GeoRenus Editorial Team

বৈশ্বিক অর্থনীতি এক বৈচিত্রময় গোলকধাঁধার নাম। প্রতিনিয়ত উত্থান পতনের খেলা চলে এই ক্ষেত্রে, খেলা চলে হাজার হাজার নতুন চ্যালেঞ্জের। এই বৈচিত্রময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে IMF বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল একটি শক্ত বাতিঘর, যা অনিশ্চয়তার উত্তাল প্রবাহের মধ্যে জাতিগুলোকে পথ দেখায় নিশ্চয়তার। এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মঞ্চে আনে স্থিতিশীলতা, সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা।
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, আন্তর্জাতিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা, সদস্য দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযু্ক্তিগত সহায়তা প্রদানের জন্য IMF-এর যাত্রা শুরু হয়। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের, IMF থেকে ঋণ নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। আমাদের দেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এই ঋণ নেওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
IMF বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল হল জাতিসংঘের একটি প্রধান আর্ধিক সংস্থা। এটি হলো বিশ্বের সবগুলো দেশের ঋণ নেওয়ার সর্বশেষ গন্তব্যস্থল। IMF-এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এবং বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৯০ টি। এই ১৯০ টি দেশই সংস্থাটি পরিচালনা করে এবং সদস্য দেশগুলোর প্রত্যেকের কাছে IMF-কে জবাবদিহি করতে হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ১৯৪৪ সালে বিখ্যাত ব্রিটেন উডস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই ব্রিটেন উডস চুক্তির চুড়ান্ত সাফল্য হিসেবে পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালের প্রতিষ্ঠিত হয় IMF-এর। এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রায় স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক সংকটপূর্ণ দেশগুলোকে প্রয়োজন মাফিক ঋণ প্রদান করা। মাত্র ৪৪টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সংস্থাটি বর্তমানে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, বেশির ভাগ দেশ যখন গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ফলো করত, তখন দেশগুলো অতিরিক্ত পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ করে রাখতে চাইত। যার ফলে বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। এরপর ১৯২৯ সালে স্টক মার্কেটে ধস নামলে, বিশ্ববাজারে আরো বেশি অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এর সমস্যার সমাধান হিসেবে বিশ্বের ৪৪ টি দেশ একত্রিত হয়ে ব্রিটেন উডস চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) মূলত ১৯৪৫ সালের এই ব্রেটন উডস চুক্তির অংশ হিসাবে, বিশ্বব্যাপী আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতার প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি স্থির বিনিময় হারে পরিবর্তনযোগ্য মুদ্রার একটি ব্যবস্থা চালু করতে কাজ শুরু করে। ঐ সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণ খালাসের জন্য ৩৫ ডলার ধার্য করা হয়েছিল।
৪৪ টি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আশার আলোকবর্তিকা হয়ে, বিনিময় হারের উত্তাল সমুদ্রকে স্থির রাখতে এবং একটি অশান্ত বিশ্ব বাণিজ্যকে বৃদ্ধি ও উত্সাহিত করতে IMF-এর সৃষ্টি হয়। কিন্তু সংস্থাটির যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। ১৯৭০-এর দশকে ব্রেটন উডস সিস্টেমের পতনের পর থেকে, IMF ভাসমান বিনিময় হারের ব্যবস্থাকে উন্নীত করেছে, যা অর্থ বাজারের শক্তি বৃদ্ধি এবং একে অপরের সাপেক্ষে মুদ্রার স্থির মান নির্ধারণ করে। এই সিস্টেমটি পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে রয়ে গেছে।
IMF বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নজরদারি, তদারকি, আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুস্থ ও সুষ্ঠু ধারা বজায় রাখতে সব সময় কাজ করে থাকে।
IMF এর মুল কাজগুলোর একটি বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা। IMF সদস্য দেশগুলির, জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি এটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়মিত আপডেটেড অর্থনৈতিক পূর্বাভাসও সরবরাহ করে থাকে। এইসব তথ্য বিশ্লেষণ করে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে এবং নীতিগত সুপারিশ প্রদান করে থাকে।
IMF এর একটি মূল মিশন হল আর্থিক সংকট প্রতিরোধ বা হ্রাস করার জন্য, অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন দেশগুলিকে ঋণ দেওয়া। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিকূলতা মোকাবেলার ক্ষেত্রেও এই ঋণ প্রদান করে থাকে। ঋণের মাধ্যমে, সংস্থাটি দেশগুলিকে তাদের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়তা করে। অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব প্রশমিত করতে এবং দ্রুত বিশ্বব্যাপী আর্থিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জন্য IMF-এর সংকট প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্থিক সহায়তার বাইরে গিয়ে, IMF সদস্য দেশগুলিকে তাদের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং নীতিগুলিকে শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিচালনা করে থাকে। এই প্রোগ্রামগুলির মধ্যে রয়েছে, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের প্রশিক্ষণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম প্রদান ইত্যাদি যা জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণের জন্য IMF-কে বিপুলভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলি এই সহযোগিতা থেকে উপকৃত হয়ে, তাদের অর্থনীতিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করতে পারে।
এছাড়াও IMF-এর প্রচেষ্টার মূলে রয়েছে সহযোগিতা। এটি বাণিজ্য উদারীকরণ, বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের মতো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলিতে দেশগুলির মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। এই সম্মিলিত পদ্ধতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মুদ্রা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও উন্নয়নে অবদান রাখে।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বোর্ড অফ গভর্নরস, এক্সিকিউটিভ বোর্ড এবং মিনিস্ট্রিয়াল কমিটির সমন্বয়ে IMF-এর নেতৃত্ব পরিষদ গঠিত হয়। এখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন স্টাফ প্রধান এবং নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান। এবং বোর্ড অফ গভর্নর IMF-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
বোর্ড অফ গভর্নরস হল IMF-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা। প্রতিটি সদস্য দেশ থেকে একজন গভর্নর নিযুক্ত থাকে। এবং নিযুক্ত গভর্নরের অধীনে একজন বিকল্প গভর্নর থাকেন। তারা সাধারণত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বা অন্য কোন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়ে থাকেন।
বোর্ড অফ গভর্নর, অনুমোদিত কোটার পরিমাণ বৃদ্ধি, SDRs (Special Drawing Rights) বরাদ্দ, নতুন মেম্বারদের অন্তর্ভুক্তি, IMF-এর চুক্তির পরিমার্জন ও সংশোধন করা, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ মীমাংসাসহ নানা ধরনের কার্যাবলী পরিচালনা করে থাকে। বোর্ড অফ গভর্নরদের প্রতি বছরে একটি করে মিটিং হয়ে থাকে।
কার্যনির্বাহী বোর্ডে ২৪ জন নির্বাহী পরিচালক থাকে যারা ১৯০ টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এদের মধ্যে আটটি বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, সৌদি আরব, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য থেকে আটজন নির্বাহী পরিচালক থাকেন। প্রতিটি পরিচালক ৫ বছরের মেয়াদে কাজ করে থাকেন।
কার্যনির্বাহী বোর্ড সপ্তাহে কয়েকবার করেই সভা করে। এই বোর্ড অর্থনৈতিক নীতির সংশোধন থেকে শুরু করে সদস্য দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান কর্মসূচীসহ, দেশগুলোর বার্ষিক অর্থনীতির অবস্থানের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এই বোর্ডের সদস্যরা ঐক্যমত বা আনুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
International Monetary and Finance Committee (IMFC) এবং Development Committee এই দুটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি নিয়ে IMF-এর মিনিস্টিরিয়াল কমিটি গঠিত। সদস্য দেশগুলির গভর্নরদের মধ্য থেকে ২৪জন সদস্য নিয়ে International Monetary and Finance Committee (IMFC) গঠিত, এবং ২৫ গভর্নরদের সমন্বয়ে তৈরি হয় Development Committee।
IMFC মূলত, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির উচ্চ স্তরের কৌশলগত পরামর্শ প্রদান, IMF-এর নির্বাহী বোর্ডের কাজের তত্ত্বাবধান, সমালোচনামূলক অর্থনৈতিক এবং আর্থিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের কাজ করে থাকে। এছাড়া Development Committee দারিদ্র্য হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়নে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সাথে IMF-এর কাজের সমন্বয় করে থাকে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক IMF-এর নেতৃত্ব প্রদান করে থাকেন। তিনি স্টাফ প্রধান এবং নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে একজন প্রথম উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্য তিনজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযুক্ত থাকেন যারা ব্যবস্থাপনার পরিচালককে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, নির্বাহী বোর্ডের নির্দেশে IMF-এর সাধারণ কাজ সম্পাদন করেন। IMF-এর বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর হচ্ছেন বুলগেরিয়ার নাগরিক Kristalina Georgieva.
স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৭ই আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে IMF-এ যোগ দেয়। সেইসময় IMF, প্রাথমিকভাবে নতুন জাতিকে তার অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। তখন থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১০ বার IMF থেকে ঋণ চেয়েছিল। এছাড়াও, IMF-এর কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে। দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য IMF-এর কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।
১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ প্রথম বারের মতো IMF-এর কাছে ঋন চেয়েছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২৪ শে জুলাই বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ চেয়ে IMF-এর কাছে চিঠি পাঠায়। মোট সাত কিস্তিতে এবং বাজারদরের ভিত্তিতে গড়ে ২.২ শতাংশ হারে ঋণ দেওয়াতে IMF সম্মতি প্রদান করে। অনুমোদনের তিনদিন পর ২০২৩ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ ব্যাংক IMF-এর কাছ থেকে ঋণের প্রথম কিস্তিতে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই ঋণ প্রদান করা হবে এবং এই পুরো ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ২০২৬ সালে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সাল থেকেই ঋণ পরিশোধ শুরু করবে।
এছাড়াও ২০১২ সালে, বাংলাদেশ তার অর্থপ্রদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য IMF-এর সাথে একটি তিন বছর মেয়াদী Extended Credit Facility (ECF) চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে, বাংলাদেশের অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য IMF বাংলাদেশের সাথে চার বছরের জন্য Extended Fund Facility (EFF) চুক্তি স্বাক্ষর করে। এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে, বাংলাদেশ ও IMF-এর মধ্যে দুটি চুক্তি, নতুনভাবে Extended Credit Facility (ECF) এবং Resilience and Sustainability Facility (RSF) স্বাক্ষরিত হয়।
সেই ব্রেটন উডস থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, IMF বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি অর্জনে, বিশ্বে দারিদ্র্য কমাতে, বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছে। যদিও IMF-এর অনেক কাজের জন্য এটি বিশ্ব দরবারে বহুবার সমালোচিত হয়েছে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং একটি নির্দিষ্ট মুদ্রা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে IMF-এর জুড়ি নেই। এছাড়াও সঙ্কট নিরসনে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে, সংস্থাটি নজরদারি, ঋণ প্রদান, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংকট প্রতিক্রিয়ার মূল কাজগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করে থাকে, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

সামাজিক উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আরো সহজ করে দেয় সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল। মূলত বহুল ব্যবহৃত বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল থেকেই সামাজিক সংগঠনের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী করে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সামাজিক উন্নয়নে কোনো আইডিয়া এই টুলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সিন্ধান্তে আসা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।








