অর্থের ইতিহাস (বিনিময় প্রথা - মুদ্রা - ব্যাঙ্কনোট - বিটকয়েন)

683
article image

মানবসভ্যতার শুরু থেকে মানুষ নিজেদের মাঝে বিনিময় প্রথায় লেনদেন করতেন। তবে আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মানুষ বিনিময় প্রথা বাদ দিয়ে ধাতব কয়েনের ব্যবহার করতে শুরু করেন। ধাতব কয়েন হিসেবে তামা, রুপা ও স্বর্ণের কয়েন ব্যবহার করা হতো। ১২৬০ সালের দিকে চীনে সর্বপ্রথম কাগজি মুদ্রার আবিষ্কার হয় এবং ধীরে ধীরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। ১৯৩০ সালের দিকে সর্বপ্রথম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দ্বারা এবং ১৯৫০ সালের দিকে সর্বপ্রথম ব্যাংক দ্বারা ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা হয়।

Key Points

  • অর্থের মাধ্যমে আমরা যেকোনো পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করি এবং অর্থের মাধ্যমেই আমরা নিজেদের সম্পদ জমা করি।
  • প্রায় ৫০০০ বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অর্থকে মানব ইতিহাসের সঙ্গী হিসেবে খুজে পাওয়া যায়।
  • প্রায় একই সময়ে বা খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ সনে কিছুটা পশ্চিম দিকে লিডিয়া রাজ্যের রাজা আলিয়াত্তেস তার রাজ্যে প্রথম রাষ্ট্রীয় বা সরকারি বা অফিশিয়াল কয়েনের ব্যবহার শুরু করেন, যাকে ডাকা হতো লিডিয়ান স্টেটার নামে।
  • ১২৭১ সালের দিকে যখন মার্কো পোলো চীন ভ্রমণ করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে চীনের রাজা তার রাজ্যের মানি সাপ্লাই ও এর ভ্যালু নির্ধারণের উপর বেশ ভালো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।

ভূমিকা

দৈনন্দিন কথোপকথনে আমরা অর্থ ও মুদ্রা, এই দুটি শব্দকে একই হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে অর্থ ও মুদ্রা একই জিনিস নয়। মতবাদ অনুযায়ী অর্থ হচ্ছে শুধু একটি অদৃশ্য কনসেপ্ট। অর্থকে দেখা যায় না এবং স্পর্শ করা যায় না। অর্থকে শুধু বিভিন্ন সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা যায়। অপরদিকে, মুদ্রা হচ্ছে অর্থের কনসেপ্টের বাস্তবিক প্রয়োগ। মুদ্রাকে দেখা যায় এবং স্পর্শ করা যায়, যেমন - কয়েন, নোট বা অন্য যেকোনো বস্তু ইত্যাদি। মুদ্রাকে কয়েন, ব্যাংক নোট, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দ্বারা রিপ্রেজেন্ট করা হয়। অর্থ ও মুদ্রা ভিন্ন জিনিস হলেও, অর্থের ইতিহাস বোঝার স্বার্থে আমরা এই লেখায় আমরা শব্দ দুটি একই হিসেবে ব্যবহার করবো।

অর্থ কী?

অর্থকে কড়ি, ধাতব কয়েন বা কাগজি নোট, যা দ্বারাই রিপ্রেজেন্ট করা হোক না কেনো, সবসময় অর্থের কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য খুজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ প্রা ৪৫৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছুই ছুই করছে, তখন অর্থের বাস্তবিক মূল্য নির্ভর করে আমরা সেই অর্থকে লেনদেনের বাহন, হিসাবের একক এবং ইউনিট অফ ভ্যালু হিসেবে ঠিক কতোটা গুরুত্ব দিচ্ছি তার উপর।

অর্থ দুই বা ততোধিক ব্যাক্তির মাঝে লেনদেনের সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে। অর্থের মাধ্যমে আমরা যেকোনো পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করি এবং অর্থের মাধ্যমেই আমরা নিজেদের সম্পদ জমা করি। আবার অর্থকে আমরা হিসাবের একক হিসেবে’ও ব্যবহার করি। বর্তমান সময়ে অর্থ সকল সমাজে সকলের আছে গ্রহণযোগ্য। তবে যুগে যুগে অর্থকে যেতে হয়েছে অনেক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে।

বিনিময় প্রথা থেকে বর্তমান সময়

প্রায় ৫০০০ বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অর্থকে মানব ইতিহাসের সঙ্গী হিসেবে খুজে পাওয়া যায়। তবে সকল ইতিহাসবিদ এই বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে এর পূর্বে পৃথিবীতে বিনিময় প্রথার প্রচলন ছিল। বিনিময় প্রথায় একটি পণ্যের বিপরীতে অন্য একটি পণ্য বিনিময় করা হয়। অর্থাৎ, এখানে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কোনো ধরণের অর্থের উপস্থিতি থাকে না। উদাহরণস্বরুপ, একজন কৃষক তার উৎপাদিত গমের বিপরীতে একজন জুতা প্রস্তুতকারীর সাথে জুতা বিনিময় করতে পারেন। তবে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এই যে এখানে জটিল কোনো লেনদেন করা যায় না। আবার বড় মাপের লেনদেন করতে গেলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়, যেহেতু বেশিরভাগ দ্রব্য’ই ছিল পচনশীল। তাই সেগুলোকে মজুত করে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না।

এই কারণেই ধীরে ধীরে মানুষ নির্দিষ্ট কোনো উপাদানের প্রয়োজন অনুভব করতে থাকে, যার মাধ্যমে অন্য সব পণ্যের লেনদেন করা যাবে না। জন্ম হয় ‘অর্থ’ ধারণার। ইতিহাসবিদদের মতে, অর্থ হিসেবে শুরুতেই এমন সব পণ্য ব্যবহার করা হতো, যেগুলো সহজেই লেনদেন করা যেতো এবং মোটামুটি সব অঞ্চলেই গ্রহণযোগ্য ছিল, যেমন - পশুর চামড়া, লবণ, হাতিয়ার ইত্যাদি। তখন যদিও এই সব পণ্যের কোনো স্ট্যান্ডার্ড ভ্যালু ছিল না, তবুও মানুষ নিজেদের মাঝে আলোচনা করে এগুলোর ভ্যালু সেট করে নিতো। আর বলা বাহুল্য যে একেক অঞ্চলে একেক পণ্যের ভ্যালু একেকরকম ছিল। এই পদ্ধতিতে লেনদেন করার রীতি ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। এমনকি এখনো বিশ্বের কিছু প্রত্যন্ত প্রান্তে এই প্রথায় লেনদেন করা হয়।

অর্থের ধারণার উদ্ভাবনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভজনক হয় কোন খাত জানেন কি? উত্তর হচ্ছে, ব্যবসায়। অর্থের মাধ্যমে এখন খুব দ্রুত লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে এবং লেনদেনের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একসময় এই প্রথার’ও কিছু সীমাবদ্ধতা ব্যবসায়ী ও রাজাদের চোখে পরে। বিশেষ করে অঞ্চলভেদে পণ্যের ভ্যালুর যে পার্থক্য, এই কারণেই তারা স্ট্যান্ডার্ড কোনো উপাদান অর্থ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যার নির্দিষ্ট ভ্যালু থাকবে। যেই অঞ্চলে গিয়েই লেনদেন করা হোক না কেনো, লেনদেন করার পর স্ট্যান্ডার্ড কোনো উপাদান ব্যবসায়ীদের কাছে আসবে। শুরু হয়ে গেল অর্থ হিসেবে ধাতব কয়েনের ব্যবহার।

ধাতব কয়েনের আবিষ্কার

শুরুতেই অর্থ হিসেবে স্বর্ণের কয়েন ব্যবহার করা শুরু হয়। তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল মূলত সমাজের এলিট শ্রেনীর ব্যবহারের জন্য। তবে ধীরে ধীরে তা সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষের জন্য কয়েন প্রয়োজন দেখা যায়। ফলে পরবর্তীতে রুপা ও তামার কয়েন ব্যবহার করা শুরু হয়। তবে বলা ঠিক হবে না যে মূলত সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষের কথা চিন্তা করেই তামার কয়েন তৈরি করা হয়। এর পেছনে মূলত দায়ী স্বর্ণের স্বল্পতা। তাই লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ার পর আরো বেশি কয়েনের প্রয়োজন অনুভব করে রাজারা। ফলে শুরু হয় অনেক বেশি পরিমাণে কয়েন উৎপাদন।

২০২১ সালে চীনের কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ঘোষণা করেন যে তারা চীনের হেনান প্রদেশের গুয়ানঝুয়াং এলাকায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কয়েন তৈরি কারখানা খুজে পেয়েছেন। কারখানা বলতে এমন স্থান বোঝানো হচ্ছে যেখানে কয়েন তৈরি করা হতো। ধারণা করেন খ্রিষ্টপূর্বে ৬৪০ সনে এই কারখানায় প্রথম কয়েন তৈরি করা শুরু হয়।

কোনো পণ্যকে অর্থ হিসেবে ব্যবহার করার চাইতে যেহেতু কয়েন ব্যবহার করা অনেক বেশি সহজ ছিল তাই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে কয়েনের ব্যবহার শুরু হয়। এর পরের প্রায় ১৬০০ থেকে ১৮০০ বছর পর্যন্ত বিশ্বে অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পণ্য এবং কয়েন। চীনে কাগজি মুদ্রার আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে অর্থ হিসেবে কয়েনের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

প্রথম রাষ্ট্রীয় মুদ্রা

প্রায় একই সময়ে বা খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ সনে কিছুটা পশ্চিম দিকে লিডিয়া রাজ্যের রাজা আলিয়াত্তেস তার রাজ্যে প্রথম রাষ্ট্রীয় বা সরকারি বা অফিশিয়াল কয়েনের ব্যবহার শুরু করেন, যাকে ডাকা হতো লিডিয়ান স্টেটার নামে। এই কয়েনগুলো সাধারণত স্বর্ণ ও রুপার সংমিশ্রনে তৈরি করা হতো এবং কয়েনের গায়ে কয়েনের ফেইস ভ্যালু স্ট্যাম্প করে দেয়া হতো, ঠিক যেমনটা আজকের দিনেও করা হয়। লিডিয়ার মুদ্রার ফলে রাজ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক বেশি বৃদ্ধি হয় এবং সেই সময়ে এই রাজ্য এশিয়া মাইনরের সবচেয়ে ধনী রাজ্যগুলোর মাঝে একটি হয়ে ওঠে।

কাগজি মুদ্রার আবিষ্কার

১২৬০ সালের দিকে চীনের ইউয়ান সম্রাজ্য ধাতব কয়েন বাদ দিয়ে কাগজি মুদ্রায় লেনদেন করা শুরু করে। কাগজি মুদ্রা ধাতব কয়েনের তুলনায় অনেক হালকা ছিল এবং খুব সহজেই যেকোনো স্থান বহন করা সম্ভব হতো। ১২৭১ সালের দিকে যখন মার্কো পোলো চীন ভ্রমণ করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে চীনের রাজা তার রাজ্যের মানি সাপ্লাই ও এর ভ্যালু নির্ধারণের উপর বেশ ভালো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। যা এর আগের কোনো স্থানের কোনো সম্রাজ্যে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপে প্রায় ১৬ শতক পর্যন্ত ধাতব কয়েনের বেশ ভালো ব্যবহার দেখা যায়। এর পেছনে কারণ হচ্ছে ইউরোপের সম্রাজ্যগুলো সেই মুহুর্তে আশেপাশের এলাকা দখল করে এবং নিজেদের উপনিবেশ তৈরি করা শুরু করে। ফলে তাদের ধাতব পদার্থের সরবরাহ পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। এই কারণেই, অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি পেলেও ইউরোপে সেই সময় পর্যন্ত ধাতব কয়েন পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

তবে সারা বিশ্বে চীনের মতো রাজার হাত ধরে কাগজি মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়নি। কাগজি মুদ্রার প্রচলন শুরু করে মূলত ব্যাংকগুলো। তারা ডিপোজিটরদের সম্পদ জমা রেখে তার পরিবর্তে ব্যাংক নোট ইস্যু করে দিতেন। আর ডিপোজিটররা নিজেদের সম্পদের পরিবর্তে এই ব্যাংক নোট দিয়েই নিজেদের লেনদেন সম্পাদন করতেন।

এই ব্যবস্থা অনেকটা আজকের দিনের নোটের মতোই। শুধু পার্থক্য হচ্ছে এই যে, তখন ব্যাংক নোট ইস্যু করতেন বিভিন্ন ব্যাংক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এখন ব্যাংক নোট ইস্যু করার দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের হাতে।

ইউরোপে কাগজি মুদ্রার যাত্রা শুরু হয় তাদের উপনিবেশগুলোর মাধ্যমে। সেই সময়ে কানাডা ফ্রান্সের উপনিবেশ হিসেবে ছিল। আর সেখানেই সর্বপ্রথম ইউরোপের সরকার দ্বারা কাগজি মুদ্রা ইস্যু করা।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, ধাতব কয়েনের কিছু অন্তর্নিহিত মূল্য ছিল। কাগজি মুদ্রার কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য ছিল না। ফলে সাধারণ জনগণ তা শুধু ব্যাংকারদের উপর ভরসা করে তা গ্রহণ করতেন এবং তা দিয়ে লেনদেন করতেন। আবার যেই অঞ্চলের মানুষ একবার কাগজি মুদ্রায় লেনদেন করতে অভ্যস্ত হয়ে যেতেন, তারা আর ধাতব কয়েনে ফেরত যেতে চাইতেন না। কারণ কাগজি মুদ্রায় লেনদেন ছিল অনেক সহজ। আবার এদিক দিয়ে কাগজি মুদ্রার সুবিধায় অর্থনৈতিক লেনদেন অনেক বৃদ্ধি পায়।

বিশেষ করে ইউরোপের রাজারা এই অবস্থার বেশ বাজে সুবিধা গ্রহণ করেন। তারা উপনিবেশ তৈরি এবং যুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রচুর পরিমাণে ব্যাংক নোট ইস্যু করতে শুরু করেন। আর অতিরিক্ত ব্যাংক নোট ইস্যু করলে বর্তমান সময়ে যা হয়, তখন’ও তাই হয়েছিল, মুদ্রাস্ফীতি। প্রচুর পরিমাণে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় এবং ইউরোপের রাজার নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করতে শুরু করেন। পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের অভাবে সাধারণ জনগণের জন্য কাগজি মুদ্রা আশির্বাদ এখন অভিশাপে পরিণত হতে শুরু করে। এই অবস্থার পরিবর্তন হয় উনবিংশ শতাব্দীতে।

আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দেশের ব্যাংক নোটের ইস্যু করার কাজ রাষ্ট্রের হাতে তুলে নেয় এবং গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা শুরু করে। এই ব্যবস্থায় কোনো সরকারকে নোট ইস্যু করতে হলে তাকে রিজার্ভে সেই সমপরিমাণ গোল্ডের রিজার্ভ রাখতে হতো। উনবিংশ শতকের শেষের দিকে এবং বিংশ শতকের শুরুর দিকে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ফলো করতে শুরু করে। এতে করে পরিস্থিত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে একসময় আমেরিকা বুঝতে পারে যে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বেশি দিনের জন্য সাস্টেইনেবল নয় এবং এই ব্যবস্থা অর্থনৈতিক লেনদেনকে সীমিত করে ফেলে।

১৯৩৩ সালে আমেরিকা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড থেকে বেরিয়ে আসে। ১৯৪৪ সালের ভেতর ব্রেটন-উডস কনফারেন্সের মাধ্যমে আরো প্রায় ৪০টি দেশ গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড থেকে বেরিয়ে আসে এবং আমেরিকান ডলার হয়ে ওঠে বৈশ্বিক রিজার্ভের মুদ্রা। সেই থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শুধু আমেরিকান সরকারের উপর ভরসা রেখেই এই ব্যবস্থা চলে আসছে। তাই বলা যায় বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই আমেরিকার উপর নির্ভর করে।

ক্রেডিট কার্ডের আগমন

অর্থের জগতে পরবর্তী যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। ১৯৫০’র দশকে ক্রেডিট কার্ড এবং ১৯৬০’র দশকে ডেবিট কার্ড ইস্যু করতে শুরু করে ব্যাংকগুলো। এতে করে গ্রাহকরা যেকোনো স্থান থেকে নিজেদের অর্থের অ্যাক্সেস পেতে শুরু করেন। ফলে একসাথে অনেক অর্থ নিয়ে না ঘুড়ে বরং ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নিলেই হতো। ১৯৯৪ সালে প্রথম অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম যাত্রা শুরু করে। আর ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে পেপাল। ফলে এখন সাধারণ জনগণের জন্য নিজেদের অর্থ উত্তোলন এবং খরচ করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

বিটকয়েনঃ অর্থের বিকেন্দ্রীকরণ

আমেরিকান সরকার তাদের ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়। এরই কারণে ২০০৮ সালে বিটকয়েন ধারণার জন্ম হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল মূলত অর্থকে যেকোনো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রীভূত করে ফেলা। বিটকয়েনের পাশাপাশি ব্লকচেইন সিস্টেমের আবিষ্কার হওয়ার কারণে বিটকয়েন ব্যবহার করে এখন খুবই নিরাপদ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছিল। বিট কয়েন মূলত গণিত ও কোডিং-এর উপর নির্ভর করে, তাই এখানে কোনো সেন্ট্রাল অথোরিটি নেই।

গ্লোবাল ইকোনমি এখন হাইলি ডিজিটাইজড হতে শুরু করেছে এবং বিটকয়েনের কনসেপ্ট সেই ভবিষ্যতের সাথে পুরোপুরিভাবে অ্যালাইন করে। হয়তো বিটকয়েন বা অন্য কিছু, তবে ভবিষ্যত অর্থের বেশিরভাগ যে ডিজিটাইজড হবে, সেই বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই।

পরিসংহার

বিনিময় প্রথায় লেনদেন অসুবিধা হওয়ার কারণে আবিষ্কার হয় ধাতব কয়েনের। আবার ধাতব কয়েন ক্যারি করতে সমস্যা হওয়া আবিষ্কার হয় কাগজি মুদ্রার। তারপর কাগজি মুদ্রা চলে গেল ব্যাংকের কার্ডের ভেতর। কালের বিবর্তনে বর্তমান সময়ে অর্থ ব্যবহার করা অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। এখন আমাদের ক্রেডিট কার্ড’ও বহন করতে হয় না। বরং মোবাইল ফোন বা কমপিউটার ব্যবহার করে সহজেই আমরা এখন নিজেদের মাঝে লেনদেন করতে পারছি। এখন অর্থ বলতে তা শুধু কিছু ডিজিটাল সংখ্যাকেই রিপ্রেজেন্ট করে। তবে অর্থের পরবর্তী রুপ কি হতে চলেছে সেই সম্পর্কে এখনো কেউ গ্রহণযোগ্য ধারণা দিতে পারছেন না।

  • https://www.discovermagazine.com/planet-earth/from-barter-to-bitcoin-the-history-of-money
  • https://www.britannica.com/video/187664/history-money
  • https://crypto.com/university/history-of-money-barter-to-bitcoin
  • https://www.hiro.so/blog/tracing-the-social-narratives-shaping-the-future-of-money-bartering-to-banknotes-to-bitcoin
  • https://www.linkedin.com/pulse/from-barter-crypto-evolution-money-ankur-sinha
  • https://www.caixabankresearch.com/en/economics-markets/monetary-policy/barter-cryptocurrency-brief-history-exchange
Next to read
Canvas & Methods
সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)
সোশ্যাল ইম্প্যাথি ম্যাপিং (Social Empathy Mapping)

ইম্প্যাথি ম্যাপিং মূলত একধরনের ট্যুলস। এটি গ্রাহকদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভব, উপলব্ধি সহ নানাবিধ তথ্য, উপাত্ত এর সমন্বয়ে গঠিত সুশৃঙ্খল এবং সুবিন্যস্ত একটি চার্ট। উল্লেখিত বিষয় সমূহ সম্পর্কিত তথ্য উপাত্তের খুব চমৎকার একটা ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন পাওয়া যায় এই ইম্প্যাথি ম্যাপিং এর মাধ্যমে। যা মূলত আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে ভালভাবে বুঝতে সহায়তা করে।

বিজনেস মডেল ক্যানভাস ( Business Model Canvas)
Canvas & Methods
বিজনেস মডেল ক্যানভাস ( Business Model Canvas)
মার্কেটিং এর ৭'পি (7P’s of Marketing)
Marketing
মার্কেটিং এর ৭'পি (7P’s of Marketing)
সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)
Marketing
সারোগেট মার্কেটিং (SURROGATE MARKETING)
Needs, Wants, Demands (প্রয়োজন, চাওয়া এবং চাহিদা)
Business
Needs, Wants, Demands (প্রয়োজন, চাওয়া এবং চাহিদা)
CSR বা Corporate Social Responsibility কী?
Business
CSR বা Corporate Social Responsibility কী?
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
Sales
সেলস ফানেল বা বিক্রয় ফানেল কি?
‘SWOT’ Analysis
Analysis
‘SWOT’ Analysis
মার্কেটিং এ ৫ সি (5 C's Of Marketing)
Marketing
মার্কেটিং এ ৫ সি (5 C's Of Marketing)
বিজনেস অ্যানালিসিস কী, কেনো, কীভাবে করবেন?
Analysis
বিজনেস অ্যানালিসিস কী, কেনো, কীভাবে করবেন?