ভূমিকা — কেন একজন ১৮শ শতকের স্কটিশ দার্শনিক আজও প্রাসঙ্গিক?
১৭৯০ সালের জুলাই মাস। Edinburgh শহরে এক বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পাশে ডাকলেন। গলার স্বর ক্ষীণ, কিন্তু কথা স্পষ্ট — তাঁর অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হবে। বন্ধুরা কাঁদলেন, অনুনয় করলেন। কিন্তু তিনি অনড়। সেদিন রাতে ১৬টি পাণ্ডুলিপি আগুনে ছাই হয়ে গেল — per Ian Simpson Ross, 'The Life of Adam Smith', Oxford University Press, 2010।
কিন্তু দুটি বই রইল। একটি: The Theory of Moral Sentiments (১৭৫৯)। অন্যটি: The Wealth of Nations (১৭৭৬)। মানুষটি চেয়েছিলেন উভয় বইকেই একসাথে পড়া হোক — কারণ একটি ছাড়া অপরটি অসম্পূর্ণ। আজ পৃথিবী শুধু দ্বিতীয়টি মনে রেখেছে। প্রথমটি প্রায় ভুলে গেছে।
এটাই হয়তো মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় intellectual cherry-picking।
Gavin Kennedy, 'Adam Smith: A Moral Philosopher and His Political Economy', Palgrave Macmillan, 2008 — এ লিখেছেন: Smith নিজে মনে করতেন The Theory of Moral Sentiments তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজ। সারাজীবনে তিনি বইটি ছয়বার সংশোধন করেছিলেন — শেষবার মৃত্যুর বছরেই, ১৭৯০ সালে।
অথচ পৃথিবী তাঁকে চেনে 'Invisible Hand'-এর জনক হিসেবে। Emma Rothschild, 'Economic Sentiments: Adam Smith, Condorcet and the Enlightenment', Harvard University Press, 2001 — এ দেখিয়েছেন: Smith-এর সমগ্র রচনায় 'invisible hand' বাক্যটি মোট মাত্র তিনবার এসেছে। তিনবার। তবুও সেটাই তাঁর পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
'The narrow reading of Smith is a serious distortion of his thought.' — Amartya Sen
অমর্ত্য সেন — অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী — বারবার সতর্ক করেছেন এই বিকৃতি নিয়ে। Smith-কে শুধু 'মুক্ত বাজারের প্রচারক' বলে সংকুচিত করলে তাঁর আসল দর্শন হারিয়ে যায়। সেই দর্শনের কেন্দ্রে ছিলেন একজন মানুষ — Impartial Spectator। আমাদের ভেতরে বাসকারী এক নিরপেক্ষ বিচারক, যিনি আমাদের কাজের ন্যায্যতা পরিমাপ করেন।
Smith শুধু বাজারের কথা বলেননি। তিনি বলেছিলেন: বাজার তখনই কাজ করে যখন মানুষের ভেতরে নৈতিকতা জীবন্ত থাকে। সেই নৈতিকতার রক্ষক হলো Impartial Spectator — এক কাল্পনিক, জ্ঞানী, নিরপেক্ষ দর্শক যাকে আমরা কাজ করার আগে মনে মনে জিজ্ঞেস করি: 'এই কাজটা কি ঠিক?'
এটা ছিল তাঁর প্রথম বই-এর কেন্দ্রীয় ধারণা। এটা ছিল তাঁর জীবনের কাজ। কিন্তু আমরা সেটা ভুলে গেছি। কারণ 'Invisible Hand' বেশি সুবিধাজনক স্লোগান — যারা নিয়ন্ত্রণহীন বাজার চান, তাদের জন্য।
কিন্তু এই মানুষটি আসলে কে ছিলেন? তাঁর জীবনের গল্পটা কী? একটা ছোট স্কটিশ বন্দর শহর থেকে কীভাবে একজন মানুষ পুরো অর্থনৈতিক সভ্যতার ভিত্তি তৈরি করলেন — এবং কেন তাঁকে আমরা ভুলভাবে মনে রেখেছি? সেই গল্পটাই এই লেখা।
অধ্যায় ১ — জীবনী: Adam Smith কে ছিলেন
জন্ম ও শৈশব (১৭২৩)
স্কটল্যান্ডের Firth of Forth উপকূলে একটি ছোট্ট বন্দর শহর — Kirkcaldy। ১৭২৩ সালের জুনে এখানে জন্মালেন Adam Smith। বাবার নামও Adam Smith — একজন কাস্টমস অফিসার। কিন্তু শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই বাবা মারা গেলেন। মা Margaret Douglas একাই সামলালেন সব। তাঁর মা ছিলেন Smith-এর জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।
চার বছর বয়সে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। John Rae, 'Life of Adam Smith', Macmillan, 1895 — এ বর্ণিত: ভবঘুরেরা শিশু Adam-কে তুলে নিয়ে যায়। চাচা ছুটলেন পেছনে, এবং শেষমেশ তাকে ফিরিয়ে আনলেন। পরবর্তী জীবনীকাররা রসিকতা করেছেন — সেদিন যদি উদ্ধার না হতো, পৃথিবী হয়তো আধুনিক অর্থনীতিই পেত না।
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অন্যরকম। নিজের মনে কথা বলতেন। চিন্তায় ডুবে থাকতেন। বাইরের জগতের চেয়ে ভেতরের প্রশ্নগুলোতেই বেশি আগ্রহ ছিল। এই শান্ত, অন্তর্মুখী শিশুটি একদিন পুরো পৃথিবীর অর্থনৈতিক চিন্তার ভিত্তি বদলে দেবেন।
শিক্ষা
মাত্র ১৪ বছর বয়সে Smith ভর্তি হলেন University of Glasgow-তে — সে যুগে এটা অস্বাভাবিক ছিল না। সেখানে তাঁর জীবন পাল্টে দিলেন অধ্যাপক Francis Hutcheson। Hutcheson পড়াতেন নৈতিক দর্শন — মানুষের ভেতরে 'moral sense' কীভাবে কাজ করে, মানবকল্যাণ কেন স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। এই বীজ Smith-এর মনে গভীরে পোঁতা হয়ে গেল।
তারপর Balliol College, Oxford (১৭৪০-৪৬)। ইংল্যান্ডের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় — কিন্তু Smith এখানে ঘোরতর হতাশ হলেন। Gavin Kennedy, 2008 — এ বর্ণিত: Smith দেখলেন Oxford-এর অধ্যাপকরা বছরের পর বছর একই বক্তৃতা পড়েন, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেন না, নিজেরাও নতুন কিছু ভাবেন না। পরে Wealth of Nations-এ তিনি সরাসরি লিখলেন: Oxford-এর অধ্যাপকরা 'শিক্ষাদানের ভান পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছেন।'
Smith মূলত Oxford-এর লাইব্রেরিতে নিজে নিজে পড়ে শিক্ষিত হলেন। এই অভিজ্ঞতাই তাঁর মনে প্রশ্ন তুলেছিল: কেন অধ্যাপকরা ভালো পড়ান? যখন তাঁদের বেতন শিক্ষার্থীর সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে না, তখন তাঁরা পরিশ্রম করেন না। এটা পরে তাঁর economic incentive তত্ত্বের মূল হয়ে উঠল।
কর্মজীবন
Oxford ছেড়ে ফিরলেন স্কটল্যান্ডে। Edinburgh-এ পাবলিক লেকচার দিতে শুরু করলেন — সাফল্য আসল দ্রুত। ১৭৫১ সালে University of Glasgow-তে নিযুক্ত হলেন Moral Philosophy-র অধ্যাপক হিসেবে। লক্ষ করুন — Economics-এর নয়, Moral Philosophy-র। কারণ তখন 'অর্থনীতি' আলাদা বিষয় ছিলই না। Smith ছিলেন নৈতিকতার অধ্যাপক যিনি অর্থনৈতিক প্রশ্নও ভাবতেন।
১৭৫৯ সালে প্রকাশিত হলো The Theory of Moral Sentiments। ইউরোপে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ল। Voltaire তাঁর প্রশংসা করলেন — বললেন, এই বই লেখার জন্যই Smith-এর পৃথিবীতে আসা সার্থক। পরবর্তী বড় সুযোগ এলো ১৭৬৪ সালে। তরুণ Duke of Buccleuch-এর ব্যক্তিগত শিক্ষক হিসেবে ফ্রান্স গেলেন।
ফ্রান্সে তিনি দেখা পেলেন Voltaire, François Quesnay ও Turgot-এর — Ian Simpson Ross, 2010 অনুযায়ী। Quesnay ছিলেন Physiocrats-এর নেতা, যাঁরা বিশ্বাস করতেন অর্থনীতির আসল শক্তি কৃষিতে। Turgot ছিলেন মুক্ত বাণিজ্যের প্রবক্তা। এই মানুষগুলো Smith-এর চিন্তাকে আরও গভীর করলেন। ফ্রান্স থেকে ফিরে তিনি শুরু করলেন তাঁর দ্বিতীয় বইয়ের কাজ।
১৭৬৬ থেকে ১৭৭৬ — দশ বছর। Kirkcaldy-তে মায়ের সাথে। বাইরের জগৎ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। লিখলেন The Wealth of Nations। আর সেই বই প্রকাশিত হলো ৯ মার্চ ১৭৭৬ — ঠিক যে বছর America স্বাধীনতা ঘোষণা করল।
ব্যক্তিত্ব
Adam Smith কখনো বিয়ে করেননি। জীবনের অধিকাংশ সময় মায়ের সাথে বাস করলেন। গভীরভাবে মাকে ভালোবাসতেন। মা মারা গেলেন ১৭৮৪ সালে — Smith-এর মৃত্যুর মাত্র ছয় বছর আগে। বলা হয়, মায়ের মৃত্যুর পর তিনি আর কখনো সম্পূর্ণ সুখী হননি।
তাঁর absent-mindedness ছিল কিংবদন্তি। একবার গভীর চিন্তায় ডুবে একটি ট্যানারির গর্তে পড়ে গেলেন। আরেকবার সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে ১৫ মাইল হেঁটে গেলেন — গন্তব্য নেই, শুধু ভাবছেন। পথচারীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত: এই অদ্ভুত মানুষটি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে নিজের সাথে কথা বলছেন।
এই শান্ত, অন্তর্মুখী দার্শনিকই ছিলেন সেই মানুষ যাঁকে পরে 'capitalism-এর জনক' বলা হবে। কিন্তু তিনি আক্রমণাত্মক ছিলেন না — ছিলেন অনুসন্ধিৎসু। বলপ্রয়োগে বিশ্বাসী ছিলেন না — বিশ্বাসী ছিলেন যুক্তি ও সহানুভূতিতে। ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ ছিলেন একজন নৈতিক দার্শনিক।
কিন্তু এই শান্ত মানুষটি কীভাবে দুটো বই লিখে পৃথিবী বদলালেন? শুরু হোক প্রথম বই থেকে — যেটা পৃথিবী প্রায় ভুলেই গেছে।
| সাল | বয়স | ঘটনা | গুরুত্ব |
| ১৭২৩ | জন্ম | Kirkcaldy, Scotland-এ জন্ম। বাবার মৃত্যু পুত্রের জন্মের আগেই। | মায়ের কাছে লালন-পালন — একাকী, চিন্তাশীল শৈশব |
| ১৭২৭ (আনু.) | ৪ | ভবঘুরেদের অপহরণ — চাচার দ্বারা উদ্ধার (per Rae 1895) | প্রথম 'নাটকীয়' জীবনঘটনা |
| ১৭৩৭ | ১৪ | University of Glasgow-তে ভর্তি। Francis Hutcheson-এর শিষ্য। | নৈতিক দর্শনের প্রতি আজীবনের আগ্রহ জন্মায় |
| ১৭৪০ | ১৭ | Balliol College, Oxford-এ যান। | Oxford ঘৃণা করলেন — লাইব্রেরিতে নিজে পড়লেন |
| ১৭৫১ | ২৮ | University of Glasgow-তে Moral Philosophy-র অধ্যাপক। | 'অর্থনীতিবিদ' নন — নৈতিক দার্শনিক হিসেবে পরিচিত |
| ১৭৫৯ | ৩৬ | The Theory of Moral Sentiments প্রকাশিত। | তাঁর নিজের প্রিয় বই — ৬ বার সংশোধিত (per Kennedy 2008) |
| ১৭৬৪ | ৪১ | Duke of Buccleuch-এর শিক্ষক হিসেবে ফ্রান্স যান। | Voltaire, Quesnay, Turgot-এর সাথে দেখা (per Ross 2010) |
| ১৭৭৬ | ৫৩ | The Wealth of Nations প্রকাশিত (৯ মার্চ)। | আধুনিক অর্থনীতির জন্ম — একই বছর American independence |
| ১৭৭৮ | ৫৫ | Commissioner of Customs in Scotland নিযুক্ত। | মুক্ত বাণিজ্যের প্রবক্তা কাস্টমস দপ্তরে — ইতিহাসের বিচিত্রতম ঘটনা |
| ১৭৯০ | ৬৭ | ১৭ জুলাই মৃত্যু। মৃত্যুর আগে ১৬টি পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে দেন। | দুটি বই রেখে গেলেন — যা দুই শতাব্দী ধরে পৃথিবী প্রভাবিত করছে |
দ্রষ্টব্য: সালগুলো প্রকাশিত জীবনী থেকে নেওয়া। কিছু তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে সামান্য মতভেদ বিদ্যমান।
অধ্যায় ২ — The Theory of Moral Sentiments (১৭৫৯): প্রথম মাস্টারপিস
বইটি কী নিয়ে
১৭৫৯ সাল। Wealth of Nations প্রকাশের পুরো ১৭ বছর আগে। Adam Smith লিখলেন তাঁর প্রথম বড় বই — The Theory of Moral Sentiments। অর্থনীতি নিয়ে নয়। বাজার নিয়ে নয়। এই বই ছিল মানুষের নৈতিক মনোবিজ্ঞান নিয়ে। মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বিচার করে? নৈতিক সিদ্ধান্ত কোথা থেকে আসে?
বইয়ের প্রথম বাক্যটাই লক্ষ্য করুন:
'How selfish soever man may be supposed, there are evidently some principles in his nature which interest him in the fortune of others.' — Adam Smith, The Theory of Moral Sentiments (1759)
অনুবাদ: মানুষ যতই স্বার্থপর হোক না কেন, তার প্রকৃতিতে এমন কিছু আছে যা তাকে অন্যের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন করে। প্রথম বাক্যই সহানুভূতি নিয়ে। স্বার্থপরতা নিয়ে নয়। যিনি পরে 'capitalism-এর জনক' হবেন, তাঁর প্রথম বইয়ের প্রথম কথা ছিল empathy নিয়ে।
TMS-এর মূল প্রশ্ন হলো: সমাজ একসাথে থাকে কীভাবে? কেন মানুষ পরস্পরকে শোষণ না করে সহযোগিতা করে? Smith-এর উত্তর — sympathy এবং Impartial Spectator-এর মাধ্যমে। আমরা অন্যের অনুভূতির সাথে নিজেকে মিলিয়ে দেখি। এবং আমাদের ভেতরে একজন কাল্পনিক নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক বসবাস করেন, যিনি আমাদের প্রতিটি কাজ বিচার করেন।
মূল ধারণা: Impartial Spectator
D.D. Raphael, 'The Impartial Spectator: Adam Smith's Moral Philosophy', Oxford University Press, 2007 — লিখেছেন: Impartial Spectator হলো সেই ধারণা যা পুরো TMS-কে একত্রে ধরে রাখে। বইটিতে এই ধারণা শত শতবার উল্লেখিত। তুলনায় — 'Invisible Hand' সমগ্র রচনায় তিনবার (per Rothschild 2001)।
Impartial Spectator কী? এটি একজন কাল্পনিক, জ্ঞানী, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক — আমাদের মনের ভেতরে। কোনো কাজ করার আগে আমরা অজান্তেই জিজ্ঞেস করি: একজন ন্যায়বান, বিচক্ষণ মানুষ কি আমার এই কাজকে সমর্থন করবেন? এই প্রশ্নটাই আমাদের স্বার্থপর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।
এটা শুধু বাইরের শাস্তির ভয়ে নয়। আমরা নৈতিক কাজ করি কারণ আমরা এই ভেতরের দর্শকের অনুমোদন চাই। Ryan Patrick Hanley, 'Adam Smith and the Character of Virtue', Cambridge University Press, 2009 — এ বলেছেন: 'Smith-এর পুরো দার্শনিক প্রকল্প নৈতিক সহানুভূতির উপর নির্মিত।'
এই Impartial Spectator-এর ধারণাটি আধুনিক মনোবিজ্ঞানের 'superego'-র সাথে তুলনীয়। Smith এটা লিখলেন Freud-এর ১৫০ বছর আগে। এবং এটাই ছিল তাঁর কেন্দ্রীয় ধারণা — 'Invisible Hand' নয়।
কিন্তু পৃথিবী Impartial Spectator মনে রাখেনি। মনে রেখেছে Invisible Hand। কারণ Invisible Hand বলা সহজ — 'বাজারকে ছেড়ে দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।' Impartial Spectator বলা কঠিন — কারণ সেটা বলে: 'প্রথমে নৈতিক হও, তারপর বাজারের কথা ভাবো।'
কেন গুরুত্বপূর্ণ
Smith TMS লিখেছিলেন ১৭৫৯ সালে। তারপর সংশোধন করেছেন ১৭৬১, ১৭৬৭, ১৭৭৪, ১৭৮১, ১৭৮৯ এবং সর্বশেষ ১৭৯০ সালে — মৃত্যুর বছরে। Gavin Kennedy, 2008 — এ এই তথ্য বিস্তারিত বর্ণিত। মানুষটি ৩১ বছর ধরে বারবার ফিরে এসেছেন এই বইতে। এটাই প্রমাণ করে TMS ছিল তাঁর জীবনের কাজ, Wealth of Nations নয়।
Jesse Norman, 'Adam Smith: What He Thought and Why It Matters', Allen Lane, 2018 — এ লিখেছেন:
'For Smith, markets only work within a moral framework. Remove morality and markets become predatory.'
অর্থাৎ: Smith-এর কাছে বাজার এবং নৈতিকতা আলাদা জিনিস নয়। TMS ছাড়া Wealth of Nations বোঝা যায় না। যারা শুধু WN পড়েছেন — তাঁরা অর্ধেক Smith পড়েছেন। এবং সেই অর্ধেক পড়েই গড়ে উঠেছে আধুনিক 'free market fundamentalism' — যা Smith নিজে সমর্থন করতেন না।
কিন্তু ইতিহাস TMS-কে পাশে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় বই — Wealth of Nations — হয়ে উঠেছে পুঁজিবাদের 'বাইবেল'। আর প্রথম বইয়ের Impartial Spectator হারিয়ে গেছেন ইতিহাসের অন্ধকারে।
অধ্যায় ৩ — Wealth of Nations (১৭৭৬): যে বই পৃথিবী বদলে দিয়েছিল
প্রেক্ষাপট
দশ বছরের নীরবতা। ১৭৬৬ থেকে ১৭৭৬ — Kirkcaldy-তে বসে Smith লিখে চললেন। বাইরে তখন পৃথিবী উথালপাতাল। আমেরিকায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পাকছে। ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের প্রথম ঢেউ। এই টালমাটাল সময়ে প্রকাশিত হলো The Wealth of Nations — ৯ মার্চ ১৭৭৬। আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র চার মাস আগে।
সেই সময়ে ব্রিটেনে প্রচলিত ছিল Mercantilism — বিশ্বাস ছিল, সোনা-রুপো জমালেই দেশ ধনী হয়, সরকার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে সম্পদ বাড়ায়, উপনিবেশ থেকে শোষণ করাই নীতি। Smith এই পুরো ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করলেন একটি মৌলিক প্রশ্ন দিয়ে: দেশের প্রকৃত সম্পদ কী?
Smith-এর উত্তর ছিল বিপ্লবী: সোনা নয় — শ্রম। একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ হলো তার মানুষের উৎপাদন ক্ষমতা এবং জীবনমান। এই ধারণাটিই WN-এর ভিত্তি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: Smith WN লিখেছিলেন TMS-এর সঙ্গী হিসেবে — তার প্রতিস্থাপন হিসেবে নয়। তাঁর মনে বাজার সবসময়ই নৈতিকতার ভেতরে কাজ করে। Markets WITH morality — markets WITHOUT morality নয়।
বইটির গঠন
Wealth of Nations পাঁচটি বইয়ে বিভক্ত, প্রায় ১,০০০ পৃষ্ঠা — দশ বছরের গবেষণার ফল। এবার লক্ষ করুন — Invisible Hand কোথায় আছে:
Book I: শ্রমবিভাগ ও মূল্যের উৎস। শ্রম কীভাবে সম্পদ তৈরি করে। এখানে পিন ফ্যাক্টরির বিখ্যাত উদাহরণ।
Book II: পুঁজি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ। বিভিন্ন ধরনের পুঁজির ব্যবহার।
Book III: বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস।
Book IV: Mercantilism-এর বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ সমালোচনা। এখানে — Chapter 2-তে — মাত্র একটি বাক্যে Invisible Hand উল্লেখ। একটি বাক্য। এক হাজার পৃষ্ঠার বইতে।
Book V: রাষ্ট্রের রাজস্ব, করব্যবস্থা ও সরকারের বৈধ ভূমিকা।
Invisible Hand একটি ছোট metaphor — Book IV-এর একটি অধ্যায়ে একটি বাক্যে। কিন্তু পরবর্তী অর্থনীতিবিদরা এই একটি বাক্যকে পুরো বইয়ের 'মূল বার্তা' বানিয়ে দিলেন। Smith নিজে যদি জানতেন, হয়তো অবাক হতেন।
বইটির প্রভাব
প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী William Pitt (the Younger) Smith-এর সাথে দেখা করে বললেন:
'We are all your scholars, Dr. Smith.' — William Pitt (the Younger)
আমেরিকার Founding Fathers পড়লেন। Thomas Jefferson-এর লাইব্রেরিতে বইটি ছিল। ব্রিটিশ বাণিজ্যনীতি পরিবর্তিত হলো। উনিশ শতকে ইউরোপে Free Trade আন্দোলন জন্ম নিল। Karl Marx পড়লেন — এবং Smith-এর Labor Theory of Value-কে ভিত্তি করে পুরো Marxism গড়লেন।
কিন্তু এই প্রভাব একটি বড় irony তৈরি করল। WN একা পড়া হলো, TMS ছাড়া। Smith যে দুটি বইকে একসাথে পড়াতে চেয়েছিলেন — সেই দুটোর একটি ভুলে গেল পৃথিবী। Impartial Spectator হারিয়ে গেলেন, Invisible Hand রয়ে গেল — এবং তিনটি মাত্র উল্লেখ থেকে তৈরি হলো একটি মতাদর্শ।
এটাই হলো WN-এর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি: যে বই TMS-এর সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল, সেটাই হয়ে উঠল TMS-এর প্রতিস্থাপন।
অধ্যায় ৪ — Adam Smith-এর মূল অর্থনৈতিক ধারণাসমূহ
১. Invisible Hand (অদৃশ্য হাত)
শুরু করা যাক সত্যটা দিয়ে: Emma Rothschild, Harvard University Press, 2001 — এ নথিভুক্ত: Smith-এর সমগ্র রচনায় 'invisible hand' বাক্যটি এসেছে মাত্র তিনবার। TMS-এ একবার। WN-এ একবার। Essays on Philosophical Subjects-এ একবার।
WN-এ যেখানে এটা এসেছে — Book IV, Chapter 2 — সেখানে Smith বলছেন: একজন ব্যবসায়ী যখন নিজের দেশে বিনিয়োগ করেন (বিদেশে না করে), তখন তিনি নিজের স্বার্থ দেখেন। কিন্তু এতে দেশের উৎপাদন বাড়ে। এটা ছিল একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের বর্ণনা — কোনো গ্র্যান্ড তত্ত্ব নয়।
তিনি বলেননি: 'বাজার সবকিছু সমাধান করে।' বলেননি: 'সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।' বলেননি: 'লোভ ভালো জিনিস।' এটা ছিল একটি literary metaphor — একটি পরিস্থিতির বর্ণনা। পরবর্তী অর্থনীতিবিদরা এটাকে একটি সার্বজনীন নীতিতে পরিণত করেছেন।
WN-এর আসল কেন্দ্রীয় ধারণা হলো Division of Labor ও মুক্ত বাণিজ্য। Invisible Hand একটি footnote-এর মতো উল্লেখ — যেটা ইতিহাস করে দিয়েছে headline।
২. Division of Labor (শ্রমবিভাগ)
এটাই WN-এর প্রকৃত কেন্দ্রীয় ধারণা। Smith Wealth of Nations-এর প্রথম অধ্যায়েই পিন ফ্যাক্টরির বিখ্যাত উদাহরণ দিলেন:
একজন অদক্ষ শ্রমিক পিন তৈরির পুরো প্রক্রিয়া একা করলে: দিনে সর্বোচ্চ ১টি পিন।
১০ জন বিশেষায়িত শ্রমিক ১৮টি কাজে ভাগ করে: দিনে ৪৮,০০০ পিন।
এই উদাহরণ দিয়ে Smith দেখালেন: বিশেষায়ন মানুষের উৎপাদনশীলতা হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয়। শ্রমিক যখন একটিই কাজ বারবার করে, তখন সে দক্ষ হয়, সময় বাঁচে, নতুন যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন হয়। এই ধারণাই Henry Ford-এর assembly line, আধুনিক global supply chain এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্ম দিয়েছে।
কিন্তু Smith কি শুধু উৎসাহ দিয়েছিলেন? না। তিনি সতর্কও করেছিলেন। Division of Labor শ্রমিককে 'একটি সরু কাজের যন্ত্র' বানিয়ে ফেলতে পারে — তার মানবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সেজন্যই তিনি দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য পাবলিক শিক্ষার দাবি করেছিলেন।
৩. Free Market ও Free Trade
Smith বিশ্বাস করতেন মুক্ত বাজারে দাম নিজেই ভারসাম্যে আসে। কেউ যদি অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে চায়, প্রতিযোগী সস্তায় বেচবে — ক্রেতা সেখানে যাবে। দাম বেশি হলে উৎপাদন বাড়ে, দাম কমে। দাম কম হলে উৎপাদন কমে, দাম বাড়ে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকারী ছাড়াই এই ভারসাম্য তৈরি হয়।
Mercantilism-এর বিরুদ্ধে তাঁর যুক্তি ছিল: বাণিজ্য zero-sum game নয়। দুটি দেশ যদি বাণিজ্য করে, উভয়ই লাভবান হতে পারে। এটা পরে David Ricardo 'Comparative Advantage' তত্ত্বে পরিণত করলেন।
তবে Smith অন্ধভাবে free market-এর পক্ষে ছিলেন না। তিনি সমর্থন করতেন নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ। East India Company-র মতো একচেটিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র সমালোচক ছিলেন — কারণ একচেটিয়া ব্যবসা মুক্ত বাজারকেই ধ্বংস করে।
৪. Self-Interest ও Competition
Self-interest (নিজের স্বার্থ) = Greed (লোভ) নয়। এটা Smith সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি।
Smith বলেছিলেন: কসাই, মদ-প্রস্তুতকারী ও বেকার — তারা সবাই নিজের স্বার্থে কাজ করে। কিন্তু এই স্বার্থ-প্রণোদনাই তাদের ভালো পণ্য তৈরিতে বাধ্য করে — কারণ না করলে প্রতিযোগী এগিয়ে যাবে। Competition-ই self-interest-কে সমাজের জন্য উপকারী করে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে: TMS-এ Smith বলেছিলেন Impartial Spectator আমাদের self-interest-কে নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু self-interest থাকলেই হবে না — সেটাকে নৈতিক কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে। TMS ছাড়া WN পড়লে এই সূক্ষ্ম পার্থক্য হারিয়ে যায়।
৫. Labor Theory of Value
Smith প্রস্তাব করলেন: একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তা উৎপাদনে কতটুকু শ্রম লেগেছে তার দ্বারা। এটাই Labor Theory of Value।
এই তত্ত্ব পরে David Ricardo এবং Karl Marx আরও বিস্তৃত করেন। Marx পুরো তাঁর শোষণ তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে গড়েছিলেন — শ্রমিক যদি যথেষ্ট মূল্যের পণ্য তৈরি করে কিন্তু মালিক সেই পুরো মূল্য পায়, তাহলে শ্রমিককে শোষণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে Marginal Utility theory — Jevons, Menger, Walras — এটাকে প্রতিস্থাপন করে।
৬. Role of Government (সীমিত সরকার)
Smith anarchist ছিলেন না। তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সমর্থন করেছিলেন — WN Book V-এ বিস্তারিত:
জাতীয় প্রতিরক্ষা: বাজার সেনাবাহিনী তৈরি করে না।
বিচার ব্যবস্থা: চুক্তি রক্ষা ও সম্পত্তি অধিকার নিশ্চিত করতে।
পাবলিক অবকাঠামো: রাস্তা, সেতু, বন্দর — যা বাজার লাভজনকভাবে সরবরাহ করতে পারে না।
শিক্ষা: বিশেষত দরিদ্রদের জন্য — Division of Labor-এর ক্ষতি পুষিয়ে দিতে।
একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ: East India Company-র মতো প্রতিষ্ঠান মুক্ত বাজার ধ্বংস করে।
তিনি চাননি অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ — কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন নৈতিক, দায়িত্বশীল সরকার। Impartial Spectator-এর মতোই — যে বাজারকে পর্যবেক্ষণ করে, নিয়ন্ত্রণ করে যেখানে দরকার।
৭. Taxation Principles
Smith করনীতির চারটি মূলনীতি দিয়েছিলেন — যা আজও পৃথিবীর কর সংস্কারের মানদণ্ড:
১. Proportionality (সামর্থ্য অনুযায়ী): সবাই নিজের আয় অনুযায়ী কর দেবে — ধনী বেশি, গরিব কম।
২. Certainty (নিশ্চিততা): কর আইন স্পষ্ট ও পূর্বানুমানযোগ্য হতে হবে — অস্পষ্টতা দুর্নীতি ডেকে আনে।
৩. Convenience (সুবিধাজনকতা): কর দেওয়া সহজ হতে হবে — সঠিক সময়ে, সহজ পদ্ধতিতে।
৪. Economy (সাশ্রয়িতা): কর সংগ্রহের প্রশাসনিক খরচ ন্যূনতম হতে হবে।
এই চারটি নীতি আজও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করতে বসলে দেখা যাবে — Smith-এর নীতি মানা হলে কর ব্যবস্থা কতটা উন্নত হতে পারত।
| ধারণা | কোথায় উল্লেখ | কতবার উল্লেখ | Smith আসলে কী বুঝিয়েছেন | পরবর্তীরা কী ভেবেছেন |
| Invisible Hand | TMS, WN, Essays | ৩ বার (per Rothschild 2001) | একটি literary metaphor — ব্যক্তির স্বার্থ কখনো কখনো সমাজের উপকার করে | বাজার সবসময় নিখুঁত, কোনো নিয়ন্ত্রণ দরকার নেই |
| Impartial Spectator | TMS — সমগ্র বই জুড়ে | শত শতবার (per Raphael 2007) | আমাদের ভেতরে নৈতিক বিচারক — নৈতিকতার ভিত্তি | প্রায় ভুলে গেছে পৃথিবী |
| Division of Labor | WN Book I — প্রথম অধ্যায় | বিস্তারিত আলোচনা | বিশেষায়ন উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, তবে শিক্ষা দরকার | শুধু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হাতিয়ার |
| Self-Interest | WN Book I | কেন্দ্রীয় ধারণা | নৈতিক কাঠামোর মধ্যে স্বার্থ সমাজের কল্যাণ করে | Greed is Good — শোষণ বৈধ |
| Free Market | WN সমগ্র | সমগ্র বইয়ের বিষয়বস্তু | TMS-এর নৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়ানো বাজার | সরকার সরে গেলেই বাজার সব সমাধান করবে |
| Government Role | WN Book V | বিস্তারিত পাঁচটি বই | সীমিত কিন্তু অপরিহার্য ভূমিকা | Laissez-faire — সরকার সম্পূর্ণ সরে যাক |
দ্রষ্টব্য: 'কতবার উল্লেখ' পরিসংখ্যান Emma Rothschild (2001) ও D.D. Raphael (2007)-এর প্রকাশিত গবেষণা থেকে নেওয়া।
অধ্যায় ৫ — Adam Smith-এর ভুল বোঝাবুঝি: যা তিনি বলেননি
১৯৮৭ সালে 'Wall Street' সিনেমায় Gordon Gekko বললেন: 'Greed is good।' অনেক দর্শক মনে করলেন এটা Adam Smith-এরই কথা — অন্য ভাষায়। আজও অনেক business school-এ Smith-কে এভাবেই পড়ানো হয়। কিন্তু এটা Smith নন — এটা Smith-এর নাম ব্যবহার করে তৈরি একটি মিথ।
যে মানুষটির প্রথম বইয়ের প্রথম বাক্য ছিল সহানুভূতি নিয়ে — তাঁকে 'লোভের দার্শনিক' বানানো হয়েছে। এটা শুধু ভুল নয় — এটা বিপজ্জনক। কারণ এই ভুল বোঝাবুঝির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অনেক বাস্তব নীতি।
ভুল ১: 'Greed is Good' — Smith কখনো বলেননি
সমগ্র TMS পড়লে দেখা যাবে: Smith বিশ্বাস করতেন নৈতিকতা ছাড়া বাজার টেকে না। TMS-এর প্রথম বাক্যই ছিল empathy নিয়ে। Impartial Spectator — আমাদের ভেতরের নৈতিক বিচারক — ছিলেন তাঁর কেন্দ্রীয় ধারণা।
Self-interest এবং greed এক জিনিস নয়। Self-interest মানে নিজের লক্ষ্য অর্জনের যুক্তিসঙ্গত প্রচেষ্টা — যেমন একজন বেকার ভালো রুটি বানিয়ে বিক্রি করতে চায়। Greed মানে অন্যের ক্ষতি করেও নিজের লাভ বাড়ানো। Smith প্রথমটা সমর্থন করেছেন, দ্বিতীয়টার বিরুদ্ধে পুরো TMS লিখেছেন।
'How selfish soever man may be supposed, there are evidently some principles in his nature which interest him in the fortune of others.' — Adam Smith, TMS (1759)
এটা Smith-এর প্রথম বইয়ের প্রথম বাক্য। 'Greed is good'-এর সাথে মেলান — এবং বুঝুন বিকৃতিটা কতটা গভীর।
ভুল ২: 'সরকারের কোনো ভূমিকা নেই'
কিছু উদারনৈতিক অর্থনীতিবিদ Smith-কে 'anarcho-capitalist' হিসেবে উপস্থাপন করেন। এটা সম্পূর্ণ ভুল।
WN-এর Book V পুরোটা সরকারের ভূমিকা নিয়ে। Smith সরকারকে দিয়েছিলেন জাতীয় প্রতিরক্ষা, বিচার ব্যবস্থা, পাবলিক অবকাঠামো, দরিদ্রদের শিক্ষা — এবং একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব। তিনি East India Company-র মতো প্রতিষ্ঠানের কঠোর সমালোচক ছিলেন।
Smith বলতেন: সরকার যেন অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করে। কিন্তু একেবারে সরে না যায়। Impartial Spectator যেমন আমাদের স্বাধীনতা দেয় কিন্তু নৈতিক সীমা বজায় রাখে — সরকারও তেমন।
ভুল ৩: 'Invisible Hand মানে বাজার সবসময় ঠিক'
Emma Rothschild, Harvard University Press, 2001 — এ প্রমাণিত: Invisible Hand Smith-এর রচনায় মাত্র তিনবার এসেছে। একটি grand theory হিসেবে নয় — একটি literary metaphor হিসেবে। Smith নিজেই বাজার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছিলেন।
'People of the same trade seldom meet together even for merriment and diversion, but the conversation ends in a conspiracy against the public, or in some contrivance to raise prices.' — Adam Smith, Wealth of Nations
এটা কার্টেল ও price-fixing conspiracy-র বিরুদ্ধে Smith-এর সতর্কবার্তা। অর্থাৎ তিনি নিজেই জানতেন: ব্যবসায়ীরা একসাথে বসলে বাজারকে কারসাজি করে। Invisible Hand সবসময় কাজ করে না। সেজন্যই Impartial Spectator দরকার — এবং নিয়ন্ত্রক সরকার।
ভুল ৪: 'Smith ছিলেন ধনীদের পক্ষে'
Smith East India Company-র কঠোর সমালোচক ছিলেন। জমিদার শ্রেণীকে তিনি দেখতেন সন্দেহের চোখে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির পক্ষে তিনি সরাসরি কথা বলেছিলেন। এবং WN-এ লিখেছিলেন:
'No society can surely be flourishing and happy of which the far greater part of the members are poor and miserable.' — Adam Smith, Wealth of Nations, Book I, Ch. 8
অনুবাদ: যে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ গরিব ও দুর্দশাগ্রস্ত, সে সমাজ কখনো সমৃদ্ধ ও সুখী বলা যায় না। এটা কি ধনীদের পক্ষের মানুষের কথা?
Smith TMS-এ বলেছিলেন: Impartial Spectator শুধু ধনীদের অনুমোদন দেন না — তিনি ন্যায়বান। তাঁর নৈতিকতার ধারণা শ্রেণীনিরপেক্ষ ছিল।
| ভুল ধারণা | কেন ছড়িয়েছে | Smith আসলে কী বলেছেন | প্রমাণ |
| 'Greed is Good' | Invisible Hand-কে lust for profit হিসেবে ব্যাখ্যা | Self-interest ≠ greed; TMS-এ সহানুভূতিই কেন্দ্র | TMS-এর প্রথম বাক্য (1759) |
| 'No Government' | Free Market = Laissez-faire সমীকরণ | WN Book V-এ সরকারের পাঁচটি বৈধ ভূমিকা বর্ণিত | WN Book V (1776) |
| 'Invisible Hand = Perfect Market' | তিনটি উল্লেখকে grand theory বানানো | Rothschild 2001: মাত্র ৩ বার উল্লেখ, literary metaphor | Rothschild, Harvard UP 2001 |
| 'Pro-Rich' | Capitalism-এর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন | শ্রমিকের মজুরি, East India Company-র সমালোচনা | WN Book I, Ch. 8 |
| 'Against Morality' | WN-কে TMS ছাড়া পড়া | TMS ছিল তাঁর প্রিয় বই, ৬ বার সংশোধিত | Kennedy 2008; Ross 2010 |
দ্রষ্টব্য: এই সারণি প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি।
Smith-এর সত্যিকারের উত্তরাধিকার কে বহন করছেন? কারা তাঁকে সঠিকভাবে বুঝেছেন, কারা ভুলভাবে — সেই গল্পটা আসছে পরের অধ্যায়ে।
অধ্যায় ৬ — Adam Smith-এর প্রভাব: কারা তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত
১৭৯০ সালে যখন Adam Smith মারা গেলেন, তখন Wealth of Nations-এর পাঁচটি সংস্করণ বিক্রি হয়ে গেছে। কিন্তু Smith নিজে হয়তো ভাবেননি যে এক শতাব্দী পরে তাঁর লেখা নিয়ে পুঁজিবাদী এবং সমাজতন্ত্রীরা একসাথে লড়াই করবে। ইতিহাসের এই মজার মোড়টা বোঝা দরকার।
Smith-এর মৃত্যুর পর তাঁর চিন্তা এক অদ্ভুত যাত্রায় বের হলো। ভিন্ন ভিন্ন মানুষ তাঁর কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন জিনিস নিলেন। কেউ নিলেন শ্রমতত্ত্ব, কেউ নিলেন বাজারের স্বাধীনতা, কেউ নিলেন সরকারের ভূমিকা। এটা যেন এক অন্ধের হাতি দেখার মতো — প্রত্যেকে নিজের ধরা অংশটুকুকেই সম্পূর্ণ মনে করলেন।
David Ricardo
David Ricardo ছিলেন Smith-এর সরাসরি উত্তরসূরি। একজন সফল স্টক ব্রোকার, যিনি অর্থনীতি পড়তে গিয়ে Smith-এর প্রেমে পড়লেন। তিনি Smith-এর labor theory of value — শ্রমই মূল্যের উৎস — এই ধারণাটিকে আরও তীক্ষ্ণ করলেন। ১৮১৭ সালে তাঁর Principles of Political Economy প্রকাশিত হলো।
Ricardo শুধু অর্থনীতিবিদই ছিলেন না — তিনি ছিলেন Parliament-এর সদস্যও। তাঁর কাছে Smith শুধু তত্ত্ব ছিল না — ছিল নীতির হাতিয়ার। corn laws বাতিলের জন্য তাঁর লড়াই ছিল Smith-এর মুক্ত বাণিজ্যের তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা।
Ricardo বললেন: পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় তা তৈরিতে কত শ্রম লেগেছে তার ভিত্তিতে। এটা Smith-ই বলেছিলেন, কিন্তু Ricardo এটাকে গাণিতিক নির্ভুলতায় নিয়ে গেলেন। তিনি আরও দেখালেন যে ভূমির মালিক এবং পুঁজিপতিরা কীভাবে উৎপাদনের ফল ভাগ করে নেন — এই বিশ্লেষণ পরবর্তী এক শতাব্দীর অর্থনৈতিক চিন্তাকে নির্মাণ করল।
Karl Marx
এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে মজার মোড়। Karl Marx — যাঁকে পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় সমালোচক মনে করা হয় — তিনি আসলে Adam Smith-এর একজন গভীর পাঠক ছিলেন। Das Kapital-এ Smith-এর উদ্ধৃতি ভরা। Marx Smith-কে সম্মান করতেন।
Marx নিলেন Smith-এর labor theory of value এবং নিয়ে গেলেন বিপ্লবের মাঠে। তাঁর যুক্তি: যদি শ্রমই সব মূল্যের উৎস, তাহলে শ্রমিকই সব পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু পুঁজিপতি মাঝখান থেকে surplus value — উদ্বৃত্ত মূল্য — চুরি করছে। Smith যে সমস্যা দেখেছিলেন, Marx সেই একই সমস্যার সমাধান খুঁজলেন ভিন্ন পথে।
John Maynard Keynes
১৯৩০-এর মহামন্দা যখন পুরো পৃথিবী ডুবিয়ে দিচ্ছে, তখন John Maynard Keynes একটি বিপজ্জনক প্রশ্ন তুললেন: বাজার কি সত্যিই নিজেকে নিজে ঠিক করতে পারে? তাঁর উত্তর ছিল: না, সবসময় না।
Keynes-কে অনেকে মনে করেন Smith-এর বিরোধী। কিন্তু এটা ভুল। Smith নিজেই Wealth of Nations-এর Book V-তে সরকারি বিনিয়োগের পক্ষে লিখেছিলেন — শিক্ষা, অবকাঠামো, জাতীয় প্রতিরক্ষায়। Keynes আসলে Smith-এর একটি উপেক্ষিত অধ্যায়কেই সামনে আনলেন।
Milton Friedman
Keynes-এর ১৯৩৬ সালের General Theory of Employment, Interest and Money পৃথিবীর অর্থনৈতিক নীতি বদলে দিল। সরকার যদি মন্দার সময় ব্যয় বাড়ায়, তাহলে অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হয় — এই সহজ ধারণা। এবং Smith-এর WN Book V-তে এই ধারণার বীজ ছিল — শুধু কেউ তা দেখেনি।
Milton Friedman হলেন সেই মানুষ যিনি Adam Smith-কে ২০শ শতাব্দীর পোশাক পরিয়েছিলেন। Chicago School of Economics-এর এই কিংবদন্তি বললেন: বাজারই সেরা, সরকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর তিনি Smith-এর invisible hand-এর ধারণাকে তাঁর মূল অস্ত্র বানালেন।
কিন্তু ইতিহাসবিদ Philip Mirowski তাঁর Cambridge University Press-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখিয়েছেন যে Friedman আসলে Smith-এর The Theory of Moral Sentiments প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষা করেছিলেন। Invisible hand নিলেন, কিন্তু Impartial Spectator ছেড়ে দিলেন। এটা যেন কোরআন থেকে শুধু ব্যবসার আয়াতগুলো নিয়ে বাকিটা বাদ দেওয়ার মতো।
আধুনিক অর্থনীতি
আজ একটি নতুন আন্দোলন তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ Amartya Sen, দার্শনিক Martha Nussbaum, এবং লেখক Jesse Norman — এঁরা বলছেন: Smith-কে সামগ্রিকভাবে পড়ো। শুধু WN নয়, TMS-ও পড়ো। এই দুটো বই একসাথে পড়লে যে Smith বেরিয়ে আসেন, তিনি অনেক বেশি জটিল এবং অনেক বেশি মানবিক।
Sen তাঁর The Idea of Justice বইতে দেখিয়েছেন যে Smith-এর Impartial Spectator আসলে আধুনিক মানবাধিকার তত্ত্বের পূর্বপুরুষ। Nussbaum বলেছেন TMS-এর সহানুভূতির তত্ত্ব আজকের কল্যাণ অর্থনীতির ভিত্তি হতে পারে। Smith-কে পুনরায় আবিষ্কার করার এই যাত্রা এখনও চলছে।
Jesse Norman-এর ২০১৮ সালের Smith জীবনী — যা একজন British MP লিখেছেন — বলছে যে Smith-কে ঠিকমতো পড়লে আজকের নীতিনির্ধারকরা অনেক ভুল এড়াতে পারতেন। ২০০৮-এর আর্থিক সংকট, ক্রমবর্ধমান অসমতা, একচেটিয়া প্রযুক্তি কোম্পানি — এই সমস্যাগুলোর সমাধান Smith-এর পূর্ণ দর্শনে আছে, শুধু WN-এর টুকরো উদ্ধৃতিতে নয়।
এই holistic পাঠের আন্দোলন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আছে, কিন্তু অনেক জায়গায় ন্যায়বিচার নেই। Smith বলতেন: প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। Impartial Spectator যদি প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন না করেন, তাহলে সেই প্রবৃদ্ধি টেকসই নয়।
তাহলে Smith-এর উত্তরাধিকার কী? সহজ উত্তর: তিনি এত বড় যে সবাই নিজের প্রয়োজনমতো তাঁকে ব্যবহার করতে পেরেছেন। একজন চিন্তাবিদের এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে?
অধ্যায় ৭ — Adam Smith বনাম Karl Marx: দুই দর্শনের তুলনা
দুটো নাম শুনলে মনে হয় এরা পরস্পরের শত্রু। Smith — পুঁজিবাদের জনক। Marx — পুঁজিবাদের ধ্বংসকারী। কিন্তু এই গল্পটা এতটা সরল নয়। একটু গভীরে গেলে দেখা যায়: এই দুজন আসলে একই সমস্যা নিয়ে কথা বলছিলেন — শুধু সমাধান ছিল আলাদা।
Smith জন্মেছিলেন ১৭২৩ সালে, Scotland-এর Kirkcaldy-তে। একটি ছোট্ট বন্দর শহর। Marx জন্মেছিলেন ১৮১৮ সালে, Prussia-র Trier-এ। উভয়ই দেখেছেন শ্রমিকদের কষ্ট। Smith দেখেছেন শিল্পবিপ্লবের ভোর, Marx দেখেছেন তার ভয়াবহ মধ্যদুপুর। প্রেক্ষাপটের এই পার্থক্যই তাঁদের সিদ্ধান্তের পার্থক্য ব্যাখ্যা করে।
আসুন একটু তুলনা করি। নিচের বিশ্লেষণ উভয়ের প্রকাশিত রচনা থেকে তৈরি করা হয়েছে:
▪ শ্রম (Labor): Smith — শ্রমই মূল্যের উৎস, কিন্তু বাজার শ্রমিককে ন্যায্য মূল্য দিতে পারে | Marx — শ্রমই একমাত্র প্রকৃত মূল্যের উৎস — এবং পুঁজিপতি সেই মূল্য চুরি করছে
▪ বাজার (Markets): Smith — প্রতিযোগিতামূলক বাজার সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করে | Marx — বাজার শ্রেণী-শোষণের হাতিয়ার, বিলুপ্ত করতে হবে
▪ সরকারের ভূমিকা: Smith — সীমিত কিন্তু প্রয়োজনীয় — শিক্ষা, অবকাঠামো, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে | Marx — বর্তমান রাষ্ট্র শ্রেণীস্বার্থের রক্ষক; সর্বহারার রাষ্ট্র চাই
▪ মানব প্রকৃতি: Smith — স্বার্থপর কিন্তু সহানুভূতিশীল — TMS-এ বিস্তারিত | Marx — পরিবেশ দ্বারা নির্মিত; শোষণমুক্ত পরিবেশে মানুষ মুক্ত হবে
▪ সম্পত্তি (Property): Smith — ব্যক্তিগত সম্পত্তি উৎপাদনশীলতার প্রণোদনা দেয় | Marx — ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলুপ্ত করতে হবে, সামষ্টিক মালিকানা চাই
▪ শ্রেণী (Class): Smith — শ্রেণী বিভাজন স্বীকার করেন, কিন্তু প্রতিযোগিতায় সমতা সম্ভব মনে করেন | Marx — শ্রেণী সংঘাতই ইতিহাসের চালিকাশক্তি; শ্রেণীহীন সমাজই লক্ষ্য
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বলি। Smith নিজেই Wealth of Nations-এর Book I, Chapter 8-তে লিখেছিলেন:
"Masters are always and every where in a sort of tacit, but constant and uniform combination, not to raise the wages of labour above their actual rate... We rarely hear, it has been said, of the combinations of masters; though frequently of those of workmen."
ভাবুন — পুঁজিবাদের জনক বলছেন যে মালিকরা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গোপন চুক্তি করে মজুরি কমিয়ে রাখে! Marx কি এর চেয়ে ভিন্ন কিছু বলেছিলেন? দুজনেই শোষণ দেখেছিলেন। Smith ভেবেছিলেন প্রতিযোগিতা এটা ঠিক করবে। Marx ভেবেছিলেন বিপ্লব দরকার।
এই দুই দার্শনিকের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য ছিল আশাবাদ বনাম হতাশাবাদের। Smith বিশ্বাস করতেন মানুষের সহানুভূতি এবং বাজারের প্রতিযোগিতা মিলে একটি ন্যায্য সমাজ তৈরি করতে পারে। Marx বিশ্বাস করতেন এই ব্যবস্থার মধ্যেই পচন ধরেছে — ভেঙে নতুন বানাতে হবে।
📝 Note: উভয় দার্শনিকই তাঁদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লিখেছিলেন। Smith লিখেছিলেন শিল্পবিপ্লবের ভোরে, Marx লিখেছিলেন শিল্পবিপ্লবের পূর্ণ ভয়াবহতা দেখার পর। প্রেক্ষাপট ভিন্ন — তাই সিদ্ধান্তও ভিন্ন। কেউ সম্পূর্ণ ভুল নন, কেউ সম্পূর্ণ সঠিক নন।
ইতিহাস এখানে একটা নির্মম পরীক্ষা করেছে। ২০শ শতাব্দীতে যেখানে Marx-এর তত্ত্ব সরাসরি প্রয়োগ হয়েছে — সোভিয়েত ইউনিয়ন, মাওবাদী চীন — সেখানে কোটি মানুষ মারা গেছেন। যেখানে Smith-এর তত্ত্ব প্রয়োগ হয়েছে কিন্তু নৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া — Wall Street, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য — সেখানেও বিপর্যয় হয়েছে। সমাধান হয়তো কোনো একটি তত্ত্বের পূর্ণ প্রয়োগে নয়, বরং উভয়ের সীমাবদ্ধতা বোঝায়।
তাহলে পরের বার কেউ বললে 'আমি Smith-এর ভক্ত' বা 'আমি Marx-এর ভক্ত' — জিজ্ঞেস করুন: আপনি কি পুরোটা পড়েছেন? নাকি শুধু নিজের মনের মতো অংশটুকু?
অধ্যায় ৮ — আজকের পৃথিবীতে Adam Smith কতটুকু প্রাসঙ্গিক
১৭৭৬ সালে লেখা একটি বই কি ২০২৫ সালে কাজে আসে? এই প্রশ্নের উত্তর হলো: হ্যাঁ এবং না — নির্ভর করছে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করছেন তার উপর। Smith কিছু জায়গায় অবিশ্বাস্যরকম সঠিক ছিলেন। কিছু জায়গায় তিনি দেখতে পাননি যা আমরা এখন দেখছি।
যেখানে Smith ঠিক ছিলেন
Smith-এর তত্ত্ব পরীক্ষা করার সুযোগ আমাদের সামনে প্রতিদিন আসে। যখন সরকার কোনো শিল্পে ভর্তুকি দেয়, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, যখন একটি নতুন কোম্পানি বাজারে আসে এবং পুরনো কোম্পানির একচেটিয়াত্ব ভাঙে — প্রতিটি ঘটনাই Smith-এর তত্ত্বের সাথে কথা বলছে।
প্রথমত, মুক্ত বাণিজ্য। WTO-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রায় চার গুণ বেড়েছে এবং এই সময়ে বৈশ্বিক GDP-ও সমানুপাতে বেড়েছে। Smith বলেছিলেন দেশগুলো যদি তাদের তুলনামূলক সুবিধার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হয় এবং বাণিজ্য করে, সবাই লাভবান হবে। আধুনিক বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এটাই প্রমাণ করছে।
দ্বিতীয়ত, শ্রম বিভাজন। Smith-এর পিন ফ্যাক্টরির গল্প মনে আছে? আজকের আইফোন তৈরিতে ৪৩টি দেশের যন্ত্রাংশ ব্যবহার হয়। Taiwan-এর চিপ, Japan-এর ক্যামেরা, South Korea-র ডিসপ্লে, China-এ অ্যাসেম্বলি। এটা Smith-এর পিন ফ্যাক্টরির বৈশ্বিক সংস্করণ — এবং এটা অবিশ্বাস্যরকম কার্যকর।
তৃতীয়ত, স্বার্থ উদ্ভাবন চালায়। Tesla কেন electric car বানাল? কারণ Elon Musk ভাবলেন এটায় লাভ আছে। iPhone কেন আবিষ্কার হলো? কারণ Steve Jobs দেখলেন এখানে বিশাল বাজার আছে। Smith বলেছিলেন self-interest innovation-এর ইঞ্জিন। Silicon Valley প্রতিদিন এটা প্রমাণ করছে।
যেখানে Smith-এর সীমাবদ্ধতা
কিন্তু Smith সবকিছু দেখতে পাননি। এটা তাঁর দোষ নয় — তিনি ১৭৭৬ সালের মানুষ। তবে ২০২৫ সালে তাঁকে সম্পূর্ণ অনুসরণ করলে আমরা কিছু বড় সমস্যায় পড়ব।
Smith একচেটিয়া বাজারের ভয়াবহতা আন্দাজ করতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন প্রতিযোগিতা সবসময় একচেটিয়াত্বকে ভেঙে দেবে। কিন্তু আজ Google-এর হাতে ৯২% সার্চ মার্কেট, Apple ও Google মিলে ৯৯% স্মার্টফোন OS নিয়ন্ত্রণ করে। প্রকাশিত antitrust মামলার তথ্য বলছে Big Tech একচেটিয়া অবস্থানে আছে — invisible hand এটা ঠিক করতে পারছে না।
জলবায়ু পরিবর্তন Smith-এর তত্ত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। IPCC-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজার পরিবেশগত ক্ষতি নিজে নিজে সংশোধন করে না — কারণ দূষণ করার খরচ যে বহন করে (সমাজ) এবং যে মুনাফা পায় (কোম্পানি) তারা আলাদা। এটাকে অর্থনীতিতে বলে 'externality' — Smith এই ধারণাটা সম্পূর্ণভাবে দেখেননি।
এবং অসমতা। Oxfam-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন বলছে: বিশ্বের মাত্র ১% মানুষের হাতে ৪৬% সম্পদ। Smith বিশ্বাস করতেন invisible hand সম্পদ সুষমভাবে বিতরণ করবে। বাস্তবে গত পঞ্চাশ বছরে অসমতা বেড়েছে, কমেনি। Smith-এর Impartial Spectator যদি এই তথ্য দেখতেন, তিনি কি সন্তুষ্ট হতেন?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
বাংলাদেশ Smith-এর তত্ত্বের একটি জীবন্ত পরীক্ষাগার। এখানে কিছু জায়গায় Smith অবিশ্বাস্যরকম প্রাসঙ্গিক, কিছু জায়গায় প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।
BGMEA-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন, যার ৮০% নারী। শ্রম বিভাজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হয়েছে। Smith-এর পিন ফ্যাক্টরির তত্ত্ব এখানে হুবহু কাজ করছে।
কিন্তু তারপরই প্রশ্ন আসে: Rana Plaza-র কথা মনে আছে? ২০১৩ সালে এক হাজারের বেশি শ্রমিক মারা গেলেন। প্রকাশিত শ্রম প্রতিবেদনগুলো বারবার বলছে মজুরি অপ্রতুল এবং কাজের পরিবেশ বিপজ্জনক। Smith-এর Impartial Spectator যদি আজ ঢাকায় দাঁড়াতেন এবং এই কারখানাগুলো দেখতেন — তিনি কি বলতেন এটা ন্যায্য?
বাংলাদেশের মুক্ত বাজার নীতি অনেক মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে। এটা অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই মুক্ত বাজার কি নৈতিক? Smith উভয় প্রশ্নই জিজ্ঞেস করতেন। শুধু দ্বিতীয় প্রশ্নটা আমরা ভুলে যাই।
এই প্রশ্নগুলো শুধু তাত্ত্বিক নয়। বাংলাদেশের একজন RMG শ্রমিক যখন মাসে আট হাজার টাকায় কাজ করেন এবং তাঁর তৈরি জামা New York-এ আশি ডলারে বিক্রি হয়, তখন Smith-এর তত্ত্ব একটি বাস্তব পরীক্ষার মুখে পড়ে। Division of labor কাজ করছে। কিন্তু মূল্যের সুষম বণ্টন হচ্ছে কি?
Smith-এর তত্ত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়তো এখনও সামনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের চাকরি নেবে, তখন division of labor কি নতুন অর্থ পাবে? যখন AI কোম্পানি একচেটিয়া হয়ে যাবে, তখন invisible hand কাজ করবে? Smith-এর Impartial Spectator হয়তো আমাদের জিজ্ঞেস করবেন: তোমরা কি সত্যিই এটা ন্যায্য মনে করো?
অধ্যায় ৯ — Adam Smith-এর উক্তি সংকলন
একজন মানুষকে জানতে চাইলে তাঁর নিজের কথা শুনুন। Smith-এর উক্তিগুলো পড়লে বোঝা যায় তিনি কতটা বহুমাত্রিক ছিলেন — কতটা সহানুভূতিশীল, কতটা বাস্তববাদী, এবং কখনো কখনো কতটা রাগী।
TMS-এর প্রথম লাইন — এবং Smith-এর দর্শনের প্রবেশদ্বার:
"How selfish soever man may be supposed, there are evidently some principles in his nature which interest him in the fortune of others, and render their happiness necessary to him, though he derives nothing from it except the pleasure of seeing it."
এটাই TMS-এর শুরু। Smith বলছেন: মানুষ শুধু স্বার্থপর নয়। তার মধ্যে এমন কিছু আছে যা অন্যের সুখে সুখী হয়, যদিও তাতে তার নিজের কোনো লাভ নেই। এই মানুষটাকেই তারপর WN-এ অর্থনৈতিক কাঠামোতে বসানো হয়েছে।
WN-এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদ্ধৃতি — যেটা ভুলভাবে ব্যাখ্যা হয় সবচেয়ে বেশি:
"It is not from the benevolence of the butcher, the brewer, or the baker that we expect our dinner, but from their regard to their own interest."
অনেকে এটা পড়ে বলেন: দেখো, Smith বলছেন লোভ ভালো! কিন্তু এটা ভুল ব্যাখ্যা। Smith বলছেন বাজার ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি যে স্বার্থও সহযোগিতা তৈরি করতে পারে। এটা লোভের প্রশংসা নয় — এটা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার স্বীকৃতি।
সমাজের দরিদ্রতা নিয়ে Smith-এর হৃদয়বিদারক পর্যবেক্ষণ:
"No society can surely be flourishing and happy, of which the far greater part of the members are poor and miserable."
এই উক্তিটা মনে রাখুন। পুঁজিবাদের জনক বলছেন: যদি সমাজের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র এবং দুর্দশাগ্রস্ত থাকে, তাহলে সেই সমাজ সমৃদ্ধ বা সুখী নয়। আজকের Oxfam-এর পরিসংখ্যান দেখলে Smith কী বলতেন?
ন্যায়বিচার নিয়ে TMS-এ Smith-এর শক্তিশালী বক্তব্য:
"Justice... is the main pillar that upholds the whole edifice. If it is removed, the great, the immense fabric of human society... must in a moment crumble into atoms."
ন্যায়বিচার Smith-এর কাছে সমাজের ভিত্তি। এটা ঐচ্ছিক নয়, বোনাস নয় — এটা মূল কাঠামো। যে সমাজে ন্যায়বিচার নেই, সে সমাজ যতই ধনী হোক, মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে — এটাই Smith-এর সতর্কবার্তা।
এবং সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত উক্তি — মালিকদের ষড়যন্ত্র নিয়ে:
"People of the same trade seldom meet together, even for merriment and diversion, but the conversation ends in a conspiracy against the public, or in some contrivance to raise prices."
Smith কি সমাজতন্ত্রী ছিলেন? না। কিন্তু তিনি ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে কোনো রোমান্টিক ধারণা রাখতেন না। তিনি জানতেন যখন একই ব্যবসার মানুষরা একসাথে বসে, তারা প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করে না — দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করে।
আরও একটি উক্তি — যেটা কম পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Smith TMS-এ লিখেছিলেন:
"The disposition to admire, and almost to worship, the rich and the powerful, and to despise, or, at least, to neglect persons of poor and mean condition, though necessary both to establish and to maintain the distinction of ranks and the order of society, is, at the same time, the great and most universal cause of the corruption of our moral sentiments."
Smith সরাসরি বলছেন: ধনীদের প্রতি আমাদের অন্ধ প্রশংসা এবং দরিদ্রদের প্রতি অবহেলা — এটাই আমাদের নৈতিক চরিত্রের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। এই কথাটা আজকের social media celebrity culture-এর যুগে কতটা প্রাসঙ্গিক ভাবুন।
উক্তির সংখ্যা বা দৈর্ঘ্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রেক্ষাপট। Smith-এর প্রতিটি উক্তি তাঁর সামগ্রিক দর্শনের অংশ। একটি উক্তি টেনে নিয়ে পুরো বিপরীত অর্থ দাঁড় করানো সম্ভব — এবং দুইশো বছরে অনেকে তা করেছেন।
একটি শেষ উক্তি, যেটা অনেক কম পরিচিত কিন্তু Smith-এর শ্রম-বিষয়ক অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। WN-তে তিনি লিখেছেন:
"Wherever there is great property, there is great inequality. For one very rich man, there must be at least five hundred poor, and the affluence of the few supposes the indigence of the many."
পুঁজিবাদের জনক বলছেন: বড় সম্পদ মানেই বড় বৈষম্য। এক ধনীর পেছনে পাঁচশো গরিব থাকে। কিছুজনের সমৃদ্ধি মানে বাকিদের অভাব। এটা লিখেছেন সেই মানুষ যাঁকে আজ কর্পোরেট আমেরিকা নিজের patron saint মনে করে।
এই উক্তিগুলো একসাথে পড়লে যে Smith বেরিয়ে আসেন, তিনি চেম্বার অফ কমার্সের পোস্টারের Smith নন। তিনি একজন নৈতিক দার্শনিক যিনি মানুষের সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ দুটো দিকই দেখেছিলেন — এবং সেই বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ডিজাইন করার চেষ্টা করেছিলেন।
উপসংহার
১৭৯০ সাল। এডিনবার্গ। Adam Smith মৃত্যুশয্যায়। তাঁর পাশে তাঁর বিশ্বস্ত বন্ধুরা। তিনি নির্দেশ দিলেন — ১৬টি পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে দাও। বছরের পর বছরের কাজ, চিন্তা, পরিকল্পনা — আগুনে শেষ। কেন? কারণ তিনি মনে করেছিলেন সেগুলো সম্পূর্ণ নয়।
Smith-এর বন্ধু এবং জীবনীকার Dugald Stewart লিখেছিলেন যে Smith-এর কাছে TMS তাঁর নিজের বেশি প্রিয় কাজ ছিল। মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও তিনি এর ষষ্ঠ সংস্করণ সংশোধন করে যাচ্ছিলেন। অথচ WN-এর পাঁচটি সংস্করণ দেখার পরও তিনি আর হাত দেননি।
কিন্তু দুটো বই তিনি রেখে গেলেন। The Theory of Moral Sentiments — ১৭৫৯। তাঁর প্রথম এবং প্রিয় সন্তান। The Wealth of Nations — ১৭৭৬। যে বই পৃথিবী বদলে দিল। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন: আমি আরও বেশি করতে পারতাম।
পিতৃহীন শৈশব, অপহরণের ঘটনা, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি যা তিনি ঘৃণা করতেন, কখনো বিবাহ করেননি, মায়ের সাথে সারাজীবন থেকেছেন — এই মানুষটাই দুটো এমন বই লিখলেন যা পৃথিবীর চিন্তা বদলে দিল।
আজ পৃথিবী শুধু একটি বই মনে রাখে। Wealth of Nations — অর্থনীতির বাইবেল। অন্যটি — যেটি Smith নিজে বেশি ভালোবাসতেন, যেটি তিনি মৃত্যুর আগেও সংশোধন করে যাচ্ছিলেন — The Theory of Moral Sentiments — প্রায় ভুলে গেছে পৃথিবী। এই ভুলে যাওয়াটা কি আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হয়েছে?
পূর্ণ Adam Smith-কে বুঝতে হলে দুটো বইই পড়তে হবে। শুধু Wealth of Nations পড়ে Smith বোঝা যায় না — যেমন শুধু একটি চোখ দিয়ে পূর্ণ দৃশ্য দেখা যায় না। একটি চোখ দূরত্ব বলতে পারে না, গভীরতা বলতে পারে না।
"How selfish soever man may be supposed, there are evidently some principles in his nature which interest him in the fortune of others, and render their happiness necessary to him, though he derives nothing from it except the pleasure of seeing it."
এই ছিলেন প্রকৃত Adam Smith। একজন মানুষ যিনি বিশ্বাস করতেন মানুষ শুধু লোভী নয়, শুধু সহানুভূতিশীলও নয় — বরং উভয়ই, একসাথে, জটিলভাবে। এবং সেই জটিল মানুষের জন্য একটি জটিল কিন্তু ন্যায্য ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
Adam Smith ছিলেন একজন নৈতিক দার্শনিক যিনি অর্থনীতি নিয়ে লিখেছিলেন — একজন অর্থনীতিবিদ নয় যিনি নৈতিকতা নিয়ে লিখেছিলেন। এই পার্থক্যটুকু বুঝলেই তাঁকে বোঝা যায়।
পরের বার যখন কেউ বলবে 'Adam Smith বলেছেন বাজার সবকিছু সমাধান করবে', আপনি জিজ্ঞেস করুন: কোন Adam Smith? WN-এর Smith, নাকি TMS-এর Smith? কারণ পূর্ণ Smith উভয়ই — এবং পূর্ণ Smith আসলে অনেক বেশি মানবিক, অনেক বেশি জটিল, এবং আজকের পৃথিবীর জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।
সেই ১৭৯০ সালের এডিনবার্গে Smith যে পাণ্ডুলিপিগুলো পোড়ালেন, সেগুলোতে হয়তো আরও অনেক উত্তর ছিল। কিন্তু যা রেখে গেছেন তা-ও যথেষ্ট — যদি আমরা পুরোটা পড়ি।
Smith বলেছিলেন: একটি সমাজ তখনই সত্যিকারের সমৃদ্ধ যখন তার সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিকও মর্যাদার সাথে বাঁচতে পারে। এই মানদণ্ডে আজকের পৃথিবী কতটা সফল? এই প্রশ্নটাই Smith-এর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।
অর্থনীতি শুধু সংখ্যার খেলা নয়। এটা মানুষের গল্প — কীভাবে আমরা একে অপরের সাথে লেনদেন করি, কীভাবে আমরা একে অপরকে মূল্যায়ন করি। Smith সেই গল্পটাই বলেছিলেন — TMS-এ নৈতিকতার ভাষায়, WN-এ অর্থনীতির ভাষায়। দুটো বই মিলে একটাই গল্প: মানুষ কীভাবে একসাথে সমৃদ্ধ হতে পারে, এবং এতে করে ন্যায্য থাকতে পারে।
আজকের পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়তো এটাই — Smith-এর দুটো উত্তর একসাথে ধরে রাখা। বাজারের দক্ষতা এবং নৈতিকতার দাবি। স্বার্থের শক্তি এবং সহানুভূতির বাধ্যবাধকতা। Impartial Spectator আমাদের প্রতিটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে জিজ্ঞেস করছেন: এটা কি সত্যিই ন্যায্য?










