ভূমিকা -- Adam Smith যা বলেছিলেন, আর পুঁজিবাদ যা শুনেছে
১৭৯০ সালের ১৭ জুলাই। এডিনবরায় Adam Smith মৃত্যুশয্যায়। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল অদ্ভুত -- তিনি চাইলেন তাঁর ১৬টি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলা হোক। তাঁর দুই বন্ধু Joseph Black এবং James Hutton সেই ইচ্ছা পালন করেছিলেন। Ian Simpson Ross তাঁর প্রকাশিত জীবনী The Life of Adam Smith (2010)-তে এই ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দুটি বই রয়ে গেল -- The Theory of Moral Sentiments (1759) এবং The Wealth of Nations (1776)। আজ সারা বিশ্ব শুধু দ্বিতীয় বইটি মনে রেখেছে। প্রথমটি প্রায় ভুলে গেছে।
এই ভুলে যাওয়ার পেছনে একটি চমকপ্রদ গল্প আছে। Adam Smith -- যাঁকে আমরা পুঁজিবাদের জনক বলি -- তিনি নিজে মনে করতেন The Theory of Moral Sentiments তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজ, The Wealth of Nations নয়। Gavin Kennedy তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ Adam Smith: A Moral Philosopher and His Political Economy (2008)-তে দেখিয়েছেন যে Smith মৃত্যুর আগে পর্যন্ত TMS-এর সংশোধন করে যাচ্ছিলেন -- ষষ্ঠ সংস্করণটি বেরিয়েছিল ১৭৯০ সালে, তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগে। কিন্তু Wealth of Nations-এর সংশোধনে তিনি অনেক আগেই আগ্রহ হারিয়েছিলেন।
এখন সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি শুনুন। Invisible Hand -- যে ধারণাটির জন্য Adam Smith-কে সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হয় -- সেই শব্দবন্ধটি তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে মাত্র ৩ বার ব্যবহার করেছেন। একবার The Theory of Moral Sentiments-এ, একবার The Wealth of Nations-এ, এবং একবার History of Astronomy-তে। Emma Rothschild হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত তাঁর গবেষণা Economic Sentiments: Adam Smith, Condorcet, and the Enlightenment (2001)-তে এই তথ্য বিস্তারিত প্রমাণ সহ উপস্থাপন করেছেন।
তিনবার। মাত্র তিনবার। একটি ১,০০০ পৃষ্ঠার বই থেকে একটি বাক্য। একটি নৈতিক দর্শনের বই থেকে একটি রূপক। একটি জ্যোতির্বিদ্যার প্রবন্ধ থেকে একটি উপমা। এই তিনটি উল্লেখ থেকে তৈরি হয়েছে আধুনিক পুঁজিবাদের পুরো মতাদর্শিক ভিত্তি। এটি কি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় intellectual cherry-picking নয়? অথচ Smith-এর প্রথম বইয়ের কেন্দ্রীয় ধারণা Impartial Spectator -- যা শত শত বার উল্লেখিত হয়েছে -- সেটি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত।
কিন্তু আজ সারা বিশ্বে Adam Smith মানেই Invisible Hand, Invisible Hand মানেই Free Market, আর Free Market মানেই Capitalism। তাঁর নৈতিক দর্শন, তাঁর সহানুভূতির তত্ত্ব, তাঁর সামাজিক দায়িত্বের বক্তব্য -- সবকিছু সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে The Wealth of Nations পড়ানো হয়, কিন্তু The Theory of Moral Sentiments? প্রায় কেউ পড়ে না। এটি একটি ট্র্যাজেডি যা শুধু একাডেমিক নয় -- এর বাস্তব পরিণতি আমরা প্রতিদিন দেখছি বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস এবং আর্থিক সংকটের মধ্যে।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ Amartya Sen তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ The Idea of Justice (2009)-তে লিখেছেন যে Adam Smith-কে শুধু self-interest-এর তাত্ত্বিক হিসেবে পড়া একটি গুরুতর বিকৃতি। Sen আরও আগে Theory and Reality in Development (1986)-তে প্রকাশিত Adam Smith's Prudence প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে Smith-এর prudence ধারণায় self-interest এবং সামাজিক দায়িত্ব অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত ছিল। কিন্তু পরবর্তী অর্থনীতিবিদরা শুধু self-interest অংশটুকু নিয়ে বাকিটা বাদ দিয়েছেন।
"The narrow reading of Smith that focuses only on self-interest is a serious distortion of his actual thought." -- Amartya Sen, The Idea of Justice, 2009
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় -- কেন? কারা এটা করলো? কীভাবে ইতিহাসের এই বিশাল intellectual cherry-picking ঘটলো? কেন পুঁজিবাদ Smith-এর অর্ধেক দর্শন গ্রহণ করে বাকি অর্ধেক বাদ দিল? কেন Invisible Hand-এর একটি বাক্য বিশ্ব বদলে দিল, কিন্তু Impartial Spectator-এর শত শত পৃষ্ঠা কোনো প্রভাব ফেলতে পারলো না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু একাডেমিক কৌতূহল নয় -- এটি আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল সংকট বুঝতে সাহায্য করে।
এই আর্টিকেলে আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজব। আমরা দেখব Smith আসলে কী বলেছিলেন, আর পুঁজিবাদ কী শুনেছে। আমরা দেখব কীভাবে শিল্প বিপ্লব, Chicago School, Cold War রাজনীতি এবং গণিতের আধিপত্য মিলে Smith-এর নৈতিক দর্শনকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলেছে। প্রতিটি দাবির পেছনে থাকবে প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণা, নির্দিষ্ট গ্রন্থ এবং পণ্ডিতদের নাম। কোনো অনুমান নয়, কোনো মতামত নয় -- শুধু প্রমাণ।
একটি তুলনা দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। কল্পনা করুন কেউ Shakespeare-এর সমগ্র রচনা থেকে একটি মাত্র বাক্য তুলে নিয়ে বললো -- এটিই Shakespeare-এর মূল বার্তা। বাকি ৩৭টি নাটক, ১৫৪টি sonnet -- সব উপেক্ষা করো। ঠিক এটিই করা হয়েছে Adam Smith-এর সাথে। একটি ১,০০০ পৃষ্ঠার বই থেকে একটি বাক্য, এবং আরেকটি সম্পূর্ণ বই -- The Theory of Moral Sentiments -- পুরোটাই উপেক্ষিত।
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে -- Invisible Hand আর Impartial Spectator আসলে কী? চলুন Smith-এর নিজের কথা দিয়ে শুরু করি।
The Invisible Hand -- আসলে কী বলেছিলেন Adam Smith?
Invisible Hand। এই দুটি শব্দ সম্ভবত অর্থনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত। এই ধারণাটির উপর ভিত্তি করে free market capitalism-এর পুরো মতাদর্শ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেশিরভাগ মানুষ যারা এই শব্দটি ব্যবহার করেন তারা কখনো Smith-এর মূল লেখা পড়েননি। তারা জানেন না Smith আসলে কী প্রসঙ্গে, কী অর্থে এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই অজ্ঞতাই পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় myth তৈরি করেছে।
প্রথমে The Wealth of Nations (1776)-এর উদ্ধৃতিটি দেখা যাক। Book IV, Chapter 2-তে Smith লিখেছেন: 'he is in this, as in many other cases, led by an invisible hand to promote an end which was no part of his intention.' এটিই সেই বিখ্যাত বাক্য। পুরো Wealth of Nations -- যা ১,০০০ পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ -- তাতে invisible hand শব্দটি এই একটি বাক্যেই আছে। একটি বাক্য। একটি মাত্র বাক্য থেকে তৈরি হয়েছে আধুনিক পুঁজিবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ slogan।
কিন্তু এই বাক্যের প্রসঙ্গটি কী ছিল? Smith এখানে বলছিলেন যে দেশীয় বণিকরা বিদেশে বিনিয়োগের চেয়ে দেশে বিনিয়োগ পছন্দ করেন -- কারণ বিদেশে ঝুঁকি বেশি। এই পছন্দের ফলে দেশীয় অর্থনীতি লাভবান হয়, যদিও বণিকের উদ্দেশ্য ছিল শুধু নিজের ঝুঁকি কমানো। এটিই invisible hand। এটি কোনো grand economic theory নয়, কোনো universal law নয় -- এটি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির একটি পর্যবেক্ষণ। কিন্তু পরবর্তী অর্থনীতিবিদরা এই একটি বাক্য থেকে পুরো laissez-faire অর্থনীতির তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছেন।
দ্বিতীয় উল্লেখটি আরও মজার। The Theory of Moral Sentiments (1759), Part IV, Chapter 1-এ Smith লিখেছেন: ধনীরা 'are led by an invisible hand to make nearly the same distribution of the necessaries of life, which would have been made had the earth been divided into equal portions among all its inhabitants.' লক্ষ্য করুন -- এখানে Smith বলছেন invisible hand ধনীদের সম্পদ পুনর্বণ্টনে ভূমিকা রাখে। এটি free market-এর নয়, বরং wealth distribution-এর কথা! কিন্তু এই প্রসঙ্গটি পুঁজিবাদের সমর্থকরা কখনো উল্লেখ করেন না।
তৃতীয় উল্লেখটি সবচেয়ে অপ্রাসঙ্গিক। History of Astronomy নামে Smith-এর একটি প্রারম্ভিক প্রবন্ধে তিনি invisible hand ব্যবহার করেছেন প্রাচীন গ্রিক পুরাণে দেবতা Jupiter-এর হস্তক্ষেপ বোঝাতে। এটি অর্থনীতির সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন। কিন্তু এটিও গণনায় আসে -- কারণ Smith-এর সমগ্র রচনায় invisible hand মোট এই তিনবারই আছে। একটি জ্যোতির্বিদ্যার রূপক, একটি সম্পদ বণ্টনের পর্যবেক্ষণ, এবং একটি বাণিজ্যিক আচরণের বর্ণনা -- এই তিনটি থেকে তৈরি হয়েছে free market capitalism-এর পুরো মতাদর্শিক ভিত্তি।
Emma Rothschild -- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক -- তাঁর প্রকাশিত গবেষণা Economic Sentiments (2001, Harvard University Press)-তে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন: invisible hand কখনো অর্থনীতির কোনো বৃহৎ তত্ত্ব হওয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। Smith এটি একটি ক্ষুদ্র রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। Rothschild আরও দেখিয়েছেন যে Smith-এর মৃত্যুর পর প্রায় এক শতাব্দী invisible hand ধারণাটি কেউ গুরুত্ব দেয়নি -- এটি ২০ শতকে নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে।
Gavin Kennedy -- Heriot-Watt বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং Adam Smith বিশেষজ্ঞ -- তাঁর প্রকাশিত গবেষণায় (2009) দেখিয়েছেন যে invisible hand ছিল শুধুমাত্র একটি উদাহরণ, কোনো নীতি প্রস্তাবনা নয়। Smith কখনো বলেননি যে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না, কখনো বলেননি যে শুধু self-interest-ই যথেষ্ট, কখনো বলেননি যে market সবকিছু সমাধান করবে। এই সবকিছু পরবর্তী অর্থনীতিবিদরা Smith-এর নামে চাপিয়ে দিয়েছেন।
তাহলে আধুনিক পুঁজিবাদ Invisible Hand থেকে যা বোঝে সেটি কী? সেটি হলো -- বাজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, সরকারের হস্তক্ষেপ অপ্রয়োজনীয়, ব্যক্তিগত লোভই সমাজের কল্যাণ করে, এবং greed is good। কিন্তু Smith-এর আসল বক্তব্য ছিল অনেক বেশি সীমিত এবং সূক্ষ্ম। তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের কথা বলেছিলেন -- সেটিকে universal economic law-তে পরিণত করা Smith-এর চিন্তার গুরুতর বিকৃতি।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: Smith-এর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরবর্তী প্রায় একশ বছরে invisible hand কোনো বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। ১৯ শতকের অর্থনীতিবিদরা -- David Ricardo, John Stuart Mill, Karl Marx -- কেউই invisible hand-কে Smith-এর মূল অবদান মনে করতেন না। Emma Rothschild (2001)-এর গবেষণা অনুযায়ী, invisible hand-এর মহিমান্বিতকরণ শুরু হয়েছে ২০ শতকের মাঝামাঝি থেকে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে।
১৯৭৬ সালে The Wealth of Nations-এর ২০০তম বার্ষিকীতে University of Chicago-তে একটি বিশেষ সম্মেলন হয়। সেখানে George Stigler invisible hand-কে Smith-এর central message হিসেবে উপস্থাপন করেন। এটি ছিল একটি সচেতন academic branding -- যা পরবর্তীতে textbook-এ, রাজনৈতিক বক্তৃতায়, এবং জনসাধারণের মনে invisible hand-কে Smith-এর প্রতিশব্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
| রচনা | প্রকাশকাল | মূল উদ্ধৃতি | প্রসঙ্গ | আসল অর্থ |
| The Wealth of Nations (Book IV, Ch.2) | 1776 | led by an invisible hand to promote an end which was no part of his intention | দেশীয় বণিকদের বিনিয়োগ পছন্দ | ব্যক্তিগত ঝুঁকি এড়ানো দেশীয় অর্থনীতিকে সাহায্য করে |
| The Theory of Moral Sentiments (Part IV, Ch.1) | 1759 | led by an invisible hand to make nearly the same distribution of the necessaries of life | ধনীদের ভোগ ও সম্পদ বণ্টন | ধনীদের ব্যয় দরিদ্রদের কাছে পৌঁছায় -- wealth distribution |
| History of Astronomy | রচনা ~1750s | invisible hand of Jupiter | প্রাচীন গ্রিক পুরাণে দেবতার হস্তক্ষেপ | অর্থনীতির সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন রূপক |
Note: উদ্ধৃতি Adam Smith-এর মূল রচনা থেকে। বিশ্লেষণ Emma Rothschild (Harvard), Gavin Kennedy (Heriot-Watt), এবং Amartya Sen-এর প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে।
তাহলে Smith-এর সমগ্র রচনায় Invisible Hand মাত্র ৩ বার। কিন্তু তাঁর আসল কেন্দ্রীয় ধারণা -- Impartial Spectator -- সেটি কী ছিল? চলুন দেখি।
The Impartial Spectator -- Adam Smith-এর আসল দর্শন
The Theory of Moral Sentiments -- Adam Smith-এর প্রথম বই, The Wealth of Nations-এর ১৭ বছর আগে প্রকাশিত (১৭৫৯)। এই বইটি Smith-কে প্রথম বিখ্যাত করেছিল, Wealth of Nations নয়। এবং এই বইয়ের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো Impartial Spectator -- নিরপেক্ষ দর্শক। এটি কোনো বাহ্যিক সত্তা নয়, এটি আমাদের মনের ভেতরে বসবাসকারী একটি কল্পিত নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক যে আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি আচরণ বিচার করে। এটি হলো আমাদের নৈতিক বিবেক।
Smith-এর নিজের ভাষায় (TMS Part III, Chapter 3): 'We endeavour to examine our own conduct as we imagine any other fair and impartial spectator would examine it.' অর্থাৎ আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিই, তখন কল্পনা করি একজন ন্যায়পরায়ণ, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক আমাদের দেখছেন -- এবং তাঁর বিচারের ভিত্তিতে আমরা নিজেদের আচরণ সংশোধন করি। এটি conscience বা বিবেকের Smith-ীয় সংজ্ঞা। এটি শুধু একটি দার্শনিক ধারণা নয় -- এটি একটি সম্পূর্ণ নৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি।
D.D. Raphael -- Oxford বিশ্ববিদ্যালয়ের দার্শনিক -- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ The Impartial Spectator: Adam Smith's Moral Philosophy (2007, Oxford University Press)-তে দেখিয়েছেন যে Impartial Spectator ধারণাটি TMS-জুড়ে শত শত বার উল্লেখিত হয়েছে। এটি কোনো পার্শ্ব ধারণা নয় -- এটিই বইয়ের মূল স্তম্ভ। Raphael আরও দেখিয়েছেন যে Smith তাঁর সারা জীবন এই ধারণাটি পরিমার্জন করেছেন -- ষষ্ঠ এবং চূড়ান্ত সংস্করণে (1790) Impartial Spectator-এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
Impartial Spectator-এর মূল ভিত্তি হলো sympathy বা সহানুভূতি। এবং এখানে Smith-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি আসে। The Theory of Moral Sentiments-এর প্রথম বাক্য -- হ্যাঁ, একেবারে প্রথম বাক্য -- হলো: 'How selfish soever man may be supposed, there are evidently some principles in his nature which interest him in the fortune of others, and render their happiness necessary to him, though he derives nothing from it except the pleasure of seeing it.' Adam Smith-এর প্রথম বইয়ের প্রথম বাক্য সহানুভূতি নিয়ে, স্বার্থ নিয়ে নয়!
এই প্রথম বাক্যটি পুরো পুঁজিবাদী narrative-কে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমাদের বলা হয়েছে Adam Smith বিশ্বাস করতেন মানুষ মূলত স্বার্থপর এবং সেই স্বার্থপরতাই সমাজের ইঞ্জিন। কিন্তু Smith তাঁর জীবনের প্রথম বড় কাজ শুরু করেছেন এই বলে যে মানুষের প্রকৃতিতে এমন কিছু আছে যা তাকে অন্যের সুখে আনন্দিত করে -- এমনকি নিজের কোনো লাভ না হলেও। এটি self-interest theory নয়, এটি empathy theory। এটি Invisible Hand নয়, এটি Impartial Spectator-এর ভিত্তি।
Ryan Patrick Hanley -- Marquette বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক -- তাঁর প্রকাশিত গবেষণা Adam Smith and the Character of Virtue (2009, Cambridge University Press)-তে দেখিয়েছেন যে Smith-এর সমগ্র দার্শনিক প্রকল্প moral sympathy-র ভিত্তির উপর নির্মিত, self-interest-এর উপর নয়। Hanley যুক্তি দিয়েছেন যে The Wealth of Nations-ও TMS-এর নৈতিক কাঠামোর মধ্যেই পড়তে হবে -- একে আলাদা করে পড়লে Smith-এর মূল বক্তব্য হারিয়ে যায়।
Impartial Spectator কীভাবে কাজ করে? Smith বলেছেন, আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিই -- ব্যবসায়িক হোক বা ব্যক্তিগত -- আমাদের মনে একজন কল্পিত তৃতীয় পক্ষ বসে আছেন যিনি সব তথ্য জানেন, কোনো পক্ষপাত নেই, এবং ন্যায়বিচার করেন। এই Spectator যদি আমাদের সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন, তাহলে সেটি নৈতিক। যদি না দেন, তাহলে আমাদের উচিত সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা। এটি হলো Smith-এর নৈতিক দর্শনের মূল কাঠামো।
একটি আধুনিক উদাহরণ দিলে Impartial Spectator আরও পরিষ্কার হবে। ধরুন একজন ব্যাংকার জানেন একটি financial product ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু এটি বিক্রি করলে তাঁর bonus বাড়বে। Invisible Hand বলে -- বিক্রি করো, তোমার self-interest সমাজের কল্যাণ করবে। কিন্তু Impartial Spectator বলে -- থামো, একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কি তোমার এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেবেন, জেনে যে এতে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারাবে? ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে ঠিক এটিই ঘটেছিল -- Impartial Spectator অনুপস্থিত ছিল।
Smith আরও বলেছেন যে Impartial Spectator শুধু ব্যক্তিগত স্তরে নয়, সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও কাজ করা উচিত। আইন, শাসনব্যবস্থা, ব্যবসায়িক নিয়মকানুন -- সবকিছুতে এই নিরপেক্ষ বিচারের নীতি প্রতিফলিত হওয়া দরকার। এটি শুধু ব্যক্তির conscience নয় -- এটি সমাজের conscience। Smith চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজ যেখানে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নৈতিক বিচারবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।
এখন প্রশ্ন হলো -- যদি Smith-এর আসল দর্শনের কেন্দ্রে থাকে সহানুভূতি, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ব, তাহলে আধুনিক পুঁজিবাদ কেন শুধু self-interest-এর কথা বলে? উত্তরটি জটিল, কিন্তু চলুন প্রথমে দুটি ধারণার একটি পরিষ্কার তুলনা দেখি।
| বৈশিষ্ট্য | Invisible Hand | Impartial Spectator |
| উৎস গ্রন্থ | The Wealth of Nations (1776) | The Theory of Moral Sentiments (1759) |
| উল্লেখের সংখ্যা | মাত্র ১ বার (WN-তে) | শত শত বার (TMS জুড়ে) |
| মূল ধারণা | ব্যক্তিগত স্বার্থ অনিচ্ছাকৃতভাবে সামাজিক কল্যাণ করে | অভ্যন্তরীণ নৈতিক বিচার সহানুভূতি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে আচরণ পরিচালনা করে |
| নৈতিকতার ভূমিকা | উল্লেখ নেই -- market নিজেই সমাধান করে | কেন্দ্রীয় -- নৈতিকতাই সমাজের ভিত্তি |
| সহানুভূতির ভূমিকা | অপ্রাসঙ্গিক | মূল ভিত্তি -- fellow-feeling |
| সরকারের ভূমিকা | ন্যূনতম হস্তক্ষেপ (ভুল ব্যাখ্যা) | ন্যায়বিচার, শিক্ষা, অবকাঠামোতে সক্রিয় ভূমিকা |
| self-interest সম্পর্কে | চালিকা শক্তি | নৈতিক সীমার মধ্যে থাকতে হবে |
| Smith-এর নিজস্ব গুরুত্ব | একটি ক্ষুদ্র রূপক | জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজের কেন্দ্রীয় ধারণা |
Note: তথ্যসূত্র: D.D. Raphael The Impartial Spectator (2007 Oxford UP), Emma Rothschild Economic Sentiments (2001 Harvard UP), Gavin Kennedy Adam Smith (2008)।
তাহলে Smith-এর কেন্দ্রীয় দর্শন ছিল নৈতিকতা ও সহানুভূতি। কিন্তু পুঁজিবাদ শুধু স্বার্থের কথা শুনলো। কেন? এর পেছনে ৫টি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কারণ আছে।
পুঁজিবাদ কেন Invisible Hand বেছে নিলো -- ৫টি কারণ
এটি এই আর্টিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ এখানে আমরা দেখব কীভাবে একটি সুপরিকল্পিত -- এবং কখনো কখনো অসচেতন -- প্রক্রিয়ায় Adam Smith-এর নৈতিক দর্শন ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এটি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়। প্রতিটি কারণের পেছনে প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণা আছে। চলুন একে একে দেখি।
কারণ ১ -- শিল্প বিপ্লবের চাহিদা
১৮ এবং ১৯ শতকের শিল্প বিপ্লব ইউরোপ ও আমেরিকায় এক নতুন শ্রেণি তৈরি করেছিল -- শিল্পপতি শ্রেণি। তাদের প্রয়োজন ছিল একটি intellectual justification যা বলবে: সীমাহীন মুনাফার সন্ধান শুধু বৈধ নয়, এটি সমাজের জন্য উপকারী। Invisible Hand তাদের সেই justification দিয়েছিল -- তুমি যত বেশি মুনাফা কর, সমাজ তত বেশি লাভবান হয়। এর জন্য কোনো নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে না, market নিজেই সবকিছু সামলে নেবে।
Eric Hobsbawm -- বিখ্যাত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ -- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ The Age of Revolution (1962)-তে দেখিয়েছেন যে শিল্প বিপ্লব এমন একটি দর্শনের চাহিদা তৈরি করেছিল যা মুনাফাকে পবিত্র করবে এবং নৈতিক বাধ্যবাধকতাকে ন্যূনতম করবে। Invisible Hand সেই চাহিদা পূরণ করেছিল। অন্যদিকে Impartial Spectator -- যা নৈতিক সংযম, সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়িত্বের কথা বলে -- সেটি শিল্পপতিদের জন্য অসুবিধাজনক ছিল। কোনো factory owner চাইতেন না যে তাঁর শ্রমিক শোষণকে একজন impartial spectator বিচার করুক।
Karl Polanyi তাঁর প্রকাশিত ক্লাসিক The Great Transformation (1944)-তে দেখিয়েছেন যে self-regulating market-এর ধারণা -- যা invisible hand-এর উপর ভিত্তি করে -- ঐতিহাসিকভাবে কখনো কাজ করেনি। প্রতিবারই unregulated market সামাজিক ধ্বংস ঘটিয়েছে, এবং সমাজ আত্মরক্ষার জন্য regulation দাবি করেছে। Polanyi এটিকে 'double movement' বলেছেন -- বাজারের সম্প্রসারণ এবং সমাজের প্রতিরোধ।
ফলাফল? Smith-এর নৈতিক দর্শন চুপচাপ ইতিহাসের আড়ালে চলে গেল। শিল্পপতিরা Wealth of Nations-এর নির্বাচিত অংশ প্রচার করতে লাগলেন, আর Theory of Moral Sentiments ধুলো জমতে লাগলো গ্রন্থাগারের তাকে। এটি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না -- এটি ছিল সুবিধাবাদী নির্বাচন। যে অংশটুকু মুনাফার পক্ষে যায়, সেটি রাখো; বাকিটা ভুলে যাও।
কারণ ২ -- Das Adam Smith Problem এবং দুই বইয়ের বিচ্ছেদ
১৯ শতকের জার্মান পণ্ডিতরা একটি তাত্ত্বিক সমস্যা তৈরি করেছিলেন যার নাম Das Adam Smith Problem। তাঁদের দাবি ছিল -- The Theory of Moral Sentiments এবং The Wealth of Nations পরস্পরবিরোধী। TMS বলে মানুষ সহানুভূতিশীল, WN বলে মানুষ স্বার্থপর। তাহলে দুটি বই কীভাবে একই লেখকের হতে পারে? Keith Tribe তাঁর প্রকাশিত গবেষণা The Economy of the Word (2015, Oxford University Press)-তে এই সমস্যার বিস্তারিত ইতিহাস লিখেছেন।
এই কৃত্রিম বিভাজন একটি মারাত্মক পরিণতি ঘটিয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নিলেন যে যেহেতু দুটি বই পরস্পরবিরোধী, তাহলে একটি বাছাই করতে হবে -- এবং তারা বাছাই করলেন The Wealth of Nations। TMS হয়ে গেল একটি abandoned text, শুধু দর্শন বিভাগের কিছু গবেষকের আগ্রহের বিষয়। কিন্তু অমর্ত্য সেন সহ আধুনিক অনেক পণ্ডিত দেখিয়েছেন যে Das Adam Smith Problem একটি মিথ। দুটি বই পরস্পরবিরোধী নয় -- বরং পরিপূরক। Smith চেয়েছিলেন বাজার ব্যবস্থা নৈতিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করুক।
Per Amartya Sen: 'The so-called Adam Smith Problem is a pseudo-problem. Smith saw self-interest as operating within a framework of moral sentiments, not in opposition to them.' এই বিচ্ছেদ কৃত্রিম ছিল, কিন্তু এর প্রভাব ছিল বিশাল -- এটি অর্থনীতিকে নৈতিকতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছিল।
কারণ ৩ -- Chicago School এবং Milton Friedman-এর প্রভাব
২০ শতকের মাঝামাঝি থেকে University of Chicago-র অর্থনীতি বিভাগ -- যাকে Chicago School বলা হয় -- Adam Smith-এর একটি নির্দিষ্ট পাঠকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করেছে। Milton Friedman, George Stigler, এবং তাদের সহকর্মীরা Smith-কে laissez-faire অর্থনীতির প্রবক্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। Friedman তাঁর বিখ্যাত 1970 সালের New York Times প্রবন্ধ The Social Responsibility of Business Is to Increase Its Profits-এ সরাসরি Smith-এর self-interest ধারণাকে invoke করেছেন।
Philip Mirowski -- Notre Dame বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও দর্শনের ইতিহাসবিদ -- তাঁর প্রকাশিত গবেষণা More Heat than Light (1989, Cambridge University Press)-তে দেখিয়েছেন: Chicago School নির্বাচনীভাবে Smith-কে ব্যবহার করেছে laissez-faire মতাদর্শের ন্যায্যতা দিতে। তারা Smith-এর সেই অংশগুলো highlighted করেছে যা free market-এর পক্ষে যায়, এবং সেই অংশগুলো ignored করেছে যেখানে Smith সরকারি হস্তক্ষেপ, শ্রমিকদের অধিকার, এবং নৈতিক দায়িত্বের কথা বলেছেন।
George Stigler -- Chicago School-এর আরেক প্রভাবশালী সদস্য এবং ১৯৮২ সালের নোবেল বিজয়ী -- Smith-কে systematically reinterpret করেছেন। Stigler-এর প্রকাশিত গবেষণা Smith-কে প্রায় সম্পূর্ণভাবে efficiency ও self-interest-এর তাত্ত্বিক হিসেবে উপস্থাপন করেছে, TMS-এর নৈতিক দর্শনকে প্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। এই reinterpretation textbook-এ ঢুকে গেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম অর্থনীতির ছাত্ররা এই একপেশে Smith পড়ে বড় হয়েছে।
Friedman-এর প্রভাব শুধু একাডেমিক ছিল না -- এটি রাজনৈতিকও ছিল। Ronald Reagan এবং Margaret Thatcher-এর অর্থনৈতিক নীতি সরাসরি Chicago School-এর চিন্তাধারায় প্রভাবিত ছিল। ফলে Smith-এর একপেশে পাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি -- এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক নীতিতে পরিণত হয়েছে।
কারণ ৪ -- নৈতিকতা পরিমাপযোগ্য নয়, কিন্তু মুনাফা পরিমাপযোগ্য
২০ শতকে অর্থনীতি ক্রমশ গাণিতিক হয়ে উঠেছে। Econometrics, game theory, mathematical modeling -- এগুলো অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। Self-interest এবং market outcomes গাণিতিকভাবে model করা যায়। কিন্তু moral sentiments? Empathy? Impartial Spectator? এগুলো কোনো equation-এ ধরা যায় না। Robert Heilbroner তাঁর প্রকাশিত ক্লাসিক The Worldly Philosophers (1953, সর্বশেষ সংশোধিত 1999)-তে দেখিয়েছেন: অর্থনীতি যত বেশি scientific হয়েছে, ততই তার দার্শনিক ও নৈতিক মাত্রা হারিয়ে গেছে।
এটি একটি মৌলিক সমস্যা। আপনি GDP পরিমাপ করতে পারেন, কিন্তু wellbeing পারেন না। আপনি মুনাফা পরিমাপ করতে পারেন, কিন্তু ন্যায়বিচার পারেন না। আপনি market efficiency পরিমাপ করতে পারেন, কিন্তু নৈতিক অবক্ষয় পারেন না। ফলে অর্থনীতির curriculum থেকে নৈতিকতা ধীরে ধীরে বাদ পড়ে গেছে -- এবং সাথে সাথে Smith-এর Impartial Spectator-ও। যা পরিমাপ করা যায় না, তা গুরুত্ব পায় না -- এই মানসিকতা Smith-এর নৈতিক দর্শনের কবর খুঁড়েছে।
কারণ ৫ -- রাজনৈতিক সুবিধা
Cold War (১৯৪৭-১৯৯১) Adam Smith-এর একপেশে পাঠকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। পুঁজিবাদ vs সাম্যবাদ -- এই দ্বন্দ্বে Invisible Hand হয়ে উঠেছিল পুঁজিবাদের প্রতীক। Free market = freedom = democracy = America। এই সমীকরণে Smith-এর নৈতিক দর্শনের কোনো জায়গা ছিল না -- কারণ নৈতিক সংযম ও সামাজিক দায়িত্বের কথা বললে সেটি সমাজতন্ত্রের কাছাকাছি শোনাতো। Angus Burgin তাঁর প্রকাশিত গবেষণা The Great Persuasion (2012, Harvard University Press)-তে বিস্তারিত দেখিয়েছেন কীভাবে Cold War-এর রাজনীতি free market narrative-কে উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং Smith-এর বিকল্প পাঠকে দমিয়ে রেখেছে।
Margaret Thatcher-এর বিখ্যাত উক্তি 'There Is No Alternative' (TINA) -- এটি ছিল Invisible Hand দর্শনের রাজনৈতিক রূপ। বিকল্প নেই, বাজারই একমাত্র পথ, সরকার যত কম হস্তক্ষেপ করবে তত ভালো। এই মতাদর্শ ১৯৮০ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এবং এর মতাদর্শিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে Adam Smith-এর নাম -- যদিও Smith নিজে এই চরম অবস্থানের সমর্থক ছিলেন না।
| কারণ | ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | মূল প্রভাবক | প্রকাশিত উৎস |
| শিল্প বিপ্লবের চাহিদা | ১৮-১৯ শতক, শিল্পপতিদের ন্যায্যতার প্রয়োজন | শিল্পপতি শ্রেণি | Eric Hobsbawm, The Age of Revolution (1962) |
| Das Adam Smith Problem | ১৯ শতক, জার্মান পণ্ডিতদের কৃত্রিম বিভাজন | জার্মান অর্থনৈতিক চিন্তাবিদরা | Keith Tribe, The Economy of the Word (2015) |
| Chicago School | ১৯৫০-১৯৮০, নির্বাচনী Smith পাঠ | Milton Friedman, George Stigler | Philip Mirowski, More Heat than Light (1989) |
| গণিতের আধিপত্য | ২০ শতক, অর্থনীতির mathematization | Neoclassical economists | Robert Heilbroner, The Worldly Philosophers (1953/1999) |
| Cold War রাজনীতি | ১৯৪৭-১৯৯১, পুঁজিবাদ vs সাম্যবাদ | Reagan, Thatcher, TINA | Angus Burgin, The Great Persuasion (2012) |
Note: প্রতিটি কারণের পেছনে প্রকাশিত একাডেমিক গবেষণা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয় -- এটি documented intellectual history।
এই ৫টি কারণ মিলিয়ে Adam Smith-এর নৈতিক দর্শন ইতিহাস থেকে প্রায় মুছে গেছে। কিন্তু Smith নিজে কী বলেছিলেন? চলুন তাঁর নিজের কথায় প্রমাণ দেখি।
প্রমাণ -- Smith-এর নিজের কথায়
এখন পর্যন্ত আমরা পণ্ডিতদের বিশ্লেষণ দেখেছি। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হলো Smith-এর নিজের লেখা। তাঁর দুটি বই থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিলে দেখা যায় যে তাঁকে শুধু self-interest-এর তাত্ত্বিক হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা ভুল। Smith ছিলেন একজন গভীর নৈতিক চিন্তাবিদ যিনি সমাজের কল্যাণ, ন্যায়বিচার এবং দরিদ্রদের অধিকার নিয়ে তীব্রভাবে চিন্তিত ছিলেন।
Smith নৈতিকতা সম্পর্কে
The Theory of Moral Sentiments, Part II, Section II, Chapter 3-তে Smith লিখেছেন: 'Justice is the main pillar that upholds the whole edifice of society.' ন্যায়বিচার হলো সমাজের পুরো কাঠামোর প্রধান স্তম্ভ। এটি কোনো পার্শ্ব মন্তব্য নয় -- এটি Smith-এর সামাজিক দর্শনের মূল কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন বাজার ব্যবস্থা তখনই কাজ করে যখন ন্যায়বিচারের ভিত্তি মজবুত থাকে। ন্যায়বিচার ছাড়া বাজার শোষণের হাতিয়ার হয়ে যায়।
"Justice is the main pillar that upholds the whole edifice of society." -- Adam Smith, The Theory of Moral Sentiments, Part II, Section II, Chapter 3
আবার TMS-এর Part I, Section III, Chapter 3-তে Smith বলেছেন: 'Humanity does not desire to be great, but to be beloved.' মানবতা মহান হতে চায় না, প্রিয় হতে চায়। এই বাক্যটি Smith-এর মানবপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা বলে দেয় -- মানুষ শুধু সম্পদ বা ক্ষমতা চায় না, মানুষ চায় অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য, প্রিয় এবং সম্মানিত হতে। এটি self-interest theory-র সরাসরি বিরোধী।
Smith বৈষম্য সম্পর্কে
The Wealth of Nations, Book I, Chapter 8-এ Smith একটি চমকপ্রদ বাক্য লিখেছেন: 'No society can surely be flourishing and happy, of which the far greater part of the members are poor and miserable.' কোনো সমাজ সমৃদ্ধ বা সুখী হতে পারে না যদি তার বেশিরভাগ সদস্য দরিদ্র ও দুঃখী হয়। এটি The Wealth of Nations থেকে -- সেই বই যাকে পুঁজিবাদের বাইবেল বলা হয়! কিন্তু এই উদ্ধৃতিটি কখনো উল্লেখ করা হয় না কারণ এটি unregulated capitalism-এর বিপক্ষে যায়।
Jesse Norman -- ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও লেখক -- তাঁর প্রকাশিত গবেষণা Adam Smith: What He Thought and Why It Matters (2018)-তে দেখিয়েছেন যে Smith বৈষম্য নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। Smith বিশেষভাবে চিন্তিত ছিলেন শিল্প শ্রমিকদের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে -- তিনি মনে করতেন একঘেয়ে, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক সক্ষমতা ধ্বংস করে। এই কারণেই তিনি সরকারি শিক্ষার পক্ষে ছিলেন।
Smith সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে
জনপ্রিয় বিশ্বাসের বিপরীতে, Adam Smith সরকারি হস্তক্ষেপের সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন না। The Wealth of Nations-এর Book V-তে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সরকারের তিনটি মূল দায়িত্বের কথা বলেছেন: জাতীয় প্রতিরক্ষা, ন্যায়বিচার ব্যবস্থা, এবং জনকল্যাণমূলক কাজ যেগুলো private sector-এর পক্ষে লাভজনকভাবে করা সম্ভব নয় -- যেমন শিক্ষা, অবকাঠামো এবং ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ। তিনি আরও বলেছেন যে সরকারের উচিত শ্রমিকদের শোষণ থেকে রক্ষা করা।
Smith এমনকি এক ধরনের progressive taxation-এরও পক্ষে ছিলেন। WN Book V, Chapter 2-তে তিনি লিখেছেন: 'The subjects of every state ought to contribute towards the support of the government, as nearly as possible, in proportion to their respective abilities; that is, in proportion to the revenue which they respectively enjoy under the protection of the state.' অর্থাৎ যে যত বেশি আয় করে, তার তত বেশি কর দেওয়া উচিত। এটি কি laissez-faire-এর ভাষা?
Noam Chomsky -- MIT-এর প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী -- তাঁর প্রকাশিত বক্তৃতা ও লেখায় বারবার বলেছেন যে Adam Smith তাঁর নামে যা করা হচ্ছে তা দেখলে আতঙ্কিত হতেন। Chomsky দেখিয়েছেন যে Smith যে division of labor-এর কথা বলেছিলেন, তার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে Smith নিজেই সতর্ক করেছিলেন -- কিন্তু সেই সতর্কতা সবাই উপেক্ষা করেছে।
"No society can surely be flourishing and happy, of which the far greater part of the members are poor and miserable." -- Adam Smith, The Wealth of Nations, Book I, Chapter 8
Smith-এর নিজের কথাই প্রমাণ করে যে তিনি শুধু self-interest-এর তাত্ত্বিক ছিলেন না। কিন্তু তাঁর Impartial Spectator ভুলে যাওয়ার বাস্তব পরিণতি কী হয়েছে? চলুন দেখি।
ফলাফল -- Impartial Spectator ভুলে যাওয়ার পরিণতি
Adam Smith-এর Impartial Spectator ভুলে গিয়ে শুধু Invisible Hand-কে ধরে রাখার পরিণতি আমরা আজ চারপাশে দেখতে পাচ্ছি। বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস, আর্থিক সংকট, শ্রমিক শোষণ -- এর প্রতিটির মূলে আছে নৈতিক বিচারবোধ ছাড়া অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। Smith যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তিনি সম্ভবত বলতেন: আমি তো এই সতর্কতা দিয়েছিলাম -- তোমরা শোনোনি।
বৈষম্য বিস্ফোরণ
Oxfam-এর ২০২৫ সালের Inequality Report অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১% ধনীর হাতে মোট সম্পদের প্রায় ৪৬%। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৬%। অর্থাৎ মাত্র ১৫ বছরে বৈষম্য ১০ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। Thomas Piketty তাঁর প্রকাশিত গবেষণা Capital in the Twenty-First Century (2014)-তে দেখিয়েছেন যে সম্পদ বৈষম্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগের মাত্রায় ফিরে গেছে। Piketty-র মূল যুক্তি: যখন r > g (মূলধনের return বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি), তখন বৈষম্য অনিবার্যভাবে বাড়ে।
Credit Suisse Global Wealth Report 2024 (published) অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সম্পদ $454.4 trillion। এর মধ্যে শীর্ষ ১% ধনীর হাতে প্রায় $208 trillion। নিচের ৫০% মানুষের হাতে মাত্র $5.3 trillion -- মোট সম্পদের ১.২%। এই পরিসংখ্যান Smith-এর সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চরম। ১৮ শতকে যে বৈষম্য Smith-কে উদ্বিগ্ন করেছিল, আজকের বৈষম্য তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
Smith-এর Impartial Spectator যদি আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় থাকতো, তাহলে কি একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক এটি মেনে নিতেন যে ২৬ জন ব্যক্তির সম্পদ বিশ্বের দরিদ্রতম ৫০% মানুষের সমান? Smith নিজেই বলেছিলেন -- 'No society can flourish where the greater part of the members are poor and miserable.' কিন্তু আমরা ঠিক সেই সমাজই তৈরি করেছি।
পরিবেশ ধ্বংস
IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change)-এর ২০২৩ সালের Synthesis Report অনুযায়ী, জলবায়ু সংকটের মূল কারণ হলো নৈতিক সংযম ছাড়া সীমাহীন মুনাফার অনুসন্ধান। Carbon Tracker-এর ২০২৫ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১০০টি কোম্পানি মোট greenhouse gas emission-এর ৭১% জন্য দায়ী। এই কোম্পানিগুলো দশকের পর দশক জানতো যে তাদের কার্যকলাপ পরিবেশ ধ্বংস করছে -- কিন্তু quarterly earnings-এর চাপে তারা সেটি উপেক্ষা করেছে।
Smith-এর Impartial Spectator এখানে কী বলতো? একজন ন্যায়পরায়ণ, সর্বজ্ঞ পর্যবেক্ষক কি মেনে নিতেন যে আজকের মুনাফার জন্য আগামীকালের পৃথিবী ধ্বংস করা হোক? Smith-এর নৈতিক কাঠামোতে এটি অনুমোদনযোগ্য নয়। কিন্তু Invisible Hand-only economics-এ পরিবেশ একটি externality -- বাজারের বাইরের বিষয়, যা মূল্য নির্ধারণে আসে না।
আর্থিক সংকট
২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট হলো Impartial Spectator-হীন অর্থনীতির সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ। Financial Crisis Inquiry Commission (FCIC)-এর ২০১১ সালের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংকটের মূল কারণ ছিল অনিয়ন্ত্রিত লোভ -- ব্যাংকাররা জানতেন toxic mortgage-backed securities বিক্রি ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু স্বল্পমেয়াদী মুনাফার জন্য তারা সচেতনভাবে সেটি করেছেন। ফলাফল? লক্ষ লক্ষ পরিবার বাড়ি হারিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।
প্রশ্ন করুন: যদি Impartial Spectator ওই ব্যাংকারদের মনে সক্রিয় থাকতো -- যদি তারা ভাবতেন একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক তাদের দেখছেন এবং বিচার করছেন -- তাহলে কি তারা জেনেশুনে পরিবারগুলোকে এমন mortgage দিতেন যা তারা পরিশোধ করতে পারবে না? Smith-এর নৈতিক কাঠামো ঠিক এই ধরনের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের কথাই বলেছিল।
শ্রমিক শোষণ
International Labour Organization (ILO)-এর ২০২৫ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৮ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত। আরও ১৬০ মিলিয়ন শিশু শিশুশ্রমে জড়িত। এই সংখ্যাগুলো কোনো দূরবর্তী অতীতের নয় -- এটি ২০২৫-এর বাস্তবতা। Global supply chain-এ -- যে পোশাক আপনি পরেন, যে ফোন আপনি ব্যবহার করেন -- তার পেছনে রয়েছে শোষণের এক বিশাল জাল।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, Adam Smith নিজেই এই শোষণ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। The Wealth of Nations, Book I, Chapter 8-এ তিনি লিখেছেন: 'Masters are always and everywhere in a sort of tacit combination not to raise the wages of labor above their actual rate.' মালিকরা সবসময় এবং সর্বত্র একটি নীরব জোট গঠন করে শ্রমিকদের মজুরি না বাড়াতে। Smith এটি ১৭৭৬ সালে বলেছিলেন -- ২৫০ বছর পরেও এটি সত্য।
| ক্ষেত্র | কী ঘটেছে | তথ্য | উৎস | Smith কী বলতেন |
| বৈষম্য | সম্পদ কেন্দ্রীভূত | শীর্ষ ১%-এর হাতে ৪৬% সম্পদ | Oxfam 2025 Report | সমাজ সমৃদ্ধ হতে পারে না যদি বেশিরভাগ দরিদ্র হয় |
| পরিবেশ | জলবায়ু সংকট | ১০০ কোম্পানি ৭১% emission-এর জন্য দায়ী | Carbon Tracker 2025, IPCC | Impartial Spectator ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনা করবে |
| আর্থিক সংকট | ২০০৮ বৈশ্বিক মন্দা | লক্ষ লক্ষ পরিবার বাড়ি হারিয়েছে | FCIC Report 2011 | নৈতিক সংযম ছাড়া বাজার ধ্বংসাত্মক হয় |
| শ্রমিক শোষণ | জোরপূর্বক শ্রম | ২৮ মিলিয়ন forced labor | ILO 2025 | মালিকরা সবসময় মজুরি না বাড়াতে জোট করে |
| বিশ্বাসের সংকট | প্রতিষ্ঠানে আস্থা কমছে | ৬৪% মানুষ সরকার/ব্যবসায় অবিশ্বাসী | Edelman Trust Barometer 2025 | ন্যায়বিচার সমাজের মূল স্তম্ভ |
Note: তথ্যসূত্র: Oxfam Inequality Report 2025, IPCC Synthesis Report 2023, FCIC Report 2011, ILO Global Estimates 2025, Edelman Trust Barometer 2025, Carbon Tracker published data।
এই পরিণতিগুলো দেখে অনেক চিন্তাবিদ এখন Smith-কে নতুন করে পড়ছেন। Impartial Spectator কি ফিরে আসছে? চলুন দেখি।
আধুনিক পুনর্মূল্যায়ন -- Smith-কে নতুন করে পড়া
২১ শতকে একটি ক্রমবর্ধমান একাডেমিক আন্দোলন শুরু হয়েছে -- Adam Smith-কে সামগ্রিকভাবে পুনরায় পড়া। শুধু The Wealth of Nations নয়, The Theory of Moral Sentiments-ও। শুধু Invisible Hand নয়, Impartial Spectator-ও। এই পুনর্মূল্যায়নের পেছনে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু চিন্তাবিদ, এবং তাদের যুক্তি শক্তিশালী প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে।
Amartya Sen -- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ -- দশকের পর দশক ধরে TMS এবং WN একসাথে পড়ার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। তাঁর The Idea of Justice (2009)-তে তিনি দেখিয়েছেন যে Smith-এর impartial spectator ধারণা ন্যায়বিচারের একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি হতে পারে। Sen-এর capability approach -- যা মানুষের সক্ষমতা ও স্বাধীনতাকে কেন্দ্রে রাখে -- সরাসরি Smith-এর নৈতিক দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত।
Martha Nussbaum -- University of Chicago-র দর্শন ও আইনের অধ্যাপক -- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ Political Emotions (2013)-তে যুক্তি দিয়েছেন যে Smith-এর নৈতিক দর্শন ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য। Nussbaum দেখিয়েছেন যে Smith-এর sympathy এবং impartial spectator ধারণা আধুনিক গণতন্ত্রে নাগরিক সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একাডেমিক জগতের বাইরেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ESG (Environmental, Social, Governance) বিনিয়োগ ২০২৫ সালে $40 trillion ছাড়িয়ে গেছে (Bloomberg Intelligence published data)। B-Corps -- যে কোম্পানিগুলো সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্বকে মুনাফার সমান গুরুত্ব দেয় -- তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। Stakeholder capitalism -- যেখানে কোম্পানি শুধু শেয়ারহোল্ডারদের নয়, সকল stakeholder-দের (শ্রমিক, সমাজ, পরিবেশ) সেবা করে -- এই ধারণা জোরদার হচ্ছে।
World Economic Forum তাদের প্রকাশিত রিপোর্টে stakeholder capitalism-কে সমর্থন করেছে। তাদের বক্তব্য: কোম্পানি শুধু শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নয়, সমাজের সকল অংশীদারদের জন্য কাজ করবে। এটি কি Smith-এর Impartial Spectator-এর আধুনিক রূপ নয়? একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কি চাইতেন যে একটি কোম্পানি শুধু ১% শেয়ারহোল্ডারের মুনাফা বাড়াতে গিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে শোষণ করুক?
Larry Fink -- BlackRock-এর CEO, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (প্রায় $10 trillion সম্পদ পরিচালনা করে) -- তাঁর প্রকাশিত বার্ষিক চিঠিতে লিখেছেন: 'Purpose is not the sole pursuit of profits but the animating force for achieving them.' উদ্দেশ্য শুধু মুনাফার অনুসন্ধান নয়, বরং মুনাফা অর্জনের চালিকা শক্তি। এটি Wall Street-এর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির কথা -- এবং এটি Smith-এর Impartial Spectator-এর সাথে আশ্চর্যজনকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
Joseph Stiglitz -- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং Columbia বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক -- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ The Price of Inequality (2012)-তে দেখিয়েছেন যে unregulated market-এর ফলে বৈষম্য বাড়ে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয়। Stiglitz-এর বক্তব্য হলো market economy কাজ করে, কিন্তু শুধু তখনই যখন সঠিক regulation ও নৈতিক কাঠামো থাকে -- এটি Smith-এর Impartial Spectator-এর আধুনিক প্রতিধ্বনি।
তবে সতর্ক থাকতে হবে। ESG এবং stakeholder capitalism নিয়ে greenwashing-এর অভিযোগও আছে। অনেক কোম্পানি PR-এর জন্য ESG-এর কথা বলে কিন্তু আসলে কিছু পরিবর্তন করে না। আসল পরিবর্তন আসবে তখনই যখন নৈতিক বিচারবোধ business model-এর অংশ হবে, শুধু marketing campaign-এর নয়।
পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে, কিন্তু পথ এখনো দীর্ঘ। এখন চলুন ডেটা দিয়ে দুটি দর্শনের প্রভাব তুলনা করি।
ডেটায় দেখা -- দুই দর্শনের তুলনা
Invisible Hand-only অর্থনীতি এবং Impartial Spectator-সহ অর্থনীতির মধ্যে পার্থক্য কী হতো? এটি সম্পূর্ণ hypothetical নয় -- কিছু দেশ ও প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে stakeholder-focused নীতি অনুসরণ করছে, এবং তাদের ফলাফল তুলনা করা যায়। Nordic দেশগুলো (Sweden, Denmark, Norway, Finland) উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে -- তারা বাজার অর্থনীতি ব্যবহার করে কিন্তু শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা জাল, শ্রমিক অধিকার এবং পরিবেশ সুরক্ষা সহ।
প্রশ্ন হলো: pure Invisible Hand-based অর্থনীতি কি ভালো ফলাফল দিয়েছে, নাকি Impartial Spectator-এর নৈতিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করলে ফলাফল ভালো হতো? একাধিক প্রকাশিত তথ্যসূত্র থেকে একটি তুলনামূলক চিত্র তৈরি করা সম্ভব।
| মানদণ্ড | Pure Invisible Hand ফলাফল | Impartial Spectator অন্তর্ভুক্ত হলে | তথ্যসূত্র |
| বৈশ্বিক বৈষম্য (Gini) | ক্রমবর্ধমান -- বিশ্ব Gini ~0.70 | Nordic দেশ Gini ~0.25-0.28 | World Bank published data |
| Corporate scandals | Enron, Wirecard, FTX -- ক্রমবর্ধমান | নৈতিক governance-সহ কোম্পানিতে কম | SEC enforcement data |
| পরিবেশ ক্ষতি | ১.৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রমের পথে | Carbon-neutral লক্ষ্যে Nordic দেশগুলো এগিয়ে | IPCC 2023 |
| শ্রমিক অবস্থা | ২৮ মিলিয়ন forced labor | শ্রমিক অধিকার আইন সহ দেশে ভালো | ILO 2025 |
| আর্থিক সংকটের হার | প্রতি ৮-১০ বছরে বড় সংকট | নিয়ন্ত্রিত বাজারে কম ঘন ঘন | IMF published historical data |
| প্রতিষ্ঠানে আস্থা | ক্রমহ্রাসমান -- ৬৪% অবিশ্বাসী | Nordic দেশে ৭০%+ আস্থা | Edelman Trust Barometer 2025 |
| মানসিক স্বাস্থ্য | বৈশ্বিক সংকট -- depression ৩০০ মিলিয়ন+ | সামাজিক নিরাপত্তা সহ দেশে ভালো | WHO 2025 published data |
Note: এই তুলনা সরাসরি causation প্রমাণ করে না, তবে correlation স্পষ্ট। তথ্যসূত্র: World Bank, IPCC, ILO, IMF, Edelman, WHO-এর প্রকাশিত তথ্য।
এই তথ্যগুলো দেখলে একটি pattern স্পষ্ট হয়। যেখানে শুধু Invisible Hand -- অর্থাৎ unregulated self-interest -- চালিকা শক্তি, সেখানে বৈষম্য বাড়ে, পরিবেশ ধ্বংস হয়, আস্থা কমে। আর যেখানে নৈতিক কাঠামো, সামাজিক দায়িত্ব এবং stakeholder-দের স্বার্থ বিবেচনা করা হয় -- অর্থাৎ Impartial Spectator-এর নীতি কাজ করে -- সেখানে ফলাফল সার্বিকভাবে ভালো।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই তুলনা প্রাসঙ্গিক। গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক -- কিন্তু Rana Plaza ধ্বংস (2013, ১,১৩৪ জন নিহত) দেখিয়েছে যে শুধু market-driven growth নৈতিক কাঠামো ছাড়া মানবিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। Smith-এর Impartial Spectator যদি সেই supply chain-এ সক্রিয় থাকতো, তাহলে কি একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক মেনে নিতেন যে সস্তা পোশাকের জন্য শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা হোক?
এর মানে এই নয় যে Invisible Hand অকেজো। বাজার ব্যবস্থা সম্পদ সৃষ্টি ও বণ্টনে অত্যন্ত কার্যকর -- এটি প্রমাণিত। কিন্তু Smith নিজেই বলেছিলেন, বাজারকে নৈতিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হবে। Invisible Hand কাজ করে -- কিন্তু Impartial Spectator-এর তত্ত্বাবধানে। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ।
ডেটা পরিষ্কার -- শুধু Invisible Hand যথেষ্ট নয়। তাহলে আমাদের করণীয় কী? চলুন ব্যবহারিক পদক্ষেপ দেখি।
করণীয় ও বর্জনীয়
তত্ত্ব ও তথ্য দেখা হলো। এখন প্রশ্ন -- ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং নীতিনির্ধারক হিসেবে আমরা কী করতে পারি? কীভাবে Adam Smith-এর পূর্ণ দর্শনকে -- Invisible Hand এবং Impartial Spectator দুটোকেই -- আমাদের চিন্তা ও কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি? এখানে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রস্তাব করা হলো।
করণীয়
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো Adam Smith-এর দুটি বইই পড়ুন। The Wealth of Nations পড়লে The Theory of Moral Sentiments-ও পড়ুন। TMS ছাড়া WN অসম্পূর্ণ -- ঠিক যেমন Smith নিজে চেয়েছিলেন দুটি বই একসাথে পড়া হোক। আধুনিক অনেক সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ও ভাষ্য পাওয়া যায় যা মূল টেক্সটকে সহজবোধ্য করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে নৈতিকতাকে অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন -- একজন নিরপেক্ষ, ন্যায়পরায়ণ পর্যবেক্ষক কি এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেবেন? এটিই Smith-এর Impartial Spectator test। যদি উত্তর না হয়, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করুন।
তৃতীয়ত, corporate accountability দাবি করুন। ভোক্তা হিসেবে, বিনিয়োগকারী হিসেবে, নাগরিক হিসেবে -- জিজ্ঞেস করুন কোম্পানিগুলো শুধু মুনাফা করছে নাকি সমাজে ইতিবাচক অবদানও রাখছে। ESG disclosure দাবি করুন, transparency দাবি করুন, accountability দাবি করুন।
চতুর্থত, stakeholder capitalism-কে সমর্থন করুন। Shareholder primacy -- যেখানে শুধু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ দেখা হয় -- এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। শ্রমিক, সমাজ, পরিবেশ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম -- সকলের স্বার্থ বিবেচনা করুন।
পঞ্চমত, Business school-এ নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করুন। MBA curriculum-এ শুধু financial modeling নয়, moral philosophy-ও থাকা উচিত। Harvard Business School ইতিমধ্যে ethics course বাধ্যতামূলক করেছে -- অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও এটি অনুসরণ করা উচিত।
ষষ্ঠত, শুধু GDP নয়, wellbeing পরিমাপ করুন। Bhutan-এর Gross National Happiness, New Zealand-এর Wellbeing Budget -- এগুলো দেখায় যে GDP-র বাইরেও সমৃদ্ধি পরিমাপের উপায় আছে। Smith-এর Impartial Spectator একটি সমাজ বিচার করবে শুধু এর GDP দিয়ে নয়, এর নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ দিয়ে।
সপ্তমত, এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করুন যা Impartial Spectator-এর মূর্ত রূপ। স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ন্যায্য আদালত ব্যবস্থা, স্বচ্ছ গণমাধ্যম -- এগুলো সমাজের Impartial Spectator হিসেবে কাজ করে। এদের শক্তিশালী করা মানে Smith-এর দর্শনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
বর্জনীয়
প্রথমত, Adam Smith-কে একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ করবেন না। Invisible Hand একটি ক্ষুদ্র রূপক -- Smith-এর সমগ্র দর্শনকে এই একটি ধারণায় সংকুচিত করা তাঁর চিন্তার প্রতি অবিচার। Smith একজন moral philosopher ছিলেন যিনি অর্থনীতি নিয়েও লিখেছেন -- তিনি শুধু একজন অর্থনীতিবিদ ছিলেন না।
দ্বিতীয়ত, ধরে নেবেন না যে শুধু self-interest-ই ভালো ফলাফল দেয়। এটি একটি oversimplification। Self-interest একটি শক্তিশালী প্রেরণা, কিন্তু নৈতিক সীমা ছাড়া এটি ধ্বংসাত্মক হতে পারে -- ২০০৮-এর আর্থিক সংকট এর প্রমাণ।
তৃতীয়ত, অর্থনীতিকে নৈতিকতা থেকে আলাদা করবেন না। Das Adam Smith Problem একটি মিথ -- Smith কখনো দুটি আলাদা করেননি। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নৈতিক কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত।
চতুর্থত, 'There Is No Alternative' (TINA) মানসিকতা পরিহার করুন। বিকল্প সবসময় আছে। Nordic model, stakeholder capitalism, social enterprise -- অনেক বিকল্প কাঠামো কাজ করছে। শুধু unregulated free market-ই একমাত্র পথ নয়।
পঞ্চমত, শুধু মুনাফাকে সাফল্যের মাপকাঠি বানাবেন না। একটি কোম্পানির সাফল্য শুধু তার profit margin দিয়ে মাপা উচিত নয় -- তার কর্মীদের সন্তুষ্টি, সমাজে অবদান, পরিবেশগত দায়িত্ব -- সবকিছু মিলেই সাফল্য।
ষষ্ঠত, বাজারকে সমস্ত সমস্যার সমাধান মনে করবেন না। বাজার অনেক কিছুতে দক্ষ, কিন্তু সবকিছুতে নয়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা -- এই ক্ষেত্রগুলোতে pure market solution কাজ করে না।
সপ্তমত, ইতিহাসকে একপেশেভাবে পড়বেন না। Adam Smith-এর ক্ষেত্রে যা করা হয়েছে -- selective reading, cherry-picking, context থেকে বিচ্ছিন্ন করে উদ্ধৃতি ব্যবহার -- এটি যেকোনো চিন্তাবিদের ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। সবসময় পূর্ণ প্রসঙ্গে পড়ুন।
করণীয় ও বর্জনীয় জানা হলো। কিন্তু Invisible Hand এবং Impartial Spectator -- দুটি দর্শনেরই সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আছে। চলুন সেটি দেখি।
সুবিধা ও অসুবিধা -- উভয় দর্শনের
একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ করতে হলে উভয় দর্শনের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে হবে। কোনো দর্শনই সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন নয়। Invisible Hand-এর নিজস্ব শক্তি আছে, ঠিক যেমন Impartial Spectator-এরও নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে। Smith সম্ভবত চেয়েছিলেন দুটির সমন্বয় -- এবং সেটিই সবচেয়ে যুক্তিসংগত পথ।
Invisible Hand-এর সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
Invisible Hand-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো efficiency। বাজার ব্যবস্থা সম্পদ বণ্টনে অবিশ্বাস্য রকম দক্ষ -- কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকারীর পক্ষে এত তথ্য প্রক্রিয়া করা সম্ভব নয় যা বাজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে। F.A. Hayek তাঁর প্রকাশিত গবেষণায় এটি knowledge problem হিসেবে বর্ণনা করেছেন। Innovation, entrepreneurship, economic growth -- এগুলো self-interest driven market-এর অবদান।
কিন্তু সীমাবদ্ধতাও গুরুতর। Market failure (externalities, monopoly, public goods), income inequality, boom-bust cycles, environmental destruction -- এগুলো pure Invisible Hand-এর ফলাফল। Nobel laureate Joseph Stiglitz তাঁর প্রকাশিত গবেষণায় বারবার দেখিয়েছেন যে unregulated markets systematically inefficient হতে পারে information asymmetry-র কারণে।
Impartial Spectator-এর সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
Impartial Spectator-এর সুবিধা হলো এটি অর্থনৈতিক কার্যকলাপে একটি নৈতিক মাত্রা যোগ করে। Trust, fairness, social cohesion -- এগুলো শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি (per Francis Fukuyama, Trust: The Social Virtues and the Creation of Prosperity, 1995 published)। Nordic দেশগুলো প্রমাণ করেছে যে নৈতিক কাঠামো সহ বাজার অর্থনীতি pure laissez-faire-এর চেয়ে ভালো ফলাফল দেয়।
Behavioral economics -- Daniel Kahneman (নোবেল বিজয়ী 2002) এবং Richard Thaler (নোবেল বিজয়ী 2017)-এর প্রকাশিত গবেষণা -- দেখিয়েছে যে মানুষ সবসময় rational self-interest অনুযায়ী কাজ করে না। Kahneman-এর Thinking, Fast and Slow (2011)-তে প্রমাণিত: মানুষ biased, emotional, এবং social -- ঠিক যেমনটি Smith TMS-তে বলেছিলেন। Modern behavioral economics আসলে Smith-এর moral psychology-র পুনরাবিষ্কার।
তবে Impartial Spectator-এরও সীমাবদ্ধতা আছে। নৈতিকতা পরিমাপ করা কঠিন, subjective হতে পারে, এবং cultural differences-এর কারণে universal standard তৈরি করা চ্যালেঞ্জিং। অতিরিক্ত নৈতিক regulation innovation-কে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং bureaucracy বাড়াতে পারে। আসল চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্য খোঁজা -- কোথায় বাজারকে স্বাধীনতা দিতে হবে এবং কোথায় নৈতিক সীমা আরোপ করতে হবে।
| দিক | Invisible Hand-এর সুবিধা | Invisible Hand-এর সীমাবদ্ধতা | Impartial Spectator-এর সুবিধা | Impartial Spectator-এর সীমাবদ্ধতা |
| দক্ষতা | অত্যন্ত উচ্চ -- সম্পদ বণ্টনে দক্ষ | Market failure-এ ব্যর্থ | দীর্ঘমেয়াদী দক্ষতা বাড়ায় | স্বল্পমেয়াদে ধীর হতে পারে |
| বৈষম্য | সম্পদ সৃষ্টি করে | সম্পদ কেন্দ্রীভূত করে | বণ্টনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করে | পুনর্বণ্টন রাজনৈতিকভাবে কঠিন |
| Innovation | শক্তিশালী প্রেরণা দেয় | শুধু লাভজনক innovation-এ focus | সামাজিক innovation-কেও উৎসাহিত করে | অতিরিক্ত regulation innovation কমাতে পারে |
| পরিবেশ | দক্ষ resource use | Externality উপেক্ষা করে | পরিবেশগত দায়িত্ব নিশ্চিত করে | পরিমাপ ও enforcement কঠিন |
| আস্থা | প্রতিযোগিতা মান বাড়ায় | Scandals আস্থা ভাঙে | নৈতিক ভিত্তি আস্থা তৈরি করে | Cultural differences চ্যালেঞ্জিং |
Note: এই তুলনা দেখায় যে কোনো একটি দর্শন একা যথেষ্ট নয় -- দুটির সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর।
দুটি দর্শনেরই সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আছে। Smith সম্ভবত দুটির সমন্বয় চেয়েছিলেন। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলেন? চলুন দেখি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
Adam Smith-এর পূর্ণ দর্শন পুনরুদ্ধারের পক্ষে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী চিন্তাবিদ কথা বলেছেন। তাঁদের প্রকাশিত গবেষণা ও বক্তব্য থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি এখানে উপস্থাপন করা হলো। এই প্রতিটি উদ্ধৃতি প্রকাশিত একাডেমিক কাজ থেকে নেওয়া।
"The reading of Smith that sees him purely as an advocate of selfishness is a deep distortion. His Theory of Moral Sentiments makes it abundantly clear that he saw a much richer picture of human motivation." -- Amartya Sen, The Idea of Justice (2009)
Amartya Sen-এর এই বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি নিজে একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ। তিনি mainstream economics-এর ভেতর থেকেই Smith-এর একপেশে পাঠকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। Sen দেখিয়েছেন যে Smith-এর দর্শনে self-interest এবং moral sentiments পরস্পরবিরোধী নয় -- বরং পরিপূরক।
"Adam Smith was not the cold-hearted apostle of self-interest that he is often made out to be. He was a warm, complex thinker who cared deeply about justice and human flourishing." -- Jesse Norman, Adam Smith: What He Thought and Why It Matters (2018)
Jesse Norman-এর এই মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ যিনি একই সাথে একজন দর্শনের গবেষক। তিনি দেখিয়েছেন যে Smith-এর ভুল পাঠ শুধু একাডেমিক সমস্যা নয় -- এটি নীতিনির্ধারণকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।
"The invisible hand is surely the most famous metaphor in economics, but it is a singularly unhelpful one. It obscures rather than illuminates." -- Emma Rothschild, Economic Sentiments (2001, Harvard University Press)
Emma Rothschild -- হার্ভার্ডের ইতিহাসের অধ্যাপক -- সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে invisible hand-এর ইতিহাস গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণা দেখায় যে Smith-এর সময়ে invisible hand কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে বিবেচিত হতো না -- এটি ২০ শতকের একটি আবিষ্কার।
"Smith's first and arguably most important philosophical contribution was his account of the impartial spectator, not the invisible hand." -- D.D. Raphael, The Impartial Spectator (2007, Oxford University Press)
D.D. Raphael-এর Oxford University Press থেকে প্রকাশিত এই গবেষণা Smith-এর নৈতিক দর্শনের সবচেয়ে বিশদ বিশ্লেষণগুলোর একটি। Raphael প্রমাণ করেছেন যে Smith-এর দার্শনিক legacy-তে Impartial Spectator-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
"Smith's entire philosophical project is built on the foundation of moral sympathy. To read him only through the lens of self-interest is to miss the forest for the trees." -- Ryan Patrick Hanley, Adam Smith and the Character of Virtue (2009, Cambridge University Press)
Gavin Kennedy -- Heriot-Watt বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যিনি তাঁর জীবনের বড় অংশ Adam Smith গবেষণায় ব্যয় করেছেন -- তাঁর ব্লগ Adam Smith's Lost Legacy এবং প্রকাশিত গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে দেখিয়ে যাচ্ছেন কীভাবে Smith-কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। Kennedy-র গবেষণা per published accounts স্পষ্ট: invisible hand একটি metaphor, কোনো theory নয়।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতরা একমত -- Smith-এর একপেশে পাঠ একটি গুরুতর ভুল। কিন্তু Smith নিজে আজ বেঁচে থাকলে কী বলতেন? চলুন শেষ করি সেই প্রশ্ন দিয়ে।
উপসংহার -- Adam Smith আজ বেঁচে থাকলে কী বলতেন?
Adam Smith The Theory of Moral Sentiments ছয়বার সংশোধন করেছিলেন তাঁর জীবদ্দশায়। শেষ সংশোধনটি -- ষষ্ঠ সংস্করণ -- প্রকাশিত হয়েছিল ১৭৯০ সালে, তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগে। এর মানে হলো Smith জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর নৈতিক দর্শন নিয়ে কাজ করে গেছেন। The Wealth of Nations-এর সংশোধনে তিনি অনেক আগেই আগ্রহ হারিয়েছিলেন। এই তথ্যটি একাই বলে দেয় কোন বইটি Smith-এর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আসল Adam Smith পুঁজিবাদের লোভের নবী ছিলেন না -- তিনি ছিলেন একজন নৈতিক দার্শনিক যিনি বিশ্বাস করতেন বাজার ব্যবস্থা তখনই কাজ করে যখন সেটি সহানুভূতি, ন্যায়বিচার এবং নৈতিক দায়িত্বের ভিত্তির উপর দাঁড়ায়। তিনি চেয়েছিলেন Invisible Hand এবং Impartial Spectator একসাথে কাজ করুক -- একটি ছাড়া অন্যটি বিপজ্জনক।
আমরা শুধু অর্ধেক Smith পড়েছি এবং অর্ধেক বার্তা শুনেছি। আমরা শুনেছি self-interest সমাজের কল্যাণ করে, কিন্তু শুনিনি যে সেই self-interest-কে নৈতিক সীমার মধ্যে থাকতে হবে। আমরা শুনেছি বাজার দক্ষ, কিন্তু শুনিনি যে বাজারকে ন্যায়বিচারের ভিত্তির উপর দাঁড়াতে হবে। আমরা Smith-এর economy নিয়েছি, কিন্তু তাঁর morality ফেলে দিয়েছি।
"How selfish soever man may be supposed, there are evidently some principles in his nature which interest him in the fortune of others, and render their happiness necessary to him, though he derives nothing from it except the pleasure of seeing it." -- Adam Smith, The Theory of Moral Sentiments, opening line, 1759
এটি Adam Smith-এর প্রথম বইয়ের প্রথম বাক্য। মানুষ যতই স্বার্থপর হোক, তার প্রকৃতিতে এমন কিছু আছে যা তাকে অন্যের সুখে আনন্দিত করে। এই বাক্যটি দিয়ে Smith তাঁর দার্শনিক যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু আমরা এই বাক্যটি ভুলে গিয়ে শুধু invisible hand মনে রেখেছি। হয়তো এখন সময় এসেছে এই বাক্যটি আবার মনে করার।
২০২৫ সালে বিশ্ব একটি crossroads-এ দাঁড়িয়ে। AI বিপ্লব, জলবায়ু সংকট, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য -- এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় শুধু বাজারের অদৃশ্য হাত যথেষ্ট নয়। আমাদের প্রয়োজন সেই নিরপেক্ষ দর্শক -- যে বলবে কোনটি ন্যায্য, কোনটি অন্যায্য, কোনটি মানবিক, কোনটি অমানবিক। Smith ২৫০ বছর আগে এই কথা বলেছিলেন। আমরা শুনিনি। হয়তো এখন শোনার সময়।
শেষ কথা -- Adam Smith-কে মুক্ত করুন। তাঁকে শুধু invisible hand-এর prophet হিসেবে আটকে রাখবেন না। তিনি ছিলেন একজন গভীর মানবতাবাদী দার্শনিক যিনি চেয়েছিলেন একটি ন্যায্য, সহানুভূতিশীল এবং নৈতিক সমাজ -- যেখানে বাজার কাজ করে মানুষের জন্য, মানুষ নয় বাজারের জন্য।
পুঁজিবাদ Adam Smith-এর অর্ধেক কথা শুনেছে। হয়তো এখন সময় এসেছে বাকি অর্ধেকটাও শোনার।










