ভূমিকা — ৬৭ শব্দের একটি চিঠি যা ১০০+ বছরের সংঘাত তৈরি করেছে
১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখনও চলছে। ব্রিটিশ বিদেশ সচিব আর্থার জেমস বেলফোর একটি চিঠি লিখলেন — মাত্র একটি ছোট্ট চিঠি, ৬৭ শব্দের। ঠিকানা: লর্ড ওয়াল্টার রথশিল্ড, ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা।
সেই ৬৭ শব্দে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতি দিল — ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য একটি 'জাতীয় আবাসভূমি' তৈরি করা হবে। সমস্যা একটাই: ফিলিস্তিন ব্রিটেনের ছিল না। সেখানকার ৯০ শতাংশ মানুষ ছিল আরব।
সেই একটি দলিল থেকেই পরবর্তী দশকগুলোতে একে একে তৈরি হয়েছে — ইসরায়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টি, লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি, এবং একটি সংঘাত যা আজও জ্বলছে। ১৯৪৮, ১৯৬৭, ২০২৩ — প্রতিটি যুদ্ধ, প্রতিটি ইন্তিফাদা, প্রতিটি গাজা অভিযান শেষ পর্যন্ত একই প্রশ্নে ফিরে আসে: এই ভূমি কার?
লেখক ও ঔপন্যাসিক Arthur Koestler এটিকে বলেছিলেন — 'এক জাতি গম্ভীরভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃতীয় এক জাতির দেশ দ্বিতীয় আরেক জাতিকে।' এর চেয়ে নিখুঁত সংজ্ঞা আর হয় না।
ঘোষণার মূল পাঠটি ছিল এরকম:
'His Majesty's Government view with favour the establishment in Palestine of a national home for the Jewish people, and will use their best endeavours to facilitate the achievement of this object, it being clearly understood that nothing shall be done which may prejudice the civil and religious rights of existing non-Jewish communities in Palestine, or the rights and political status enjoyed by Jews in any other country.' — Arthur James Balfour, 2 November 1917
অধ্যায় ১ — বেলফোর ঘোষণা কী: মূল পাঠ ও ব্যাখ্যা
ঘোষণার মূল পাঠ (Original Text)
উপরে উদ্ধৃত পাঠটির বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: 'মহামহিম সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত পোষণ করেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনকে সহজতর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন — এই স্পষ্ট বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যে ফিলিস্তিনে বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়গুলোর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার এবং অন্য কোনো দেশে ইহুদিদের রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে না।'
এখন একটু বিশ্লেষণ করি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্যাংশ:
'national home' (জাতীয় আবাসভূমি) — 'state' (রাষ্ট্র) নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা এটিকে রাষ্ট্রের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন। ব্রিটেন সবার কাছে 'আমরা রাষ্ট্র দিচ্ছি না' বলতে পেরেছে।
'in Palestine' (ফিলিস্তিনে) — 'of Palestine' (ফিলিস্তিন নিয়ে) নয়। মানে: সমগ্র ফিলিস্তিন দেওয়া হচ্ছে না, শুধু সেখানে একটি আবাসভূমির জায়গা। কিন্তু বাস্তবে কোথায় সীমানা, তা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।
'existing non-Jewish communities' (বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়) — সবচেয়ে বিস্ময়কর বাক্যাংশ। ফিলিস্তিনের মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ আরব মুসলিম ও খ্রিষ্টান। তারা নাম পেল না — শুধু 'অ-ইহুদি' হিসেবে সংজ্ঞায়িত হলো। ঔপনিবেশিক ভাষার নিখুঁত উদাহরণ।
কার কাছে লেখা হয়েছিল
চিঠিটি লেখা হয়েছিল লর্ড ওয়াল্টার রথশিল্ডকে — ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ এবং ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি Zionist Federation-এর পক্ষে এই চিঠির ঠিকানাপ্রাপক হয়েছিলেন।
মূল লবিস্ট ছিলেন Chaim Weizmann — রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া রসায়নবিদ ও জায়নবাদী নেতা। তিনি পরে ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ট্রপতি হবেন (১৯৪৯)। সেই সময় ব্রিটিশ যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য বিস্ফোরকের কাঁচামাল অ্যাসিটোন উৎপাদনে বিপ্লব আনা তাঁর আবিষ্কার ছিল — এই লিভারেজ তিনি দক্ষভাবে ব্যবহার করেছিলেন।
আইনি মর্যাদা
বেলফোর ঘোষণা ছিল একজন বিদেশ সচিবের ব্যক্তিগত চিঠি — কোনো চুক্তি নয়, কোনো আইন নয়, কোনো জাতিসংঘ প্রস্তাব নয়। আইনিভাবে এটি অত্যন্ত দুর্বল ছিল।
কিন্তু ১৯২০ সালে লিগ অব নেশনস যখন ব্রিটেনকে ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেট দিল — সেই ম্যান্ডেটের মধ্যে বেলফোর ঘোষণাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এইভাবে একটি ব্যক্তিগত চিঠি আন্তর্জাতিক আইনি বৈধতা পেয়ে গেল।
| মূল বাক্যাংশ | কী বলে | আসলে কী মানে | কী লুকিয়ে রাখে |
| national home | ইহুদিদের জন্য জাতীয় আবাসভূমি | রাজনৈতিক অভিপ্রায়, রাষ্ট্রের ইঙ্গিত | রাষ্ট্র কি হবে, কোথায় সীমানা — অস্পষ্ট |
| in Palestine | ফিলিস্তিনে (সমগ্র নয়) | একটি অঞ্চলে বসবাসের সুযোগ | কোন অংশ, কতটুকু — নির্দিষ্ট নয় |
| existing non-Jewish communities | বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায় | ৯০% আরব জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার দাবি | আরবদের নাম নেই, রাজনৈতিক অধিকার নেই |
| civil and religious rights | নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার | ব্যক্তিগত অধিকারের প্রতিশ্রুতি | জাতীয় বা রাজনৈতিক অধিকারের কথা নেই |
দ্রষ্টব্য: এই বিশ্লেষণ বিভিন্ন ইতিহাসবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে তৈরি। শব্দের অর্থ নিয়ে বিতর্ক এখনও চলে।
অধ্যায় ২ — ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: কেন ব্রিটেন এই ঘোষণা দিল
জায়নবাদী আন্দোলন (Zionist Movement)
Theodor Herzl — অস্ট্রীয় সাংবাদিক — ১৮৯৬ সালে 'Der Judenstaat' (ইহুদি রাষ্ট্র) বই লিখে আধুনিক জায়নবাদের ভিত্তি রচনা করেন। ১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে প্রথম জায়নবাদী কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেক্ষাপট: ইউরোপ জুড়ে ইহুদিরা তীব্র নিপীড়নের মুখে। রাশিয়ায় পোগ্রম (সংগঠিত ইহুদি-বিরোধী হামলা), ফ্রান্সে Dreyfus Affair (১৮৯৪) — ইহুদি বিদ্বেষ স্পষ্ট। ইহুদিদের নিজস্ব মাতৃভূমি দরকার।
কোথায় এই ভূমি হবে? আর্জেন্টিনা বিবেচনায় ছিল। উগান্ডাও। কিন্তু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সংযোগের কারণে ফিলিস্তিনই বেছে নেওয়া হয় — ইহুদি ঐতিহ্যে 'Eretz Israel' (ইসরায়েলের ভূমি)।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও কৌশলগত গণনা
১৯১৭ সাল। ব্রিটেন যুদ্ধে ক্লান্ত। অটোমান সাম্রাজ্য (যারা ফিলিস্তিন নিয়ন্ত্রণ করত) শত্রুপক্ষে। ব্রিটেনের তিনটি কৌশলগত লক্ষ্য ছিল:
১. মার্কিন ইহুদি সমর্থন: আমেরিকা সদ্য যুদ্ধে প্রবেশ করেছে (এপ্রিল ১৯১৭)। মার্কিন ইহুদি সম্প্রদায় প্রভাবশালী — তাদের সমর্থন মূল্যবান।
২. রাশিয়ান ইহুদি সমর্থন: বলশেভিক বিপ্লব হচ্ছে, রাশিয়া যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। রাশিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়কে যুদ্ধের পক্ষে রাখার চেষ্টা।
৩. ফিলিস্তিনের উপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: সুয়েজ খালের কাছে ফিলিস্তিন মানে ভারতের পথে নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
সহজ কথায়: ব্রিটেন ইহুদি জাতীয়তাবাদের আদর্শ থেকে এটি করেনি। এটি ছিল নিখাদ রাজনৈতিক দর-কষাকষি।
আরবদের প্রতি পরস্পরবিরোধী প্রতিশ্রুতি
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রতারণা। ব্রিটেন একই সময়ে তিনটি ভিন্ন পক্ষকে তিনটি পরস্পরবিরোধী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল:
হুসেইন-ম্যাকমাহন চিঠিপত্র (১৯১৫): ব্রিটিশ কর্মকর্তা Henry McMahon মক্কার শরিফ হুসেইনকে প্রতিশ্রুতি দিলেন — অটোমানদের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহে সহায়তার বিনিময়ে আরবরা স্বাধীন রাষ্ট্র পাবে, যার মধ্যে ফিলিস্তিনও অন্তর্ভুক্ত বলে আরবরা বুঝেছিল।
সাইকস-পিকো চুক্তি (১৯১৬): ব্রিটিশ কূটনীতিক Mark Sykes ও ফরাসি কূটনীতিক François Georges-Picot গোপনে চুক্তি করলেন — আরব ভূমিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে। আরবদের না জানিয়ে।
বেলফোর ঘোষণা (১৯১৭): একই ভূমি ইহুদিদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
তিনটি প্রতিশ্রুতি, একটি ভূমি। এই স্ববিরোধিতাই পরবর্তী শতাব্দীর সংঘাতের বীজ।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের হিসাব
ইতিহাসবিদ Tom Segev ও Avi Shlaim স্পষ্ট করেছেন: ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকরা ইহুদি জাতীয় অধিকারের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না। ফিলিস্তিন মানে সুয়েজ খালের রক্ষাকবচ, মানে ভারতের পথ, মানে সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব।
| প্রতিশ্রুতি | তারিখ | কাকে | কী প্রতিশ্রুতি | পরিণতি |
| হুসেইন-ম্যাকমাহন চিঠিপত্র | ১৯১৫ | আরব শরিফ হুসেইন | অটোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বিনিময়ে আরব স্বাধীনতা (ফিলিস্তিন সহ) | আরব বিদ্রোহ হলো, প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি |
| সাইকস-পিকো চুক্তি | ১৯১৬ | ফ্রান্স (গোপন চুক্তি) | আরব ভূমিকে ব্রিটেন-ফ্রান্সের মধ্যে ভাগ | ১৯২০-এর পর বাস্তবায়ন, আরবরা ক্রুদ্ধ |
| বেলফোর ঘোষণা | ১৯১৭ | জায়নবাদী ফেডারেশন (লর্ড রথশিল্ড) | ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি | ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভিত্তি, ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতি |
দ্রষ্টব্য: হুসেইন-ম্যাকমাহন চিঠিপত্রে ফিলিস্তিন অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা তা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে। ব্রিটিশ ও আরব উভয় পক্ষ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
অধ্যায় ৩ — মূল চরিত্রসমূহ: কারা এই ঘোষণার পেছনে ছিলেন
Arthur James Balfour
ব্রিটিশ বিদেশ সচিব, পূর্বে প্রধানমন্ত্রী (১৯০২-১৯০৫)। একটি বিস্ময়কর তথ্য: বেলফোর নিজেই ছিলেন Aliens Act 1905-এর রচয়িতা — সেই আইন যা ইহুদিদের ব্রিটেনে অভিবাসন সীমিত করেছিল। তিনি ইহুদিদের ব্রিটেনে রাখতে চাননি, বরং ফিলিস্তিনে পাঠাতে চেয়েছিলেন।
তাঁর সমর্থন ছিল মিশ্র উদ্দেশ্যে: Evangelical Christian ঐতিহ্য (বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস), কৌশলগত স্বার্থ, এবং কিছুটা ইহুদি-বিরোধী মনোভাব থেকে ইহুদিদের ইউরোপের বাইরে রাখার ইচ্ছা।
Chaim Weizmann
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া রসায়নবিদ, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। যুদ্ধের সময় তিনি acetone উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন — cordite বিস্ফোরকের জন্য অপরিহার্য। এই অবদান তাকে ব্রিটিশ মন্ত্রীমহলে প্রবেশাধিকার দেয়।
তিনি দক্ষতার সাথে Lloyd George, Balfour এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে লবিং করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি হন ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
Lord Walter Rothschild
ব্যাংকার, প্রাণিবিজ্ঞানী (Natural History Museum-এ তাঁর সংগ্রহ বিখ্যাত) এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে চিঠির ঠিকানাপ্রাপক হন — সরাসরি রাজনৈতিক নেতা না হলেও তাঁর প্রতীকী গুরুত্ব ছিল বিশাল।
David Lloyd George
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী (১৯১৬-১৯২২)। Evangelical Christian পরিবারে বেড়ে ওঠা Lloyd George বিশ্বাস করতেন ইহুদিদের ফিলিস্তিনে ফেরত আসা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর পূরণ। তিনি সক্রিয়ভাবে ঘোষণা সমর্থন করেন।
Mark Sykes
সাইকস-পিকো চুক্তির সেই Mark Sykes। তিনি একই সাথে আরব ভূমি ভাগ করার চুক্তি করেছিলেন এবং বেলফোর ঘোষণার খসড়া তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। স্ববিরোধিতার নিখুঁত প্রতীক।
Edwin Montagu
ব্রিটিশ ক্যাবিনেটের একমাত্র ইহুদি সদস্য — এবং বেলফোর ঘোষণার সবচেয়ে কঠোর বিরোধী।
তাঁর যুক্তি ছিল: এই ঘোষণা ব্রিটিশ ইহুদিদের নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে (কারণ তাহলে তারা 'বিদেশি' হিসেবে চিহ্নিত হবে), এবং ইউরোপসহ সারা বিশ্বে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসরত ইহুদিদের বিপন্ন করবে। তিনি বলেছিলেন: ইহুদিরা একটি জাতি নয়, একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়।
তাঁর আপত্তি উপেক্ষা করেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যায় ৪ — ঘোষণার পর কী ঘটল: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবায়ন
ইহুদি অভিবাসন তরঙ্গ (Aliyah)
Aliyah মানে হিব্রুতে 'ওঠা' — ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসনকে বলা হয় Aliyah। বেলফোর ঘোষণার পর এর গতি বহুগুণ বেড়ে যায়:
১৯১৭ সালের আগে: ফিলিস্তিনে প্রায় ৮৫,০০০ ইহুদি — মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ।
১৯৩১ সালে: ১,৭৫,০০০ ইহুদি — প্রায় ১৭ শতাংশ।
১৯৪৭ সালে: ৬,৩০,০০০ ইহুদি — প্রায় ৩৩ শতাংশ।
বিশেষ করে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৯ — নাৎসি জার্মানি থেকে পালিয়ে আসা ইহুদিদের ঢল ফিলিস্তিনের জনতাত্ত্বিক চেহারা দ্রুত বদলে দেয়।
আরব প্রতিক্রিয়া
আরব জনগোষ্ঠী দেখছিল তাদের ভূমি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়ে ওঠে:
১৯২০ Nebi Musa দাঙ্গা: জেরুজালেমে আরব-ইহুদি সংঘাত।
১৯২৯ হেব্রন গণহত্যা: ৬৭ জন ইহুদি নিহত, হেব্রনের ইহুদি সম্প্রদায় উচ্ছেদ।
১৯৩৬-৩৯ আরব বিদ্রোহ: তিন বছরের সশস্ত্র বিদ্রোহ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ও ইহুদি বসতকারীদের বিরুদ্ধে। হাজারো মৃত।
ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়া: ১৯৩৯ White Paper — ইহুদি অভিবাসন সীমিত করার চেষ্টা। কিন্তু ততক্ষণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু, Holocaust চলছে — নীতিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ ম্যান্ডেট (১৯২০-১৯৪৮)
১৯২০ সালে লিগ অব নেশনস ব্রিটেনকে ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেট দেয়। ম্যান্ডেটের মধ্যে বেলফোর ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় — এইভাবে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পেল আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি।
ব্রিটেন ২৮ বছর (১৯২০-১৯৪৮) চেষ্টা করল ইহুদি ও আরব দুই পক্ষকে খুশি রাখতে। পুরোপুরি ব্যর্থ হলো। উভয় পক্ষ ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হলো, এবং শেষপর্যন্ত ব্রিটেন ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে গেল।
| বছর | ইহুদি জনসংখ্যা | আরব জনসংখ্যা | % ইহুদি | মূল ঘটনা |
| ১৯১৭ | ~৮৫,০০০ | ~৬,০০,০০০ | ~৮% | বেলফোর ঘোষণা |
| ১৯২২ | ~৮৪,০০০ | ~৬,৬০,০০০ | ~১১% | ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শুরু |
| ১৯৩১ | ~১,৭৫,০০০ | ~৮,৫০,০০০ | ~১৭% | ইহুদি অভিবাসন তরঙ্গ |
| ১৯৩৯ | ~৪,৫০,০০০ | ~৯,৩০,০০০ | ~৩২% | আরব বিদ্রোহের পর White Paper |
| ১৯৪৭ | ~৬,৩০,০০০ | ~১২,৭০,০০০ | ~৩৩% | জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনা |
দ্রষ্টব্য: এই জনসংখ্যার তথ্য আনুমানিক। বিভিন্ন সূত্র কিছুটা ভিন্ন সংখ্যা দেয়। ব্রিটিশ ম্যান্ডেট-যুগের আদমশুমারি ও পরবর্তী ঐতিহাসিক গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি।
অধ্যায় ৫ — বেলফোর ঘোষণা থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্র পর্যন্ত (১৯১৭-১৯৪৮)
জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা (১৯৪৭)
UN Resolution 181 (নভেম্বর ১৯৪৭): ফিলিস্তিনকে দুই ভাগ করার প্রস্তাব।
ইহুদিদের জন্য: ৫৬% ভূমি — যারা তখন মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩৩%।
আরবদের জন্য: ৪৪% ভূমি — যারা ৬৭% জনসংখ্যা।
ইহুদি নেতারা এটি গ্রহণ করলেন। আরব নেতারা প্রত্যাখ্যান করলেন — কারণ এই বিভাজন তাদের কাছে ন্যায্য মনে হয়নি।
ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা (১৯৪৮)
১৪ মে ১৯৪৮। ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের শেষ দিন। David Ben-Gurion তেল আভিভে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। সেই ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে বেলফোর ঘোষণার কথা।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি Truman মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেন। পরদিন মিশর, সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক ও লেবানন আক্রমণ করল — প্রথম আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু।
নাকবা — ফিলিস্তিনি বিপর্যয়
'Al-Nakba' — আরবিতে 'মহাবিপর্যয়'। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে:
৭ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনি তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বা বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হলো।
৪০০টিরও বেশি ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস বা পরিত্যক্ত হলো।
UNRWA-র ২০২৪ তথ্য: আজ ৫.৯ মিলিয়ন নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী — এদের বেশিরভাগ সেই ১৯৪৮ সালের বাস্তুচ্যুতদের বংশধর।
ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছর ১৫ মে 'Nakba Day' পালন করেন — যেদিন ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস, সেদিনই ফিলিস্তিনিদের বিপর্যয়ের স্মৃতিদিন।
বেলফোর ঘোষণা থেকে সরাসরি যোগসূত্র
ঘটনার কার্যকারণ শৃঙ্খলটি অত্যন্ত স্পষ্ট:
বেলফোর ঘোষণা (১৯১৭) → ব্রিটিশ ম্যান্ডেট (১৯২০) → ইহুদি অভিবাসন → জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন → সংঘাত তীব্রতর
→ জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনা (১৯৪৭) → ইসরায়েল রাষ্ট্র (১৯৪৮) → নাকবা → ৭৫+ বছরের যুদ্ধ ও সংঘাত।
১৯১৭ সালের ৬৭ শব্দ থেকে সরাসরি রেখা টানা যায় ১৯৪৮-এ, ১৯৬৭-এ, ২০২৩-এ। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শৃঙ্খল-প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি।
অধ্যায় ৬ — বিতর্ক: বেলফোর ঘোষণা কি ন্যায্য ছিল?
সমর্থকদের যুক্তি
ঐতিহাসিক সংযোগ: ইহুদিরা ৩,০০০+ বছর আগে থেকে ফিলিস্তিনে বাস করত। তাদের ধর্মগ্রন্থ, ভাষা, সংস্কৃতি সবকিছু এই ভূমির সাথে যুক্ত। একটি ঐতিহাসিক অধিকার ছিল।
ইউরোপীয় নিপীড়ন: পোগ্রম, Dreyfus Affair, এবং শেষপর্যন্ত Holocaust প্রমাণ করে — ইহুদিদের নিজস্ব একটি নিরাপদ আশ্রয় দরকার ছিল। একটি জাতীয় রাষ্ট্র ছাড়া তাদের সুরক্ষা সম্ভব ছিল না।
আন্তর্জাতিক বৈধতা: লিগ অব নেশনস ম্যান্ডেট এবং পরে জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণার নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত।
সমালোচকদের যুক্তি
অন্যের ভূমি দেওয়ার অধিকার নেই: ফিলিস্তিন ব্রিটেনের ছিল না। ব্রিটেন অটোমানদের কাছ থেকে জিতেছিল — এর মানে এই নয় যে তারা এই ভূমি তৃতীয় পক্ষকে দিতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক লঙ্ঘন।
৯০% জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা: ঘোষণার সময় ফিলিস্তিনের ৯০% মানুষ আরব। তাদের মতামত নেওয়া হয়নি, তাদের নামও সঠিকভাবে উল্লেখ নেই। এটি ছিল নিখাদ ঔপনিবেশিক আচরণ।
পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: হুসেইন-ম্যাকমাহন চিঠিপত্রের মাধ্যমে আরবদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্রিটেন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
'অ-ইহুদি সম্প্রদায়' ভাষা: ৯০% মানুষকে তাদের নাম না দিয়ে 'অ-ইহুদি' বলা — এটি অবমাননাকর ঔপনিবেশিক ভাষা যা আরবদের নাগরিক ও রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে স্বীকার করেনি।
আইনি বিশ্লেষণ
বেলফোর ঘোষণা কি আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ ছিল? বিশেষজ্ঞরা দ্বিধাবিভক্ত:
একদল বলেন: এটি ঔপনিবেশিক যুগের একটি রাজনৈতিক ঘোষণা, আন্তর্জাতিক আইনে এর কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। অধিকৃত অঞ্চলের মানুষের সম্মতি ছাড়া এই ধরনের প্রতিশ্রুতি বৈধ হতে পারে না।
অন্যদল বলেন: লিগ অব নেশনস ম্যান্ডেট ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোয় নিয়ে আসে। এই ভিত্তিতে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আইনি।
ICJ ২০০৪ রায়: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নির্মিত দেওয়ালকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলেছে — যা পরোক্ষভাবে বেলফোর-যুগের সিদ্ধান্তের উপর নির্মিত দখলদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অধ্যায় ৭ — দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: বেলফোর ঘোষণার উত্তরাধিকার
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত
বেলফোর ঘোষণার পর থেকে মূল সামরিক সংঘাতগুলো:
১৯৪৮: প্রথম আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ (ইসরায়েলের 'স্বাধীনতার যুদ্ধ', ফিলিস্তিনিদের 'নাকবা')
১৯৫৬: সুয়েজ সংকট
১৯৬৭: ছয় দিনের যুদ্ধ — ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা, সিনাই, গোলান দখল করে
১৯৭৩: ইয়োম কিপুর যুদ্ধ
১৯৮২, ২০০৬: লেবানন যুদ্ধ
১৯৮৭-৯৩, ২০০০-০৫: প্রথম ও দ্বিতীয় ইন্তিফাদা
২০০৮-০৯, ২০১২, ২০১৪, ২০২১: গাজা যুদ্ধ
৭ অক্টোবর ২০২৩: Hamas আক্রমণ ও ইসরায়েলের গাজা অভিযান
প্রতিটি সংঘাতের শিকড় একই: ১৯১৭ সালে সৃষ্ট মৌলিক প্রশ্ন — এই ভূমি কার?
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি
বেলফোর ঘোষণার প্রভাব শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়:
ঠান্ডা যুদ্ধ: ইসরায়েল-আরব সংঘাত মার্কিন-সোভিয়েত প্রক্সি যুদ্ধের মঞ্চ হয়।
তেলের রাজনীতি: ১৯৭৩ সালে আরব তেল অবরোধ সরাসরি ইসরায়েল সমর্থনের প্রতিক্রিয়া।
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা — যার একটি মূল কারণ অমীমাংসিত ফিলিস্তিন প্রশ্ন — বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে।
শরণার্থী সমস্যা
UNRWA (জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা) ২০২৪ তথ্য: ৫.৯ মিলিয়ন নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সমস্যা।
'Right of Return' (প্রত্যাবর্তনের অধিকার) — বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাদের পুরনো বাড়িতে ফেরার অধিকার — শান্তি আলোচনার সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি। UN Resolution 194 (১৯৪৮) এই অধিকার স্বীকার করে, কিন্তু কার্যকর হয়নি।
২০১৭: ১০০ বছর পূর্তিতে প্রতিক্রিয়া
নভেম্বর ২০১৭ — বেলফোর ঘোষণার ১০০তম বার্ষিকী:
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট Mahmoud Abbas: ব্রিটিশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করেন এবং ঘোষণাটিকে 'শতাব্দীর অপরাধ' বলে অভিহিত করেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Theresa May: ক্ষমা চাননি, বরং বলেন তিনি বেলফোর ঘোষণা নিয়ে 'গর্বিত'।
দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান — যা একই ঘটনার দুই পক্ষের অভিজ্ঞতার তীব্র পার্থক্য তুলে ধরে।
অধ্যায় ৮ — বেলফোর ঘোষণা ও সমসাময়িক বিশ্ব
৭ অক্টোবর ২০২৩ ও তার পরবর্তী
৭ অক্টোবর ২০২৩: Hamas-এর আক্রমণে ইসরায়েলে ১,২০০ জন নিহত, ২৫০ জন জিম্মি।
ইসরায়েলের গাজা অভিযান: ২০২৪ সালের মধ্যে ৪০,০০০+ ফিলিস্তিনি নিহত (Gaza Health Ministry তথ্য), ২০ লক্ষেরও বেশি বাস্তুচ্যুত।
দক্ষিণ আফ্রিকা ICJ-এ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করেছে। ICJ ইসরায়েলকে গণহত্যা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই সবকিছুর শিকড়ে আছে সেই মৌলিক প্রশ্ন — যা বেলফোর তৈরি করেছিলেন ১০৭ বছর আগে: কে পাবে এই ভূমি?
Two-State Solution
আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সমাধান: ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন — দুটি পৃথক রাষ্ট্র, ১৯৬৭-পূর্ব সীমানার ভিত্তিতে। পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী।
কিন্তু বাস্তবে এটি ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে:
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি: ৭,০০,০০০+ বসতকারী। এই বসতি না সরালে সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র সম্ভব নয়।
গাজা অবরোধ: ২০০৭ থেকে চলছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
রাজনৈতিক বিভাজন: পশ্চিম তীরে Fatah, গাজায় Hamas — ফিলিস্তিনিরা নিজেরাই বিভক্ত।
Two-State Solution বেলফোর-সৃষ্ট সমস্যার একটি সমাধান প্রস্তাব — কিন্তু বাস্তবায়নের পথ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও বেলফোর
বাংলাদেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না। OIC (Organization of Islamic Cooperation)-এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের ফিলিস্তিনের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।
কিন্তু এই সংঘাতকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পুরো ছবি বোঝা যায় না। বেলফোর ঘোষণা মূলত একটি ঔপনিবেশিক-রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত — যেখানে ধর্ম ছিল অনুঘটক, কিন্তু মূল চালিকাশক্তি ছিল সাম্রাজ্যিক স্বার্থ।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই সংঘাত বোঝা জরুরি — কারণ এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক আইন, ঔপনিবেশিক ইতিহাস, শরণার্থী অধিকার, এবং বৃহৎ শক্তির দায়িত্ব — এই সব প্রশ্ন বাংলাদেশেও প্রাসঙ্গিক।
উপসংহার
৬৭ শব্দ। একটি চিঠি। ১০০+ বছরের সংঘাত। লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুতি। হাজার হাজার নিহত।
বেলফোর ঘোষণা আধুনিক ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে পরিণতিসম্পন্ন একক দলিল। এটি আমাদের শেখায় যে ক্ষমতার করিডোরে — যাদের প্রভাবিত করা হবে তাদের না জানিয়ে — নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো এমন ক্ষত তৈরি করে যা হয়তো কখনো সারে না।
ব্রিটেন ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু ১৯১৭ সালে যে প্রশ্নটি তারা রেখে গেছে — সেটি এখনও জীবন্ত, এখনও রক্তাক্ত।
'One nation solemnly promised to a second nation the country of a third.' — Arthur Koestler, describing the Balfour Declaration
এই সংঘাতের কোনো সহজ সমাধান নেই। কিন্তু সমাধানের প্রথম ধাপ হলো ইতিহাস বোঝা — কীভাবে ৬৭ শব্দ একটি শতাব্দীর যন্ত্রণার বীজ বপন করেছিল।










