ভূমিকা
তুমি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করো বাংলাদেশে মোট কত টাকা আছে, সে হয়তো বলবে বাংলাদেশ ব্যাংক যত নোট ছেপেছে তত। কিন্তু এই উত্তর ঠিক না।
আধুনিক অর্থব্যবস্থায় "কত টাকা আছে" এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক জটিল। কারণ টাকা আসলে এক জিনিস না — এটা কয়েকটা স্তরে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো নোট এক স্তর, ব্যাংকের চলতি হিসাবের ব্যালেন্স আরেক স্তর, সঞ্চয়ী হিসাব আরেক স্তর।
এই স্তরগুলোকে অর্থনীতিবিদরা M0, M1 এবং M2 নামে চিহ্নিত করেছেন। এই তিনটা সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায় একটা অর্থনীতিতে কতটুকু "আসল" অর্থ আছে আর কতটুকু ব্যাংকের তৈরি ঋণ-ভিত্তিক অর্থ।
M0 — আসল অর্থ, যার পেছনে সত্যিকারের কর্তৃত্ব আছে
M0 কে বলা হয় Base Money বা Monetary Base বা High-powered Money।
M0 এর মধ্যে কী থাকে:
M0 = নোট ও কয়েন (জনগণের হাতে) + বাণিজ্যিক ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা রিজার্ভ
এটাই একমাত্র অর্থ যার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি কর্তৃত্ব আছে। এটা কেউ ঋণ দিয়ে তৈরি করেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে তৈরি করেছে।
কেন এটা "High-powered"?
কারণ এই এক টাকা থেকে মানি মাল্টিপ্লায়ারের মাধ্যমে কয়েকগুণ বেশি অর্থ সৃষ্টি হতে পারে। M0 বাড়লে পুরো সিস্টেমে অর্থের পরিমাণ বাড়ে, M0 কমলে কমে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে M0:
২০১৯: ২,৩১,৪৫৬ কোটি টাকা
২০২০: ২,৭৮,৯৩২ কোটি টাকা (+২০.৫%)
২০২১: ৩,১৮,৪৫৬ কোটি টাকা (+১৪.২%)
২০২২: ৩,৫৬,৭৮৯ কোটি টাকা (+১২.০%)
২০২৩: ৩,৮২,৩৪৫ কোটি টাকা (+৭.২%)
M1 — প্রথম স্তরের ব্যাংক অর্থ
M1 হলো সবচেয়ে সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থ। এটাকে বলে Narrow Money।
M1 এর মধ্যে কী থাকে:
M1 = M0 (নোট ও কয়েন জনগণের হাতে) + চলতি হিসাবের ব্যালেন্স (Demand Deposits) + অন্যান্য চেকযোগ্য আমানত
চলতি হিসাবের ব্যালেন্স মানে যে টাকা তুমি যেকোনো সময় তুলতে পারো বা চেক দিতে পারো। এই টাকা ব্যাংকের তৈরি — সরকার ছাপায়নি।
M1 এবং M0 এর পার্থক্য থেকে কী বোঝা যায়:
ব্যাংকের তৈরি M1 অর্থ = M1 - M0 (নোট ও কয়েন অংশ)
এই পার্থক্যটাই বলে দেয় ব্যাংক চলতি হিসাবের মাধ্যমে কত অর্থ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে M1:
২০১৯: ৩,৪৫,৬৭৮ কোটি টাকা (M1/M0 = ১.৪৯x)
২০২০: ৪,১২,৩৪৫ কোটি টাকা (M1/M0 = ১.৪৮x)
২০২১: ৪,৮৯,৭৬৫ কোটি টাকা (M1/M0 = ১.৫৪x)
২০২২: ৫,৩৪,৫৬৭ কোটি টাকা (M1/M0 = ১.৫০x)
২০২৩: ৫,৭৮,৯০০ কোটি টাকা (M1/M0 = ১.৫১x)
এই অনুপাত বলছে M0-এর প্রতি ১ টাকার বিপরীতে M1-এ প্রায় ১.৫ টাকা আছে। মানে প্রতি ১ টাকা "আসল" অর্থের বিপরীতে ব্যাংক আরো ০.৫ টাকা তৈরি করেছে শুধু চলতি হিসাবের মাধ্যমে।
M2 — সিস্টেমের আসল আয়না
M2 হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটা দেখেই মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে।
M2 এর মধ্যে কী থাকে:
M2 = M1 + সঞ্চয়ী হিসাবের ব্যালেন্স (Savings Deposits) + স্বল্পমেয়াদি আমানত (Time Deposits) + মানি মার্কেট ফান্ড (কিছু দেশে)
M2 দেখলে বোঝা যায় পুরো ব্যাংকিং সিস্টেমে মোট কত অর্থ আছে। এবং M2 এবং M0-এর অনুপাত দেখলে বোঝা যায় ব্যাংক কতগুণ অর্থ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে M2:
২০১৯: ১২,৩৪,৫৬৭ কোটি টাকা (M2/M0 = ৫.৩৪x)
২০২০: ১৩,৮৯,৪৫৬ কোটি টাকা (M2/M0 = ৪.৯৮x, প্রবৃদ্ধি +১২.৫%)
২০২১: ১৫,২৩,৬৭৮ কোটি টাকা (M2/M0 = ৪.৭৮x, প্রবৃদ্ধি +৯.৭%)
২০২২: ১৬,৪৫,৩৪৫ কোটি টাকা (M2/M0 = ৪.৬১x, প্রবৃদ্ধি +৭.৯%)
২০২৩: ১৭,০০,০০০ কোটি টাকা (M2/M0 = ৪.৪৫x, প্রবৃদ্ধি +৩.৩%)
২০২৩ সালে বাংলাদেশে M2/M0 অনুপাত ৪.৪৫। এর মানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাপানো প্রতি ১ টাকার বিপরীতে পুরো সিস্টেমে ৪.৪৫ টাকা আছে। বাকি ৩.৪৫ টাকা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তৈরি করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট অর্থের প্রায় ৭৭.৫% ব্যাংকের তৈরি। মাত্র ২২.৫% কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো।
তুলনামূলক চিত্র — বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি
২০২৩ সালের তথ্য (IMF এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী):
আমেরিকা: M0 = ২,২০০ বিলিয়ন USD, M2 = ২০,৮০০ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ৯.৪৫x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৮৯.৪%
চীন: M0 = ৪,৮০০ বিলিয়ন USD, M2 = ৫৩,৯০০ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ১১.২৩x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৯১.১%
ইউরোজোন: M0 = ১,৯০০ বিলিয়ন USD, M2 = ১৬,৩০০ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ৮.৫৮x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৮৮.৪%
জাপান: M0 = ১,০৫০ বিলিয়ন USD, M2 = ৯,৮০০ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ৯.৩৩x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৮৯.৩%
যুক্তরাজ্য: M0 = ১১০ বিলিয়ন USD, M2 = ৩,২০০ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ২৯.০৯x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৯৬.৬%
ভারত: M0 = ৫২০ বিলিয়ন USD, M2 = ২,৮০০ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ৫.৩৮x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৮১.৪%
বাংলাদেশ: M0 = ৩৫ বিলিয়ন USD, M2 = ১৫৫ বিলিয়ন USD, M2/M0 = ৪.৪৩x, ব্যাংকের তৈরি অর্থ ৭৭.৪%
যুক্তরাজ্যে M2/M0 অনুপাত ২৯ — এটা অস্বাভাবিক বেশি কারণ যুক্তরাজ্যে ব্যাংকিং সেক্টর অর্থনীতির তুলনায় অনেক বড় এবং লন্ডন বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র। চীনে অনুপাত ১১ — চীনের সরকার ব্যাংকের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ পরিচালনা করে। বাংলাদেশে অনুপাত ৪.৪৩ — উন্নত দেশের তুলনায় কম, কিন্তু এটা সুখের লক্ষণ নয়। এর মানে ব্যাংকিং সিস্টেম এখনো সম্পূর্ণ পরিণত না এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ঋণ প্রবাহ সীমিত।
আরো গভীরে — M2 প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সম্পর্ক
M2 প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে একটা সরাসরি সম্পর্ক আছে।
সূত্র: মুদ্রাস্ফীতি ≈ M2 প্রবৃদ্ধি − GDP প্রবৃদ্ধি
যদি M2 প্রতি বছর ১৫% বাড়ে কিন্তু GDP মাত্র ৬% বাড়ে, তাহলে বাড়তি ৯% অর্থ পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে:
২০১৯: M2 প্রবৃদ্ধি ১০.৪%, GDP প্রবৃদ্ধি ৮.২%, বাস্তব মুদ্রাস্ফীতি ৫.৫%
২০২০: M2 প্রবৃদ্ধি ১২.৫%, GDP প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, বাস্তব মুদ্রাস্ফীতি ৫.৬%
২০২১: M2 প্রবৃদ্ধি ৯.৭%, GDP প্রবৃদ্ধি ৬.৯%, বাস্তব মুদ্রাস্ফীতি ৫.৬%
২০২২: M2 প্রবৃদ্ধি ৭.৯%, GDP প্রবৃদ্ধি ৭.১%, বাস্তব মুদ্রাস্ফীতি ৭.৭%
২০২৩: M2 প্রবৃদ্ধি ৩.৩%, GDP প্রবৃদ্ধি ৫.৮%, বাস্তব মুদ্রাস্ফীতি ৯.৯%
২০২৩ সালে M2 প্রবৃদ্ধি কম হলেও মুদ্রাস্ফীতি বেশি — কারণ ২০২০-২১ সালে অতিরিক্ত অর্থ সৃষ্টির প্রভাব দেরিতে এসেছে। এটাকে বলে Lagged Effect।
বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির M2 প্রবৃদ্ধি তুলনা (২০১৫-২০২৩ গড়, IMF তথ্য):
আমেরিকা: গড় M2 প্রবৃদ্ধি ৭.২%, গড় GDP প্রবৃদ্ধি ২.৩%, গড় মুদ্রাস্ফীতি ৩.১%
চীন: গড় M2 প্রবৃদ্ধি ৯.৮%, গড় GDP প্রবৃদ্ধি ৬.৪%, গড় মুদ্রাস্ফীতি ২.৩%
জাপান: গড় M2 প্রবৃদ্ধি ৩.৪%, গড় GDP প্রবৃদ্ধি ০.৯%, গড় মুদ্রাস্ফীতি ০.৮%
ভারত: গড় M2 প্রবৃদ্ধি ১০.৩%, গড় GDP প্রবৃদ্ধি ৬.১%, গড় মুদ্রাস্ফীতি ৫.৫%
বাংলাদেশ: গড় M2 প্রবৃদ্ধি ১২.১%, গড় GDP প্রবৃদ্ধি ৬.৮%, গড় মুদ্রাস্ফীতি ৬.৩%
জাপান সবচেয়ে সংযত — M2 প্রবৃদ্ধি কম, মুদ্রাস্ফীতি কম। চীন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক — M2 প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি, কিন্তু GDP প্রবৃদ্ধিও বেশি বলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বাংলাদেশ চাপে — M2 প্রবৃদ্ধি বেশি, GDP প্রবৃদ্ধি মাঝারি, তাই মুদ্রাস্ফীতি চাপ বেশি।
বাংলাদেশের আসল চিত্র — সংখ্যায়
২০২৩ সালের স্ন্যাপশট:
M0 (Base Money) = ৩,৮২,৩৪৫ কোটি টাকা
M1 (Narrow Money) = ৫,৭৮,৯০০ কোটি টাকা
M2 (Broad Money) = ১৭,০০,০০০ কোটি টাকা
M1 - M0 অংশ = ১,৯৬,৫৫৫ কোটি টাকা (চলতি হিসাবের ব্যাংক অর্থ)
M2 - M1 অংশ = ১১,২১,১০০ কোটি টাকা (সঞ্চয় ও আমানতের ব্যাংক অর্থ)
মোট ব্যাংকের তৈরি অর্থ = ১৩,১৭,৬৫৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো অর্থ = ২২.৫%, ব্যাংকের তৈরি অর্থ = ৭৭.৫%
খেলাপি ঋণের সাথে সম্পর্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে মোট খেলাপি ঋণ প্রায় ১,৫৫,৩৯৫ কোটি টাকা — মোট ঋণের ৯.৪%। আন্তর্জাতিক সুস্থ মানদণ্ড ৩% এর নিচে — বাংলাদেশ ৩ গুণ বেশি।
এই খেলাপি ঋণ মানে ব্যাংক যে অর্থ তৈরি করেছিল তার একটা অংশ ফেরত আসছে না। এতে ব্যাংকের মূলধন ক্ষয় হচ্ছে, নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমছে এবং M2 প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাচ্ছে। M2 প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার অর্থ — অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ কমছে। ব্যবসায় বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান চাপে পড়ছে।
বিশেষ হিসাব — বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মাথায় কত অর্থ
বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি।
মাথাপিছু M0 = ২২,৪৯০ টাকা। মাথাপিছু M2 = ১,০০,০০০ টাকা।
এর মানে প্রতিটি বাংলাদেশির বিপরীতে সিস্টেমে গড়ে ১ লাখ টাকার অর্থ আছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো "আসল" অর্থ মাত্র ২২,৪৯০ টাকা।
আমেরিকার তুলনা: মাথাপিছু M2 = ৬৩,০০০ ডলার ≈ ৬৯ লাখ টাকা। বাংলাদেশের মাথাপিছু M2 মাত্র ১ লাখ টাকা। এই পার্থক্যই দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল পার্থক্য।
M2 to GDP অনুপাত — অর্থনীতির পরিপক্কতার মাপকাঠি
M2 to GDP অনুপাত বলে একটা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেক্টর কতটা গভীর। এটা যত বেশি, ব্যাংকিং সেক্টর তত পরিপক্ক।
২০২৩ সালের তথ্য (World Bank এবং IMF):
চীন: M2/GDP = ৩০৪%
জাপান: M2/GDP = ২৩৩%
যুক্তরাজ্য: M2/GDP = ১০৩%
ইউরোজোন: M2/GDP = ১১০%
আমেরিকা: M2/GDP = ৭৬%
ভারত: M2/GDP = ৭৬%
বাংলাদেশ: M2/GDP = ৩৪%
চীনে M2/GDP অনুপাত ৩০৪% — অনেক বিশেষজ্ঞ এটাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। আমেরিকায় ৭৬% — তুলনামূলক সুস্থ। বাংলাদেশে মাত্র ৩৪% — এটা বলে ব্যাংকিং সেক্টর এখনো অর্থনীতির তুলনায় ছোট। আরো বেশি মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে পারলে এই অনুপাত বাড়বে এবং অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়বে।
সংকটের সংকেত — কখন M সূচক বিপদের কথা বলে
প্রথম সংকেত — M2 হঠাৎ অনেক বেশি বাড়লে
যদি M2 প্রবৃদ্ধি GDP প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি হয়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি আসবেই। ২০২০-২১ সালে কোভিড মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশ বিশাল পরিমাণ অর্থ ছেপেছে। আমেরিকায় M2 এক বছরে ২৬% বেড়েছিল — এটাই ২০২২ সালের ৪০ বছরের সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণ।
দ্বিতীয় সংকেত — M2 হঠাৎ কমলে
M2 কমা মানে অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ কমছে। এটা মন্দার লক্ষণ হতে পারে। ২০২২-২৩ সালে আমেরিকায় Fed সুদের হার বাড়ানোর কারণে M2 কমতে শুরু করেছিল — এটা ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
তৃতীয় সংকেত — M2/M0 অনুপাত হঠাৎ কমলে
এটা বলে ব্যাংক ঋণ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে M2/M0 ছিল ৫.৩৪, ২০২৩ সালে কমে ৪.৪৫ হয়েছে। এই হ্রাস বলছে ব্যাংকিং সিস্টেম আগের চেয়ে কম কার্যকরভাবে অর্থ সৃষ্টি করছে — মূলত খেলাপি ঋণ এবং মূলধন সংকটের কারণে।
উপসংহার — সংখ্যার আড়ালে যে সত্য
M0, M1 এবং M2 শুধু তিনটা সংখ্যা না। এগুলো একটা অর্থনীতির স্বাস্থ্যের রিপোর্ট কার্ড।
M0 বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটুকু "আসল" অর্থ তৈরি করেছে। M2 বলে পুরো সিস্টেমে মোট কত অর্থ আছে। দুটোর অনুপাত বলে ব্যাংকিং সিস্টেম কতটা সক্রিয়ভাবে অর্থনীতিতে অর্থ সরবরাহ করছে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো — M2/GDP অনুপাত মাত্র ৩৪%। এটা বাড়াতে হলে ব্যাংকিং সেবার বিস্তার ঘটাতে হবে, খেলাপি ঋণ কমাতে হবে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা তৈরি করতে হবে।
একই সাথে মনে রাখতে হবে — M2 বাড়ানো মানেই ভালো না। M2 যদি GDP-এর চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ে, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি আসবে এবং সেই মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বড় ভার বহন করবে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষেরা।










