GeoRenus Editorial Team

SWIFT এর পূর্ণরূপ Society for Worldwide International Financial Telecommunication যা বাংলায় সুইফট এর পূর্ণরূপ সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন। SWIFT বা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাবে অর্থ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া যা নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
SWIFT হলো মূলত একটি নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে বিশ্বের যে ২০০ টি দেশ SWIFT এর অন্তর্ভুক্ত তারা নিজেদের মধ্যে এক দেশ থেকে অন্য দেশে মেসেজ এর মাধ্যমে সেসকল দেশের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহে অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে পেমেন্ট আদান-প্রদান করতে পারে।
SWIFT অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক কে তাদের গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রেরণ বা প্রদানের জন্য মেসেজের মাধ্যমে রিকুয়েষ্ট সেন্ড করলে তারা সে অনুযায়ী কার্যসম্পন্ন করে।
SWIFT হল একটি বিশাল মেসেজিং নেটওয়ার্ক যা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের অর্থ স্থানান্তরের তথ্যসমূহ দ্রুত, নির্ভুলভাবে এবং নিরাপদে পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে ব্যবহার করে থাকে।
অর্থের আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের জন্য নিরাপদ বার্তা প্রদান করার লক্ষ্যে ৩ মে কার্ল রয়টার্স কিল্ড ১৯৭৩ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এ সুইফট প্রতিষ্ঠা করেন।
SWIFT এর প্রতিষ্ঠার পূর্বে ব্যবহার করা হতো টেলেক্স । টেলেক্স ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি প্রাথমিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা ব্যাপকভাবে জটিল এবং ত্রুটি-প্রবণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল,যার প্রক্রিয়াকরণের সময় ছিলো খুব ধীর গতিসম্পন্ন ও ব্যবহারের সময় ছিলো খুবই সময়সাপেক্ষ।
১৯৭৩ সালে সুইফট প্রতিষ্ঠার সালে বিশ্বের ১৫টি দেশের ২৩৯ টি ব্যাংক কে সদস্য করে সুইফটের যাত্রা শুরু হয়।
১৯৭৭ সাল থেকে সুইফট আর্থিক লেনদেনের অর্ডারের মেসেজিং সেবা চালু করে।
পরবর্তীতে সুইফট নেটওয়ার্ক আরও উন্নতকরণ লক্ষ্যে আর্থিক লেনদেনের অর্ডার দেওয়ার জন্য একটি সহজ মাধ্যম , তথ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি ও বিশ্বব্যাপী কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করার জন্য বুরো কর্পোরেশন (Burroughs Corporation) এটি আরও অত্যাধুনিক ভাবে তৈরি করে।
SWIFT নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণের প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়ে থাকে।এটা সরাসরি কোন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম না। ৩ মে ১৯৭৩ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে সুইফট প্রতিষ্ঠিত হলেও, সুইফটের মাধ্যমে প্রথম বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয় ১৯৭৭ সালে।
সুইফট প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠিতারা নিজস্ব লেনদেন আর ট্রেজারী কাজে ব্যবহার করলে পরবর্তী বিশ্বব্যাপী এটা ব্যাপকতা বিস্তার লাভ করে আন্তর্জাতিক লেনদেনের কাজে।
SWIFT ২০০ টিরও বেশি দেশে ১১০০০ এরও বেশি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করে এবং জি-১০ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি দ্বারা পরিচালিত হয়। যার অর্থ হল বেলজিয়াম, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইজারল্যান্ড৷
অস্ট্রেলিয়া, চীন, হংকং, ভারত, কোরিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক সহ অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সুইফটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির কার্যকারিতার জন্য SWIFT অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটিকে সারা বিশ্বের ব্যাংক গুলির মধ্যে নিরাপদ আর্থিক বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে এবং অন্যান্য জিনিসগুলির মধ্যে নিরাপদ আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর সহজতর করার অনুমতি দেয়৷
SWIFT শুধুমাত্র একটি মেসেজিং সিস্টেম। যার মাধ্যমে নিরাপদে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অর্থের লেনদেনের ফরমায়েশের রিকুয়েষ্ট অনলাইনের মাধ্যমে করা হয় আর ব্যাংকগুলো সে মোতাবেক কাজ করে থাকে। SWIFT কোনো তহবিল বা সিকিউরিটি ধারণ করে না বা ক্লায়েন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে না৷
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি একটি নির্দিষ্ট সুইফট কোড সিস্টেমের মাধ্যমে নিরাপদে তথ্য এবং নির্দেশাবলী প্রেরণ করতে SWIFT ব্যবহার করে। যদিও SWIFT বিশ্বব্যাপী আর্থিক অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়। SWIFT সম্পদ ধারণ বা স্থানান্তর করে না কিন্তু সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ যোগাযোগের সুবিধা দেয়।
2022 সালের নভেম্বরে 11,000 টিরও বেশি বিশ্বব্যাপী SWIFT সদস্য প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে 44.8 মিলিয়ন বার্তা পাঠায়।
SWIFT এর আওতাধীন দেশসমূহের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকগুলোতে সুইফট ব্যবহারের জন্য কোড প্রদান করে থাকে। একটি নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে সুইফট কোড প্রদান করা হয়।সুইফট কোড সাধারণত ৮ থেকে ১১ ডিজিটের মধ্যে হয়ে থাকে।
প্রথম চার ডিজিটিকে প্রাথমিক ব্যাংক বা অফিস বোঝায়। এরপরেরগুলোকে দেশের নাম ও শহর বোঝানো হয়।
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সুইফট কোড সাধারণত ৮ সংখ্যার। তবে কেউ যদি নির্দিষ্ট কোন ব্যাংকের ব্রাঞ্চে টাকা পাঠাতে চান সেক্ষেত্রে সুইফট কোড ৮ সংখ্যার পরে আরও ৩ সংখ্যার ব্যাঞ্চ কোড সংযুক্ত করতে হয়।
যেমন ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রথম ৮ ডিজিটের সুইফট কোড হচ্ছে DBBLBDDH এটি। এখানে এই কোড দিয়ে বুঝানো হচ্ছে প্রথম চারটি কোড হচ্ছে ব্যাংকের নামের সংক্ষিপ্তকরন অর্থাৎ
Dutch-Bangla Bank Limited থেকে DBBL এরপর যুক্ত করা হয়েছে দেশের নাম অর্থাৎ Bangladesh এর সংক্ষিপ্ত BD এরপর এসেছে শহরের নাম Dhaka থেকে DH.
এখন যদি নির্দিষ্ট কোন ব্রাঞ্চ যেমন মহাখালী ব্রাঞ্চ যুক্ত হয় তখন সেই ব্রাঞ্চের দেওয়া নির্দিষ্ট কোড যুক্ত হবে অর্থাৎ আরও তিনটি ডিজিট যুক্ত হয়ে কোড সংখ্যা হবে ১১ যেমন ডাচ বাংলা ব্যাংক এর মহাখালী শাখার সুইফট কোড হচ্ছে এটি: Dutch-Bangla Bank Limited (Mohakhali Branch) – DBBLBDDH114
SWFT কোডের মাধ্যমেই নেটওয়ার্ক মেসেজিং প্রক্রিয়ায় সুইফটের অন্তর্ভুক্ত ২০০ টি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে।
প্রাথমিকভাবে SWIFT এর যাত্রা যখন প্রথম শুরু হয় তখন প্রতিষ্ঠাতারা শুধুমাত্র ট্রেজারি এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেন সম্পর্কে যোগাযোগের সুবিধার্থে নেটওয়ার্কটি ডিজাইন করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে সুইফট নেটওয়ার্ক আপডেট করে কাজ করা শুরু হলে অনলাইন মেসেজের মাধ্যমে সুইফট অন্তর্ভুক্ত ২০০ টি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহে নেটওয়ার্ক সিস্টেমের মাধ্যমে মেসেজিং প্রক্রিয়ায় অনলাইন ভিত্তিক অর্থ লেনদেন করার কাজ চালু হয়।
বর্তমানে নিম্নোক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বর্গ সুইফট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে।
সুইফট নেটওয়ার্ক সিস্টেমের মাধ্যমে বিশ্বের ২০০ টি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকে নিরাপদে অর্থ লেনদেন করা যায়।
সুইফট নেটওয়ার্ক সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করার জন্য প্রথমেই প্রাপকের ব্যাংকের নাম, ঠিকানা এবং দেশ, রাউটিং কোড সংগ্রহ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত প্রাপকের সম্পূর্ণ আইনি নাম, বর্তমান ঠিকানা এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর সব কিছু সঠিক ভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
তৃতীয়ত দরকার হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সুইফট কোড এবং নিজ দেশের সরকার কতৃক ইস্যুকৃত পারমিট।
চতুর্থত অর্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য এবং নিজস্ব একাউন্টের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকতে হবে।
এবং উপরোক্ত সকল ডকুমেন্টস সংগ্রহ করে নিজস্ব ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেন প্রক্রিয়ায় সুইফট নেটওয়ার্ক সিস্টেমের মেসেজের মাধ্যমে আপনার সিলেক্ট করা ব্যাংকে অর্থের পরিমাণের মেসেজ প্রেরণ করা হলে,প্রাপকের ব্যাংক সেই অনুযায়ী অর্থ প্রাপককে প্রদান করবেন।
সুইফটের নেটওয়ার্ক মাধ্যমে অর্থ নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে প্রেরণের পূর্বের সেই দেশের সাথে নিজ দেশের কারেন্সি রেট সহ যাবতীয় খরচের ডিটেইলস জেনে নিতে হবে।
আবার আপনি যদি টাকা পেয়ে থাকেন দেশের বাইরে থেকে সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার ব্যাংকের সুইফট কোড নিশ্চিত ভাবে সংগ্রহ করতে হবে কারন সেই কোড হিসেবেই আপনার দেশে, আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করতে হবে।
আপনি মার্কিন ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রায় তহবিল পাচ্ছেন কিনা তার উপর ভিত্তি করে এই SWIFT নম্বরগুলি আলাদা হতে পারে।
সুইফটের আগে টেলেক্সই ছিল আন্তর্জাতিক ওয়্যার ট্রান্সফার নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।
টেলেক্স সার্ভিসের গতি ছিলো কম আর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তিশালী ছিলো না।বিনামূল্যে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য তখন এই মাধ্যমটি ব্যবহার হতো।
টেলেক্সে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির নামকরণ করতে পারে এমন কোনও কোডের ব্যবস্থা ছিল না। টেলেক্স প্রেরকদের প্রতিটি লেনদেনকে বাক্যে বর্ণনা করতে হতো যা রিসিভারকে তখন ব্যাখ্যা করতে হতো। মানবিক ত্রুটি এবং ধীর প্রক্রিয়াকরণের সময় ছিলো টেলেক্স পদ্ধতির বড় বাধা।
সুইফট সৃষ্টি হয়েছিল আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান ব্যাংকসমূহের উদ্যোগে, যারা চাননি একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো একক সিস্টেম তৈরি করে কাজ করবে এবং নিজেদের একচেটিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনা করবে।
১৫ টি দেশের ২৩৯ টি ব্যাংক আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের জন্য যোগাযোগ পরিচালনা করার জন্য একটি ভাল উপায়ে সহযোগিতা করার জন্য ১৯৭৩ সালে একত্রিত হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফট নামে একটি সমবায় ইউটিলিটি গঠন করে, যার সদর দফতর বেলজিয়ামের এর লা হাল্পে।
সুইফট প্রথমবার মেসেজিং বা বার্তা সেবা চালু করে ১৯৭৭ সালে। টেলেক্সের ম্যানুয়ালি ত্রুটি আর ধীর প্রক্রিয়াকরনের বিপরীতে যখন সুইফটের যাত্রা শুরু হয় তখন খুব দ্রুত বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিশ্ব অংশীদার মাধ্যম হিসেবে সুইফটের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পরে।
SWIFT বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক মেসেজিং সিস্টেম হিসাবে প্রথম সারিতে আছে। বর্তমানে SWIFT প্রতিটি মহাদেশের ২০০ বেশি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত এবং সারা বিশ্বে ১১০০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠানকে বার্তা আদান-প্রদানে সেবা প্রদান করছে।
সুইফট নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন প্রেরণ করতে এবং এর প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা আর্থিক ক্ষমতা বাড়াতে নতুন বার্তা কোড যোগ করে থাকে যার কারনে প্রতিনিয়ত সুইফট নেটওয়ার্ক এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের আন্তর্জাতিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
SWIFT এর পরিধি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও প্রাথমিকভাবে সাধারণ অর্থপ্রদানের নির্দেশাবলীর জন্য শুরু হয়েছিল সুইফট নেটওয়ার্কের কাজ কিন্তুু বর্তমানে SWIFT এখন নিরাপত্তা এবং ট্রেজারি লেনদেন থেকে শুরু করে বাণিজ্য এবং সিস্টেম লেনদেনের জন্য ট্রিলিয়ন বার্তা পাঠায়।
২০২৩ বছরের প্রথম দিকের একটি SWIFT রিপোর্টে দেখানো হয়েছে যে SWIFT ট্র্যাফিকের মাত্র ৪৪.৫% এখনও অর্থপ্রদান-ভিত্তিক বার্তাগুলির জন্য, যেখানে ৫০.৬% নিরাপত্তা লেনদেনের প্রতিনিধিত্ব করে৷ অবশিষ্ট ট্রাফিক ট্রেজারি, বাণিজ্য এবং সিস্টেম লেনদেনে প্রবাহিত হয়। এই সমস্ত কারনের জন্যই SWIFT বা সুইফট প্রতিনিয়ত প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
SWIFT হল একটি সদস্য-মালিকানাধীন সমবায় যা এর শেয়ারহোল্ডারদের (কিছু সদস্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, বিশ্বব্যাপী কিছু সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।
SWIFT গ্রুপ অফ টেন দেশের G-10 কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা তত্ত্বাবধান করা হয়। এই দেশগুলি হল বেলজিয়াম, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাজ্য, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় দেশ বেলজিয়াম মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মতো অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি প্রধান অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করে।
SWIFT অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহে যেহেতু দ্রুত, নির্বিঘ্ন, নিরাপদ যোগাযোগ পরিচালনা করতে SWIFT-এর উপর নির্ভর করে থাকে তাই তারা সংস্থার সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সবসময় সচেষ্ট থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গ্রুপ অফ টেন (G10) দেশগুলির SWIFT তত্ত্বাবধান করে, কিন্তু এটি একটি নিরপেক্ষ সংস্থা যা এর সমস্ত সদস্যদের সুবিধার জন্য কাজ করে৷
SWIFT সিস্টেম অনেক ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাক্তিগত ভাবে আর্থিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বিঘ্ন এবং সঠিক ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে।
প্রদত্ত কিছু সেবাসমূহ নীচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
SWIFT নেটওয়ার্ক মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের সুইফট অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে অর্থ প্রদানের নির্দেশাবলী দেওয়া এবং তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা,অর্থনৈতিক বাজার কাঠামো পর্যালোচনা করা এবং অর্থপ্রদানের জন্য ক্লিয়ারিং এবং নিষ্পত্তির নির্দেশাবলী, সিকিউরিটিজ, ফরেক্স এবং ডেরিভেটিভস লেনদেনের জন্য সিকিউরিটিজ মার্কেট অবকাঠামো সহ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে অ্যাক্সেস দেওয়ার যে সক্ষমতা তা সুইফট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়ে থাকে।
SWIFT সম্প্রতি ড্যাশবোর্ড এবং রিপোর্টিং ইউটিলিটি চালু করেছে যা তার ক্লায়েন্টদের বার্তা, কার্যকলাপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং রিপোর্টিং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কিভাবে আরও গতিশীল ভাবে ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছানো যায় সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে থাকে।
SWIFT তার নিজস্ব সিস্টেমের মাধ্যমে সুইফট অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে কোন রকম অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং না হয় সেই ভাবেই গ্রাহকদের আর্থিক আদান-প্রদান রেকর্ড রাখা,তা মনিটরিং করা এবং এসকল তথ্যের উপর রিপোটিং করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
SWIFT নেটওয়ার্ক ব্যবসার মূল ভিত্তি হচ্ছে মেসেজিং বা বার্তাগুলির নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য একটি সুরক্ষিত, নির্ভরযোগ্য এবং মাপযোগ্য নেটওয়ার্ক প্রদান করা। এর বিভিন্ন মেসেজিং হাব, সফ্টওয়্যার এবং নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে, SWIFT একাধিক পণ্য এবং সেবা প্রদান করে থাকে যা আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়ার শেষে ক্লায়েন্টদের লেনদেনমূলক বার্তা পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
SWIFT তার অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের সদস্যদের শেয়ার মালিকানার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শ্রেণীতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।সকল সদস্যরা এককালীন যোগদানের ফি এবং সদস্যরা প্রতিবছর সুইফট কতৃক নির্ধারিত করা বার্ষিক ফি প্রদান করে থাকে।
SWIFT নেটওয়ার্ক সিস্টেমের প্রধান কাজ যেহেতু বার্তা বা মেসেজ প্রেরণ করা তাই প্রতিটি বার্তার জন্য ব্যবহারকারীদের বার্তার ধরন এবং দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে সুইফট চার্জ করে থাকে। এই চার্জগুলি নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় বিভিন্ন বার্তার বা মেসেজের দৈর্ঘ্যের উপর। ব্যাংকগুলির জন্য সুইফট নেটওয়ার্ক সিস্টেমের চার্জ বিদ্যমান থাকে।
SWIFT উপরে বর্ণিত বিষয়াদি ছাড়াও অতিরিক্ত সেবা চালু করেছে।SWIFT এর ডেটার সংখ্যার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। এই সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক পরামর্শ প্রদান, রেফারেন্স ডেটা এবং কমপ্লায়েন্স সেবা এসকল সেবা প্রদানের মাধ্যমেও সুইফট তার নিজস্ব অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।
বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক অর্থ এবং নিরাপত্তা স্থানান্তরের পিছনে রয়েছে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন, যা সুইফট সিস্টেম নামে পরিচিত। SWIFT হল একটি সুবিশাল মেসেজিং নেটওয়ার্ক ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি দ্রুত, নির্ভুলভাবে, এবং নিরাপদে তথ্য পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশাবলী।
সুইফট বিশ্বের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক ব্যবহার করে না।কারন সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য সর্বপ্রথম সুইফট এর সদস্য দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত হতে হয় এবং সুইফট ব্যবহারের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক গুলোকে সদস্যভুক্ত হতে হয় রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে।
আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ছোট ব্যাংক এবং বেশিরভাগ ক্রেডিট ইউনিয়ন SWIFT নেটওয়ার্কের সদস্য নয়।তারা সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে না।
সুইফট ছাড়াও ব্যাংক গুলো অর্থ ট্রান্সফার করতে পারে।তবে সেক্ষেত্রে অর্থ ট্রান্সফারের পুরো প্রক্রিয়ায় চলে আসে ধীরগতি।সুইফট সিস্টেম ছাড়াও অর্থ ট্রান্সফার করা যায় তবে সেটা আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানকে আরও কঠিন, ধীর, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত করে তোলে।
SWIFT বিশ্বব্যাপী আর্থিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। 2022 সালের নভেম্বরে 11,000 টিরও বেশি বিশ্বব্যাপী SWIFT সদস্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসমূহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে 44.8 মিলিয়ন বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসমূহের লেনদেন এর অর্ডার প্রদান করে থাকে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অর্থ আদান-প্রদানের কাজ গুলো সম্পন্ন করে থাকে।
SWIFT হল একটি নেটওয়ার্ক যা ব্যাংকগুলি একে অপরের সাথে নিরাপদে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করে, প্রধানত অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে তহবিল স্থানান্তর করার জন্য নির্দেশনা দিতে সুইফট নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। যদিও SWIFT গ্লোবাল পেমেন্ট সিস্টেমের একটি অত্যাবশ্যক উপাদান, নেটওয়ার্ক নিজেই শুধুমাত্র বার্তা পাঠানো এবং গ্রহণ করার জন্য ব্যবহার করা হয় — SWIFT তহবিল রাখে না, ইস্যু বা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে না বা লেনদেনের জন্য সেটেলমেন্ট ফাংশন প্রদান করে না।
SWIFT লেনদেনমূলক বার্তাগুলির বিশ্বব্যাপী প্রক্রিয়াকরণে তার প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এটি সম্প্রতি অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে প্রবেশ করেছে, যেমন রিপোর্টিং ইউটিলিটিগুলি এবং ব্যবসায়িক পরামর্শের জন্য ডেটা সরবরাহ করা, যা সুইফটের সদস্যভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে নতুনমাত্রা তৈরি করবে।
স্বল্প থেকে মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যেই SWIFT বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে প্রস্তুত বলেই সুইফট সিস্টেমের সাথে জড়িত সদস্যদেশ সমূহ এবং তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমন ধারণা পোষন করছে।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।








