GeoRenus Editorial Team

ফেইসবুক অ্যাডস, মার্কেটপ্লেস, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সরড পোস্ট ইত্যাদি উপায় ব্যবহার করে আপনিও খুব সহজেই ফেইসবুকের মাধ্যমে আয় করা শুরু করতে পারবেন। এছাড়াও নিজের সাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করে বা পেইড গ্রুপ ও ইভেন্টের মাধ্যমেও চাইলে আয় করা সম্ভব। তবে শুরু করার পূর্বে অবশ্যই এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।
ফেসবুকের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও, এটি এখনো ২.৯ বিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে অন্যতম প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। অনেকেই এখান থেকে পণ্য ও সেবা বিক্রয়, কন্টেন্ট তৈরি, এবং অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে আয় করছেন। মার্কেটপ্লেস, শপস, পেইড ইভেন্টসহ বিভিন্ন টুল ফেসবুককে আয়ের সহজ মাধ্যম করে তুলেছে। একইসাথে এটি পারসোনাল ব্র্যান্ড তৈরি ও অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই আজকের লেখায় ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ আয়ের পদ্ধতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো, যা আপনার আয়ের সুযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে।
মনিটাইজেশনের জন্য আপনার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট যেভাবে সেটআপ করবেন
ফেইসবুকের মাধ্যমে অর্থ আয় শুরু করার পূর্বে আপনাকে নিজের অ্যাকাউন্টটি ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। অ্যাকাউন্ট ঠিকঠাক না থাকলে আপনি হয়তো মনিটাইজেশন পাবেন না, নয়তো অডিয়েন্স থেকে সঠিক রেসপন্স পাবেন না। তাই এই বিষয়গুলো শুরুতে জেনে নেয়া প্রয়োজন।
একটি প্রফেশনাল প্রোফাইল বা বিজনেস পেইজ তৈরি করুন, যা অ্যানালিটিক্স ও অ্যাড টুলস ব্যবহারের সুযোগ দেবে।
ফেইসবুকের মাধ্যমে অর্থ আয় করার জন্য প্রোফাইল বা পেইজ অপ্টিমাইজ করা হয়ে তো গেল। কিন্তু অর্থ আসবে কিভাবে? সেই বিষয়েই বিস্তারিত জানবো এই অংশে, যে কি কি অর্থ আয়ের জন্য আপনি ফেইসবুককে ব্যবহার করতে পারেন।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা নিজেদের ভিডিও’র মাঝে বা শেষে অ্যাড দেখিয়ে ফেইসবুক থেকে আয় করতে পারেন। তবে এই কাজের জন্য আপনার প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলোয়ার ও আপনার ভিডিওগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিউ থাকতে হবে। তাহলেই আপনি ভিডিও মনিটাইজেশনের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। মূলত, ফেইসবুক অ্যাড থেকে যেই অর্থ পায়, তার নির্দিষ্ট পরিমাণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে শেয়ার করে। তাই যারা ভালো ভিডিও তৈরি করতে পারেন, তাদের জন্য ফেইসবুক থেকে অর্থ আয়ের এটাই হতে পারে সর্বোত্তম পন্থা।
উদাহরণস্বরুপ, আপনি একটি কুকিং পেইজ তৈরি করতে পারেন। যেখানে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন ধরণের খাবার রান্না করার ভিডিও আপলোড করবেন। তাহলে ঐ ভিডিও’র অ্যাড থেকে আপনি আয় করতে পারবেন। যদি নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে এই পন্থায় একটি স্টেবল ইনকাম পাওয়া খুব সম্ভব।
আপনার লোকাল কাস্টমারদের কাছে পণ্য বিক্রয় করার অন্যতম সহজ টুল হচ্ছে ফেইসবুক মার্কেটপ্লেস। ঘরের ব্যবহৃত আসবাবপত্র থেকে শুরু করে হাতের তৈরি বিভিন্ন পণ্য পর্যন্ত, সবকিছুই আপনি এখানে বিক্রয় করতে পারবেন। আবার পণ্য লিস্ট করতে বা পোস্ট করতেও কোনো টাকা লাগে না। তাই ক্রেতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে আপনি সহজেই এখান থেকে আয় করতে পারবেন।
উদাহরণস্বরুপ, একটি ছোট আসবাবপত্র তৈরির কারখানা সহজেই উক্ত কারখানার তৈরি আসবাবপত্র ফেইসবুক মার্কেটপ্লেসে লিস্ট করে রাখতে পারে। এতে করে লোকাল মানুষজন উক্ত লিস্টিং দেখে আগ্রহী হয়ে সেখানকার তৈরি আসবাবপত্র ক্রয় করতে পারবে।
তবে লিস্টিং তৈরি করার সময় অবশ্যই পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিবেন ও ভালো কোয়ালিটির ছবি যোগ করে দিবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে বোঝায় কোনো পণ্য বা সেবা প্রমোট করা এবং আপনার লিংক থেকে বিক্রয় হলে একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন চার্জ করা। ফেইসবুকে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করেও অর্থ আয় করতে পারবেন, যদি আপনার যথেষ্ট ফ্যান-ফলোয়ার ও ভালো কোনো প্রোডাক্টের সাথে অ্যাফিলিয়েশন থাকে।
উদাহরণস্বরুপ, একজন ফিটনেস লাভার তার পোস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন জিম গিয়ারের অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে পারে। এতে করে তার ফলোয়াররা প্রোডাক্ট রিভিউ জানতে পারলো, আবার একইসাথে ফিটনেস টিপস’ও পেলো।
বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রায়ই ইনফ্লুয়েন্সার বা ফেসবুক পেজের মালিকদের তাদের পণ্য প্রচারের জন্য অর্থ প্রদান করে। যদি আপনার একটি বড় ফলোয়ার বেস থাকে, তবে কোম্পানিগুলো আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য যোগাযোগ করতে পারে। স্পনসর্ড পোস্টের মধ্যে থাকতে পারে পণ্যের রিভিউ, আনবক্সিং ভিডিও বা শুধুমাত্র আপনার কোনো পোস্টে তাদের পণ্য সম্পর্কে একটি সাধারণ উল্লেখ।
উদাহরণস্বরূপ, একজন ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগার যিনি ফেসবুকে তাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, একটি লাগেজ কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ করতে পারেন। তিনি ওই ব্র্যান্ডের ব্যাগ সম্পর্কে পোস্ট করবেন, ব্যাগের বৈশিষ্ট্য এবং উপকারিতা তুলে ধরবেন, এবং এর বিনিময়ে পেমেন্ট পাবেন। এই ধরনের স্পনসর্ড পোস্ট আপনার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের একটি চমৎকার উপায় এবং প্রায় সকল ইনফ্লুয়েন্সার এই উপায়ে অর্থ আয় করে।
ফেসবুক আপনাকে এক্সক্লুসিভ গ্রুপ তৈরি করার সুযোগ দেয়, যেখানে সদস্যরা সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদান করে থাকে। এই গ্রুপগুলো সাধারণত প্রফেশনাল নলেজ, এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট বা ক্রিয়েটরদের সমর্থন প্রদান করার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
যেমন - একজন ফিটনেস কোচ একটি পেইড গ্রুপ তৈরি করতে পারেন যেখানে ওয়ার্কআউট প্ল্যান, লাইভ Q&A সেশন, এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ দেয়া হয়। সদস্যরা এই গ্রুপে যোগ দিয়ে বিশেষ সুবিধা পায়, এবং কোচ সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে নিয়মিত আয় উপার্জন করেন।
তবে, এই ফিচারটি এখনও বাংলাদেশে আসেনি। বিকল্প হিসেবে, ক্রিয়েটররা প্রাইভেট গ্রুপ এবং এক্সটার্নাল পেমেন্ট সিস্টেম যেমন bKash, Nagad, অথবা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন ম্যানুয়ালি পরিচালনা করতে পারেন। একবার পেমেন্ট পাওয়ার পর, গ্রুপে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যায়। যদিও এটি একটু সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে এটি বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য একটি কার্যকর সমাধান।
যদি আপনার একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে যেখানে অ্যাড প্লেস করা আছে, তবে আপনি ফেসবুক ব্যবহার করে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারেন। আপনার সাইটে ক্লিক বাড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় পোস্ট শেয়ার করুন এবং সেগুলোর সাথে সাইটের লিংক দিয়ে দিন। এতে করে সহজেই ফেইসবুক থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারবেন।
উদাহরণস্বরূপ, একজন ফুড ব্লগার ফেসবুকে তার রেসিপির বিভিন্ন শর্ট ভিডিও শেয়ার করতে পারেন এবং পুরো ব্লগ পোস্টের লিংক দিয়ে দিতে পারেন। যখন অডিয়েন্স ওয়েবসাইট ভিজিট করবে, তখন অ্যাডের ক্লিক থেকে তিনি আয় করতে পারবেন। যত বেশি ট্রাফিক পাবেন, তত বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
ফেসবুক বিভিন্ন টুল সরবরাহ করে যেমন - Shops, Paid Online Events, এবং Stars। যদিও এগুলোর অনেক সুবিধা বাংলাদেশে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি, তবে কিছু বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রায় একই রকম সুবিধা উপভোগ করা যায়।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ফেসবুকে শপ তৈরি করে পণ্য প্রদর্শন করতে পারেন। তবে, ফেসবুকের মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট সিস্টেম এখনো বাংলাদেশে চালু না হওয়ায়, bKash, Nagad, বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে লেনদেন করতে হয়।
ফেসবুকের পেইড অনলাইন ইভেন্ট ফিচার বাংলাদেশে না থাকলেও, ম্যানুয়ালি টিকিট সেল করে ভার্চুয়াল ক্লাস বা ওয়ার্কশপ আয়োজন করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষক bKash বা অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের থেকে ফি সংগ্রহ করে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে পারেন।
ফিচারটি এখন বাংলাদেশে চালু হয়েছে। এটি একটি বিশেষ টুল যা ক্রিয়েটরদের তাদের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সময় দর্শকদের থেকে স্টার সংগ্রহ করার সুযোগ দেয়। প্রতিটি স্টার ক্রিয়েটরের জন্য আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট অর্থমূল্যে রূপান্তরিত করা যায়।
বাস্তব কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলে আশা করি আপনি ফেইসবুক থেকে আয় করা সম্পর্কে আরো কিছুটা উদ্দীপিত হবেন।
কক্সবাজারের মেয়ে ফাহমিদা ইসলাম, মাত্র ২২ বছর বয়সে শুরু করেন তার ব্র্যান্ড 'লা-মোড', যা আজ একটি জনপ্রিয় জুতার ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে তিনি আন্তর্জাতিক মানের, আধুনিক ডিজাইনের বাংলাদেশি জুতা তৈরি করতে থাকেন। অনেক ঝামেলা এবং অর্থের ক্ষতির পরও তিনি হতাশ হননি এবং ইউটিউব ও অনলাইন কোর্স থেকে শিখে অবশেষে নিজের কারখানা স্থাপন করেন।
এখন তার লা-মোড ব্র্যান্ডের চারটি শোরুম রয়েছে এবং তার জুতা আমাজনের ডট কমের 'প্রাইম প্রোডাক্ট' হিসেবে পরিচিত। ফাহমিদা দেশের ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন এবং সম্প্রতি কালার ম্যাগাজিন প্লাটিনাম বিজনেস ওমেন পুরস্কার পেয়েছেন। তাই ফেসবুকের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে সফল বড় ব্যবসায় তৈরি করার ক্ষেত্রে লা মোডের নাম হরহামেশাই উঠে আসে। এখন তারা কাস্টমাইজড জুতা এবং ব্যাগও তৈরি করছেন।
লিলিপুট ফারহান বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ইউটিউব ও ফেইসবুক চ্যানেল দিয়ে, যেখানে তিনি হাস্যকর ভিডিও, কমেডি স্কিট ও মজার কনটেন্ট আপলোড করতেন। তার সহজ ভাষা, হাস্যরসাত্মক পরিবেশনা এবং বাস্তবধর্মী ভিডিওগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তার কনটেন্টে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো হাস্যরসে রূপান্তরিত করে, যা তাকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি জনপ্রিয় মুখ করে তোলে। কিছুদিনের মধ্যে তার ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল লাখ লাখ ভিউ এবং ফলোয়ার পায়। বর্তমানে তার ফেসবুক পেইজের ফলোয়ার সংখ্যা ১২ লাখ+।
নিজ প্রয়োজনে বা একই মানসিকতার অন্যান্যদের এক করার উদ্দেশ্যে ফেইসবুক গ্রুপ খুলেছিলেন অনেকেই। সময়ের পরিক্রমায় গ্রুপ এতো বড় হয়ে গিয়েছে যে এখন সেই গ্রুপ মনিটাইজ করেও আয় করা যাচ্ছে। জি, বাংলাদেশে এমন অনেক বড় বড় ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে যেগুলো নিতান্তই কোনো সাধারণ প্রয়োজনে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে লক্ষ লক্ষ সদস্য সংখ্যা হয়ে যাওয়ায় এখন সেই গ্রুপে অ্যাড পোস্ট করার বা কোনো পণ্য বা সেবা প্রমোট করার পারমিশন বিক্রয় করে এখন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাগণ আয় করতে পারছেন। যেমন - Foodbank, Traffic Alert, Interior Designers-Architects Bangladesh ইত্যাদি।
পরিশেষ বলা যায় যে, ফেইসবুক এখনো বেশ জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম যা ক্রিয়েটর, সেলার ও উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনাময় পরিবেশ অফার করছে। আয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীরা ফেসবুক অ্যাডস, মার্কেটপ্লেস, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পনসর্ড পোস্ট, অথবা পেইড গ্রুপ ইত্যাদি অপশন প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে। তাই প্রফেশনাল পেইজ বা প্রোফাইল সেটআপ করে আপনিও শুরু করে দিতে পারেন আপনার ফেসবুকের মাধ্যমে আয়ের যাত্রা। তবে অবশ্যই ফেসবুকের টার্মস এন্ড পলিসি ভালো করে জেনে নিবেন। বর্তমানে ভায়োলেশনের কারণে অনেকেরই বহু কষ্টে জনপ্রিয় করা পেইজ বা প্রোফাইল ডিজেবল হয়ে যাচ্ছে। তাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।








