GeoRenus Editorial Team

একটি Investment বা বিনিয়োগ হল একটি সম্পদ বা আইটেম যা আয় বৃদ্ধি বা ভবিষ্যত স্বীকৃতি তৈরীর লক্ষে অর্জিত হয়। এখানে স্বীকৃতি বলতে সময়ের সাথে সাথে একটি সম্পদের মূল্য বৃদ্ধিকে বোঝান হয়েছে। Economic বা অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে, একটি বিনিয়োগ হল এমন একটি পণ্য ক্রয় যা আজ ব্যবহার করা হবে না কিন্তু ভবিষ্যতের সম্পদ তৈরীতে ব্যবহৃত হবে। Finance বা আর্থিক সংস্থান এর ভাষায়, একটি বিনিয়োগ হল একটি সম্পদ যা এই ধারণা নিয়ে কেনা হয় যে, ভবিষ্যতে সম্পদটি আরো বেশি মূল্য অথবা লাভ প্রদান করবে বা পরবর্তীতে বেশি লাভ দিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা যাবে। সুতরাং, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিজের অর্জিত সম্পদের উপর মুনাফা বা লাভ বৃদ্ধির আশায় বিজনেস, শেয়ার, বন্ড, সম্পত্তি; প্রভৃতি ক্রয় করাকে Investment বা বিনিয়োগ বলে।
Investment বা বিনিয়োগ ব্যপারটির লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি আয় বা সম্পদ তৈরী করা, যার মূল্য সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাবে। এমনকি, পণ্য উৎপাদন থেকে ভবিষ্যতে লাভ এনে দিতে পারে এমন সম্পদ ক্রয় করে রাখাও একটি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একটি বিনিয়োগ সর্বদা আজকের কোন মূলধনের ব্যয় দিয়েই শুরু হয় - অর্থ কিংবা সম্পদের পাশাপাশি এখানে সময় এবং প্রচেষ্টার বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মূলত যা করা হয়ে থাকে ভবিষ্যতে আরো অধিক কোন লাভের আশায়।
উদাহরণস্বরূপ, বেশি বেশি শিক্ষা গ্রহণ, কোন বিষয়ে আরো জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং দক্ষতাকে আরো উন্নত করা যা ভবিষ্যতে আয় ও লাভের পথ দেখাবে এরকম কোন পদক্ষেপও বিনিয়োগ হতে পারে। ফিশার (Fisher) এর মতে, Investment বা বিনিয়োগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে - “A commitment of funds made in the expectation of some positive rate of return.” অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অর্থের বিনিয়োগ এখানে এমন এক প্রতিশ্রুতি দেয়, যার ফলে ইতিবাচক হারে কিছু রিটার্ন প্রত্যাশা করা যায়। রিটার্নের প্রত্যাশা করাটা বিনিয়োগের একটি অপরিহার্য অংশ, আর লাভ না হলে মানুষ বিনিয়োগই বা করবে কেন।
যেহেতু রিটার্ন ভবিষ্যতে আদায় হবে বলে আশা করা হয়, সুতরাং এখানে এমন একটি সম্ভাবনা থেকেই যায় যে প্রকৃতপক্ষ্যে প্রাপ্ত রিটার্ন বাস্তবে প্রত্যাশিত রিটার্নের থেকেও কিন্তু কম হতে পারে। প্রকৃত রিটার্নের এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা কে বিনিয়োগের Risk বা ঝুঁকি বলা হয়। তাই প্রতিটি বিনিয়োগের সাথে Return এবং Risk অপরিহার্য ভাবে জড়িত। সাধারণত বিনিয়োগের প্রক্রিয়ায় এমন লোকেরাই উৎসাহী থাকে যাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ Savings বা সঞ্চয় থাকে। আসলে বিনিয়োগ সঞ্চয় থেকেই করা হয়, অন্যভাবে বলা যায় লোকেরা তাদের সঞ্চয়কেই বিনিয়োগ করে। তাই বলে সব সঞ্চয়কারীই কিন্তু আবার বিনিয়োগকারী নয়। একটি পূর্ন বিনিয়োগের কার্যকলাপ একটি সঞ্চয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
আমস্টারডাম স্টক এক্সচেঞ্জ (Amsterdam Stock Exchange) কে পৃথিবীর প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জ হিসাবে মানা হয়। ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (Dutch East India Company) দ্বারা ১৬০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আমস্টারডাম স্টক এক্সচেঞ্জে প্রথম শেয়ার ইস্যু করে। এরপর ১৯০০ এর শুরুর দিকে স্টক কেনাবেচা, বন্ড সহ আরো কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো বেশ আলোচিত হয়। সেসময়ে এসব ক্ষেত্রগুলোকে ধান্দাবাজি বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে এই ধান্দাবাজি শব্দগুলো পরিবর্তিত হয়ে তা বিশেষভাবে উচ্চতর ঝুঁকিপূর্ণ কোন উদ্যোগ বা বিনিয়োগকেই উল্লেখ করে আসছে।
ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffet) এবং বেঞ্জামিন গ্রাহাম (Benjamin Graham) বিশ্বখ্যাত ইনভেস্টরদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এদের মধ্যে গ্রাহাম তার Security Analysis এর জন্য বিখ্যাত যা 1929 সালে ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশের (Wall Street Crash) পরিপ্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল। অন্যদিকে ওয়ারেন বাফেট বরাবরই তার সাফল্যের জন্য বিখ্যাত। Forbes Magazine ২০১৩ মার্চের সংস্করণে বাফেট সেরা ৪০০ জনের তালিকায় ২য় পজিশনে ছিলেন। এছাড়াও বাফেট অসংখ্য আর্টিকেল ও তার দেয়া বিভিন্ন ইন্টারভিউয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ কৌশলের পরামর্শ দেয়ার জন্য দারুনভাবে বিখ্যাত।
যদিও Investment বা বিনিয়োগের একটি বিশাল দুনিয়া রয়েছে, কিন্তু খুব বেশি ব্যবহৃত হয় এমন কিছু বিনিয়োগের ধরণ নিয়েই আজকে আমরা আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক -
Investors বা বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারে বিনিয়োগ খুবই প্রচলিত ধরণ গুলোর একটি। কিছু কিছু বিনিয়োগকারী খুব অল্প বয়স থেকেই স্টক মার্কেট (Stock Market) এবং এর অবস্থা বোঝার জন্য শেয়ারের ব্যবসা শুরু করে দেয়। খুবই নিশ্চিতভাবে তাদের এটা বের করতে হয় যে, কোন কোন কোম্পানিতে তাদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত। বাজারের অবস্থা এবং কোম্পানির রিটার্ন পলিসি বুঝতে এখানে বিনিয়োগকারীদের কিছু রিসার্চ করে নিতে হয়।
একটি কোম্পানির শেয়ার বা স্টকের ক্রেতা সেই কোম্পানির ছোট একটি অংশের মালিক (Owner) হয়ে যায়। একটি কোম্পানির স্টকের মালিকরা এর শেয়ার হোল্ডার (Shareholders) হিসেবে পরিচিত হয় এবং তারা কোম্পানিটির উন্নয়ন সহ নানান সাফল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় স্টকের মূল্য বৃদ্ধি ও কোম্পানির মুনাফা থেকে নিয়মিত লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে। কোম্পানির শেয়ার আবার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত ও মূল্য উঠানামা করতে পারে, যা অনেক রিসার্চ করার পরেও বিনিয়োগকারিদের মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। কেননা, এর উপরেই শেয়ার থেকে রিটার্নের পরিমাণ কম বা বেশি তা নির্ভর করে।
কল্পিত উদাহরণঃ মি. জামিল সাহেব তার সঞ্চিত অর্থ থেকে প্রিন্স গ্রুপের কিছু শেয়ার কিনতে আগ্রহী। এখানে বিনিয়োগকারী মি. জামিল সাহেবকে বুঝতে হবে যে, তিনি এই শেয়ারগুলির সাথে সাথে কোম্পানিটির কিছু মালিকানাও লাভ করবেন। তিনি তার বিনিয়োগের পরিমাণের মধ্যে কোম্পানির সীমিত মালিকানা এবং লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকার লাভ করবেন। এছাড়াও কোম্পানির যে কোন লোকসান বা ক্ষতির দায়ও তার নিতে হবে।
মূলত বন্ড (Bond) হচ্ছে একটি চুক্তি বা ঋণপত্র। এ ঋণপত্র বাজারে ছেড়ে ইস্যুকারী কোম্পানি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। বন্ডে বিনিয়োগ হল অনেকটা ঋণের মত, এখানে একটি বন্ড ক্রয় করার সময় আপনি কোন কোম্পানিকে অর্থ প্রদান করছেন যা কোম্পানিটি আপনাকে পরবর্তীতে বন্ড পরিপক্ক হলে সুদের সাথে ফেরত দিবে। বন্ড চুক্তির প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনেরই হতে পারে। বন্ডে (Bond) বিনিয়োগ অন্য যে কোন বিনিয়োগের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় যা একজন বিনিয়োগকারী করে থাকে। যদিও বন্ডে বিনিয়োগ কম রিটার্ন আনতে পারে, তবে এটি বন্ডের ধরণের উপর নির্ভর করে।
কাল্পনিক উদাহরণঃ মিসেস তানিয়া তার কিছু টাকা বন্ডে বিনিয়োগ করতে চান। তাহলে এখন তাকে বন্ড কেনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে এবং যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বন্ড কিনবেন সে প্রতিষ্ঠানের বন্ডের প্রসপেক্টাস তাকে বুঝে নিতে হবে। এছাড়াও মিসেস তানিয়াকে বুঝতে হবে যে বন্ড রিটার্ন আনবে ঠিকই, তবে এখানেও কিছু রিস্ক ফ্যক্টর নিয়ে আগে থেকেই জেনে নেয়াটা জরুরী।
খুবই ভালো হয় মিসেস তানিয়া যদি কোন অভিজ্ঞ ব্রোকারের (Broker) সাথে যোগাযোগ করে নেয় কেননা তারা একটি সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবে এবং তারপরে ভালো রিটার্নের জন্য তার অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে। বন্ড স্বল্প মেয়াদী না দীর্ঘ মেয়াদি হবে, বন্ড ইস্যুকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লাভ দিতে পারবে কিনা, বন্ডে সুদের হার কেমন নির্ধারিত হবে, বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত কিনা, সরকারি বা অন্যকোন অনুমোদন এর প্রয়োজন হবে কিনা এমনসব বিষয়ে একজন ব্রোকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মিউচুয়্যাল ফান্ডের (Mutual Fund) বিনিয়োগ সেরা বিনিয়োগগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। মূলত একসাথে অনেক সংখ্যক ব্যক্তির বা বিনিয়োগকারীর থেকে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা মিউচুয়্যাল ফান্ড গঠন করা হয়। সাধারণত প্রফেশনাল ফান্ড ম্যানেজাররা এ ধরনের ফান্ড পরিচালনা করে থাকেন। যারা বিনিয়োগের জন্য একটি সাধারণ ইচ্ছা পোষণ করে থাকে, মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ফান্ড এরকম বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। পরবর্তীতে এই অর্থ বন্ড, মানি মার্কেট ইন্সট্রুমেন্ট, ইক্যুইটি, অথবা অন্য কোন সিকিউরড প্লেসে বিনিয়োগ করা হয়। সকলের সমষ্টিগত বিনিয়োগের উৎপন্ন আয় একটি স্কিমের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রদান করা হয়।
উদাহরণঃ জাহিদ একজন কলেজ ছাত্র। সে জানতে চায় কিভাবে তার পকেট মানি থেকে সঞ্চিত একটি অংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারে। খোঁজ নিয়ে জাহিদ জানতে পারে সে খুব ছোট একটি এমাউন্ট দিয়েও বিনিয়োগ শুরু করতে পারে কেননা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারিরা কম পরিমাণেও বিনিয়োগ করতে পারে। নতুনদের জন্য এতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া একটু জটিল মনে হতে পারে, তাই জাহিদকে তার বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন উপার্জনের জন্য ট্যাক্সের প্রভাব সহ অন্যান্য সব নীতি বুঝে নিতে হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবস্থান বুঝতে হলে তাকে অল্প পরিমাণ ইনভেস্ট থেকে শুরু করতে হতে পারে এবং কিছু সময় পরে স্বাচছ্যন্দ বোধ করলে পরে আরও বেশি ইনভেস্ট করার পরিকল্পনা করতে পারে।
রিয়েল এস্টেট (Real Estate) এ বিনিয়োগ বিনিয়োগের একটি ট্রেডিশনাল পদ্ধতি। একজন বিনিয়োগকারী এই বিনিয়োগটিকে অন্য যে কোন বিনিয়োগের চেয়ে অধিক নিরাপদ ও ফলপ্রসূ বলে মনে করেন। রিটার্ন লাভের উদ্দেশ্যে কমার্শিয়াল প্রপার্টি, রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি, জমি/প্লট ক্রয় বিক্রয়, রেসিডেন্সিয়াল স্পেস ভাড়া দেয়া বা নেয়া এসবই রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্টের অন্তর্ভূক্ত। আমাদের দেশেও বিনিয়োগের জন্য রিয়েল এস্টেট কে একটি জনপ্রিয় সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতীক মন্দা এবং মূদ্রাস্ফীতির মত বিষয়গুলো বিদ্যমান থাকলেও রিয়েল এস্টেট প্রপার্টির ভ্যালু আনুপাতিক হারে বাড়তেই থাকে।সুতরাং বলাই যায়, বিনিয়োগের জন্য অন্যতম লাভজনক ও নিরাপদ সেক্টর এই রিয়েল এস্টেট।
উদাহরণঃ জনাব রহিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই তার ব্যসায়িক কাজে নিয়োজিত আছেন। এখন তিনি তার উপার্জিত অর্থ নিরাপদ কোন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, যেমন - রিয়েল এস্টেট। তিনি মার্কেটে একটু খোঁজ খবর নিয়ে রেপুটেশন ভালো এরকম একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করলেন। তার উদ্দেশ্য একটাই, ভবিষ্যতে তিনি তার ক্রয়কৃত স্পেস থেকে নিয়মিত ভাড়া পাবেন এবং প্রয়োজনে অধিক লাভে বিক্রিও করতে পারবেন যা তিনি মোটামুটি ভাবে নিশ্চিত।
অনেক বিনিয়োগকারীই আছেন যারা শুধুমাত্র স্টার্ট-আপ বা নতুন শুরু হওয়া কোন ব্যবসা অথবা অনেকদিন ধরে চলমান কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ (Company Investment) করতে পছন্দ করেন। অন্যভাবে বলা যায়, কেউ যদি তার ব্যবসার জন্য অথবা কোন কোম্পানি তার আরো উন্নতি লাভের জন্য ইনভেস্টরদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে নির্দিষ্ট ওই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসেন এবং তারা তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাধারণত এরকম বিনিয়োগকারীদের দলকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি, এঞ্জেল ইনভেস্টর (Angel Investor); অন্যটি, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট (Venture Capitalist)। এখানে এঞ্জেল ইনভেস্টর হল একক কোন ব্যক্তি যারা সাধারণত নতুন শুরু হয়েছে এমন কোন ব্যবসা, স্টার্ট-আপ কিংবা শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক আইডিয়ার উপরেও ইনভেস্ট করে থাকে। অন্যদিকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হল পেশাদার কোন সংস্থা যারা চলতে থাকা কোন কোম্পানিতে ইনভেস্ট করে থাকে। অনেকদিন ধরে চলতে থাকা কোন ব্যবসাকে আরো সমৃদ্ধ করতে বিনিয়োগকারীদের থেকে টাকা জোগাড় করে থাকে, এরকম সিচুয়েশনে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট থেকে সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
উদাহরণঃ দূর্দান্ত এক বিজনেস আইডিয়া মাথায় নিয়ে বসে আছে মাহি! কিন্তু বিজনেস করতে টাকা পাবে কই, নিজেই তো এখনো স্টুডেন্ট। একদিন ভার্সিটিতে বন্ধুদের কাছে জানতে পারল এঞ্জেল ইনভেস্টরদের কথা, এমনকি নিজেদের ভার্সিটিতেই নাকি আছে এমন এক বড় ভাই যে এরকম নতুন ইন্টারেস্টিং ব্যবসায় রেগুলার বিনিয়োগ করে থাকে। ব্যস, সেদিনই সেই বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করে নিজের আইডিয়ার একটা প্রেজেন্টেশনও দিয়ে ফেলল মাহি। বড়ভাইও চমৎকার এক আইডিয়া পেয়ে মাহির ব্যবসায় বিনিয়োগ করার আগ্রহের কথা জানিয়ে দিল।
আবার, মোরশেদ সাহেবের অনেকদিনের ক্লথিং (Clothing) বিজনেস। বেশ ভালোই আছেন নিজের ব্যবসা নিয়ে। কিন্তু কিছুদিন হলো নিজের ব্যবসাকে আরো বড় করার প্রয়োজন অনুভব করছেন। তিনি বুঝতে পারছেন ভালো অংকের একটা এমাউন্ট ইনভেস্ট হিসেবে পাওয়া গেলে খুব সহজেই আরো কয়েকটা শো-রুম তিনি দাড়া করাতে পারেন। এসব নিয়েই নিজের বিশ্বস্ত স্টোর ম্যানেজার রাকিবের সাথে আলাপ করতে করতে ধারণা পান ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এর। কোন ব্যাংকিং ঝামেলা ছাড়া ইনভেস্ট পাওয়ার এই আইডিয়া মোরশেদ সাহেবের মনে ধরে। অনলাইনে ঘাটাঘাটি করে পেয়েও যান কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এর সন্ধান। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এ এপ্রোচ করে একটি সংস্থা থেকে কাঙ্ক্ষিত এমাউন্ট বিনিয়োগ হিসেবে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে নিশ্চিন্ত হন।
একটি অল্টারনেটিভ বিনিয়োগ স্টক, বন্ড, মিউচুয়্যাল ফান্ড বা রিয়েল এস্টেট এ বিনিয়োগ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অল্টারনেটিভ বিনিয়োগ প্রাচীন জিনিসপত্র (Antiques), পেইন্টিং, স্ট্যাম্প, জনপ্রিয় কোন লেখকের বই কিংবা কমিক্স যাদের ভ্যালুয়েশন রেট ভবিষ্যতে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এরকম কোন বিষয়বস্তুর উপর করা হয়ে থাকে। অনেক বেশি রিটার্নের সম্ভাবনাসহ খুব আকর্ষনীয় আর রোমাঞ্চকর এক বিনিয়োগের মাধ্যম এই অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট। তবে খুব ছোটখাটো জিনিসও খুব চড়া দামে কিনে নিতে হয় এই বিনিয়োগে। পরবর্তীতে মূল্যায়ন এর সময় এর হিসাব নিকাশ একটু জটিলও হয়। সুতরাং অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট এর বেলায় সুনির্দিষ্ট জ্ঞান থাকাটা খুবই জরুরী। যেমন - একজন শিল্পীই খুব ভালো জানবে ইউনিক প্যাটার্নের ভালো একটি আর্ট সময়ের সাথে সাথে কতটা অপ্রত্যাশিত ভাবে মূল্যবান বস্তু হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে।
উদাহরণঃ সজিব একজন শৌখিন কালেক্টর। প্রায়ই শখের বসে নানান এটা ওটা কিনে নিজের কালেকশনে রাখতে পছন্দ করে। আবার অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট নিয়েও তার কিছু কিছু ধারনা আছে। কালেকশনের পাশাপাশি সজিব ভালোই জানে যে তার কিছু কিছু শখের স্ট্যাম্প, ঘড়ি, কয়েনের দাম সময়ের সাথে সাথে Antique Value হিসেবে বাড়ছে, আর এটা ভেবে সে দারুণ রোমাঞ্চও অনুভব করে। তো একদিন বিকালে পার্কে হাটতে গিয়ে সে দেখে একটি ছেলে অনেকগুলো কয়েন মাটির উপর সাজিয়ে রেখে খেলছে। কৌতূহলী হয়ে সামনে এগিয়ে গেলে হঠাৎই একটি কয়েন এ তার চোখ আটকে যায়। মুহূর্তেই সজিব ছেলেটির কাছ থেকে কয়েনটি ৫০০ টাকা দিয়ে কিনে নিতে চায়। ছেলেটিও ৫০০ টাকার কথায় কয়েনটি বিক্রি করতে রাজি হয়ে যায়। ছেলেটির কাছে কয়েনটি সাধারণ হলেও সজিবের অভিজ্ঞ চোখ কয়েনটি চিনতে ভুল করেনি, সে খুব ভালোই জানে যে চাইলে আজকেই পুরনো ব্রিটিশ এই কয়েনটি তারই পরিচিত এক কালেক্টর এর কাছে অন্তত ১০,০০০ টাকায় অনায়াসেই বিক্রি করতে পারবে!
সাধারণত কাঁচা মাল ও প্রাথমিক কৃষিপণ্যে বিনিয়োগকেই Comodities Investment বা পণ্যদ্রব্যে বিনিয়োগ বলে। এছাড়াও মূল্যবান কোন ধাতু, এনার্জি রিসোর্স যেমন - তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস, শস্য, পশুপণ্য, আর্থিক উপকরণ কিংবা মুদ্রা এসবে বিনিয়োগও পণ্যদ্রব্যে বিনিয়োগ। যেসব পণ্য ভবিষ্যতে বিক্রি করে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে কিনে রাখা যেতে পারে অথবা ভবিষ্যতের নির্ধারিত কোন তারিখে নির্দিষ্ট একটি মূল্যে কেনা বেচা বা পণ্য আদান প্রদানের আইনি চুক্তিও করা হয়ে থাকে।
উদাহরণঃ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ইনভেস্টর জনসন অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী। তার পর্যবেক্ষন থেকে তিনি দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রে পাটজাত পণ্যের চাহিদা তো আছেই, এছাড়াও বাঙ্গালী প্রবাসিরাদের বড় একটা অংশের এই পাট পণ্যের প্রতি একটা দুর্বলতা রয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশে বেশি বেশি পাট উৎপাদনের জন্য তিনি যদি বিনিয়োগ করেন এবং তা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করেন তাহলে ব্যবসায়িক ভাবে তার লাভবান হওয়ার বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে জনসনের কাছে এই তথ্যও আছে যে, পাটখাতে উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশি সরকারও বিদেশিদের বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। বিনিয়োগকারী হিসেবে জনসনের বহুবছরের অভিজ্ঞতা বলছে এরকম সুযোগ হাতছাড়া করা একদমই উচিৎ নয়।
স্বর্ণে বিনিয়োগ এমন একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি যা বহু শতাব্দী ধরে হয়ে আসছে। স্বর্ণের চাহিদা সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। বাজার পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন, স্বর্ণ আন্তর্জাতিক ভাবেই একটি মূল্যবান পণ্য। সুতরাং আপনি যদি আপনার স্বর্ণ বিক্রি করতে চান, এটির ক্রেতার কখনো অভাব হবেনা। এটি ভবিষ্যতের সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ বলেও বিবেচিত হয়, যা কে কোন পরিস্থিতিতেই নিশ্চিতভাবে সাহায্য করতে পারবে।
কাল্পনিক উদাহরণঃ স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে জানতে পেরে রাজিব কিছু স্বর্ণের অলঙ্কার কিনে রাখছেন। সে এটা নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে কোন না কোন সময় সে অধিক মূল্যে এই স্বর্ণ বিক্রি করে তার অন্য কোন প্রয়োজন মেটাতে পারবে অথবা তার নিজের প্রয়োজনেও ব্যবহার করতে পারবে। বিনিয়োগের জন্য এর মত সহজ আর নিশ্চিত মাধ্যম আর কি হতে পারে।
উপরের প্রতিটি বিষয়কে মাথায় রেখে এটা বলা যেতে পারে যে, বিনিয়োগ বর্তমান অর্থ প্রবাহের উপর একটি চুক্তি যা ভবিষ্যৎ অর্থ প্রবাহের উপর বিনিয়োগকারির জন্য ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। সেই সাথে মুনাফা লাভের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থ প্রবাহ সম্পর্কে একটি নিশ্চয়তা দিবে। এই আলোচনা আমাদের স্টক, বন্ড, বিজনেস বা রিয়েল এস্টেটের মতো সম্ভাব্য সমস্ত বিনিয়োগকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এই সমস্ত সকল বিনিয়োগে আজ যা বিনিয়োগ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা থেকে একটি লাভের প্রত্যাশা করা হয়ে থাকে। বিনিয়োগকারীদের জন্য তাদের পছন্দসই সেক্টরে বিনিয়োগ করার জন্য অনেক বিকল্প রয়েছে। যদিও রিটার্ন লাভের জন্য বিনিয়োগ করার আগে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ পরিকল্পনা এবং জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও, ঝুঁকি রয়েছে এরকম প্রতিটি কারণও বিবেচনায় রাখা উচিত।

ইম্প্যাথি ম্যাপিং মূলত একধরনের ট্যুলস। এটি গ্রাহকদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভব, উপলব্ধি সহ নানাবিধ তথ্য, উপাত্ত এর সমন্বয়ে গঠিত সুশৃঙ্খল এবং সুবিন্যস্ত একটি চার্ট। উল্লেখিত বিষয় সমূহ সম্পর্কিত তথ্য উপাত্তের খুব চমৎকার একটা ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন পাওয়া যায় এই ইম্প্যাথি ম্যাপিং এর মাধ্যমে। যা মূলত আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে ভালভাবে বুঝতে সহায়তা করে।








