GeoRenus Editorial Team

বিশ্বব্যাংক, একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলির জন্য আশার আলোকবর্তিকা হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিকে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্পগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ঋণ ও অনুদান প্রদান করে থাকে। এই ঋণ, অনুদান এবং পরামর্শের মাধ্যমে, বিশ্বব্যাংক দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা প্রদান করে।
বিশ্ব অর্থনীতি এমন একটি মঞ্চ যেখানে প্রতিনিয়ত খেলা চলে উত্থান পতনের, দারিদ্রতা যেখানে নিত্য সঙ্গী, সেখানে বিশ্বব্যাংক একটি কান্ডারী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যা দেশগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও ভাগ্য গঠনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার ছায়া এখন সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত এবং এর প্রভাব জাতিগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম। অর্থাৎ এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই নয় বরং উন্নয়নের পথপ্রদর্শক হিসেবে জাতিগুলোর কাছে পরিচিত।
বর্তমানে বিশ্বব্যাংক, তার পাঁচটি অঙ্গসংগঠন নিয়ে বিশ্বজুড়ে দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের আর্থিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য ঋণ, অনুদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালে ব্রেটেন উডস সম্মেলনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্বব্যাংকের যা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিকশিত হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সূচনা থেকে শুরু আজ পর্যন্ত এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির উন্নতিতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে এটি অবস্থান করছে।
২০২২ সালের হিসাবে, বিশ্বব্যাংক ১৭ টি গোল চিহ্নিত করেছে যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এদের মধ্যে প্রথমটি হল বিশ্বব্যাপী ৩% এর কম মানুষ যারা চরম দারিদ্র্যতার নিচে বসবাস করে, তাদের সংখ্যা হ্রাস করা। দ্বিতীয়টি হল বিশ্বের প্রতিটি দেশের নীচের সারির ৪০% মানুষের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটির সামগ্রিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করা।
বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-কে ব্রেটেন উডস সংস্থা বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রেটেন উডস সংস্থা সাফল্য হিসেবে এই দুটি সংস্থার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ব্রেটেন উডস চুক্তির মূল লক্ষ্য, একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা তৈরীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই দুটি সংস্থা । এবং তাদের উভয়ের লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতি সাধনের জন্য বিশ্বের দেশগুলোকে সাহায্য করা।
১৯৪৪ সালের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্বব্যাংক প্রথম কাজ শুরু করে ১৯৪৬ সালের জুনে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশ যে বিশ্বব্যাংকের সদস্য, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সেই বিশ্বব্যাংকের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৮ টি দেশ। প্রথম দিকে সংস্থাটি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় দেশগুলো এবং জাপানের অর্থনৈতিক পুনগঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালে এর অফিসিয়াল নাম ছিল International Bank for Reconstruction and Development (IBRD)।
ইউরোপ এবং জাপানের অর্থনৈতিক সামগ্রিক অবস্থার উন্নয়ন হওয়ার পর, এরপর বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধনের দিকে মনোনিবেশ করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিভিন্ন মেয়াদী ঋণ এবং অনুদান প্রদান শুরু করে। এরপর ১৯৬০ সালে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোকে সুদমুক্ত ঋণ ও অনুদান প্রদানের লক্ষ্যে International Development Association (IDA) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ কার্যক্রমকে আরো গ্রহণযোগ্য ও কার্যকারী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্বব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে এবং বিশ্বব্যাংকের সকল কার্যাবলীর সুষ্ঠু ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে জন্য বিশ্ব ব্যাংকের মোট পাঁচটি অঙ্গসংগঠন রয়েছে। এই পাঁচটি সংস্থা একত্রে বলে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ গঠন করে।
International Bank for Reconstruction and Development (IBRD), বিশ্বব্যাংকের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম উপাদান। এই সংস্থাটি বিশ্বব্যাংকের আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য এটি ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত মধ্য-আয়ের এবং নিম্ন-আয়ের দেশগুলিকে ঋণের আওতায় আনার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে IBRD।
১৯৬০ সালে, International Development Association (IDA) প্রতিষ্ঠিত হয় যার সাথে IBRD মিলে বর্তমান বিশ্বব্যাংকের কাঠামো গঠন করে। IDA মুলত বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির জন্য কাজ করা শুরু করে।
IDA তুলনামূলক বেশী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন দেশগুলিকে কম সুদের হারে ঋণ এবং অনুদান প্রদান করে। এই ঋনগুলো, দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং মেগা প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকে। ঋণের পরিশোধের সময়কাল সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর হয়ে থাকে, কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে যা ৩৮ বছর মেয়াদী পর্যন্ত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের আরেকটি অঙ্গসংগঠন International Finance Corporation (IFC), ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটু ভিন্ন ধারায় কাজ শুরু করে এবং উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেসরকারি খাতের উপর বেশী ফোকাস দেয়। ঋণ ও সরাসরি বিনিয়োগ, উভয়ের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বেসরকারি উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এবং অগ্রযাত্রায় সাহায্য করে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জনগণকে ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রতি উৎসাহিত এবং পরামর্শ প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি বেসরকারী খাতের সম্পদের ব্যবহার করে, IFC কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA) এর যাত্রা শুরু হয়। এটি রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বীমা প্রদানের মাধ্যমে ওইসব দেশে বিদেশি বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান এবং হার বৃদ্ধি করে।
সংস্থাটি গৃহযুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবাদ, এবং আর্থিক অধিকার ও বাধ্যবাধকতা না দেওয়ার মতো ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে গিয়ে বীমা প্রদান করে থাকে। তারা অবৈধ পণ্য, অস্ত্র এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বাদে বেশিরভাগ ব্যবসায়ই বীমা প্রদান করে। এ সকল বীমার মেয়াদ ৩ বছর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
সংস্থাটির লক্ষ্য হল উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিদেশী বিনিয়োগের প্রচার এবং বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করা, দারিদ্র্যতা হ্রাস করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতি করা। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই সদস্যের, অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত ১৮২ টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে।
International Centre for Settlement of Investment Disputes (ICSID) হল একটি বিরোধ নিষ্পত্তিকারী সংস্থা যা বিশ্বব্যাংকের সদস্য ভুক্ত দেশগুলোর সরকার এবং বেসরকারি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে এবং এই সংক্রান্ত আইনি কাঠামো প্রদান করে। সংস্থাটি ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তির মতো কাজ করে থাকে।
ICSID একইসাথে মধ্যস্থতা এবং সালিশ পরিষেবাও প্রদান করে যা শুনানির প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ, মূল লক্ষ্য হল, দেশগুলোতে বিদেশি সহ অন্যান্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহজতর করা, এবং একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখা, যাতে বিশ্বব্যাংকের মূল কাজ চালিয়ে নেওয়া সুবিধাজনক হয়।
২০১৭ সালে হিউম্যান ক্যাপিটাল প্রজেক্ট নামে বিশ্বব্যাংক একটি প্রকল্প তৈরি করে, যা সদস্যভুক্ত দেশগুলিতে বিনিয়োগ করতে এবং তাদের জনগণকে দক্ষ, উৎপাদনশীল এবং অর্থনীতিতে সক্রিয় অবদানকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগে আস্থা প্রদান এবং অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। একইসাথে প্রকল্পটি দেশীয় সরকারগুলিকে শিশুর বিকাশে সহায়তা এবং মহিলাদের উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কিভাবে তাদের বিনিয়োগ করা উচিত সেই বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকে।
২০১৬ সালে এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তানের জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসুচিতে সহায়তা করার জন্য প্রায় ৩৭৭.৪১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন করে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য শূন্য থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ভ্যাকসিনের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি মোট পাঁচটি উপাদান নিয়ে গঠিত যা দেশের ভ্যাকসিন বিতরণকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান এবং ঝুঁকি পরিমাণ হ্রাস করার জন্য কাজ করে থাকে।
বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহায়তার উৎস হল বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত, IBRD প্রায় ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ প্রদান করেছে। শুধুমাত্র ২০২২ সালে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ তার সদস্য দেশগুলির জন্য প্রায় ১০৪.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে।
জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী এবং ভঙ্গুর মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্বব্যাংক। এটি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার জন্য প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য শক্তির সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহত প্রকল্পগুলিকে সহযোগিতা করে থাকে বিশ্বব্যাংক। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক মহামারী মোকাবেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং স্বাস্থ্য সংকটে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে।
কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন সাম্প্রদায়গুলোতে, স্কুলের জন্য শিশুদের প্রস্তুতি এবং মাধ্যমিক শিক্ষার কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে Learning for the Future তৈরী করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৫০০ টি কমিউনিটি-বেসড কিন্ডার গার্ডেন প্রতিষ্ঠা করে, যা ২০ হাজার শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়াও প্রকল্পটির অধীনে প্রায় ৫০০ জন নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং শিখা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করে থাকে।
বিশ্বব্যাংক তার আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কার্যাবলী যেমন কিছু প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব এবং স্বচ্ছতার অভাবের জন্য প্রায়ই সমালোচনার সম্মুখীন হয়ে থাকে। বর্তমানে বড় ঋণ গ্রহণকারী কয়েকটি দেশের ঋণের বোঝা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বব্যাংক উদ্বেগ প্রকাশ করে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থাটির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য এইসব সমালোচনাগুলিকে মোকাবেলা করতে হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন বিশ্ব অর্থনীতি চরম ধ্বংসলীলার সম্মুখীন হয়, সারা ইউরোপ জুড়ে চলে হাহাকার, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অবস্থা যখন সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছিল তখনই ইউরোপসহ সারা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য এক মহান আলোকবর্তিকা হয়ে আসে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আস্তে আস্তে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি সাধারণ জনগণসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং আর্ন্তজার্তিক অর্থনীতির সার্বিক অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করা সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য ও সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।








