Fortune Magazine: Overview, History And Brief discussion

499
article image

টাইম ইনকর্পোরেশনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা Henry Luce, ১৯৩০ সালে আমেরিকার মানুষের জন্য একটি লাক্সারিয়াস ম্যাগাজিন প্রকাশের চিন্তা করলেন। সেই সময় বাকি সবার মত, Luce-এর ব্যবসায়িক পার্টনারও, তার এই চিন্তাধারা সমর্থন করেননি। কিন্তু, Luce দমে থাকেননি এবং তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলে, ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফরচুন ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশিত হয়। অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য শুরুতেই তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ম্যাগাজিনটি আজ, আমেরিকার ফিনান্সিয়াল নিউজ এবং জার্নালিজম-এর একটি পাওয়ার হাউস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

Key Points

  • Fortune Media Group Holdings দ্বারা প্রকাশিত, ফরচুন ম্যাগাজিন হল একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ফিন্যান্সিয়াল পাবলিকেশন যা ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ম্যাগাজিনটি ব্যবসা, অর্থ, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বড় বড় সেক্টর গুলো কভার করে এবং এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
  • ১৯৫৫ সাল থেকে ফরচুন ম্যাগাজিন, বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করে আসছে, যাকে বলা হয় ফরচুন ৫০০

Fortune Magazine কি

ফরচুন ম্যাগাজিন হল Fortune Media Group Holdings দ্বারা প্রকাশিত একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজনেস ম্যাগাজিন। ১৯২৯ সালে Henry R. Luce ম্যাগাজিনটির প্রথম প্রকাশনা শুরু করেন এবং এর সদর দপ্তর নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত। ন্যাশনাল বিজনেস ম্যাগাজিন ক্যাটাগরিতে, Forbes এবং Bloomberg Businessweek-এর সাথে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই ফরচুন ম্যাগাজিন। মূলত মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত ম্যাগাজিনটির ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৮,৫২,২০২টি কপি প্রকাশিত হয়।

ফরচুন ম্যাগাজিনের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থ, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির মত বিষয়গুলো। ম্যাগাজিনটি এই বিষয়গুলোর উপর ইন-ডেপ্থ অ্যানালাইসিস করে, সঠিক ব্যবসায়িক সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে, যা এই ম্যাগাজিনটিকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলেছে। এছাড়াও ম্যাগাজিনটি ১৯৫৫ সাল থেকে, বাৎসরিক আয়ের ভিত্তিতে আমেরিকার শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করে থাকে, যা ফরচুন ৫০০ নামে পরিচিত।

Fortune Magazine-এর ইতিহাস

১৯২৯ সালে, টাইম ম্যাগাজিনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা Henry R. Luce, আমেরিকার ধনী এবং প্রভাবশালীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশনা "আইডিয়াল সুপার-ক্লাস ম্যাগাজিন" প্রকাশের চিন্তা করলেন। বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন টালমাটাল ছিল, ঠিক তখন Luce-এর এমন সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি তার ব্যবসায়িক পার্টনার ব্রিটন হ্যাডেন। কিন্তু ২৭শে ফেব্রুয়ারি ১৯২৯ সালে, হ্যাডেনের আকস্মিক মৃত্যুর পর, ম্যাগাজিনটির প্রকাশনার জন্য হেনরি লুসের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অতঃপর, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মহামন্দা চলমান অবস্থায় ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরচুন ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

হঠাৎ বাজারে আসা ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রথম প্রকাশনাটি ছিল ১৮৪ পৃষ্ঠার এবং প্রায় ৩০ হাজার সাবস্ক্রাইবার এই প্রাথমিক কপিটি পেতে সাইন আপ করেছিলেন। সুন্দর প্রেজেন্টেশন, ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর উপর ইন-ডেপ্থ অ্যানালাইসিস ও রিপোর্ট প্রদান, এবং সুন্দর স্টোরিটেলিং-এর জন্য প্রথম প্রকাশনা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে তুমুল সাড়া ফেলে দিয়েছিল এই ফরচুন ম্যাগাজিন। ফলাফল, পরবর্তী মাত্র ছয় বছরেই, ম্যাগাজিনটির সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৪৬০০০০-এ উন্নীত হয়েছে এবং তখন ম্যাগাজিনটির বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ লাখ ডলার।

এরপর ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সেক্টরের স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য, ম্যাগাজিনটি বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের ভিত্তিতে ৫০০টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশ শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ফরচুন ৫০০। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ফরচুন ম্যাগাজিনটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হত। ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে এর পাক্ষিক প্রকাশনা বাজারে আসতে শুরু করে। এরপর ২০০৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে ম্যাগাজিনটি প্রতি তিন সপ্তাহ পর পর প্রকাশ করা শুরু করে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত, বছরে ১৬ বার প্রকাশিত হয় এবং এরপর থেকে আবার মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হচ্ছে ফরচুন ম্যাগাজিন।

২০১৪ সালের জুনে, ফরচুন ম্যাগাজিনের নিজস্ব ওয়েবসাইট fortune.com এর যাত্রা শুরু হয় এবং এর মাধ্যমে ম্যাগাজিনটি ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রবেশ করে। এরপর, ২৬শে নভেম্বর ২০১৭ সালে Meredith Corporation, ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে টাইম ইনকর্পোরেশন-কে কিনে নেয়। পরের বছরের ৯ই নভেম্বর, ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে Meredith Corporation, ফরচুন ম্যাগাজিনকে থাইল্যান্ড ভিত্তিক Charoen Pokphand Group-এর কাছে বিক্রি করে দেয়।

ফরচুন ৫০০

প্রতিবছর বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করে ফরচুন ম্যাগাজিন। ১৯৫৫ সালে এই তালিকাটির প্রথম ধারণা দেন কোম্পানির একজন সহকারী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক Edgar P. Smith। এই তালিকাটিকে বলা হয় ফরচুন ৫০০। এটি কর্পোরেট সাফল্যের একটি মর্যাদাপূর্ণ মানদণ্ড হিসাবে বিবেচিত হয় দেশটিতে এবং এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য অনেক বেশি সম্মানের।

১৯৫৫ সালে যখন তালিকা দিয়ে প্রকাশ শুরু হয় তখন একটি কোম্পানিকে তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে হলে, কোম্পানিটির বার্ষিক আয় সর্বনিম্ন 49.7 মিলিয়ন মার্কিন ডলার করতে হত। ১৯৫৫ সালের সেই লিস্টে সর্ববৃহৎ কোম্পানি ছিল General Motors (GM), যার বার্ষিক আয় ছিল ৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন থেকে প্রায় ১৮০০টি নাম এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে। প্রকাশের শুরুর দিকে শুধুমাত্র ম্যানুফ্যাকচারিং, মাইনিং এবং এনার্জি সেক্টরের কোম্পানিগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করা হতো। ১৯৯৫ সালের একটি বড়সড় পরিবর্তন আসে এই তালিকায় এবং নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানি গুলোর নাম।

টপ কনট্রিবিউটরস অফ ফরচুন ম্যাগাজিন

ফরচুন ম্যাগাজিনের পথচলা প্রায় এক শতাব্দীর। এই সুদীর্ঘ সময়ের ইতিহাসে ম্যাগাজিনের সাথে সংযুক্ত হয়েছে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং লেখকদের নাম।

Henry R. Luce

টাইম ম্যাগাজিনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, Luce ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। ফরচুন ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই Henry Luce। তার উচ্চাভিলাষী দৃষ্টির ফলেই, আমেরিকার প্রখ্যাত এই ম্যাগাজিনটির যাত্রা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, ১৯৩০ সালে ফরচুন প্রতিষ্ঠার পরেও, তিনি ১৯৩৬ সালে লাইভ এবং ১৯৫৪ সালে Sports Illustrated চালু করেন।

Parker Lloyd-Smith

ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রথম ম্যানেজিং সম্পাদক ছিলেন Parker Lloyd-Smith। তিনি শুরুর দিকে ফরচুন ম্যাগাজিনের রেপুটেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার সূক্ষ্ম ও বিচক্ষণ সাংবাদিকতা এবং সুন্দর স্টোরিটেলিং-এর জন্য প্রতিষ্ঠার সময়ে ম্যাগাজিনটির নামডাক দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

Thomas Maitland Cleland

Thomas Maitland Cleland একজন বিশিষ্ট আমেরিকান গ্রাফিক ডিজাইনার, টাইপ ডিজাইনার এবং বুক ডিজাইনার ছিলেন। তিনি ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রথম আর্ট ডিরেক্টর ছিলেন। শুরুর দিকে তিনি তার অনন্য ডিজাইন দিয়ে, ফরচুন ম্যাগাজিনকে আকর্ষণীয় এবং ইউনিক করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Ralph Ingersoll

Ralph Ingersoll ফরচুন ম্যাগাজিনের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ম্যাগাজিনের দিকনির্দেশনা এবং মিশন সেট করে এবং সেই মোতাবেক কাজ করেন যা ম্যাগাজিনটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

Carol Loomis

Carol Loomis একজন অত্যন্ত সম্মানিত ফিনান্সিয়াল জার্নালিস্ট এবং ফরচুন ম্যাগাজিনের সিনিয়র সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে ম্যাগাজিনে যোগদান করেন এবং ব্যবসা ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলির মত বড় বড় সেক্টর গুলো কভার করেন। তিনি Warren Buffett এবং Berkshire Hathaway-এর মত কলামগুলো লেখার জন্য বিখ্যাত।

Geoff Colvin

Geoff Colvin ছিলেন একজন বিশিষ্ট ফিন্যান্সিয়াল জার্নালিস্ট এবং ফরচুন ম্যাগাজিনে দীর্ঘদিনের সিনিয়র সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এই পুরষ্কার বিজয়ী লেখক, ইকোনমিক ট্রেন্ড ও লিডারশিপ নিয়ে বিশ্লেষণ করতেন এবং বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন।

Andy Serwer

২০০৮ সালে যখন বিশ্বজুড়ে আর্থিক সংকট চলমান, তখন ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক ছিলেন Andy Serwer। তিনি এই অর্থনৈতিক মন্দার কড়া সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রদান করার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি সেই সময়েও ম্যাগাজিনটির প্রধান অর্থনৈতিক ইভেন্টগুলির কভারেজ করেছিলেন এবং তার বিশ্লেষণ এবং লেখা পাঠকদের বিমোহিত করেছিল।

Alan Murray

Alan Murray 2014 থেকে 2017 সাল পর্যন্ত ফরচুন ম্যাগাজিনের সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি ম্যাগাজিনের সিইও পদে নিযুক্ত আছেন। তার সাংবাদিকতার জ্ঞান ফরচুন ম্যাগাজিনের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তিনি বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সমস্যাগুলির কভারেজের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।

এছাড়াও, Eric Hodgins, Hedley Donovan, Louis Banks, William S. Rukeyser, John Huey-এর মত প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিকরা ফরচুন ম্যাগাজিনের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ম্যাগাজিনটির বর্তমানে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন Alyson Shontell.

ফরচুন ম্যাগাজিন-এর প্রভাব

ফরচুন ম্যাগাজিন শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক জগত এবং সাংবাদিকতায় উপর গভীর প্রভাব ফেলে আসছে। এর অ্যানালাইসিস, সমীক্ষা ও কোম্পানিগুলোর রিপোর্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গতিবিধি নির্ধারণ এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় অবদান রাখে।

ব্যবসা এবং ইকোনমিক ট্রেন্ড সম্পর্কে গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং রিপোর্ট প্রদান করার জন্য বিখ্যাত ফরচুন ম্যাগাজিন। এটি মার্কেট ডিনামিক্স, ইন্ডাস্ট্রি এবং ইকোনমিক সূচকগুলোর উপরে নজর রাখে এবং গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রদান করে যা ব্যবসায়ী বিনিয়োগকারী এবং পলিসি মেকারদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রোফাইল এবং বড় বড় ব্যবসায়িক নেতাদের সাক্ষাৎকার, অনেক পাঠকদেরকে কর্পোরেট নেতৃত্ব প্রদানে উৎসাহিত করে, যা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নতুন বৈচিত্র্যময় এবং কার্যকর নেতৃত্বের সূচনা করে।

রাজস্ব অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর তালিকা প্রকাশ করা ফরচুন ৫০০, যা কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট সাফল্যের মাপকাঠিতে পরিণত হয়েছে। এবং ম্যাগাজিনে কোম্পানিগুলোর অন্তর্ভুক্তি তাদের সামাজিক মর্যাদা বয়ে আনে।

ম্যাগাজিনটির রিপোর্ট এবং বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক সেক্টরে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও ম্যাগাজিনটির কভারেজ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, নীতি ও ব্যবসার আলোচনা-সমালোচনাকে প্রভাবিত করে, এবং অর্থনৈতিক প্রবণতা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে অবদান রাখে।

এছাড়াও ম্যাগাজিনটির কভারেজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বিস্তৃত যা বিশ্বের ব্যবসায়িক এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উপরে সজাগ দৃষ্টি রাখে। আন্তর্জাতিক বিষয়ে ম্যাগাজিনটির এই আলোকপাত করার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঠকরা খুব সহজেই আমেরিকার অর্থনীতি এবং বিশ্বের অর্থনীতির মধ্যে তুলনা করতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিককালে ফরচুন ম্যাগাজিন জলবায়ু, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তির মতো সেক্টরগুলিতে ফোকাস করছে এবং ইন-ডেপ্থ অ্যানালাইসিস ও রিপোর্ট প্রদান করছে। এছাড়াও ফিনান্সিয়াল নানা বিষয়ের উপর ভিডিও সিরিজ, পডকাস্ট এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকারের মত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক এসব সুবিধাগুলো সঠিকভাবে প্রদান করার জন্য, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের উন্নিতকরনে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম যেমন টুইটার, লিঙ্কডইন এবং ইউটিউবের মতো প্লাটফর্ম গুলোতে তাদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করছে।

ফরচুন বর্তমানে পেইড সাবস্ক্রিপশনের উপরে বেশী নজর দিচ্ছে এবং এই সাবস্ক্রিপশনে, এক্সক্লুসিভ আর্টিকেল, ইভেন্ট এবং নেটওয়ার্কিং-এর সুযোগ সুবিধাগুলো অফার করে থাকে। ফরচুন ম্যাগাজিনের নতুন ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে "Fortune 500: The List Unveiled" একটি নতুন লাইভ ইভেন্ট যা কোম্পানীগুলোর বার্ষিক র‍্যাঙ্কিং সরাসরি প্রদর্শন করে এবং "The Fortune CEO Initiative" যা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রচার করে থাকে।

উপসংহার

১৯৩০ সালে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফরচুন ম্যাগাজিন আমেরিকার ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো অবদান রেখে আসছে। এর অ্যানালাইসিস, রিপোর্ট প্রদান, সমীক্ষাসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সাক্ষাৎকার পরিবেশন, দেশজুড়ে কর্পোরেট সাফল্য অর্জন এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করে। এর ফরচুন 500-এর মত প্রকাশনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর গতিবিধি নির্ধারণ ও সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এছাড়াও ম্যাগাজিনটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, অগ্রগতি এবং নতুন ব্যবসায়িক মডেলগুলোর উপরেও সজাগ দৃষ্টি রাখে, যা এসব নতুন প্রযুক্তি এবং মডেলের অবদানগুলোকে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের সামনে এনে তাদেরকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে।

  • https://en.wikipedia.org/wiki/Fortune_(magazine)
  • https://www.investopedia.com/terms/f/fortune500.asp
Next to read
Business Models
কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)
কাস্টমার ডাটা মনেটাইজেশন মডেল (Customer Data Monetization Model)

কাস্টমার ডেটা মনিটাইজেশন মডেলে গ্রাহকদেরকে মূল সেবাটি বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। অতঃপর সুষ্ঠু পদ্ধতিতে গ্রাহকদের যাবতীয় তথ্যাবলি সংগ্রহ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রয় করা হয়। আর এই গ্রাহক তথ্য বিক্রয়ের মাধ্যমেই মূলত এই কাস্টমার ডেটা মনিটাইজেশন মডেল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূল আয় করে থাকে।

বিজনেস মডেল ক্যানভাস ( Business Model Canvas)
Canvas & Methods
বিজনেস মডেল ক্যানভাস ( Business Model Canvas)
বেইট এন্ড হুক মডেল  (Bait & Hook Model)
Business Models
বেইট এন্ড হুক মডেল (Bait & Hook Model)
সাবস্ক্রিপশন মডেল (Subscription Model)
Business Models
সাবস্ক্রিপশন মডেল (Subscription Model)
রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example
Business
রেড ওশান এবং ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি (Red Ocean & Blue Ocean Strategy with Example
নিট মুনাফা (net profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং কিভাবে হিসাব করবেন
Business
নিট মুনাফা (net profit) সংজ্ঞা, সূত্র এবং কিভাবে হিসাব করবেন
ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Micro Economics কী?
Economics
ব্যষ্টিক অর্থনীতি বা Micro Economics কী?
বিনিয়োগ কি? বিনিয়োগের ধরণ এবং উদাহরণ
Investment
বিনিয়োগ কি? বিনিয়োগের ধরণ এবং উদাহরণ
ই-কমার্স: অনলাইন ব্যবসা
E-Commerce
ই-কমার্স: অনলাইন ব্যবসা
ডিমার্কেটিং (DeMarketing)
Marketing
ডিমার্কেটিং (DeMarketing)