সামাজিক ব্যবসায় মডেল (How The Social Business Model Works)

377
article image

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমাজের কোনো সমস্যাকে সমাধান করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাই হচ্ছে সামাজিক ব্যবসায়। সর্বপ্রথম ড. মুহাম্মদ ইউনুস দ্বারা শুরু করা এই মডেল এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে। সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সাশ্রয়ী মূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঋণ রিলেটেড পণ্য বা সেবা অফার করে থাকে।

Key Points

  • যেকোনো সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য থাকে একটি সামাজিক সমস্যার সমাধান করা, যেমন - দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ইত্যাদি।
  • একটি সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একাধিক শেয়ারহোল্ডার থাকতে পারেন, তবে ব্যবসায় থেকে হওয়া মুনাফা শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করা হয় না।
  • আপাতদৃষ্টিতে সাংগঠিক বিষয়ে সামাজিক ব্যবসায় মডেল ও সাধারণ ব্যবসায় মডেলের ভেতর তেমন পার্থক্য দেখবেন না। সাধারণ প্রতিষ্ঠানের মতোই তাদের লিড ম্যানেজমেন্ট, অপারেশনাল টিম ইত্যাদি থাকে।
  • সামাজিক ব্যবসায় মডেলের ফান্ডিং একাধিক সোর্স থেকে আসতে পারে, যেমন - গ্রান্ট, সামাজিক বিনিয়োগকারী, পরিবেশ সচেতন বিভিন্ন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

ভূমিকা

সোশ্যাল বিজনেসকে বাংলায় বলা হয় সামাজিক ব্যবসায়। সামাজিক ব্যবসায় হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে সমাধান করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় যা ফাইন্যান্সিয়াল সাস্টেইনিবিলিট মেইনটেইন করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে কাজ করে। বর্তমান সময়ে দারিদ্র্যতা হ্রাসে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ও পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক ব্যবসায় মডেল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আধুনিক সামাজিক ব্যবসায় জনপ্রিয় করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের। তার প্রচেষ্টা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সামাজিক ব্যবসায় মডেল এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে। ব্যবসায়ের মাধ্যমেও যে ভালো কিছু করা যায়, তার বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে এই সামাজিক ব্যবসায় মডেল।

আধুনিক সামাজিক ব্যবসায় মডেলের উত্থান

আধুনিক সামাজিক ব্যবসায় মডেলের মূল জড়িয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ আন্দোলনের সাথে, যা শুরু হয়েছিল ১৯৭০’র দশকে। ড. মুহাম্মদ ইউনুস, একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদকে এই মডেল প্রতিষ্ঠা করার ক্রেডিট দেয়া হয়। ১৯৭৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল কাজ ছিল গ্রামীণ জনগণকে ছোট ছোট আকারের ঋণ সহায়তা প্রদান করা, যা ব্যবহার করে তারা ব্যবসায় শুরু করতে পারেন, স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন বা শিক্ষার পেছনে ব্যয় করতে পারেন।

এই মডেল থেকেই প্রথম বোঝা যায় যে সমাজের বিভিন্ন ইস্যু সল্ভ করার পাশাপাশিও ব্যবসায় করা যায়। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনুসের সফলতাই আধুনিক সামাজিক ব্যবসায় মডেলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে মুনাফাকে প্রাধান্য না দিয়ে সমাজ সংস্কারের এই বিজনেস মডেল সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরে।

সামাজিক ব্যবসায় মডেলের কিছু মূলনীতি

চলুন এবার সামাজিক ব্যবসায় মডেলের কিছু মূলনীতি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। একইসাথে এগুলোকে সামাজিক ব্যবসায় মডেল ও সাধারণ ব্যবসায় মডেলের মাঝে পার্থক্য হিসেবেও ধরে নিতে পারেন।

১। উদ্দেশ্যভিত্তিক

যেকোনো সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য থাকে একটি সামাজিক সমস্যার সমাধান করা, যেমন - দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ইত্যাদি। সর্বাধিক পরিমাণ মুনাফা অর্জন কখনোই কোনো সামাজিক ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হয় না।

২। আর্থিক টেকসইতা

ব্যবসায়টি এমন হতে হবে, যাতে করে এটি কোনো বহির্বিনিয়োগ ছাড়াই নিজে নিজে টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ, ব্যবসায় চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রেভিনিউ জেনারেট করতে পারতে হবে। বাইরে থেকে বিনিয়োগ বা ডোনশন আসলে ভালো, তবে পুরোপুরি তার উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।

৩। নন-ডিভিডেন্ড মডেল

একটি সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একাধিক শেয়ারহোল্ডার থাকতে পারেন, তবে ব্যবসায় থেকে হওয়া মুনাফা শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করা হয় না। বরং মুনাফা আবারো ব্যবসায়েই বিনিয়োগ করা হয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলির পরিধি বৃদ্ধি পায়।

৪। সামাজিক প্রভাবের উপর ফোকাস

সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সফলতা কোনো আর্থিক নাম্বার দেখে বিবেচনা করা হয় না। বরং একটি সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ঠিক কতোটা সফল হয়েছে তা নির্ধারণ করা হয় উক্ত ব্যবসায় দ্বারা তৈরিকৃত সামাজিক প্রভাবের উপর। অর্থাৎ, যেই সমস্যা সমাধানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা কতোটা সমাধান করা গিয়েছে তার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের সফলতা যাচাই করা হয়।

৫। পরিবেশগত সচেতনতা

সামাজিক ব্যবসায়গুলো সর্বদা পরিবেশের উপর প্রতিষ্ঠানের নেগেটিভ প্রভাব সর্বনিম্ন লেভেলে রাখার চেষ্টা করে। পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পরতে পারে এমন কার্যক্রম থেকে সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিরত রাখে।

বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ব্যবসায়

আধুনিক সময়ে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ব্যবসায় মডেল দেখা যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে অনেক সময় অনেক বিতর্ক হলেও, ধরণগুলো সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো।

১। Non-Loss, Non-Dividend Companies

এই ব্যবসায়গুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে করে তারা নিজেদের সম্পূর্ণ খরচ রিকভার করে অবশিষ্ট অর্থ ব্যবসায়ে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারে। শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরণের ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে এই মডেলের অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে Grameen Danone, যা Grameen Bank এবং Danone’র যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে বাচ্চাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে সুস্বাদু দই সরবরাহ করা।

২। Profit-Generating Social Businesses

এই প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা জেনারেট করলেও এদের মূল লক্ষ্য থাকে সামাজিক লক্ষ্য অর্জন। মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করে বাকি অংশ ব্যবসায় পুনঃবিনিয়োগ করা হয়। ভারতের Aravind Eye Care System এমনই একটি উদাহরণ, যার উদ্দেশ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাশ্রয়ী মূল্যে চক্ষুসেবা প্রদান করা।

৩। Cooperatives

একাধিক ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় একটি সমিতি বা কোঅপারেটিভ প্রতিষ্ঠিত হয়। এদের মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করে যথাযথ বেতন প্রদান ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট। বাংলাদেশের BRAC Dairy এমনই একটি উদাহরণ। যারা ছোট ছোট দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের সাপোর্ট করে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ডেইরি প্রোডাক্ট সরবরাহ করে।

৪। Socially Responsible Enterprises

এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ ব্যবসায় হিসেবে পরিচালিত হলেও নৈতিক কার্যক্রম ও সামাজিক দায়িত্বের উপর এদের বেশি ফোকাস থাকে। এমনই একটি উদাহরণ হচ্ছে Patagonia। তারা নিজেদের প্রফিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক কাজে ডোনেট করে থাকেন।

সামাজিক ব্যবসায় মডেল কীভাবে কাজ করে?

চলুন এবার জেনে নেয়া যাক কিভাবে সামাজিক ব্যবসায় মডেল কাজ করে।

অপারেশনাল স্ট্রাকচার

আপাতদৃষ্টিতে সাংগঠিক বিষয়ে সামাজিক ব্যবসায় মডেল ও সাধারণ ব্যবসায় মডেলের ভেতর তেমন পার্থক্য দেখবেন না। সাধারণ প্রতিষ্ঠানের মতোই তাদের লিড ম্যানেজমেন্ট, অপারেশনাল টিম ইত্যাদি থাকে। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মুনাফা সর্বাধিকীকরণের পরিবর্তে সামাজিক দায়িত্ব বেশি প্রাধান্য পায়।

ফান্ডিং

সামাজিক ব্যবসায় মডেলের ফান্ডিং একাধিক সোর্স থেকে আসতে পারে, যেমন - গ্রান্ট, সামাজিক বিনিয়োগকারী, পরিবেশ সচেতন বিভিন্ন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। আবার অনেক সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লোন নিয়েও কার্যক্রম শুরু করে। তবে লোনের টার্ম এমন হওয়া যাবে না যাতে করে সামাজিক কার্যাবলিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। প্রথমে বাইরে থেকে বিনিয়োগ আসলেও পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আর বাইরের বিনিয়োগের উপর নির্ভর না করে নিজেদের জেনারেট করা আয়ের মাধ্যমেই ব্যবসায় পরিচালনা করার চেষ্টা করে।

রেভিনিউ মডেল

বিভিন্ন সামাজিক পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ব্যবসাগুলো রেভিনিউ জেনারেট করে। উদাহরণস্বরুপ, একটি সামাজিক ব্যবসায় বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা রিলেটেড পণ্য বা ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য বিক্রয় করতে পারে। পণ্য বা সেবার মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে করে তা সকল ধরণের মানুষের কাছে অ্যাক্সেসিবল হয় এবং একই সময়ে ব্যবসায় যাতে তাদের খরচ রিকভার করতে পারে।

পুনঃবিনিয়োগ স্ট্র্যাটেজি

আগেই বলেছি, সামাজিক ব্যবসায়ে জেনারেট হওয়া প্রফিট শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ না করে ব্যবসায়ে পুনঃবিনিয়োগ করা হয়। এতে করে ব্যবসায়ের পণ্য বা সেবার মান উন্নত করা হয়, পরিধি বৃদ্ধি করা হয় এবং গবেষণায় কাজে লাগানো হয়।

সামাজিক ব্যবসায় মডেলের প্রভাব

বর্তমান বিশ্বে আধুনিক সামাজিক ব্যবসায় মডেলের প্রভাব এখনো বেশ স্পষ্ট। নানা ধরণের সমালোচনা থাকলেও এই মডেল যে আসলেই অনেক দরিদ্র পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের সহায় হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাশ্রয়ী খরচে বিভিন পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে গিয়েছে তা অস্বীকার করায় কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৯ মিলিয়নের বেশি মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করেছে, যার ৯৭% নারী। এর ফলে গ্রামীণ জনপদে দারিদ্র্যতা কিছুটা হলেও হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় এনজিও ব্র্যাকের মাধ্যমে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন খাতে যেমন - শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্র ঋণ ইত্যাদিতে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছেন। ভারতের Aravind Eye Care System ইতোমধ্যে সাশ্রয়ী খরচে ৬ মিলিয়নের বেশি চক্ষু অপারেশন সম্পাদন করেছে।

এই উদাহরণগুলো থেকেই বোঝা যায় যে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু সমাধানে সামাজিক ব্যবসায় মডেলের প্রভাব এখন ঠিক কোন পর্যায়ে পৌছেছে।

সামাজিক ব্যবসায় মডেলের সমালোচনা

সামাজিক ব্যবসায় মডেলের সমালোচনা হয় মূলত এই মডেলের টেকসইতা ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ মার্কেটে এই মডেলের প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। আবার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো খুব দ্রুতই নিজেদের ব্যবসায় গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আবার নন-ডিভিডেন্ড মডেল হওয়ার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায় বড় করার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে হিমশিম খায়। কারণ যেকোনো বিনিয়োগকারীই নিজের বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা আশা করেন।

আবার অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক ব্যবসায়গুলো উক্ত অঞ্চলের নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করে। এতে করে নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানগুলোর ডোনেশন পেতে সমস্যা হয়। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে, যেকোনো মানুষের কাছেই মনে হবে যে, নন-প্রফিট মডেলের চেয়ে সোশ্যাল বিজনেস মডেলের টিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

আবার প্রতিষ্ঠাকালে সামাজিক ব্যবসায় মডেলের কথা বলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মুনাফা সর্বাধিকীকরণের অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান যথাযথ মানের পণ্য বা সেবা সরবরাহ করতে পারছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে, ঋণ টাকা ফেরত তুলতে না পারায় তাদের সর্বস্ব দখল করে নেয়ার অভিযোগ’ও পাওয়া গিয়েছে।

পরিসংহার

সামাজিক ব্যবসায় মডেল হচ্ছে একটি পাওয়ারফুল অ্যাপ্রোচ, যেখানে প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক ব্যবসায় কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু সল্ভ করার চেষ্টা করে। যথাযথ ফান্ডিং পাওয়া যায় না বিধায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ইনোভেটিভ মডেল ফলো করে কাজ করে। এর মাধ্যমে দিন শেষে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন’ও সাধন করা সম্ভব হয়। কিছু স্পেসিফিক ক্ষেত্রে সমালোচনার দেখা মিললেও সামাজিক ব্যবসায় মডেলের সফলতার গল্প’ও রয়েছে প্রচুর। আশা করি ভবিষ্যতেও এই মডেল একটি সুন্দর পৃথিবী গঠনের কাজে একইভাবে অবদান রেখে যাবে।

  • https://vanilla.higherlogic.com/blog/social-business-definition
  • https://www.investopedia.com/terms/s/social-enterprise.asp
  • https://www.muhammadyunus.org/post/2113/social-business
  • https://www.hec.edu/en/faculty-research/centers/sustainability-organizations-institute/think/so-institute-executive-factsheets/what-social-business
  • https://corporatefinanceinstitute.com/resources/esg/social-enterprise/
  • https://westaway.com/insights/social-enterprise-business-models/
  • https://www.youtube.com/watch?v=b2PTNBnb_aw
Next to read
Business Models
অ্যাড অন মডেল (Add On Model)
অ্যাড অন মডেল (Add On Model)

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।

সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)
Canvas & Methods
সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)
বিজনেস মডেল ক্যানভাস ( Business Model Canvas)
Canvas & Methods
বিজনেস মডেল ক্যানভাস ( Business Model Canvas)
সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?
Economics
সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?
বিক্রয়ের ১০টি ভুল যেগুলো প্রতিটি বিক্রয়কর্মীর এড়ানো উচিৎ
Sales
বিক্রয়ের ১০টি ভুল যেগুলো প্রতিটি বিক্রয়কর্মীর এড়ানো উচিৎ
‘SWOT’ Analysis
Analysis
‘SWOT’ Analysis
PESTLE বিশ্লেষণ
Analysis
PESTLE বিশ্লেষণ
সেলস টার্গেট অর্জনের জন্য ১০টি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ টিপস
Sales
সেলস টার্গেট অর্জনের জন্য ১০টি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ টিপস
ব্র্যান্ড আর্কিটেকচার কী? সংজ্ঞা, মডেল এবং উদাহরণ
Branding
ব্র্যান্ড আর্কিটেকচার কী? সংজ্ঞা, মডেল এবং উদাহরণ
ব্রেটন উডস এগ্রিমেন্ট
Agreement
ব্রেটন উডস এগ্রিমেন্ট