Derivatives: Manage Your Risk

ডিরাইভেটিভস হচ্ছে এক ধরণের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্র্যাক্ট, যার মাধ্যমে দুটি পক্ষ নিজেদের মাঝে নিজের আর্থিক ঝুকিঁ বিনিময় করার চুক্তি করেন। এই ধরণের চুক্তি সাধারণত নিজস্ব কোনো মূল্য থাকে না, বরং, যেই সিকিউরিটির উপর চুক্তি করা হচ্ছে, তার মূল্যের উপর নির্ভর করে এই চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ডিরাইভেটিভস মার্কেটে সাধারণত ৪ ধরণের ডিরাইভেটিভ দেখা যায় - অপশনস, ফিউচারস, ফরওয়ার্ডস ও সোয়াপস।
Key Points
- ডিরাইভেটিভ হচ্ছে এমন একটি ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্র্যাক্ট, যার মূল্য অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ বা সিকিউরিটির উপর নির্ভর করে।
- এই কন্ট্র্যাক্টের টার্মগুলো অনেক জটিল হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এগুলো এড়িয়ে চলেন এবং প্রফেশনাল বিনিয়োগকারীরা’ই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে ডিরাইভেটিভের ব্যবহার করেন।
- আমেরিকান মার্কেটে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে অপশনস ব্যবহার করা যায়। আবার ইউরোপিয়ান মার্কেটে শুধু নির্দিষ্ট সময় পরেও অপশনস ব্যবহার করা যায়।
- আপনি একজন প্রফেশনাল না হয়ে থাকেন তাহলে ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ না করাই উত্তম।
ভূমিকা
বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে তাদের বিনিয়োগের সাথে জড়িত ঝুকিঁ। সাধারণত এই ঝুকিঁ হ্রাস করার জন্য অনেক ক্যালকুলেশন ও সিস্টেম ফলো করা হলেও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা সর্বদাই থেকে যায়। তাই যারা ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে বেশ অ্যাক্টিভ ও আরো বেশি নিশ্চয়তার আশা করেন, তারা অন্যদের সাথে চুক্তি করার মাধ্যমে নিজেদের ঝুকিঁ অন্যদের কাছে ট্রান্সফার করার চেষ্টা করেন। ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের ভাষায় এই চুক্তিকে ডিরাইভেটিভস বলা হয়। আজ আমরা ডিরাইভেটিভস মার্কেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো এবং জানাবো যে ডিরাইভেটিভস মার্কেটে আপনার প্রবেশ করা উচিত হবে কি না।
ডিরাইভেটিভ কী?
ডিরাইভেটিভ হচ্ছে এমন একটি ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্র্যাক্ট, যার মূল্য অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ বা সিকিউরিটির উপর নির্ভর করে। এই কন্ট্র্যাক্ট সাধারণত দুইটি পার্টির ভেতর করা হয়। যেই সম্পদের উপর কন্ট্র্যাক্ট করা হচ্ছে তার মূল্যের ওঠানামার উপর নির্ভর করে ডিরাইভেটিভের মূল্য ঠিক করা হয়। মূলত ডিরাইভেটিভের কাজ হচ্ছে বিনিয়োগের ঝুকিঁ কমানো।
এই কন্ট্র্যাক্টের টার্মগুলো অনেক জটিল হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এগুলো এড়িয়ে চলেন এবং প্রফেশনাল বিনিয়োগকারীরা’ই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে ডিরাইভেটিভের ব্যবহার করেন। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা’ও চাইলে ওভার-দ্য-কাউন্টার মার্কেটে নিজেদের মাঝে ডিরাইভেটিভের লেনদেন করতে পারেন। সাধারণত স্টক, বন্ড, ফরেন কারেন্সি ইত্যাদির জন্য ডিরাইভেটিভ কন্ট্র্যাক্ট করা হয়।
ডিরাইভেটিভের প্রকারভেদ
ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে মূলত ৪ প্রকারের ডিরাইভেটিভের দেখা পাওয়া যায়। তবে অঞ্চলভেদে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোতে আরো অনেক ধরণের ডিরাইভেটিভ পাওয়া যায়।
১। অপশনস
এই কন্ট্র্যাক্টের মাধ্যমে যিনি ডিরাইভেটিভের ক্রেতা, তাকে অধিকার দেয়া হয়, যাতে করে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সিকিউরিটি, নির্দিষ্ট মূল্যে, নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বা নির্দিষ্ট সময়ের পরে ক্রয় করতে পারেন। লক্ষ্য করুন যে, এখানে তাকে সিকিউরিটি ক্রয়ের অধিকার দেয়া হয়েছে, তবে এটি ক্রয় করতে তিনি বাধ্য নন। ভবিষ্যতে যদি তিনি মনে করেন যে সিকিউরিটি ক্রয় করা ভালো সিদ্ধান্ত হবে না, তাহলে তিনি এই কন্ট্র্যাক্ট এড়িয়ে যেতে পারেন। যেই প্রাইসে সিকিউরিটি ক্রয় করা হয়, তাকে স্ট্রাইক প্রাইস বলা হয়।
অপশনস কন্ট্র্যাক্টের কার্যকাল দুনিয়ার একেক জায়গায় একেক রকম। যেমন, আমেরিকান মার্কেটে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে অপশনস ব্যবহার করা যায়। আবার ইউরোপিয়ান মার্কেটে শুধু নির্দিষ্ট সময় পরেও অপশনস ব্যবহার করা যায়।
২। ফিউচারস
এই কন্ট্র্যাক্টের মাধ্যমে যিনি ডিরাইভেটিভের ক্রেতা, তাকে অধিকার দেয়া হয়, যাতে করে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সিকিউরিটি, নির্দিষ্ট মূল্যে, নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বা নির্দিষ্ট সময়ের পরে ক্রয় করতে পারেন। তবে অপশনসের সাথে ফিউচারসের পার্থক্য হচ্ছে এই জায়গায় যে ফিউচারসের ক্ষেত্রে ক্রেতা সেই সিকিউরিটি ক্রয় করতে বাধ্য থাকেন। অর্থাৎ, অপশনসের মতো, ইচ্ছা করলে ক্রয় করলাম, না করলে করলাম না, এরকম নয়।
অপশনসের চাইতে ফিউচারস বেশি লিক্যুইড হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দ্বারা এই কন্ট্র্যাক্ট অনেক বেশি রেগুলেটেড থাকে।
৩। ফরওয়ার্ডস
এই কন্ট্র্যাক্টের মাধ্যমে যিনি ডিরাইভেটিভের ক্রেতা, তাকে অধিকার দেয়া হয়, যাতে করে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সিকিউরিটি, নির্দিষ্ট মূল্যে, নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বা নির্দিষ্ট সময়ের পরে ক্রয় করতে পারেন। তবে ফিউচারসের সাথে ফরওয়ার্ডসের পার্থক্য এখানে যে, ফরওয়ার্ড সবসময় ওভার-দ্য-কাউন্টার মার্কেটে লেনদেন করা হয়। অর্থাৎ, এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের ফরওয়ার্ডের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই এই কন্ট্র্যাক্টের সাথে সাধারণত কোনো অফিশিয়াল রেগুলেশন থাকে না। কন্ট্র্যাক্টের দুই পার্টি নিজেদের মাঝে আলোচনা করে এই কন্ট্র্যাক্টের টার্মস এন্ড কন্ডিশনস ঠিক করে নেন।
আবার এই কন্ট্র্যাক্টের যেহেতু কোনো স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম-কানুন নেই, তাই কন্ট্র্যাক্টের দুই পার্টি চাইলেই নিজেদের সুবিধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই কন্ট্র্যাক্টকে কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। যা বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেক বেশি নমনীয়তা এনে দেয়।
৪। সোয়াপস
সোয়াপস হচ্ছে দুইটি পার্টির মাঝে একটি ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্র্যাক্ট, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি অথবা ক্যাশ-ফ্লো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিময় করতে রাজি হয়ে থাকে। মনে করুন, আপনার বন্ধুর কিছু বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে এবং আপনার কিছু স্টকে বিনিয়োগ করা আছে। এখন আপনারা সোয়াপস ব্যবহার করে এই চুক্তি করতে পারবেন যে বন্ড থেকে আসা ক্যাশ-ফ্লো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনি পাবেন এবং স্টক থেকে আসা ক্যাশ-ফ্লো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনার বন্ধু পাবে।
সাধারণত সুদের হারের ক্ষেত্রে এই কন্ট্র্যাক্ট ব্যবহার করা হয়। এই কন্ট্র্যাক্ট ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীরা সুদের হারের ঝুকিঁ হ্রাস করে থাকেন।
ডিরাইভেটিভ মার্কেট কীভাবে কাজ করে?
বেশিরভাগ ডিরাইভেটিভ সাধারণত ওভার-দ্য-কাউন্টার মার্কেটে দুইটি পার্টির মাঝে লেনদেন করা হয়, যেমন - বিনিয়োগকারী ও ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজারস, কোম্পানী ও সরকার। তারা নিজেদের মাঝে আলোচনা করে ডিরাইভেটিভসের টার্মস এন্ড কন্ডিশনস ঠিক করে নেন।
তবে অপশনস ও ফিউচারসের মতো কিছু স্পেশালাইজড ডিরাইভেটিভ ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। যেখানে ডিরাইভেটিভের লেনদেন করা হয় তাকে সাধারণত ডিরাইভেটিভস মার্কেট বলা হয়। ডিরাইভেটিভস মার্কেটে সাধারণত ৪ ধরণের অংশগ্রহণকারীর দেখা পাওয়া যায়।
১। Hedgers
হেজারসরা সাধারণত ডিরাইভেটিভের ব্যবহার করে নিজেদের ঝুকিঁ কমানোর চেষ্টা করে থাকেন। উদাহরণস্বরুপ, একজন বন্ডহোল্ডার নিজেকে সুদের হারের ঝুকিঁ থেকে রক্ষা করার জন্য সোয়াপস ব্যবহার করতে পারেন। এখানে সেই বন্ডহোল্ডার একজন হেজার। আর ডিরাইভেটিভের ব্যবহার করে ঝুকিঁ কমানোর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় হেজিং।
২। Speculators
ফিউচারে কোনো সিকিউরিটির মূল্য বৃদ্ধি পাবে বা সুদের হার বৃদ্ধি পাবে, এমন ইনফরমেশন জেনে বা প্রেডিক্ট করতে পেরে কেউ যদি আগে থেকেই সেই সিকিউরিটির ডিরাইভেটিভে বিনিয়োগ করে রাখেন, তাহলে তাকে স্পেকুলেটর বলা হয়। আর এই কাজকে বলা স্পেকুলেশন। ডিরাইভেটিভসের মার্কেট চলেই পুরোটা স্পেকুলেশন দ্বারা। কারণ, ডিরাইভেটিভসের সাহায্য যেহেতু ঝুকিঁ বিনিময় করা হয়, তাই কারো যদি মনে হয় যে এই সিকিউরিটির মূল্য কখনোই বৃদ্ধি পাবে না, তাহলে তো উনি আর সেই সিকিউরিটির ডিরাইভেটিভসে বিনিয়োগ করবেন না।
তবে অন্যান্য ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের তুলনায় ডিরাইভেটিস মার্কেট যেহেতু অনেক কম নিয়ন্ত্রিত, তাই এখানে স্পেকুলেশন অনেক বেশি ঝুকিঁপূর্ণ।
৩। Arbitrageurs
আরবিট্রেজাররা মূলত একই পণ্যের দুই স্থানে দামের পার্থক্যের সুবিধা নিয়ে থাকেন। ধরুন, গোল্ড ফিউচারসের দাম আসল গোল্ডের থেকে বেশি হয়ে গেল। এইক্ষেত্রে আরবিট্রেজাররা গোল্ড ফিউচারস বিক্রয় করে, সেই টাকা দিয়ে গোল্ড ক্রয় করে এবং ফিউচারসের স্থানে গোল্ড দিয়ে দেয়। অর্থাৎ, এখানে কোনো রকম ঝুকিঁ না নিয়ে তিনি মুনাফা করে ফেললেন।
এই ধরণের সুযোগ মার্কেটে খুব সময়ের জন্য তৈরি হয় এবং মুনাফা করতে চাইলে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।
৪। Margin traders
মার্জিন ট্রেডাররা মূলত ব্রোকার বা এক্সচেঞ্জে কিছু পরিমাণ টাকা জমা রেখে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সেই অর্থ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগ থেকে আসা রিটার্নের একটি অংশ এখানে ঋণপ্রদানকারীকে দিয়ে দিতে হয়। বাকি অংশ মার্জিন ট্রেডারের লাভ।
ডিরাইভেটিভসে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন?
ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ করা সাধারণ ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে বিনিয়োগ করার চাইতে অনেক বেশি ঝুকিঁপূর্ণ, তাই যদি আপনি একজন প্রফেশনাল না হয়ে থাকেন তাহলে ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ না করাই উত্তম। আর যদি বিনিয়োগ করতেও চান, তাহলে আপনার পোর্টফোলিও’র খুব বড় অংশ ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ করা উচিত হবে না। অর্থাৎ, গতানুগতিক বিনিয়োগের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে কখনো ডিরাইভেটিভসের ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং, গতানুগতিক বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখার জন্য যতোটুকু প্রয়োজন, ততোটুকুই ডিরাইভেটিভসে বিনিয়োগ করা উচিত।
ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
১। জ্ঞান অর্জন
ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য আপনাকে এই মার্কেট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ধারণা অর্জন করে নিতে হবে। আপনার বর্তমানে কোন কোন সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ আছে এবং সেগুলোর সাথে কি পরিমাণ ঝুকিঁ জড়িত, তা সম্পর্কেও আপনার ভালো ধারণা থাকা চাই।
২। ঝুকিঁ পরিমাপ
ডিরাইভেটিভসের ব্যবহার করে আপনি খুব অল্প টাকা খুব বড় পজিশন হোল্ড করতে পারবেন। তবে এতে ঝুকিঁর পরিমাণও অনেক বেশি থাকে। তাই আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে যে আপনি কি পরিমাণ ঝুকিঁ নিতে প্রস্তুত।
৩। ব্রোকার সিলেক্ট করা
সকল ব্রোকার ডিরাইভেটিভসের সার্ভিস প্রদান করে না। তাই ডিরাইভেটিভসের সার্ভিস প্রদান করে এবং কাস্টমার রিভিউ ভালো এমন একটি ব্রোকার হাউস সিলেক্ট করতে হবে।
৪। স্পেসিফিক ডিরাইভেটিভ সম্পর্কে ধারণা নেয়া
এখন আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে যে আপনি আসলে কোন ধরণের ডিরাইভেটিভ ক্রয় করতে চাইছেন। ধরুন, আপনি অপশনস ক্রয় করতে চাইছেন। তাহলে আপনাকে অপশনসের সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয়, যেমন - কল অপশনস, পুট অপশনস, মেয়াদ ও স্ট্রাইক প্রাইস সম্পর্কে জানতে হবে।
৫। অল্প থেকে শুরু করা
শুরুতেই অনেক টাকা বিনিয়োগ না করে বরং অল্প টাকা দিয়ে শুরু করুন। দেখুন, ডিরাইভেটিভস দিয়ে আপনার আদৌ লাভ হচ্ছে কি না। যদি হয়, তাহলে পরবর্তীতে আরো টাকা বিনিয়োগ করলেন। কারণ, ডিরাইভেটিভস সাধারণত সব ধরণের বিনিয়োগকারীর কাজে আসে না।
৬। সজাগ থাকা
ডিরাইভেটিভস মার্কেট অনেক ধরণের ফ্যাক্টর যেমন - ইকোনমিক কন্ডিশন, পলিটিকাল ইভেন্ট, মার্কেট সেন্টিমেন্ট ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। তাই আপনাকে এসব ফ্যাক্টর সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।
৭। বৈচিত্রায়ন
নিজের সকল অর্থ এক ধরণের ডিরাইভেটিভে বিনিয়োগ না করে বরং পোর্টফোলিও তৈরি করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার ঝুকিঁ অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারবেন।
৮। প্রফেশনাল এডভাইস
যদি দেখেন যে ডিরাইভেটিভস দিয়ে আপনার লাভ হচ্ছে, তাহলেই অনেক টাকা বিনিয়োগ করে ফেলবেন না। কারণ বেশি বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা’ও বেশি থাকে। তাই চেষ্টা করুন বড় অংক বিনিয়োগ করার প্রফেশনাল এডভাইস নিতে।
ডিরাইভেটিভসে বিনিয়োগ করার সুবিধা
ডিরাইভেটিভস মার্কেটে বিনিয়োগ করার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে।
১। ডিরাইভেটিভসে বিনিয়োগ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে ঝুকিঁ অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।
২। অল্প টাকা ব্যবহার করে মার্কেটে বেশ বড় পজিশন হোল্ড করা যায়।
৩। ওভার-দ্য-কাউন্টার মার্কেটে ট্রেড হওয়া ডিরাইভেটিভসগুলো নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে নেয়া যায়।
৪। ডিরাইভেটিভসের ব্যবহার করে মার্কেটের প্রাইস ডিফারেন্সের সুবিধা নেয়া যায়।
৫। স্পেকুলেশনের সাহায্যে মার্কেটের ভালো-খারাপ অবস্থার সুবিধা গ্রহণ করা যায়।
ডিরাইভেটিভসে বিনিয়োগ করার অসুবিধা
সুবিধার পাশাপাশি ডিরাইভেটিভস মার্কেটের বেশ কিছু অসুবিধা’ও রয়েছে।
১। যেই সিকিউরিটির উপর ডিরাইভেটিভ কন্ট্র্যাক্ট করা হচ্ছে, তার মূল্যের অল্প ওঠা-নামা হলেই অনেক বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২। সাধারণ সিকিউরিটির তুলনায় ডিরাইভেটিস কন্ট্র্যাক্ট অনেক বেশি জটিল।
৩। দুই পার্টির মাঝে যেকোনো এক পার্টি যদি দেউলিয়া হয়ে যায় বা অবলিগেশন ফুলফিল না করতে পারে তাহলে উভয়েরই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪। অন্যান্য সিকিউরিটির তুলনায় ডিরাইভেটিভস মার্কেটের কন্ডিশন দ্বারা অনে বেশি প্রভাবিত হয়।
৫। কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ সীমিত থাকায় এই মার্কেটের অনেক বেশি স্বচ্ছতার অভাব থাকে।
পরিসংহার
ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট মানেই তার সাথে ঝুকিঁ জড়িত থাকবে। তবে ঝুকিঁ হ্রাস করার জন্য অনেকে ডিরাইভেটিভসের ব্যবহার করেন। আবার অনেকে ডিরাইভেটিভস সম্পর্কে ভালো করে না জেনেই বিপুল টাকা এখানে বিনিয়োগ করে ফেলেন, যার কারণে আবার বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই একেবারে এক্সপার্ট না হওয়া পর্যন্ত এই মার্কেটে বিনিয়োগ না করাই উত্তম।
- https://www.investopedia.com/terms/d/derivative.asp
- https://corporatefinanceinstitute.com/resources/derivatives/derivatives/
- https://cleartax.in/s/financial-derivatives
- https://www.forbes.com/advisor/investing/derivatives/
- https://www.halkbank.com.tr/en/about-halkbank/discover/what-are-financial-derivatives.html
Next to read
অ্যাড অন মডেল (Add On Model)


ফ্রিমিয়াম মডেল (Freemium Model)

বেইট এন্ড হুক মডেল (Bait & Hook Model)

সাবস্ক্রিপশন মডেল (Subscription Model)

সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)

Needs, Wants, Demands (প্রয়োজন, চাওয়া এবং চাহিদা)

লোগোর প্রকারভেদ (Types of Logos)

লোগোর উদাহরন (Example of Logos)

মোট মুনাফা (Gross profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং উদাহরণ
