Stock Market : An Investor’s Guide

501
article image

স্টক মার্কেট থেকে যেকোনো কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করা’ই হচ্ছে ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট। কোম্পানীর শেয়ার হচ্ছে এখানে একটি পণ্য এবং কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করার মাধ্যমে আপনি যেই ইক্যুইটি পাচ্ছেন সেটি হচ্ছে আপনার বিনিয়োগ। ইক্যুইটিতে ইনভেস্ট করলে আপনি বার্ষিক ডিভিডেন্ড পেতে পারেন, আবার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে আপনি সেই শেয়ার বিক্রয় করে ক্যাপিটাল গেইন পেতে পারেন। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কোনো তালিকাভুক্ত ব্রোকারের কাছে গিয়ে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

Key Points

  • স্টক মার্কেট বলতে এমন একটি মার্কেট বোঝানো হয়, যেখানে বিভিন্ন পাবলিক কোম্পানীর স্টক বা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।
  • কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার বা ইক্যুইটিহোল্ডার হওয়ার জন্য আপনি যেই পণ্যটি ক্রয় করছেন, সেটিই হচ্ছে ঐ কোম্পানীর স্টক বা শেয়ার।
  • প্রাইভেট কোম্পানীর পাবলিক কোম্পানীতে রুপান্তরিত হওয়ার জন্য স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে হয় এবং আইপিও লঞ্চ করতে হয়।
  • অনেক দেশেই শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্স বেনেফিট পাওয়া যায়। বাংলাদেশে’ও শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে কর মওকুফ করা হয়।

ভূমিকা

নিজের ফাইন্যান্সিয়াল ফিউচার সিকিউর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। নিজের কষ্টার্জিত টাকা বালিশের নিচে রেখে দিলে তা শুধু মুদ্রাস্ফীতির কাছে নিজের মান হারাবে। অপরদিকে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত আয় করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সেখান থেকে ক্যাপিটাল গেইন’ও পাওয়া যায়। বিনিয়োগ করার জন্য বেশ ভালো একটি ক্ষেত্র হতে পারে শেয়ার মার্কেট।

তবে শুধু নিজের সঞ্চিত অর্থ বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত আয় করার লোভে শেয়ার মার্কেটে ঝাপিয়ে পরা উচিত নয়। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার আগে আপনাকে অবশ্যই এই বিনিয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। তাই আজকের লেখায় আমরা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো।

স্টক মার্কেট কী?

স্টক মার্কেট বলতে এমন একটি মার্কেট বোঝানো হয়, যেখানে বিভিন্ন পাবলিক কোম্পানীর স্টক বা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। স্টক মার্কেট যেকোনো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এরিয়াগুলোর মাঝে একটি। স্টক মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা স্টক ক্রয় করার মাধ্যমে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন, আবার বিনিয়োগ প্রত্যাশীগণ এখানে কোম্পানীর শেয়ার বিক্রয় করার মাধ্যমে বিনিয়োগ গ্রহণ করতে পারেন।

স্টক মার্কেট ও ইক্যুইটি মার্কেটের মাঝে পার্থক্য কী?

স্টক মার্কেট ও ইক্যুইটি মার্কেট, এই দুটি হচ্ছে সমার্থক শব্দ। বাস্তব দুনিয়ায় এই দুটির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। দুটি শব্দ দ্বারাই এমন একটি মার্কেট বোঝানো হয়, যেখানে বিভিন্ন পাবলিক কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা হয়। কোনো কোম্পানীর একটি নির্দিষ্ট পরিমান স্টক ক্রয় করলে ঐ কোম্পানীর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইক্যুইটি পাওয়া যায়। অর্থাৎ, কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার বা ইক্যুইটিহোল্ডার হওয়ার জন্য আপনি যেই পণ্যটি ক্রয় করছেন, সেটিই হচ্ছে ঐ কোম্পানীর স্টক বা শেয়ার।

স্টক মার্কেট কীভাবে কাজ করে?

স্টক মার্কেট হচ্ছে শেয়ার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলনমেলা। স্টক মার্কেটে সাধারণত দুইধরণের কোম্পানীর স্টকের লেনদেন করা হয়, পাবলিক ও প্রাইভেট। পাবলিক কোম্পানীগুলো স্টক মার্কেটে লিস্টেড হয়ে থাকে এবং ব্রোকারদের দ্বারা এগুলোর লেনদেন হয়ে থাকে। অন্যদিকে, প্রাইভেট কোম্পানী স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত থাকে না। তাই এগুলো প্রাইভেট ডিলার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।

কোনো কোম্পানী যখন যাত্রা শুরু করে, তখন তারা কোম্পানী আঈনের অধীনে প্রাইভেট কোম্পানী হিসেবে যাত্রা শুরু করে। প্রাইভেট কোম্পানী হিসেবে তারা প্রাইভেট ডিলার দ্বারা স্টক মার্কেটে নিজেদের শেয়ার বিক্রয় করতে পারে, তবে এটি সাধারণত অফিশিয়াল হয় না এবং এতে ঝুকিঁ থাকে বেশি।

অপরদিকে, প্রাইভেট কোম্পানীর পাবলিক কোম্পানীতে রুপান্তরিত হওয়ার জন্য স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে হয় এবং আইপিও লঞ্চ করতে হয়। এই আইপিও লঞ্চ করার কাজ সাধারণত ব্রোকারদের দ্বারা করা হয়। আইপিও লঞ্চ করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেই স্টক বা শেয়ার ক্রয় করতে পারে। এই স্টক বিক্রয় থেকে ব্রোকাররা নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে থাকে। আর পরবর্তীতে কোম্পানী মুনাফা করলে সেই মুনাফার অংশ থেকে কোম্পানী তার শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দিয়ে থাকে।

স্টকের প্রকারভেদ

স্টক মার্কেটে সাধারণত দুই ধরণের স্টকের দেখা পাওয়া যায়।

১। কমন স্টক বা সাধারণ শেয়ার

সাধারণত স্টক বলতে আমরা যা বুঝি তা’ই হচ্ছে কমন স্টক। কমন স্টক ক্রয় করার মাধ্যমে আপনি কোনো কোম্পানীর নির্দিষ্ট পরিমাণ মালিকানা পেয়ে যাবেন। কমন স্টকের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো -

  • কমন স্টকে আপনি কোম্পানীতে ভোট দেয়ার অধিকার পাবেন।
  • কোম্পানী আপনাকে বার্ষিক ডিভিডেন্ড দিবে। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো রেইট নেই।
  • কোম্পানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় আপনি সবার শেষে টাকা পাবেন। অর্থাৎ, অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডার ও বন্ডহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেয়ার পর যদি টাকা থাকে, তাহলেই আপনি টাকা পাবেন।
  • আপনার দায় শুধু আপনার বিনিয়োগকৃত অ্যামাউন্ট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

২। প্রিফার্ড স্টক বা অগ্রাধিকার শেয়ার

অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করার মাধ্যমে’ও আপনি কোম্পানীর মালিকানা পেতে পারেন। তবে সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ারের মাঝে কিছু বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য রয়েছে।

  • অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করলে আপনি কোম্পানীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ভোট দিতে পারবেন না।
  • অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানী আপনাকে নির্দিষ্ট হারে বার্ষিক ডিভিডেন্ড দিবে।
  • কোম্পানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় আপনাকে সর্বপ্রথম শেয়ারের টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে তা অবশ্যই বন্ডহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেয়ার পরে।
  • আপনার দায় শুধু আপনার বিনিয়োগকৃত অ্যামাউন্ট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

কীভাবে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন?

শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করে প্যাসিভ ইনকাম করা বেশ লোভনীয় ব্যাপার। তবে কাজটা কিন্তু এতো সহজ নয়। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু ধাপ পার হয়ে তারপর বিনিয়োগের কথা ভাবতে হবে।

১। আগে বুঝুন মার্কেট কিভাবে কাজ করে

সাধারণ চোখে শেয়ার মার্কেট অন্যসব সাধারণ মার্কেটের মতোই সাপ্লাই ও ডিমান্ডের সূত্র মেনে চলে। তবে এখানে ভালো করতে চাইলে আপনাকে আরো কিছু ফ্যাক্টরের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। নইলে শেয়ার মার্কেটের যাত্রা বেশ সংক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে।

আপনাকে প্রথমেই শেয়ারের প্রাইস মুভমেন্ট, মার্কেটের অস্থিতিশীলতা ও বিভিন্ন ধরণের শেয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে নিতে হবে। এরপর আপনাকে বিয়ার ও বুল মার্কেট সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। একেক ধরণের মার্কেটে একেক ধরণের স্ট্র্যাটেজি কাজ করে। তাই বিস্তারিত জ্ঞান ছাড়া শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা উচিত না।

শুধু কোম্পানীর গ্রোথ পটেনশিয়াল দেখেই শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা উচিত না। কারণ মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি যদি খারাপ থাকে, তাহলে সম্ভাবনা আছে যে আপনার কোম্পানীর শেয়ারের প্রাইস’ও বিশেষ একটি বৃদ্ধি পাবে না।

২। শেয়ারের মূল্য কিভাবে বৃদ্ধি ও হ্রাস পায়

শেয়ারের ট্রেডিং মূলত শেয়ারের মূল্যের তারতম্যের সুবিধা নেয়া মাত্র। তাই আপনাকে ভালো করে বুঝতে হবে যে কি কি কারণে শেয়ারের প্রাইস বাড়তে বা কমে যেতে পারে।

শেয়ার মার্কেটে একবার তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন কারণে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে। কোম্পানীর পারফরম্যান্স, মার্কেটের পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, সুদের হার ইত্যাদি, এগুলো হচ্ছে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার কিছু মূল কারণ।

উপরিউক্ত কারণগুলো দেখে যখন মনে হবে যে কোম্পানীর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, তখন অনেকেই এই শেয়ার ক্রয় করতে আগ্রহী হবেন। ডিমান্ড বেশি থাকায় শেয়ারের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে। আবার এর অপজিট হলে শেয়ারের দাম রাতারাতি অনেক কমে’ও যেতে পারে। তাই সবগুলো ফ্যাক্টর কনসিডার করেই আপনাকে মার্কেটে আসতে হবে।

৩। ট্রেডিং প্ল্যান

শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার পেছনে আপনার উদ্দেশ্য কী, আপনি কি পরিমাণ রিটার্ন আশা করছেন, আপনি কোন স্টাইলে শেয়ারের ট্রেডিং করবেন, কি পরিমাণ ঝুকিঁ নিবেন, এই সবগুলো বিষয় আপনার ট্রেডিং প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট ট্রেডিং প্ল্যান ছাড়া শেয়ার মার্কেটে চলে আসলে পাল ছাড়া নৌকার মতো মাঝ সমুদ্রে আপনার হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই কারণে ট্রেডিং প্ল্যান তৈরি করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি শর্ট-সেলিং করতে চান, তাহলে আপনাকে এমন সব শেয়ার ক্রয় করতে হবে যেগুলো প্রাইস বর্তমানে কম, কিন্তু কয়েকদিনের মাঝে বৃদ্ধি পাবে। শেয়ারের প্রাইস বৃদ্ধি পেলে আপনি সেখান থেকে মুনাফা করতে পারবেন। আবার যদি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে আপনাকে এমন কিছু কোম্পানী সিলেক্ট করতে হবে যারা বেশ স্টেবল এবং নিকট ভবিষ্যতে এদের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই সবকিছুই আপনার ট্রেডিং প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত।

৪। ট্রেডিং-এর কমিশন

আপনি যখন কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করতে চাইবেন, আপনি সেটি নিজে নিজেই ক্রয় করতে পারবেন না। এটি করতে আপনাকে স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টেড ব্রোকারদের সাহায্য নিতে হবে। আপনি কোন কোম্পানীর কি পরিমাণ শেয়ার ক্রয় করতে চাইছেন, তা আপনার ব্রোকারকে আগে জানাতে হবে। তারপর আপনার ব্রোকারের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে। ব্রোকার সেই টাকা ব্যবহার করে আপনার নামে শেয়ার ক্রয় করে দিবে এবং এর বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন চার্জ করবে।

তাই শুধু বিনিয়োগের টাকা নিয়ে শেয়ার মার্কেট প্রবেশ করা যাবে না। আপনাকে অবশ্যই ব্রোকারের কমিশনের কথা’ও কনসিডার করতে হবে।

৫। অ্যাকাউন্ট খোলা

শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করার পর আপনাকে যেকোনো ব্রোকারের কাছে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এই অ্যাকাউন্টকে বিও অ্যাকাউন্ট বলা হয়। ব্রোকার সিলেকশনের সময় অবশ্যই তাদের সুনাম ও সার্ভিসের কথা বিবেচনায় রাখবেন। কোনো ব্রোকার অনেক কম পরিমাণ কমিশন চার্জ করে, শুধু এই লোভে পরেই অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত নয়।

অ্যাকাউন্ট ওপেন করার জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ব্রোকারের কাছে যেতে হবে এবং কিছু পরিমাণ ইনিশিয়াল ডিপোজিট করতে হবে। কিছু ব্রোকার অ্যাকাউন্ট ওপেনিং-এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি নিয়ে থাকে।

শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা গ্রহণ ও ব্রোকারের কাছে অ্যাকাউন্ট খোলার পর আপনি শেয়ারের ট্রেডিং শুরু করতে পারবেন। আপনি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করতে চাইলে আপনার ব্রোকারকে জানাবেন, তারা আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করে উক্ত শেয়ার ক্রয় করে দিবে। আবার শেয়ার বিক্রয় করার প্রসেস’ও একই।

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার সুবিধা

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার পেছনে বিনিয়োগকারীদের বেশ কিছু ইনসেন্টিভ রয়েছে। যেমন -

১। রিওয়ার্ড

এমন কোম্পানী, যার ভবিষ্যতে বেশ ভালো পরিমাণ গ্রোথ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলোর স্টক ক্রয় করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে অনেক বড় অ্যামাউন্টের রিওয়ার্ড পেতে পারে। তবে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করলেই ধনী হয়ে যাওয়া যায় না, এখানে প্রচুর ধৈর্য্য ও সময়ের প্রয়োজন হয়।

২। ডিভিডেন্ড

প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলো নিজেদের শেয়ারহোল্ডারদের খুশি রাখার জন্য বার্ষিক ডিভিডেন্ড অফার করে থাকে। অর্থাৎ, ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে স্টক মার্কেট থেকে অতিরিক্ত আয় করা যায়।

৩। কর মওকুফ

অনেক দেশেই শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্স বেনেফিট পাওয়া যায়। বাংলাদেশে’ও শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে কর মওকুফ করা হয়।

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করার অসুবিধা

সুবিধার পাশাপাশি স্টক মার্কেটের বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন -

১। ঝুকিঁ

শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা আপনার জন্য ভালো ও খারাপ, উভয়ই হতে পারে। বুঝে-শুনে এবং ভালো করে জেনে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে ভালো করার সম্ভাবনা থাকলেও এখানে ঝুকিঁ’ও থাকে প্রচুর।

২। অস্থিতিশীল

শেয়ার মার্কেট থেকে কখনোই স্থির হারে রিটার্ন পাওয়া যায় না। কখনো ভালো রিটার্ন আসে আবার কখনো একেবারেই রিটার্ন আসে না। তাই জীবিকার জন্য কখনোই শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা উচিত না।

৩। কোম্পানীর দেউলিয়াত্ব

ভালো কোম্পানীতে বিনিয়োগ না করে বরং কোনো অপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানীতে বিনিয়োগ করলে কোম্পানী দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার কারণে আপনার বিনিয়োগ শেষ হয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনা সবসময়ই থেকে যায়।

পরিসংহার

সবকিছু জেনে-বুঝে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করলে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদে ভালো করা সম্ভব। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই অনেক ধৈর্য্যশীল হতে হবে। আবার সব টাকা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ না করে, বরং ভিন্ন ভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে নিজের একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যেহেতু শেয়ার মার্কেট বেশ অস্থিতিশীল একটি জায়গা, তাই এখানে অতিরিক্ত সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই।

  • https://www.investopedia.com/ask/answers/071515/what-difference-between-equity-market-and-stock-market.asp
  • https://www.investopedia.com/terms/e/equitymarket.asp
  • https://smartasset.com/investing/what-are-equities
  • https://www.nirmalbang.com/knowledge-center/all-about-equity-market.html
  • https://www.fpmarkets.com/education/share-trading/stocks-vs-equity/
  • https://www.icicidirect.com/ilearn/stocks/articles/introduction-to-equity-market
Next to read
Business Models
শেয়ারিং ইকোনমি মডেল (Sharing Economy Model)
শেয়ারিং ইকোনমি মডেল (Sharing Economy Model)

শেয়ারিং ইকোনমি মূলত দুই পক্ষের (Peer to Peer) সমন্বয়ে গঠিত এমন একটি বিজনেস মডেল, যেখানে মূল প্রতিষ্ঠানটি একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। এক্ষত্রে প্রতিষ্টান গুলো মূলত দুই পক্ষ অর্থাৎ সেবা প্রদানকারী এবং সেবা গ্রহণকারীদের মাঝে প্রযুক্তির সহায়তায় নিজস্ব কৌশলে সংযোগ করে দেয়।

রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example
Business
রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example
মোট মুনাফা (Gross profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং উদাহরণ
Business
মোট মুনাফা (Gross profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং উদাহরণ
অর্থনীতি কী?
Economics
অর্থনীতি কী?
এঞ্জেল বিনিয়োগ কি? এবং কিভাবে কাজ করে (What is angel investing & how does it work?)
Investment
এঞ্জেল বিনিয়োগ কি? এবং কিভাবে কাজ করে (What is angel investing & how does it work?)
সিঙ্গেল ব্রান্ডেড ই-কমার্স (Single Branded E-commerce)
E-Commerce
সিঙ্গেল ব্রান্ডেড ই-কমার্স (Single Branded E-commerce)
কনভার্সন রেট অপটিমাইজেশন (Conversion Rate Optimization)
Digital Marketing
কনভার্সন রেট অপটিমাইজেশন (Conversion Rate Optimization)
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিং (Business Accounting)
Accounting
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিং (Business Accounting)
একমালিকানা ব্যবসা কি এবং কিভাবে বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসা করা যায়?
Business Law
একমালিকানা ব্যবসা কি এবং কিভাবে বাংলাদেশে একমালিকানা ব্যবসা করা যায়?
What is Six Thinking Hats Definition with Examples
Analysis
What is Six Thinking Hats Definition with Examples