GeoRenus Editorial Team

ইনবাউন্ড মার্কেটিং এমন একটি কৌশল গ্রহণ করে যেখানে গ্রাহকরা কোম্পানির কাছে আরও অর্গানিকভাবে আসে, যেখানে আউটবাউন্ড মার্কেটিং গ্রাহকদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সাথে জড়িত। ইনবাউন্ড এবং আউটবাউন্ড মার্কেটিং পদ্ধতি লিড জেনারেশন এবং সেলসকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করে, কিন্তু উভয় প্রকার মার্কেটিং আপনার যেকোনো ব্যবসা দুর্দান্ত সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইনবাউন্ড মার্কেটিং মূলত কোনো পণ্য বা সার্ভিস দ্বারা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার উপর নজর দেয়। গ্রাহক, সম্ভাবনা এবং গ্রাহকদের সাথে অর্থপূর্ণ, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বৃদ্ধি করার পদ্ধতিও ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত।
Hubspot এর মতে, কোনো কোম্পানি বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ইনবাউন্ড মার্কেটিং সহজ হয়ে থাকে। যে ব্যবসাগুলি প্রধানত ইনবাউন্ড মার্কেটিং উপর নির্ভর করে সেগুলোর প্রতিটি নতুন অর্জিত গ্রাহকের জন্য $১৪ এর বেশি সাশ্রয় করতে সক্ষম হতে পারে।
আউটবাউন্ড মার্কেটিং হল মার্কেটিং এর একটি ঐতিহ্যবাহী রূপ যেখানে একটি কোম্পানি সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে বা নেতৃত্ব দেয়।
আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর মাধ্যমে, ব্যবসা বা কোম্পানিগুলি একটি বিস্তৃত নেট কাস্ট করে এবং গ্রাহকরা সেই বার্তাগুলি গ্রহণ করতে চায় কিনা তা না জেনেই বারবার বার্তাগুলি গ্রাহকের উপর চাপিয়ে লাভের আশা করে৷
যাইহোক, আউটবাউন্ড মার্কেটিং বর্তমানে আরও আধুনিক প্রযুক্তিতেও প্রয়োগ করা হচ্ছে, যেমন- পে- পার- ক্লিক এবং স্প্যাম ইমেল।
ইনবাউন্ড এবং আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণ করলে এদের মধ্যে বেশ কিছু প্রধান পার্থক্য দেখা যায়।
এখানে ইনবাউন্ড এবং আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর পার্থক্য সংক্ষেপে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছেঃ
| ইনবাউন্ড মার্কেটিং | আউটবাউন্ড মার্কেটিং |
| তথ্যপূর্ণ ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে, নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহক বা ট্রাফিক লক্ষ্য করে এবং ভোক্তাদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার চেষ্টা করে। | ডিজিটাল কন্টেন্ট এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কন্টেন্টসমূ লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ডিজাইন করা হয় এবং পণ্য ক্রয় করার অফার দেয়। |
| কন্টেন্ট সাধারণত ইন্টারেক্টিভ আকারে আসে, যেমন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্লগ, রিপোর্ট, ওয়েবিনার ইত্যাদি। | কন্টেন্ট সরাসরি মেইল, ম্যাগাজিন বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, টিভিতে, ইত্যাদিতে প্রদর্শিত হয় এবং প্যাসিভ বলে বোঝানো হয়৷ |
| মেসেজ বা বার্তা নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য উপযোগী করা হয়। | মেসেজ বা বার্তা অনির্দিষ্ট এবং অগণিত গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। |
| ডিজিটাল মার্কেটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য। | যেহেতু এর কন্টেন্ট ডিজিটাল নয়, সেহেতু পরিমাপ কঠিন হয়ে পড়ে। |
কোনো কোম্পানির ব্লগ সমূহ ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর সবচাইতে সুস্পষ্ট উদাহরণগুলির মধ্যে একটি।
ব্লগ আর্টিকেলগুলো কন্টেন্ট মার্কেটিং এর একটি দুর্দান্ত উদাহরণ এবং অংশ যা ব্যবহারকারীর চাহিদা এবং প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।
মানুষজন এখন ইন্টারনেট জুড়ে ব্লগ আর্টিকেল ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট ব্যবহার করতে পছন্দ এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এক্ষেত্রে, ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর আরেকটি দুর্দান্ত এবং প্রয়োজনীয় উদাহরণ হলো ইনফোগ্রাফিক্স।
ইনফোগ্রাফিক যত বেশি তথ্যপূর্ণ এবং সাবলীল হবে অন্য কেউ এটিকে ব্যবহার করার সম্ভাবনা তত বেশি হয়ে থাকে।
ভিডিও কন্টেন্ট বর্তমানে বহুল আলোচিত এবং ধীরে ধীরে ব্যপক পরিমাণে জনপ্রিয় হচ্ছে।
মানুষজন কোনো একটা বিষয়বস্তু বা খবরাখব ভিডিও এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দেখতে পছন্দ করে এবং এই কারণেই একটি ভিডিও সিরিজ বিকাশ করা ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর একটি দুর্দান্ত উদাহরণ।
এছাড়াও
ইমেল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন হলো ইমেলের একটি সিরিজ যা কোনো কোম্পানি বা ব্যবসা বর্তমান এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করতে, তাদের কোম্পানির সাথে জড়িত হতে উত্সাহিত করার জন্য ব্যবহার করে।
আপনি হয়তোবা জানেন যে বিলবোর্ড এড মার্কেটিং এর পুরনো একটি পদ্ধতি, তবে নিশ্চিত থাকুন যে এগুলো এখনও অনেক কোম্পানির জন্য সক্রিভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আরও সৃজনশীল হচ্ছে।
আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর অন্যতম জনপ্রিয় একটি উদাহরণ হচ্ছে টেলিভিশন এড। টেলিভিশন এডগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যা লোকজনকে এডসহ পণ্য এবং বার্তা মনে রাখতে অনুপ্রেরণা দেয়।
এছাড়াও-
ব্যবসার ক্ষেত্রে সুবিধার কথা চিন্তা করতে গেলে প্রথমে যে দিকে নজর দিতে হয় সেটি হচ্ছে খরচ। ইনবউন্ড মার্কেটিং আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর তুলনায় অনেক কম খরচের মাধ্যমে একটি কোম্পানির (সব আকারের) জন্য লিড বা গ্রাহক তৈরি করতে পারে।
একটি জরিপ অনুসারে, ছোট ব্যবসাগুলি আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর মাত্র এক- তৃতীয়াংশ ইনবাউন্ড মার্কেটিং এ খরচ করলে বেশি সংখ্যক সঠিক লিড তৈরি করতে পারে।
ইনবাউন্ড মার্কেটিং বিশেষভাবে বিক্রয় ফানেলের প্রতিটি পর্যায়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তাই এর কন্টেন্ট সমূহ মূলত শিক্ষামূলক হয়ে থাকে। পাশাপাশি, এর কৌশলের প্রতিটি অংশকে একটি মেট্রিকের সাথে সংযুক্ত করা যা সময়ের সাথে সাথে নিরীক্ষণ করা যায়।
আউটবাউন্ড মার্কেটিং এমন লোকেদের কাছেও পৌঁছাতে সক্ষম হয় যারা আগে কোনো পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে শোনেনি বা জানেনি।
ক্রেতার ব্যক্তিত্বকে সাবধানে তৈরি করা এবং নির্দিষ্ট জনসংখ্যার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিবর্তে, আউটবাউন্ড মার্কেটিং যতটা সম্ভব ব্যাপকভাবে পৌঁছায়। এই বৃহত্তর নাগালের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তুষ্ট গ্রাহক তৈরি হতে পারে।
কারণ ইনবাউন্ড মার্কেটিং এ ব্যবহারকারীকে গ্রাহকে রূপান্তর করতে উৎসাহিত করবে এমন বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি ও প্রয়োগ করতে সময় এবং শ্রম দুটোই অত্যাধিক পরিমাণে লাগে।
ফলাফলস্বরুপ, সব কোম্পানি ইনবাউন্ড মার্কেটিং এ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয় না।
ইনবাউন্ড মার্কেটিং যেহেতু ওপেন-এন্ডেড (কোনো সুনির্দিষ্ট বা পরিকল্পিত সমাপ্তি বা ফলাফল নেই), এটি নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য স্পষ্টভাবে অনুসরণ করা কঠিন হতে পারে।
আউটবাউন্ড মার্কেটিংকে সবার জন্য আকর্ষণীয় এবং প্রাসঙ্গিক করা কঠিন।
বিলবোর্ডের মতো কিছু আউটবাউন্ড মার্কেটিং কৌশলের ফলাফল পরিমাপ করা বিশাল চ্যালেঞ্জিং।
আউটবাউন্ড মার্কেটাররা গ্রাহকদের খোঁজে, ইনবাউন্ড মার্কেটাররা গ্রাহক আকৃষ্ট করার উপর ফোকাস করে, তাই সম্ভাব্য ক্রেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইনবাউন্ড মার্কেটিং এর দিকেই আসে।
ইনবাউন্ড মার্কেটিং হল এমন একটি কৌশল যেখানে এমন কন্টেন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল তৈর করা হয় যা পণ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দেয় যাতে লোকেরা সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে পারে, তথ্যের জন্য উক্ত পণ্যের ওয়েবসাইটে যেতে পারে, পণ্যে আগ্রহ দেখাতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে একটি ক্রয় করতে পারে।
একটা কোম্পানির সফলতা মুলত পরিশ্রম, ধৈর্য্য আর সময়ের উপর নির্ভর করে। আপনি যে মার্কেটিং পদ্ধতিই অনুসরণ করেন না, এক্ষেত্রে আপনার পুরো ফোকাস, পরিশ্রম আর সময় দিতে হবে এবং পাশাপাশি ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।








