GeoRenus Editorial Team

"অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোনো ব্যক্তি (বা কোম্পানির) পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে কমিশন উপার্জন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, এখানে আপনি আপনার পছন্দের একটি প্রোডাক্ট খুঁজে বের করেন, অন্যদের কাছে এটি প্রচার করেন এবং আপনার প্রতিটি সেলস এর জন্য লাভের একটি অংশ ইনকাম করেন।" জনপ্রিয় লেখক এবং উদ্দোক্তা প্যাট ফ্লিন, এর সংজ্ঞা অনুসারে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয় হল অন্যের প্রোডাক্টের প্রমোশন করিয়ে এবং সেলস বাড়িয়ে কমিশন নেয়া।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি বিজনেস মডেল যেখানে একটি ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি, অন্য একটি ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রচার করে। একটি প্রতিষ্ঠান মূলত এক কিংবা একাধিক সহযোগী বা অ্যাফিলিয়েট পার্টনারদের মাধ্যমে মার্কেটিং এর কাজ করে, এবং তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট পরিমানের কমিশন শেয়ার করে।
Rakuten/Forrester Research এর একটি স্টাডি অনুসারে, প্রতি ১০ টি ব্রান্ডের ৮ টি ( অর্থাৎ ৮০%) ই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং করে। অ্যামাজন, শেয়ার সেল, ক্লিকব্যাংক, CJ Affiliate, দেশীয় প্রতিষ্ঠান দারাজ ইত্যাদি প্লাটফর্ম অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম অফার করে। আর শুধুমাত্র অ্যামাজনের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম গুলো ই ৪৭.৩% দখল করে নিয়েছে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ মার্চেন্ট ও অ্যাফিলেয়েট মিলে কাজ করে। একটি ফুল Affiliate Marketing প্রোগ্রাম কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়-
মার্চেন্ট বা খুচরা বিক্রেতা:
মার্চেন্ট বলতে এখানে এমন একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে, যারা তাদের পণ্য বা সার্ভিস সেল করে। এবং এগুলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করতে চায়।
অ্যাফিলিয়েট:
অ্যাফিলিয়েট হল সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা মার্চেন্টের পণ্য বা পরিষেবার প্রচারের জন্য তাদের সাথে পার্টনারশিপ করে।
অ্যাফিলিয়েটরা বিভিন্ন মার্কেটিং চ্যানেল, যেমন ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল মার্কেটিং বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মার্চেন্টের পণ্য বা সার্ভিসের প্রচার করে।
অ্যাফিলিয়েটকে ব্যবসায়ীরা একটা ইউনিক অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং লিঙ্ক বা কোড দিয়ে থাকে। এই লিঙ্কগুলি অ্যাফিলিয়েট দ্বারা ক্রিয়েট হওয়া ট্র্যাফিক এবং সেলস ট্র্যাক করতে সহায়তা করে।
যখন একজন দর্শক অ্যাফিলিয়েটের ইউনিক ট্র্যাকিং লিঙ্কে ক্লিক করে এবং মার্চেন্টর ওয়েবসাইটে এন্ট্রি করে, তখন তাদের একটিভিটি ট্র্যাক করা হয়।
যদি ভিজিটর একটি নির্দিষ্ট স্টেপ নেয়, যেমন কোনো কেনাকাটা করা বা নিউজলেটারের জন্য সাইন আপ করা, তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সফ্টওয়্যার এই কনভারসন টি ট্র্যাক করে৷
যখন একটি সফল কনভারসন ট্র্যাক করা হয়, তখন অ্যাফিলিয়েট মার্চেন্টের কাছ থেকে একটি কমিশন পায়। কমিশনের হার এবং শর্তাবলী সাধারণত অ্যাফিলিয়েট এবং মার্চেন্টের মধ্যে আগেই আলোচনা করা থাকে।
অ্যাফিলিয়েটকে সাধারণত পর্যায়ক্রমে পেমেন্ট দেয়া হয়।যেমন মাসিক, চেক, সরাসরি পেমেন্ট বা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম সহ বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে পেমেন্ট করা হয়ে থাকে।
Affiliate Marketing প্রোগ্রাম এর ক্যাপাবিলিটি ট্র্যাক করতে মার্চেন্ট এবং অ্যাফিলিয়েট উভয়ই রিপোর্ট এবং এনালাইসিস অ্যাক্সেস করতে পারে। এটি আরও ভাল রেজাল্ট পেতে ও মার্কেটিং কৌশলগুলি অপ্টিমাইজ করতে সাহায্য করে।
পরস্পরের সাথে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইনি ও নৈতিক নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রচার করার সময় মার্চেন্টের সাথে অ্যাফিলিয়েটদের সম্পর্ক ডিসক্লোজ করা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০২১ সালে করা একটি সমীক্ষা অনুসারে, অ্যামাজনে বর্তমানে ৯ লক্ষের ও বেশি অ্যাফিলিয়েট আছে। এবং ২০২৩ সালে অ্যামাজনের এই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে ১০০ থেকে ২০,০০০ মার্কিন ডলার ইনকাম করা সম্ভব হচ্ছে।
এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এ, অ্যাফিলিয়েটরা ব্র্যান্ডের সাথে ব্যক্তিগত বা সরাসরি এটাচমেন্ট ছাড়াই পণ্যের প্রচার করে। তারা সেলস থেকে কমিশন উপার্জন করার জন্য নির্ধারিত লিঙ্ক ব্যবহার করে।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি অ্যামজনের অ্যাফিলয়েট প্রোগ্রামে অনলাইনে সাইন আপ ও অটোমেটিক কিছু স্টেপ পুরণ করে তাদের প্রোডাক্টের প্রোমোশন শুরু করবেন৷ এতে আপনার অ্যামজনের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের দরকার নেই।
এখানে মার্চেন্টের সাথে অ্যাফিলিয়েট রা কানেক্টেড থাকে। ফলে তারা বিস্তারিত পর্যালোচনা বা ডিসকাশনের মাধ্যমে কাজ করতে পারে।
এই Affiliate Marketing এ অ্যাফিলিয়েট রা ওই নির্ধারিত পণ্যের সাথে রিলেটেড থাকে। যার ফলে প্রচারণা করা আরো বেশি কম্ফোর্টেবল ও প্রাসঙ্গিক হয়।
আমাজন এসোসিয়েটস হল অ্যামাজনের একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম৷ এখানে মূলত অ্যাফিলিয়েটরা আমাজনের বিভিন্ন প্রোডাক্টের লিঙ্ক তৈরি করে তাদের ওয়েবসাইটে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে। এবং অ্যামাজন তাদের অ্যাফিলিয়েট দের ১-১০% কমিশন অফার করে।
২০২১ সালে করা একটি সমীক্ষা অনুসারে, অ্যামাজনে বর্তমানে ৯ লক্ষের ও বেশি অ্যাফিলিয়েট আছে। এবং ২০২৩ সালে অ্যামাজনের এই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে ১০০ থেকে ২০,০০০ মার্কিন ডলার ইনকাম করা সম্ভব হচ্ছে।
ক্লিকব্যংক হল একটি জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে ডিজিটাল প্রোডাক্ট ক্রিয়েটর আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারা একে অপরের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারে। এই ওয়েবসাইট টি ক্রিয়েটরদের কে তাদের ই-বুক, সফটওয়্যার, এবং অন্যন্য ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করার পারমিশন দেয়। আর অ্যাফিলিয়েট দের কানেক্টে করে যাতে প্রোডাক্টের রিচ আরো বৃদ্ধি পায়।
ক্লিক ব্যংকের মূল উদ্দেশ্যই হল অ্যাফিলিয়েটদের সাহায্য নিয়ে ওয়াইড রেঞ্জ অডিয়েন্স এর কাছে পৌছানো এবং ই-কমার্সের সেক্টর কে আরো ডেভেলপ করা।
শেয়ার সেলস এমন একটি অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক, যেখানে তারা অ্যাফিলিয়েটদের বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির সাথে কানেক্টে করিয়ে দেয় এবং প্রোডাক্ট প্রমোট করে কমিশন উপার্জন করার সুযোগ করে দেয়। অর্থাৎ, এখানে সাইন আপ করা ইউজারদের কাছে শেয়ারসেল নিজেই ব্রান্ড প্রোডাক্ট রেফার করে এবং প্রোমোশনের ব্যবস্থা করে। আর এই তাদের স্ট্র্যাটেজির কারনে বর্তমানে, শেয়ার সেল এর প্রায় ২,৭০,০০০ এর বেশি একটিভ অ্যাফিলিয়েট পার্টনার আছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্লাটফর্ম। Daraz মূলত মাল্টি ভেন্ডর এবং অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম অফার করে। দারাজ তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম গুলোর জন্য একজন অ্যাফিলিয়েট কে সর্বোচ্চ ১২% পর্যন্ত কমিশন অফার করে।
ওয়েবসাইট হোস্টিং সেবা HostGator, মূলত বাংলাদেশী ওয়েবমাস্টারদের জন্য প্রিমিয়াম অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আফার করে। এখানে শুধুমাত্র হোস্টিং প্ল্যান প্রমোট করে কমিশন উপার্জন করতে হয়।
Envato হল এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে বিভিন্ন সফ্ট স্কিল, ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, এবং মাল্টিমিডিয়া প্রোডাক্টগুলির প্রোমোশন করানোর জন্য অ্যাফিলিয়েট দের হায়ার করা হয়।
এছাড়াও BdShop, Shohoj affiliate, 10 minutes School, Bohubrihi, Foodpanda এর মত প্রতিষ্ঠান গুলো ও বাংলাদেশে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম অফার করে।
এছাড়াও আপনি ব্লগ বা ওয়েবসাইট চালিয়ে বিভিন্ন প্রোডাক্টের পর্যালোচনা করে ও অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ব্যবহার করে প্রোডাক্ট প্রমোট করতে পারেন। এবং যদি কেউ আপনার লিঙ্ক দিয়ে প্রোডাক্ট কিনে তাহলে আপনিও কমিশন পেয়ে যাবেন।
আ্যফিয়েট মার্কেটিং একদিকে ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অন্যদিকে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন মার্কেটপ্লেসের কারণে ফেইস করতে হয় কিছু চ্যালেঞ্জ। Affiliate Marketing এর সুবিধা -
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সাধারণত খুব কম এডভান্স ইনভেস্টমেন্ট এর প্রয়োজন হয়। ইনডিভিজুয়াল এবং ছোট ব্যবসার জন্য এটি খুবই কার্যকর।
একবার সেট আপ হয়ে গেলে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। কারণ, আপনি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিজে থেকে ম্যানেজ না করেই সেলস এর কমিশন উপার্জন করতে পারবেন।
অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম গুলোতে কাজ করার জন্য অংসখ্য নিশ থাকে আর প্রচুর প্রোডাক্ট থাকে। আপনি আপনার ইচ্ছে বা সুবিধামত যেকোনো একটি নিয়ে কাজ করতে পারবেন৷
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনাকে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স বেস প্রসারিত করে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সূযোগ করে দেয়। রিচ, প্রমোশন ও প্রোফিট বৃদ্ধি পায়।
মার্কেটার রা তাদের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে প্যাসিভ কমিশন উপার্জন করতে পারেন। ফলে মানসম্পন্ন ট্র্যাফিক এবং কনভারসন ড্রাইভ করতে আরো বেশি উৎসাহিত হয়।
Affiliate marketing প্রোগ্রাম গুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। অনেক মার্কেটার একই দর্শকদের জন্য কম্পিটিশন করে। তাই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
উপার্জনের ডাইভার্সিটি হতে পারে, বিশেষ করে শুরু করার সময়। কারণ তখন পণ্যের গুণমান, বাজারের চাহিদা এবং মার্কেটিং দক্ষতার মতো বিষয়গুলির উপর অভিজ্ঞতা কম থাকে।
আপনি যে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম গুলোতে অংশগ্রহণ করবেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার আয় কতটুকু হবে। এবং যদি তারা তাদের শর্তাবলী পরিবর্তন করে বা প্রোগ্রাম হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয় তবে এটি আপনার আয়ের ওপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধুমাত্র একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম দ্বারা প্যাসিভ ইনকাম নাও হতে পারে। আবার একাধিক অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম ম্যানেজ করা এবং কর্মক্ষমতা ট্র্যাক করাও ডিফিকাল্ট হয়ে উঠতে পারে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত, একটি win-win সিচুয়েশন অফার করে: মার্চেন্টের সেলস এবং ব্র্যান্ড এক্সপোজার বৃদ্ধি করে, আবার অ্যাফিলিয়েটরা তাদের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির জন্য কমিশন উপার্জন করে। তাই, এটি মার্চেন্টদের জন্য তাদের বিজনেসের নাগাল প্রসারিত করার এবং অনলাইন উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য অন্যতম জনপ্রিয় এবং কার্যকর উপায়। আবার অসম্ভব প্রতিযোগিতাময় ফিল্ড হওয়ার কারণে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
সামগ্রিকভাবে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি বিপুল লাভজনক বিজনেজ হতে পারে যদি স্ট্র্যাটেজিকালি এপ্লাই করা হয়৷ পাশাপাশি কন্টিনিউয়াস লার্নিং ও এডাপটেশন এর মাধ্যমে Affiliate Marketing থেকে প্যাসিভ আর্নিং করা সম্ভব।

সামাজিক উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আরো সহজ করে দেয় সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল। মূলত বহুল ব্যবহৃত বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল থেকেই সামাজিক সংগঠনের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী করে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সামাজিক উন্নয়নে কোনো আইডিয়া এই টুলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সিন্ধান্তে আসা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।








