ভূমিকা
বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো "বাজারে প্রবেশের বাধা", যা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে ব্যবহার করে। এই বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যান্ড ভ্যালু, সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক, উৎপাদন খরচ, প্রযুক্তি, এবং আইনি সুরক্ষা ইত্যাদি। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো অভেদ্য নয়। সঠিক কৌশল, উদ্ভাবনী চিন্তা ও স্থানীয় উদাহরণ বিশ্লেষণ করে নতুন উদ্যোক্তারা এসব বাধা সফলভাবে অতিক্রম করতে পারেন। চলুন জেনে নিই কীভাবে এই বাধাগুলোর মোকাবিলা করে একটি নতুন ব্যবসা বাংলাদেশি বাজারে টিকে থাকতে পারে।
বাধাগুলি যেভাবে অতিক্রম করবেন
১। ব্র্যান্ড ভ্যালু ও গ্রাহকের আস্থা জয় করা
একটি নতুন ব্যবসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করা। এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, তবে সঠিক কৌশলে দ্রুততর করাও সম্ভব। শুরুতেই পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা, সময়মতো ডেলিভারি ও পারসোনালাইড গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা উচিত। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ও রিভিউ সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরা এবং ব্যবহারকারীর সঙ্গে আন্তরিক যোগাযোগ স্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইনফ্লুয়েন্সার প্রোমোশন এবং অনলাইন রিভিউ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অল্প খরচে ব্র্যান্ড পরিচিতি গড়ে তোলা যায়। একটি নির্দিষ্ট 'নিশ মার্কেট' বেছে নিয়ে সেখানে এক্সপার্ট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করলে, বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা না করেই আস্থা অর্জন সম্ভব।
নগদ’কে শুরুতে বিকাশের পাশে একটি দুর্বল খেলোয়াড় মনে হলেও, তারা সরকারিভাবে বেতন প্রেরণ, মোবাইল রিচার্জে ক্যাশব্যাক এবং সহজ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে দ্রুত গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে। কার্যকর প্রচার এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা খুব অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ড ভ্যালু গড়ে তোলে।
২। সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা
প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাগুলোর শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে নতুন উদ্যোক্তারা প্রথমে স্থানীয়ভাবে সীমিত আকারে ডিস্ট্রিবিউশন শুরু করে ধাপে ধাপে বিস্তৃতি ঘটাতে পারেন। এর জন্য পার্টনারশিপ ভিত্তিক ডেলিভারি কোম্পানি যেমন: Pathao, Paperfly, RedX ইত্যাদিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। একইসাথে, Facebook Marketplace, Daraz, Rokomari বা Bikroy.com-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করলে কম খরচে বড় পরিসরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায়।
পরিবেশক নিয়োগে না গিয়ে উদ্যোক্তারা শুরুতে নিজেরাই ছোট পরিসরে হোম ডেলিভারি দিতে পারেন বা নির্বাচিত এলাকা ভিত্তিক মাইক্রো-ডিস্ট্রিবিউটর ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে “Pre-order Model” গ্রহণ করলে স্টকিং খরচও কমে যায়।
“চালডাল ডটকম” প্রথমে ঢাকার কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি দিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরে তারা নিজস্ব ওয়্যারহাউস, কোল্ড স্টোরেজ ও ডেলিভারি টিম গড়ে তুলে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন সুপারশপ হয়ে উঠেছে। এই মডেল অনুকরণ করে যে কোনো নতুন উদ্যোক্তা ধাপে ধাপে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারেন।
৩। উৎপাদনের মাত্রাগত সুবিধা মোকাবেলা করা
বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন করে ইউনিট প্রতি খরচ কমিয়ে দেয়, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন করে তোলে। তবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে। নতুন উদ্যোক্তাদের উচিত প্রথমেই স্কেলে না গিয়ে কাস্টমাইজড, প্রিমিয়াম বা ‘নিশ’ পণ্য দিয়ে বাজারে প্রবেশ করা। স্বল্প ব্যাচে উৎপাদন করে আপনি সহজেই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং স্টকের ঝুঁকি কম থাকবে।
স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার এবং নিজস্ব শ্রমশক্তি (পরিবারভিত্তিক বা কমিউনিটি লেভেল প্রোডাকশন) কাজে লাগিয়ে উৎপাদন খরচ অনেকটা কমানো যায়। প্রিমিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রে কম বিক্রিতেও লাভজনক হওয়া সম্ভব। এছাড়া “মেইড ইন বাংলাদেশ” ট্যাগটিকে ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করাও একটি কৌশল হতে পারে।
“নকশিকাঁথা” ও “অরণ্য” ব্র্যান্ড বাংলাদেশের হস্তশিল্প, প্রাকৃতিক রং ও লোকজ মোটিফ ব্যবহার করে সীমিতসংখ্যক অথচ হাই-ভ্যালু প্রোডাক্ট তৈরি করে। তারা কাস্টমার সেগমেন্টে দামে নয়, কনসেপ্টে প্রতিযোগিতা করে স্কেলের ঘাটতি মোকাবেলা করেছে।
৪। আইনি সুরক্ষা (পেটেন্ট/ট্রেডমার্ক) সমস্যা কাটিয়ে ওঠা
আইনি সুরক্ষার অভাব নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা এমন কোনো পণ্য তৈরি করে যা বড় ব্র্যান্ডের অনুরূপ। তাই বাজারে প্রবেশের আগে নিজের পণ্যে মৌলিকত্ব আনা জরুরি। প্রোডাক্ট ডিজাইন, নামকরণ, প্যাকেজিং ও মার্কেটিং ম্যাসেজে যদি ভিন্নতা থাকে, তাহলে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়। তাছাড়া ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন এখন অনলাইনেই করা যায় এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিষ্ঠান শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই নাম, লোগো, স্লোগান এবং অনন্য প্যাকেজিং ডিজাইন ট্রেডমার্ক করে রাখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ সেটা ব্যবহার না করতে পারে। আইনি সুরক্ষা কেবল সমস্যা এড়ানোর জন্য নয়, এটি নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু গড়ে তুলতেও কার্যকর।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ড "Sailor by Epyllion" শুরু থেকেই তাদের ব্র্যান্ড নাম, লোগো এবং ডিজাইন ট্রেডমার্ক করে নেয়। পরবর্তীতে কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠান "Sailor" নাম ব্যবহার করতে গেলে, তারা আইনি নোটিশ পাঠিয়ে সেটি বন্ধ করতে সক্ষম হয়। আইনি সুরক্ষার কারণেই তারা তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও পরিচিতি অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছে।
৫। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন
বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশে প্রযুক্তি একটি বড় ফ্যাক্টর হলেও, উচ্চ প্রযুক্তির দক্ষতা না থাকলেই যে ব্যবসা শুরু করা যাবে না, তা কিন্তু নয়। অনেক সহজলভ্য ও বিনামূল্যের প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে একজন নতুন উদ্যোক্তা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। যেমন: Google Workspace, Canva, Shopify, Zoho, কিংবা ক্লাউড-ভিত্তিক POS সফটওয়্যার।
বাংলাদেশে CodersTrust, 10 Minute School, Upskill, Shikhbe Shobai–এর মতো প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় স্কিল শেখা সম্ভব। একজন উদ্যোক্তা চাইলে অভিজ্ঞ কো-ফাউন্ডার নিতে পারেন অথবা পরামর্শক নিয়োগ করে ব্যবসার প্রযুক্তি অংশটি পরিচালনা করতে পারেন।
“শিখো ডটকম” নিজস্ব বড় টেক টিম ছাড়াই শুরুতে ইউটিউব ভিডিও, Google Forms ও Zoom ক্লাসের মাধ্যমে অনলাইন কোর্স চালু করে। সময়ের সাথে তারা লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS) তৈরি করে এখন দেশের অন্যতম লার্নিং প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
৬। উচ্চ বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা
প্রাথমিক পর্যায়ে পুঁজি সংকট নতুন উদ্যোক্তাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ সংগ্রহ করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। আপনি পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, যেখানে পুঁজি এবং কাজ ভাগাভাগি করে নেয়া হয়। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল বা প্রি-অর্ডার মডেল থেকেও প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ সম্ভব।
বিনিয়োগের জন্য এখন বাংলাদেশে রয়েছে Biniyog.io এবং FundSME-এর মতো ইসলামিক ও রেগুলার ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি, Startup Bangladesh Limited, SME Foundation, এবং ICT Division নতুন উদ্যোক্তাদের অনুদান, ভর্তুকি এবং সহজশর্তে ঋণ দিয়ে থাকে।
“Pathao” শুরুতে কিছু তরুণ উদ্যোক্তার ক্ষুদ্র পুঁজি ও প্রযুক্তি দক্ষতা দিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা বিনিয়োগ সংগ্রহ করে রাইডশেয়ার, ফুড ডেলিভারি ও ই-কমার্সে বিস্তৃতি ঘটায়। একাধিক রাউন্ডে লোকাল ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে তারা বাংলাদেশের অন্যতম সফল স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে।
৭। লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রক বাধা অতিক্রম করা
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি লাইসেন্স ও অনুমোদনের জটিলতা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে খাদ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল, টেলিকম বা নির্মাণ খাতে প্রবেশ করতে হলে বহু ধাপে অনুমোদন নিতে হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক কিছুই ডিজিটাল হয়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়াগুলো আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হয়েছে।
উদ্যোক্তারা চাইলে BIDA (Bangladesh Investment Development Authority), SME Foundation, বা Startup Bangladesh-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে গাইডলাইন ও সহায়তা নিতে পারেন। আর সরকারি ওয়েবসাইটে অনলাইনেই ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বা পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন করা যায়। প্রয়োজনে একজন পেশাদার কনসালটেন্ট বা আইন পরামর্শক নিয়োগ করেও এই জটিলতা অনেক সহজ করা যায়।
“Sajida Foundation”-এর একটি স্বাস্থ্যভিত্তিক সোশ্যাল বিজনেস ‘Psychological Health & Wellness Clinic (PHWC)’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও মান নিয়ন্ত্রণে সফলভাবে পাস করে। তারা লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে অগ্রসর করে সফলভাবে একটি স্কেলেবল মানসিক স্বাস্থ্য সেবা চালু করেছে, যা বাংলাদেশে একধরনের নতুন উদ্যোগ ছিল।
৮। গুণগত সনদ ও মান নিয়ন্ত্রণে উত্তরণ
বেশ কিছু খাতে প্রবেশ করতে হলে সরকারী বা আন্তর্জাতিক গুণগত মানের সনদ যেমন BSTI, HACCP বা ISO অর্জন করতে হয়। নতুন ব্যবসার জন্য এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়। শুরুতেই পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়ার মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিলে পরবর্তী ধাপে এসব সনদ অর্জন সহজ হয়ে যায়।
উদ্যোক্তাদের উচিত প্রাথমিকভাবে ছোট স্কেলে পণ্য পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে ফিডব্যাক নেওয়া। এর পাশাপাশি হাইজিন, ল্যাব টেস্ট ও স্টোরেজ প্রক্রিয়ায় যত্নবান হওয়া উচিত। সময়ের সাথে এসব নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই কোয়ালিটি সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হয়।
৯। এক্সক্লুসিভ ডিলিং মোকাবেলায় বিকল্প চ্যানেল তৈরি
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করে রাখে, ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের সেই একই চ্যানেলে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নতুনদের বিকল্প ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল তৈরি করতে হবে, যেমন ই-কমার্স, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সরাসরি বিক্রয়, অথবা নিজস্ব অ্যাপ বা ওয়েবসাইট।
লোকাল ব্র্যান্ডের জন্য একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে কমার্শিয়াল হাবের বাইরে এমন এলাকাগুলো টার্গেট করা, যেখানে বড় ব্র্যান্ডের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এতে নতুন উদ্যোক্তারা দ্রুত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন এবং গ্রাহক ধরে রাখতে পারেন।
“ShopUp”-এর অধীনস্থ “REDX” কুরিয়ার সার্ভিস বহু ছোট উদ্যোক্তাকে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ফেইসবুক পেইজ থেকে পণ্য বিক্রি করে গ্রাহকের দরজায় পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। এইভাবে তারা বাজারে প্রচলিত একচেটিয়া চেইনকে বাইপাস করে বিকল্প ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল গড়ে তোলে।
১০। মূল্যে প্রতিযোগিতার চাপ এড়ানো
প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়ে নতুনদের প্রবেশ রোধ করতে চায়। এই “প্রাইস ওয়ার” এ জড়ালে নতুন উদ্যোক্তা সহজেই ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই সরাসরি মূল্যে প্রতিযোগিতা না করে উদ্যোক্তাদের উচিত 'ডিফারেনশিয়েশন' কৌশল গ্রহণ করা, অর্থাৎ পণ্যের মান, পরিষেবা বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আলাদা মূল্য তৈরি করা।
“MeenaClick” অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি সেবা Meena Bazar-এর একটি ই-কমার্স অংশ। তারা কখনও সর্বনিম্ন দামে পণ্য বিক্রি না করেও কনসিস্টেন্ট কোয়ালিটি, দ্রুত ডেলিভারি ও রিটার্ন পলিসির কারণে বিশ্বস্ত গ্রাহক বেইজ গড়ে তুলেছে। এই ‘ভ্যালু’-নির্ভর কৌশলেই তারা বাজারে স্থায়ী হয়েছে।
পরিসংহার
বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রবেশের বিভিন্ন বাধা থাকলেও সঠিক কৌশল, উদ্ভাবন ও স্থানীয় সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। ধাপে ধাপে উন্নতি, প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার এবং গ্রাহককেন্দ্রিক চিন্তা যেকোনো উদ্যাগকে বিজয়মঞ্চে পরিণত করতে পারে। কারণ, বর্তমান সময়ে বাজারে প্রবেশ শুধু সাহস নয়, বরং কৌশলগত চতুরতার ব্যাপার’ও বটে!
-









