ক্রেডিট স্প্রেড বা ঋণ ঝুঁকি ব্যবধান হলো একই মেয়াদী দুটি বন্ডের ইল্ডের মধ্যে পার্থক্য, যেখানে বন্ড দুটির ক্রেডিট মান বা ঝুঁকি আলাদা। সাধারণত, এটি একটি কর্পোরেট বন্ডের ইল্ড এবং একটি তুলনামূলক সরকারি বন্ডের (যা ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচিত) ইল্ডের মধ্যে পার্থক্য দ্বারা পরিমাপ করা হয়।
সাধারণত, ক্রেডিট স্প্রেড পরিমাপ করা হয় একটি কর্পোরেট বন্ডের ইল্ড থেকে একটি তুলনামূলক সরকারি বন্ডের ইল্ড বাদ দিয়ে। এটি বেসিস পয়েন্টে (bps) প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১ বেসিস পয়েন্ট = ০.০১%।
ক্রেডিট স্প্রেড অর্থনীতির স্বাস্থ্য এবং বাজারের ঝুঁকির ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যেখানে -
ওয়াইডেনিং স্প্রেড (Widening Spread): যখন ক্রেডিট স্প্রেড বাড়ে, এর মানে হলো বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বন্ডের জন্য বেশি ক্ষতিপূরণ চাচ্ছে। এটি সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দা বা আর্থিক অস্থিরতার ইঙ্গিত।
ন্যারোয়িং স্প্রেড (Narrowing Spread): যখন ক্রেডিট স্প্রেড কমে, এর মানে হলো বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বন্ডে বিনিয়োগ করতে আস্থাবান এবং কম ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করছে। এটি সাধারণত অর্থনৈতিক আস্থা এবং স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, ক্রেডিট স্প্রেড সাধারণত ব্যাংক ব্যবস্থার ভেতরের সুদের হার ব্যবধান (interest rate spread) হিসেবে দেখা হয়, যা ব্যাংকের আমানতের সুদের হার এবং ঋণের সুদের হারের মধ্যে পার্থক্য।