Fiscal policy (Definition, Examples, Importance, & Facts)

434
article image

কোনো অর্থবছরে সরকার কোন খাত থেকে কি পরিমাণ অর্থ কর হিসেবে সংগ্রহ করবে এবং কোন খাতে কি পরিমাণ অর্থ খরচ করবে, তার পরিকল্পনাকেই মূলত ফিসকাল পলিসি বা রাজস্বনীতি বলা হয়। ফিসকাল পলিসির উৎপত্তি হয়েছিল জন ম্যায়নার্ড কিনেসের হাত ধরে। বর্তমানে দুই ধরণের ফিসকাল পলিসি দেখতে পাওয়া যায়, যথা সম্প্রসারণমূলক ফিসকাল পলিসি এবং সংকোচনমূলক ফিসকাল পলিসি। ফিসকাল পলিসির কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে - সরকারি খরচ, করারোপণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা।

Key Points

  • ফিসকাল পলিসি ও মনিটারি পলিসির মাঝে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, মনিটারি পলিসি তৈরি করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ফিসকাল পলিসি তৈরি করে থাকে সরকার।
  • আমেরিকান ফিসকাল পলিসির বেশিরভাগ আইডিয়া এসেছিল জন ম্যায়নার্ড কিনেস (১৮৮৩ - ১৯৪৬) - এর থেকে।
  • সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূলত মন্দা থেকে বের হওয়ার জন্য অথবা অর্নৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করা হয়।

ভূমিকা

কখনো কি খেয়াল করে দেখেছেন যে, প্রতি বছর সংসদে বাজেট পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন ধরণের পণ্য বা সেবার মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়? কেনো এমনটি হয়? কারণ, বাজেটে সরকারের ফিসকাল পলিসি তুলে ধরে হয়। অর্থাৎ, আগামী অর্থবছরে সরকার কোন খাতে কি পরিমাণ খরচ করবে এবং কোন খাত থেকে কি পরিমাণ কর সংগ্রহ করবে তা বাজেটে লেখা থাকে। যেসব খাতে প্রণোদনা দেয়া হয়, সেসব খাতের পণ্য ও সেবার মূল্য হ্রাস পায়। আবার যেসব খাতে করের হার বৃদ্ধি করা হয়, সেসব খাতের পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পায়। করের হার বৃদ্ধি বা হ্রাস ও সরকারি খরচ নির্ধারণ, এই সবই সরকারের ফিসকাল পলিসি বা রাজস্বনীতির অংশ।

ফিসকাল পলিসি কী?

ফিসকাল পলিসিকে বাংলায় রাজস্ব-নীতি বলা হয়। ফিসকাল পলিসি হচ্ছে সরকারি খরচ ও ট্যাক্সের হার পরিবর্তন করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি মাধ্যম। ফিসকাল পলিসি দ্বারা সাধারণত ম্যাক্রোইকোনমিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ, ফিসকাল পলিসি দ্বারা বিভিন্ন পণ্য ও সেবার চাহিদা, কর্মসংস্থানের হার, মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রভাবিত হয়।

অর্থনৈতিক মন্দা চলাকালীন সময়ে সরকার নিজের খরচ বৃদ্ধি করে অথবা ট্যাক্সের হার কমিয়ে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে পারে। একইভাবে, মুদ্রাস্ফীতি চলাকালীন সময়ে সরকার ঠিক বিপরীত কাজ করে। অর্থাৎ, এই সময়ে সরকার ট্যাক্সের হার বাড়িয়ে দেয় এবং সরকারি খরচ কমিয়ে আনে। এতে করে পণ্যের চাহিদা কমে যায় এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম হ্রাস হয়।

ফিসকাল পলিসি বনাম মনিটারি পলিসি

ফিসকাল পলিসি ও মনিটারি পলিসির মাঝে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, মনিটারি পলিসি তৈরি করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ফিসকাল পলিসি তৈরি করে থাকে সরকার। মনিটারি পলিসি দ্বারা সাধারণত মাইক্রোইকোনমিক পরিস্থিত প্রভাবিত হয় এবং ফিসকাল পলিসি দ্বারা ম্যাক্রোইকোনমিক পরিস্থিতি প্রভাবিত হয়। মনিটারি পলিসি দ্বারা সাধারণত অর্থনীতিতে মুদ্রার পরিমাণ ও মান নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। অপরদিকে, ফিসকাল পলিসি ট্যাক্সের হার ও সরকারি খরচকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কার্যক্রমে পার্থক্য থাকলেও, ফিসকাল পলিসি ও মনিটারি পলিসির মূল লক্ষ্য প্রায় একই, তা হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

ফিসকাল পলিসির উৎপত্তি

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এখন ফিসকাল পলিসি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমেরিকান স্টাইল ফলো করা হয়। আর আমেরিকান ফিসকাল পলিসির বেশিরভাগ আইডিয়া এসেছিল জন ম্যায়নার্ড কিনেস (১৮৮৩ - ১৯৪৬) - এর থেকে। তিনি মনে করতেন যে অর্থনৈতিক মন্দা মূলত সাধারণ জনগণের খরচের প্রতি অনীহা এবং ব্যবসায়ে বিনিয়োগের চাহিদা থেকে উৎপত্তি হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সরকার নিজের খরচ ও ট্যাক্সের হার নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক মন্দার সময় পিছিয়ে দিতে এবং অর্থনৈতিক মন্দাকে স্ট্যাবিলাইজ করে আনতে পারে।

মূলত ১৯৩০’র দশকের মহামন্দার আগে বেশিরভাগ দেশ ক্লাসিকাল ইকোনমি মেনে চলতো। যেখানে বিশ্বাস করা হতো যে অর্থনৈতিক মন্দা একা একাই আসে এবং নিজে থেকেই একসময় চলে যায়। মূলত এই ধরণের মহামন্দা যেন আর তৈরি না হয়, তার চেষ্টাতেই কিনেস তার থিওরিগুলো ডেভেলপ করেন। সেই মহামন্দার পর থেকে আমেরিকায় বিভিন্ন পাবলিক প্রজেক্ট ও সামাজিক কার্যকলাপে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করা শুরু হয়, যার মাধ্যমে মহামন্দার প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়েছিল।

কিনেসের তৈরি ইকোনমিক থিওরিগুলোকে একত্রে কিনেসিয়ান ইকোনমিক্স বলা হয়। এই মতবাদ অনুযায়ী, দেশের মোট চাহিদা বা খরচই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মোট চাহিদাকে ইংরেজিতে অ্যাগ্রিগেট ডিমান্ড বলা হয়, যা ভোক্তাদের খরচ, ব্যবসায় বিনিয়োগ, সরকারের নেট খরচ ও নেট রপ্তানির সমন্বয়ে তৈরি।

ফিসকাল পলিসির উদাহরণ

১৯৩০’র দশকের মহামন্দার সময়ে আমেরিকায় বেকারত্বের হার প্রায় ২৫% হয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ নিজেদের জীবিকা হারিয়ে পথে চলে আসেন। তাই সেই সময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট দায়িত্বে আসার পর পরই সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি কি, সেই বিষয়ে আমরা একটু পরেই বিস্তারিত জানবো। তবে এই নীতির আলোকে তিনি সরকারের খরচ বৃদ্ধি করেন এবং নতুন করে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রোগ্রাম চালু করে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রোগ্রাম ও সরকারের বারতি খরচের সাহায্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা এই মহামন্দা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে।

ফিসকাল পলিসির প্রকারভেদ

আমরা সাধারণত দুই ধরনের ফিসকাল পলিসির উদাহরণ দেখতে পাই।

১। Expansionary Fiscal Policy বা সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি

২। Contractionary Fiscal Policy বা সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি

এই দুই ধরণের ফিসকাল পলিসি সম্পর্কে আমরা এখন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।

Expansionary Fiscal Policy বা সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি

সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি মূলত মন্দা থেকে বের হওয়ার জন্য অথবা অর্নৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হয়। সাধারণ সময়ে যেকোনো দেশেই সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করা হয়। এই নীতিতে সরকার করের হার কমিয়ে দেয় । মূল ফিলোসফি হচ্ছে এই যে, করের হার কমিয়ে দিলে মানুষের হাতে খরচ করার জন্য বেশি পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকবে। এই অর্থ খরচ করে তারা পণ্য বা সেবা ক্রয় করবে অথবা বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগ করবে।

এতে করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বৃদ্ধি পাবে এবং তারা বেশি পরিমাণ বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারবে। এইভাবে আল্টিমেটলি দেশের কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধি পাবে। আবার সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই যেহেতু প্রচুর পরিমাণে কর্মী নিয়োগ দিতে চাইবে, তাই কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কর্মী ধরে রাখতে বেতন বৃদ্ধি করবে। এতে করে আল্টিমেটলি সাধারণ মানুষের হাতে আরো বেশি পরিমাণ অর্থ আসবে এবং তারা আরো বেশি পরিমাণ খরচে উৎসাহী হবে।

আবার করের হার পরিবর্তন না করে সরকার চাইলে নিজের খরচ বৃদ্ধি করেও সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি বাস্তবায়ন করতে পারে। এইক্ষেত্রে সরকার সাধারণত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক প্রজেক্ট বাস্তবায়ন শুরু করে। এতে করে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হয় ও পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতির আল্টিমেট ফলাফল হচ্ছে বাজেট ঘাটতি। অর্থাৎ, এই নীতিতে সরকার করের মাধ্যমে যেই পরিমাণ রেভিনিউ কালেক্ট করে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন খাতে খরচ করে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করা হয়।

Contractionary Fiscal Policy বা সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি

মূলত মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করা হয়। সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি অনুসারে সরকার করের হার বৃদ্ধি করে অথবা সরকারি খরচ কমিয়ে আনে, অনেক সময় উভয় কাজ একসাথে করতে হয়। যখন মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেড়ে যায়, তখন সরকার করের হার বাড়িয়ে দেয়, এতে করে সাধারণ মানুষের হাতে খরচ করার জন্য অল্প পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকে এবং পণ্য ও সেবার চাহিদা কমে যায়।

সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় দেশে মন্দা শুরু হয়ে যেতে পারে। আবার এই নীতির কারণে বেকারত্বের হার’ও অনেক বেড়ে যায়। তাই একেবারে শেষ সীমানায় না পৌছানো অব্দি কোনো সরকারই সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করতে চায় না। বলা বাহুল্য, যেসব সরকার এই নীতি অনুসরণ করেন, তাদের জনপ্রিয়তা অনেকাংশেই কমে যায়।

সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতিতে যেখানে বাজেট ঘাটতি তৈরি করা হয়, সংকোচনমূলক রাজস্বনীতিতে সেখানে বাজেট অতিরিক্ত অর্থ থাকে। মূল্যস্ফীতির হার কমে আসলে সরকার আবার সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করে।

ফিসকাল পলিসির উদ্দেশ্য

ফিসকাল পলিসির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্থনীতিকে মন্দার হাত থেকে রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

১। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা

ফিসকাল পলিসির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্থনীতিকে ক্রমান্বয়ে বড় হতে সাহায্য করা। তবে এই বিষয়ে সরকারকে খুব সাবধানে কাজ করতে হয়। কারণ, সরকারি খরচ বৃদ্ধি করলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন হয় ঠিকই, তবে অনেক বেশি খরচ করে ফেললে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। আবার সরকারি খরচ বেশি কমিয়ে ফেললে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে বেকারত্বের হার বেড়ে যেতে পারে।

২। কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধি

ফিসকাল পলিসির মাধ্যমে সরকার নতুন নতুন প্রজেক্ট হাতে নেয়। সেখান থেকে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। আবার বিভিন্ন সেক্টরের করের হার কমিয়ে দিয়ে সরকার ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা প্রদান করে। এতে করে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এবং কর্মসংস্থান তৈরি করে।

৩। মূল্যের স্থিতিশীলতা

মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ফিসকাল পলিসি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে সরকার করের হার বাড়িয়ে দেয় এবং সরকারি খরচ কমিয়ে এনে। এতে করে একটা নির্দিষ্ট সময় পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

৪। আয়ের সমতা

সমাজে ধনী ও দরিদ্র শ্রেণীর মাঝে ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিসকাল পলিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই অনেক দেশে প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন নীতি ফলো করা হয়। এই নীতি অনুযায়ী আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে করের হার’ও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে তার মানে এই নয় যে সরকার ধনীদের থেকে নিয়ে তা দরিদ্র শ্রেণীকে দিয়ে দেয়। করের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সরকার বিভিন্ন সামাজিক প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে যাতে করে সকল শ্রেণীর মানুষ নিজের জীবনকে সুন্দর করে তোলার সমান সুযোগ পায়।

ফিসকাল পলিসির কমপোনেন্ট

ফিসকাল পলিসির কমপোনেন্ট মূলত ৩টি।

১। সরকারি খরচ

সরকারি খরচ ফিসকাল পলিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমপোনেন্ট। তবে এখানে সরকার মোট কতো টাকা খরচ করছে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে সরকার আসলে কোন সেক্টরে কি পরিমাণ খরচ করছে, যেমন - স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি। সরকার যেসব সেক্টরে বেশি পরিমাণ খরচ করে, সেসব সেক্টর সাধারণত দ্রুত উন্নতি করে এবং বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

২। করারোপণ

জনগণের উপর কর আরোপ করে সরকার বিভিন্ন খাতে খরচ করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। বেশি কর আরোপ করলে সরকারের আয় বেশি হয় এবং বিভিন্ন সরকারি খাতে বেশি খরচ করা সম্ভব হয়। কর আরোপ করার মাধ্যমে কি কি উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব হয় সেই বিষয়ে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

৩। ঋণ ব্যবস্থাপনা

আগেই বলেছি যে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করলে বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়। আর বেশিরভাগ দেশই সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করে। আর বাজেটের এই ঘাটতি সরকার পূরণ করে বিভিন্ন সংগঠনের থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাই ফিসকাল পলিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ঋণ ব্যবস্থাপনা। সরকার কোন স্থান থেকে কি পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করবে এবং সেই ঋণ কতো বছরের মাঝে পরিশোধ করবে তা নিয়ে সরকারকে অনেক আগে থেকে ভাবতে ও পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়।

পরিসংহার

অর্থনৈতিক মন্দার সময় সরকার ফিসকাল পলিসি ব্যবহার করে অর্থনীতির চাকা আবারো সচল করার চেষ্টা করে। ফিসকাল পলিসির কারণে অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়, কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং আয়ের অসমতা কমে আসে। আবার ফিসকাল পলিসির খারাপ দিক হচ্ছে এই যে, ফিসকাল পলিসি অনেক সময়ই সরকারি দলের ফিলোসফি দ্বারা প্রভাবিত হয়। তবে সমস্যা যাই হোক, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে যথাযথ ফিসকাল পলিসির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন বিশ্বায়নের ফলে অর্থনীতি যেকোনো উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, তখন ফিসকাল পলিসি ব্যবহার করে সরকারের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করার কোনো বিকল্প নেই। 
 
 
 


  • https://www.imf.org/en/Publications/fandd/issues/Series/Back-to-Basics/Fiscal-Policy
  • https://economictimes.indiatimes.com/definition/fiscal-policy
  • https://www.britannica.com/money/topic/fiscal-policy
  • https://www.businessnewsdaily.com/3484-fiscal-policy.html
  • https://www.investopedia.com/insights/what-is-fiscal-policy/
  • https://corporatefinanceinstitute.com/resources/economics/what-is-fiscal-policy/
  • https://www.businessinsider.com/personal-finance/fiscal-policy
  • https://www.financestrategists.com/wealth-management/macroeconomics/fiscal-policy/
Next to read
Canvas & Methods
সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস (Social Business Model Canvas)
সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস (Social Business Model Canvas)

সামাজিক উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আরো সহজ করে দেয় সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল। মূলত বহুল ব্যবহৃত বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল থেকেই সামাজিক সংগঠনের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী করে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সামাজিক উন্নয়নে কোনো আইডিয়া এই টুলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সিন্ধান্তে আসা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।

ফ্রিমিয়াম মডেল (Freemium Model)
Business Models
ফ্রিমিয়াম মডেল (Freemium Model)
কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ (Customer Exploration Map)
Canvas & Methods
কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ (Customer Exploration Map)
সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?
Economics
সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রো ইকোমিক্স ( Macro Economics ) কী?
PESTLE বিশ্লেষণ
Analysis
PESTLE বিশ্লেষণ
অ্যাম্বুশ মার্কেটিং (Ambush Marketing)
Marketing
অ্যাম্বুশ মার্কেটিং (Ambush Marketing)
General Agreement on Tariffs and Trade (GATT)
Agreement
General Agreement on Tariffs and Trade (GATT)
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল
Investment
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল
মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স (Multi Vendor E-commerce)
E-Commerce
মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স (Multi Vendor E-commerce)
কর্পোরেট ট্যাক্সেশন এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা (Corporate Tax)
Accounting
কর্পোরেট ট্যাক্সেশন এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা (Corporate Tax)