GeoRenus Editorial Team

Velocity of Money মানে অর্থনীতিতে প্রতিটি টাকা বছরে কতবার হাত বদল করে। Irving Fisher-এর MV=PQ সূত্র অনুযায়ী V = Nominal GDP / Money Supply। বাংলাদেশের V2 প্রায় ২.৭৬ — আমেরিকার (~১.৩) চেয়ে বেশি, কারণ নগদ-নির্ভর অর্থনীতি ও বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত। উচ্চ ভেলোসিটি = সক্রিয় অর্থনীতি; নিম্ন ভেলোসিটি = স্থবিরতা। জাপান ৩০ বছর ধরে Velocity Trap-এ আটকে আছে।
একটা ব্যাংক ভল্টে ১০,০০০ কোটি টাকা বন্দি থাকলে সেই টাকা অর্থনীতির জন্য প্রায় মৃত। কিন্তু সেই একই টাকা যখন হাত থেকে হাতে ঘোরে — ব্যবসায়ী থেকে কর্মী, কর্মী থেকে দোকানদার, দোকানদার থেকে সরবরাহকারী — তখনই অর্থনীতি প্রাণ পায়।
Velocity of Money বা অর্থের গতি পরিমাপ করে ঠিক এটাই — অর্থনীতিতে প্রতিটি টাকা বছরে কতবার হাত বদল করে, কতবার লেনদেনে ব্যবহৃত হয়।
Irving Fisher ১৯১১ সালে তাঁর বিখ্যাত Quantity Theory of Money-তে এই সম্পর্ক একটি সূত্রে ধরলেন:
MV = PQ
এখানে M = মানি সাপ্লাই, V = ভেলোসিটি (গতি), P = মূল্যস্তর, Q = প্রকৃত আউটপুট।
সহজ কথায়: অর্থের পরিমাণ × অর্থের গতি = দেশের মোট উৎপাদনের মূল্য (Nominal GDP)।
এবার একটা সহজ উদাহরণ ভাবুন। আপনার পকেটের একটাই ১০০ টাকার নোট:
আপনি চায়ের দোকানে চা কিনলেন — ১০০ টাকা GDP তৈরি হলো।
চা-ওয়ালা সেই টাকায় চিনি কিনলেন — আরও ১০০ টাকা GDP তৈরি হলো।
চিনির দোকানদার সেই টাকায় সার কিনলেন — আরও ১০০ টাকা GDP তৈরি হলো।
একটিমাত্র ১০০ টাকার নোট ৩০০ টাকার GDP তৈরি করে ফেললো। এটাই Velocity of Money-র জাদু।
উচ্চ ভেলোসিটি মানে বেশি লেনদেন, বেশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম। নিম্ন ভেলোসিটি মানে অর্থনীতির স্থবিরতা।
Velocity of Money হলো এক নির্দিষ্ট সময়কালে (সাধারণত এক বছরে) অর্থনীতিতে মুদ্রার প্রতিটি একক কতবার পণ্য বা সেবা কেনার কাজে ব্যবহৃত হয় তার পরিমাপ।
যদি ভেলোসিটি = ৫ হয়, তার মানে অর্থনীতির প্রতিটি টাকা বছরে গড়ে ৫ বার হাত বদল করেছে, ৫ বার কোনো পণ্য বা সেবা কিনতে ব্যবহৃত হয়েছে।
ভেলোসিটি কম হলে মানুষ অর্থ খরচ না করে জমিয়ে রাখছে বা অর্থনীতিতে স্থবিরতা আছে। ভেলোসিটি বেশি হলে অর্থনীতি সক্রিয় ও গতিশীল।
Irving Fisher-এর মূল সমীকরণ:
MV = PQ (বা MV = PY)
M = মানি সাপ্লাই (অর্থের মোট পরিমাণ)
V = Velocity of Money (অর্থের গতি)
P = সাধারণ মূল্যস্তর (Price Level)
Q বা Y = প্রকৃত আউটপুট বা প্রকৃত GDP
এই সমীকরণ পুনর্বিন্যাস করলে ভেলোসিটির সূত্র পাওয়া যায়:
V = PQ / M = Nominal GDP / Money Supply
অর্থাৎ কোনো দেশের Nominal GDP-কে মানি সাপ্লাই দিয়ে ভাগ করলেই পাওয়া যায় Velocity of Money।
Velocity of Money কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলে দেয় — অর্থনীতিতে অর্থ আসলেই সঞ্চালিত হচ্ছে কিনা।
২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর আমেরিকার Federal Reserve ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ছাপিয়েছিল। কিন্তু Velocity এত নেমে গিয়েছিল যে সেই অর্থ অর্থনীতিতে সত্যিকারের প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত US Velocity ক্রমাগত কমেছিল — এটাই প্রমাণ করে শুধু অর্থ ছাপালেই অর্থনীতি চাঙ্গা হয় না।
Velocity কমে যাওয়া মানে মানুষ ভয় পাচ্ছে, সঞ্চয় করছে, খরচ করতে অনিচ্ছুক। এই অবস্থায় মুদ্রানীতির প্রভাব সীমিত হয়ে পড়ে।
V = Nominal GDP / Money Supply
দুটো ভিন্ন মানি সাপ্লাই ব্যবহার করে দুটো ভিন্ন ভেলোসিটি পাওয়া যায়:
V1 = Nominal GDP / M1 (M1 ব্যবহার করে)
V2 = Nominal GDP / M2 (M2 ব্যবহার করে)
M1 (Narrow Money) = নগদ টাকা ও কয়েন + চলতি হিসাবের ব্যালেন্স। এই অর্থ সরাসরি ও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য।
M2 (Broad Money) = M1 + সঞ্চয়ী হিসাব + স্বল্পমেয়াদি আমানত। এটি আরও বিস্তৃত।
যেহেতু M2 > M1, তাই V1 সবসময় V2-এর চেয়ে বেশি হয়। বিশ্বের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক V2 রিপোর্ট করে কারণ M2 অর্থনীতির পূর্ণচিত্র দেয়।
বাংলাদেশের Nominal GDP ২০২৩: প্রায় ৪৭ লাখ কোটি টাকা (~$460 বিলিয়ন)
বাংলাদেশের M2 ২০২৩: প্রায় ১৭ লাখ কোটি টাকা
V2 = ৪৭ লাখ কোটি / ১৭ লাখ কোটি = প্রায় ২.৭৬
এর মানে বাংলাদেশে প্রতিটি টাকা বছরে গড়ে প্রায় ২.৭৬ বার ব্যবহৃত হয়।
তুলনায়: আমেরিকায় V2 ২০২৩ সালে ছিল মাত্র ~১.২ (US Federal Reserve তথ্য)। অর্থাৎ আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রতিটি ডলার বাংলাদেশের টাকার তুলনায় অনেক কম গতিশীল।
| উপাদান | বাংলাদেশ | আমেরিকা | জাপান | ভারত |
| Nominal GDP (বিলিয়ন USD) | 460 | 27,300 | 4,200 | 3,700 |
| M2 (বিলিয়ন USD) | 155 | 20,800 | 9,800 | 2,800 |
| V2 (Velocity) | ~2.76 | ~1.31 | ~0.43 | ~1.32 |
| তথ্য উৎস | BB/BBS 2023 | Fed 2023 | BoJ 2023 | RBI 2023 |
লক্ষ্য করুন: জাপানে V2 মাত্র ০.৪৩ — অর্থাৎ প্রতিটি ইয়েন বছরে একবারও পুরোপুরি ঘোরে না। এটা জাপানের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতীক।
কল্পনা করুন একটি ক্ষুদ্র অর্থনীতিতে শুধু দুজন মানুষ — করিম (গাড়ি বিক্রেতা) ও রহিম (গৃহনির্মাণ ব্যবসায়ী)। প্রত্যেকের কাছে ১০০ টাকা।
রহিম করিমের কাছ থেকে ১০০ টাকায় একটি গাড়ি কিনলেন।
করিম সেই ১০০ টাকায় রহিমের কাছ থেকে মেরামত সেবা নিলেন।
রহিম আবার ১০০ টাকায় নির্মাণ সামগ্রী কিনলেন।
মোট GDP = ৩০০ টাকা। মানি সাপ্লাই = ২০০ টাকা। Velocity = ৩০০/২০০ = ১.৫।
একটি ১০০ টাকার নোট ধরুন — এটা কীভাবে ৪০০ টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি করতে পারে:
আপনি চায়ের দোকানে চা কিনলেন (১ম লেনদেন: ১০০ টাকা GDP)
চা-বিক্রেতা সেই টাকায় চিনি কিনলেন (২য় লেনদেন: ১০০ টাকা GDP)
চিনির ব্যবসায়ী রিকশাচালককে ভাড়া দিলেন (৩য় লেনদেন: ১০০ টাকা GDP)
রিকশাচালক দুপুরের খাবার কিনলেন (৪র্থ লেনদেন: ১০০ টাকা GDP)
মোট: একটি ১০০ টাকার নোটে ৪০০ টাকার GDP তৈরি হলো। Velocity = ৪।
এই কারণেই নগদ-নির্ভর (cash-intensive) অর্থনীতিতে ভেলোসিটি সাধারণত বেশি হয় — টাকা দ্রুত হাত বদলায়।
যদি সেই ১০০ টাকার নোট কেউ পকেটে রেখে দেয় বা ব্যাংকে জমিয়ে রাখে — সেই নোটের Velocity = শূন্য। কোনো অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয় না।
এই কারণে সঞ্চয় বাড়লে (যা ব্যক্তির জন্য ভালো) কখনো কখনো সামগ্রিক অর্থনীতির ভেলোসিটি কমে যায় — অর্থনীতিবিদরা এটাকে 'Paradox of Thrift' বলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মানি সাপ্লাই বাড়ালে স্বল্পমেয়াদে ভেলোসিটি কমতে পারে — কারণ একই GDP তৈরিতে বেশি অর্থ থাকলে প্রতিটি টাকার ঘোরার হার কমে। দীর্ঘমেয়াদে যদি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে রূপান্তরিত হয়, তাহলে ভেলোসিটি পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
মানুষ যখন ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী, তখন বেশি খরচ করে — ভেলোসিটি বাড়ে। আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তার সময় মানুষ সঞ্চয় করে — ভেলোসিটি কমে।
COVID-19 মহামারির ২০২০ সালে সারা বিশ্বে Velocity হঠাৎ ভেঙে পড়েছিল — মানুষ খরচ বন্ধ করে নগদ জমিয়ে রেখেছিল।
সুদের হার কম থাকলে ঋণ নিয়ে খরচ করা সহজ হয় — ভেলোসিটি বাড়ে। সুদের হার বেশি থাকলে সঞ্চয় আকর্ষণীয় হয়, ঋণ নেওয়া কমে — ভেলোসিটি কমে।
তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্যারাডক্স: ২০০৮ সালের পর আমেরিকায় সুদের হার প্রায় শূন্যে নেমেছিল, তবু Velocity কমতেই থাকে। কারণ আস্থা এত কম ছিল যে কেউ ঋণ নিতেও চাইছিল না।
পেমেন্ট যত সহজ, লেনদেন তত বেশি, ভেলোসিটি তত বেশি। বাংলাদেশে bKash ও Nagad মিলে ২১ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট — ডিজিটাল লেনদেন দ্রুততর করেছে। ভারতে UPI (Unified Payments Interface) চালু হওয়ার পর দেশটির Velocity উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সময় মানুষ যত দ্রুত সম্ভব অর্থ খরচ করে কারণ কাল দাম আরও বাড়বে — ভেলোসিটি বাড়ে। চরম মুদ্রাস্ফীতি বা হাইপারইনফ্লেশনে ভেলোসিটি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
উদাহরণ: জিম্বাবুয়ে (২০০৮) ও ভেনেজুয়েলায় (২০১৮) হাইপারইনফ্লেশনের সময় মানুষ বেতন পেলেই দৌড়ে বাজারে চলে যেত — অর্থ হাতে রাখলেই মূল্যহ্রাস পেত।
ব্যাংক সহজে ঋণ দিলে বেশি মানুষ খরচ করতে পারে — ভেলোসিটি বাড়ে। ঋণ কঠিন হলে ক্রয়ক্ষমতা কমে, ভেলোসিটি কমে।
| ফ্যাক্টর | বাড়লে V-এর প্রভাব | কমলে V-এর প্রভাব | উদাহরণ |
| মানি সাপ্লাই (M) | সাময়িক হ্রাস | সাময়িক বৃদ্ধি | QE পরবর্তী US |
| ভোক্তা আস্থা | বৃদ্ধি | হ্রাস | COVID-19 পতন |
| সুদের হার | হ্রাস | বৃদ্ধি | ২০০৮ US প্যারাডক্স |
| ডিজিটাল পেমেন্ট | বৃদ্ধি | হ্রাস | ভারতে UPI প্রভাব |
| মুদ্রাস্ফীতি | বৃদ্ধি (দ্রুত খরচ) | হ্রাস (সঞ্চয়ী) | জিম্বাবুয়ে হাইপারইনফ্লেশন |
| ঋণ সহজলভ্যতা | বৃদ্ধি | হ্রাস | ব্যাংকিং সংকট ২০০৮ |
US Federal Reserve-এর তথ্য অনুযায়ী M2 Velocity:
১৯৯৭ সালে সর্বোচ্চ ২.২
২০০৮ সংকটের পর ক্রমাগত পতন
২০২০ সালে সর্বনিম্ন ~১.১
২০২১-২২: সামান্য পুনরুদ্ধার, তারপর আবার পতন
কারণ কী? ২০০৮ সালের পর Fed বিশাল পরিমাণ অর্থ ছাপিয়েছিল (Quantitative Easing)। কিন্তু সেই অর্থের বেশিরভাগ গেছে শেয়ারবাজার ও রিয়েল এস্টেটে — প্রকৃত অর্থনীতিতে নয়। ফলে GDP বাড়েনি, কিন্তু M বেড়েছে — V কমেছে।
চীনের V2: ~১.৮-২.০ — বৃদ্ধিমান অর্থনীতি ও উচ্চ বিনিয়োগের কারণে তুলনামূলক বেশি।
ভারতের V2: ~২.৫-৩.০ — নগদ-নির্ভর অর্থনীতি ও দ্রুত বৃদ্ধির কারণে।
বাংলাদেশের V2: ~২.৭-৩.০ — উচ্চ নগদ ব্যবহার ও বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাতের কারণে।
জাপানের Velocity গত ৩০ বছর ধরে কমছে। Abenomics-এর আওতায় ব্যাপক অর্থ ছাপানো হয়েছে, কিন্তু মানুষ খরচ করছে না। বয়স্ক জনগোষ্ঠী সঞ্চয় করতে অভ্যস্ত, খরচে আগ্রহী নয়। এটাই 'Velocity Trap' — অর্থনীতি এক ফাঁদে আটকে গেছে।
| দেশ | ২০০০ | ২০১০ | ২০২০ | ২০২৩ | প্রবণতা |
| আমেরিকা (M2) | ~2.0 | ~1.7 | ~1.1 | ~1.3 | দীর্ঘমেয়াদী পতন |
| ইউরোজোন | ~1.4 | ~1.2 | ~0.9 | ~1.0 | পতন |
| জাপান | ~0.8 | ~0.6 | ~0.4 | ~0.43 | ক্রমাগত পতন |
| চীন | ~1.5 | ~1.7 | ~1.6 | ~1.8 | মোটামুটি স্থিতিশীল |
| ভারত | ~2.5 | ~2.8 | ~2.3 | ~2.6 | উর্ধ্বমুখী |
| বাংলাদেশ | ~2.5 | ~2.7 | ~2.5 | ~2.76 | মোটামুটি স্থিতিশীল |
Fisher-এর সমীকরণ MV = PQ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বেরিয়ে আসে:
যদি M দ্বিগুণ হয় এবং V অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে P দ্বিগুণ হবে — অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি দ্বিগুণ।
কিন্তু বাস্তবে V সবসময় স্থির থাকে না। এখানেই জটিলতা:
পরিস্থিতি ১ (২০০৮-২০২০ US): Fed বিপুল M বাড়িয়েছিল, কিন্তু V একই সাথে কমেছিল। ফলে P (মুদ্রাস্ফীতি) প্রায় স্থির ছিল। ট্রিলিয়ন ডলার ছাপিয়েও মুদ্রাস্ফীতি ২% এর নিচে থেকেছে।
পরিস্থিতি ২ (২০২১-২২ US): COVID-পরবর্তী সময়ে মানুষ হঠাৎ খরচ শুরু করলো, V বাড়লো, পুরো পুঞ্জিভূত M-এর প্রভাব একসাথে পড়লো। মুদ্রাস্ফীতি ৯.১% — ৪০ বছরের সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশে গড় M2 প্রবৃদ্ধি: ~১২% প্রতি বছর
GDP প্রবৃদ্ধি: ~৬-৭% প্রতি বছর
অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ: ~৫-৬% → মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হয়
২০২৩ সালে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০% পৌঁছায়। কারণ COVID-পরবর্তী সময়ে Velocity কিছুটা বেড়েছিল, একই সাথে M2 ছিল আগে থেকেই প্রসারিত।
Velocity of Money একটি শক্তিশালী সূচক, কিন্তু এর সীমাবদ্ধতাও আছে।
| সুবিধা (Pros) | সীমাবদ্ধতা (Cons) |
| অর্থনীতির স্বাস্থ্যের সহজ সংকেত | পেছনের তথ্য ব্যবহার করে (backward-looking) |
| কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নীতি প্রণয়নে সাহায্য করে | অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ধরতে পারে না (বাংলাদেশে বিশাল) |
| অর্থ মুদ্রণ কার্যকর হচ্ছে কিনা দেখায় | M1 ও M2 দিয়ে ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায় |
| মুদ্রাস্ফীতি/অপস্ফীতির পূর্বসংকেত দেয় | ডিজিটাল ও ক্রিপ্টো লেনদেন ধরতে পারে না |
| আন্তর্জাতিক তুলনার সুযোগ দেয় | শেয়ার/রিয়েল এস্টেট কেনাবেচা GDP বাড়ায় না কিন্তু M বাড়ায় |
সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের জন্য: দেশের GDP-র একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে (পথহকার, কৃষি শ্রমিক, গার্মেন্টসের অনানুষ্ঠানিক কাজ)। এই লেনদেন GDP পরিসংখ্যানে আসে না, কিন্তু প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঘটছে। ফলে Bangladesh-এর প্রকৃত Velocity আরও বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশের আনুমানিক V2: ২.৭ থেকে ৩.০ — যা আমেরিকা বা জাপানের চেয়ে অনেক বেশি।
কেন বাংলাদেশের ভেলোসিটি তুলনামূলক বেশি?
নগদ-নির্ভর অর্থনীতি: বেশিরভাগ লেনদেন এখনো নগদে হয়। নগদ লেনদেন দ্রুত।
বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত: পরিমাপে না আসলেও প্রকৃত লেনদেন বেশি।
ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার: bKash, Nagad — ২১ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট — লেনদেন আরও দ্রুত করছে।
চ্যালেঞ্জসমূহ:
শহরাঞ্চলে ব্যাংক সঞ্চয় বাড়ছে → ভেলোসিটি কমার আশঙ্কা।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে Bangladesh Bank সুদের হার বাড়িয়েছে → ঋণ কমেছে → ভেলোসিটিতে চাপ।
সুযোগসমূহ:
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion) বাড়লে আরও মানুষ ব্যাংকিং সিস্টেমে আসবে → উৎপাদনশীল ঋণ → GDP বৃদ্ধি → স্বাস্থ্যকর Velocity।
| বছর | Nominal GDP (লাখ কোটি টাকা) | M2 (লাখ কোটি টাকা) | আনুমানিক V2 |
| ২০১৯ | ২৭.৯৭ | ১২.৩৫ | ~২.২৭ |
| ২০২০ | ২৯.৩৭ | ১৩.৮৯ | ~২.১১ |
| ২০২১ | ৩২.৮৯ | ১৫.২৪ | ~২.১৬ |
| ২০২২ | ৩৯.৪৫ | ১৬.৪৫ | ~২.৪০ |
| ২০২৩ | ৪৭.০০ (আনু.) | ১৭.০০ | ~২.৭৬ |
লক্ষ্য করুন: ২০২২-২৩ সালে V2 বেড়েছে — কারণ GDP নামমাত্র মূল্যে (Nominal) দ্রুত বেড়েছে, মূলত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে। এটা সবসময় ইতিবাচক নয় — মুদ্রাস্ফীতি-চালিত Velocity বৃদ্ধি টেকসই নয়।
Velocity of Money একটি অর্থনীতির হৃদস্পন্দনের মতো। উচ্চ ভেলোসিটি মানে রক্ত সচল — অর্থনীতি প্রাণবন্ত। নিম্ন ভেলোসিটি মানে রক্ত জমাট — অর্থনীতি স্থবির।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো শুধু মানি সাপ্লাই নয়, Velocity-ও পর্যবেক্ষণ করে। কারণ M বাড়ালেই যথেষ্ট নয় — যদি V পড়ে যায়, তাহলে মুদ্রানীতির পুরো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যকর Velocity বজায় রাখার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক বেশি Velocity = মুদ্রাস্ফীতি। অনেক কম Velocity = স্থবিরতা। মাঝামাঝি ভারসাম্যই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।
জাপানের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায় — একটি দেশ যদি Velocity Trap-এ পড়ে যায়, সেখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। আর্থিক সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও জনআস্থা রক্ষাই হলো Velocity-কে সুস্থ রাখার চাবিকাঠি।
'Velocity is the forgotten variable — when it drops, even printing money cannot save an economy.' — Milton Friedman-এর ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত

কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ মূলত এক ধরনের টেমপ্লেট বা চার্ট। যা অনেকাংশে একটা স্টোরিবোর্ড এর মতো ও কাজ করে থাকে। নিতান্তই ছোট এবং সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ এই টেমপ্লেট কিংবা স্টোরিবোর্ড আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।








