GeoRenus Editorial Team

Jimmy Joslin, তার স্টার্টআপ elevator pitch রিলেটেড আর্টিকেল একটি কথা বলছেন, সেটা হল, elevator pitch is the magnet for startup entrepreneurs that attracts the investors। এই ত্রিশ সেকেন্ডের ম্যাগনেটের ওপরই নির্ভর করে আছে আপনার স্টার্টআপ ফান্ডিং।
এলিভেটর পিচ, স্টার্টআপ এর fast-paced ওয়ার্ল্ডে ইনভেস্টর কে টার্গেট করার এক আউটস্ট্যান্ডিং টেকনিক। প্রতিটি স্টার্টআপ উদ্দোক্তার স্বপ্ন বিজনেসের শুরুতেই একটা স্ট্রং ফাইনন্সিয়াল বেইজ তৈরি করে নেয়া। বড় বড় ইনভেস্ট কে ভিত্তি করে পাওয়ারফুল বিজনেস রান করা। কিন্তু কয়জন উদ্দোক্তা এই যাত্রায় সফল হয়? “Investors Interest” শীর্ষক একটা আর্টিকেল এ উঠে আসে, প্রায় ৭৭ শতাংশ ইনভেস্টর একটা কম্পেইলিং, ক্রেডিবল এবং রিলায়েবল কল টু অ্যাকশন প্রেফার করে।
তবে, এই জরিপ টি স্টার্টআপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারন অলরেডি রানিং এবং সাকসেসফুল বিজনেস গুলোর কাছে ইনভেস্টর অ্যাট্র্যাক্ট করার মত যথেষ্ট তথ্য, প্রমান, মোটিভ ও এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে। কিন্তু একজন স্টার্টআপ উদ্দোক্তা কাছে, এলিভেটর পিচ ই প্রমান, এটাই তার ক্রেডিবিলিটি, এই ৩০ সেকেন্ড ই তার সময়।
Elevator pitch হল, একটা স্টার্টআপ বিজনেস এর আইডিয়া, প্রপোজিশন, এবং প্রোটেনশিয়াল ইম্পক্ট কে রিপ্রেজেন্ট করে এমন একটা concise এবং ভার্বাল সামারি। অর্থাৎ স্টার্টআপ বিজনেস কে, তাদের লক্ষ, উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা, প্রভাব ইত্যাদি কে খুব কম সময়ে ইনভেস্ট এর কাছে প্রেজেন্ট করা।
আরো সহজে বলতে, ইনভেস্টর কেন আপনার স্টার্টআপ এ ইনভেস্ট করবে? সেটাই আপনি অল্প কথায় কিন্তু স্ট্রং ইম্প্রেশন এর মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে বলবেন। মোট কথা, ইনভেস্টর কে কিছু সেকেন্ডের ইনফরমেশন দিয়ে আপনার বিজনেস এ ইনভেস্ট করার জন্য কনভিন্স করবেন। এটাই হল elevator pitch।
একটা এলিভেটর পিচ সাধারণত ৩০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। এটা মূলত স্বল্প সময়ে কোনো কিছু ডেসক্রাইব করা যায়, এমন ভাবেই ডিজাইন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হল, দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে মূল তথ্য গুলো প্রেজেন্ট করা এবং লিসেনার এর আগ্রহ ক্যাপচার করা।
কয়েকটি উদাহরণ এর মাধ্যমে Elevator pitch বিষয় টি আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে,
কল্পনা করুন আপনি একটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে একজন চাকরিপ্রার্থী। আপনার এলিভেটর পিচ এইরকম হতে পারে: "হাই, আমি [নাম], ডিজিটাল সেক্টর এ প্রমাণিত ট্র্যাক রেকর্ড সহ একজন মার্কেটিং প্রোফেশনাল। আমি আমার আগের কাজ গুলোতে প্রায় ৩০% অনলাইন এনগেজমেন্ট বাড়িয়েছি, এবং আমি ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এর মাধ্যমে ব্রান্ড রেপুটেশন বাড়াতে ইফেক্টিভলি কাজ করে যাচ্ছি।”
অর্থাৎ, মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড সময়ে আপনি আপনার যোগ্যতা, এক্সপেরিয়েন্স ও এক্সপার্টাইজ তিনটি ই তুলে ধরলেন।
ইনভেস্ট কে আকৃষ্ট করার জন্য একটি স্টার্টআপ এলিভেটর পিচ : "হ্যালো, আমি [প্রতিষ্ঠাতার নাম], এবং আমার কোম্পানি [স্টার্টআপ নাম]। আমি এবং আমার টিম টেকসই প্যাকেজিং সমাধানে এক দারুন বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্ভাবনী বায়োডিগ্রেডেবল ইনগ্রিডিয়েন্ট গুলো শুধুমাত্র পরিবেশের জন্যই উপকার করে না বরং ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী অলটারনেটিভ সাপ্লাই করে।
তাই আমাদের সাথে যুক্ত হোন এবং Environment friendly প্রাকটিস গড়ে তুলতে নিজের অবদান রাখুন। “
উভয় উদাহরণেই, এলিভেটর পিচ একটা ফাস্ট ওভারভিউ প্রোভাইড করেছে। এভাবে করে Elevator pitch মূল পাওয়ার গুলো কে হাইলাইট করে এবং ইনভেস্টর দের মনে আগ্রহ তৈরি করে। সর্বোপরি কনভারসেশন আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত একটা প্লাটফর্ম ক্রিয়েট করে।
ফোর্বসের একটি সমীক্ষা অনুসারে, যেসব স্টার্টআপ উদ্দোক্তাদের একটা কম্পেইলিং এলিভেটর পিচ আছে তাদের স্টার্টআপ এর জন্য ফান্ড অ্যাট্রাক্ট করার সম্ভাবনা ৩৭ ভাগ বেশি।
ইনভেস্ট রা কিন্তু আপনার বলা পিচ গুলোতেই ডুবে থাকে। অর্থাৎ, আপনি যত ভাবেই বিজনেস সম্পর্কে আইডিয়া দিতে তান না কেন, একটা সংক্ষিপ্ত, ওয়েল স্পোকেন পিচ গুলোই শেষ পর্যন্ত স্ট্যান্ড করে। এবং ইনভেস্ট এর মাথায় এই পি লাইন গুলোই কাজ করে। ফলে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ এর একটি গবেষণা তে দেখা যায় যে ইনভেস্টট রা সাধারণত প্রথম ২ মিনিটের মধ্যেই একটি পিচ সম্পর্কে প্রাথমিক রায় বা সিদ্ধন্ত তৈরি করে ফেলে।
এটা একটা শর্ট এনকাউন্টার টাইম৷ এই সময়ের মধ্যেই একটা ইতিবাচক ছাপ তৈরিতে একটি শর্ট এলিভেটর পিচ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কম কথায়, ক্লিয়ার মোটিভ তুলে ধরলে সেটা আপনার পিচ কে আরে বেশি হাইলাইট করে।
Pitcherific তাদের করা একটি সমীক্ষা তে পাবলিশ করে যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ইনভেস্টর রা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে একটা শক্তিশালী পিচকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর বলে মনে করে।
একটা ওয়েল স্ট্রযাকচার এর পিচ শুধুমাত্র ইনভেস্টর এর মনোযোগ ই আকর্ষণ করে না বরং তাদের সিদ্ধান্ত কে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিসংখ্যানগত ভাবে আপনাট এলিভেটর পিচে একটা ক্লিয়ার প্রাইজ প্রপোজাল থাকলে, আপনার স্টার্টআপ এর সাথে সম্ভাব্য ইনভেস্ট দের মিটিং সিকিউর করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অর্থাৎ আপনার শর্ট টার্ম এলিভেটর পিচ এর ওপর নির্ভর করে, ইনভেস্ট রা আপনাকে পরবর্তী মিটিং এর জন্য ডাকছে কিনা!
সিবি ইনসাইটসের একটি রিপোর্টে দেখা যায় যে, এলিভেটর পিচ এর পর, যে মিটিং গুলো ডাকা হয়, সেখানে ফান্ডিল পাওয়ার সম্ভাবণা সবচেয়ে বেশি।
CB Insights' রিপোর্ট আরও উল্লেখ করে যে ৪২ ভাগের মত স্টার্টআপ মার্কেট নিড ভ্যালিডেশন এর অভাবে ফান্ড রেইজ করতে ব্যার্থ হয়।
একটা ইফেক্টিভ পিচ মূলত একটা প্রেজেন্ট প্রবলেম, সেটার মার্কেট ডিমান্ড ও সল্যুশন কে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। মার্কেট নিড ভ্যালিডেশন কে যে যত গুরুত্ব দিয়ে প্রেজেন্ট করতে পারবে তার দিকে ইনভেস্টর দের ইন্টারেস্ট স্বভাবতই বেশি হবে।
একিভেটর পিচের শুরুটা করতে হবে একটা কম্পেইলিং হুক এর মাধ্যমে। অর্থাৎ একটা পেইন পয়েন্ট থাকবে অথবা একটা সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট অপরচুনিটি থাকবে আপনার কথার শুরুতেই।
আপনি যে মার্কেটিং এনালাইসিস করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এটা এনশিউর করার জন্য, কথার মাঝে রিসেন্ট মার্কেটের ডাটা এবং এর গ্রোথ পোটেনশিয়ালস গুলো রাখার চেষ্টা করুন।
এমন কিছু স্ট্যাটিসটিক্স বা ট্রেন্ড কে টেনে নিয়ে আসুন যেগুলো আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ডিমান্ড কে হাইলাইট করবে।
প্রথমেই একটা ইউনিক প্রবলেম বা মার্কেট ডিমান্ড হাইলাইট করতে হবে। এরপরই আপনার স্টার্টআও কিভাবে এই প্রবলেম এর সলুশন নিয়ে আসবে তার একটা ক্লিয়ার কনসেপ্ট তুলে ধরতে হবে।
ক্লিয়ারলি ডিফাইন করুন যে আপনার প্রোডাক্ট আপনার কম্পিটিটর দের থেকে আলাদা কেন? কেন তারা বাকি সব উদ্দোক্তা কে রেখে আপনার বিজনেস এ ইনভেস্ট করবে। কিছু স্পেসিফিক ফিচার বা বেনিফিট হাইলাইট করে দিন, যেগুলো আপনার স্টার্টআপ এর সল্যুশন কে আরো বেশি ক্রেডিবল করবে।
আপনার স্টার্টআপ বিজনেস এখন পর্যন্ত কি কি সাকসেস অ্যাচিভ করেছে? বা কি কি মাইলস্টোন স্পর্শ করার প্লান রয়েছে? আপনার বিজনেস এর প্রিভিয়াস গ্রোথ ও রেভিনিউ ডাটার একটা শর্ট ইনসাইট ইনক্লুড করে দিতে পারেন। এতে করে ইনভেস্টর রা জানতে পারবে আপনি এক্সপেরিয়েন্স নিয়েই বিজনেসটা শুরু করেছেন।
আপনার বিজনেস কিভাবে প্রোফিট করে? আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি, বিজনেস মডেল, এক্সেপশন, এবং অ্যন্যান্য প্রাসঙ্গিক মেট্রিক্স গুলো তুলে ধরবেন। এতে করে ক্লায়েন্ট এর কাছে আপনার বিজনেস নলেজ ও স্ট্র্যটেজি সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারনা থাকবে।
আপনার go-to-market স্ট্র্যাটেজি এবং key মাইলস্টোন গুলো তুলে ধরুন। ডিসকাস করুন কিভাবে আপনি আপনার বিজনেস কে ফিউচার চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি করেছেন৷ এবং একটা হিউজ অডিয়েন্স বেস এর কাছে পৌঁছাতে কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
লাস্ট পার্ট টা থাকবে ক্লিয়ার কল-টু-অ্যাকশন এর জন্য। স্পষ্ট ভাবে ইনভেস্টর দের জানান আপনি তাদের কাছ থেকে কি চাচ্ছেন। ফান্ড এমাউন্ট, সাপোর্ট ও অন্যন্য বিষয় গুলো সম্পর্কে সরাসরি কথা বলুন। এবং একই সাথে কি পয়েন্ট গুলো সামারাইজ করে তাদেরকে কনভিন্স করুন আপনার সাথে থাকার জন্য।
Elevator pitch, স্টার্টআপ বিজনেস এর ফান্ডিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ৩০ সেকেন্ড কিংবা দুই মিনিটের ওপর ই পুরো স্টার্টআপ এর ফান্ড বিল্ডিং নির্ভর করছে। তাই, কম্পেইলিং, হুক লাইন, মার্কেট ডিমান্ড, প্রেজেন্ট প্রবলেম ও কম্পিটিটর রিসার্চ এর মাধ্যমে একটা ওয়েল স্ট্র্যাকচারড এলিভেটর পিচ ডেভেলপ করুন।
এলিভেটর পিচ কে আরো বেশি ইফেক্টিভ করতে একই স্টার্টআপ বিজনেস এর কয়েকটি পিচ ভার্সন রাখুন। অর্থাৎ, আপনার স্টার্টআপ বিজনেস এর ইনভেস্টদের আকৃষ্ট করতে, এলিভেটর পিচ এর ইমোশনাল বেনিফিট ভার্শন, প্রবলেম সলভিং ভার্সন, সাকসেস স্টোরি ভার্সন কিংবা ক্লিয়ার কল টু অ্যাকশন ভার্সন রাখুন। মোট কথা, যেকোনো সিচুয়েশনে, ডাইভার্সিফাইড ইনভেস্টর দের কনভিন্স করার ও বিজনেস ফান্ড বিল্ডিং এর জন্য, প্রস্তুত থাকুন।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।








