মার্কেটিং মায়োপিয়া কী? মার্কেটিং মায়োপিয়া নিয়ে বিস্তারিত

687
article image

সময়ের সাথে বাজার চাহিদা পরিবর্তিত হয়, এবং সফল কোম্পানিগুলি এই পরিবর্তনগুলোর সাথে নিজেদের পণ্য পরিবর্তন করে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। অন্যদিকে বাজার এবং গ্রাহক চাহিদার পরিবর্তনের সাথে কোনো কোম্পানি তার পণ্য পরিবর্তন না করলে সেটা মার্কেটিং মায়োপিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একটি কোম্পানি যখন শুধুমাত্র তার পণ্যের উপর ফোকাস করে, তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয় এবং গ্রাহকের চাহিদা উপেক্ষা করে তার পণ্য বা সার্ভিসের ব্যাপক জনপ্রিয়তার দিকে নজর দেয় তখন সেটি হচ্ছে মার্কেটিং মায়োপিয়া।

Key Points

  • মার্কেটিং মায়োপিয়া, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে থিওডোর লেভিটের একটি আর্টিকেলে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  • যখন একটি কোম্পানি মার্কেট বা গ্রাহক চাহিদার চেয়ে বিক্রয়ের উপর বেশি মনোযোগ দেয়, তখনই সেটা মার্কেটিং মায়োপিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • মার্কেটিং মায়োপিয়া দীর্ঘমেয়াদী মার্কেটিং এর চেয়ে স্বল্পমেয়াদী মার্কেটিং এ বেশি প্রাধান্য দেয়।
  • মার্কেটিং মায়োপিয়ার অন্তর্ভুক্ত কোম্পানি তাদের পণ্যের চাহিদা না জেনেই ব্যপক উৎপাদন করে।

মার্কেটিং মায়োপিয়া কী?

"মার্কেটিং মায়োপিয়া" মুলত সেই মার্কেটিং অবস্থান বা ফাঁদকে বর্ণনা করে যখন একটি কোম্পানি দ্রুত বিক্রয় এবং পণ্যের ব্যাপক উৎপাদনের উপর বেশি মনোযোগ দেয় এবং ফলস্বরুপ তারা তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং গ্রাহকের চাহিদাগুলি হারিয়ে ফেলে।

মার্কেটিং মায়োপিয়া গ্রাহকদের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা না করেই দ্রুত ফলাফল পাওয়ার দিকে ফোকাস করে এমন একটি কোম্পানিকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, মার্কেটিং মায়োপিয়া ধারণার অর্থ হলো কোনো ব্যবসা বাড়ানোর জন্য ভোক্তাদের চাহিদা উপেক্ষা করা।

মার্কেটিং মায়োপিয়া এমন একটি অবস্থা যা একটি দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং বৃদ্ধির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদী বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করে।

যখন একটি কোম্পানি উচ্চ দামে মনোযোগী গ্রাহকদের জন্য উচ্চ-মানের পণ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ করে এবং শুধুমাত্র মূল্যের সাথে উদ্বিগ্ন থাকে, তখন এটি মার্কেটিং মায়োপিয়ার একটি ক্লাসিক উদাহরণ এর ভিতরে পড়ে।

মার্কেটিং মায়োপিয়া হচ্ছে মার্কেটিং এর একটি অবস্থা যা সর্বপ্রথম ১৯৬০ সালে থিওডর লেভিট হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ মার্কেটিং পেপারে বর্ণনা করেছিলেন। [1]

মার্কেটিং মায়োপিয়ার উদাহরণ

মার্কেটিং মায়োপিয়া নিয়ে ভুগেছে বা ব্যর্থ হয়েছে, এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

Kodak

একটা সময় ছিল যখন কোডাকের ক্যামেরা বাজারের শীর্ষ অবস্থানে ছিল, তবে তারা বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের ক্যামেরা তৈরি করতে থাকে। পরবর্তীতে Sony কোম্পানি যখন মার্কেটের ডিজিটাল ক্যামেরা লঞ্চ করে, তখন Sony এর ক্যামেরাগুলি একটি বিশাল সাফল্য লাভ করেছিল।

কোডাক সোনি ক্যামেরার কাছে তার বেশিরভাগ অংশ হারিয়েছে যখন ডিজিটাল ক্যামেরাগুলি বেড়েছে। কিন্তু কোডাক এটির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং পরিকল্পনাও করেনি।

এটি কেন মার্কেটিং মায়োপিয়ার উদাহরণ হলো?

এটি সময়ের সাথে সাথে পণ্য আপডেট করেনি, যা কি না মার্কেটিং মায়োপিয়া সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

Nokia

২০০০ থেকে ২০০৬ সালের দিকে নোকিয়ার বাটন প্যাড ফোনগুলি বাজারের শীর্ষে ছিল এবং পুরো বাজার নোকিয়ার শেয়ারে ছিল। কিন্তু পরিবর্তনশীল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে নোকিয়া তার পণ্য পরিবর্তন করেনি।

পরবর্তীতে ঠিক ১০ বছর পর, ২০১৬ সালের দিকে, নোকিয়া তার পুরো জনপ্রিয়তা হাড়িয়ে ফেলে। কারণ স্যামসাং এবং আইফোন এর মতো উন্নত ফোনগুলো পুরো মার্কেট এর শেয়ার দখল করে যা একসময় নকিয়ার ছিল।

অবশেষে, নোকিয়া অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএসের কাছে তার মার্কেটিং শেয়ার হারাচ্ছে।

কোনো একটি কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্কেটিং মায়োপিয়া তখনই ঘটবে যখন এটি গ্রাহক, বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ না করে নিজেদের মতো করে পণ্য তৈরি করে যাবে। অর্থাৎ, নোকিয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটিং মায়োপিয়ার অবস্থা লক্ষ্য করা যায়।

Blackberry

২০০৬ সালের দিকে ব্ল্যাকবেরির ফোনগুলি ৫০% মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০% বিশ্বে বাজারের অংশীদারিত্বে ছিল৷ কিন্তু যখন স্মার্টফোনগুলি বাজারে আনা হয়েছিল, তখন ব্ল্যাকবেরির বাজার হ্রাস পেতে শুরু করেছিল৷

বর্তমানে, স্মার্টফোনের রাজত্বে ব্ল্যাকবেরি বাজারের ০% দখল করে।

ব্ল্যাকবেরির অবস্থা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে প্রায় নোকিয়া এবং কোডাকের মতোই এর ব্যর্থতার পর্ব শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, ব্ল্যাকবেরিও মার্কেটিং মায়োপিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উদাহরণ।

Yahoo

ইয়াহু! ২০০০ সালে যার মূল্য ছিল $১০০ বিলিয়ন ডলার। পরিবর্তিতে গুগল এর কাছে হেরে যায় এবং ভেরাইজন (একটি আমেরিকান ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক অপারেটর) এটিকে কিনে নেয়। ২০০০ সালের সাথে তুলনা করলে, ২০১৬ সালে এর মূল্য হয় $৫ বিলিয়ন।

ইয়াহুর দিকে লক্ষ্য করলেও দেখা যাচ্ছে এটি মূলত সময়ের সাথে আপডেট হতে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে গুগল এর কাছে হার মেনেছে। অর্থাৎ, ইয়াহু’তে মার্কেটিং মায়োপিয়ার অবস্থা লক্ষ্য করা যায়।

মার্কেটিং মায়োপিয়ার কারণসমূহ

মার্কেটিং মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে এটি কোনো অস্বাভাবিক প্রশ্ন নয় যে কিসের জন্য মার্কেটাররা মার্কেটিং মায়োপিয়ার মতো এত নিম্ন মানের মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করেন।

বিভিন্ন কোম্পানী বিভিন্ন কারণে মার্কেটিং মায়োপিয়ার দিকে ধাবিত হতে পারে। মার্কেটিং মায়োপিয়া হওয়ার সাধারণ কিছু কারন নিম্নে তুলে ধরা হয়েছে:

কোম্পানিগুলো ধরে নেয় তারা একটি গ্রোথ ইন্ডাস্ট্রিতে আছে

মার্কেটিং মায়োপিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, এটি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়ার মতো কোনো প্রক্রিয়া নয়। কেননা একটি পণ্যকে মানসম্মত করতে অর্থাৎ একটি পণ্যের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

একটি কোম্পানি যদি তার কোনো পণ্যের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে, তখন সেই পণ্যটির চাহিদা বাজারে সবচেয়ে বেশি থাকে এবং দীর্ঘ দিন এই পণ্যটি বাজারের সর্বোচ্চ স্থানে থাকে।

যাইহোক, বাজারের সর্বোচ্চ স্থানে থাকাটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠে। গ্রাহকদের চাহিদার দিকে নজর না দিয়ে তারা তাদের পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকে যাতে তারা তাদের সকল পণ্য বিক্রি করতে পারে।

যেহেতু তাদের পণ্যের চাহিদা বেশি এবং তারাই এই পণ্যের একমাত্র প্রস্তুতকারক, তাই তারা তাদের পণ্যের পরিমান বাড়াতে থাকে। গ্রাহকদের চাহিদা কি সেদিকে নজর দেওয়ার পরিবর্তে, গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন না করে তারা কিভাবে তাদের পণ্যগুলো বিক্রি করা যায় সেই দিকে মনযোগ দিয়ে থাকে।

কোম্পানিগুলি বিশ্বাস করে যে তাদের কোনো প্রতিযোগিতা নেই

যখন একটি কোম্পানি কোনো প্রতিযোগী ছাড়াই বাজারে একমাত্র প্রযোজক থাকে, তখন তারা বিশ্বাস করে যে তাদের পণ্যগুলো চিরকাল একইভাবে জনপ্রিয় থাকবে এবং তারাও সর্বদা শীর্ষে থাকবে।

এই ভুল ধারনার জন্য তারা একই রকম পণ্য প্রস্তুত করতে থাকে এবং আরও ভালো কিছু প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে না। পাশাপাশি, তাদের পণ্যটিকে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত করে না এবং এই পণ্যে ইনভেস্ট করা বন্ধ করে দেয়। এতে দেখা যায় অন্য একজন প্রতিযোগী আরও কিছু উন্নত গুণ সম্পন্ন পণ্য নিয়ে আসে এবং পুরো মার্কেটের শেয়ার দখল করে ফেলে।

গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে ব্যর্থতা

মার্কেটিং মায়োপিয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হচ্ছে গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করা। এর পেছনের কারণ হচ্ছে, গ্রাহকদের চাহিদাকে মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হওয়া।

তারা তাদের পণ্যের প্রতি এত বেশি বিশ্বাসী হয়ে পরে যে তাদের গ্রাহকরা কি রকম পণ্য চাচ্ছে তার দিকে নজর দেয় না, এমনকি তাদের পণ্য গ্রাহকরা চায় কিনা তাও জানার প্রয়োজন বোধ করে না। এর ফলে বাজারে যখনই অন্য কোনো প্রতিযোগী আসে তখনি উক্ত প্রতিযোগী গ্রাহকের চাহিদা পুরন করে মার্কেটের পুরো শেয়ার নিয়ে নেয়।

ব্যবসায় নিম্ন ফোকাস

যদি একটি কোম্পানি শুধুমাত্র পণ্য বিক্রয়ের উপর মনোযোগ দেয়, তবে এটি মার্কেটিং মায়োপিয়া বা স্বল্পমেয়াদী বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরুপ, কোনো কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট ধরণের পণ্য তৈরি এবং উৎপাদনে মনোযোগ দেয়, এক্ষেত্রে সেই কোম্পানিটি বাজার এবং গ্রাহক চাহিদায় ওই পণ্য সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলো মিস করে যায়।

অর্থাৎ, কোনো কোম্পানির তাদের ব্যবসার দিকে নিম্ন ফোকাস করা (শুধু পণ্যে ফোকাস, গ্রাহক চাহিদা বা মার্কেটিং পরিবর্তনে ফোকাস করে না) মার্কেটিং মায়োপিয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হতে পারে।

সীমিত গবেষণা কৌশল

একটি সফল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে গবেষণা খুবই প্রয়োজনীয় অংশ। কোনো কোম্পানি সীমিত গবেষণা পরিচালনা করলে মার্কেটিং মায়োপিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। এক্ষেত্রে এর থেকে মুক্তি পেতে চাইলে গবেষণার পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে।

ভবিষ্যতে মায়োপিয়া মার্কেটিং

ড্রাই ক্লিনার - নতুন ধরনের ফাইবার এবং রাসায়নিকের ফলে ড্রাই ক্লিনারের চাহিদা কম হবে।

মুদির দোকান - ডিজিটাল লাইফস্টাইলে একটি পরিবর্তন মুদির দোকানগুলোর চাহিদা হ্রাস করছে।

ফেসবুক: নতুন GDPR এবং ডেটা গোপনীয়তার নিয়মের সাথে, Facebook কে হয় তার ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তন করতে হবে অথবা এটি অন্যান্য ডেটা-গোপনীয়তা-কেন্দ্রিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেট শেয়ার হারাতে পারে।

মার্কেটিং মায়োপিয়ার ঝুঁকি

মার্কেটিং মায়োপিয়া, যা মার্কেটিং ফাঁদ নামেও পরিচিত, কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্টের প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করার পরিবর্তে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী মার্কেটিং লক্ষ্যগুলিতে ফোকাস করার প্রবণতা দেখায়।

যেসব মার্কেটাররা মার্কেটিং মায়োপিয়া দ্বারা ভুগেন, প্রায়ই তারা তাদের ক্লায়েন্ট এবং গ্রাহক হারিয়ে থাকেন। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, তারা সময়ের সাথে সাথে গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তন করতে পারে না এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা তাদের গ্রাহকদের চাহিদা এবং ইচ্ছার সাথে তাল মেলাতে পারে না।

মার্কেটিং মায়োপিয়া কিভাবে এড়ানো বা কমানো যায়?

একটি কোম্পানি মার্কেটিং মায়োপিয়া এড়াতে অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে। নিচে কিছু উল্লেখ করা হলোঃ

গ্রাহক-ভিত্তিক কৌশলগুলি ডিজাইন করে

আপনার কোম্পানির কৌশলগুলো এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যেন তা গ্রাহক ভিত্তিক হয়। কারণ গ্রাহক হচ্ছে ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে গ্রাহক ছাড়া আপনার ব্যবসার সফলতা কিংবা বৃদ্ধি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য কোম্পানির কৌশল সর্বদা গ্রাহক- ভিত্তিক ডিজাইন করুন। গ্রাহকের প্রয়োজন, চাহিদার উপর ফোকাস করুন।

গ্রাহক-ভিত্তিক হন, পণ্য-ভিত্তিক নয়

এই পুরো আর্টিকেল জুড়ে হয়তো আপনি এই ব্যপারটি বেশি লক্ষ্য করেছেন। হ্যাঁ, একটি ব্যবসা বা কোম্পানির সফলতা লাভের ক্ষেত্রে পণ্য- ভিত্তিক হওয়ার চাইতে গ্রাহক- ভিত্তিক হওয়ার উপর জোড় দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যা বাজার- ভিত্তিক নামেও পরিচিত।

সেক্ষেত্রে, গ্রাহকের চাহিদা এবং পণ্যের প্রয়োজনীয়তার উপর ফোকাস করা আবশ্যক, যা কি না একটি পণ্যের চাহিদা হ্রাস করার পরিবর্তে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রস্তুত করা

কোনো কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তাদের জন্য পরিকল্পনা করে আরও কার্যকর মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করতে পারে। প্রফেশনাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দিকে জোড় দেওয়া খুবই উপকারী।

এছাড়াও আপনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলোর সাথে স্বল্পমেয়াদী উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করে আপনার কোম্পানির বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারেন।

বিক্রির চেয়ে মার্কেটিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এমন অনেক গ্রাহক আছেন, যারা কোনো পণ্যের গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্যগুলির উপর ভিত্তি করে পণ্য ক্রয় করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই প্রকৃতপক্ষে কোনো পণ্য তাদের সাহায্য করে কি না তার উপর ভিত্তি করে পণ্য ক্রয় করে।

এক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি যদি তার পণ্যে গ্রাহকের উপযোগী বা সাহায্যকারী- এমন বৈশিষ্ট্য বা গূণ নিয়ে আসতে না পারে, কোম্পানি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সমাধান হিসেবে, বিক্রির চেয়ে মার্কেটিং কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

পণ্য প্রচার করা

আপনি যদি আপনার কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি গড়ে তুলতে চান, সেক্ষেত্রে বর্তমান পণ্য প্রচার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি একটা দীর্ঘ সময় ধরে আপনার পণ্যের প্রচারণা চালিয়ে যান, তাহলে আপনার কোম্পানি বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের কাছে প্রসারিত হতে থাকবে। এর মাধ্যমে মানুষজনের আপনার পণ্য নিয়ে জানার পাশাপাশি, আপনার পণ্য খ্যাতি অর্জন করতেও সক্ষম হতে পারে।

এছাড়াও আরও কিছু পদক্ষেপঃ

  • গ্রাহকের চাহিদা ও প্রয়োজন মাথায় রাখতে হবে
  • কোম্পানিতে এমন পণ্য রাখা উচিত যা গ্রাহকের সমস্যা সমাধান করে গ্রাহকের জীবনে কিছু মান যোগ করতে সক্ষম হবে
  • নতুন ধারণা ও পথ অবলম্বন করতে হবে

মার্কেটিং মায়োপিয়ার গুরুত্ব

কোনো একটি কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্কেটিং মায়োপিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে যখন কি না কোম্পানিটি মার্কেটিং মায়োপিয়াকে যথাযথ ভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। মার্কেটিং মায়োপিয়া মূলত সেই সময়কালকে নির্দেশ করে যখন একটি পণ্য মূলত আর গ্রাহক চাহিদার সাথে তাল মেলাতে পারে না। এক্ষেত্রে কোম্পানির উচিত মার্কেট, গ্রাহক চাহিদা নিয়ে গভেষণা করা তারপর তাদের পণ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসা এবং গ্রাহক চাহিদা পূরণ করা।

উপসংহার

এই ব্লগ আর্টিকেলটি আশা করি মার্কেটিং মায়োপিয়া নিয়ে আপনার সকল দ্বিধা দূর করেছে। মার্কেটিং এ সফলতা অর্জন করতে হলে কোনো কোম্পানির উচিত পণ্য এবং গ্রাহকের চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তা- এই দুইয়ের উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া।

গ্রাহকের চাহিদা, প্রয়োজন শনাক্ত করা, আগামী দিনগুলোতে তাদের চাহিদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেগুলো নিয়ে জানা এবং বিশ্লেষণ করা, তারপর সেই অনুযায়ী পণ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসা ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যবসা বা কোম্পানির ক্ষেত্রে সফলতা লাভের আশা করা যায়।

  • Article Source
  • https://www.masterclass.com/articles/marketing-myopia#origins-of-the-terms-marketing-myopia
  • https://www.cleverism.com/ultimate-guide-to-marketing-myopia/
  • https://marketsplash.com/marketing-myopia/
  • https://seoaves.com/what-is-marketing-myopia-definition-and-examples/
  • https://www.indeed.com/career-advice/career-development/what-is-myopic-marketing
  • Facts and Figures Sources
  • https://www.routledge.com/An-Analysis-of-Theodore-Levitts-Marketing-Myopia/Diderich-Mamali/p/book/9781912127337
  • Example Sources
  • https://www.feedough.com/marketing-myopia/
  • https://www.marketingtutor.net/what-is-marketing-myopia/
Next to read
Canvas & Methods
সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)
সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)

ইম্প্যাথি ম্যাপিং মূলত একধরনের ট্যুলস। এটি গ্রাহকদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভব, উপলব্ধি সহ নানাবিধ তথ্য, উপাত্ত এর সমন্বয়ে গঠিত সুশৃঙ্খল এবং সুবিন্যস্ত একটি চার্ট। উল্লেখিত বিষয় সমূহ সম্পর্কিত তথ্য উপাত্তের খুব চমৎকার একটা ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন পাওয়া যায় এই ইম্প্যাথি ম্যাপিং এর মাধ্যমে। যা মূলত আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে ভালভাবে বুঝতে সহায়তা করে।

কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)
Business Models
কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)
সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)
Marketing
সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)
রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example
Business
রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example
লোগোর প্রকারভেদ (Types of Logos)
Logo
লোগোর প্রকারভেদ (Types of Logos)
লোগোর উদাহরন (Example of Logos)
Logo
লোগোর উদাহরন (Example of Logos)
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
Sales
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
অ্যাম্বুশ মার্কেটিং (Ambush Marketing)
Marketing
অ্যাম্বুশ মার্কেটিং (Ambush Marketing)
সেলস টার্গেট অর্জনের জন্য ১০টি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ টিপস
Sales
সেলস টার্গেট অর্জনের জন্য ১০টি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ টিপস
হোয়াইট লেবেল নাকি প্রাইভেট লেবেল ই কমার্স?
E-Commerce
হোয়াইট লেবেল নাকি প্রাইভেট লেবেল ই কমার্স?