে আগে আমাদের অনাবশ্যক খরচ কমিয়ে ফেলতে হবে। খরচ কমিয়ে এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতি মাসের প্রয়োজনীয়‌ খরচ করার পর মোট আয়ের ১০-১৫% ইমার্জেন্সি ফান্ডে জমা করে রাখুন। ধরুন আপনার খাওয়া-দাওয়ার জিনিস, সন্তানের স্কুল খরচ, বাড়ি-ভাড়া, চিকিৎসা সহ মাসিক প্রয়োজনীয় খরচগুলি সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তাহলে আপনি কমপক্ষে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ইমারজেন্সি ফান্ড তৈরি করে রাখুন।

২| অযথা খরচ কমিয়ে আনুন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইমারজেন্সি ফান্ড কীভাবে তৈরি করবেন। এই প্রশ্ন যতটা স্বাভাবিক জবাব ততটাই সহজ। অযথা খরচ বন্ধ করে দিন। রেস্তোরাঁয় খাওয়া, পার্টি, ঘুরতে যাওয়া, নতুন জামা-কাপড় কেনা এ সমস্ত খরচ আপাতত বন্ধ করে রাখুন। এর সঙ্গে আরও বেশ কিছু জিনিস আপনি বন্ধ করতে পারেন। গাড়ি কম চালিয়ে পেট্রোল-ডিজেলের খরচ বাঁচানো, রোজ মাছ, মাংস, ডিম খাওয়ার খরচ বাঁচিয়ে আপনি এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরির পাশাপাশি অধিক সঞ্চয় করতে পারেন।

৩| অ-প্রয়োজনীয় এবং অযথা লোন গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন

বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা লোন গ্রহণ করি। কিন্তু মন্দাকালীন মুহূর্ত থেকে বাঁচতে অতীব প্রয়োজন নয় এই ধরনের লোন নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। যদিও আমাদের দেশের ১.১% মানুষ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেও, তবুও অযথা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে । কারণ এগুলি আপনাকেই পরিশোধ করতে হবে। মোটকথা যতটা সম্ভব ঋণ এড়িয়ে চলতে হবে।

৪| মন দিয়ে অফিসের কাজ করুন

মন্দার সময় কোম্পানি নিজেদের বাঁচানোর জন্য ছাঁটাই পর্ব শুরু করে। প্রথমেই ছাঁটাই করতে গেলে কোম্পানিগুলি সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্সের কর্মী ছাঁটাই করে। তাই আপনাকে নিজের কাজে প্রচুর দক্ষ হতে হবে তাতে খারাপ পারফরম্যান্সের মধ্যে না থাকেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে মন দিয়ে কাজ করুন এবং নিজেকে ভালো কর্মী বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করতে থাকুন।

৫| বিনিয়োগ করতে চাইলে গোল্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন

মন্দার সময় সোনার ঔজ্জ্বল্য বেড়ে যায়। গোল্ডে বিনিয়োগ করে রাখলে অসুবিধা নেই। এতে ইনভেস্টমেন্ট আপনাকে বিপদের সময় অত্যন্ত ভালো রিটার্ন দেবে। আর্থিক সংকটের সময়ে গোল্ডের ভ্যালু বেড়ে যায়, বিপদে গোল্ড বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করা যায়। এখন ফিজিক্যাল গোল্ডের বদলে ভার্চুয়াল গোল্ডের মত বিকল্প মজুত রয়েছে বিনিয়োগ করার জন্য।

বাংলাদেশে মন্দা হবার সম্ভাবনা কতটুকু?

করোনাভাইরাস সংক্রমণ হ্রাস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ২০২২ সালের শুরুতে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ইউক্রেন রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ফেব্রুয়ারির শেষদিক থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউই বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো রপ্তানি গন্তব্য বা আমদানির সোর্সিং দেশ নয়। তবে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য যে দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে, সেসব দেশের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ৪০ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকায় এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোক্তাদের চাহিদা ও দাম কমানোর জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাপী মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমরা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিশৃঙ্খল এবং ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, এমন একটি সময়ে অবস্থান করছি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মন্দার উপাদানগুলো একেবারেই স্পষ্ট।

সংকোচনমূলক আর্থিক নীতির কারণে আগামী ২ বছরে মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছে, ব্যাংক অফ আমেরিকা এবং ডয়েচে ব্যাংকসহ ওয়াল স্ট্রিট সংস্থাগুলো।

২০০৭ ও ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় এবং এমনকি মহামারিতেও বাংলাদেশ মন্দার মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু বর্তমানে দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন কারণে চাপের মধ্যে পড়েছে।

জুলাই থেকে মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৪.৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি পরিশোধ বছরে ৪৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.৫ বিলিয়ন ডলারে।

চলতি বছরের মে মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১.৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। উচ্চতর আমদানি অর্থপ্রদান এখন রিজার্ভ আরও কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। রেমিট্যান্স চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ২১.৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ৬ বার মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করলেও টাকার বিনিময় হার অস্থিতিশীল। মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬.২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৭ মাসে সর্বোচ্চ।

উপসংহার

প্রতি ১৫-২০ বছর অন্তর অন্তর বিশ্বে ছোটখাটো মন্দা দেখা দেয়। তাই অর্থনৈতিক ভাবে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হবে। সরকারকে রপ্তানি খাতের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মন্দা সংঘঠিত হবার পূর্বেই সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

  • আইএমএফ, দৈনিক যুগান্তর, সেন্টার ফর ইকনোমিক পলিসি অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্স
Next to read
Business Models
অ্যাড অন মডেল (Add On Model)
অ্যাড অন মডেল (Add On Model)

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।

লিন ক্যানভাস মডেল (Lean Canvas Model)
Canvas & Methods
লিন ক্যানভাস মডেল (Lean Canvas Model)
ফ্রিমিয়াম মডেল (Freemium Model)
Business Models
ফ্রিমিয়াম মডেল (Freemium Model)
শেয়ারিং ইকোনমি মডেল (Sharing Economy Model)
Business Models
শেয়ারিং ইকোনমি মডেল (Sharing Economy Model)
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রসমূহ
Marketing
ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রসমূহ
হোরেকা (HORECA)
Business
হোরেকা (HORECA)
ব্রান্ডিং (Branding)
Branding
ব্রান্ডিং (Branding)
ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Micro Economics কী?
Economics
ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Micro Economics কী?
সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?
Economics
সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
Sales
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?