GeoRenus Editorial Team

কোম্পানি যখন নিজের প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের ফিচারগুলো বাধা ধরা নিয়মে মার্কেটিং এর মধ্যে বর্ণনা না করে কাস্টমারের একটি ইমোশন খুজে বের করে এবং একটি গল্প বা ঘটনার মধ্যে দিয়ে সেই ইমোশোনকে আঘাত করে তাদের প্রোডাক্ট/সার্ভিসের মাধ্যমে একটা আশার আলো বা সমাধান দেখায়, তখন এই পুরো প্রোসেসকে বলা হয় ইমোশনাল মার্কেটিং।
মার্কেটে একই রকমের প্রোডাক্ট অনেক কোম্পানির থাকলেও আমরা সাধারনত একটা নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রোডাক্ট এর উপর আকৃষ্ট হই। এমনটা হওয়ার কারন হচ্ছে আমরা সেই প্রোডাক্টের সাথে নিজের অজান্তেই আবেগ দিয়ে আকৃষ্ট হয়ে যাই।
কোম্পানি বেশির ভাগ সময়ে অন্যান্য কোম্পানি থেকে আলাদা হতে মার্কেটিং এর জন্য কাস্টমারের এক একরকম ইমশোনকে ব্যবহার করে থাকে। আর কোম্পানি যখন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের মার্কেটিং এর জন্য কাস্টমারের ইমোশনকে ব্যবহার করে, তখন তাকে ইমোশনাল মার্কেটিং বলে।
উদাহরণ দিয়ে বললে, বাংলাদেশে ৪টা মোবাইল সিম কোম্পানি আছে। কিন্তু সবার সার্ভিস একই রকমের হওয়ার পরেও গ্রামীণফোনের শীর্ষে থাকার কারনটা কি, যেখানে তাদের সকল অফারের দাম অন্যান্য কোম্পানিগুলোর থেকে বেশি? এখানে গ্রামীণফোন তাদের সার্ভিসের মান ভালো রাখার পাশাপাশি কোম্পানির মার্কেটিং এর জন্য কাস্টমারের ইমোশনকে অনেক ভালো ভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে।
২০১৬ সালে তাদের রিলিজ করা টিভি এডভার্টাইজ “স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার” এখনও বড় বড় ছুটির আগে মানুষরা মনে করে এবং সোশাল মিডিয়াগুলোতে শেয়ার করে থাকে।
মার্ক গ্যোব ১৯৯৭/৯৮ সালের দিকে ইমোশনাল মার্কেটিং এর ধারনা দেন। এইসময় থেকে ধীরে ধীরে মার্কেটিং এর জন্য কোম্পানিগুলো তাদের মার্কেটিংএ প্রোডাক্ট/ সার্ভিস এর ফিচার বর্ণনা থেকেও কাস্টোমারের ইমোশনকে প্রাধান্য দিতে থাকে যাতে কোম্পানির সাথে আলাদা একটা ভালোবাসা তারা তৈরী করতে পারে।
ইমোশনাল মার্কেটিং এর পরিকল্পনা শুরু করতে হয় “The Rhetorical Triangle” এর বিশ্লেষণ দিয়ে। এর মাধ্যমে জানা যায়ঃ
যেই কোম্পানি এখন ইমোশনাল মার্কেটিং করবে তাদের যেন কাস্টমাররা বিশ্বাস করে সেই ব্যপারে খেয়াল রাখা এবং কোম্পানির যে একটা এথিক্স অনুসরণ করে যা কাস্টমারের জন্য ভালো তা যেন মার্কেটিং এর মাধ্যমে জানানো যায়। আর এটা নির্ভর করে কোম্পানির স্ট্যাটাস, প্রোডাক্ট/ সার্ভিস নিয়ে কতটা সচেতনতা তৈরী করতে পেরেছে কাস্টমারদের মাঝে, কতটা পেশাদারিত্বের সাথে তারা মার্কেট এ আছে, প্রোডাক্ট/ সার্ভিস দেওয়ার আগে রিসার্চ কেমন করছে এই সবকিছুর উপর। আর এর মাধ্যমেই কোম্পানি কাস্টমারের বিশ্বাস তাদের উপর আনতে পারবে।
কাস্টমার বা যাদের উদ্দেশ্যে মার্কেটিং করা হবে তাদের কোন ইমোশনকে টার্গেট করে মার্কেটিং হবে সেই সম্পর্কে আগে জানতে হবে এবং ভালোভাবে বুঝতে হবে। মানুষের মধ্যে অনেক রকমের ইমোশন বা আবেগ থাকে। সুখ, দুঃখ,ভালোবাসা, রাগ, হিংসা, অনুপ্রেরণা, কৃতজ্ঞতা, আশা, ভয়, ঘৃণা, একাকিত্ত্ব’সহ আরও অনেক অনেক রকম ইমোশন। এখন কোন ইমোশনে আঘাত করে কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে ভালোভাবে জানাতে পারবে সেইটা অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত যার উপর পরবর্তী ফলাফল অনেকাংশে নির্ভরশীল।
কোম্পানি তাদের মার্কেটিং এ কি বলবে বা দেখাবে তার উপর নির্ভর করবে কাস্টমারের মধ্যে কোন ইমোশন কাজ করবে এবং তা কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সাথে কতটা সামঞ্জস্য রাখে।
কোম্পানি তাদের মার্কেটিং এর মাধ্যমে যেই ম্যাসেজটা কাস্টমারকে দিচ্ছে, এবং তাদের প্রোডাক্ট/ সার্ভিস এর কোয়ালিটি নিয়ে যেই কথাগুলো বলছে তা যে সত্য এটা বোঝানোর জন্য দরকার একটা রিসার্চ এর ফলাফল কাস্টমাকে দেখানো যে, কোম্পানি যা বলছে তা সত্যি এবং যুক্তিযুক্ত।
উপরের পুরো প্রসেস সহজে বোঝার জন্য প্রথমেই Johnson & Johnson এর নাম নিতে হয়।
১৮৮৬ সাল থেকে এই কোম্পানির যাত্রা শুরু। বেবি প্রোডাক্টের নাম আসলেই প্রথমে আসে Johnson & Johnson এর নাম সুতরাং বোঝাই যায় কাস্টমাদের মাঝে অনেক বড় একটা স্থান তারা নিতে পেরেছে। আর এই কোম্পানির এথিক্স হলো বাচ্চার জন্য সর্বোচ্চ ভালো প্রোডাক্টটা দেওয়া আর প্রতিটা প্রোডাক্টের পিছে তারা অনেক বড় একটা ইনভেস্টমেন্ট করে শুধুমাত্র রিসার্চের জন্য।
এইভাবে তারা কাস্টমারের বিশ্বাস নিতে পেরেছে এবং বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তাদের প্রোডাক্ট অন্যান্য কোম্পানি থেকেও অনেক ভালো। তাদের Tagline হলো Best for the Baby – Best for You যা মায়েদের প্রতি সরাসরি একটা ভালোবাসা আর যত্নের ম্যাসেজ পাঠায়। সন্তানের সাথে মায়ের যে একটা অবিচ্ছেদ্দ সরাসরি সম্পর্ক আর সন্তানের ভালো মানে মায়ের জন্য ভালো, এই পুরো ইমোশন তাদের এই Tagline এর মাঝেই আছে।
আর তাদের যুক্তিগুলো ইমোশনের সাথে সাথে কিছু রিসার্চ রেফারেন্সের মধ্য দিয়ে আসে যা ইমোশনাল মার্কেটিং এর জন্য আদর্শ হিসেবে কাজ করে। আর বেবি প্রোডাক্টে বাচ্চার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না কারন বাচ্চার হয়ে সিদ্ধান্ত মায়েদের নিতে হয় আর এইখানেই যুক্তির থেকে কাস্টমারেরে ইমোশনে কোম্পানিকে বেশি ফোকাস করার দরকার হয়।
The Rhetorical Triangle এর বিশ্লেষণ শেষে এখন প্রাপ্ত ডেটাগুলো দিয়ে বুঝতে হবে কেমন ভাবে ইমোশনাল মার্কেটিংটা সাজাতে হবে।
“We make decisions with our heart and justify them with our head.” এই কথা থেকেই বোঝা যায় মার্কেটিং এ ইমোশনের গুরুত্ব কতো। আর ইমোশনাল মার্কেটিং মানেই, “Less Logic, More Emotion”
কাস্টমারের জীবনে অনেক রকম উদ্দেশ্য থাকে আর কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের সাথে কোন উদ্দেশ্য পূরণ হবে সেটা বুঝতে হবে।
মনে করি, কোম্পানির প্রোডাক্ট হচ্ছে এনার্জি ড্রিংক। এখন কাস্টমারের অনেক রকম আশা- আকাঙ্ক্ষা এর মাঝে প্রোডাক্টের সাথে কাছাকাছি সম্পর্ক রাখে স্বাধীনতা বা এডভেঞ্চার। এখন সাধারনত কিভাবে কাস্টমাররা স্বাধীনতা বা এডভেঞ্চার অনুভব করতে চায় সেটা বুঝতে হবে।
আমাদের সবার জীবনেই অনেক রকম ঝামেলা থাকে। যেগুলোকে আমরা কাটিয়ে উঠে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এখন কাস্টমারদের কে সেই ঝামেলা বা সমস্যাগুলো দেখাতে হবে এবং বোঝাতে হবে এবং কিভাবে সেই সমস্যার সমাধান হতে পারে তা বোঝাতে হবে।
ইন্ডিয়াতে প্রায় সময়ে অনেক রকম দাঙ্গা দেখা যেতো আর এটা নিত্তদিনকার সমস্যা ছিলো। আর এই সমস্যা Sony VIVO IPL 2016 এর বিজ্ঞাপনে অনেক সুন্দর করে দেখানো হয়েছিলো আর Tagline ছিলো Ek India Happywala । আর এই সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে ক্রিকেটকে আর একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা। একটা ছোট হাসি দিয়েও কিভাবে সমস্যা সমাধান হয়, মারামারি না করে ফুল দিয়েও কিভাবে প্রতিবাদ করা যায় তা দেখানো হয়েছিলো আর পুরো বিজ্ঞাপনে ব্যবহার হয়েছিলো বাচ্চাদের যা ইমোশন তৈরীতে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিলো।
প্রোডাক্ট/ সার্ভিস এর সাথে সম্পর্কিত কি ধরনের সফলতা কাস্টমাররা চায় সেইটা বুঝতে হবে। এবং সেই ভাবে একটা সফলতা পেলে কেমন লাগে সেটাও দেখাতে হবে।
সব রকমের Body Spray এর বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় ছেলেদের একটাই আকাঙ্ক্ষা হলো একজন ভালো লাইফ-পার্টনার পাওয়া। এর পরের দৃশ্যে সে কোম্পানির প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরেই লাইফ-স্টাইলে অনেক পরিবর্তন আসে, একটা ভালো লাইফ-পার্টনার পেতে সাহায্য করে, কর্পোরেট-লাইফে সফলতা আসে। এর মধ্যে কোন প্রকার যুক্তি না থাকলেও কিন্তু ইমোশনের দিক থেকে বেশিরভাগ সম্ভাব্য কাস্টমার খুব সহযেই প্রভাবিত হয়।
কাস্টমার যদি জীবনে সফল হতে না পারে তবে কি হবে, কোন ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাবে সেটাও সুন্দর করে কাস্টমারকে দেখাতে হবে কারন ভয় আর হতাশাও সব ইমোশনের মাঝে উল্লেখযোগ্য এবং এটাও কাস্টমারকে প্রভাবিতো করতে সাহায্য করে। কিন্তু শুধু ভয় দেখালেই হবেনা, সুন্দর একটা সমাধানের রাস্তাও দেখাতে হবে।
ইন্সুরেন্সের বিজ্ঞাপনে সবসময় কাস্টমারের মধ্যকার অসহায় অবস্থায় মৃত্যুর ভয়টাকে ফোকাসে রাখা হয়। আবার শেষ বয়সের আগেও কোন ভয়াবহ রোগ হবার সম্ভাবনা দেখিয়ে একটা লাইফ ইন্সুরেন্স করতে বলা হয় যাতে কোন বিপদ হলে ইন্সুরেন্স কোম্পানি সহায়তা করতে পারে এবং বিপদ কাটাতে সক্ষম হন।
আবার আরও সহজে বললে Body Spray এর বিজ্ঞাপনেই কাস্টমারের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখানো হলো সে একজন ভালো লাইফ-পার্টনার চায়। কিন্তু তাকে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না, কর্পোরেট লাইফে খুবই বাজে অবস্থায় আছে, কোন কাজে কনফিডেন্ট নেই। আর তারপর সমাধান হিসেবে সেই প্রোডাক্টের কথা বলা হয়।
ভয় এবং হতাশা যেহেতু বেশিরভাগ মানুষের মাঝে বেশি কাজ করে এইজন্য এইধাপ ইমোশনাল মার্কেটিং এর মধ্যে অন্যতম।
কোম্পানি যে কাস্টমারের উদ্দেশ্য, চ্যালেঞ্জ, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এগুলো বুঝতে পারছে এবং এর সমাধান দিচ্ছে সেটা তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের মার্কেটিং এর মাধ্যমে বোঝাতে হবে।
উপরের ধাপ থেকে পাওয়া ধারনা থেকে যেভাবে মার্কেটিং করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা যদি পুরোটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় তবে কাস্টমার সেই ম্যাসেজটা সহজেই নিতে পারবে।
মার্কেটিং কে কেন্দ্র করে একটা সুন্দর কথা আছে,” People don’t buy what you do, they buy why you do it.” সুতরাং একটা ইমোশন যে কত দরকার কাস্টমারদের আকর্ষন করতে তা আলাদা করে বলার দরকার হয় না। অর্থাৎ কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস কি এটা জানানো থেকে কোম্পানি কেন প্রোডাক্ট/ সার্ভিসটা মার্কেটে এনেছে এটা কাস্টমারকে জানান বেশি দরকার।
ধরি কোন গাড়ির কোম্পানি নিজেদের গাড়ির টেকনিক্যাল ফিচারগুলো বর্ননা না করে একটা গল্পের মাধ্যমে গাড়ির সুবিধাগুলো দেখাচ্ছে, আর গল্পের প্রধান ফোকাস থাকছে ইমোশনের উপর, হয়তো কোন ফ্যামিলি ট্রিপ বা কোন উৎসবকে কেন্দ্র করে কিভাবে গাড়িটা সাহায্য করবে তা দেখানো হচ্ছে। আবার অন্য একটা কোম্পানি শুধু নিজেদের গাড়ির ফিচার আর অফারগুলোই বর্ননা করছে। কাস্টমার অবশ্যই গাড়ি কিনলে প্রথম কোম্পানির কাছেই ভিড় করবে।
প্রধানত ৪ ভাবে ইমোশনাল মার্কেটিং কাজ করে,
সব কোম্পানি যদি শুধু নিজের প্রোডাক্টের বর্ননা দেয় বিজ্ঞাপনের মাঝে তবে কোন কাস্টমার আলাদা করে প্রোডাক্টের উপর আগ্রহ দেখাবে না। কারণ ইমোশনাল ভাবে যদি কাস্টমারকে আকৃষ্ট করা না যায় তবে সেখানে যুক্তি কাজ করবে না বা কাস্টমার যুক্তি শুনতে আগ্রহ দেখাবে না। এজন্য অনেক প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের মাঝে যে কোম্পানি কাস্টমারের ইমোশন যত ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে সেই কোম্পানি মার্কেটে আলাদা ইমেজ তৈরী করতে সক্ষম হবে।
ইমোশনাল মার্কেরটিং ব্র্যান্ডের প্রতি কাস্টমারের আনুগত্যতা তৈরী করতেও অনেক বড় ভুমিকা রাখে। কোয়ালিটি প্রোডাক্ট/ সার্ভিস এর সাথে ইমোশনাল মার্কেটিং এর সামঞ্জস্য রাখতে পারলেই নতুন কাস্টমারদেরকে পার্মানেন্ট কাস্টমার হিসেবে রাখা যাবে। এটাতে সুবিধা হলো এই কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিস থেকেও ভালো কোন কোম্পানির কাছে কাস্টমাররা যেতে আগ্রহ দেখায় না।
উদাহরন দিলে CocaCola এর নাম সবার উপরে থাকবে। রিসার্চাররা একবার কোকাকোলার অনেক কাস্টমারের উপর Blind Test করেছিলো অনেক কোম্পানির সফট ড্রিংক্স দিয়ে। বেশীর ভাগ কাস্টমার কোকাকোলা থেকে অন্য কোম্পানির সফট ড্রিংক্সকে বেশি ভালো স্বাধের জন্য ভোট করেছিলো।
আর অনেক অনেক টেস্টের মাঝে দেখা গেছে কোকাকোলা আর পেপসির মাঝে অনেকেই পার্থক্য ধরতে পারে না তবুও তারা কোকাকোলা কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আর এই পুরোটা সম্ভব হয়েছে ইমোশনের কারনে।
ইমোশন তৈরীতে প্রথমেই একটা মানবিক দিক তুলে ধরতে পারলে অনেক সহজে কাস্টমারের আগ্রহ ধরা যায়। কারন কাস্টমার প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের পেছনের যুক্তি থেকে কিভাবে এটার সাথে সে সম্পর্কিত এইটা জানতে আগ্রহ বেশি থাকে।
Nielsen Study 2016 এ দেখা গেছে এভারেজ মার্কেটিং এর তুলনায় ইমোশনাল মার্কেটিং ২৩% বিক্রয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। [1]
কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের জন্য ভাল একটা ইমোশনাল মার্কেটিং করতে পারলে কাস্টমারের মাঝে নিজের অজান্তেই একটা আস্থা কাজ করবে সেই কোম্পানির উপর আর প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের দাম বেশি হলেও একটা ভাল রিটার্ন পাবে বলে বিশ্বাস কাজ করবে, মানে প্রোডাক্ট/ সার্ভিস কেনার জন্য তিনি যে ঠকছে না এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকবেন।
এরজন্য Rolex নিয়ে বলতে হয়। এই ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলো সাধারনত মানুষ বিলাসিতা থেকেও একটা ইতিহাসের অংশ হতে ব্যবহার করে। Rolex এর Tagline “It doesn’t just tell times, it tells history.” একজন কাস্টমার যত্নসহকারে একটা Rolex ঘড়ি ব্যবহার করলে ৩ প্রজন্ম একই ঘড়ি অনেক সহজেই ব্যবহার করতে পারে। আর প্রোডাক্টের কোয়ালিটির পাশাপাশি ইমোশনাল মার্কেটিং এতো বিক্রির পিছনে বড় ধরনের কারন হিসেবে কাজ করে। এতো দামী ঘড়ি হওয়া স্বত্বেও শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই এই ব্র্যান্ডের রেভিনিউ জেনারেট হয় ৫.২ বিলয়ন ডলার আর প্রায় ২২% এর বেশি মার্কেটের নিয়ন্ত্রন থাকে এদের হাতে যেখানে Rolax এর প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ড Omega নিয়ন্ত্রন করছে মাত্র ৯%। [2]
আর এভাবেই একটা সাধারন মার্কেটিং থেকে ইমোশনাল মার্কেটিং আলাদা একটা প্রভাব রাখে।
এই মার্কেটিং এর সুবিধা ধরা হয়ঃ
প্রোডাক্ট/সার্ভিসের বিজ্ঞাপন যদি একটা গল্পের মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়, তবে নামটা মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায় কারন ব্র্যান্ডের নাম থেকে তখন গল্পটা সহজেই মাথায় গেথে যায়।
বিজ্ঞাপনের সুচনার সময়ে কথা, এসময় একটা কথা সবাই ব্যবহার করত বিজ্ঞাপনের ভিতর সেটা হলোঃ “আজই আমাদের পন্য কিনুন অথবা এখনই আমাদের পন্যটি কিনুন”। কিন্তু রাতের সময় যখন কেউ এই বিজ্ঞাপন দেখবে তখন এই কথা কোনই প্রভাব ফেলবে না তার উপর আর তার নিজের অজান্তেই একটা অনিহা দেখা দিবে বিজ্ঞাপনটায় কারন কোনভাবেই তিনি নিজেকে ঐ বিজ্ঞাপনের কথার সাথে খাপ খাওয়াতে পারবেন না। আবার সকাল হতে হতে তার এই বিজ্ঞাপনের কথা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
কিন্তু এই বিজ্ঞাপনটা যদি একটু অন্যরকম হতো। একটা সুন্দর গল্পের মধ্য দিয়ে প্রোডাক্টটা দেখানো হলো। মনে করি Coca-Cola এর বিজ্ঞাপন। সুন্দর একটা পরিবারের মধ্য দিয়ে একটা ঈদের উৎসব দেখানো হচ্ছে, পরে একটা দৃশ্যে দেখানো হলো সোডাকে,এবং তাদের Tagline Share a Coke, Share a feeling দিয়ে বিজ্ঞাপনটা শেষ করা হলো।
সহজেই বোঝা যাচ্ছে কোন বিজ্ঞাপনটা কাস্টমারের উপর বেশি প্রভাব ফেলবে আর কাস্টমার কোন বিজ্ঞাপন অনেকদিন মনে রাখবে।
গতানুগতিক কনটেন্ট থেকে আমরা সুন্দর সুন্দর গল্প বা ম্যাসেজ শেয়ার করতে বেশি পছন্দ করি। এখন কোম্পানি যদি সাধারন একটা বিজ্ঞাপন বানায় তবে মানুষ তা বাধ্য না হলে দেখবে না। আবার একটা সুন্দর বিজ্ঞাপন ইউটিউব থেকেই অনেক ভিউ আর শেয়ার আনতে পারে।
সহজ উদাহরণ গ্রামীনফোন। তাদের স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার এখনও মানুষ এতোটাই আপন করে রেখেছে যে সব রকমের ছুটির আগেই বাসার থেকে দূরে থাকা মানুষরা শেয়ার করে থাকে, অনেকে গানের মতো করেই গাইছে। সুতরাং একটা ইমোশনাল মার্কেটিং একটা সময় পর বিনামূল্যেই কোম্পানির প্রচারে কাজ করে যায় যদি মানুষের মনে দাগ কাটতের পারে।
একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ইমোশনাল মার্কেটিং এর বিজ্ঞাপন কাস্টমারকে প্রোডাক্ট/ সার্ভিস কেনার জন্য প্রায় ৩১% সফলতা পেয়েছিলো যা সাধারন বিজ্ঞাপনের প্রায় দ্বিগুন সাফল্য। [3]
স্পষ্টতই, কোন বিজ্ঞাপনে ইমোশনের প্রভাব বেশি থাকলে তা কাস্টমারকে প্রোডাক্ট/ সার্ভিস কেনার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে থাকে।
এই মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে আসলে অসুবিধা দেখা যায় যখন কোন কোম্পানি মার্কেটিং এর মাধ্যমটা ভালো ভাবে তৈরি করতে পারেনা, অথবা ইমোশনে আঘাত করলেও একটা সমাধান দেখাতে ব্যর্থ হয়।
মাঝে মাঝে কোম্পানি ইমোশনাল মার্কেটিং এর মাঝে কাস্টমারদের উদ্দেশ্য করে যে ম্যাসেজটা দেওয়ার চেষ্টা করে তা দেখা যায় নিজেরাই মানে না, আর কাস্টমাররা এটা ধরতে পারলেই হিতে বিপরীত হয়।
L'Oréal Paris তাদের ইমোশনাল মার্কেটিংএ এই একই ভুলটা করেছিলো।২০২০ সালে Black Lives Matters আন্দোলনের সময় অনেক কোম্পানির মতো L'Oréal Paris ও তাদের মার্কেটিং এর সার্থে এই আন্দোলনের সমর্থন করছিলো আর তাদের সকল মিডিয়াতে তারা Speaking out is Worth it পোস্ট করেছিলো। সাধারন জনগন তাদের সমর্থনের মধ্যে কোম্পানির মার্কেটিং টা ধরতে পেরে কোম্পানির বিরুদ্ধে গিয়েছিলো। আবার L'Oréal Paris তাদের নিজেদের প্রোডাক্ট অ্যাম্বাসেডরের সাথে চুক্তি বাতিল করেছিলো কারন তিনি Black Live Matter এর সাথে রেসিজমের কারন হিসেবে এইসব বিউটি প্রোডাক্টগুলোকেও দায়ী করেছিলেন।
প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের কোয়ালিটি ভালো না করে অনেক কোম্পানি ইমোশনাল মার্কেটিং এর উপর বেশি ফোকাস করে আর এইখানেই কোম্পানির ভালোর থেকে খারাপ বেশি হয়। কারন একদল নতুন কাস্টমার পাওয়ার থেকে কাস্টমারদের ধরে রাখা বেশি কষ্টের, আর মার্কেটের প্রতিযোগিতা অনেক বেশি থাকার কারনে কাস্টমার যদি কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থেকে ভালো রিটার্ন না পায় তবে সেই কোম্পানির প্রোডাক্ট/সার্ভিসে সেই কাস্টমার আর শুধু শুধু টাকা খারচ করবেনা।
কোকাকোলা কোম্পানির ক্যাম্পেইন হিসেবে দুবাই এর প্রবাসী শ্রমিকদের টার্গেট করে ৫টা ভ্রাম্যমান ফোনবুথ বসানো হয়েছিলো শ্রমিক এলাকাগুলোতে। এই ফোন বুথগুলোতে সাধারন কয়েনের বদলে কোকাকোলা সোডা বোতলের ক্যাপ জমা দিতে হতো এবং প্রতি ক্যাপের বিপরীতে একজন ৩মিনিটের একটা ইন্টারন্যাশোনাল কল করতে পারতো। এই ফোন বুথগুলোর নাম দেওয়া হয়েছিলো CocaCola Hello Happiness Phone Booth। পুরো ক্যাম্পেইন চলাকালীন কোকাকোলা এই ফোনবুথের ৪০ হাজার ইউজার পেয়েছিলো।
জীবনের সবথেকে বড় ইমোশনের জায়গাগুলোর মাঝে একটি হচ্ছে বন্ধু, আর সকল ইয়ুথদের কে টার্গেট করে অসাধারণ Tagline “বন্ধু থাকলে সব পসিবল” নিয়ে প্রথম থেকেই তাদের মার্কেটিং চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের ইমোশনাল মার্কেটিং খুব সাধারন একটা বিষয় থেকে শুরু হলেও এইজন্যেই এখন ইয়ুথদের মধ্যে প্রথম পছন্দ হিসেবে আছে এয়ার্টেল এর নাম।
আর Airtel Sylhet Song/Chittagong Song/ Khulna-Barishal Song টিভি এডভার্টাইজও অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো প্রথমদিকে। ২০১৭ তে আসা Viral Vai Song অনেক জনপ্রিয় ছিলো। ২০২১ সালে তাদের কিছু টিভি এডভার্টাইজ আসে ভ্যালেন্টাইন ডে কেন্দ্র করে। অন্যান্য কোম্পানি যখন মার্কেটিং এর জন্য কাপলদের উপর ফোকাস করছিলো সেখানে এয়ার্টেল নিয়ে আসে It’s ok to be Single এডভার্টাইজ যা কিছুদিনের মধ্যেই ১মিলিয়ন ভিউ পেয়ে যায়।
এয়ার্টেল এভাবেই সব সময় ইয়ুথদের কে ইমোশনাল মার্কেটিং এর জন্য ব্যবহার করে মার্কেটে একটা ভালো স্থান নিতে সক্ষম হচ্ছে।
ফ্রূটিকা তাদের tagline একটু বেশিই পিওর এর সাথে মিল রেখে টিভি এডভার্টাইজ এনেছিলো Frutika Inspiring Purity নামে মিডিয়াকম লিমিটেড এর সাথে একটা সততার গল্প তুলে ধরেছিলো। সততা স্টোর নামে একটা স্কুলের দোকান যেখানে কোন বিক্রেতা নেই, কোন সিকিউরিটি নেই কিন্তু সকল ছাত্রছাত্রি তাদের সততার পরিচয় দিয়ে দোকান থেকে কেনাকাটা করে এবং সেখানে কোন প্রকার চুরির ঘটনা কখনও ঘটেনি। এভাবে মানুষের মধ্যে থাকা সততাকে দেখাতে এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইনটি হয়েছিলো এবং ইতিবাচক সাড়াও তারা পেয়েছিলো।
প্রতিদিন রিকশাচালকরা যেভাবে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, হাড়কাপা শীতের ঠান্ডায় কষ্ট করে আমাদের গন্তব্যে পৌছে দেয় সেই চিত্রটি ভ্যাসলিন তাদের টিভি অ্যাডভার্টাইজে তুলে ধরে ছিলো খুব সুন্দর করে। শীতে রিকশাচালকদের ভ্যাসলিনের প্রোডাক্ট সাপ্লাই এর মাধ্যমে পাশে থেকে তাদের ক্যাম্পেইন চলেছিলো যা ছিলো খুবই প্রশংসনীয়।
ইমোশনাল এই মার্কেটিংটা করে অনেক সাড়া না পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর থেকে আলাদা ভাবে কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যে পেরেছিলো তা সহযেই বলা যায়।
গ্রামীণফোন সাধারনত তাদের ইমোশনাল মার্কেটিং করে পরিবারকে কেন্দ্র করে। তাদের প্রায় প্রতিটি বিজ্ঞাপনেই দেখানো হয় পরিবারের একটা শক্ত বন্ধন।
হয়তো পরিবারের কেউ দূরে থাকেন, এখন এই দূরত্বের মাঝেও সংযোগ রাখতে গ্রামীণফোনের সুপার ফাস্ট ফোরজি ইন্টারনেট এর ব্যবহার দেখানো। আবার এমনটাও দেখানো হয় যে অনেকদিন পর পরিবারের সাথে দেখা অথবা এই লেখার প্রায় শুরুর দিকে বলা স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার টিভি অ্যাডভার্টাইজের কথা যা গ্রামীণফোনের ইমোশনাল মার্কেটিং কে এক অন্যমাত্রায় পৌছে দিয়েছিলো।
এদের মার্কেটিং এর মাঝে যে দৃশ্য বা গল্পগুলো দেখানো হয় তার সাথে বাংলাদেশের প্রায় সকল পরিবার নিজেদের মিল খুজে পান আর তাই অন্যান্য সিম কোম্পানির তুলনায় গ্রামীণফোনের সকল প্যাকেজের দাম একটু বেশি হলেও তারা বাংলাদেশের মার্কেটে শীর্ষ স্থান এখনও দখল করে আছে।
বাংলালিংক তাদের Tagline “যেখানেই দিন বদলের চেষ্টা সেখানেই বাংলালিংক” নিয়ে মার্কেটিং করে বাংলার উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে অথবা অনেক বড় ধরনের অনুষ্ঠান দেখানোর মাধ্যমে। বাংলালিংক যখন প্রথম তাদের দেশ অফার নিয়ে আসলো তখন তাদের টিভি অ্যাডভার্টাইজগুলো ছিলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। টিভি নাটক বা সিনেমার মাঝের বিজ্ঞাপন বিরতিও যে বিনোদনের হতে পারে তা বাংলালিংকের বিজ্ঞাপন থেকেই বোঝা গিয়েছিলো। ইমোশনাল মার্কেটিং এর এক নতুন অধ্যায় বাংলাদেশে এসেছিলো বাংলালিংকের হাত ধরেই। আর তাদের বিজ্ঞাপন দর্শকদের আরও ভালো লাগার কারন ইমোশন ছাড়াও সময় দৈর্ঘ্যের কারনে ছিলো। অন্যান্য টিভি অ্যাডভার্টাইজ গুলো যেখানে সর্বোচ্চ ২০ সেকেন্ডের থাকত সেখানে ২ মিনিটের এই বিজ্ঞাপনগুলো একটা ছোট নাটক দেখার মতো ভালোলাগা বাংলালিংকের থেকে পাওয়া যেত।
বাংলাদেশের মার্কেটে অনেক নতুন এসেও ইমোশনাল মার্কেটিংএ অনেক এগিয়ে থেকে বাংলালিংক দ্রুতোতার সাথে অনেক মার্কেট নিজেদের নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছিলো কিন্তু সার্ভিস কোয়ালিটি তুলনামূলক খারাপ থাকায় অনেক কাস্টমার আবার দ্রুতোই হারিয়েছিলো তারা।
এছাড়াও অনেক রকম ইমোশনাল মার্কেটিং এর উদাহরণ সামনে আসে। কোন র্যাঙ্কিং এর ব্যবস্থা থাকলে ইন্ডিয়ান ওয়েব সিরিজ প্লাটফর্ম TVF Player এর নাম থাকবে একেবারে প্রথম সারিতে। ইমোশনাল মার্কেটিংকে এক অন্যমাত্রায় পৌছে দিয়েছে এই প্লাটফর্মটি। Tripling ওয়েব সিরিজে তারা প্রথম সিজনে করেছিলো TIAGO গাড়ির প্রোমশন আর দ্বিতীয় সিজনে DRIVEZY অনলাইন কার রেন্টাল সার্ভিসের বিজ্ঞাপন। পুরা সিরিজ ছিল ফ্যামিলি ইমোশনের উপর, কিভাবে তিন ভাইবোনের অনেকদিন পর দেখা আর ঘটনাচক্রে রোড ট্রিপ করা। আর এই ইমোশনকে ব্যবহার করে তারা একটু পর পর মার্কেটিং করে গিয়েছিলো যা ইমোশনাল মার্কেটিং কে নতুন পরিচিয় দিয়েছে।
আবার The Royal Plate সিরিজে তারা ইন্ডিয়ার অনেক রকম ঐতিহাসিক খাবার এবং জায়গা দেখাতে দেখাতে Behrouz Biryani এর প্রোমশন করে যাচ্ছিল।
এভাবের তাদের প্রায় সকল সিরিজ যেমন Kota Factory ছিলো Unacademy এর, Yeh Meri Family স্পন্সর করেছিল Mutual Funds.
আবার ইউটিউবে থাকা ইন্ডিয়ান একটি চ্যানেলের নাম না বললেই নয়, সেটা হলো FilterCopy । এই চ্যানেলের সব ভিডিওগুলো হয় একটা সুন্দর ইমোশনে ভরা। প্রতিদিনকার কোন একটা ঘটনা, আমাদের একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্ক, তার মধ্যের আনন্দ, দুঃখ, রাগ, মোটিভেশন, ভয় সকল কিছু নিয়েই একটা সুন্দর ভিডিও বানায় আর তার মাঝে থাকে একটা কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের প্রোমশন। কিন্তু খেয়াল না করলে বোঝা যাবে না যে ভিডিওটা একটা সুন্দর ম্যাসেজ, একটা সুন্দর বিনোদন দেওয়ার মাঝে কোন একটা কোম্পানির প্রোমশন করে যাচ্ছে। সুতরাং FilterCopy এর নামও ইমোশনাল মার্কেটিং এর একটা মাধ্যম হিসেবে অনেক জনপ্রিয় একটি নাম। আর এর সাথে সাথে DiseMedia এর নামও চলে আসে।
সময়ের সাথে সাথে প্রতিটা কোম্পানি মার্কেটে একটা আলাদা স্থান দখল করতে সবসময় নিত্বনতুন মার্কেটিং এর উপায় বের করে গেছে। আর বর্তমান সময়ে ইমোশনাল মার্কেটিং তার মধ্যে শীর্ষে আছে। আর এই স্ট্র্যাটেজিকাল ইমোশনাল মার্কেটিংএ সবসময় পরিবর্তন আসছে, নতুন নতুন ধারনা যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু মার্কেটিং এর সাথে সাথে যেন প্রোডাক্ট/সার্ভিসের মান সমানুপাতিক ভাবে উন্নত হয় সেই ব্যপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।








