বন্ড মার্কেট কী? বন্ড মার্কেট নিয়ে বিস্তারিত

491
article image

বন্ড মার্কেট হচ্ছে এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন ধরণের বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। বন্ড মার্কেটের সাথে বন্ড ইস্যুকারী ও বন্ডহোল্ডারগণ জড়িত থাকেন। আবার এর সাথে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষ যেমন ব্রোকারেজ হাউস, রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি’ও জড়িত থাকেন। বন্ড ক্রয় করার মাধ্যমে বন্ডহোল্ডারগণ বন্ডের ইস্যুকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সুদের হারে ঋণ দিয়ে থাকেন। এই ঋণের টাকা বন্ড ইস্যুকারীগণ ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে ব্যয় করেন।

Key Points

  • যিনি বা যারা বন্ড ইস্যু করে থাকেন, তাদেরকে বন্ডের ইস্যুকারী বলা হয়। আর যিনি বা যারা বন্ড ক্রয় করেন, তাদের বন্ডের ধারক বা বন্ডহোল্ডার বলা হয়।
  • সরকারি বন্ডকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা হয় কারণ দেশের সরকারের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে থাকে না বললেই চলে।
  • সরকারি বন্ডকে আমরা সাধারণত ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি নোট ও ট্রেজারি বন্ড হিসেবে চিনে থাকি।
  • মার্কেটের পরিস্থিতি, সুদের হারের তারতম্য ও ক্রেডিট রিস্কের কারণে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের মূল্যের তারতম্য হতে পারে।

বন্ড মার্কেট কী?

মুদ্রাস্ফীতির সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থের মান ধরে রাখা দিন দিন বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থ জমা করে না রেখে বিনিয়োগ করে দেয়াই সবচেয়ে ভালো কাজ। এতে করে বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন আসবে, যা মুদ্রাস্ফীতির কারণে মুদ্রার মানকে কমতে দিবে না। আর বিনিয়োগের জগতে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয় বন্ডকে। বন্ডে বিনিয়োগ করলে বন্ডহোল্ডারদের বিশেষ একটি ঝুকিঁ নিতে হয় না। আবার নির্দিষ্ট হারে নিশ্চিত সুদ’ও পাওয়া যায়। এই কারণে এখন মানুষের বিভিন্ন ধরণের বন্ডে বিনিয়োগ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আজকে আমরা বন্ড মার্কেট ও বিভিন্ন ধরণের বন্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

বন্ড মার্কেটকে অনেক সময় ঋণের বাজার, ক্রেডিট মার্কেট বা ফিক্সড ইনকাম মার্কেট হিসেবে অভিহিত করা হয়। যেই বাজারে ঋণের বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করা হয়, তাকেই বন্ড মার্কেট বলা হয়। নিজেদের ব্যবসায় স্থাপন ও সম্প্রসারণ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পাবলিক কোম্পানী বন্ড মার্কেটে বন্ড ইস্যু করে থাকে। আবার সরকার’ও দেশের বিভিন্ন বড় বড় প্রজেক্টের ফান্ডিং-এর জন্য বন্ড মার্কেটে বন্ড ইস্যু করে থাকে।

যিনি বা যারা বন্ড ইস্যু করে থাকেন, তাদেরকে বন্ডের ইস্যুকারী বলা হয়। আর যিনি বা যারা বন্ড ক্রয় করেন, তাদের বন্ডের ধারক বা বন্ডহোল্ডার বলা হয়। বন্ডের ট্রেডিং সাধারণত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে হয়ে থাকে। প্রাইমারি মার্কেট একদম নতুন বন্ড ইস্যু করা হয়। অর্থাৎ, এই মার্কেটে বন্ড ইস্যুকারী ও বন্ডহোল্ডারের মাঝে সরাসরি লেনদেন হয়ে থাকে।

অপরদিকে, সেকেন্ডারি মার্কেটে সাধারণত পুরনো বন্ডের ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ব্রোকারদের থেকে এই ধরণের বন্ড ক্রয় করে থাকেন, যারা বন্ডের ও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে একজন ইন্টারমিডিয়ারি হিসেবে কাজ করেন। সেকেন্ডারি মার্কেটে পেনশন ফান্ড, মিচুয়াল ফান্ড ও লাইফ ইন্সুরেন্স পলিসির মতো প্যাকেজ আকারে’ও বন্ড বিক্রয় করা হয়ে থাকে।

বন্ডের প্রকারভেদ

পৃথিবীজুড়ে বেশ কিছু ধরণের বন্ডের দেখা পাওয়া যায়।

১। করপোরেট বন্ড

এই ধরণের বন্ড সাধারণত পাবলিক কোম্পানীগুলো ইস্যু করে থাকে। সাধারণত নিজেদের ব্যবসায়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে আসা ইত্যাদির উদ্দেশ্যে ফান্ড কালেক্ট করার জন্য এই ধরণের বন্ড ইস্যু করা হয়। করপোরেট বন্ডকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়, বেশি ঝুকিঁ ও কম ঝুকিঁ।

সাধারণত প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী, যাদের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তারা কম ঝুকিঁর বন্ড ইস্যু করে থাকে। এই ধরণের বন্ডে সুদের হার অনেক কম হয়ে থাকে। আর যেসব কোম্পানী আর্থিকভাবে ঝুকিঁপূর্ণ, আরা বেসি ঝুকিঁর বন্ড ইস্যু করে থাকে। বন্ডের ক্ষেত্রে ঝুকিঁর পরিমাণ বেশি হলে বন্ডের সুদের হার’ও বেশি হয়ে থাকে।

২। সরকারি বা ট্রেজারি বন্ড

বিভিন্ন দেশের সরকার দ্বারা যেই বন্ড ইস্যু করা হয়, তাকে সরকারি বা ট্রেজারি বন্ড বলা হয়। বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য সাধারণত সরকার কর্তৃক এই ধরণের বন্ড ইস্যু করা হয়। সরকারি বন্ডকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা হয় কারণ দেশের সরকারের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে থাকে না বললেই চলে। তাই এই বন্ডের সুদের হার খুব হয়ে থাকে এবং বন্ডহোল্ডারদের বার্ষিক সুদ প্রদান করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি সরকারি বন্ড যার মেয়াদ ১ বছর বা তার কম, তাকে ট্রেজারি বিল বলা হয়। যেসব সরকারি বন্ডের মেয়াদ ১ বছর থেকে ১০ বছরের মাঝে হয়ে থাকে সেগুলোকে ট্রেজারি নোট বলা হয় এবং এর বেশি মেয়াদের বন্ডগুলোকে ট্রেজারি বন্ড বলা হয়।

৩। মিউনিসিপাল বন্ড

মিউনিসিপাল বন্ড সাধারণত প্রদেশ বা সিটি করপোরেশন কর্তৃক ইস্যু করা হয়। সাধারণত ঐ অঞ্চলের মাঝে কোনো প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষ এই বন্ড ইস্যু করে থাকে। এই ধরণের বন্ডের বিপরীতে সাধারণত কর মওকুফ পাওয়া যায়।

৪। মর্টগেজ বন্ড

সাধারণত রিয়েল এস্টেট কোম্পানীগুলো এইধরণের বন্ড ইস্যু করে থাকে। অর্থাৎ, বন্ডহোল্ডারদের থেকে পাওয়া টাকা রিয়েল এস্টেট কোম্পানীগুলো বাড়ির ক্রেতার ঋণ হিসেবে প্রদান করে। এইধরণের বন্ডের বিপরীত মাসিক হারে ভালো পরিমাণ সুদ পাওয়া যায়।

বন্ড মার্কেট কীভাবে কাজ করে?

একটি বন্ড মার্কেটের সাথে একাধিক পক্ষ এবং বন্ডের একাধিক বৈশিষ্ট্য জড়িত থাকে। আপনার সুবিধার্থে এই সবগুলো বিষয় নিয়ে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি।

বন্ড ইস্যুকারী

বন্ড মার্কেটে বন্ড ইস্যুকারী হিসেবে সরকার, করপোরেট এন্টিটি ও মিউনিসিপ্যালিটির মানুষজন থাকেন। এদের প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে বন্ড মার্কেটের সাথে জড়িত থাকেন।

সরকার বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের অর্থায়ন ও বাজেটের ঘাটতি পূরণের আশায় সরকারি বন্ড ইস্যু করে থাকে। এইসব বন্ডের ঝুকিঁ অনেক কম হওয়ায় সুদের হার অনেক কম থাকে। সরকারি বন্ডকে আমরা সাধারণত ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি নোট ও ট্রেজারি বন্ড হিসেবে চিনে থাকি।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে মার্কেটে বন্ড ইস্যু করে থাকে। আর বিভিন্ন স্টেট বা সিটি করপোরেশন লোকাল ডেভেলপমেন্ট কাজ যেমন - স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল তৈরি ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বন্ড মার্কেটে বন্ড ইস্যু করে থাকে।

বন্ডহোল্ডার

বন্ডহোল্ডারগণ বন্ড ক্রয় করার মাধ্যমে বন্ডের ইস্যুকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ প্রদান করেন। বন্ডের মেয়াদ শেষে সাধারণত বন্ড ইস্যুকারী উক্ত বন্ডের ফেইস ভ্যালু বন্ডহোল্ডারকে ফেরত দিয়ে দেন। বন্ড মার্কেটে বন্ডহোল্ডার হিসেবে একক বিনিয়োগকারী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপস্থিতি দেখা যায়।

একক বিনিয়োগকারীগণ সাধারণত বিভিন্ন ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্টের সাহায্যে বন্ড ক্রয় করে থাকেন। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে থাকে বিভিন্ন মিচুয়াল ফান্ড, ইন্সুরেন্স কোম্পানী ও পেনশন ফান্ড। তাদের বিনিয়োগের মেজরিটিই বন্ড মার্কেটে করা হয়ে থাকে। আবার মাঝে মাঝে দেশের মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ড মার্কেট থেকে বন্ড ক্রয় করে থাকে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ও মুদ্রার সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ করে।

বন্ডের মূল্য

বন্ড ইস্যুকারী বন্ডের প্রাইস নির্ধারণ করে প্রথমে প্রাইমারি মার্কেটে তা বিক্রয় করে। এরপর সেকেন্ডারি মার্কেটে সেই বন্ডের ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। মার্কেটের পরিস্থিতি, সুদের হারের তারতম্য ও ক্রেডিট রিস্কের কারণে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের মূল্যের তারতম্য হতে পারে। সুদের হার যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে আগে ইস্যু হওয়া বন্ডের দাম কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা নতুন বন্ডের মতো পুরাতন বন্ডগুলোতেও বেশি সুদের হার দাবি করেন। সুদের হার বৃদ্ধির পর সবাই নতুন বন্ডের দিকে ঝুকে যাওয়ার কারণে পুরাতন বন্ডের ডিমান্ড হ্রাস পায়।

বন্ডের ইল্ড

বন্ডহোল্ডারদের বন্ড ক্রয় করার জন্য বার্ষিক যেই অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়, তাই বন্ডের সুদ। আর বন্ড বিক্রয় করে যদি বন্ডহোল্ডার অতিরিক্ত মুনাফা করেন, তাকে বলা হয় বন্ডের ক্যাপিটাল গেইন। বন্ডের সুদ আর বন্ডের ক্যাপিটাল গেইন যোগ করলে বন্ডের ইল্ড পাওয়া যায়। এই ইল্ড সাধারণত বন্ডের মার্কেট প্রাইসের অনুপাতে প্রকাশ করা হয়।

বন্ডের ক্রেডিট রেটিং

বন্ড ইস্যুকারীদের অতীতের লেনদেন পর্যালোচনা করে তাদের একটি ক্রেডিট রেটিং দেয়া হয়। এটাই বন্ডের ক্রেডিট রেটিং হিসেবে কাজ করে। এই ক্রেডিট রেটিং-এর উপর নির্ভর করে বন্ডগুলোকে উচ্চ ঝুকিঁ ও নিম্ন ঝুকিঁর ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়।

কীভাবে বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন?

বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য আপনাকে ৩টি ধাপে বেশ কিছু কাজ করতে হবে। সেগুলো হলো -

১। নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ

প্রথমত, আপনাকে বিবেচনা করতে হবে যে আপনি আসলে কী চাইছেন? আপনি কি বন্ড থেকে বার্ষিক একটি ফিক্সড ইনকাম চাইছেন নাকি শুধু মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে বাচানোর জন্য আপনার সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইছেন?

দ্বিতীয়ত, আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনি কি পরিমাণ ঝুকিঁ নিতে আগ্রহী। ঝুকিঁর সাথে বন্ডের সুদের হার ও মূল্যের সম্পর্ক আমরা উপরে আলোচনা করেছি।

তৃতীয়ত, আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আপনি আসলে ঠিক কতোটা সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এটি আপনাকে বন্ডের মেয়াদ নির্ধারণে সাহায্য করবে।

তারপর আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আপনার বিনিয়োগের সময় ও পরিমাণের উপর নির্ভর করে আপনি কি পরিমাণ রিটার্ন চাইছেন।

সবশেষে, আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে যে আপনার পোর্টফোলিও’র ঠিক কতো শতাংশ আপনি বন্ডে বিনিয়োগ করতে চাইছেন।

এক এক করে এই সবগুলো বিষয় ঠিক করা হয়ে গেলে বুঝতে হবে যে আপনার লক্ষ্য আপনি নির্ধারণ করে ফেলেছেন। এবার আপনি দ্বিতীয় ধাপে যেতে পারেন।

২। বন্ড সিলেকশন

উপরে আমরা বিভিন্ন ধরণের বন্ড সম্পর্কে আলোচনা করেছি। সবগুলো বন্ডেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে। আপনার নির্ধারিত লক্ষ্যের সাথে অ্যালাইন করে এমন একটি বন্ড আপনাকে এই ধাপে সিলেক্ট করতে হবে।

বন্ডের ধরণ ঠিক করা হয়ে গেলে আপনি ঐ ক্যাটাগরিতে কি কি কোয়ালিটির বন্ড আছে এবং সেগুলোর মেয়াদ কেমন তা ঘাটিয়ে দেখতে পারেন। অবশ্যই নির্দিষ্ট কোম্পানীর বন্ড সিলেক্ট করার আগে কোম্পানীর ক্রেডিট রেটিং দেখে নিবেন।

কিছু বন্ড আছে, যেগুলোতে বিনিয়োগ করলে কর মওকুফ পাওয়া যায়। চেষ্টা করবেন সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য।

৩। ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট ও ইনভেস্টমেন্ট প্লাটফর্ম

এবার আপনার কাজ হচ্ছে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস সম্পর্কে রিসার্চ করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানা। এমন একটি ব্রোকারেজ হাউস সিলেক্ট করার চেষ্টা করুন যারা বেশ গ্রাহক-বান্ধব এবং অনেক ধরণের বন্ড অফার করে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলো একাধিক ধরণের অ্যাকাউন্ট অফার করে থাকে। আপনার লক্ষ্যের সাথে অ্যালাইন করে এমন অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট করতে হবে।

অ্যাকাউন্ট খোলার আগেই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা, ফি ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে ব্রোকারেজ হাউস থেকে ভালোভাবে জেনে নিবেন।

সবকিছু জানা হয়ে গেলে আপনি অ্যাকাউন্ট ওপেন করে বন্ড ক্রয় করা শুরু করে দিতে পারেন।

বন্ড মার্কেট বনাম স্টক মার্কেট

আগেই বলেছি যে, বন্ড মার্কেটে শুধু বন্ড ইস্যু করা হয়ে থাকে। অপরদিকে, স্টক মার্কেটে কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। শেয়ার মার্কেটের তুলনায় বন্ড মার্কেটের ঝুকিঁ অনেক কম। কারণ, শেয়ার মার্কেট থেকে শেয়ার ক্রয় করার বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারগণ কোম্পানীর মালিকানা পান। তাই কোম্পানী ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেয়ারহোল্ডারদের সেই লোকসান বহন করতে হয়। আবার কোম্পানী বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারহোল্ডাররা সবার শেষে নিজেদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পান।

অপরদিকে, বন্ডহোল্ডারগণ সাধারণত কোম্পানীর জন্য একজন ঋণপ্রদানকারী হিসেবে কাজ করেন। এক্ষেত্রে তারা কোম্পানীর মালিকানা পান না, বরং বন্ড ক্রয় করার মাধ্যমে তারা মাসিক বা বার্ষিক চুক্তিতে নির্দিষ্ট হারে সুদ পেয়ে থাকেন। আবার কোম্পানী দেউলিয়া হয়ে গেলে কোম্পানীর সম্পদ বিক্রয় করে সর্বপ্রথম বন্ডহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেয়া হয়।

তাই সকল দিক বিবেচনা করে শেয়ারের তুলনায় বন্ডে বিনিয়োগ করা অনেক নিরাপদ মনে করা হয়। আবার এই কারণেই শেয়ারের তুলনায় বন্ড থেকে রিটার্ন কম পাওয়া যায়।

বন্ডে বিনিয়োগ করার সুবিধা

ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপার্টরা নিজের সকল টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ না করে একটি নির্দিষ্ট অংশ বন্ডে বিনিয়োগ করার জন্য সাজেস্ট করে থাকেন। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

১। অনিশ্চয়তা কম

বন্ডহোল্ডারগণ তাদের বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে সুদ পেয়ে থাকেন। কোম্পানীর লাভ হোক বা না হোক, তারা এই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য। তাই বন্ডের রিটার্নকে অনেক নিরাপদ মনে করা হয়।

২। বৈচিত্রতা

শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চাইলে আপনি শুধু দুটি অপশন পাবেন, সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার। অপরদিকে, বাজারে অনেক ধরণের বন্ড দেখতে পাওয়া যায়। আবার একেক ধরণের বন্ডের মেয়াদ একেক রকম। তাই বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো ধরণের বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন।

৩। কোম্পানীর অবসান

দেউলিয়া হওয়ার কারণে কোম্পানীর অবসানের প্রয়োজন হলে সর্বপ্রথম বন্ডহোল্ডারদের টাকা ফেরত দিতে হয়। বন্ডহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেয়ার পর যদি টাকা থাকে, তাহলে শেয়ারহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেয়া হয়।

বন্ডে বিনিয়োগ করার অসুবিধা

এতোগুলো সুবিধার পাশাপাশি বন্ডে বিনিয়োগ করার কিছু অসুবিধা’ও রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে’ও আগে থেকে জেনে নেয়া প্রয়োজন।

১। কম রিটার্ন

বন্ডে বিনিয়োগ করার ঝুকিঁ অনেক কম। তবে এই কারণে বন্ডের বিপরীতে রিটার্ন’ও অনেক কম পাওয়া যায়। কোম্পানী অনেক ভালো করলেও বন্ডহোল্ডাররা সেই নির্দিষ্ট হারেই সুদ পেয়ে থাকেন।

২। সার্বজনীন নয়

প্রাইমারি মার্কেট থেকে সাধারণ মানুষজন বন্ড ক্রয় করতে পারেন না, আর পারলেও তার পরিমাণ খুবই কম। সরকার থেকে বন্ড মার্কেটকে রেগুলেট করার জন্য অনেক নিয়ম-কানুন দেয়া থাকে, যার কারণে অনেক ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে তারপর অল্পকিছু মানুষই বন্ডের অ্যাক্সেস পান।

৩। সুদের হারের ঝুকিঁ

কোনো কারণে অর্থনীতির সার্বিক সুদের হার কমে গেলে বন্ডহোল্ডারদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এতে কোম্পানী বা বন্ডহোল্ডার, কারোই কিছু করার থাকে না।

পরিসংহার

আশা করি যে, বন্ড মার্কেট ও বিভিন্ন প্রকারের বন্ড সম্পর্কে আপনাকে একটি ভালো ধারণা দিতে পেরেছি। সেই সাথে আমরা বন্ডে মার্কেটে বিনিয়োগ করার একটি ভালো গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করেছি। বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগুলো আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে। তবে মার্কেটে বিনিয়োগ করার সময় সর্বদা’ই নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও মার্কেটের পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সহিত দেখার চেষ্টা করবেন।

  • https://www.investopedia.com/ask/answers/071415/what-difference-between-equity-market-and-fixed-income-market.asp
  • https://investor.vanguard.com/investor-resources-education/understanding-investment-types/what-are-fixed-income-or-bond-funds
  • https://www.schroders.com/en-au/au/adviser/resources/understanding-fixed-income-bonds/
  • https://www.rbcgam.com/en/ca/learn-plan/investment-strategies/understanding-the-bond-market/detail
  • https://www.thedailystar.net/business/economy/news/bond-market-investment-tips-beginners-3315711
  • https://europe.pimco.com/en-eu/resources/education/everything-you-need-to-know-about-bonds
Next to read
Canvas & Methods
মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট (Minimum Viable Product)
মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট (Minimum Viable Product)

অধিক শ্রম ও অর্থ খরচের এই ঝুঁকি এড়াতে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ধরনের বিজনেস স্ট্র‍্যাটেজি যেখানে পণ্য প্রয়োজনীয় কিছু ফিচার দিয়ে বাজারজাত করা হয়। পরবর্তীতে গ্রাহকদের চাহিদা পর্যালোচনা করে ধীরে ধীরে এই পণ্যের উন্নয়ন করা হয় এবং নতুন নতুন উপাদান/ফিচার যুক্ত করা হয়। ব্যবসায়িক জগতে একে বলা হয় মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট।

সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)
Canvas & Methods
সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)
লিন ক্যানভাস মডেল (Lean Canvas Model)
Canvas & Methods
লিন ক্যানভাস মডেল (Lean Canvas Model)
কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ (Customer Exploration Map)
Canvas & Methods
কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ (Customer Exploration Map)
বেইট এন্ড হুক মডেল  (Bait & Hook Model)
Business Models
বেইট এন্ড হুক মডেল (Bait & Hook Model)
সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)
Marketing
সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)
মোট মুনাফা (Gross profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং উদাহরণ
Business
মোট মুনাফা (Gross profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং উদাহরণ
হোরেকা (HORECA)
Business
হোরেকা (HORECA)
ইক্যুইটির সংজ্ঞা এবং অর্থ
Business
ইক্যুইটির সংজ্ঞা এবং অর্থ
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
Sales
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?