GeoRenus Editorial Team

ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টি বা Debt-based Money Creation হলো আধুনিক অর্থব্যবস্থার সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং কম আলোচিত সত্য — প্রতিটা ব্যাংক ঋণ আসলে নতুন অর্থের জন্ম দেয়, এবং সেই ঋণ শোধ হলে সেই অর্থ আবার ধ্বংস হয়ে যায়। অর্থাৎ আমরা যে টাকা প্রতিদিন ব্যবহার করি তার বেশিরভাগই সরকার ছাপায়নি — ব্যাংক তৈরি করেছে, শূন্য থেকে, একটা কম্পিউটার এন্ট্রির মাধ্যমে। এই আবিষ্কার শুনতে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মতো লাগলেও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ২০১৪ সালে এটা সরকারিভাবে স্বীকার করেছে। এই সিস্টেম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সম্ভব করেছে, কিন্তু একই সাথে এমন একটা ফাঁদ তৈরি করেছে যেখান থেকে বের হওয়ার পথ নেই — কারণ ঋণ থামলেই অর্থ ধ্বংস হয়, এবং অর্থ ধ্বংস হলে অর্থনীতি ভাঙে।
আপনার হাতে এই মুহূর্তে একটা ১০০ টাকার নোট আছে। আপনি মনে করেন এই নোটটা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক ছেপেছে। সেটা ঠিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো — বাংলাদেশে যত টাকা আছে, তার কতটুকু এভাবে ছাপা? উত্তর শুনলে চমকে যাবেন।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে প্রচলিত অর্থের মাত্র ৩% থেকে ৮% কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি করে। বাকি ৯২% থেকে ৯৭% অর্থ তৈরি করে বাণিজ্যিক ব্যাংক — যখন তারা ঋণ দেয়।
এই কথাটা প্রথম শুনলে বিশ্বাস হতে চায় না। মনে হয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কিন্তু এটা কোনো তত্ত্ব নয় — এটা আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল কাঠামো। এবং এটা স্বীকার করেছে স্বয়ং Bank of England, Federal Reserve এবং বিশ্বের প্রতিটি বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে বুঝবো — ব্যাংক কীভাবে শূন্য থেকে অর্থ তৈরি করে, এই প্রক্রিয়ায় কে লাভবান হয়, কে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর।
Debt-based Money Creation বা ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টি মানে হলো — আধুনিক অর্থনীতিতে নতুন অর্থ তৈরি হয় যখন ব্যাংক কাউকে ঋণ দেয়। ঋণ দেওয়ার মুহূর্তে ব্যাংক আসলে কারো জমা থেকে টাকা নিয়ে অন্যকে দিচ্ছে না। বরং ব্যাংক কম্পিউটারে দুটো সংখ্যা লিখছে — একদিকে ঋণগ্রহীতার কাছে পাওনা, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতার অ্যাকাউন্টে জমা। এই দুটো সংখ্যা লেখার মুহূর্তেই নতুন অর্থ অস্তিত্বে আসে।
এটা বোঝার সহজ উপায় হলো একটা উদাহরণ। আপনি ব্যাংকে গিয়ে ৫০ লাখ টাকার গৃহঋণ নিলেন। ব্যাংক আপনার অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা জমা দেখাল। এই ৫০ লাখ টাকা কোথা থেকে এল? অন্য কোনো আমানতকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হয়নি। ব্যাংকের ভল্ট থেকে নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র একটা কম্পিউটার এন্ট্রির মাধ্যমে এই টাকা তৈরি হলো। আক্ষরিক অর্থেই শূন্য থেকে।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — আপনি যখন এই ঋণ শোধ করবেন, তখন সেই পরিমাণ অর্থ আবার ধ্বংস হয়ে যাবে। সিস্টেম থেকে মুছে যাবে। অর্থের জন্ম ঋণে, মৃত্যুও ঋণ শোধে।
এটাই আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে মৌলিক সত্য — এবং এটাই সবচেয়ে কম আলোচিত সত্য।
ধরুন আপনি মিরপুরে একটা ফ্ল্যাট কিনতে চান। দাম ৫০ লাখ টাকা। আপনার কাছে এত টাকা নেই, তাই আপনি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গৃহঋণের আবেদন করলেন। ব্যাংক আপনার আয়, চাকরি, জামানত যাচাই করল।
ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিল আপনাকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ দেবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটা ঘটে। ব্যাংক অন্য কোনো আমানতকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরায় না। ভল্ট থেকে নোট বের করে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ধার নেয় না।
ব্যাংক শুধু তার কম্পিউটার সিস্টেমে দুটো এন্ট্রি করে:
Asset (সম্পদ): আপনার কাছে পাওনা — ৫০,০০,০০০ টাকা
Liability (দায়): আপনার অ্যাকাউন্টে জমা — ৫০,০০,০০০ টাকা
এই দুটো সংখ্যা একসাথে লেখা হলো। ব্যাংকের ব্যালেন্স শীট দুদিকে সমান বাড়ল। এবং এই মুহূর্তে ৫০ লাখ টাকার নতুন অর্থ অস্তিত্বে এলো — যা এক সেকেন্ড আগেও ছিল না।
Bank of England তাদের ২০১৪ সালের রিপোর্টে স্পষ্ট ভাষায় বলেছে: "Whenever a bank makes a loan, it simultaneously creates a matching deposit in the borrower's bank account, thereby creating new money."
আপনি সেই ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাটের মালিককে পেমেন্ট করলেন। ফ্ল্যাটের মালিক সেই টাকা তার ব্যাংকে জমা দিল। এখন সেই ব্যাংকেও একটি নতুন আমানত তৈরি হলো। সেই ব্যাংক আবার সেই আমানতের একটা অংশ অন্য কাউকে ঋণ দিতে পারে। এভাবে অর্থ সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বারবার নতুন অর্থ তৈরি হতে থাকে।
এখন প্রতি মাসে আপনি ব্যাংকে কিস্তি দিচ্ছেন। এই কিস্তির দুটো অংশ — মূলধন (Principal) এবং সুদ (Interest)। মূলধনের অংশটা যখন ফেরে, ব্যাংকের খাতায় ঠিক উল্টো এন্ট্রি হয়। Asset কমে, Liability কমে। সেই পরিমাণ অর্থ সিস্টেম থেকে মুছে যায়। ঋণ যেভাবে অর্থ তৈরি করেছিল, ঋণ শোধ ঠিক সেভাবেই অর্থ ধ্বংস করে।
সুদের টাকাটা ব্যাংকের আয়। এটা ব্যাংক ধ্বংস করে না — এটা দিয়ে ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন দেয়, শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়, ব্যবসা চালায়। কিন্তু এখানেই একটা গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে — যেটা পরের অধ্যায়ে আলোচনা করব।
এতক্ষণ ধারণাটা বুঝলাম। এবার দেখা যাক সংখ্যায় আসলে কতটুকু অর্থ তৈরি হতে পারে এবং সেটা কোন নিয়মে নিয়ন্ত্রিত হয়।
আধুনিক ব্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি হলো ব্যাংককে প্রতিটি আমানতের পুরোটা ধরে রাখতে হয় না। একটা নির্দিষ্ট অংশ রিজার্ভ রেখে বাকিটা ঋণ দেওয়া যায়। এটাই Fractional Reserve Banking।
ধরুন রিজার্ভ রেট ১০%। আপনি ১,০০০ টাকা জমা দিলেন।
ব্যাংক A: আমানত ১,০০০ → রিজার্ভ ১০০ → ঋণ ৯০০
ব্যাংক B: আমানত ৯০০ → রিজার্ভ ৯০ → ঋণ ৮১০
ব্যাংক C: আমানত ৮১০ → রিজার্ভ ৮১ → ঋণ ৭২৯
ব্যাংক D: আমানত ৭২৯ → রিজার্ভ ৭৩ → ঋণ ৬৫৬
এই চেইন চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১,০০০ টাকা থেকে সিস্টেমে মোট ১০,০০০ টাকা তৈরি হয়। এটাই Money Multiplier।
সূত্র: Money Multiplier = ১ ÷ Reserve Ratio
১০% রিজার্ভে গুণক = ১০। ৫% রিজার্ভে গুণক = ২০। ২% রিজার্ভে গুণক = ৫০।
বাংলাদেশে CRR ৪% + SLR ১৩% = কার্যকর রিজার্ভ ১৭%। তাত্ত্বিক Money Multiplier প্রায় ৫.৯×।
আধুনিক ব্যাংকিংয়ে Fractional Reserve-এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো CAR — মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত। এটা বলে ব্যাংকের ঋণের তুলনায় পর্যাপ্ত মূলধন আছে কিনা।
সূত্র: CAR = (Tier 1 + Tier 2 Capital) ÷ Risk-Weighted Assets × ১০০
উদাহরণ: মূলধন ১০০ কোটি, RWA ৮০০ কোটি → CAR = ১২.৫%।
Basel III ন্যূনতম: ১০.৫%। বাংলাদেশ ব্যাংক: ১২.৫%।
Risk Weight — সব ঋণ সমান নয়:
সরকারি বন্ড: ০% | গৃহঋণ: ৫০% | SME: ৭৫% | কর্পোরেট: ১০০% | ভোক্তা ঋণ (জামানতবিহীন): ১৫০%
ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বেশি দিলে RWA বাড়ে, CAR কমে, নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত হয়।
Fractional Reserve প্রশ্ন করে — আমানতকারী আজ টাকা চাইলে দিতে পারবে? এটা Liquidity-র বিষয়।
CAR প্রশ্ন করে — ঋণ খেলাপি হলেও ব্যাংক টিকে থাকবে? এটা Solvency-র বিষয়।
সহজ ভাষায় — Fractional Reserve বলে "প্রতিদিনের দরজা সামলাও", আর CAR বলে "ঝড়ের দিনেও দাঁড়িয়ে থাকো।"
বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের CAR বারবার সীমার নিচে নেমেছে। খেলাপি ঋণ → RWA বৃদ্ধি → CAR হ্রাস → ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমা → সরকারি পুনর্মূলধন (করদাতার টাকা)। এই দুষ্টচক্র চলমান।
এটা আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা — এবং এই ভুল দশকের পর দশক পাঠ্যবইয়ে লেখা ছিল।
পাঠ্যবই বলে — মানুষ আমানত রাখে, ব্যাংক সেই আমানত থেকে ঋণ দেয়। আমানত আগে, ঋণ পরে। ব্যাংক শুধু মধ্যস্থতাকারী। এটা স্বাভাবিক শোনায়, কিন্তু ভুল।
Bank of England ২০১৪ সালে সরাসরি লিখেছে: "ব্যাংক আমানত থেকে ঋণ দেয় না। ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন আমানত তৈরি করে।"
করিম ৫০ লাখ টাকার ঋণ পেল। কোনো পুরনো আমানত সরানো হলো না। ব্যাংক দুটো এন্ট্রি করল:
Asset: করিমের পাওনা ৫০ লাখ | Liability: করিমের জমা ৫০ লাখ
দুটো সংখ্যা যোগ হলো, ৫০ লাখ টাকা শূন্য থেকে জন্মাল। করিম সেটা ফ্ল্যাটের মালিককে দিল। মালিক তার ব্যাংকে জমা দিল। আমানত তৈরি হলো। ঋণ আগে, আমানত পরে।
টেক্সটবুক: আমানত → ঋণ | ব্যাংক = মধ্যস্থতাকারী | অর্থ আসে সঞ্চয় থেকে
বাস্তব: ঋণ → আমানত | ব্যাংক = অর্থ সৃষ্টিকারী | অর্থ আসে শূন্য থেকে
করিম কিস্তি দিচ্ছে। মূলধনের অংশ ফেরে, দুই পাশের সংখ্যা কমে, সেই পরিমাণ অর্থ সিস্টেম থেকে মুছে যায়। জন্মও কম্পিউটার এন্ট্রিতে, মৃত্যুও কম্পিউটার এন্ট্রিতে।
এ কারণেই ২০০৮-এ ঋণ প্রবাহ থেমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে অর্থ দ্রুত কমে গিয়েছিল। সরকার Quantitative Easing-এ নতুন অর্থ ঢেলেছিল সেই শূন্যতা পূরণে।
তিনটি বাধা:
১. CAR — বেশি ঋণ = বেশি RWA = বেশি মূলধন দরকার। মূলধন শেষ হলে ঋণ বন্ধ।
২. Liquidity — ঋণের টাকা অন্য ব্যাংকে গেলে রিজার্ভ ধার করতে হয়, যার খরচ আছে।
৩. চাহিদা — ব্যাংক চাইলেই ঋণ দিতে পারে না, গ্রহীতা থাকতে হবে এবং শোধ করার সামর্থ্য থাকতে হবে।
ব্যাংক সীমাহীন অর্থ বানাতে পারে না — তবে সীমাটা ভল্টের আকারে নয়, মূলধন, তারল্য ও চাহিদায় নির্ধারিত।
এতক্ষণ আমরা জানলাম ব্যাংক ঋণ দিলে নতুন অর্থ তৈরি হয়। কিন্তু একটু গভীরে ভাবলে একটা ভয়ঙ্কর প্রশ্ন সামনে আসে।
ব্যাংক আপনাকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ দিল। আপনাকে ফেরত দিতে হবে ৫০ লাখ + সুদ। ধরুন ৯% হারে ২০ বছরের ঋণে সুদসহ মোট ফেরত দিতে হবে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা।
কিন্তু ব্যাংক তো শুধু ৫০ লাখ টাকাই তৈরি করেছিল। বাড়তি ৫৮ লাখ টাকা কোথা থেকে আসবে?
উত্তর হলো — সেই ৫৮ লাখ টাকা অন্য কোনো ঋণ থেকে আসতে হবে। মানে অর্থনীতিতে অন্য কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে এবং সেই ঋণের টাকা ঘুরতে ঘুরতে আপনার হাতে এসেছে, যেটা দিয়ে আপনি সুদ শোধ করছেন।
এটার গভীর তাৎপর্য হলো — পুরো সিস্টেম চলতে হলে ক্রমাগত নতুন ঋণ হতে থাকতে হবে। যদি কোনো সময় ঋণের প্রবাহ থেমে যায়, তাহলে চলমান ঋণের সুদ শোধ করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে না। খেলাপি বাড়বে, ব্যাংক সংকটে পড়বে, অর্থনীতি সংকুচিত হবে।
অর্থনীতিবিদ Irving Fisher এটাকে বলেছেন — "সিস্টেমটি একটি চিরন্তন ঋণচক্রে আটকে আছে।" ঋণ ছাড়া সিস্টেম চলে না, কিন্তু ঋণই সিস্টেমের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
এটা এমন একটা খেলা যেখানে সবসময় চেয়ার একটা কম। যতক্ষণ গান বাজছে সবাই দৌড়াচ্ছে। গান থামলেই কেউ না কেউ পড়ে যাবে — সেই "কেউ" হলো যারা ঋণ শোধ করতে পারবে না।
২০০৮ সালে আমেরিকায় ঠিক এটাই হয়েছিল। সাবপ্রাইম ঋণের বুদবুদ ফাটল। ব্যাংকগুলো একে অপরকে আর বিশ্বাস করল না। ঋণের প্রবাহ থেমে গেল। ফলাফল — বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাড়ি হারাল, কোটি কোটি মানুষ চাকরি হারাল।
বাংলাদেশেও এই ঝুঁকি আছে। যখন খেলাপি ঋণ বাড়ে, ব্যাংক নতুন ঋণ দিতে ভয় পায়, ঋণের প্রবাহ কমে, অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ কমে। এটা একটা দুষ্টচক্র — যেটা একবার শুরু হলে থামানো কঠিন।
এই সত্য যে ব্যাংক শূন্য থেকে অর্থ তৈরি করে — এটা কোনো গোপন ষড়যন্ত্র নয়। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানরা বিভিন্ন সময়ে এটা সরাসরি স্বীকার করেছেন।
"যদি আমেরিকার সাধারণ মানুষ বুঝত ব্যাংকিং এবং মুদ্রা ব্যবস্থা আসলে কীভাবে কাজ করে, তাহলে আগামীকাল সকালের আগেই একটা বিপ্লব হয়ে যেত।" — হেনরি ফোর্ড
ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এই কথা বলেছিলেন কারণ তিনি জানতেন — ব্যাংকিং সিস্টেমের আসল কাঠামো বেশিরভাগ মানুষের ধারণার বাইরে।
"When a bank makes a loan, it simply adds to the borrower's deposit account... the money is not taken from anyone else's deposits. The bank simply creates the money." — Federal Reserve Bank of Boston, 'Modern Money Mechanics', 1969
আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি শাখা নিজেই স্বীকার করছে — ব্যাংক ঋণ দেওয়ার সময় কারো আমানত থেকে টাকা নেয় না, বরং নতুন টাকা তৈরি করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি এলো ২০১৪ সালে। Bank of England তাদের কোয়ার্টারলি বুলেটিনে "Money Creation in the Modern Economy" শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করল। এতে তারা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছে:
"Commercial banks create money, in the form of bank deposits, by making new loans. When a bank makes a loan, it does not typically do so by giving the borrower banknotes. Instead, it credits their bank account with a deposit the size of the loan."
এই বিবৃতি অর্থনীতির জগতে একটা ভূমিকম্প ছিল। কারণ দশকের পর দশক ধরে পাঠ্যবইয়ে শেখানো হয়েছিল ব্যাংক আমানত থেকে ঋণ দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই বলল — সেটা ভুল।
বিশ্বব্যাংক ও IMF-এর তথ্য অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোতে প্রচলিত অর্থের মাত্র ৩% থেকে ৮% কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো নোট ও কয়েন। বাকি ৯২% থেকে ৯৭% হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের তৈরি ডিজিটাল সংখ্যা — যা ঋণের মাধ্যমে অস্তিত্বে এসেছে।
যুক্তরাজ্যে এই হার আরও বেশি চমকপ্রদ। Bank of England-এর তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যে প্রচলিত অর্থের প্রায় ৯৭% বাণিজ্যিক ব্যাংকের তৈরি। মাত্র ৩% কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
বাংলাদেশে এই অনুপাত কিছুটা ভিন্ন — কারণ এখানে এখনো নগদ লেনদেন বেশি। তবুও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, M2 (ব্রড মানি) এবং M0 (বেস মানি)-এর অনুপাত প্রায় ৪.৫ গুণ, মানে সিস্টেমে থাকা মোট অর্থের প্রায় ৭৭% ব্যাংকের তৈরি।
১৮ শতকের ফরাসি-আইরিশ অর্থনীতিবিদ রিচার্ড ক্যান্টিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন — নতুন সৃষ্ট অর্থ অর্থনীতিতে সমানভাবে ছড়ায় না। যারা প্রথমে সেই অর্থ পায়, তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। যখন অর্থ বাকিদের কাছে পৌঁছায়, তত দাম বেড়ে গেছে। এটাই Cantillon Effect।
ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, সেই ঋণ প্রথমে যায় বড় ব্যবসায়ী, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার, বড় কর্পোরেশনের কাছে। তারা সেই টাকা দিয়ে জমি কেনে, প্রজেক্ট করে, শেয়ার কেনে। ফলে জমির দাম বাড়ে, শেয়ারের দাম বাড়ে। যারা আগেই এই সম্পদ কিনেছিল তারা ধনী হয়।
কিন্তু যখন সেই অর্থ ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় — বেতন, দোকানের আয়, রিকশাওয়ালার ভাড়া হিসেবে — ততক্ষণে দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
সহজ ভাষায় বললে — নতুন অর্থ ধনীদের আরও ধনী করে এবং গরিবদের আরও গরিব করে। এটা ব্যাংকিং সিস্টেমের একটি কাঠামোগত সমস্যা — কোনো ব্যক্তির দোষ নয়।
বাংলাদেশে এটা স্পষ্ট দেখা যায়। গত দুই দশকে ঢাকায় জমির দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। যারা আগে কিনেছে তারা লাভবান। কিন্তু সাধারণ চাকরিজীবী আজ ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনা প্রায় অসম্ভব মনে করেন। এটা Cantillon Effect-এর বাস্তব উদাহরণ।
Moral Hazard হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে কেউ ঝুঁকি নেয় কারণ সে জানে ক্ষতি হলে অন্য কেউ ভোগ করবে।
ব্যাংকিং সিস্টেমে এটা এভাবে কাজ করে — ব্যাংক জানে সে শূন্য থেকে অর্থ তৈরি করে ঋণ দিচ্ছে। যদি ঋণ ফেরত আসে, ব্যাংক সুদ পায়। যদি ঋণগ্রহীতা খেলাপি হয়, ক্ষতিটা পড়ে আমানতকারী ও সামগ্রিক অর্থনীতির উপর।
আর সবচেয়ে বড় কথা — বড় ব্যাংক জানে সরকার তাকে ডুবতে দেবে না। "Too Big to Fail" — এই ধারণাটা ব্যাংককে আরও বেশি ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করে। কারণ লাভ হলে শেয়ারহোল্ডারদের, ক্ষতি হলে করদাতার।
২০০৮ সালে আমেরিকায় এটাই হয়েছিল। ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দিয়েছিল বেপরোয়াভাবে। যখন সংকট হলো, আমেরিকান সরকার ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেইলআউট দিল — করদাতার টাকায়। ব্যাংকাররা বোনাস নিয়ে চলে গেল, সাধারণ মানুষ বাড়ি হারাল।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সিস্টেমে ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টির সমস্যাগুলো বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আরও প্রকট। তিনটি প্রধান সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ব্যাংকিং সেক্টরে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৫৫,৩৯৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের প্রায় ৯.৪%। আন্তর্জাতিক সুস্থ মানদণ্ড ৩%-এর নিচে।
খেলাপি ঋণ মানে ব্যাংক যে অর্থ তৈরি করেছিল, তা ফেরত আসছে না। ফলে ব্যাংকের মূলধন ক্ষয় হচ্ছে, নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমছে, এবং অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কিন্তু সমস্যা শুধু সংখ্যায় নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই খেলাপি ঋণ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবে, যথাযথ যাচাই ছাড়া, এমনকি জালিয়াতির মাধ্যমে। এগুলো সিস্টেমিক সমস্যা — শুধু ব্যক্তিগত খেলাপির বিষয় নয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বারবার ন্যূনতম মূলধন পর্যাপ্ততার (CAR) নিচে নেমে গেছে। প্রতিবার সরকার বাজেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে পুনর্মূলধন করেছে।
এই পুনর্মূলধনের টাকা আসে কোথা থেকে? করদাতার টাকা থেকে। অর্থাৎ ব্যাংক খারাপ ঋণ দিয়ে ক্ষতি করেছে, আর সেই ক্ষতি পূরণ করছে সাধারণ মানুষ — যারা কোনো দোষ করেনি। এটাই Moral Hazard-এর বাংলাদেশি সংস্করণ।
যখন ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ঋণ দেয়, অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থ তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত অর্থ পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটাই মুদ্রাস্ফীতি।
২০২২-২৩ সালে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৯-১০% পর্যন্ত উঠেছিল। চাল, ডাল, তেল, সবজি — সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এর পেছনে বৈশ্বিক কারণ আছে, কিন্তু দেশীয় ঋণ সম্প্রসারণও একটি বড় কারণ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন আয়ের মানুষ — যাদের আয় বাড়ে না কিন্তু দাম বাড়ে। এটা ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টির একটি অপ্রত্যক্ষ কিন্তু গুরুতর পরিণতি।
ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টির সমর্থকরা বলেন এই সিস্টেম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। তাদের মূল যুক্তি হলো:
প্রথমত, এটা অর্থনৈতিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখে। যখন অর্থনীতি বাড়ে, বেশি ঋণের চাহিদা হয়, বেশি অর্থ তৈরি হয়। যখন অর্থনীতি কমে, ঋণের চাহিদা কমে, অর্থের সরবরাহও কমে। এটা একটা স্বয়ংক্রিয় ভারসাম্য।
দ্বিতীয়ত, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মূলধন প্রয়োজন। যদি শুধু সঞ্চয় থেকে ঋণ দেওয়া যেত, তাহলে বিনিয়োগ অনেক কম হতো। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীর হতো।
তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ও রিজার্ভ নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই সিস্টেম অনিয়ন্ত্রিত নয়।
সমালোচকদের যুক্তিও শক্তিশালী:
প্রথমত, এই সিস্টেমে অর্থনৈতিক চক্র অনিবার্য। ঋণ বাড়তে বাড়তে বুদবুদ তৈরি হয়, তারপর ফাটে, তারপর মন্দা। ১৯২৯, ২০০৮, ২০২০ — প্রতিটি বড় আর্থিক সংকটের মূলে ছিল অতিরিক্ত ঋণ।
দ্বিতীয়ত, এটা সম্পদের বৈষম্য বাড়ায়। Cantillon Effect-এর কারণে নতুন অর্থ সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না। ধনীরা আরও ধনী হয়, দরিদ্ররা মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়ে।
তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত কোম্পানি (ব্যাংক) অর্থ তৈরি করার ক্ষমতা পাওয়া মানে জনগণের সম্পদ ব্যক্তিগত মুনাফার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার বাইরে।
চতুর্থত, "Too Big to Fail" নীতি ব্যাংকগুলোকে বেপরোয়া করে তোলে। লাভ হলে তাদের, ক্ষতি হলে জনগণের।
ইসলামি অর্থনীতি সুদভিত্তিক ঋণের ধারণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ঋণের পরিবর্তে লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি (Profit-Loss Sharing) এবং সম্পদ-ভিত্তিক লেনদেনের (Asset-backed Transactions) উপর জোর দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে অনেক ইসলামি ব্যাংকও একই ধরনের অর্থ সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় জড়িত — শুধু কাঠামো ভিন্ন।
সবচেয়ে আমূল বিকল্প হলো Sovereign Money বা সার্বভৌম অর্থ। এই মডেলে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ তৈরি করতে পারবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক শুধু মধ্যস্থতাকারী হবে — আমানতকারীদের সঞ্চয় থেকে ঋণ দেবে।
২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডে এই প্রস্তাব নিয়ে গণভোট হয়েছিল — "Vollgeld Initiative"। প্রস্তাবটি পাস হয়নি, কিন্তু আলোচনাটা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন CBDC নিয়ে কাজ করছে — ডিজিটাল মুদ্রা যা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইস্যু করবে। চীনের ডিজিটাল ইউয়ান ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু। বাংলাদেশ ব্যাংকও CBDC নিয়ে গবেষণা করছে।
CBDC চালু হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রাখতে পারবে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর নির্ভরতা কমবে এবং অর্থ সৃষ্টির ক্ষমতা কিছুটা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ফিরে আসতে পারে।
বিটকয়েনের মূল ধারণাই ছিল ব্যাংকিং সিস্টেমের বিকল্প তৈরি করা। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো বিটকয়েনের প্রথম ব্লকে লিখেছিলেন — "The Times 03/Jan/2009 Chancellor on brink of second bailout for banks" — ব্যাংকের বেইলআউটের প্রতিবাদ হিসেবে।
তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি এখনো অস্থির, নিয়ন্ত্রণহীন এবং বেশিরভাগ দেশে আইনি কাঠামোর বাইরে। নিকট ভবিষ্যতে এটা বিদ্যমান সিস্টেমের সম্পূর্ণ বিকল্প হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অনেকে এই তথ্য জানার পর রাগ করেন, হতাশ হন, কেউ কেউ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ভাবেন। কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলে বোঝা যায় — এটা কোনো ষড়যন্ত্র নয়। এটা একটা সিস্টেম। এবং সব সিস্টেমেরই সুবিধা ও অসুবিধা আছে।
এই সিস্টেমের সুবিধা হলো — অর্থনীতি দ্রুত বাড়তে পারে। উদ্যোক্তা পুঁজি পায়। বাড়ি কেনা যায়, ব্যবসা করা যায়। সভ্যতার অগ্রগতিতে ঋণের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।
অসুবিধা হলো — এই সিস্টেম চক্রাকারে সংকট তৈরি করে। বৈষম্য বাড়ায়। এবং অর্থ সৃষ্টির ক্ষমতা ব্যক্তিগত কোম্পানির হাতে রেখে দেয়।
বাংলাদেশে বসে এটা বোঝা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব — এই তিনটি মিলিয়ে ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টির ঝুঁকিগুলো আরও বেশি প্রকট।
ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টি আধুনিক অর্থনীতির সবচেয়ে মৌলিক প্রক্রিয়া — এবং সবচেয়ে কম বোঝা প্রক্রিয়া। এই সিস্টেমে ঋণ থেকে অর্থ জন্মায়, অর্থ অর্থনীতি চালায়, অর্থনীতি আবার ঋণের চাহিদা তৈরি করে। চক্র চলতে থাকে।
এই সিস্টেমের সুবিধা আছে — অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্যোক্তাদের মূলধন, সভ্যতার অগ্রগতি। আবার ঝুঁকিও আছে — চক্রাকার সংকট, বৈষম্য বৃদ্ধি, Moral Hazard।
বাংলাদেশের জন্য এই জ্ঞান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার অভাব — এই তিনটি মিলিয়ে ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টির ঝুঁকি আরও বেশি।
সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের এই সিস্টেম বোঝা দরকার — কারণ এর প্রভাব আমাদের চালের দাম থেকে শুরু করে ফ্ল্যাটের দাম, চাকরির বাজার, এমনকি জাতীয় ঋণের বোঝা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়ে।

কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ মূলত এক ধরনের টেমপ্লেট বা চার্ট। যা অনেকাংশে একটা স্টোরিবোর্ড এর মতো ও কাজ করে থাকে। নিতান্তই ছোট এবং সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ এই টেমপ্লেট কিংবা স্টোরিবোর্ড আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।








