330 articles
ফিফা মানে বিশ্ব ফুটবলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকারী। ১৯০৪-এ প্যারিসে সাত দেশের প্রতিনিধি নিয়ে জন্ম। জুরিখে সদর দপ্তর। সুইস অলাভজনক অ্যাসোসিয়েশন। ২১১টা সদস্য ফেডারেশন (জাতিসংঘের চেয়ে বেশি)। ৬টা কনফেডারেশন। ২০১৯-২০২২ চক্রে আয় $৭.৫ বিলিয়ন। ২০২৬-২০৩০-এ $১১B প্রত্যাশা। আয়ের ৫ উৎস। সম্প্রচার ৫৫%, স্পন্সরশিপ ২০%, টিকিট ১৫%, লাইসেন্সিং ৫%, অন্যান্য ৫%। ৭ স্টেকহোল্ডার। ফেডারেশন, কনফেডারেশন, খেলোয়াড়/ক্লাব, স্পন্সর, সম্প্রচারক, আয়োজক দেশ, ভক্ত। শাসন: কংগ্রেস (২১১ ভোট), কাউন্সিল (৩৭ সদস্য), প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো। ২০১৫-এর $২B দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও ইনফান্তিনো সংস্কার। ফিফা vs উয়েফা vs ক্লাব আধুনিক দ্বন্দ্ব। বাংলাদেশ BFF ফরওয়ার্ড প্রোগ্রামে বছরে $১.৫-২M পায়।

বাজেটের আকার দেখে ভালো-মন্দ বিচার করা যায় না। আসল মাপকাঠি পাঁচটা। টাকা আসছে কোথা থেকে? খরচ ভবিষ্যৎ গড়ছে, নাকি শুধু ঋণ শোধ করছে? ঘাটতি মেটানো হচ্ছে কীভাবে? সরকার আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিকে যাচ্ছে কি না? এবং ভর্তুকির বড় অংশ যাচ্ছে কাদের কাছে? FY27 বাজেট পাঁচটা মাপকাঠির একটাতেও ভালো করছে না। সিঙ্গাপুর, নরওয়ে, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। মূলত বাজেটের শৃঙ্খলাই ৩০ বছরে একটা প্রজন্মের ভাগ্য বদলায়।

বাংলাদেশ ২০২২-২০২৬ সালে এক বিরল ও বিপজ্জনক অর্থনৈতিক অবস্থায় ঢুকেছে — উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (১০%+), নিম্ন GDP প্রবৃদ্ধি এবং taka depreciation একসাথে। এর নাম stagflation — ১৯৭০-এর US-কেও যা মাটিতে নামিয়েছিল। সাধারণ মুদ্রানীতি এটির বিরুদ্ধে কাজ করে না, কারণ inflation কমাতে rate বাড়ালে growth আরো কমে। এই লেখায় বাংলাদেশের stagflation কোথা থেকে এলো, কেন এটি এত বিপজ্জনক এবং কীভাবে এর থেকে বের হওয়া সম্ভব, সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ২০০৯-২০২২ সালের ১৪ বছরের অর্থনৈতিক উত্থানের ভেতরেই ভেঙে পড়ার বীজ লুকিয়ে ছিল — যা ২০২২-২০২৪ সালের সংকটে প্রকাশ পেয়েছে। GDP দ্রুত বাড়ছিল, মেগা-প্রজেক্ট চলছিল, RMG export $৪২ বিলিয়ন ছুঁয়েছিল — কিন্তু এর নিচে ছিল গভীর ঋণ-নির্ভরতা, banking capture এবং রিজার্ভ ক্ষয়। এই লেখায় Boom-Bust Cycle তত্ত্ব দিয়ে বাংলাদেশের এই সংকট কীভাবে এলো, কোন signals miss হয়েছিল এবং সামনে কী আশা করা যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

রফিক ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বিরিয়ানির ব্যবসা শুরু করলো। কিন্তু শুধু ভালো বিরিয়ানি বানালেই কি ব্যবসা টিকে? এই সিরিজের প্রথম পর্বে রফিকের রাস্তার ঠেলা থেকে প্রথম দোকান পর্যন্ত যাত্রায় আমরা শিখবো ব্যবসার সবচেয়ে মৌলিক হিসাব — Revenue, Fixed ও Variable Cost, Gross Profit ও Net Profit, Profit Margin, ROI এবং Break-even Point। প্রতিটি সূত্র রফিকের আসল সংখ্যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে — কোনো তত্ত্ব নয়, সম্পূর্ণ বাস্তব ব্যবসার গল্প।

Adam Smith-কে 'পুঁজিবাদের জনক' বলা হয় তাঁর Invisible Hand (অদৃশ্য হাত) ধারণার জন্য -- যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাজের কল্যাণ করে। কিন্তু একটি চমকপ্রদ তথ্য: Smith তাঁর সমগ্র রচনায় 'Invisible Hand' শব্দটি মাত্র ৩ বার ব্যবহার করেছেন (The Theory of Moral Sentiments-এ ১ বার, The Wealth of Nations-এ ১ বার, History of Astronomy-তে ১ বার)। অন্যদিকে তাঁর প্রথম এবং প্রিয় বই The Theory of Moral Sentiments (১৭৫৯)-এর কেন্দ্রীয় ধারণা 'Impartial Spectator' (নিরপেক্ষ দর্শক) -- একটি অভ্যন্তরীণ নৈতিক কণ্ঠ যা সহানুভূতি, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে মানুষকে পরিচালিত করে। তাহলে পুঁজিবাদ কেন Smith-এর নৈতিক দর্শন বাদ দিয়ে শুধু স্বার্থের তত্ত্ব গ্রহণ করলো? এই আর্টিকেলে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।

ছোট ব্যবসা (Small Business) বলতে সাধারণত ৫০ জনের কম কর্মী, সীমিত মূলধন এবং স্থানীয় বা সীমিত বাজারে পরিচালিত ব্যবসাকে বোঝায়। বড় ব্যবসা (Large Business/Corporation) বলতে শত থেকে হাজার কর্মী, বিশাল মূলধন এবং জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়। SBA-এর ২০২৫ তথ্যমতে আমেরিকার ৯৯.৯% ব্যবসাই ছোট ব্যবসা এবং এরাই মোট কর্মসংস্থানের ৪৬% প্রদান করে। অন্যদিকে Fortune 500 কোম্পানিগুলো মোট GDP-র প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে। এই আর্টিকেলে দুই ধরনের ব্যবসার সংজ্ঞা, ১০টি মূল পার্থক্য, সুবিধা-অসুবিধা, বাস্তব উদাহরণ, এবং আপনার জন্য কোনটি সঠিক তা নির্ধারণের গাইড দেওয়া হয়েছে।

এটি Financial Leverage বিতর্কের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্ব। প্রথম পর্বে দুই পক্ষের যুক্তি ও ডেটা বিশ্লেষণ দেখানো হয়েছে। এই পর্বে Warren Buffett (insurance float-এর গোপন leverage), George Soros (একদিনে $1B), Ray Dalio (risk parity) সহ বিশ্বখ্যাতদের মতামত, বাংলাদেশের বাস্তবতা (৯-১২% সুদ, NPL সংকট), একটি ব্যবহারিক Leverage Calculator (নিজের সংখ্যা বসিয়ে ঝুঁকি বুঝুন), ২০২৫-২৬ সালের বৈশ্বিক leverage পরিস্থিতি (ক্রিপ্টো বিপর্যয়, AI CapEx ঝুঁকি, উচ্চ সুদের হার), এবং চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে।

Value Proposition হলো আপনার পণ্য বা সেবা কেন গ্রাহকের কেনা উচিত -- এই প্রশ্নের স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য উত্তর। এটি গ্রাহককে বলে আপনি কী সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন, কীভাবে তাদের জীবন সহজ বা ভালো করবেন, এবং প্রতিযোগীদের চেয়ে আপনি কেন আলাদা। Apple-এর value proposition হলো 'Think Different' -- শুধু ফোন নয়, একটি ecosystem ও lifestyle। Uber-এর হলো 'Tap a button, get a ride' -- জটিল ট্যাক্সি খোঁজার সমাধান। CB Insights-এর ২০২৫ সালের তথ্যমতে স্টার্টআপ ব্যর্থতার ২য় বৃহত্তম কারণ (৩৫%) হলো 'no market need' -- অর্থাৎ দুর্বল বা অনুপস্থিত value proposition। এই আর্টিকেলে value proposition-এর সংজ্ঞা, উপাদান, তৈরির ফ্রেমওয়ার্ক, বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর উদাহরণ, ভুল এড়ানোর উপায় এবং কার্যকর value proposition তৈরির ধাপে ধাপে গাইড দেওয়া হয়েছে।

Gross Merchandise Value (GMV) হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি মার্কেটপ্লেস বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রিত সকল পণ্যের মোট মূল্য -- ডিসকাউন্ট, রিটার্ন বা ফি বাদ দেওয়ার আগে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার দোকানে ১০০টি পণ্য ১,০০০ টাকা করে বিক্রি হলে GMV = ১,০০,০০০ টাকা -- এটি আপনার আসল আয় (Revenue) নয়, বরং মোট লেনদেনের পরিমাণ। GMV বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটপ্লেস (যেমন Amazon, Daraz), রাইড-শেয়ারিং (Uber, Pathao), এবং ফুড ডেলিভারি (Foodpanda) ব্যবসায়। এই আর্টিকেলে GMV-এর সংজ্ঞা, সূত্র, Revenue-এর সাথে পার্থক্য, বাস্তব উদাহরণ, শীর্ষ কোম্পানিগুলোর GMV তুলনা, এবং GMV বাড়ানোর কৌশল বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

স্থায়ী ব্যয় (Fixed Cost) হলো সেই খরচ যা উৎপাদনের পরিমাণ যাই হোক না কেন একই থাকে -- যেমন দোকান ভাড়া, বীমা, বেতন। পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) হলো সেই খরচ যা উৎপাদন বা বিক্রির সাথে সাথে বাড়ে বা কমে -- যেমন কাঁচামাল, প্যাকেজিং, ডেলিভারি। এই দুই ধরনের খরচ বুঝতে পারলে মূল্য নির্ধারণ, ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ এবং মুনাফা পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়। এই আর্টিকেলে সংজ্ঞা, সূত্র, তিনটি বাস্তব উদাহরণ (রেস্টুরেন্ট, ই-কমার্স, SaaS), শিল্পভেদে তুলনা, এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের কৌশল বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

নেটওয়ার্কিং ব্যবসার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারগুলোর একটি। PayPal Mafia থেকে Y Combinator — সফল উদ্যোক্তারা কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করে সাম্রাজ্য গড়েন? ১০টি প্রমাণিত নেটওয়ার্কিং পদ্ধতি, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া, ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তব উদাহরণসহ একটি সম্পূর্ণ গাইড।

বিল গেটস বছরে ৫০টি বই পড়েন, ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫০০ পৃষ্ঠা পড়েন — সফল উদ্যোক্তারা জানেন পড়াশোনাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং, আইন, স্ট্র্যাটেজি, নেতৃত্ব সহ ব্যবসার জন্য অপরিহার্য সব বিষয় এবং সেরা বইয়ের তালিকা — একটি সম্পূর্ণ গাইড।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর Basel III হলো ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো। Basel I থেকে Basel III পর্যন্ত বিবর্তন, মূলধন প্রয়োজনীয়তা, তারল্য অনুপাত, লিভারেজ অনুপাত এবং বাংলাদেশে এর বাস্তবায়ন — সব কিছু সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা।

সময়ই ব্যবসার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এলন মাস্ক থেকে জেফ বেজোস — সফল উদ্যোক্তারা কীভাবে তাদের সময় পরিচালনা করেন? আইজেনহাওয়ার ম্যাট্রিক্স, পমোডোরো, টাইম ব্লকিং সহ ৭টি প্রমাণিত পদ্ধতি, ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তব উদাহরণসহ একটি সম্পূর্ণ গাইড।

ঝুঁকি কি আসলেই আমরা যা ভাবি তাই? ৫ জন বিশ্বমানের চিন্তাবিদ — Nassim Taleb, Warren Buffett, Elon Musk, Daniel Kahneman ও Peter Thiel — ঝুঁকিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখেন। Taleb বলেন যা দেখতে পাচ্ছেন না সেটাই আসল বিপদ (Black Swan), Buffett বলেন না বোঝাটাই ঝুঁকি (Circle of Competence), Musk বলেন না করাটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি (First Principles), Kahneman বলেন আপনার মস্তিষ্কের bias-ই আসল শত্রু, আর Thiel বলেন সবার মতো ভাবাটাই ধ্বংসের পথ। বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এই ৫ দৃষ্টিভঙ্গি একটি সম্পূর্ণ ঝুঁকি-চিন্তার কাঠামো তৈরি করে।

Sun Tzu-র ২,৫০০ বছরের পুরনো The Art of War-এর সামরিক দর্শন কীভাবে আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশলে পরিণত হয়েছে তার বিশ্লেষণ। ৫টি ধাপের নিয়ন্ত্রণ সূত্র — ভূমি দখল, গোয়েন্দাগিরি, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, শর্ত আরোপ, এবং Lock-in — দিয়ে Google ($৩০৭B রাজস্ব, ৯২% সার্চ), Amazon (৬০%+ ই-কমার্স সার্চ), Apple (৯২% retention), এবং bKash (২১ কোটি+ অ্যাকাউন্ট) কীভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তার কেস স্টাডি।

WhatsApp-এর মাত্র ৫৫ জন কর্মী নিয়ে Facebook কিনেছিল $19 বিলিয়নে। আর পাড়ার মুদিদোকান ৫ জন কর্মী নিয়েও হয়তো মাত্র ২০ লাখ টাকার সম্পদ। পার্থক্যটা কোথায়? একটাই উত্তর — Value Creation। একটা ব্যবসা যত বেশি মূল্য তৈরি করে, সে তত বেশি টিকে থাকে, বাড়ে, এবং মূল্যবান হয়। এই গাইডে আছে মূল্য তৈরির ৭টি পদ্ধতি, Michael Porter-এর Value Chain, Value Proposition Canvas, Value Creation বনাম Value Capture-এর ভারসাম্য, এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তব বিশ্লেষণ — সব মিলিয়ে ব্যবসার সবচেয়ে মৌলিক ধারণাটির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা।

ব্যবসায়িক ব্যর্থতা এলোমেলো দুর্ভাগ্য নয় — এটি অনুমানযোগ্য এবং এর একটি প্যাটার্ন আছে। CB Insights অনুযায়ী ৪২% স্টার্টআপ ব্যর্থ হয় বাজারে চাহিদা না থাকায়, ২৯% ক্যাশ ফুরিয়ে, ২৩% ভুল টিমের কারণে। এই লেখায় ১৮টি সবচেয়ে সাধারণ ভুল ৬টি ক্যাটাগরিতে (গবেষণা, পণ্য, আর্থিক, দল, কৌশল, মানসিকতা) বিশ্লেষণ করা হয়েছে — বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক উদাহরণসহ। প্রতিটি ভুলের সমাধানও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের একটি গার্মেন্টস কারখানা ১০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করল — কিন্তু বছর শেষে নেট লাভ মাত্র ৭৭ লাখ। Amazon-এর বার্ষিক Revenue $575 বিলিয়ন, অথচ Net Margin মাত্র ৪%। WeWork-এর Revenue $1.8 বিলিয়ন, লোকসান $1.6 বিলিয়ন। Revenue আর Profit — এই দুটো শব্দ অনেকেই এক মনে করেন, কিন্তু এদের পার্থক্য না বোঝাটাই ব্যবসায়িক ব্যর্থতার অন্যতম বড় কারণ। এই আর্টিকেলে Income Statement-এর ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ, Profit Margin-এর হিসাব, বিশ্বখ্যাত কোম্পানির বাস্তব উদাহরণ এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে Revenue বনাম Profit বোঝার সম্পূর্ণ গাইড।

বাংলাদেশে যে কেউ দোকান খুললেই নিজেকে 'উদ্যোক্তা' বলেন — কিন্তু Entrepreneur আর Business Owner আসলে এক জিনিস নয়। Elon Musk হলেন Entrepreneur, আর আপনার পাড়ার মুদির দোকানদার যিনি ৩০ বছর ধরে সফলভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি Business Owner — দুজনেই সফল, দুজনেই সম্মানীয়, কিন্তু মানসিকতা, লক্ষ্য ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। এই আর্টিকেলে ১৫+ দিকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ, বিখ্যাত উদাহরণ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং সেলফ-অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে আপনি নিজেকে চিনতে পারবেন।

ব্যবসা করব নাকি চাকরি করব — বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের মনে এই প্রশ্ন ঘোরে। বাবা-মা বলেন সরকারি চাকরি নাও, বন্ধু বলে ব্যবসা শুরু করো, সোশ্যাল মিডিয়া দেখায় ২২ বছরে কোটিপতি উদ্যোক্তা। কিন্তু সত্যি কথা হলো — দুটো পথই কঠিন, এবং সঠিক উত্তর নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিত্ব, ঝুঁকি সহনশীলতা, আর্থিক অবস্থা ও জীবনের লক্ষ্যের উপর। এই আর্টিকেলে ১৫+ দিকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ, ১০ প্রশ্নের সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট কুইজ, বয়স অনুযায়ী পরামর্শ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে আপনাকে নিজের সঠিক পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করা হবে।

CNN-এ 'sanctions', BBC-তে 'proxy war', Al Jazeera-তে 'hegemony' — এই শব্দগুলো প্রতিদিন শুনছেন, কিন্তু অর্থ বুঝছেন না? Geopolitics-এর ভাষা না জানলে বিশ্বরাজনীতির খবর নিছক শব্দের ভিড় মাত্র। এই গাইডে ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরিভাষা — Hegemony থেকে Hybrid Warfare, Sanctions থেকে Chokepoint, BRICS থেকে NPT পর্যন্ত — সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা ও বাস্তব উদাহরণসহ উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজানো এই Glossary আপনার Geopolitics বোঝার Decoder Ring।

বাংলাদেশে জ্বালানির দাম কেন বাড়ে যখন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে — ৮০০০ কিমি দূরে? টাকার দাম কেন পড়ে যায় যখন আমেরিকার Federal Reserve সুদ বাড়ায়? চীন কেন শ্রীলঙ্কায় বন্দর বানাচ্ছে — আর ভারত কেন তা নিয়ে চিন্তিত? এই সবকিছুর উত্তর একটাই: Geopolitics। ভূগোল, সম্পদ আর ক্ষমতার এই অদৃশ্য খেলা আপনার চালের দাম থেকে চাকরির বাজার পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। এই গাইডে Geopolitics-এর সংজ্ঞা, মূল তত্ত্ব, বড় খেলোয়াড়, বর্তমান হটস্পট এবং বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান — সবকিছু সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Monroe Doctrine থেকে Bush Doctrine — প্রতিটি বড় ভূ-রাজনৈতিক মতবাদ আসলে একটি দেশের 'বিশ্বনীতির ঘোষণাপত্র'। ১৮২৩ সালে মনরো ঘোষণা করেছিলেন ইউরোপ আমেরিকায় আর হাত দিতে পারবে না। ১৯৪৭ সালে ট্রুম্যান বললেন সারা বিশ্বে কমিউনিজম আটকাতে হবে। ১৯৮০-র রিগ্যান বললেন শুধু আটকানো না — পিছিয়ে দাও। ২০০১-এর বুশ বললেন আঘাত আসার আগেই আঘাত করো। এই নিবন্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূ-রাজনৈতিক মতবাদগুলো — তাদের প্রেক্ষাপট, মূল বক্তব্য, প্রভাব ও আজকের প্রাসঙ্গিকতা — সহজ বাংলায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

Google আপনাকে বিনামূল্যে search দেয়, Netflix মাসিক ফি নেয়, Uber-এর একটিও গাড়ি নেই — তবুও এরা বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি। আসলে কীভাবে? উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের Business Model-এ। এই নিবন্ধে বিশ্বের ১০টি সেরা কোম্পানির — Google, Amazon, Apple, Netflix, Uber, bKash, IKEA, Gillette, Airbnb এবং Tesla — exact money-making mechanism বাস্তব সংখ্যা ও উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতিটি কোম্পানি শেখায় ভিন্ন একটি শিক্ষা — advertising থেকে subscription, razor-blade থেকে platform model পর্যন্ত। Business Model সত্যিকার অর্থে বুঝতে চাইলে এই ১০টি case study অবশ্যপাঠ্য।

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন বেশি বিক্রি মানেই বেশি লাভ — এটা একটা বড় ভুল। Amazon ২০২৩ সালে $৫৭৫ বিলিয়ন Revenue করেছে, কিন্তু Net Profit Margin মাত্র ৪%। Revenue হলো শুরু, Profit হলো শেষ — এবং এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে খরচ, সুদ, কর এবং অনেক বাস্তবতা। Gross Profit, Operating Profit ও Net Profit — এই তিনটি স্তর কী, Income Statement কীভাবে পড়তে হয়, Break-Even Point কীভাবে বের করতে হয়, এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে লাভের বাস্তবতা — সব নিয়ে এই বিস্তারিত গাইড।

বেশিরভাগ উদ্যোক্তা Business Model আর Business Plan-কে একই জিনিস মনে করেন — এটা একটা বড় ভুল। বিনিয়োগকারীরা 'business plan' চান, কিন্তু আসলে বুঝতে চান আপনার 'business model'। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা টুল, আলাদা উদ্দেশ্যে। Business Model হলো আপনার আয়ের লজিক — WHY এবং HOW আপনি টাকা বানান। Business Plan হলো বিস্তারিত execution roadmap — সংখ্যা, timeline, কৌশল। Model = GPS-এর দিকনির্দেশনা। Plan = প্রতিটি মোড়ের বিস্তারিত নির্দেশনা। কোনটি আগে দরকার, কখন কোনটি ব্যবহার করবেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনটি বেশি উপকারী — সব নিয়ে এই বিস্তারিত তুলনামূলক গাইড।

আপনার কাছে দারুণ একটি পণ্য আছে — কিন্তু আপনি আসলে টাকা কীভাবে বানাবেন? সেটাই Business Model। Google বিনামূল্যে সার্চ দেয় অথচ বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার আয় করে। Uber-এর একটি গাড়িও নেই অথচ কোম্পানির মূল্য ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। Amazon শুধু e-commerce নয় — cloud, subscription, advertising, marketplace সব একসাথে। Business Model মানে শুধু পণ্য বিক্রি নয় — এটা হলো একটি ব্যবসা কীভাবে মূল্য তৈরি করে, পৌঁছে দেয় এবং সেই মূল্য থেকে আয় করে তার পূর্ণ চিত্র। Subscription থেকে Freemium, Advertising থেকে Marketplace, Razor-and-Blade থেকে SaaS — ১৫টি প্রধান Business Model, Alexander Osterwalder-এর Business Model Canvas, বিশ্বের সেরা কেস স্টাডি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে এই বিস্তারিত গাইড।

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ বিদেশ সচিব আর্থার জেমস বেলফোর মাত্র ৬৭ শব্দের একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি 'জাতীয় আবাসভূমি' তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল — এমন একটি ভূমি যা ব্রিটেনের দেওয়ার অধিকার ছিল না, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ ছিল আরব। সেই একটি দলিল থেকেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টি, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং আজও জ্বলতে থাকা একটি সংঘাতের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। বেলফোর ঘোষণা কী ছিল, কেন দেওয়া হয়েছিল, কারা এর পেছনে ছিলেন এবং ১০০ বছরেরও বেশি সময় পরে এর প্রভাব কী — এই বিস্তারিত বিশ্লেষণে সব প্রশ্নের উত্তর।

Adam Smith (১৭২৩-১৭৯০) কে 'আধুনিক অর্থনীতির জনক' বলা হয়, কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় ছিল একজন নৈতিক দার্শনিক। তাঁর প্রথম এবং প্রিয় বই The Theory of Moral Sentiments (১৭৫৯)-এর কেন্দ্রীয় ধারণা 'Impartial Spectator' -- সহানুভূতি ও ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অভ্যন্তরীণ নৈতিক কণ্ঠ। Emma Rothschild-এর (Harvard UP 2001) প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী Smith 'Invisible Hand' শব্দটি সমগ্র রচনায় মাত্র ৩ বার ব্যবহার করেছেন। তবু পুরো বিশ্ব তাঁকে শুধু Invisible Hand-এর জন্য মনে রাখে এবং Impartial Spectator ভুলে গেছে। এই আর্টিকেলে Smith-এর জীবনী, উভয় বইয়ের বিশ্লেষণ, মূল ধারণা, ভুল বোঝাবুঝি, প্রভাব এবং আজকের প্রাসঙ্গিকতা -- সবকিছু সেই হারিয়ে যাওয়া নৈতিক দর্শনের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Leverage মানে ধার করা টাকায় রিটার্ন বহুগুণ করা — কিন্তু সুদের বিল আসে লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে। 3:1 leverage, 10% সুদ: বাজার 20% উঠলে রিটার্ন 40%, পড়লে ইকুইটির 80% শেষ। Chamath Palihapitiya এই অস্ত্রে $100M-কে $1B+ বানিয়েছেন। Bill Hwang একই অস্ত্রে $20B হারিয়েছেন ৪৮ ঘণ্টায়। কখন গুণক, কখন গিলোটিন — সংখ্যা, কেস স্টাডি, আর leverage-এর আসল গণিত। এই পর্বে দেখবো — leverage আসলে কী, পক্ষে-বিপক্ষে কী যুক্তি, আর কোন যুক্তির ফাঁক কোথায়।

অর্থনীতি কখনো সরলরেখায় চলে না — এটি সবসময় উঠানামা করে। Boom হলো দ্রুত প্রবৃদ্ধির সময়: কর্মসংস্থান বাড়ে, দাম বাড়ে, আশাবাদ তুঙ্গে। Bust হলো পতনের সময়: GDP কমে, ছাঁটাই হয়, হতাশা ছড়ায়। ১৮৫৪ সাল থেকে NBER-এর তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪টি ব্যবসায়িক চক্র হয়েছে। ২০০৬ সালে সবাই বাড়ি কিনছিল, ২০০৮-এ ক্র্যাশ, ২০২০-এ COVID crash, ২০২১-এ boom, ২০২২-এ inflation bust — এই প্যাটার্ন বারবার পুনরাবৃত্তি হয়। কেন ঘটে, কীভাবে কাজ করে, ইতিহাসের বড় চক্রগুলো কেমন ছিল এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব কী — এই বিস্তারিত গাইডে সব বিশ্লেষণ।

মুদ্রাস্ফীতি কি জনগণের সম্পদ চুরি করার নীরব কর নাকি অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়োজনীয় জ্বালানি? Milton Friedman বলেন এটা সরকারের চুরি, Paul Krugman বলেন এটা ছাড়া অর্থনীতি থেমে যায়। এই নিবন্ধে দুই পক্ষের যুক্তি, ঐতিহাসিক প্রমাণ, বাংলাদেশের ডেটা ও বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদদের মতামত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে: মাঝারি মুদ্রাস্ফীতি (২-৪%) জ্বালানি, অনিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি (৮%+) নীরব কর।

GDP (Gross Domestic Product) হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মোট আর্থিক মূল্য -- কিন্তু এটি কি সত্যিই উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র দেখায়? ইকুয়েটোরিয়াল গিনির GDP per capita $7,000+ অথচ জনগণের ৭৭% দরিদ্র। আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি কিন্তু সুখ সূচকে ১৫তম। ভুটানের GDP ক্ষুদ্র কিন্তু Gross National Happiness-এ বিশ্বনেতা। এই আর্টিকেলে GDP-র সংজ্ঞা, গণনা পদ্ধতি, ১০টি মৌলিক সীমাবদ্ধতা, বিশ্বব্যাপী GDP প্যারাডক্স, বিকল্প মেট্রিক (HDI, GNH, Gini, GPI), এবং Beyond GDP আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ব্যাংক মানে টাকার ভল্ট নয় — এটি একটি অর্থ-কারখানা। Bank of England ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন টাকা তৈরি করে। প্রতিটি ঋণ অনুমোদনের সময় দুটি কম্পিউটার এন্ট্রি দিয়ে নতুন অর্থ জন্ম নেয়, আর ঋণ পরিশোধে সেই অর্থ ধ্বংস হয়। এই আর্টিকেলে আমরা জানব ব্যাংক ঠিক কী কী করে, কীভাবে টাকা তৈরি হয়, Fractional Reserve Banking কী, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের বাস্তব চিত্র — এবং একজন সচেতন গ্রাহক হিসেবে আপনার কী জানা দরকার।

আরব-ইসরায়েল সংঘাত শুধু দুটি জাতির যুদ্ধ নয় — এটি বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ১৯৪৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রতিটি যুদ্ধ বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে — তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছে, পরাশক্তির প্রক্সি যুদ্ধ ঘটিয়েছে, নতুন জোট তৈরি করেছে। ১৯৭৩-এর তেল অস্ত্র থেকে ২০২৩-এর হামাস আক্রমণ — এই সংঘাতের ঢেউ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স থেকে বৈশ্বিক তেলের দাম পর্যন্ত সব কিছুতে পৌঁছায়। এই আর্টিকেলে ইতিহাস, কূটনীতি, পরাশক্তির খেলা, তেল অস্ত্র, ইরান ফ্যাক্টর ও বাংলাদেশের সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

অর্থনৈতিক সংকট হলো হঠাৎ ও তীব্র অর্থনৈতিক পতন যেখানে GDP কমে, বেকারত্ব বাড়ে, ব্যাংক ব্যর্থ হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ১৯২৯-এর মহামন্দা থেকে ২০০৮-এর বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, ২০২০-এর কোভিড ধাক্কা থেকে ২০২২-এর মুদ্রাস্ফীতি -- ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে সংকট অনিবার্য কিন্তু পুনরুদ্ধারও সম্ভব। এই আর্টিকেলে সংকটের কারণ, ইতিহাসের ভয়াবহ উদাহরণ, যুদ্ধ ও সংকটের সম্পর্ক, সরকারি মোকাবেলা কৌশল, পুনরুদ্ধারের ধরন এবং ব্যক্তিগত করণীয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ফ্রয়েডীয় বিজ্ঞাপন হলো সিগমুন্ড ফ্রয়েডের অবচেতন মনের তত্ত্ব ব্যবহার করে ক্রেতাদের ক্রয় সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার কৌশল। Harvard-এর গবেষণা অনুযায়ী আমাদের ৯৫% ক্রয় সিদ্ধান্ত অবচেতনে নেওয়া হয়। ফ্রয়েডের ভাতিজা Edward Bernays এই তত্ত্বকে বিজ্ঞাপনে প্রয়োগ করে Public Relations শিল্প তৈরি করেন। Id (আনন্দ), Ego (যুক্তি), Superego (নৈতিকতা) — এই তিন স্তরকে target করে Sex Appeal, Fear, Nostalgia, Identity, Symbolism, Social Proof ও Repetition কৌশল ব্যবহৃত হয়।

অর্থনীতি শুধু অর্থনীতিবিদদের বিষয় নয় — এটি আপনার প্রতিদিনের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। চালের দাম কেন বাড়ে, বেতন কেন কমে, সরকার কেন সবকিছু বিনামূল্যে দিতে পারে না — এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে একটি মাত্র শব্দে: দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity)। এই আর্টিকেলে অর্থনীতির মূল ভিত্তি থেকে শুরু করে GDP, মুদ্রাস্ফীতি, চাহিদা-যোগান, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে — সহজ ভাষায়, বাস্তব উদাহরণে।

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ব্যবসা মানে শুধু কেনাবেচা — কিন্তু ব্যবসা তার চেয়ে অনেক বড়। উৎপাদন, সেবা, বিতরণ, ঝুঁকি নেওয়া এবং মূল্য তৈরি — এই সবকিছু মিলিয়েই ব্যবসা। বিশ্বজুড়ে ৪০ কোটিরও বেশি আনুষ্ঠানিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে, বাংলাদেশে রয়েছে ৮০ লাখেরও বেশি SME। এই আর্টিকেলে ব্যবসার সংজ্ঞা, মূল উপাদান, মালিকানা ও কার্যক্রম অনুযায়ী প্রকারভেদ, আকার বিভাজন, বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট এবং ব্যবসা শুরু করার ধাপে ধাপে গাইড বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন মার্কেটিং মানে বিজ্ঞাপন দেওয়া — কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল। মার্কেটিং শুরু হয় পণ্য তৈরির আগে, শেষ হয় বিক্রির পরে। ফিলিপ কটলার থেকে সেথ গোডিন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা বলেন মার্কেটিং আসলে গ্রাহককে বোঝার বিজ্ঞান — এমনভাবে বোঝা যাতে পণ্য নিজেই বিক্রি হয়ে যায়। এই আর্টিকেলে মার্কেটিংয়ের সংজ্ঞা, 4P কাঠামো, বিবর্তন, প্রকারভেদ, কার্যপ্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

পর্ব ২-এ দেখেছিলাম গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের স্বর্ণযুগ থেকে ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডসে পাউন্ডের সিংহাসন হারানো পর্যন্ত। পর্ব ৩ এবং শেষ পর্বে সেই পরবর্তী নাটকীয় অধ্যায় — যুদ্ধ-পরবর্তী ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন, ১৯৭৬ সালে IMF-এর কাছে হাত পাতা, থ্যাচারের মুদ্রাবাদী পরীক্ষা, ১৯৯২ সালে জর্জ সোরোসের কাছে পরাজয়, ব্রেক্সিটের ধাক্কা, লিজ ট্রাসের ৪৫ দিনের বিপর্যয় এবং আজকের পাউন্ড — এই পুরো গল্প এবং বিশ্বের যেকোনো মুদ্রার জন্য এর শিক্ষা।

পর্ব ১-এ দেখেছিলাম পাউন্ডের জন্ম থেকে ১৮১৬ সালের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পর্যন্ত। পর্ব ২-এ সেই নাটকীয় মধ্যবর্তী অধ্যায় — যে ১৩০ বছরে পাউন্ড বিশ্ব শাসন করেছিল এবং তারপর সব হারিয়েছিল। গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের স্বর্ণযুগ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শীর্ষ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা, চার্চিলের মারাত্মক ভুল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দেউলিয়াত্ব এবং ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস চুক্তিতে ডলারের কাছে সিংহাসন হারানো — এই পর্বে সেই পুরো গল্প।

ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং ১,২০০ বছরের পুরনো মুদ্রা। এই পর্বে দেখা হয়েছে অর্থের উৎপত্তি, বিনিময় প্রথার সমস্যা, ধাতব মুদ্রার বিবর্তন, কাগজের টাকার আবিষ্কার, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিষ্ঠা এবং ১৮১৬ সালে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণের মাধ্যমে পাউন্ডের বিশ্বসেরা মুদ্রায় পরিণত হওয়ার ইতিহাস।

ব্যাংকে গেলে এমন অনেক শব্দ শোনা যায় যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত — EMI, FDR, KYC, RTGS, CIB, CAR। এই পরিভাষাগুলো না বুঝলে ব্যাংকিং সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়। বাংলাদেশে ৬৫% এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যাংক হিসাব থাকলেও অধিকাংশই মৌলিক ব্যাংকিং শব্দগুলো জানেন না। এই গাইডে ৫০টিরও বেশি জরুরি ব্যাংকিং পরিভাষা সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যাংকিং করতে পারেন।

Debt Trap Diplomacy হলো সেই ভূ-রাজনৈতিক কৌশল যেখানে শক্তিশালী দেশ দুর্বল দেশকে বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পের জন্য ঋণ দেয় — জেনেশুনে যে দেশটি ফেরত দিতে পারবে না। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণগ্রহীতা দেশকে বন্দর, খনি বা সামরিক ঘাঁটির মতো কৌশলগত সম্পদ হস্তান্তর করতে হয়। চীনের Belt and Road Initiative (BRI) এই কৌশলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ — শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর থেকে জিবুতির সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত। তবে ঋণকূটনীতি শুধু চীনের নয় — IMF, বিশ্বব্যাংক এবং ঔপনিবেশিক শক্তিরাও ভিন্নভাবে একই খেলা খেলেছে।

IIF-এর ২০২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী বৈশ্বিক ঋণ $315 trillion ছাড়িয়েছে -- বৈশ্বিক GDP-র ৩৩০%। IMF Fiscal Monitor বলছে সরকারি ঋণ $100 trillion+ -- WWII-এর পর সর্বোচ্চ। ৬০%-এর বেশি নিম্ন-আয়ের দেশ IMF-এর debt distress classification-এ। ইতিহাসের প্রতিটি বড় অর্থনৈতিক সংকট -- ১৯২৯, ১৯৮২, ১৯৯৭, ২০০৮, ২০২২ -- মূলে ছিল অনিয়ন্ত্রিত ঋণ। এই আর্টিকেলে IMF, World Bank, IIF, BIS-এর ডেটার ভিত্তিতে প্রমাণ করা হয়েছে: পাগলা ঘোড়া ইতিমধ্যেই ছুটছে।

Financial Leverage বা আর্থিক লিভারেজ হলো ধার করা অর্থ ব্যবহার করে বিনিয়োগের রিটার্ন বাড়ানোর কৌশল। সহজ ভাষায়, আপনার নিজের ১ টাকার সাথে ব্যাংক থেকে আরও ৪ টাকা ধার নিয়ে ৫ টাকার বিনিয়োগ করা — এটাই লিভারেজ। বিনিয়োগ লাভজনক হলে রিটার্ন কয়েকগুণ বাড়ে, কিন্তু লোকসান হলে ক্ষতিও কয়েকগুণ বেশি হয়। রিয়েল এস্টেট, শেয়ার বাজার, কর্পোরেট ফাইন্যান্স — সর্বত্র লিভারেজ ব্যবহৃত হয়। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত লিভারেজ।

মানব সভ্যতার ইতিহাস আসলে বাণিজ্য পথের ইতিহাস। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ পণ্য, ধারণা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের জন্য পথ তৈরি করেছে — সেই পথ ধরেই সাম্রাজ্য উঠেছে, সভ্যতা বিকশিত হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তি রচিত হয়েছে। সিল্ক রোড, মশলা পথ, ট্রান্স-সাহারান পথ, ইনসেন্স রুট — প্রতিটি বাণিজ্য পথের পেছনে আছে ক্ষমতা, সম্পদ ও রাজনীতির এক জটিল গল্প। এই পর্বে আমরা জানবো বাণিজ্য পথ কী, কেন এগুলো তৈরি হয়েছিল এবং প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলো কীভাবে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছিল।

সিল্ক রোড শুধু একটি রাস্তা ছিল না — এটি ছিল প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য নেটওয়ার্ক, যা চীন থেকে রোম পর্যন্ত প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার বিস্তৃত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতক থেকে শুরু করে প্রায় ১,৫০০ বছর ধরে এই পথে শুধু রেশম নয় — মশলা, সোনা, কাগজ, বারুদ, ধর্ম, ভাষা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা চলাচল করেছে। সিল্ক রোড আধুনিক গ্লোবালাইজেশন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনীতির পূর্বসূরি — এবং আজকের চীনের Belt and Road Initiative সরাসরি এই ঐতিহাসিক পথের উত্তরাধিকার।

White Elephant বা "সাদা হাতি" হলো এমন কোনো সম্পদ, প্রকল্প বা বিনিয়োগ যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এত বেশি যে সেটা মালিকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় — কিন্তু সেটা থেকে বের হওয়াও কঠিন। শব্দটি এসেছে প্রাচীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি কিংবদন্তি থেকে, যেখানে রাজারা অপ্রিয় দরবারীদের সাদা হাতি উপহার দিতেন — যেটা ফেলে দেওয়া যায় না কিন্তু পালতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়। আধুনিক ব্যবসা, সরকারি প্রকল্প এবং ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে এই ধারণা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

গেরিলা মার্কেটিং হলো এমন একটি মার্কেটিং পদ্ধতি যেখানে প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বদলে সৃজনশীল, অপ্রত্যাশিত এবং কম খরচের কৌশল ব্যবহার করে মানুষের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলা হয়। ১৯৮৪ সালে জে কনরাড লেভিনসন এই ধারণার জন্ম দেন। রাস্তার শিল্পকর্ম থেকে শুরু করে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া স্টান্ট — গেরিলা মার্কেটিং প্রমাণ করে যে বড় বাজেট নয়, বড় আইডিয়াই আসল অস্ত্র। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে Nike, Coca-Cola-র মতো বিশ্বব্র্যান্ডও এই কৌশল ব্যবহার করে।

পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রাজনৈতিক দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ক্ষমতা অর্জন ও ক্ষমতা ধরে রাখার যে নীতিগুলো শিখিয়েছিলেন, সেগুলো আধুনিক মার্কেটিংয়ে অবিশ্বাস্যভাবে কার্যকর। Machiavellian Marketing Framework (MMF) হলো সেই কৌশলগত কাঠামো যেখানে ম্যাকিয়াভেলির ক্ষমতার দর্শন — ভয় ও ভালোবাসার ব্যবহার, কৌশলগত প্রতারণা, সুযোগ কাজে লাগানো এবং প্রতিযোগিতায় আধিপত্য বজায় রাখা — এই সবকিছু মার্কেটিং কৌশলে প্রয়োগ করা হয়। Apple, Nike, Amazon-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো সচেতনে বা অবচেতনে এই কাঠামো ব্যবহার করেই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে।

১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে অটোমান সাম্রাজ্যের আরব ভূখণ্ড নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার চুক্তি করে। মার্ক সাইক্স ও ফ্রাঁসোয়া জর্জ-পিকো নামক দুই কূটনীতিকের তৈরি এই গোপন চুক্তিই আজকের ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের সীমান্ত নির্ধারণ করেছিল। আরবদের সাথে করা স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের বীজ বপন করেছিল।

যুদ্ধ মানেই ধ্বংস — এই ধারণাটা আমরা ছোটবেলা থেকে জানি। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। কিছু দেশের জন্য, কিছু শিল্পের জন্য, কিছু মানুষের জন্য — যুদ্ধ মানে বিশাল মুনাফা। এই ব্যবস্থার নাম "ওয়ার ইকোনমি" বা যুদ্ধ অর্থনীতি। দুটো বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত পর্যন্ত — প্রতিটি বড় যুদ্ধের পেছনে কাজ করছে এই অদৃশ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই লেখায় আমরা জানবো কীভাবে যুদ্ধ অর্থনীতির জন্ম হলো, কীভাবে এটি কাজ করে এবং কীভাবে আধুনিক সাম্রাজ্যগুলো এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখছে।

আজ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তেল কিনতে হোক, ঋণ নিতে হোক বা বিমান টিকিট কাটতে হোক — সবকিছুর পেছনে একটাই মুদ্রা: আমেরিকান ডলার। কিন্তু এই আধিপত্য একদিনে আসেনি। দুটো বিশ্বযুদ্ধ, একটি গোপন সম্মেলন, সোনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন এবং তেলের সাথে এক অলিখিত চুক্তি — এই সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ডলারের অদৃশ্য সাম্রাজ্য। এই লেখায় আমরা জানবো কীভাবে একটি কাগজের টুকরো পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অস্ত্র হয়ে উঠল এবং ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার কী হতে পারে।

M0, M1 এবং M2 হলো অর্থের তিনটি স্তর — যেগুলো দেখলে বোঝা যায় একটা অর্থনীতিতে আসলে কতটুকু "সত্যিকারের" অর্থ আছে আর কতটুকু ব্যাংকের তৈরি ঋণ-ভিত্তিক অর্থ। M0 হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো নোট ও কয়েন — এটাই একমাত্র "আসল" অর্থ। M1 এবং M2 যত বাড়ে, বুঝতে হবে ব্যাংক তত বেশি ঋণের মাধ্যমে অর্থ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোতে M2 এবং M0-এর অনুপাত দেখলে স্পষ্ট হয় যে সত্যিকারের অর্থের চেয়ে ব্যাংকের তৈরি অর্থ কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই চিত্র আরো বেশি উদ্বেগজনক কারণ উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা এই অনুপাতকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

ঋণ-ভিত্তিক অর্থ সৃষ্টি বা Debt-based Money Creation হলো আধুনিক অর্থব্যবস্থার সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং কম আলোচিত সত্য — প্রতিটা ব্যাংক ঋণ আসলে নতুন অর্থের জন্ম দেয়, এবং সেই ঋণ শোধ হলে সেই অর্থ আবার ধ্বংস হয়ে যায়। অর্থাৎ আমরা যে টাকা প্রতিদিন ব্যবহার করি তার বেশিরভাগই সরকার ছাপায়নি — ব্যাংক তৈরি করেছে, শূন্য থেকে, একটা কম্পিউটার এন্ট্রির মাধ্যমে। এই আবিষ্কার শুনতে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মতো লাগলেও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ২০১৪ সালে এটা সরকারিভাবে স্বীকার করেছে। এই সিস্টেম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সম্ভব করেছে, কিন্তু একই সাথে এমন একটা ফাঁদ তৈরি করেছে যেখান থেকে বের হওয়ার পথ নেই — কারণ ঋণ থামলেই অর্থ ধ্বংস হয়, এবং অর্থ ধ্বংস হলে অর্থনীতি ভাঙে।

ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ ব্যাংকিং হলো আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল কাঠামো, যেখানে ব্যাংক তার কাছে জমা রাখা আমানতের পুরোটা সংরক্ষণ না করে মাত্র একটা নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ রিজার্ভ হিসেবে রেখে বাকিটা ঋণ হিসেবে দিয়ে দেয়। এই একটা নীতির উপর ভিত্তি করে একটা আমানত থেকে বহুগুণ বেশি অর্থ পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে মানি মাল্টিপ্লায়ার বলে। সিস্টেমটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সম্ভব করলেও এটি মূলত বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে — বিশ্বাস ভাঙলেই ব্যাংক রান, সিস্টেম ভাঙে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ এই পদ্ধতিতে চললেও ইসলামিক ব্যাংকিং এবং Full Reserve-এর মতো বিকল্প সিস্টেম এই ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে চ্যালেঞ্জ করছে।

পেট্রোডলার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিশ্বের সব তেল কেনাবেচা হয় মার্কিন ডলারে। এই একটি নিয়মের কারণে পৃথিবীর প্রতিটি দেশকে তেল কিনতে হলে আগে ডলার সংগ্রহ করতে হয় — ফলে ডলারের চাহিদা সবসময় অটুট থাকে এবং আমেরিকা এমন একটি অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করে যা পৃথিবীর আর কোনো দেশের নেই। ১৯৭৪ সালে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে এই ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল — যা আজ পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু চীন, রাশিয়া ও সৌদি আরবের নতুন কৌশলে এই ব্যবস্থা এখন চাপে আছে।

পৃথিবীর মাটির নিচে এখনও ১,৫৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদ আছে — যা বর্তমান গতিতে ব্যবহার করলে আরও ৪৭ বছর চলবে। কিন্তু এই তেল সমানভাবে বিতরণ করা নেই। মধ্যপ্রাচ্য একাই ধরে রেখেছে বিশ্বের ৫০%-এরও বেশি মজুদ। এই লেখায় ডেটার আলোকে দেখানো হয়েছে তেল কোথায় আছে, কে তুলছে, কীভাবে পরিবাহিত হচ্ছে এবং কোথায় ব্যবহার হচ্ছে।

তেল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া পণ্য এবং আধুনিক অর্থনীতির কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, কারখানার উৎপাদন খরচ বাড়ে, পরিবহন ব্যয় বাড়ে — আর এই শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ায় পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে পড়ে। ১৯৭৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি বড় তেল সংকটের পরেই মন্দা এসেছে। তেল শুধু জ্বালানি নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির রক্তচাপ মাপার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যন্ত্র।

বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোনো পণ্য নেই যার জন্য এত মানুষের রক্ত ঝরেছে যতটা ঝরেছে তেলের জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ভেনেজুয়েলা ও ইরান সংকট পর্যন্ত — তেলকে ঘিরে যে রক্তাক্ত ইতিহাস তৈরি হয়েছে তার পূর্ণ চিত্র এই লেখায় তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৭৩ সালের তেল অবরোধ বিশ্বকে প্রথমবার বুঝিয়ে দেয় যে তেল শুধু পণ্য নয় — এটি পারমাণবিক বোমার মতোই শক্তিশালী একটি অস্ত্র। সেই ঘটনার পর বিশ্বের প্রতিটি বড় শক্তি তেলকে কেন্দ্রে রেখে নতুন কৌশল সাজিয়েছে। আমেরিকা পেট্রোডলার ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলারের আধিপত্য টিকিয়ে রেখেছে, রাশিয়া তেল ও গ্যাসকে ইউরোপের বিরুদ্ধে ভূরাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়েছে, আর চীন পেট্রো-ইউয়ানের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝে নবায়নযোগ্য শক্তির উত্থান তেলের যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে — কিন্তু সেই পরিবর্তনও নতুন ভূরাজনৈতিক লড়াই নিয়ে আসছে।

তেল আবিষ্কারের আগে পৃথিবী চলত কয়লায়, পশুশক্তিতে আর মানুষের হাতের কাজে। কিন্তু ১৮৫৯ সালে আমেরিকার পেনসিলভানিয়ায় প্রথম তেলকূপ খোঁড়ার পর থেকে এই কালো তরল পদার্থ ধীরে ধীরে বিশ্বের সবচেয়ে দামি এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক পণ্যে পরিণত হয়। দুটি বিশ্বযুদ্ধে তেল সরাসরি সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে। যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক তেলক্ষেত্র আবিষ্কার হলে পশ্চিমা কোম্পানি ও সরকারগুলো এই অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে ওঠে। সেই নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ১৯৬০ সালে জন্ম নেয় OPEC — যা তেলের ভূরাজনীতিতে চিরতরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেয়।

তেল শুধু একটি জ্বালানি নয় — এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক অস্ত্র। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তেলকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ হয়েছে, সরকার পতন হয়েছে, জোট তৈরি ও ভেঙেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি থেকে শুরু করে রাশিয়ার বিশাল তেলক্ষেত্র — যে দেশ তেল নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, সে-ই বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেছে। আজকের বিশ্বে OPEC-এর উৎপাদন সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যন্ত — তেলের ভূরাজনীতি এখনও সক্রিয় এবং আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নতুন ব্যবসার জন্য প্রবেশের বাধা থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে ব্র্যান্ড বিল্ডিং, বিকল্প ডিস্ট্রিবিউশন, প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার, স্মার্ট বিনিয়োগ কৌশল ও গুণগত সনদ অর্জনের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে নতুন উদ্যোক্তারা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলভাবে বাজারে টিকে থাকতে পারেন।

যেকোনো কোম্পানির জন্য নতুন একটি বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নতুন ব্যবসার জন্য পুঁজি, সরকারি নিয়মকানুন, প্রযুক্তির অভাব, ও বিদ্যমান কোম্পানির সাপ্লাই চেইন বা কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণ। বাংলাদেশে এসব বাধা নতুন উদ্যোগের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।

ইউটিউব থেকে আয়ের জন্য অ্যাড রেভিনিউ, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, মার্চেন্ডাইজ বিক্রয়, এবং অনলাইন কোর্স বিক্রয়র মতো বিভিন্ন উপায় রয়েছে। মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি এবং দর্শকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে আপনি ইউটিউবকে একটি লাভজনক আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন। আপনার আগ্রহ আর দক্ষতাই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।

আয় করার জন্য ইন্সটাগ্রাম একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্পনসর্ড কনটেন্ট, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, পণ্য বিক্রি, এবং ড্রপশিপিংয়ের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। এখানে একটি ভাল প্রোফাইল তৈরি, অর্গানিক ফলোয়ার বৃদ্ধি, এবং ব্র্যান্ড পার্টনারশিপের মাধ্যমে সফল হওয়া যায়। ভবিষ্যতে নতুন ফিচার চালু হলে আয়ের আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ফেইসবুক অ্যাডস, মার্কেটপ্লেস, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সরড পোস্ট ইত্যাদি উপায় ব্যবহার করে আপনিও খুব সহজেই ফেইসবুকের মাধ্যমে আয় করা শুরু করতে পারবেন। এছাড়াও নিজের সাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করে বা পেইড গ্রুপ ও ইভেন্টের মাধ্যমেও চাইলে আয় করা সম্ভব। তবে শুরু করার পূর্বে অবশ্যই এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।

বাজারে টিকে থাকতে শুধু ভালো পণ্য বা সেবা দিলেই হয় না, প্রয়োজন কৌশলগতভাবে প্রতিযোগীদের প্রবেশ ঠেকানো। এই লেখায় তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ব্র্যান্ড ভ্যালু, সাপ্লাই চেইন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, আইনি সুরক্ষা ও নেটওয়ার্ক ইফেক্টের মতো উপায়গুলো কাজে লাগিয়ে বাজারে নিজের অবস্থান শক্ত করে রাখতে পারে। আপনার ধারণাকে আরো স্পষ্ট করার জন্য সাথে থাকছে কিছু বাস্তব উদাহরণ।

ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ১৯৯৭ সালের এশিয়ান আর্থিক সংকটের পর থেকে দেশটির অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে, প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে এবং শাসন ব্যবস্থার উন্নতি করেছে। সংকট থেকে এখন অনেক দূরে এসে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের গুরত্বপূর্ণ ৫টি অর্থনীতির একটি হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আয়ের বৈষম্য, পরিবেশগত সমস্যা এবং দুর্নীতির মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।

মালয়েশিয়া ১৯৭০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করেছে। সরকার বিভিন্ন পলিসি এবং প্রোগ্রাম প্রবর্তন করে দেশের অর্থনীতিকে উচ্চ আয়ের দিকে উন্নীত করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মালয়েশিয়ার জন্যে এই যাত্রা একেবারে সহজ ছিল না, তবে, চ্যালেঞ্জের মাঝেও তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।

১৯৭০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP) গৃহীত হওয়ার পর দারিদ্র্য হ্রাস, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে পাম তেল, ইলেকট্রনিক্স, এবং প্রযুক্তি খাতে মালয়েশিয়া বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তবে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যত নির্ভর করবে কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজনেস অ্যানালিসিসের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রসেসের এফিশিয়েন্সি এবং ইফেক্টিভিটি যাচাই করা সম্ভব। আর এই কাজে বিভিন্ন বিজনেস অ্যানালিসিস টুল অনেক সাহায্য করতে পারে। বিভিন্ন কোলাবোরেশন টুল যেমন Jira এবং Trello, মডেলিং টুল যেমন Bizagi এবং Pencil, প্রজেক্টমেন্ট টুল যেমন Microsoft Visio এবং IBM Rational Requisite Pro এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

MoSCoW অ্যানালিসিস হচ্ছে একটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট মেথড যা ব্যবহার করে যেকোনো প্রজেক্টের বিভিন্ন কাজকে তাদের গুরুত্ব অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয় এবং এক এক করে সেগুলোকে কমপ্লিট করা হয়। Must Have, Should Have, Could Have, Won’t Have - এই ৪টি শব্দ নিয়ে MoSCoW অ্যানালিসিস শব্দটি তৈরি করা হয়েছে।

SCRS Analysis হচ্ছে একটি প্রজেক্ট অ্যানালিসিস ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে কোনো প্রজেক্ট শুরু থেকে শেষ পর্যান্ত কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কি কি ফলাফল বের করে আনতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। SCRS Analysis - এর উপাদানগুলো হচ্ছে - Strategy, Current State, Requirements এবং Solution।

VPEC-T Analysis হচ্ছে একটি অ্যানালিসিস ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ইনফরমেশন সিস্টেমের ইফেক্টিভিটি এবং ক্রেডিবিলিটি অ্যানালাইজ করা হয়। VPEC-T Analysis - এর উপাদানগুলো হচ্ছে - Values, Policies, Events, Content এবং Trust।

STEER Analysis হচ্ছে একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বাইরের এক বা একাধিক কমপোনেন্ট অ্যানালাইজ করা হয় এবং সেই অ্যানালিসিস থেকে প্রাপ্ত ইনসাইট ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। STEER Analysis - এর কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে - Sociocultural, Technological, Economic, Environmental এবং Regulatory Factors।

MOST - এর ফুলফর্ম হচ্ছে Mission, Objectives, Strategies এবং Tactics। MOST অ্যানালিসিস হচ্ছে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক, যা ব্যবহার করে একটি কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অ্যানালাইজ করা হয় এবং এতে করে কোম্পানীর কালচার এবং বিভিন্ন ইন্টার্নাল প্রসেসকে আরো বেশি এফিশিয়েন্ট করে তোলা সম্ভব হয়। MOST অ্যানালিসিসের মাধ্যমে কোম্পানীর মিশন এবং ভিশনকে ছোট ছোট এবং আরো বেশি অর্জনযোগ্য অবজেক্টিভ-এ রুপান্তর করা হয়।

একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মী আমরা তাকেই বলতে পারি যিনি যেকোনো মুহুর্তে যেকোনো কিছু বিক্রয় করে ফেলার অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন। নিজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন এবং সামনে বসে থাকা ব্যক্তিতে তার পণ্য বা সেবার মাহাত্ম্য বোঝাতে সক্ষম হোন। আপনারও কি তেমনই একজন হয়ে ওঠার ইচ্ছা?

ই-কমার্স ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রথমেই বিশ্লেষণ করতে হবে মার্কেট, সেই সাথে গ্রাহক কিংবা পণ্য বা সেবা এসব বিষয়ও চিহ্নিত করতে হবে। কিন্তু তারও আগে জানতে হবে ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট বিজনেস মডেল গুলো সম্বন্ধে। আপনার ই-কমার্স ব্যবসাটি কিভাবে পরিচালনা করবেন এবং নানাবিধ কার্যক্রম কিভাবে সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করে আয়ের পথ উম্মোচন করবেন, তাঁর পুরোটাই কিন্তু নির্ধারণ করে দিতে পারে বিজনেস মডেল। তাই আপনি যদি ই-কমার্স ব্যবসায় সাফল্য পেতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক এবং উপযোগী বিজনেস মডেলটি গ্রহণ করতে হবে।

প্রচলিত একটা কথা আছে যে, প্রচারেই প্রসার। বাস্তবিক অর্থে কথাটি কিন্তু সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। তাইতো যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই প্রচারণার জন্য প্রচুর অর্থ, শ্রম, মেধা ব্যয় করে থাকে। এই কাজ থেকে বাদ যায় নি নামীদামী ব্রান্ডগুলোও। স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরেই অ্যামাজন শুধু মার্কেটিং খাতেই ব্যয় করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার।

Business Insider হল, সুপরিচিত আমেরিকান একটি অনলাইন মিডিয়া কোম্পানী যা ২০০৭ সালে নিউ ইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ব্যবসা, অর্থ, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির খবর ও তথ্য প্রকাশের একটি শীর্ষস্থানীয় অনলাইন প্লাটফর্ম। এটি ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক তথ্যাবলী এবং খুঁটিনাটি বিষয়ের উপরে বিশ্লেষণ প্রদান ও বিষয়গুলোকে বিস্তৃতভাবে কভার করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সিঙ্গাপুরের বড় বড় মার্কেটগুলোতে সক্রিয় এই অনলাইন প্লাটফর্মটির বিশ্বজুড়ে কয়েক লাখ গ্রাহক রয়েছে।

গ্লোবাল জার্নালিজমের এক নতুন পথপ্রদর্শক, নতুন একটি যুগের সূচনাকারী The Economist, ১৮৪৩ সালে ব্রিটেনে James Wilson-এর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধুমাত্র একটি সাধারণ পত্রিকাই নয়, এটি একটি পত্রিকার চেয়ে বেশি, একটি মাস্টারমাইন্ড, সত্য প্রকাশে যেন এক অদম্য যোদ্ধা। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাধিগুলোর বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিল জার্নালটি। কখনো ইংল্যান্ডের হেলথ ইস্যুতে, কখনো বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে, কখনো বিভিন্ন ব্যাংক নীতির সমালোচনায়, আবার কখনো ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে, এমনকি বিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্থানের মাঠেও সরব ছিল এই আইকনিক The Economist-এর কলম।

The Financial Times (FT) একটি ব্রিটিশ দৈনিক ব্যবসায়িক সংবাদপত্র যা ব্রডশীটে প্রিন্ট হয় এবং পাশাপাশি ডিজিটালভাবেও প্রকাশিত হয়। ১৮৮৮ সাল থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটি মূলত ব্যবসায়িক এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর উপর খবর প্রকাশ করে থাকে। এটি সারাবিশ্বের মোট ২৪টি শহরে প্রকাশিত হয় এবং ফিনান্সিয়াল সংবাদপত্রের মধ্যে The Wall Street Journal-এর পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রকাশিত হওয়া সংবাদপত্র এটি। সকালের এই দৈনিক পত্রিকাটির সদর দপ্তর ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে অবস্থিত।

টাইম ইনকর্পোরেশনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা Henry Luce, ১৯৩০ সালে আমেরিকার মানুষের জন্য একটি লাক্সারিয়াস ম্যাগাজিন প্রকাশের চিন্তা করলেন। সেই সময় বাকি সবার মত, Luce-এর ব্যবসায়িক পার্টনারও, তার এই চিন্তাধারা সমর্থন করেননি। কিন্তু, Luce দমে থাকেননি এবং তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলে, ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফরচুন ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশিত হয়। অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য শুরুতেই তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ম্যাগাজিনটি আজ, আমেরিকার ফিনান্সিয়াল নিউজ এবং জার্নালিজম-এর একটি পাওয়ার হাউস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

Bloomberg হল একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা যারা মূলত ব্যবসায়িক এবং ফিনান্সিয়াল তথ্য ও সংবাদ প্রদান করে থাকে। ১৯৮১ সালে আমেরিকার বিখ্যাত Michael Bloomberg, Bloomberg LP নামে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা করেন। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত। Bloomberg LP বিভিন্ন সফ্টওয়্যার টুলস এবং এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন, ডাটা সার্ভিস এবং Bloomberg terminal-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কোম্পানি এবং সংস্থাগুলিকে সংবাদ প্রদান করে থাকে।

Nikkei হল একটি জাপানের প্রধান স্টক মার্কেট সূচক যা Tokyo Stock Exchange-এর অধীনে, স্টকের মূল্য অনুসারে, ২২৫টি বৃহত্তম কোম্পানির তালিকা করে এবং তাদের নিয়ে কাজ করে। এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় বড় ইলেকট্রনিক্স এবং গাড়ি কোম্পানি, যেমন Sony, Fuji, Toshiba, Mitsubishi এবং Honda. এথানে সমস্ত স্টক অত্যন্ত স্পষ্ট, সুষ্ঠু এবং শিল্প খাতের মান বিবেচনা করে নির্বাচন করা হয়।

বিশ্বব্যাংক, একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলির জন্য আশার আলোকবর্তিকা হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিকে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্পগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ঋণ ও অনুদান প্রদান করে থাকে। এই ঋণ, অনুদান এবং পরামর্শের মাধ্যমে, বিশ্বব্যাংক দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা প্রদান করে।

স্টার্টআপগুলি প্রায়ই মালিকানা বা ইক্যুইটি ছেড়ে না দিয়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য SAFE (Simple Agreement for Future Equity) নোট নামে এক ধরণের বিনিয়োগ ব্যবহার করে। বিনিয়োগকারীরা স্টার্টআপে একটি অংশীদারিত্ব কিনে নেয় এই ধারণা নিয়ে যে তাদের বিনিয়োগ পরবর্তীতে ইক্যুইটিতে পরিণত হবে। একটি SAFE নোটের শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে ডিসকাউন্ট, ভ্যালুয়েশন ক্যাপস, মোস্ট-ফেভারড নেশন প্রভিশন এবং প্রো-রাটা রাইটস। যা বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং একই সাথে তারা একটি ন্যায্য চুক্তি পান।

আপনার স্টার্টআপ কি সফল না ব্যর্থ হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে আপনি স্টার্টআপ এর মার্কেটিং এর জন্য কত বাজেট রেখেছেন। কারণ, মার্কেটিং আপনার স্টার্টআপের লিড তৈরি করতে ও এর সম্পর্কে মানুষকে জানাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। একটা well planned বাজেট আপনার ব্র্যান্ডকে শুধুমাত্র ম্যাক্সিমাম সংখ্যক টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে হেল্প করে না বরং আপনার ব্রান্ড রেপুটেশন এর ৩৬ শতাংশ বাড়াতে পারে।

স্টার্টআপ Equity শব্দটি একটি স্টার্টআপের মালিকানাকে বোঝায়, সাধারণত ব্যবসার বৃদ্ধিতে অবদান রাখে এমন ব্যক্তিদের দেওয়া মালিকানার শতাংশ (বা শেয়ার) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হতে পারে আপনার সহ-প্রতিষ্ঠাতা, বিনিয়োগকারী, কর্মচারী এবং এমনকি অভিজ্ঞ উপদেষ্টা।

স্টার্টআপ শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে উদ্ভাবন, নতুনত্ব এবং ঝুঁকির কথা আসে। তবে স্টার্টআপ শুরু করা এবং তা সফলভাবে পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। প্রচলিত পদ্ধতিগুলি অনেক সময় ব্যর্থ হয় কারণ সেগুলি দীর্ঘমেয়াদি প্লানিং ও প্রেডিকশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। এর পরিবর্তে, "লীণ স্টার্টআপ মেথডোলজি" একটি বৈপ্লবিক ধারণা নিয়ে আসে যা স্টার্টআপ গুলোকে দ্রুত ও ইফেক্টিভ ভাবে বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। লীন স্টার্টআপ পদ্ধতির মূল কথা হলো: ছোট ছোট পরীক্ষা, গ্রাহকের ফিডব্যাক, এবং ক্রমাগত উন্নতি।

Jimmy Joslin, তার স্টার্টআপ elevator pitch রিলেটেড আর্টিকেল একটি কথা বলছেন, সেটা হল, elevator pitch is the magnet for startup entrepreneurs that attracts the investors। এই ত্রিশ সেকেন্ডের ম্যাগনেটের ওপরই নির্ভর করে আছে আপনার স্টার্টআপ ফান্ডিং।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, মালিকানার পার্টনারশিপ নির্ধারণ করা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যই startup valuation calculation মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট। CB Insights-এর একটি সমীক্ষা অনুসারে, ২০২১ সালে, স্টার্টআপ গুলো তে ভ্যালুয়েশন ক্যালকুলেশন ও এক্সাক্ট পজিশনিং করার কারণে, গ্লোবাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ $368 বিলিয়ন পৌঁছেছে। সুনির্দিষ্ট Valuation স্টার্টআপ বিজনেস গুলো কে বাস্তবসম্মত প্লান সেট করতে সাহায্য করে। এবং প্রতিষ্ঠাতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইক্যুইটির সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যে অবদান রাখে।

পিভটিং হলো ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোম্পানি তাদের পণ্য, সেবা, বা ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তন করে এমনভাবে নতুন দিকনির্দেশনা দেয় যা বাজারের চাহিদার সাথে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পিভটিং সাধারণত তখনই করা হয়, যখন মূল ব্যবসায়িক মডেল বা পণ্যের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয় না, অথবা নতুন সুযোগের সন্ধান পাওয়া যায় যা আরও লাভজনক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি শুরুতে এক ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে সেই পণ্যকে পরিবর্তন করে ভিন্ন উপায়ে উপস্থাপন করে।

৪% রুল একটি রিটায়ারম্যন্ট গাইডলাইন যেটি একটি চাকরিজীবী কে তার ব্যংকে কত টাকা থাকা উচিত রিটারামেন্ট পিরিয়ড কে সুন্দর ভাবে কাজে লাগাতে হয় সেটি নিয়ে সাহায্য করে। স্ট্রাকচারটি সাইন্টিফিক্যালী সাকসেস্ফুল এন্ড ইজি টু ইমপ্লিমেন্ট ইফ অ্যাপ্লাইড কনসিয়াসলি। ৪ স্টেপ আর সিম্পল ক্যালকুলেশন একটি বেসিক স্ট্রাকচার তৈরি করে যেটি আপনাকে আপনার কাস্টমাইজড রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান তৈরি করে দিবে।

অনেকজন বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের অর্থ একসাথে করে তা একাধিক খাতে বিনিয়োগ করা’ই হচ্ছে মিচুয়াল ফান্ড। এই বিনিয়োগ থেকে আসা মোট রিটার্ন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অনুপাতে তাদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়। আবার মিচুয়াল ফান্ডে কোনো ক্ষতি হলে তা’ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অনুপাতে বহন করতে হয়। মিচুয়াল ফান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এই যে অনেক কম টাকা বিনিয়োগ করে’ও বেশ ভালো একটি বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৈরি করা যায়। আর সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে এই যে মিচুয়াল ফান্ড একজন ম্যানেজার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই বিনিয়োগকারী চাইলেই কোনো স্টক বা বন্ড সেই ফান্ডে যোগ বা বিয়োগ করতে পারেন না।

Forex Market = এক মুদ্রা থেকে আরেক মুদ্রায় কনভার্সনের বাজার — বিশ্বের সবচেয়ে বড়, দৈনিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লেনদেন। Currency Pair (Major, Minor, Exotic), Spot/Forward/Swap — এই হলো কাঠামো। Exchange Rate তিন স্তরে নির্ধারিত — চাহিদা-সরবরাহ, Interest/Inflation, PPP। বাংলাদেশ ব্যাংক Crawling Peg Regime চালাচ্ছে ২০২৪ থেকে। ২০২২-২৪-এর ডলার সংকটের পাঁচ কাঠামোগত কারণ এবং পাঁচ সমাধানের পথ। ১৯৪৪ ব্রেটন উডস থেকে ২০২৬-এর De-dollarization পর্যন্ত ইতিহাস।

ডিরাইভেটিভস হচ্ছে এক ধরণের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্র্যাক্ট, যার মাধ্যমে দুটি পক্ষ নিজেদের মাঝে নিজের আর্থিক ঝুকিঁ বিনিময় করার চুক্তি করেন। এই ধরণের চুক্তি সাধারণত নিজস্ব কোনো মূল্য থাকে না, বরং, যেই সিকিউরিটির উপর চুক্তি করা হচ্ছে, তার মূল্যের উপর নির্ভর করে এই চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ডিরাইভেটিভস মার্কেটে সাধারণত ৪ ধরণের ডিরাইভেটিভ দেখা যায় - অপশনস, ফিউচারস, ফরওয়ার্ডস ও সোয়াপস।

বন্ড মার্কেট হচ্ছে এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন ধরণের বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। বন্ড মার্কেটের সাথে বন্ড ইস্যুকারী ও বন্ডহোল্ডারগণ জড়িত থাকেন। আবার এর সাথে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষ যেমন ব্রোকারেজ হাউস, রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি’ও জড়িত থাকেন। বন্ড ক্রয় করার মাধ্যমে বন্ডহোল্ডারগণ বন্ডের ইস্যুকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সুদের হারে ঋণ দিয়ে থাকেন। এই ঋণের টাকা বন্ড ইস্যুকারীগণ ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে ব্যয় করেন।

স্টক মার্কেট থেকে যেকোনো কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করা’ই হচ্ছে ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট। কোম্পানীর শেয়ার হচ্ছে এখানে একটি পণ্য এবং কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করার মাধ্যমে আপনি যেই ইক্যুইটি পাচ্ছেন সেটি হচ্ছে আপনার বিনিয়োগ। ইক্যুইটিতে ইনভেস্ট করলে আপনি বার্ষিক ডিভিডেন্ড পেতে পারেন, আবার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে আপনি সেই শেয়ার বিক্রয় করে ক্যাপিটাল গেইন পেতে পারেন। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কোনো তালিকাভুক্ত ব্রোকারের কাছে গিয়ে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট হচ্ছে এমন একটি স্থান যেখানে বিভিন্ন ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ নিজেদের মাঝে বিভিন্ন ফাইন্যান্সিয়াল টুলের লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন। ফাইন্যান্সিয়াল টুল বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, যেমন - বন্ড, শেয়ার, বৈদেশিক মুদ্রা ইত্যাদি। আবার ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলো বিনিয়োগকারীদের এমন সব মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে যাদের আসলে বিনিয়োগ দরকার। ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সাহায্য একে অপরের মাঝে রিস্ক ট্রান্সফার করা সম্ভব হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বুস্ট করা সম্ভব হয়।

নোবেল বিজয়ী পল স্যামুয়েলস এর মতে ফিন্যান্স হলো ভবিষ্যতে নিশ্চিত কিংবা অনিশ্চিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অর্থ বিনিয়োগ করার জ্ঞান। ফিন্যান্স এর মূল কাজই হলো অর্থ বিনিয়োগ, ট্রান্সফার, খরচ এইসকল বিষয় ট্র্যাক করা। বিভিন্ন ব্যবসা, সরকারি ক্ষেত্র এমনকি একজন এর ব্যক্তিগত জীবনে ফাইন্যান্স এর ডেইলি ইউসেজ রয়েছে।

এল জে গিট্ম্যান অনুযায়ী, ফিন্যান্স হলো টাকা ম্যানেজ করার একটির আর্ট। ফিন্যান্স কাজ করে মার্কেট,ব্যবসা এবং ব্যক্তির মধ্যে টাকা ট্রান্সফার বা আদান প্রদান কে কেন্দ্র করে। ফিন্যান্স হলো অর্থ, সম্পদ এবং বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবস্থাপনা। ফিন্যান্স এর মধ্যে বাজেটিং, বিনিয়োগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক পরিকল্পনার মতো ক্রিয়াকলাপগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা আর্থিক সিদ্ধান্ত, সম্পদ নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। ফিন্যান্স একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে একটি কর্পোরেট লেভেল এবং সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে।

প্রজেক্ট ফাইন্যান্সিং হচ্ছে একটি দীর্ঘমেয়াদি নন-রিকোর্স অথবা লিমিটেড রিকোর্স ফাইন্যান্সিং স্কিম, যার মাধ্যমে বড় বড় প্রজেক্টের জন্য ফান্ড কালেক্ট করার চেষ্টা করা হয়। একবার প্রজেক্ট কমপ্লিট হয়ে গেলে তারপর প্রজেক্ট থেকে আসা রিটার্ন থেকেই এই ফান্ডের টাকা পরিশোধ করা শুরু হয়। এতে করে ফান্ড কালেক্ট করা কোম্পানীকে নিজেদের ব্যালেন্স শিটে এই ফান্ডের পরিমাণ দেখাতে হয় না। ফলে তাদের অন্যান্য প্রজেক্টের জন্য তারা আরো ফান্ড ঋণ হিসেবে কালেক্ট করতে পারে।

একটি কোম্পানীকে মার্কেট থেকে মূলধন কালেক্ট করার জন্য যেই হারে ব্যয় করতে হয় তাকেই মূলধন ব্যয় বলা হয়। সাধারণত মূলধন ব্যয়-এর মাঝে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাং ও বন্ডহোল্ডারদের সুদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কোম্পানী মূলধন ব্যয় ক্যালকুলেট করার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করে যে তাদের বিনিয়োগকৃত প্রজেক্টগুলো থেকে সর্বনিম্ন কি পরিমাণ মুনাফা করতে হবে। কারণ, মুনাফা যদি মূলধন ব্যয়-এর তুলনাম কম হয়, তাহলে কোম্পানী তার শেয়ারহোল্ডার ও বন্ডহোল্ডারদের খুশি রাখতে পারবে না। এতে করে কোম্পানীর সুনাম ক্ষুন্ন হবে।

বিনিয়োগের দুনিয়ায় রিস্ক ও রিটার্নের মাঝে পজিটিভ সম্পর্ক বিদ্যমান। আপনি যতো বেশি রিস্ক নিতে প্রস্তুত থাকবেন, ততো বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভাবনা থাকবে। তবে রিস্ক বেশি থাকলে ক্ষতি’ও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য রিস্ক ও রিটার্নের মাঝে একটি ভালো ব্যালেন্স তৈরি করা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্যাপিটাল বাজেটিং হচ্ছে এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রজেক্টের ভ্যালু বোঝার চেষ্টা করেন। ক্যাপিটাল বাজেটিং-এর সবচেয়ে বহুল পদ্ধতিগুলো হচ্ছে পে-ব্যাক পিরিয়ড, নিট বর্তমান মূল ও অভ্যন্তরীণ আয়ের হার। তবে বিভিন্ন কোয়ান্টিটেটিভ পদ্ধতির পাশাপাশি কোয়ালিটেটিভ ফ্যাক্টর যেমন - মার্কেট ডিমান্ড, সার্ভাইভাল, পরিবেশের উপর প্রভাব ইত্যাদি’ও ক্যাপিটাল বাজেটিং-এর সময় বিবেচনা করা উচিত।

স্টক ও বন্ডের ভ্যালুয়েশন বলতে মূলত স্টক বা বন্ডের প্রকৃত মূল্য বের করাকে বোঝানো হয়। অনেকসময় মার্কেটে অতিরিক্ত চাহিদা বা অন্য কোনো ফ্যাক্টরের কারণে স্টক বা বন্ড অতিরিক্ত প্রাইসে বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত প্রাইসে ক্রয় করলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এমন স্টক বা বন্ড খুজে বের করতে হয় যেগুলোর মার্কেট ভ্যালু তার প্রকৃত ভ্যালুর চেয়ে কম বা আন্ডারপ্রাইসড। আর এই কাজেই বিনিয়োগকারীদের সাহায্য করে ভ্যালুয়েশনের বিভিন্ন মেথড।

SWIFT এর পূর্ণরূপ Society for Worldwide International Financial Telecommunication যা বাংলায় সুইফট এর পূর্ণরূপ সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন। SWIFT বা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাবে অর্থ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া যা নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

যে সকল প্রতিষ্ঠান কোন ব্যাক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক সম্পর্কিত কার্যাবলী যেমন অর্থ জমা করা,বিনিয়োগ করা ও পরিচালনা করা, ঋণ প্রদান করা সহ আর্থিক কার্যাবলী সম্পন্ন করে থাকে সেই সকল প্রতিষ্ঠানকেই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।

ESOP পূর্ণ রূপ হল এমপ্লয়ি স্টক ওনারশিপ প্ল্যান বা কর্মচারী স্টক মালিকানা পরিকল্পনা। ESOP এক ধরণের কর্মচারী বেনিফিট প্ল্যান যার মাধ্যমে কোম্পানির কর্মচারীরা উক্ত কোম্পানির স্টক বা মালিকানা অর্জনের সুবিধা পায়। ESOP পরিকল্পনার মাধ্যমে কর্মীদের জন্য কোম্পানির স্টক বরাদ্দ করে। কোম্পানির শেয়ার প্রাপ্তির মাধ্যমে, কর্মচারীরা ভোটের অধিকার সহ তারা যে কোম্পানির জন্য কাজ করেন তার আংশিক মালিকানা লাভ করে।

অর্থের সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই আর্থিক ক্ষতি এড়ানো অনেক সহজ হয়ে যায়। যেমন - ইমার্জেন্সি ফান্ড রাখা, ৫০/৩০/২০ রুল মেনে চলা, ঋণের ফাদে পা না দেয়া, সর্বদা নিজের আয় বৃদ্ধির চেষ্টায় থাকা, বড় বড় খরচগুলোর জন্যা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা, নিজের আর্থিক জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান তৈরি ও কম বয়সে বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা, নিজের আয় ও সম্পদের বৈচিত্রায়ন করা, দায় ক্রয় না করে সম্পদ ক্রয় করা ইত্যাদি।

অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনা কোনো রকেট সাইন্স নয় যে সাধারণ মানুষ তা করতে পারবে না। বরং আমাদের আশেপাশে হরহামেশাই আমরা এমন অনেক সাধারণ মানুষ দেখতে পাই যারা সাধারণ কিছু নিয়ম অনুসরণ করার কারণে নির্দিষ্ট সময় পর আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করতে পারেন। যেমন - আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা ও ঝুকিঁ গ্রহণ করা, দীর্ঘসময়ের অন্য পরিকল্পনা করা, আর্থিক সফলতাকে একটি গেইম হিসেবে চিন্তা করা, প্রফেশনালদের মতামত নেয়া, অতিরিক্ত কিস্তি গ্রহণ না করা, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান রাখা, ঋণের সঠিক ব্যবহার করা, ইনকাম সোর্স বৃদ্ধি করা ও ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া ইত্যাদি।

ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে ঘরে বসেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব। অনেকেই এইভাবে এখন বেশ ভালো করছেন। ঘরে বসেই করা যায় এমন কাজগুলোর মাঝে এখন অন্যতম হচ্ছে - ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা, অনলাইন টিউশন, ব্লগ লিখা, অনলাইন সার্ভিস প্রদান, এফ-কমার্স ব্যবসায়, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা, অনলাইনে কোর্স বিক্রয়, ড্রপশিপিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি।

পড়ালেখার পাশাপাশি অফলাইনে বারতি অর্থ আয় করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই কায়িক পরিশ্রম করতে রাজি থাকতে হবে। এভাবে টাকা আয়ের সহজ কিছু উপায়গুলো মাঝে থাকছে - গ্যাজেট ক্রয়-বিক্রয়, টিউশন করানো, ডেলিভারি পারসন হিসেবে কাজ করা, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রদান, ইভেন্ট ফটোগ্রাফি, ইভেন্ট স্টাফ, ইভেন্ট প্ল্যানিং, মিল সিস্টেমে খাবার সরবরাহ, ফুড-স্টক ব্যবসা, কল সেন্টারে চাকরি ইত্যাদি।

অনলাইনে আয় করতে চাইলে আপনাকে প্রথমেই ভ্যালু ক্রিয়েট করা শিখতে হবে। ভ্যালু ক্রিয়েট করার পর আপনি সহজেই অন্যদের থেকে সেই ভ্যালুর বিনিময় টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে ভ্যালু ক্রিয়েট করার অন্যতম কিছু উপায় হচ্ছে - ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করা, ই-বুক পাবলিশ করা, এফ-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও তৈরি করা বা ব্লগ পরিচালনা করা ইত্যাদি।

ডিজিটাল অর্থ বলতে মূলত বিভিন্ন দেশের মুদ্রার ডিজিটাল রিপ্রেজেন্টেশন ও বিভিন্ন ধরণের ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বোঝানো হয়ে থাকে। ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো সাধারণত ডিসেন্ট্রালাইজড প্লাটফর্মে তৈরি করা হলেও বর্তমানে সেন্ট্রাল ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অনেক ধরণের ডিজিটাল অর্থ দেখা যাচ্ছে। একদিকে ডিজিটাল অর্থের ব্যবহারের দরুন আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে সেন্ট্রাল ব্যাংকের রেগুলেশনের কারণে ডিজিটাল অর্থের স্বকীয়তা হারানোর সম্ভাবনা’ও দেখা যাচ্ছে।

একটি ডিজিটাল ওয়ালেট হচ্ছে এক ধরণের আর্থিক লেনদেনের অ্যাপ যা ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন যেকোনো ডিভাইসে ব্যবহার করা সম্ভব। এই অ্যাপ আপনার পেমেন্ট ইনফরমেশন ও পাসওয়ার্ড নিরাপদে ক্লাউডে স্টোর করে রাখে। আপনি যখন আপনার ব্যাংকের কার্ড থেকে কোথাও পেমেন্ট করতে চান বা কাউকে টাকা পাঠাতে চান, তখন ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে ঐ কার্ড ছাড়াই লেনদেনটি করা সম্ভব। ডিজিটাল ওয়ালেটের সুবিধা হচ্ছে এই যে, আপনাকে একাধিক কার্ড সাথে নিয়ে ঘুড়তে হচ্ছে না। একটি ডিজিটাল ওয়ালেটে বেশ কিছু ব্যাংকের কার্ড একসাথে আপনি স্টোর করে রাখতে পারেন।

নিজের মাসিক আয় থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরিয়ে রেখে ধীরে ধীরে তা জমানোকে অর্থ সঞ্চয় করা বলা হয়। অর্থ সঞ্চয় করা সুবিধা হচ্ছে এই যে, তা আপনাকে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করবে। আবার অসুবিধা হচ্ছে এই যে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের মান হারানো সম্ভাবনা সর্বদাই থেকে যায়। অপরদিকে, রিটার্ন জেনারেট করার উদ্দেশ্যে কোনো লাভজনক সম্পদ ক্রয় করাকে অর্থের বিনিয়োগ করা বলা হয়। বিনিয়োগের সুবিধা এই যে, এতে করে অর্থ অলস পরে থাকে না। আবার অসুবিধা হচ্ছে যে, এখানে বিনিয়োগকৃত অর্থ হারানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। আপনার কি অর্থ সঞ্চয় করা উচিত নাকি বিনিয়োগ করা উচিত তা নির্ভর করবে আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুকিঁ গ্রহণ করার মানসিকতার উপর।

আজকের দিনের ১০০ টাকা সবসময় আগামী দিনের ১০০ টাকার থেকে বেশি ভ্যালু বহন করে, এটাই হচ্ছে অর্থের সময়মূল্যের ধারণা। ব্যাংকে টাকা রাখা বা অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করা, ঋণ পরিশোধ করা, গাড়ি/বাড়ি ক্রয় করা সর্বক্ষেত্রেই অর্থের সময়মূল্যের ধারণা প্রযোজ্য। মূলত মুদ্রাস্ফীতি ও চক্রবৃদ্ধি সুদের কনসেপ্টের কারণে আধুনিক যুগে অর্থের সময়মূল্য এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা যদি অর্থকে কাজে না লাগিয়ে তা ফেলে রাখি, তাহলে মুদ্রাস্ফীতির কারণে তা ধীরে ধীরে ক্রয়ক্ষমতা হারায়।

আধুনিক সময়ে বিশ্বের অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ফিয়াট কারেন্সি। এই কারেন্সি কোনো ফিজিকাল কমোডিটি দ্বারা সমর্থিত নয় এবং এর মান নির্ভর করে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার উপর। এতে করে সরকার অনেক কম খরচে ও নমনীয়তার সাথে কারেন্সি ম্যানেজ করতে পারে। আবার কোনো ফিজিকাল কমোডিটি দ্বারা সমর্থিত না হওয়ার কারণে সরকারের বিভিন্ন কাজের কারণে এই মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা শেষ হয়ে যেতে পারে। এভাবেই বিভিন্ন দেশ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির শিকার হয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়।

Money Illusion হচ্ছে একধরণের সাইকোলজিকাল বায়াস, যেখানে মানুষ তার সম্পদ ও আয়কে মুদ্রাস্ফীতির সাথে অ্যাডযাস্ট করে বিবেচনা করতে চায় না। কারণ, মুদ্রাস্ফীতির সাথে অ্যাডযাস্ট করলে দেখা যায় যে সম্পদ ও আয়ের ভ্যালুয়েশন কমে গিয়েছে। অর্থনীতিবিদ আরভিং ফিশার সর্বপ্রথম এই কনসেপ্টটি তুলে ধরেন। অর্থনীতিবিদগণ Money Illusion - এর পেছনে মূলত দুটি ফ্যাক্টরকে দায়ী করে থাকেন, যথা - আর্থিক শিক্ষার অভাব ও প্রাইসের স্টিকিনেস।

অর্থকে অনেকেই অনেক জটিল বিষয় মনে করেন। তবে অর্থ নিজে কোনো জটিল বিষয় নয়, বরং আমরা অর্থকে জটিল বিষয় হিসেবে দেখি বলেই জটিল মনে হয়। অর্থের প্রতি কারো মনোভাব কেমন হবে, তা সাধারণত তার বায়াস ও মাইন্ডসেট দ্বারা নির্ধারিত হয়। আবার পরিবার ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন সামাজিক ফ্যাক্টর এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। তবে নিজেদের জীবনে আরো কার্যকর আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাইলে আমরা নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে পারি, যেমন - আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ, বাজেট তৈরি, বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়া এবং মাইন্ডফুলনেস চর্চা করা।

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের যেকোনো লেনদেনে অর্থ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, অর্থের মাধ্যমে আমরা পণ্য ও সেবা ক্রয় করি এবং ঋণ পরিশোধ করি। অর্থের মূল কাজগুলো হচ্ছে হিসাবের একক হিসেবে কাজ করা, মূল্য ধারণ করা এবং লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করা। অর্থ হতে চাইলে যেকোনো উপাদানকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন - স্বীকৃতি, পরিবহনযোগ্যতা, স্থিতিশীলতা, টেকসই ও সাদৃশ্য। বর্তমান সময়ে আমরা মূলত ৩ ধরণের অর্থ দেখতে পাই, যথা - ফিজিকাল, ডিজিটাল ও ক্রিপ্টোকারেন্সি।

অর্থ হচ্ছে একটি লেনদেনের মাধ্যম, হিসাবের একক ও মূল্যের ধারক যার বিভিন্ন রুপ থাকতে পারে, যেমন - সরকারি কয়েন ও নোট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল মুদ্রা ইত্যাদিত। আর মুদ্রা হচ্ছে অর্থের একটি সাবসেকশন যেখানে মূলত সরকারি নোট ও কয়েনকে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে মুদ্রার এই দুটো রুপই সর্বজনস্বীকৃতি। অর্থ ও মুদ্রার মাঝে মূল পার্থক্যগুলো হচ্ছে এদের প্রকৃতিতে, রুপে, কার্যক্রমে, স্বীকৃতিতে, গ্রহণযোগ্যতায় ও স্থিতিশীলতায়।

আমরা কোনো ব্যাক্তি বা ব্যবসায় থেকে কোনো ধরণের ভ্যালু পাওয়ার বিপরীতে মুদ্রা দ্বারা অর্থ পরিশোধ করি। যেই দেশের গন্ডির মাঝে লেনদেনটি সম্পাদন করা হচ্ছে, সাধারণত সেই দেশের মুদ্রাতেই লেনদেন করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদাতেও লেনদেন হতে পারে। বর্তমান সময়ে মুদ্রার সবচেয়ে কমন রুপগুলো হচ্ছে ব্যাংক নোট ও কয়েন। অর্থ ও মুদ্রার মাঝে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, অর্থ বলতে যেকোনো ধরণের নোট, কয়েন, ডিমান্ড ডিপোজিট ও তরল সম্পদকে বোঝানো হয়, যা দ্বারা লেনদেন করা যায়। আর মুদ্রা বলতে শুধু ব্যাংক নোট ও কয়েনকে বোঝানো হয়।

একটি অর্থনীতিতে কখন কি পরিমাণ নগদ অর্থ বা তার সমতুল্য সম্পদ সার্কুলেশনে আছে, তা কাউন্ট করা হয় মানি সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে। কি পরিমাণ মানি সাপ্লাই থাকবে তা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিমাণ বৃদ্ধি বা হ্রাস’ও করতে পারে। মানি সাপ্লাই অনেক বেড়ে গেলে জনগণ অনেক বেশি খরচ করা শুরু করে এবং এতে করে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। আবার মানি সাপ্লাইয়ের পরিমাণ অনেক কমে গেলে তার ফলে মুদ্রাসংকোচন দেখা দেয়।

মনিটারি পলিসি হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা তৈরি এক সেট নিয়মকানুন যার মাঝে ঐ অর্থবছরে দেশে মুদ্রার সরবরাহ, সুদের হার, ব্যাংকের রিজার্ভের হার কেমন হবে তা নির্ধারণ করা হবে। সাধারণত ৩টি টুলের মাধ্যমে যথা - ব্যাংক রেট, খোলাবাজার নীতি ও ব্যাংকের রিজার্ভের হার নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই ধরণের মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করতে পারে, যথা - সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতি মূল উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রাখা, বেকারত্বের হার কমানো ও এক্সচেঞ্জ রেটকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

কোনো অর্থবছরে সরকার কোন খাত থেকে কি পরিমাণ অর্থ কর হিসেবে সংগ্রহ করবে এবং কোন খাতে কি পরিমাণ অর্থ খরচ করবে, তার পরিকল্পনাকেই মূলত ফিসকাল পলিসি বা রাজস্বনীতি বলা হয়। ফিসকাল পলিসির উৎপত্তি হয়েছিল জন ম্যায়নার্ড কিনেসের হাত ধরে। বর্তমানে দুই ধরণের ফিসকাল পলিসি দেখতে পাওয়া যায়, যথা সম্প্রসারণমূলক ফিসকাল পলিসি এবং সংকোচনমূলক ফিসকাল পলিসি। ফিসকাল পলিসির কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে - সরকারি খরচ, করারোপণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা।

সহজ কথা বললে, দেশের নোট ইস্যু ও মনিটারি পলিসি তৈরি করার দায়িত্ব যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর অর্পিত থাকে, তাই বলা যায় যে আমাদের অর্থকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব’ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতেই থাকে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু নোট ইস্যু ও মনিটারি পলিসি তৈরি করার মাধ্যমেই এই কাজটি করে না। এর পাশাপাশি তারা আরো কিছু ইকোনমিক ফ্যাক্টর ব্যবহার করে, যেমন - সরকার ও রাজস্ব-নীতি, কমার্শিয়াল ব্যাংক ইত্যাদি। আবার বিশ্বায়নের ফলে বর্তমান সময়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন’ও দেশের অর্থকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।

মানবসভ্যতার শুরু থেকে মানুষ নিজেদের মাঝে বিনিময় প্রথায় লেনদেন করতেন। তবে আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মানুষ বিনিময় প্রথা বাদ দিয়ে ধাতব কয়েনের ব্যবহার করতে শুরু করেন। ধাতব কয়েন হিসেবে তামা, রুপা ও স্বর্ণের কয়েন ব্যবহার করা হতো। ১২৬০ সালের দিকে চীনে সর্বপ্রথম কাগজি মুদ্রার আবিষ্কার হয় এবং ধীরে ধীরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। ১৯৩০ সালের দিকে সর্বপ্রথম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দ্বারা এবং ১৯৫০ সালের দিকে সর্বপ্রথম ব্যাংক দ্বারা ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা হয়।

Velocity of Money মানে অর্থনীতিতে প্রতিটি টাকা বছরে কতবার হাত বদল করে। Irving Fisher-এর MV=PQ সূত্র অনুযায়ী V = Nominal GDP / Money Supply। বাংলাদেশের V2 প্রায় ২.৭৬ — আমেরিকার (~১.৩) চেয়ে বেশি, কারণ নগদ-নির্ভর অর্থনীতি ও বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত। উচ্চ ভেলোসিটি = সক্রিয় অর্থনীতি; নিম্ন ভেলোসিটি = স্থবিরতা। জাপান ৩০ বছর ধরে Velocity Trap-এ আটকে আছে।

স্টার্টআপ কি? কোনো আইডিয়া, টেকনিক কিংবা স্ট্র্যাটেজি এর শুরু? অনেকটা তেমনই। স্টার্টআপ কথাটির মধ্যেই এর বেসিক আইডিয়া চলে আসে। সিম্পলি, স্টার্টআপ হল “টু স্টার্ট সামথিং নিউ”। এখন এটা হতে পারে কোনো বিজনেস, কোনো আইডিয়া কিংবা কোনো টেকনোলজিস। তবে মার্কেট ও ইন্ডাস্ট্রি ফিল্ডে স্টার্টআপ বলতে নতুন এবং ইনোভেটিভ বিজনেস, প্রোডাক্ট লঞ্চ, সার্ভিস অফারিং এগুলোকেই বোঝায়।

বৈশ্বিক অর্থনীতি এক বৈচিত্রময় গোলকধাঁধার নাম। প্রতিনিয়ত উত্থান পতনের খেলা চলে এই ক্ষেত্রে, খেলা চলে হাজার হাজার নতুন চ্যালেঞ্জের। এই বৈচিত্রময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে IMF বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল একটি শক্ত বাতিঘর, যা অনিশ্চয়তার উত্তাল প্রবাহের মধ্যে জাতিগুলোকে পথ দেখায় নিশ্চয়তার। এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মঞ্চে আনে স্থিতিশীলতা, সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা।

অর্থ হলো একটি সামাজিক চুক্তি — এমন যেকোনো কিছু যা পণ্য বা সেবার বিনিময়ে সর্বজনগ্রাহ্যভাবে গৃহীত হয়। ঝিনুকের খোল থেকে শুরু করে বিটকয়েন পর্যন্ত অর্থের রূপ বদলেছে। অর্থের তিন মূল কাজ: বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের ভান্ডার এবং হিসাবের একক। বাংলাদেশের M2 মানি সাপ্লাই ~১৭ লাখ কোটি টাকা, যার ৭৮%ই ব্যাংক-তৈরি ডিজিটাল অর্থ।

দূর্ঘটনাবিহীন জীবন কল্পনা করা নিতান্তই অমূলক। তাই এই দূর্ঘটনার রেশ কিছুটা বা অনেকটা কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে বীমার ভূমিকা প্রশংসনীয়। মানুষের একার পক্ষে সকল দায় গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই বীমা করার মাধ্যমে ঝুঁকির দায় বীমাপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করে অনেকটাই দায়মুক্তি সম্ভব। এছাড়াও প্রকারভেদে বীমা নানা রকম দায়, সুবিধা এবং সুযোগ প্রদান করে থাকে যা একজন মানুষের সহজ, সরল এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠছে দিন দিন। তাই বীমার মাধ্যমে নিরাপদ, নিশ্চিন্ত এবং অনাবিল জীবন উপভোগ এখন সময়ের দাবী। তবে বীমা করার পূর্বে শর্তাবলী, ঝুঁকি এবং দায়িত্বকর্তব্য জেনে বুঝে নেয়া গ্রাহকের জন্য খুবই জরুরি। অন্যথায়, বীমা গ্রাহকের জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে।

আপনি যদি বর্তমান সময়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তাহলে আপনাকে আপনার নিত্য দিনে ব্যবসার যে লাভ লোকসান তার হিসাব রাখতে হবে। তার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিদিনকার হিসাবের জন্য তিন ধরনের হিসাব খাতা ব্যবহার করে থাকেন। আই বিবৃতির খাতায় কোম্পানি তার প্রতিদিনকার লাভ এবং খরচ লিখে থাকে। ব্যালেন্স শীটে কোম্পানি তার সম্পদ, দায় এবং স্টকহোল্ডার ইকুইটির হিসাব রাখে।এবং নগদ প্রবাহ বিবৃতিতে কোম্পানি ব্যবসায় টাকা কোথা থেকে আসে এবং সেই টাকা কোথায় ব্যয় হয় সেটার হিসাব রাখে।

ট্যাক্সেশন বা করপ্রদান হলো সরকার দ্বারা ব্যক্তি বা সংস্থার উপর বাধ্যতামূলক শুল্ক আরোপ করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের ৮০ শতাংশই আসে করপ্রদান থেকে। এপ্রিল ২০২৩ এ বাংলাদেশের ট্যাক্সের মধ্য দিয়েই আয় হয়েছে ২.৩৭৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে কর ধার্য করা হয়, প্রাথমিকভাবে সরকারী ব্যয়ের জন্য রাজস্ব বাড়ানোর জন্য, যদিও তারা অন্যান্য উদ্দেশ্যেও কাজ করে। ট্যক্সেশন এর মধ্যে দিয়ে সরকার বিভিন্ন পলিসি প্রয়োগ, সরকারি বিনিয়োগে ব্যয়, অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

আয়কর হলো ব্যক্তি, ব্যবসা এবং অন্যান্য সংস্থার দ্বারা অর্জিত আয়ের উপর সরকার কর্তৃক আরোপিত প্রত্যক্ষ কর। এটি এই নীতির উপর ভিত্তি করে যে যারা বেশি উপার্জন করে তাদের উচিত তাদের আয়ের একটি বড় অনুপাত সরকারি পরিষেবা, অবকাঠামো এবং সরকারী ব্যয়কে সমর্থন করার জন্য। ব্যক্তিরা আয়ের বিভিন্ন উৎসের উপর আয়কর প্রদান করে, যেমন মজুরি, বেতন, স্ব-কর্মসংস্থান আয়, ভাড়া আয়, সুদ, লভ্যাংশ, মূলধন লাভ এবং অন্যান্য উপার্জন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো আয়কর প্রদান করে থাকে তাদের লাভের.একটি নির্দিষ্ট অংশের উপর।

ব্যক্তি এবং ব্যবসার ট্যাক্সেশন যে কোনো আধুনিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ট্যাক্সেশন যে কোনো আধুনিক অর্থনীতির মেরুদন্ড গঠন করে, সরকারী কার্যক্রম এবং জনসেবাকে ত্বরান্বিত করে। আপনি আয় উপার্জনকারী একজন ব্যক্তি হোক বা মুনাফা সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী হোন না কেন, আর্থিক পরিকল্পনা এবং সম্মতির জন্য ট্যাক্সের জটিলতা বোঝা অপরিহার্য। এতে সরকারী ক্রিয়াকলাপ এবং জনসেবা প্রদানের জন্য আয়, মুনাফা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের উপর কর ধার্য করা এবং সংগ্রহ করা জড়িত। ব্যক্তি এবং ব্যবসা উভয়কেই ট্যাক্স আইন এবং প্রবিধান মেনে চলতে হয়। কর্তৃপক্ষ যথাযথ সম্মতি নিশ্চিত করতে অডিট এবং তদন্ত পরিচালনা করে। কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা অথবা অ-সম্মতি জানানো হলে জরিমানা, সুদ, বা অন্যান্য আইনি পরিণতি হতে পারে।

ব্যক্তিদের উপর কর আরোপ যে কোনো আধুনিক সমাজের একটি মৌলিক দিক। ব্যক্তি এবং ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত কর একটি দেশের সরকারকে দেশ পরিচালনায় সহায়তা করে। মজুরি, বেতন, বিনিয়োগ আয় এবং ব্যক্তিগত আয়ের অন্যান্য উৎস সহ ব্যক্তিদের উপার্জনের উপর সরকার দ্বারা ব্যক্তিগত কর আরোপ করা হয়। কর ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে যেখানে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা করের বোঝার একটি বড় অংশ বহন করবে। প্রতিটি কর্মজীবী ব্যক্তির জন্য কর প্রদান অপরিহার্য, কারণ এটি আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।

ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স এবং রিপোর্টিং হল একটি আদর্শ ট্যাক্স সিস্টেমের ভিত্তি । ট্যাক্স সম্মতির মধ্যে ট্যাক্স আইন, নিয়মকানুন মেনে চলা, ব্যক্তি এবং ব্যবসাগুলির দায়িত্ব। জরিমানা এড়াতে এবং কর ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে সময়মত এবং সঠিক ট্যাক্স রিপোর্টিং অপরিহার্য। অন্যদিকে ট্যাক্স রিপোর্টিং ট্যাক্স রিটার্নের মাধ্যমে কর কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক এবং সঠিক আর্থিক তথ্য প্রদান করে। ট্যাক্স রিপোর্টিং ট্যাক্স সম্মতি যাচাই করতে সাহায্য করে, সঠিক কর সংগ্রহ নিশ্চিত করে এবং পাবলিক সার্ভিসের অর্থের হিসাব ঠিক রাখে। ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স এবং ট্যাক্স রিপোর্টিং উভয়ই ট্যাক্স সিস্টেমের স্বচ্ছলতায় অবদান রাখে, ব্যক্তি এবং ব্যবসার জন্য দায়ী আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রচার করে।

আর্থিক বা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং এ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপের লেনদেনের রেকর্ডিং, সংক্ষিপ্তকরণ এবং রিপোর্ট করা হয় । এই লেনদেনগুলি আর্থিক বিবৃতি তৈরিতে সংক্ষিপ্ত করা হয় - ব্যালেন্স শীট, আয় বিবৃতি এবং নগদ প্রবাহ বিবৃতি সহ - যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোম্পানির অপারেটিং কর্মক্ষমতা রেকর্ড করে৷ একজন আর্থিক হিসাবরক্ষক এর কাজের সুযোগ সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে। একজন আর্থিক হিসাবরক্ষকের দায়িত্বগুলি একজন সাধারণ হিসাবরক্ষকের থেকে আলাদা হতে পারে, যারা সরাসরি কোম্পানি বা সংস্থার জন্য কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করে।

আর্থিক রেকর্ডিংয়ে একটি ব্যবসার সমস্ত অর্থ-সম্পর্কিত হিসাবের বিস্তারিত রেকর্ড রাখা হয়। আর্থিক লেনদেন এ অর্থ বিনিময়, বিক্রয় এবং ব্যয়ের মতো ঘটনা হিসেব করা হয় । উভয়ই অপরিহার্য কারণ তারা ব্যবসাগুলিকে তাদের অর্থের ট্র্যাক রাখতে, সিদ্ধান্ত নিতে, কর দিতে, বাজেট তৈরি করতে এবং বিনিয়োগকারী এবং ঋণদাতাদের মতো অন্যদের কাছে তাদের আর্থিক অবস্থা দেখাতে সহায়তা করে। সঠিক রেকর্ডিং এবং ট্র্যাকিং ব্যতীত, ব্যবসাগুলি বুঝতে পারে না তাদের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তারা কত উপার্জন করছে বা কার্যকরভাবে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করছে।

ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার সময়, আপনি আপনার করের বোঝা কমাতে পারেন। আপনি আপনার মোট করের উপর বিভিন্ন ছাড় পেতে পারেন। করের পরিমাণ কমানোর এই প্রক্রিয়া কে বলা হয় কর রিবেইট। ট্যাক্স রিবেট মূলত ট্যাক্স কমানোর দাবিকে বোঝায় যা একজন করদাতা কর দাখিল করার সময় তার করের উপর করতে পারেন। এক বা একাধিক প্রযোজ্য ট্যাক্স রিবেটের জন্য ফাইল করা একজন করদাতাকে তার সামগ্রিক করের পরিমাণ অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাকাউন্টিং একটি কোর সাবজেক্ট হলেও অ্যাকাউন্টিং এর চারটি ফ্লেভার বা টাইপ রয়েছে। ট্যাক্স অ্যাকাউন্টিং , প্রজেক্ট অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং , কস্ট অ্যাকাউন্টিং । ফিল্ড ভেদে এই টাইপগুলোর আলাদা মেথড রয়েছে এবং আলাদা স্ট্রাকচার রয়েছে। প্রতিটা ফিল্ড ই সমান গুরুত্বপূর্ণ আর বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই এই অ্যাকাউন্টিং প্রিন্সিপালগুলো ফলো করা হয়।

অডিটিং এ একটা কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল আর অ্যাকাউন্টিং এর রেকর্ড করে চেক করে নিশ্চিত করা হয় কোম্পানির হিসাব এবং স্টেটমেন্ট গুলো সম্পূর্ণ ঠিক রয়েছে কিনা। এই অডিট পরিচালনার জন্য কিছু প্রিন্সিপাল রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে রিস্ক এসেসমেন্ট এবং প্ল্যানিং। সিএ ফার্মগুলোকে কোম্পানি অনুসারে প্ল্যানিং এবং রিস্ক এসেসমেন্ট পরিবর্তন করতে হয়। প্ল্যনিং আর রিস্ক এসেসমেন্ট ফার্মের একটা ওভারল স্কেচ তাদের সামনে তুলে ধরে।

অডিটিং একটা কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল আর অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন চেক করার প্রক্রিয়া যেখানে দেখা হয় কোম্পানি টা ফাইন্যান্সিয়ালি কত ভালো করছে আর কোম্পানির হিসেব আর বাকি বিষয় ঠিক আছে কিনা। ওডিট যারা করে থাকেন তাদের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বলা হয় এবং তারা সি এ ফার্মে কাজ করে থাকে। প্রতিটি বড় বড় প্রতিষ্ঠানকেই বছরে কমপক্ষে অডিট করতে হয়। Deloitte, PwY, EY বিশ্বর কিছু নামকরা অডিট ফার্ম। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে সি এ ফার্মগুলোর যাত্রা শুরু হয়। এখন ICAB এর আন্ডারে প্রায় ১৫০ টির মতো সি এ ফার্ম র্যয়েছে।

এক্রুয়াল একাউন্টিং আপনাকে আপনার বিজনেসের ইনকাম, এক্সপেন্স, লসেস কিংবা সেভিংস এর একটি টোটাল ওভারভিউ প্রোভাইড করে। সাথে আপনার কোম্পানির প্রেজেন্ট ফাইনান্সিয়াল কন্ডিশনের একটা একুরেট লে আউট অফার করে। সার্বজনীনভাবে, আয় পরিমাপ করার জন্য এক্রুয়াল একাউন্টিং, বিজনেসের আর্থিক পরিস্থিতি এবং গ্রোথ এর একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে আমরা যেসব পণ্য বা সেবা ক্রয় করি, যা আমাদের জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয়, তবে আমাদের মানসিক তৃপ্তি প্রদান করে এবং সোশ্যাল স্ট্যাটাস বজায় রাখতে সাহায্য করে তাই লাক্সারি বা বিলাসবহুল পণ্য। আর যেসকল ব্র্যান্ড এসব পণ্যের মার্কেটিং এবং বিক্রয় করে তাদেরকেই আমরা লাক্সারি ব্র্যান্ড হিসেবে জানি। লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত তাদের রোমাঞ্চকর গল্প, সেলিব্রেটি মার্কেটিং, পণ্যের লিমিটেড এমাউন্ট ইত্যাদি ফ্যাক্টরের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

পারসোনাল ব্র্যান্ডিং হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ তার পরিবেশের কাছে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এটি এমন একটি পরিচয় তৈরি করে যা মানুষকে তাদের প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে, তাদের অডিয়েন্সের কাছে আরও স্বীকৃত এবং কানেক্টেড করে দেয়। পারসোনাল ব্র্যান্ডিং-এর সাহায্যে ব্যক্তি ও প্রফেশনাল উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ইমপ্যাক্ট তৈরি করা যায়।

দুই বা তার বেশি পরিমাণ কোম্পানী যখন নিজেদের ইনগ্রিডিয়েন্ট এবং ক্রেডিবিলিটি একসাথে মিলিয়ে একটি নতুন প্রোডাক্ট মার্কেটে নিয়ে আসে তখন তাকে কো-ব্র্যান্ডিং বলে। যেহেতু দুটি কোম্পানীরই অবদান থাকে, তাই প্রোডাক্টের নতুন লোগোর পেছনে দুটি কোম্পানীরই লোগো ব্যবহার করা হয়। এতে করে প্রোডাক্টের পারসিভড ভ্যালু বৃদ্ধি পায় এবং অনেক বড় সংখ্যক অডিয়েন্সের কাছে প্রোডাক্ট পৌছে দেয়া সম্ভব হয়।

ব্র্যান্ড পজিশনিং বলতে আপনার ব্র্যান্ডকে মার্কেটে ও কাস্টমারদের মনে এমন একটি স্থানে বসানোকে বোঝায়, যেখানে কাস্টমাররা আপনার ব্র্যান্ডকে অনেক বেশি ভ্যালুয়েবল মনে করবেন এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ক্রয় না করে আপনার ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ক্রয় করবেন। সঠিক ব্র্যান্ড পজিশনিং-এর জন্য আপনাকে আপনার প্রোডাক্টের ইউনিক ভ্যালু প্রপোজিশন আইডেন্টিফাই করতে হবে এবং একটি ক্লিয়ারকাট ব্র্যান্ড পজিশনিং স্টেটমেন্ট তৈরি করতে হবে।

আপনার ব্র্যান্ড কি কাস্টমারদের মনে জায়গা করে নিতে পারবে কি না তা নির্ধারণ করে আপনার ব্র্যান্ড ইমেজ। পজিটিভ ব্র্যান্ড ইমেজ মার্কেট ও কাস্টমার অ্যাক্যুইজিশনে ইতিবাচক প্রভাব রাখে অপরদিকে নেগেটিভ ব্র্যান্ড ইমেজের কারনে বিশাল সংখ্যক কাস্টমার হাতছাড়া হয়ে যায়।

ব্র্যান্ড ইক্যুইটি হচ্ছে একটি মার্কেটিং টার্ম, যা দ্বারা একটি ব্র্যান্ডের ভ্যালু বোঝানো হয়। কাস্টমাররা আপনার ব্র্যান্ডকে কিভাবে দেখে এবং ব্র্যান্ড সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করা তার উপর এই ভ্যালু নির্ধারিত হয়। যখন কোনো ব্র্যান্ড খুব ভালো পারফর্ম করে অথবা কাস্টমাররা ব্র্যান্ড নিয়ে খুব খুশি থাকে, তখন ব্র্যান্ড ইক্যুইটি পজিটিভ হয়। আর যখন ব্র্যান্ড কাস্টমারদের প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন নেগেটিভ ব্র্যান্ড ইক্যুইটি তৈরি হয়।

আকর্ষণীয়, সাবলীল এবং তথ্যপূর্ণ কন্টেন্ট যেমন - ভিডিও, অডিও, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ইত্যাদি তৈরি করে তা দ্বারা প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রমোশন চালানোকেই মূলত কন্টেন্ট মার্কেটিং বলা হয়। কন্টেন্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি যদি একটি বৃত্ত হয়, তাহলে কাস্টমাররা হবেন সেই বৃত্তের মধ্যবিন্দু। কাস্টমারদের চাহিদা, সমস্যা, প্রয়োজন, আকাঙ্কা ইত্যাদি রিলেটেড কন্টেন্ট তৈরি করে তা দ্বারা প্রোডাক্ট প্রমোট করলে ব্র্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন বৃদ্ধি পায় এবং পজিটিভ ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি হয়।

আপনার ব্র্যান্ড বা কোম্পানী সম্পর্কে কাস্টমারদের কি পারসেপশন রয়েছে তা বোঝাতেই ব্র্যান্ডিং শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সহজ কথায় ব্র্যান্ডিং হচ্ছে আপনার কোম্পানী সম্পর্কে আপনার কাস্টমারদের ইম্প্রেশন। ভালো ব্র্যান্ডিং অনেকগুলো কারণে গুরুত্বপূর্ণ, যেমন - কাস্টমার আউটরিচ বৃদ্ধি করে, ট্রাস্ট গেইন করতে সাহায্য করে, মার্কেটিং সহজ করে তোলে, কর্মীদের মোটিভেটেড রাখে এবং লয়াল কাস্টমার বেইজ তৈরিতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

ব্র্যান্ডের জন্য নাম সিলেক্ট করার সময় আপনাকে অবশ্যই এমন একটি নাম বেছে নিতে হবে যেটি কাস্টমাররা সহজেই মনে রাখতে পারেন এবং তা দ্বারা আপনার ব্র্যান্ডের একটি ইমপ্রেশন তাদের মনে জেগে ওঠে। তবে নামটি লিগ্যালি এভেইলএবল কি না এবং ভবিষ্যৎ-এ এই নাম দিয়ে আপনার প্রোডাক্ট লাইন বড় করতে পারবেন কি না এগুলোও বিবেচ্য বিষয়।

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বেড়াজালে আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর জর্জরিত। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং সেক্টর থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে লক্ষাধিক কোটি টাকা। ব্যাংকিং সেক্টর পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে দিয়েছেন। সবার আগে এনশিওর করতে হবে যাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আর কোনো ব্যাংক কাউকে ঋণ না দিতে পারে।

ফ্র্যাকশনাল রিজার্ভ ব্যাংকিং হচ্ছে এমন একটি ব্যাংক ব্যবস্থা, যেখানে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ডিপোজিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ রিজার্ভ হিসেবে জমা রেখে বাকি টাকা লোন হিসেবে অন্যান্য গ্রাহকদের দেয়। গ্রাহকদের টাকা ব্যবহার করার কারণে সেই লোন থেকে প্রাপ্ত লাভের একটি অংশ ব্যাংক তার গ্রাহকদের সুদ হিসেবে প্রদান করে। বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা’ই ফ্র্যাকশনা রিজার্ভ ব্যাংকিং সিস্টেম ফলো করছে।

কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলো বর্তমানে ডিপোজিট গ্রহণ, ঋণ প্রদান, পেমেন্ট প্রসেসিং ও কারেন্সি এক্সচেঞ্জ সার্ভিসের পাশাপাশি আরো বিভিন্ন সেবা অফার করছে যেমন - মূলধন সরবরাহ করা, রিস্ক ট্রান্সফরম্যাশন, লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। এইসকল সার্ভিস অফার করার মাধ্যমে কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলো একদিকে যেমন ব্যাক্তি পর্যায়ে ব্যাংকিং সার্ভিস পাওয়া সহজ করে দিচ্ছে, আবার বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে’ও ভূমিকা পালন করছে।

ব্যাংক রান হচ্ছে এমন একটি ঘটনা যেখানে কোনো ব্যাংকের বেশিরভাগ ডিপোজিটর একসাথে ব্যাংক থেকে নিজেদের টাকা তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের চাহিদাপূরণ করতে না পেরে ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে যায়। অনেক সময় গুজব বা ব্যাংক দ্বারা নেয়া কোনো ভুল পদক্ষেপের কারণে এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ব্যাংকের কার্যক্রম বলতে মূলত জনগণের সঞ্চয় আমানত হিসেবে গ্রহণ ও ঋণ প্রদান বোঝানো হলেও ব্যাংক আরো অনেক ধরণের সার্ভিস যেমন - ক্রেডিট কার্ড, বিভিন্ন ধরণের পেমেন্ট সার্ভিস, কারেন্সি এক্সচেঞ্জ, ব্যবসায়িক ঋণ, ট্রেড ফাইন্যান্স, ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট সেবা প্রদান করে থাকে। তবে সকল ব্যাংক সকল ধরণের সার্ভিস প্রদান করে না, উদ্দেশ্যভেদে প্রতিটি ব্যাংকের কার্যক্রম ভিন্ন হয়ে থাকে।

ডিজিটাল ব্যাংক বলতে মূলত এমন ব্যাংককে বোঝানো হয়, যার সকল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস হচ্ছে ক্লাউড-বেইজড, অর্থাৎ, এই ব্যাংকের কোনো ফিজিকাল লোকেশান থাকে না। তবে অনেক সময় ডিজিটাল ব্যাংকিং, ই-ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং - এই শব্দগুলোকে সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল ব্যাংকের সকল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ট্রেডিশনাল ব্যাংকের মতোই, শুধু পার্থক্য হচ্ছে এই যে, ডিজিটাল ব্যাংকের সকল সুবিধা ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে ভোগ করা যায়, ব্রাঞ্চে উপস্থিত হতে হয় না।

ব্যাংকের প্রোডাক্ট ও সার্ভিসগুলোকে মূলত ৪টি ভাগে করা যায়, যথা - কোর প্রোডাক্টস, লোন সার্ভিস, ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস ও অন্যান্য সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস। প্রতিটি ভাগেই একাধিক ধরণের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস রয়েছে, যার উদ্দেশ্য মূলত গ্রাহকের আর্থিক লেনদেনকে সহজ করে তোলা এবং নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করার সুবিধা প্রদান করা।

কমার্শিয়াল ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাঝে মূল পার্থক্য হচ্ছে এই যে, কমার্শিয়াল ব্যাংক সাধারণ মানুষদের সার্ভিস প্রদান করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার অধীনে থাকা অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে সার্ভিস প্রদান করে। অন্যান্য ব্যাংকের কার্যক্রম দেখাশোনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি তৈরি করে, ফরেন রিজার্ভ মেইনটেইন করে, নোট ইস্যু করে, সরকারকে রিপ্রেজেন্ট করে। এসব কার্যক্রম কোনো কমার্শিয়াল ব্যাংক পালন করে না।

প্যারিস অলিম্পিকস ২০২৪ - এর সাথে সামাজিক ব্যবসায় মডেল ইন্টিগ্রেট করে একটি ইতিবাচক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ন্যুনতম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে ও সামাজিক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পার্টনারশিপে কাজ করা হয়েছে।

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমাজের কোনো সমস্যাকে সমাধান করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাই হচ্ছে সামাজিক ব্যবসায়। সর্বপ্রথম ড. মুহাম্মদ ইউনুস দ্বারা শুরু করা এই মডেল এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে। সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সাশ্রয়ী মূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঋণ রিলেটেড পণ্য বা সেবা অফার করে থাকে।

থ্রি জিরো মডেলের উদ্ভাবক হচ্ছেন বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস। তার ২০১৭ সালের বই “A World of Three Zeros” - এ তিনি প্রথম এই মডেল প্রকাশ করেন। ৩টি পিলার নিয়ে এই মডেল গঠিত, যথা - শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ।

ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীকে স্বল্প পরিমাণ ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে তারা ব্যবসায় শুরু করেন, শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় করেন এবং নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জনের চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে দারিদ্যের হার হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব হলেও রয়েছে ঋণে জর্জরিত হয়ে পরার সম্ভাবনা।

CATWOE অ্যানালিসিস হচ্ছে যেকোনো সমস্যা বা সিচুয়েশনকে অ্যানালাইজ করার একটি রোবাস্ট এবং সাবজেক্টিভ মেথড। এই স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করে যেকোনো সমস্যার সাথে জড়িত ৬টি উপাদান বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো Customers/Clients, Actors, Transformation Process, Worldview, Owners এবং Environmental Restraints।

২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল, এই দশ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে ৭. ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে উন্নত দেশগুলোতে। চোখের সামনে থেকে পাচার হওয়া এই অর্থের আবার আছে বৈধ নথিপত্রও। আর এই অবৈধ অর্থকে বৈধতা দেয়ার এই প্রক্রিয়াকে সরাসরি অর্থপাচার না বলে, নাম দেয়া হয়েছে Money Laundering বা অর্থশোধন। দ্যা ইকোনোমিস্ট পত্রিকা প্রকাশ করে বাংলাদেশের অসংখ্য দূর্নীতির মধ্যে এক "ওপেন সিক্রেট হল" বানিজ্যের আড়ালে মানি লন্ডারিং বা Trade Based Money Laundering। আর দেশের মানি লন্ডারিংয়ের ৮০ শতাংশই হচ্ছে বানিজ্য ভিত্তিক।

"পাম্প এবং ডাম্প" - ফাইন্যান্সিয়াল বাজারের একটি বিশাল প্রতারণামূলক স্কিম। সাধারণত, পাম্প এর ফাংশন বলতে আমরা বুঝি কোনো কিছু উত্তোলন করা বা ওপরে ওঠানো। আর, এখানে, ডাম্প বলতে কোনো কিছুর ভ্যালুকে হঠাৎ নিচে নামিয়ে ফেলাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর Pump and Dump স্ক্যামে প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনাই ঘটছে।

স্টক মার্কেটের প্রতি মানুষের আকর্ষণ আকাশচুম্বী। সেই নব্বই দশক থেকে একুশ শতকে, এসেও কমেনি মানুষের আগ্রহ। আর এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়েই যুগে যুগে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতারণার ফাঁদ। এখন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ স্টক স্ক্যাম এর শিকার হয়েছে। পাম্প এন্ড ডাম্প কিংবা কর্পোরেট জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া স্টক দিয়ে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

সাল ২০১৬, পানামা পেপারস নামে হঠাৎ করেই ফাঁস হয় ১ কোটি ১৫ লক্ষ গোপন নথি। কি ছিল এসব নথিতে? এখানে ছিল সভ্যতার মুখোস পড়া অসংখ্য অবৈধ ব্যবসায়ী, সেলিব্রিটি, স্মাগলার দের কালো টাকার কাগজ পত্র। এই সব কালো আর অঘোষিত টাকাকে বিভিন্ন জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছিল বৈধতা। প্রায় ১১৪০ কোটি টাকাকে বৈধতা দেয়ার রেকর্ড পাওয়া যায় এই ঘটনায়।

ওয়ার্ড ট্রেডিং এন্ড ফাইনান্সিয়াল সিস্টেম এখন অতন্ত্য সেনসিটিভ ইস্যুতে পরিনত হয়েছে। রাতারাতি কেউ সফল হয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার চোখের পলকে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের নামকরা বহু কোম্পানি এই ধরনের অভ্যন্তরীণ ইলিগ্যাল ট্রেডিং এর ফাঁদে পড়ছে। অর্থাৎ কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করে অথবা সেটা কাজে লাগিয়ে, কোম্পানির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাই ইনসাইডার ট্রেডিং করে যাচ্ছে। নন পাবলিক ইনফরমেশন কে পাবলিক করা বা মিস ইউজ করার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ফেস করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবছর প্রয় ৪৩২ টি কেস ফাইল হয় শুধুমাত্র ইনসাইডার ট্রেডিং এর বিরুদ্ধে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সারা জাগানো, ও সবচেয়ে হিস্টোরিক্যাল Fraudulent ছিল এনরোন স্ক্যান্ডাল৷ ২০০১ সালে, ভুয়া তথ্য প্রচার ও ফ্রড রিপোর্টিং এর মাধ্যমে পাম্প এন্ড ডাম্পের সবচেয়ে কুখ্যাত এই ঘটনাটি ঘটে। আর এই স্ক্যাম গুলো এখানেই থেমে থাকে নি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১২ হাজারের ও অধিক Fraudulent Financial Reporting এর কেস ফাইল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও থেমে নেই এর প্রকোপ।

বিশ্বজুড়ে মোট বিজ্ঞাপনের প্রায় ২১-২২% বিজ্ঞাপনই False advertising হয়ে থাকে। ভারতের সমস্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৩১% ইউজার ই False advertising-এর শিকার হয়ে থাকেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর মিথ্যা বিজ্ঞাপনের জন্য ১৫ বিলিয়ন ডলার হারায়। তাই, আমাদের জীবন এবং বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য Marketing fraud-এর খুব সাধারণ একটি রূপ এই False advertising-এর ভয়াবহতা কতটা মারাত্মক তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়।

Identity Theft-কে বলা হয়ে থাকে ডিজিটাল ডাকাতি, যেখানে আপনার পরিচয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য অন্য একজন চুরি করে। এই চুরি করা তথ্য ব্যবহার করে অপরাধী নানা ধরনের প্রতারণামূলক কাজ করে থাকে। এবং এসব অপরাধের চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো প্রতারণামূলক কাজ করা। চুরির এইসব তথ্য ব্যবহার করে অপরাধীরা আপনার থেকে কয়েক থেকে কয়েকশো ডলার হাতিয়ে নিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন বা জলবায়ু বিজ্ঞান কোন সহজ বিষয় নয় এবং এটি মোকাবেলা করতে তাই সকল দেশ এবং পৃথিবীর সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। সেটি বুঝতে পেরেই, এই সংকট মোকাবেলার জন্য বহু সময়ে, অনেক রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে, অনেক চুক্তি বা নীতি প্রণয়ন করেন। পৃথিবীতে এমন যত চুক্তি রয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বড় চুক্তিটি হচ্ছে প্যারিস চুক্তি।

বিশ্ব ব্যাংক খাতকে সহজ ও এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে, নানান সময়ে নানান ধরনের ব্যাংকিং নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম Basel Accodrs. Basel Committee of Banking Supervision (BCBS) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এর তিনটি সংস্করন, Basel I, Basel II, এবং Basel III, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং ঝুকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং সেক্টরে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনন্য মাত্রা প্রদান করে।

North American Free Trade Agreement (NAFTA) হল একটি ত্রি-দেশীয় চুক্তি যা, কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বানিজ্যিক সমঝোতায় একত্রিত করে। ১৯৯২ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় এবং এটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে। পণ্যের উপর বেশিরভাগ শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্যে অন্যান্য বাধা দূর করার মাধ্যমে, NAFTA তিনটি দেশের মধ্যে বানিজ্যের প্রবৃদ্ধি, প্রসার ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ও ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের বন্ধুত্ব আজ থেকে বহু বছর আগে থেকে। কিন্তু তর্ক সাপেক্ষে এই দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো হলেও, একটা বিষয় যেন দুই দেশের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেটি হচ্ছে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি। এই আন্তঃসীমান্ত নদীটির পানির সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে ২০১১ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত বাস্তবতার মুখ দেখতে পারেনি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি। যদিও তিস্তা নদীর পানির অসম বন্টনের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যা এবং গ্রীষ্মকালে সম্মুখীন হয় ভয়াবহ পানি সংকটের।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৈত্রী চুক্তি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে কষ্টার্জিত স্বাধীনতার পর, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা দৃঢ় করতে বাংলাদেশের কঠোর সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত হয় এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি যা স্বাধীন জাতি হিসাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে কাজ করে।

একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি হলো কিছু লিখিত নির্দেশাবলীর একটি সেট যা ধাপে ধাপে কিছু প্রক্রিয়া বর্ণনা করে যেগুলো সঠিকভাবে একটি রুটিন কার্যকলাপ সম্পাদন করতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, প্রক্রিয়া এবং মান প্রদান করে। এটি একটি ব্যবসার ত্রুটি হ্রাস করে, দক্ষতা এবং লাভজনকতা বৃদ্ধি করে, একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করে এবং বাধা কাটিয়ে ওঠার জন্য নির্দেশিকা তৈরি করে উপকৃত করতে পারে।

কখনও কখনও, আমাদের উপার্জন আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত নাও হতে পারে এবং সেই কারণে আমাদের ঋণের দিকে ঝুকতে হয় । সব ঋণই যে খারাপ তা নয় , ঋণ কখনো কখনো আমাদের কাজে লাগে যদি তা সময় মতো পরিশোধ করা যায় ।

গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভ্যালু (GMV) হলো একটি মেট্রিক যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনার বিক্রয়ের মোট মূল্য পরিমাপ করে। এটি এমন একটি মেট্রিক যা সাধারণত ইকমার্স শিল্পে ব্যবহৃত হয় এবং কখনও কখনও গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভলিউম হিসাবেও উল্লেখ করা হয়। আর GMV নির্ণয়ের সূত্রটি হচ্ছে, মোট পণ্যের মূল্য = পণ্যের বিক্রয় মূল্য x বিক্রয়কৃত পণ্যের সংখ্যা।

বিজনেস বুটস্ট্রাপ হচ্ছে মূলত বাহিরের কোনো বিনিয়োগ ছাড়া কিংবা খুবই কম পরিমাণে বাহ্যিক পুঁজির মাধ্যমে শূন্য থেকে একটি বিজনেস শুরু করার প্রক্রিয়া। একজন উদ্যোক্তা যখন নিজের সম্পদকে মূলধনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করে তখন সেটা বিজনেস বুটস্ট্রাপ হিসেবে গণ্য হয়। বিজনেস সম্পর্কিত অন্যান্য টার্ম এর মতো এর ও বিভিন্ন পর্যায়, উপকারিতা এবং সুবিধা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে “Estately” (একটি হোম অনুসন্ধান প্লাটফর্ম) কে বিজনেস বুটস্ট্রাপ এর অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

ইউএসপি হল এমন একটি কৌশল- যেটির কারণে গ্রাহকরা আপনার পণ্য পছন্দ করবে এবং আপনাকে অন্যান্য অনেক কোম্পানির মধ্য থেকে বেছে নেবে। স্ট্রং ইউএসপি নিমিষেই বদলে দিতে পারে একটি কোম্পানির অবস্থান। অন্যান্য কৌশলের সাথে ইউএসপির কৌশল অবলম্বনে আজ বিশ্বের নামিদামি অনেক কোম্পানি সফলতার শীর্ষে রয়েছে।

পণ্য জীবন চক্র বলতে একটি পণ্যের সূচনা, উন্নতি আর পরিণতির সময়কালকে বুঝিয়ে থাকে। একটি পণ্য মার্কেটে আসলে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ- ক্যাবল টিভি, কোকা কোলা কিংবা ক্যাসেট প্লেয়ার’কে রাখা যেতে পারে। তবে পণ্য জীবন চক্র নিয়ে জানার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলে, এর মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের পর্যায় নির্বাচন করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে পণ্যের চাহিদা কিংবা জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারেন।

Customer Acquisition Cost বা CAC হলো একটা বিজনেসের নতুন একজন কাস্টমার পেতে গড়ে কত টাকা খরচ হচ্ছে তার পরিমাপ, যা বের করা হয় মোট সেলস ও মার্কেটিং খরচকে ওই সময়ে পাওয়া নতুন কাস্টমারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে — যেমন এক মাসে ১,০০,০০০ টাকা খরচ করে ১০০ জন কাস্টমার পেলে CAC দাঁড়ায় ১,০০০ টাকা। এই খরচের মধ্যে বিজ্ঞাপন, সেলস টিমের বেতন ও কমিশন, মার্কেটিং টুলস, কনটেন্ট তৈরি, এজেন্সি ফি — সব কিছুই ধরা হয়। CAC গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা দিয়ে বোঝা যায় বিজনেস আসলে লাভজনক কিনা; একজন কাস্টমার তার পুরো জীবদ্দশায় যত টাকার ভ্যালু দেয় (Customer Lifetime Value বা LTV) সেটা যদি CAC-এর চেয়ে কম হয়, তাহলে বিজনেস আসলে লস করছে, আর সাধারণ নিয়ম হলো সুস্থ বিজনেসে LTV:CAC অনুপাত অন্তত ৩:১ হওয়া উচিত। Casper থেকে Dropbox -- CAC বুঝে ব্যবসা না চালালে লাভ করা অসম্ভব। সূত্র, তিনটি বাস্তব উদাহরণ, শিল্পভেদে বেঞ্চমার্ক, LTV:CAC অনুপাত এবং CAC কমানোর ১০টি কৌশলসহ সম্পূর্ণ গাইড।

কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর, সাধারণত কেপিআই হিসাবে উল্লেখ করা হয়, একটি কোম্পানির কর্মক্ষমতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত মূল সূচক। আপনার ড্যাশবোর্ড এবং প্রতিবেদনে উপস্থিত করে, তারা একটি কার্যকলাপ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সূচক কারণ তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি মূল্যবান সহায়তা। এই কারণেই এই সূচকগুলিকে বুদ্ধিমানের সাথে বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Return on Investment (ROI) হলো একটি বিনিয়োগ থেকে কতটুকু লাভ বা ক্ষতি হয়েছে তা শতাংশে প্রকাশ করার সূত্র। সূত্র: ROI = (লাভ - বিনিয়োগ) / বিনিয়োগ x ১০০। উদাহরণস্বরূপ, ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১.৫ লাখ ফেরত পেলে ROI = ৫০%। McKinsey-র ২০২৫ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে ROI-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কোম্পানি প্রতিযোগীদের তুলনায় ২৩% বেশি মুনাফা অর্জন করে। এই আর্টিকেলে ROI-এর সূত্র, গণনা পদ্ধতি, বাস্তব উদাহরণ, শিল্পভেদে বেঞ্চমার্ক, সীমাবদ্ধতা এবং বিকল্প মেট্রিক বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

হাজার হাজার প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা বিজনেস এর মধ্যে আমি কোনটা নিয়ে কাজ করব? আমার কোনটা নিয়ে কাজ করা উচিত? বিজনেস শুরু করা বা কোন কাজে নামার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সাথে জরুরী। একটি সুনির্দিষ্ট নিশ মার্কেট (Niche Market) নির্ধারন বিজনেসে অভাবনীয় অনেক সুবিধা ও লাভ এনে দিতে পারে। এখানে নিশ মার্কেট হচ্ছে বৃহৎ কিংবা অসংখ্য পণ্যের বাজারের মধ্যে প্রতিশ্রুতিশীল, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ফোকাসড ও বিশ্বাসযোগ্য অংশ যা দিয়ে নির্দিষ্ট একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করা যেতে পারে। Niche বা নিশ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে - উপযুক্ত, প্রকৃত, যথার্থ স্থান, যথাযোগ্য স্থান। সুতরাং, কেউ যখন বৃহৎ পণ্যের বাজারের একটি নির্দিষ্ট অংশ (Portion), একটি নির্দিষ্ট কোন অঞ্চল নিয়ে কাজ করবে তখন আমরা সেটাকে নিশ মার্কেট বলি।

যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তার প্রতিযোগীদের থেকে কম মূল্যে আরো ভালো মানের পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে, তখন তাকে কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ বলা হয়। কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ-এর মাধ্যমে কোম্পানী তার পণ্য বা সেবা অন্যদের থেকে ভিন্ন হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়ে যায় এবং এতে করে কাস্টমারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

৫ বার ‘কেনো?’ প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান খুজে বের করাকে রুট কজ অ্যানালিসিস বলে। মূলত রুট কজ অ্যানালিসিসের আরও কিছু পদ্ধতি থাকলেও এই পদ্ধতিটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন্যসকল পদ্ধতির থেকে এর কার্যকারিতা অনেক বেশি।

পেটেন্ট হলো একটি একচেটিয়া বা বাধা দেওয়ার মতো অধিকার যা অন্য কাউকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতি ছাড়া আপনার কোনো উদ্ভাবন তৈরি, ব্যবহার, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা বিক্রি করতে বাধা দেয়া। পেটেন্টের ধরণের উপর ভিত্তি করে এই সময়সীমাটি ২০ বছর পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। যদি কেউ আপনার আবিষ্কার চুরি করে, পেটেন্ট আপনাকে দোষী পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দেয়।

কাস্টমার লাইফটাইম ভ্যালু (LTV) হলো একজন গ্রাহক তার সম্পূর্ণ সম্পর্কের সময়কালে আপনার ব্যবসায় মোট যত টাকা খরচ করবে তার আনুমানিক মূল্য। উদাহরণস্বরূপ, একজন Starbucks গ্রাহকের LTV প্রায় $14,099 — অর্থাৎ একজন গ্রাহক গড়ে তার জীবদ্দশায় এই পরিমাণ খরচ করে। LTV জানা থাকলে বোঝা যায় নতুন গ্রাহক অর্জনে কতটুকু খরচ করা যৌক্তিক, কোন গ্রাহক সেগমেন্টে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং রিটেনশন বাড়ানো কেন অ্যাক্যুইজিশনের চেয়ে বেশি লাভজনক। এই আর্টিকেলে LTV-এর ৪টি সূত্র, তিনটি বাস্তব উদাহরণ (কফি শপ, ই-কমার্স, SaaS), বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর LTV তুলনা এবং LTV বাড়ানোর ১০টি প্রমাণিত কৌশল আলোচনা করা হয়েছে।

TAM, SAM এবং SOM-এর পূর্ণরুপ হচ্ছে যথাক্রমে Total Addressable Market, Serviceable Addressable Market এবং Share of Market। কোনো পণ্য বা সেবার টোটাল মার্কেট সাইজ, পটেনশিয়াল মার্কেট সাইজ এবং বর্তমান মার্কেট শেয়ার গণনা করার কাজে এই ৩টি মেট্রিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, একটি ব্যবসা বা কোম্পানী আদতে ঠিক কতোটা লাভজনক হতে পারে।

ব্যবসা শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — ঠিক কতটি পণ্য বিক্রি করলে আমার ব্যবসা লাভের মুখ দেখবে? ব্রেক-ইভেন অ্যানালিসিস সেই উত্তর দেয়। এই আর্টিকেলে সূত্র, তিনটি বাস্তব উদাহরণ (চায়ের দোকান, টি-শার্ট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট), ৯টি ডেটা টেবিল, সীমাবদ্ধতা, ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট কমানোর কৌশল এবং ধাপে ধাপে গণনা পদ্ধতি — সব কিছু সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৯৮০ সালে Michael E. Porter মার্কেট অ্যানালাইজ করার জন্য ৫টি ভিন্ন ভিন্ন ফোর্সের কথা তুলে ধরেন, যেগুলো হলো - কাস্টমারদের শক্তি, সাপ্লাইয়ারদের শক্তি, ব্যবসায়ের প্রতিযোগিতা, নতুন প্রতিযোগী কোম্পানির সম্ভাবনা, বিকল্প প্রোডাক্ট/সার্ভিসের হুমকি। এই ৫টি ফোর্স ব্যবহার করে যথাযথ মার্কেট অ্যানালিসিস করা সম্ভব।

মোট মুনাফা বলে আপনার পণ্য বা সেবা কতটা দক্ষতার সাথে তৈরি হচ্ছে। নিট মুনাফা বলে সব খরচ বাদ দিয়ে আসলে কতটা লাভ হচ্ছে। তিনটি বাস্তব উদাহরণ (পোশাক দোকান, ডিজিটাল এজেন্সি, ই-কমার্স), বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর তুলনা এবং মুনাফা বাড়ানোর কৌশলসহ সম্পূর্ণ গাইড।

কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক লাভজনকতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত মোট মুনাফার হার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পণ্য বা সেবার নিট বিক্রয়মূল্য থেকে বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বিয়োগ দিয়ে মোট মুনাফা নির্ণয় করা হয়। মোট মুনাফার হার’কে নিট বিক্রয় দিয়ে ভাগ করলে আমরা মোট মুনাফার হার পেয়ে যাই। সাধারণত, বিক্রয়কৃত অর্থের মোট কতো শতাংশ মুনাফা হচ্ছে তার প্রকাশ করা হয় মোট মুনাফার হার দিয়ে।

আপনারা প্রায়ই এখানে সেখানে বিভিন্ন বিলিওনারি কিংবা মিলিওনারিদের নেট ওয়ার্থ নিয়ে পড়ে থাকবেন। কিন্তু আপনাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা হয়তোবা নেট ওয়ার্থ সম্পর্কে জানেন না। নেট ওয়ার্থ আসলে কী? একজন মানুষ যা রোজগার করে কিংবা বছরে তার টোটাল রোজগার কিংবা তার ঋণ বা বিনিয়োগ ইত্যাদি - এ সব কোনো কিছুই আসলে নেট ওয়ার্থ নয়। বরং, এ সব কিছুর এক সংমিশ্রণই হচ্ছে নেট ওয়ার্থ। একটি কোম্পানির জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিক, যার মাধ্যমে একটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থানের একটি স্ন্যাপশট উঠে আসে।

পণ্য উৎপাদনের পর তা ভোক্তার কাছে পৌছে দেয়া পর্যন্ত একাধিক উপাদান নিয়ে সাপ্লাই চেইন গঠিত হয়। সাপ্লাই চেইনে বিভিন্ন ধরণের উপাদান থাকতে পারে, যেমন - সাপ্লাইয়ার, ম্যানুফ্যাকচারার, ওয়্যারহাউজ, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার। কোম্পানীর প্রয়োজন অনুসারে সাপ্লাই চেইনে আরো বেশি বা কম উপাদান থাকতে পারে।

সাধারণত মার্কেট বলতে একটি নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায়, যেখানে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়। কিন্তু অর্থনীতির ভষায় মার্কেট বলতে কোন স্থানকে বোঝায় না, বরং ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করাকে বাজারে বলে। ক্ষেত্রবিশেষে বাজার অনেক রকমের হয়ে থাকে: পাটের বাজার, স্বর্ণের বাজার, গমের বাজার, সবজির বাজার ইত্যাদি।

টার্গেট মার্কেট (Target Market) হলো সেই নির্দিষ্ট গোষ্ঠী যাদের জন্য আপনার পণ্য বা সেবা তৈরি এবং যাদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন। এটি ডেমোগ্রাফিক (বয়স, আয়, লিঙ্গ), জিওগ্রাফিক (অবস্থান), সাইকোগ্রাফিক (মূল্যবোধ, জীবনধারা) এবং বিহেভিয়রাল (ক্রয় অভ্যাস) বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। HubSpot-এর ২০২৫ তথ্যমতে সঠিকভাবে টার্গেট মার্কেট নির্ধারণকারী ব্যবসাগুলো মার্কেটিং ROI-তে গড়ে ২০০%+ বেশি পায়। Nike শুধু জুতা বিক্রি করে না -- তারা ১৮-৩৪ বছর বয়সী fitness-conscious, aspirational গ্রাহকদের টার্গেট করে। এই আর্টিকেলে টার্গেট মার্কেটের সংজ্ঞা, ৪ ধরন, টার্গেট মার্কেট বনাম টার্গেট অডিয়েন্স, নির্ধারণের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া, বাস্তব উদাহরণ এবং সাধারণ ভুল বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

হোয়াইট লেবেল মার্কেটিং-এ একটি কোম্পানি অন্য একটি কোম্পানির পণ্য বা কোম্পানি থেকে কোনো পণ্যের আইডিয়া, সার্ভিস বা মার্কেটিং কৌশল নিজের নামে ব্যবহার করে। ব্যবসা বৃদ্ধি এবং অধিক মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য একটি কোম্পানি মূলত হোয়াইট লেবেল মার্কেটিং করে থাকে।

বর্তমান সময়ে মার্কেটিং বলতে আমরা যা বুঝি তা পর্যন্ত আসতে মার্কেটিং-কে যেতে হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এই পরিবর্তনগুলোকে যদি আমরা বিভিন্ন যুগে ভাগ করি, তবে সেগুলো হচ্ছে - প্রোডাকশন-অরিয়েন্টেড যুগ, সেলস-অরিয়েন্টেড যুগ, মার্কেটিং-অরিয়েন্টেড যুগ, সোসাইটাল-অরিয়েন্টেড মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং যুগ।

সময়ের সাথে বাজার চাহিদা পরিবর্তিত হয়, এবং সফল কোম্পানিগুলি এই পরিবর্তনগুলোর সাথে নিজেদের পণ্য পরিবর্তন করে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। অন্যদিকে বাজার এবং গ্রাহক চাহিদার পরিবর্তনের সাথে কোনো কোম্পানি তার পণ্য পরিবর্তন না করলে সেটা মার্কেটিং মায়োপিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একটি কোম্পানি যখন শুধুমাত্র তার পণ্যের উপর ফোকাস করে, তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয় এবং গ্রাহকের চাহিদা উপেক্ষা করে তার পণ্য বা সার্ভিসের ব্যাপক জনপ্রিয়তার দিকে নজর দেয় তখন সেটি হচ্ছে মার্কেটিং মায়োপিয়া।

ইনবাউন্ড মার্কেটিং হলো একটি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল যেখানে কোনো ব্যবসা বা কোম্পানি কাস্টমার এক্সপিরিয়েন্সের বিভিন্ন পর্যায়ে (যেমন সচেতনতা, বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত) তার আদর্শ ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং আউটবাউন্ড মার্কেটিং এর মাধ্যমে মনোযোগের জন্য প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে তাদের সাথে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

আউটবাউন্ড মার্কেটিং হচ্ছে কোনো কোম্পানির সম্ভাব্য গ্রাহকের কাছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমগুলো যেমন মেইল, বিলবোর্ডস, টেলিভিশন এড ইত্যাদির মাধ্যমে পৌছানো। অর্থ্যাৎ আউটবাউন্ড মার্কেটিং তখনই ঘটবে যখন একটি কোম্পানি সাধারণ মিডিয়া বিজ্ঞাপনের (যেমন টিভি বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, সংবাদপত্র) মাধ্যমে বা সরাসরি এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে (যেমন মিটিং, কোল্ড কলিং এবং ঠান্ডা ইমেল) মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

ইনবাউন্ড মার্কেটিং এমন একটি কৌশল গ্রহণ করে যেখানে গ্রাহকরা কোম্পানির কাছে আরও অর্গানিকভাবে আসে, যেখানে আউটবাউন্ড মার্কেটিং গ্রাহকদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সাথে জড়িত। ইনবাউন্ড এবং আউটবাউন্ড মার্কেটিং পদ্ধতি লিড জেনারেশন এবং সেলসকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করে, কিন্তু উভয় প্রকার মার্কেটিং আপনার যেকোনো ব্যবসা দুর্দান্ত সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

হোলিস্টিক মার্কেটিং মডেল বলতে এমন একটি স্ট্র্যাটেজিকে বোঝানো হয় যা একটি ব্যবসায়ের পুরো সিস্টেম এবং প্রতিটি চ্যানেলকে একক হিসেবে চিন্তা করে। মূলত ব্যবসায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমকে একে অপরের সাথে ইন্টিগ্রেট করার মাধ্যমে এই মডেল কাজ করে। ব্যবসায়ের প্রতিটি প্রসেসের মাঝে সমন্বয় করে সেরা কাস্টমার এক্সপিরিয়েন্স তৈরি করাই এই মডেলের উদ্দেশ্য।

STP (Segmentation, Targeting, Positioning) হলো Philip Kotler-এর জনপ্রিয় করা মার্কেটিং কাঠামো। Segmentation মানে বাজারকে ডেমোগ্রাফিক, জিওগ্রাফিক, সাইকোগ্রাফিক ত বিহেভিয়রাল ভিত্তিতে ছোট গোষ্ঠীতে ভাগ করা। Targeting মানে সবচেয়ে লাভজনক গোষ্ঠী বেছে নেওয়া। Positioning মানে সেই গোষ্ঠীর মনে ব্র্যান্ডের স্বতন্ত্র স্থান তৈরি। Bain 2025: STP অনুসরণকারী ব্যবসা ২৫% বেশি মুনাফা করে।

কোম্পানি যখন নিজের প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের ফিচারগুলো বাধা ধরা নিয়মে মার্কেটিং এর মধ্যে বর্ণনা না করে কাস্টমারের একটি ইমোশন খুজে বের করে এবং একটি গল্প বা ঘটনার মধ্যে দিয়ে সেই ইমোশোনকে আঘাত করে তাদের প্রোডাক্ট/সার্ভিসের মাধ্যমে একটা আশার আলো বা সমাধান দেখায়, তখন এই পুরো প্রোসেসকে বলা হয় ইমোশনাল মার্কেটিং।

আজকের ডিজিটাল যুগে, Search Engine Advertising যেকোনো সফল অনলাইন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির একটি অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। লক্ষ লক্ষ লোক প্রতিদিন তথ্য, প্রোডাক্ট, এবং সার্ভিস খুঁজে পেতে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। বিজনেস গুলো কার্যকর সার্চ ইঞ্জিন এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য দর্শকদের সাথে সংযোগ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছে।

লিড জেনারেশন, মার্কেটিং এবং সেলসের এবং একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফাউন্ডেশন। বিজনেস গ্রোথের ভিত্তি তৈরি করা, সম্ভাব্য গ্রাহকদের চিহ্নিত করা এবং আকৃষ্ট করা, তাদের কে আরো বেশি ইনভলভ করাই এর উদ্দেশ্য। ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্রমবর্ধমান ল্যান্ডস্কেপে লিড জেনারেশন চাহিদা বছরের পর বছর ধরে বেড়েই চলেছে। আজকের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, ব্যবসায় এগিয়ে থাকার জন্য এটি একটি বিশেষ প্রয়োজনীয়তা।

ডিজিটালাইজেশন এর এই যুগে, মার্কেটিং একটি ক্রমবর্ধমান বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর ধারণা থেকে বেড়িয়ে, ডায়নামিক ও ডিজিটাল মার্কেটং এর উদ্ভাবন হয়েছে। বিজনেস টু কাস্টমার কনট্যাক্ট ও রিলেশনশিপ এর স্ট্র্যাটেজি এখন এডভান্স লেভেল এ চলে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক, ইউটিউব, লিংকডিন এর মত অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো এখন মার্কেটিং এর বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। Introduced হচ্ছে কন্টেন্ট, ই-মেইল, ডেটা অ্যানালাইসিস এর মত নতুন নতুন স্ট্র্যাটেজি। বিশ্বায়নের যুগান্তকারী বিপ্লবের যুগে, মার্কেটিং এর এই বিবর্তন বিজনেস ও ব্রান্ড গুলোর জন্য একটি আশীর্বাদে পরিনত হয়েছ।

ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্কিল। ডিজিটাল মার্কেটিং এর কল্যানে বিজনেস গুলো এখন খুব সহজেই পৌঁছাতে পারছে তাদের টার্গেটেড অডিয়েন্স এর কাছে। কারণ, এর সাথে ইন্টার কানেক্টেড আছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মত বিভিন্ন মার্কেটিং স্ট্যাটেজি গুলো। তবে, ডিজিটাল মার্কেটিং এ সাকসেসফুল হওয়া ও বিজনেস গ্রো করার জন্য দরকার হয় আপ-টু-ডেট ইনফরমেশন, ডিল করতে হয় ডাটা প্রাইভেসি ও মার্কেট কম্পিটিশনের মত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সাথে। আর এজন্য প্রয়োজন ডাটা এনালাইসিস, ক্রিটিকাল থিংকিং, ক্রিয়েটিভিটির মত ডিজিটাল স্কিলস।

অনলাইন কনটেন্ট, ইমেইল, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে মার্কেটে থাকা প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস সম্পর্কে সম্ভাব্য কাস্টমারদের আরও ভালোভাবে সেই প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের সাথে যুক্ত হতে বা সেই সম্পর্কে জানার একটা সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার প্রোসেসকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।

কীওয়ার্ড রিসার্চ হল এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান) এর একটি মৌলিক দিক এবং আপনার ওয়েবসাইটে অর্গানিক ট্র্যাফিক ড্রাইভ করার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি। সঠিক কীওয়ার্ড নির্বাচন করে, আপনি কার্যকরভাবে আপনার দর্শকদের টার্গেট করতে পারবেন এবং সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটের Visibility উন্নত করতে পারবেন।

ড্রপসিপিং একটি অন-লাইন ভিত্তিক বিজনেস মডেল, যাকে ই-কমার্স বিজনেস মডেল ও বলা যেতে পারে। তবে ই-কমার্স এরসাথে ড্রপসিপিং এর মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে এইখানে একজন ড্রপসিপার নিজেই পণ্যের মজুদ করে না। অর্থাৎ যখন কোন পণ্যের অর্ডার আসে অর্ডারটি ড্রপসিপার অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেয় তারা পণ্যটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়। এইখানে একজন ড্রপসিপার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বলতে, বিভিন্ন ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করে পণ্য, পরিষেবা বা ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য বিজনেস বা কোম্পানি গুলোর করা পরিকল্পিত এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা গুলোকে বোঝায়। এদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে অনলাইন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি গুলো, যেমন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (SEO), কন্টেন্ট মার্কেটিং, ইমেল মার্টিনের, পেইড বিজ্ঞাপন এবং আরও অনেক কিছু।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া এবং বেশ কয়েকমাস এই অবস্থা স্থায়ী হওয়াকেই মন্দা বা অর্থনৈতিক মন্দা বলে। অর্থনীতির ভাষায়, ধারাবাহিক ভাবে দুটি অর্থনৈতিক পিরিয়ডে বা ৬ মাস পর্যন্ত জিডিপি গ্রোথ রেট নিম্নমুখী বা নেগেটিভ থাকলে তাকে মন্দা বা রেসিশন বলে। ৬ মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে কোন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনাতীত ভাবে হ্রাস পাওয়াকে মন্দা বুঝায়। এই পরিস্থিতিতে একটি দেশের জিডিপি কমবে, উৎপাদন কমবে, আয় কমবে, বেকারত্বের হার বাড়বে, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে, জীবন-যাত্রার উপর খারাপ প্রভাব পরবে। এই অবস্থা যখন দীর্ঘায়িত হয় এবং চরম আকার ধারণ করে তখন তাকে মহামন্দা বলে।

সাধারণ অর্থে কোন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কোন পণ্য বা সেবার দাম টাকার অঙ্কে বেড়ে গেলে তাকে মূল্যস্ফীতি বলে। অর্থনীতির ভাষায় মূল্যস্ফীতি বলতে বুঝায়, অর্থের চাহিদার তুলনায় যদি যোগান বেড়ে যায় বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি ঋণের প্রসার ঘটায় কিংবা শ্রমিক সংঘ যদি উচ্চ মজুরি দাবি করে, এই পরিস্থিতিতে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে মূল্যস্ফীতি বলে।

বাজেট হলো কোন দেশের সরকার একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করবে এবং কোন খাত থেকে কত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করবে বা আয় করবে সেই হিসেবকে বুঝায়। অল্প কথায়, বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য সব আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব-নিকাশের বিবরণী। যা একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সরকারের ব্যয় ও রাজস্বসমূহের একটি পূর্বাভাষ।

আমরা যখন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তখন অনেকগুলো ভালো অপশন থেকে সর্বোত্তম টা গ্রহণ করি, যার ফলে দ্বিতীয় সর্বোত্তম অপশনটি আমরা ছেড়ে দেই, যাকে সুযোগ ব্যয় বা Opportunity Cost বলে। একটি জিনিস পাওয়ার জন্য যে সর্বোত্তম বিকল্পটি হারাতে হয়, তাকেই সুযোগ ব্যয় বলে।

ট্যাক্সেশন শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে করারোপণ বা করারোপ। এককথায় করবিধি হচ্ছে ট্যাক্সেশন। ট্যাক্সেশন শব্দটি ট্যাক্স শব্দের বিশেষ্য বা ক্রিয়া রূপ। ট্যাক্স শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'ট্যাক্সো' থেকে যার অর্থ হল একটি আজ্ঞাধীন আর্থিক মূল্য যা করদাতা একক কিংবা অন্যান্য আইনগত সত্তা'র উপর সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আরোপিত হয়েছে সর্বসাধারণের বিভিন্ন ব্যয়ের তহবিল গঠনের জন্য।সহজ কথায় ট্যাক্সেশন হলো ট্যাক্স ধার্য করা।রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার জনসাধারণের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে তাকে ট্যাক্স বা কর বলে।আর এই ট্যাক্স ধার্য করা,আদায় করা সম্পূর্ণ কাজটাই হচ্ছে ট্যাক্সেশন।

GDP এর পূর্ণরুপ হল "Gross Domestic Product'', অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সাধারণত ১ বছর) একটি দেশের মধ্যে উৎপাদিত (এবং বাজারে বিক্রি হওয়া) সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার মোট আর্থিক মূল্যকে জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বলা হয়ে থাকে। সাধারণত কোনো একটি দেশে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদিত অথবা তৈরীকৃত মোট পণ্য এবং সেবার সমষ্টিকেই জিডিপি বলে।

ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) হল একটি অর্থনৈতিক সূচক যা সময়ের সাথে সাথে সাধারণ ভোক্তাদের দ্বারা ক্রয়কৃত পণ্য ও সেবার গড় মূল্য পরিবর্তনকে পরিমাপ করে। এটি মূলত মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

জস কফম্যান এর এই বইটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে একজন সাধারণ মানুষ ও এমবিএ নিয়ে একটি শক্তপোক্ত ধারণা লাভ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত এমবিএ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সহজভাবে এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে যাতে করে একজন এই বইটি পড়ে ব্যবসা জগতে খুব সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। বইটি একজন ব্যক্তিকে ব্যবসা জগত এর জন্য একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে দিবে এবং তার প্র্যাক্টিকাল লাইফকে আরো ইফেক্টিভ করে তুলবে।

রিচার্ড কচের "The 80/20 Principle" এর বইয়ের মূল ধারণা হলো আমাদের প্রতিদিন এর লাইফের ২০% ইনপুট আমাদের ৮০% আউটপুটের জন্য দায়ী। বইটি আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেইসকল কাজে আমরা সবথেকে বেশি সফলতা অর্জন করবো সেদিকে ফোকাস করার কথা বলেছে। বইটি কীভাবে একজন ব্যক্তি কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান তাদের আউটপুট কে বাড়ানোর জন্য নিয়মগুলো ব্যবহার করতে পারে তার ব্যবহারিক গাইডলাইন প্রদান করে৷

সুব্রতো বাগচীর "হাই পারফমেন্স উদ্যোক্তা: আজকের বিশ্বে সাফল্যের জন্য লেখা একটি বই যেখানে লেখক নিজের ব্যক্তিগত যাত্রা এবং তার উদ্যোক্তা হওয়ার সাথে জড়িত কিছু লেসন নিয়ে কাজ করে। নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং উদ্দেশ্যের উপর বাগচির চিন্তাধারা বইটিকে অন্যান্য বই থেকে আলাদা করেছে। বাস্তব-বিশ্বের উদাহরণএবং ব্যবহারিক উপদেশের মাধ্যমে, বাগচি বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের তাদের মূল মূল্যবোধ এবং নীতির প্রতি অটল থাকার পাশাপাশি সাফল্য অর্জনের জন্য উত্সাহিত করে।

"থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ", আত্মউন্নয়নকে কে কেন্দ্র করে লেখা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নন ফিকশন বই যা সাফল্য এবং সম্পদ সৃষ্টির উপর ধারণা প্রদান করে। বইটি পড়ে পজিটিভ থিংকিং, লক্ষ্য নির্ধারণ এর প্রয়োজনীয়তা এবং ডিটারমিনেশনের প্রয়োজন বুঝতে পারবে । এই বইটি বিশ্বের অগণিত ব্যক্তিদের তাদের স্বপ্নগুলি পূরণ করতে সাহায্য করেছে।

ক্রিস এর "দ্য $১০০ স্টার্টআপ" হল একটি ব্যবসা জগতের জন্য একটি প্র্যাক্টিকাল হ্যাণ্ডবুক যেখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম বিনিয়োগে তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পারে৷ ক্রিস কিছু উদ্যোক্তাদের বাস্তব জীবনের গল্প শেয়ার করে যারা তাদের ধারণাকে সফল উদ্যোগে পরিণত করেছে। বইটি উদ্যোক্তা সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা প্রদান করে, যে কেউ একটি ছোট বাজেট এর সাথে একটি লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারে এমন ধারণার উপর জোর দেয়।

রবার্ট কিয়োসাকির "রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড" একটি ফাইন্যান্সিয়াল ক্লাসিক যেখানে লেখক ধনী এবং গরীব এই ২ শ্রেণির মানুষদের চিন্তার পার্থক্যকে কয়েকটি দৃষ্টি থেকে বতুলে ধরেছেন। বইটি একটি গল্পের আকারে এগোয় যেখানে একজন বন্ধুর বাবা যিনি ধনী এবং লেখকের বাবা যিনি গরিব । কিছু বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে, বইটি আপনাকে ফাইন্যান্সিয়াল নলেজ, বিনিয়োগ এবং আয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করবে। এটি অর্থ সম্পর্কে প্রচলিত জ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে, পাঠকদের অর্থ এবং আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।

এরিক রাইসের দ্য লিন স্টার্টআপ" হল উদ্যোক্তা সাফল্যের জন্য একটি বই, যা স্টার্টআপ চালু করার জন্য একটি পদ্ধতির উপর জোর দেয়। রাইস বিল্ড-মেজার-লার্ন ফিডব্যাক লুপ, পুনরাবৃত্তি এবং গ্রাহক এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই বইটি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নীলনকশা এবং পরিবর্তনশীল মার্কেটে টিকে থাকার জন্য সাহায্য করে।

পিটার থিয়েলের “জিরো টু ওয়ান” উদ্যোক্তাদের প্রচলিত চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ করে। থিয়েল যুক্তি দেন প্রকৃত উদ্ভাবন হলো বাজারে থাকা প্রোডাক্ট ডেভেলপ না করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি করা । তিনি উদ্যোক্তাদের গ্রাউন্ডব্রেকিং কোম্পানি তৈরি করতে একটি ক্রিটিক্যাল কাঠামো প্রদান করেন।

ভারতীয় শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারি নিয়ে যতবার কথা উঠবে , হর্ষদ মেহেতার নাম নিতেই হবে। মৃত্যুর দুই দশক পরেও কেন তার নামের চর্চা হয়? কি এমন করেছিলেন হর্ষদ মেহেতা? যার জন্য তাকে শেয়ার বাজারের অমিতাভ বাচ্চানও বলা হতো! জেনে অবাক হবেন মেহেতার এই প্রভাবের উপর ভিত্তি করে একটি সিরিজ নির্মিত হয় ‘স্ক্যাম ১৯৯২ : দ্যা হর্ষদ মেহেতা স্ক্যাম’। হানসাল মেহেতা পরিচালিত সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ যা সর্বস্তরের জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। Applause Entertainment-এর 'Scam 1992: The Harshad Mehta Story' সারা বিশ্ব থেকে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

অনলাইন স্ক্যামের ক্রমবর্ধমান বিবর্তনের যুগে, অন্যতম কুখ্যাত ও দীর্ঘস্থায়ী ই মেইল স্ক্যাম হল নাইজেরিয়ান প্রিন্স স্ক্যাম। "419 scam" নামে পরিচিত এই স্ক্যামের ফাঁদে পরে বছরের পর বছরে হাজারো মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে। Nigerian Prince Scam এর ভিকটিম প্রতি বছর বাড়ছে। অর্থাৎ, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম স্ক্যাম কিন্তু এখনও সচল আছে। একদম শুরুর ইমেইল এই ১৬.৮ মিলিয়ন হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারণামূলক স্ক্যাম৷

আইন ও সমাজের দৃষ্টিতে, "ক্রাইম" শব্দটি দিয়ে আমরা কি বুঝি? সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা থেকে শুরু করে সহিংসতা, ডাকাতি, খুন, জটিল আর্থিক প্রতারণা এর মত শাস্তিযোগ্য অপরাধ গুলো। কিন্তু যদি এমন হয়, উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তি, বড় কোনো প্রতারণা করে, অথবা সিস্টেমেটিক্যালি সেগুলো সরাসরি ভায়োলেন্স এর সাথে জড়িত নয়? তখন এই কম প্রকাশ্য, কিন্তু সমানভাবে ধ্বংসাত্মক, অপরাধ গুলোকে নাম দেয়া হয় "হোয়াইট কলার ক্রাইম "। ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট এর শুরু থেকেই সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, কর্পোরেট জালিয়াতি, পাম্প এন্ড ডাম্প, এবং মানি লন্ডারিং এর মত হোয়াইট কলার ক্রাইম গুলো সংঘটিত হয়ে আসছে। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অনুসারে, white collar crime এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বছরে 300 বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হয়। আর, দিন দিন এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হয়েই যাচ্ছে।

অর্থনীতি জগতের খোঁজ রাখা ব্যক্তিদের কাছে, পঞ্জি স্কিম ও পিরামিড স্কিম শব্দ দুটো বেশ পরিচিত। স্বল্প সময়ে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রায় সকল জালিয়াতি বা প্রতারণা কেই পঞ্জি এবং পিরামিড স্কিম হিসেবে ধরা হয়। দুই ধরনের স্কিম এর উদ্দেশ্য একদম কাছাকাছি। প্রথমে ইনভেস্টরদের আস্থা অর্জন করা এবং তাদের ইনভেস্টের সর্বস্ব আত্মসাত করা। সঙ্গতভাবেই এ ধরনের স্কিম বিজনেসের কোনো আইনি বৈধতা থাকে না, শুধু মূল পরিকল্পনাকারীই লাভবান হয়ে থাকেন। Ponzi & Pyramid স্কিম এর উদ্দেশ্য একই হলেও পার্থক্য তাদের প্রতারণার ধরন ও স্ট্র্যাকচারে৷ পঞ্জি ও পিরামিড স্কিমের ফাঁদে পরে বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ২০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি স্ক্যামেই ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার স্ক্যাম হয় ২০০৮ সালে, বার্নি ম্যাডফের হাত ধরে।

পিরামিড স্কিম বলতে মূলত এমন একটি সংগঠন বোঝানো হয় যারা কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয় করেন না বরং নতুন নতুন মানুষদের সংগঠনে জড়ানোর মাধ্যমে তাদের আয় নিশ্চিত হয়। এখানে নতুন মেম্বার হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে জয়েন করতে হয় এবং মেম্বারদের খুব অল্প সময়ের ভেতর অধিক পরিমাণ মুনাফা পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে আকর্ষিত করা হয়। এরপর নতুন মেম্বারদের থেকে পাওয়া টাকা থেকে পুরাতন মেম্বাররা আয় করে থাকেন।

সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy অর্থনীতির এমন একটি বিষয় যেখানে একটি দেশের সামুদ্রিক পরিবেশ কিংবা সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতিকেই সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy বলা হয়। অর্থাৎ ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। অর্থাৎ সমুদ্র থেকে আহরণকৃত যেকোনো সম্পদ যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে বা যুক্ত হয়, তাই ব্লু-ইকোনমির পর্যায়ে পড়বে।

সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) পুরো দেশ বা বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলে — GDP, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, মুদ্রানীতি। ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) একটি ব্যক্তি, পরিবার বা কোম্পানির সিদ্ধান্ন নিয়ে কথা বলে — চাহিদা-সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ, বাজার কাঠামো। সহজ ভাষায়: Macro = বড় ছবি, Micro = ছোট ছবি। এই আর্টিকেলে দুই শাখার সংজ্ঞা, পার্থক্য, সম্পর্ক, বাস্তব উদাহরণ এবং কেন দুটোই জানা দরকার।

সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকলে দ্রব্যের দাম কমলে যোগান কমে এবং দাম বাড়লে যোগান বাড়ে। দাম এবং যোগানের এই সম্পর্ককেই যোগান বিধি বা Law of Supply বলে। দামের সঙ্গে যোগানের যে আপেক্ষিক বা ক্রিয়াগত সম্পর্ক বিদ্যমান তাকেই যোগান বিধি বলে।

দাম ও চাহিদার মধ্যে যে আপেক্ষিক বা ক্রিয়াগত সম্পর্ক বিদ্যমান তাকে চাহিদা বিধি বা Law of Demand বলে। সাধারণত কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদা হ্রাস পায় এবং দাম কমলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। দাম এবং চাহিদার মধ্যকার এই ক্রিয়াগত সম্পর্ক যে বিধির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকেই চাহিদা বিধি বলে।

বাংলাদেশ ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে। বর্তমানে বাংলাদেশের নোট ইস্যু করা, মনিটারি পলিসি তৈরি করা, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা, ব্যাংকিং সেক্টর রেগুলেট করা ইত্যাদি দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর।

দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার মূল দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই দায়িত্ব পালন করে মূল ৫টি কাজের মাধ্যমে, যথা - মনিটারি পলিসি তৈরি করা, কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোকে রেগুলেট করা, নোট ইস্যু করা, ফরেন রিজার্ভ ম্যানজ করা ও ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস মোকাবিলা করা।

কোনো কিছু বন্ধক রেখে বা বন্ধক ছাড়াই যখন ব্যাংক আমাদের অ্যাকাউন্টে জমানো টাকার অতিরিক্ত অর্থ আমাদের প্রদান করে, তখন তাকে ব্যাংক লোন বলা হয়। সাধারণত, ব্যক্তিগত কোনো প্রয়োজনে বা ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যাংক লোন নেয়া হয়ে থাকে। লোনের মেয়াদ শেষ হলে সুদ’সহ লোনের সম্পূর্ণ অর্থ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হয়। আর লোন পরিশোধে ব্যর্থ হলে দিতে হয় জরিমানা।

পৃথিবীতে ব্যাংক ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল বিনিময় প্রথার অবসানের মাধ্যমে। তখন ব্যাংকিং বলতে মূলত বোঝানো হতো অর্থ (কয়েন ও স্বর্ণ) জমা রাখা এবং ঋণ আদান-প্রদান। ব্যাংক ব্যবস্থাকে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয় রোমান সম্রাজ্য এবং বিশ্বের প্রায় সকল দেশে ব্যাংক ব্যবস্থার প্রভাব বিস্তার করতে ভূমিকা পালন করে ইউরোপের বিভিন্ন ধনী সম্প্রদায়।

ব্যাংক হচ্ছে এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যারা জনগণের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং উক্ত আমানতের টাকা ঋণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিদের প্রদান করে। আর ব্যাংকের সাথে জড়িত যেকোনো ধরণের কার্যক্রমকে ব্যাংকিং বলা হয়। যেকোনো দেশের ব্যাংককে উক্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

Six Thinking Hats হচ্ছে একটি ডিসিশান মেকিং ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে কোনো টিম একটি সমস্যার সকল এস্পেক্ট চিহ্নিত করে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌছাতে পারে। Six Thinking Hats-এর ৬টি হ্যাট হচ্ছে Blue Hat, White Hat, Green Hat, Yellow Hat, Red Hat এবং Black Hat। মূলত এই ৬টি হ্যাট দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের সকল প্রকার চিন্তা করার প্রবণতাকে রিপ্রেজেন্ট করার চেষ্টা করা হয়।

একক মালিকানা ব্যবসা হলো এমন ধরণের একটি ব্যবসা কাঠামো যেখানো কেবল একজন ব্যক্তি ই কোন একটি বিজনেস এর সকল দিক পরিচালনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি তার বিজনেসের সকল ঋণ এবং দায়িত্বের দায়ভার হন। বাংলাদেশে একক মালিকানা ব্যবসা (Sole Proprietorship Business) শুরু করা অত্যন্ত সহজ একটি কাজ। এর জন্য প্রয়োজন শুধু Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC) এ আপনার ব্যবসা টি রেজিস্টার করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সকল লাইসেন্স কিংবা পারমিট সংগ্রহ করা। দেশের মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কোন কর্মসংস্থান তৈরীর ক্ষেত্রে একক মালিকানাসম্পন্ন ব্যবসা খুবই কার্যকরী একটি পন্থা।

প্রফেসর থমাসের মতে, মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তির দ্বারা সংগঠিত সংঘ কর্তৃক পরিচালিত কারবারই অংশীদারি কারবার নামে পরিচিত। অংশীদারি ব্যবসা বলতে সহজ ভাষায় বুঝায়, যখন দুজন বা তার চাইতে অধিক সংখ্যক মানুষ নিজেদের মূলধন একত্রে করে কোন একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেন এবং ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা এবং দায় নিজেদের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বন্টন বা ভাগ করে নেন। ব্যবসায় একাধিক ব্যক্তির অংশ থাকায় এবং একাধিক ব্যক্তি মিলে ব্যবসা শুরু করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী পরিচালনা করেন বলেই একে অংশীদারি ব্যবসা বলা হয়।

একটি ব্যবসায় টাকার হিসাব রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ এবং এগুলোর জন্য অ্যাকাউন্টেন্ট নিয়োগ করা হয়ে থাকে। একজন অ্যাকাউন্টেন্ট এর স্যালারি তার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে হাজার থেকে লাখের ঘরে পৌছুতে পারে। যারা নতুন ব্যবসায় শুরু করে তাদের জন্য শুরুতে এরকম জায়গায় খরচ করার সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই এই সকল স্টার্টআপ এর ক্ষেত্রেও অ্যাকাউন্টিং এর কিছু নিয়ম রয়েছে। স্টার্টআপ অ্যাকাউন্টিং একটি নতুন ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন, ডেটা রেকর্ডিং, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করার পদ্ধতিগত প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এটিতে অর্থের প্রবাহ, এবং স্টার্টআপের ক্রিয়াকলাপ এবং কর্মক্ষমতার একটি স্পষ্ট আর্থিক চিত্র প্রদান করা হয়।

ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিং বলতে একটি কোম্পানির দৈনন্দিন আর্থিক ক্রিয়াকলাপগুলি পরিচালনা করার জন্য হিসাবরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনাগত অ্যাকাউন্টিং বোঝায় যেটি দিয়ে পরবর্তীতে ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করা হয় । ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিং আর্থিক ট্র্যাকিং, বিশ্লেষণ, রেকর্ডকিপিং, বাজেট এবং আরও অনেক কিছুর মাধ্যমে বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন স্তরের সাথে জড়িত। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিং সাধারণত বড় কর্পোরেশনের সাথাসাথি ছোট ব্যবসার জন্য হয়। কোম্পানির আকার এবং চাহিদার উপর নির্ভর করে ব্যবসাগুলি তাদের ব্যবসার অ্যাকাউন্টিং ইন-হাউস বা একটি অ্যাকাউন্টিং ফার্মের সাথে পরিচালনা করতে পারে। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিংয়ের মূল হল ব্যবস্থাপনা, তাই বেশিরভাগ মূল উপাদানের মধ্যে নগদ প্রবাহ, খরচ এবং ইনভেন্টরির মতো জিনিসগুলি নিরীক্ষণ করার পদক্ষেপ জড়িত। আর্থিক উপদেষ্টারা ব্যবসার মালিকদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য ব্যবসার অ্যাকাউন্টিং দ্বারা সংগৃহীত আর্থিক ডেটা ব্যবহার করতে পারেন।

GAAP (সাধারণত গৃহীত অ্যাকাউন্টিং নীতিগুলি) হল হিসাববিজ্ঞানের একটি গাইডলাইন এবং অনুশীলনের একটি সেট যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আর্থিক অ্যাকাউন্টিং এবং রিপোর্টিং কীভাবে প্র্যাকটিস করা উচিত তা সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। এই নীতিগুলি ব্যবসা এবং সংস্থাগুলিকে তাদের আর্থিক লেনদেন সঠিক এবং ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড, সংক্ষেপ এবং উপস্থাপন করার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে। GAAP নিশ্চিত করে যে আর্থিক বিবৃতিগুলি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তুলনার সুবিধা দেয়, স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা, নিয়ন্ত্রক এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করে। GAAP বিস্তারিতভাবে নিয়ম এবং ধারণাগুলিকে ব্যাখা করে যা অ্যাকাউন্টিং পেশাদারদের আয় , ব্যয়ের মিল, সম্পদ মূল্যায়ন এবং আর্থিক বিবৃতি উপস্থাপনা সহ বিভিন্ন দিকগুলিতে গাইড করে। এই নীতিগুলি ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (FASB) এর মতো বিশ্বস্ত সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং সমস্যাগুলির সমাধান করতে এবং ব্যবসায়িক ল্যান্ডস্কেপের পরিবর্তনগুলি প্রতিফলিত করার জন্য সময়ের সাথে সাথে আপডেট করা হয়।

সম্পদ, দায় এবং স্টকহোল্ডার ইকুইটি এই তিনটিকে ঘিরেই হিসাব বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি ঘটিত। সম্পদ বলতে আমরা সেই সকল জিনিসকে বুঝে থাকি যেগুলো আপনি কাজে লাগাতে পারবেন যেমন টাকা । দায় বলতে আমরা সে সকল বিষয়কে বুঝিয়ে থাকি যখন আপনি কারো কাছে কোন কিছুর জন্য দায়ী থাকবেন। যেমন আপনি যদি কোন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন তাহলে আপনি ব্যাংকের কাছে ঋণী। এবং সবশেষে স্টক হোল্ডার ইকুইটি সেটি হচ্ছে আপনার এসেট থেকে দায় যদি আপনি বাদ দিয়ে থাকেন তাহলে যেটি অবশিষ্ট থাকে।

ইন্ট্যারশনাল ট্যাক্স হলো বহুজাতিক কর্পোরেশনের উপর আরোপিত কর । এই কর আইনের একটি জটিল ক্ষেত্র যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে মুনাফা এবং ট্যাক্স নিয়ে কাজ করে। মূল দিকগুলির মধ্যে স্থানান্তর মূল্য, ট্যাক্স চুক্তি, এবং বৈদেশিক-উৎস অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক কর বিধির কাজ হল ডাবল ট্যাক্সেশন হতে না দেওয়া, সঠিক কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বহুজাতিক কোম্পানির কর পরিহার রোধ করা। বৈশ্বিক অর্থনীতি যত বেশি বড় হয়ে উঠছে, সমস্যাগুলো তত জটিলাকার রূপ ধারণ করছে। দেশগুলি বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির দ্বারা ব্যবহৃত ডিজিটালাইজেশন, মুনাফা স্থানান্তর এবং ট্যাক্স পরিকল্পনার কৌশলগুলির সাথে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলায় একসাথে কাজ করছে।

কনভার্সন রেট অপ্টিমাইজেশান (CRO) হল মার্কেটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোসেস যার মাধ্যমে বিজনেস গুলো তাদের অনলাইন একটিভিটি বাড়ায়, কাস্টমারদের এনগেজড রাখে এবং রেভিনিউ তৈরি করে। ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে, যেখানে প্রতিটি ক্লিক এবং Interaction অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে একটিভ CRO কৌশলগুলি বোঝা এবং প্রয়োগ করা অপরিহার্য। একটি উন্নত মানের ডায়নামিক ওয়েবসাইট এবং একটি সমৃদ্ধ অনলাইন প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে Conversion Rate Optimization এর বিকল্প নেই। কনভার্সন রেট অপ্টিমাইজেশান (CRO) এ সাফল্যের হার মূলত ইন্ডাস্ট্রি, আপনার টার্গেটেড দর্শক, ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং অপ্টিমাইজেশান স্ট্র্যাটেজির মত বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে পারে। সাধারণত, CRO প্রোসেস এপ্লাই করার ফলে Conversion হার 10-30% বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২১ শতকের ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে, একটি ভিজুয়ালি ইন্টারেস্টিং এবং কার্যকরী ওয়েবসাইট থাকা অপরিহার্য। তবে কার্যকর সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (SEO) ছাড়া, আপনার ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেটের বিশাল বিস্তৃতির মধ্যে নিমিষেই হারিয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, টার্গেটেড দর্শকদের কাছে নাও পৌঁছাতে পারে৷ এসইও গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিবিলিটি বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা স্ট্র্যাটেজি গুলোর একটি শক্তিশালী টুলকিট। অর্গানিক ট্রাফিক বাড়াতে আর অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে এবং শেষ পর্যন্ত আপনার ডিজিটাল গোল গুলো ফুলফিল করতে SEO এর বিকল্প নেই। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি এই SEO, যা এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক গ্রো করতে সক্ষম।

ই-কমার্স শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অবিশ্বাস্য বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে, এবং সব রকমের বিজনেস গুলো এই লাভজনক বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে, অনলাইনে পণ্য অফার করার ক্ষেত্রে, যে দুটি কৌশল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে তারা হল, হোয়াইট লেবেলিং এবং প্রাইভেট লেবেলিং। উভয় পদ্ধতিরই নিজস্ব সুবিধা এবং ত্রুটি রয়েছে। আমেরিকার বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠান Shopify, WooCommerce, BigCommerce এর মত কোম্পানি হোয়াইট লেবেল ই কমার্স বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন প্রাইভেট লেবেল ই কমার্স কে প্রাধান্য দিচ্ছে। স্ট্যাটিসটিশিয়ার একটি গবেষণা মতে, USA এর টোটাল রিটেল বিজনেস এর ১৭.৭ পার্সেন্ট প্রাইভেট লেবেল ই কমার্স এর দখলে আর এর ভ্যালু ১৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই, আপনার ই-কমার্স জার্নিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এদের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত কয়েক দশকে ই-কমার্স ল্যান্ডস্কেপ অসাধারণ একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। অনলাইন শপিংয়ের প্রথম দিকে যখন ক্রেতাদের কাছে তেমন অপশন ছিল না, এবং পণ্যের গুণমান সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। মূল পন্য কয়েক ধাপ পার হয়ে কাস্টমারের হাতে পৌঁছাতো। সেখান থেকে, আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে সিঙ্গেল-ব্র্যান্ডেড ই-কমার্স গুলো মার্কেটে জায়গা করে নিয়েছে। এই নতুন বিজনেস মডেল টি ব্রান্ড-কাস্টমার সম্পর্ককে নতুন ভাবে সজ্ঞায়িত করেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো পাইকারি রিটেইলার বা মিডলম্যান এর সাহায্য ছাড়াই কাস্টমারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছে। এতে করে ব্রান্ড ও কাস্টমার উভয়কেই সমানভাবে লাভবান করছে। সৌভাগ্যক্রমে, বর্তমানে প্রায় ৫৮ শতাংশ নতুন উদ্দোক্তা রা সিঙ্গেল ব্রান্ডেড ই-কমার্সে আগ্রহী হচ্ছে।

গত দুই শতাব্দীতে যা কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছিলাম, মাত্র গত দুই দশকে আমরা তার চেয়েও বেশি অর্জন করেছি। একই সাথে, আমরা অনলাইন অর্থনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্য করতে পারছি, মার্কেটপ্লেস তাদের মধ্যে একটি। শিল্প বা বিজনেস ভার্টিকাল, যাই হোক না কেন, এর জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আর বর্তমানে অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে Multi Vendor E-commerce সাইট গুলো। একটি মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস তৈরি করার মূল কারণই হল এন্ড-ইউজার কে কেনাকাটা ও ট্রানজেকশন এর জন্য একটি কনভিনিয়েন্ট মেথড ওপেন করে দেওয়া। যেমন, Amazon, eBay, Etsy, Flipkart এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি নিশ্চিত করে যে তাদের গ্রাহকরা যেন কম্পিটিটিভ মূল্যে এবং তাদের বাড়িতে বসে সহজেই হোম-ডেলিভারি সহ সবকিছুর একসেস এক ছাদের নিচেই পেয়ে যায়।

"অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোনো ব্যক্তি (বা কোম্পানির) পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে কমিশন উপার্জন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, এখানে আপনি আপনার পছন্দের একটি প্রোডাক্ট খুঁজে বের করেন, অন্যদের কাছে এটি প্রচার করেন এবং আপনার প্রতিটি সেলস এর জন্য লাভের একটি অংশ ইনকাম করেন।" জনপ্রিয় লেখক এবং উদ্দোক্তা প্যাট ফ্লিন, এর সংজ্ঞা অনুসারে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয় হল অন্যের প্রোডাক্টের প্রমোশন করিয়ে এবং সেলস বাড়িয়ে কমিশন নেয়া।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (Venture Capital) হল উচ্চ প্রবৃদ্ধির (Growth) সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিজনেস স্কেল করার জন্য আরো মূলধন প্রয়োজন এরকম উদীয়মান স্টার্ট-আপগুলির জন্য এক ধরণের প্রাইভেট ইক্যুইটি। এরকম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি ইক্যুইটির বিনিময়ে স্টার্ট-আপদের তহবিল দেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের থেকে অর্থ জমা করে, এছাড়াও স্টার্ট-আপ বিজনেসের কৌশলসমূহ (Strategies) তৈরী করতে নিজেদের ভূমিকা ও দক্ষতাও প্রদান করে থাকে। যেসব কোম্পানির $100,000 থেকে $25million এর মতো বড় তহবিল দরকার হয় তাদের জন্য এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলো ভালো একটি অপশন। তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ নিতে হলে এর আবেদন করার জন্য, প্রথমে অবশ্যই আপনাকে একটি সঠিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম খুঁজে বের করতে হবে, আপনার কোম্পানিকে পিচ (Pitch) করতে হবে এবং পরিশ্রমের সাথে ফার্মের যথাযথ প্রক্রিয়াটি পাশ করতে হবে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এর এসব খুঁটিনাটি বিষয়গুলোই আজকে আমরা জানব।

আপনি যখন Investing বা বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তখন আগে থেকেই বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার আচরণ কেমন হওয়া উচিত, আপনার চিন্তা-ভাবনা কেমন হওয়া উচিত এইযে বিষয়গুলো নিয়ে আপনি যত বেশি জানবেন, আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ (Preferences) এবং সামর্থ্যের (Abilities) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এমন ভালো সিদ্ধান্ত নেয়া তত সহজ হবে। একটি সফল বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনার সফলতার দুয়ার যেমন খুলে যেতে পারে, একই সাথে বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে আপনার আর্থিক অবস্থায় ধ্বসও নেমে আসতে পারে। প্রায়শই বিনিয়োগকারীরা এরকম কিছু ভুল করে থাকে, তাই বুঝে শুনে Investing করাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবন হয়তো অনেক সহজ হয়ে যেত যদি আমরা Point & Shoot পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে পারতাম, কিন্তু বিনিয়োগের দুনিয়া তো আর এভাবে চলেনা। তাই আজকে আমরা বিনিয়োগের আগে বিবেচনা করতে হয় এমন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

যে কোন স্টার্টআপ (Startup) এর জন্য ফান্ডিং (Funding) একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অতিরিক্ত ঝুঁকির সম্ভাবনা এবং স্টার্টআপ চালু করার জটিল প্রক্রিয়ার কারণে ফান্ডিং সংগ্রহ করা কোন সহজ কাজ নয়। এছাড়াও আরেকটি সমস্যা হল, আমরা অনেকে জানিই না কিভাবে সঠিক উপায়ে নিজেদের প্রকল্পে আগ্রহী ইনভেস্টরদের খুঁজে পেতে হয় ও তাদের সাথে কাজ করতে হয়। তো প্রফেশনালী এই ফান্ডিং রাউন্ডে অর্থ বা টাকা সংগ্রহের জন্য কিছু স্টেজ (Stage) রয়েছে। এই স্টেজগুলো হচ্ছে Seed Stage, Early Stage, এবং Late Stage। প্রতিটি স্টেজেই স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট কারণে অর্থের প্রয়োজন হয়।

World Trade Organization (WTO), ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বিশ্বের সব দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের নিয়মগুলি তত্ত্বাবধান ও রক্ষনাবেক্ষণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য তৈরি ১৯৪৭ সালের শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তি (GATT) এর উত্তরসূরি হিসেবে এই WTO চালু হয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত, WTO এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬৪টি।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য ইতিহাসে কখনোই একই সরলরেখায় চলতে পারেনি। সময়ের পরিক্রমায় মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিক অনেক কারণ, পৃথিবীর অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করে। এসব বাধা বিপত্তি ও ক্ষতির হাত থেকে বিশ্ব অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য অনেক সময় নীতি নির্ধারণকেরা অনেক নীতি বা চুক্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমনই একটি চুক্তি হচ্ছে The General Agreement on Tariffs and Trade, সংক্ষেপে GATT.

সময় ১৯৪৪, বিশ্বজুড়ে চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা। ধস নেমেছে মানুষের জীবনমানে, ধসে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিশ্বের অর্থনীতিকে শিথিল ও সমস্যা সমাধানের জন্য যুদ্ধের মিত্র দেশগুলো আলোচনা ও একত্র হওয়ার চেস্টা করছিল। অবধারিত এই সম্মেলনে তখন বিশ্বের ৪৪ টি দেশের প্রায় ৭৩০ জন শীর্ষস্থানীয় নেতারা ব্রেটন উডস-এ, মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে জাতিসংঘের মুদ্রা ও আর্থিক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিল। এবং এই সম্মেলনের ফলাফলই ব্রেটন উডস চুক্তি এবং ব্রেটন উডস সিস্টেম। চুক্তিটি বেশ কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামঞ্জসতা রক্ষা করতে পারলেও, ১৯৭০-এর দশকে এসে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। তবে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এর সৃষ্টি এই চুক্তি সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিক।

অ্যাকাউন্টিং ব্যবসার জন্য একটি নোটবুকের মতো। এখানে অর্থের হিসেব রাখা হয় এবং তা ট্র্যাক করা হয়। এটি মূলত ব্যবসা এবং সংস্থাগুলির আর্থিক মেরুদণ্ড হিসাবে কাজ করে। হিসাবরক্ষকরা এই রেকর্ডগুলিকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে। আপনি যেমন আপনার পরীক্ষার স্কোর দেখে আপনার পড়ালেখার অবস্থা বোঝেন, কোম্পানিগুলি অ্যাকাউন্টিং ব্যবহার করে জানতে পারে যে তারা কি অর্থ উপার্জন করছে নাকি ব্য্যবসায় লস করছে। তারা কীভাবে করছে তা তাদের স্টকহোল্ডারদের বোঝানোর জন্য তারা আর্থিক বিবরণী নামে কিছু খাতা এবং ফাইল তৈরি করে থাকে। অ্যাকাউন্টিং এর বিভিন্ন ধরনে আছে। একধরনের অ্যাকাউন্টিং কিছু হিসাবরক্ষক কোম্পানিগুলিকে পরিকল্পনা করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সবধরনের হিসেব সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করে যাচাই করা হয়।

পঞ্জি স্কিম হলো একটি প্রতারণামূলক বিনিয়োগ কৌশল যেখানে নতুন বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে পুরাতন বিনিয়োগকারীদের 'লাভ' দেওয়া হয় -- কোনো আসল ব্যবসা বা বিনিয়োগ নেই। নাম এসেছে Charles Ponzi থেকে যিনি ১৯২০ সালে এই কৌশলে মিলিয়ন ডলার চুরি করেছিলেন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পঞ্জি স্কিম চালিয়েছিলেন Bernie Madoff -- per published SEC investigation ও court documents অনুযায়ী $65 billion-এর স্কিম যা ২০০৮ সালে ধরা পড়ে। এই আর্টিকেলে পঞ্জি স্কিমের সংজ্ঞা, কাজের পদ্ধতি, চেনার উপায়, ইতিহাস, বাস্তব উদাহরণ এবং পিরামিড স্কিমের সাথে পার্থক্য।

একটি প্যারেন্ট কোম্পানীর অধীনে একাধিক ব্র্যান্ড এবং সাব-ব্র্যান্ড কিভাবে পরিচালিত হবে এবং তারা মার্কেটের কোন কোন সেগমেন্টের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে কি কি কাজ করবে তাই হচ্ছে ব্র্যান্ড আর্কিটেকচার। ব্র্যান্ড আর্কিটেকচারের বহুল ব্যবহৃত ৩টি মডেল হচ্ছে - The Branded House, The House of Brands এবং The Hybrid Model।

বিজনেস অ্যানালিসিস - এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বাহিরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনার মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করা হয়। মূলত এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন চাহিদা আইডেন্টিফাই করা হয় এবং সেই চাহিদা পূরণের উপায় খুজে বের করা হয়। শুধু আইডেন্টিফাই এবং সমাধান বের করার মাঝেই বিজনেস অ্যানালিসিস সীমাবদ্ধ নয় বরং সমাধান অ্যাপ্লাই করার জন্য যথার্থ পরিকল্পনা তৈরিতেও বিজনেস অ্যানালিসিস কাজে আসে।

যেকোনো সেলস ডিল ক্লোজ করার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলোকে সংক্ষেপে MTNUT বলা হয়, যার পূর্নরুপ No Money, No Time, No Need, No Urgency, এবং No Trust। কার্যকর সেলস ডিল ক্লোজিং স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করার মাধ্যমেই এই সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।

পণ্যের বিবরণ সম্পর্কে ক্লায়েন্টকে জানানোর সময়ে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, মুখে হাসি রাখা, হাত পকেটে না রাখা ইত্যাদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ক্লায়েন্টের সাথে ইন্টারেকশনের সময় কতোটা ইফেক্টিভভাবে জেশ্চারগুলো ব্যবহার করতে পারছেন তার উপর আপনার ডিলটি পাওয়া বা না পাওয়া অনেকাংশে নির্ভরশীল। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনার ছোট ছোট কিছু জেশ্চারের মাধ্যমেই ক্লায়েন্টকে জিতে নেয়া সম্ভব।

মানুষের সাইকোলজি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ৬টি মৌলিক নীতি ব্যবহার করে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়াকে প্রভাবিত করার থিওরিকেই প্ররোচনার নীতি অথবা The Science of Persuasion বলা হয়ে থাকে। মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রসেস যদি আপনি জানতে পারেন তবে খুব সহজেই আপনি এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারবেন যাতে করে তিনি আপনার পণ্য বা সেবা ক্রয় করেন।

অনেকেই মনে করেন সেলস এবং মার্কেটিং একই জিনিস। কিন্তু সেলস এবং মার্কেটিং একই জিনিস নয়,তাদের মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম পার্থক্য। এ পার্থক্য বুঝার জন্য সেলস এবং মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হবে।কোন পণ্য বা সেবা ক্রেতার নিকট বিক্রয় করা কে সেলস বলে। আর পণ্য বা সেবা কে বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ কে মার্কেটিং বলে।যেমন আড়ং শোরুম গিয়ে যখন কাস্টমাররা জামা বা যে কোন পণ্য ক্রয় করে থাকে অর্থের বিনিময়ে এই অর্থের যে লেনদেন সংঘটিত হয় সেটা আড়ং এর জন্য সেলস।আবার ঈদকে সামনে রেখে পত্রিকায়,ম্যাগাজিনে আড়ং এর যে বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেটা হচ্ছে আড়ং এর মার্কেটিং পলিসির একটা প্রক্রিয়া।এখানে বিজ্ঞাপন দিতেও আড়ং এর অর্থের লেনদেন হয়েছে পত্রিকা আর ম্যাগাজিন কোম্পানির সাথে কিন্তুু এটা সেলস না, এটা মার্কেটিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে যা দরুন নতুন কাস্টমার তৈরি হবে আর পুরনো কাস্টমারের কাছে ব্র্যান্ড হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

ডিমার্কেটিং হল গ্রাহকের চাহিদা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে মার্কেটিং। যে পক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি তাদের পণ্যের মূল্য এবং চাহিদা উভয় নিয়ন্ত্রণ করে তাই হচ্ছে ডিমার্কেটিং। চমৎকার এই মার্কেটিং স্ট্রাটেজিটি যেকোনো কোম্পানিকে লাভ বা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে।

কোনো ইভেন্টের অফিশিয়াল স্পন্সর না হয়েও যখন কোনো কোম্পানী উক্ত ইভেন্টের স্পটলাইটে চলে আসে বা আসার চেষ্টা করে, তখন তাকে অ্যাম্বুশ মার্কেটিং বলা হয়। কখনো এটি পূর্ব-পরিকল্পিত উপায়ে করা হয়, আবার কখনো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে’ও এটি হয়ে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন স্পোর্টস ইভেন্টে অ্যাম্বুশ মার্কেটিং-এর চিত্র দেখা যায়।

মার্কেটিং এর ৫ সি হল মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্ষেত্র। মার্কেটাররা যখন মার্কেটিং সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের মার্কেটিং এর পাঁচটি সি বিবেচনা করা উচিত। কোম্পানি, গ্রাহক, সহযোগী, প্রতিযোগী এবং জলবায়ু হচ্ছে পাঁচটি সি এর স্ট্যান্ড। যখন আমরা একটা মার্কেটিং পরিকল্পনা তৈরি করি বা একটি মার্কেটিং কৌশল তৈরি করি তখন পাঁচটি সি একটি নির্দেশিকা হিসাবে কাজ করে।

ই-কমার্স কে ইলেকট্রনিক কমার্স কিংবা ইন্টারনেট কমার্স নামেও অভিহিত করা হয়। ই-কমার্স হলো কোনো পণ্য কিংবা সেবা আমরা যখন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদনা করি।

মূলত, আইনের যে শাখা ব্যবসা-বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকেই ব্যবসায়িক আইন বলে। অর্থাৎ, যে আইনের অধীনে একটি দেশের সমস্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় — সেটাই ব্যবসায়িক আইন। চুক্তি করা থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ, পণ্য বিক্রয়, কোম্পানি গঠন এবং কর পরিশোধ — সবকিছুর পেছনেই কোনো না কোনো ব্যবসায়িক আইন কাজ করে। ফলত, একজন সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হতে চাইলে এই আইনগুলো জানা এবং মেনে চলা একান্ত জরুরি।

PESTLE বিশ্লেষণ একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে কোম্পানীর বাহ্যিক পরিবেশের উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করা স্ট্র্যাটেজিক মার্কেটিং পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। PESTLE - এর পূর্ণরূপ হলো Political, Economic, Social, Technological, Legal এবং Environmental Factors। PESTLE বিশ্লেষণ করার জন্য কোম্পানীর বাইরে থেকে ইনফরমেশন কালেক্ট করে সেগুলোকে উপরিউক্ত ছয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হয়।

‘SWOT’ Analysis বা বিশ্লেষণ মূলত একটি পরিকল্পনা করার প্রক্রিয়া যা একটি অর্গানাইজেশনের চ্যালেঞ্জ গুলো কাটিয়ে উঠে নতুন কোন কোন দিকগুলোকে অনুসরণ করতে পারে তা নির্ধারণ করতে সহায়তা করে। ‘SWOT’ এই এক্রোনিমটি ভাঙলে যথাক্রমে Strengths, Weaknesses, Opportunities & Threats অর্থাৎ শক্তিমত্তা, দুর্বলতা, সুযোগ এবং হুমকিসমূহ এই বিষয়গুলো বের হয়ে আসে। সুতরাং, একটি ‘SWOT’ বিশ্লেষণ কোন অর্গানাইজেশনের জন্য এই চারটি দিক মূল্যায়ন করার চমৎকার একটি কৌশল। খুব সহজভাবে বলতে গেলে, “নিজের সম্পর্কে ভালো দিক গুলো কি তা জানা, কি কি দুর্বল দিক নিজের রয়েছে তা খুঁজে বের করা, সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে আশেপাশের সুযোগসুবিধা গুলোর দিকে খেয়াল রাখা এবং আগত বিপদসমূহ কৌশলের সাথে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকা” এইযে বিষয়গুলোই একসাথে ‘SWOT’ Analysis।

প্রায় বেশিরভাগ স্টার্টআপ বা উদ্যোক্তারই শুরুর দিকে কিছু চ্যালেঞ্জ এর মুখে পরতে হয়। যার মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা ‘অর্থের যোগান’। ব্যবসায়ের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টেজে বিভিন্ন কারণে অর্থের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তো বর্তমানে স্টার্টআপ বা উদ্যোক্তাদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট নেয়ার বেশ জনপ্রিয় একটি সোর্স হল ‘অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর (Angel Investors)’। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর (Angel Investors) বা দেবদূত বিনিয়োগকারীরা হলেন এমন স্বাধীন ব্যক্তি যারা ব্যবসার একটি অংশ, ইকুইটি মালিকানার বিনিময়ে প্রতিশ্রুতিশীল স্টার্টআপ (Startup) বা নতুন শুরু করা কোম্পানিকে অর্থায়ন বা অর্থ সরবরাহ করে থাকেন। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টররা মূলত প্রতিষ্ঠিতি বিজনেসম্যান যারা স্টার্টআপের প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ করতে চায়। এরা স্বীকৃত কোন বিনিয়োগকারী কিনা এ নিয়ে অনেক ধরণের মতামত থাকতে পারে, তবে অত্যন্ত উচ্চ আয় এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীদের এই শ্রেণীবিভাগ টাকে আলাদা করা হয়ে থাকে।

একটি Investment বা বিনিয়োগ হল একটি সম্পদ বা আইটেম যা আয় বৃদ্ধি বা ভবিষ্যত স্বীকৃতি তৈরীর লক্ষে অর্জিত হয়। এখানে স্বীকৃতি বলতে সময়ের সাথে সাথে একটি সম্পদের মূল্য বৃদ্ধিকে বোঝান হয়েছে। Economic বা অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে, একটি বিনিয়োগ হল এমন একটি পণ্য ক্রয় যা আজ ব্যবহার করা হবে না কিন্তু ভবিষ্যতের সম্পদ তৈরীতে ব্যবহৃত হবে। Finance বা আর্থিক সংস্থান এর ভাষায়, একটি বিনিয়োগ হল একটি সম্পদ যা এই ধারণা নিয়ে কেনা হয় যে, ভবিষ্যতে সম্পদটি আরো বেশি মূল্য অথবা লাভ প্রদান করবে বা পরবর্তীতে বেশি লাভ দিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা যাবে। সুতরাং, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিজের অর্জিত সম্পদের উপর মুনাফা বা লাভ বৃদ্ধির আশায় বিজনেস, শেয়ার, বন্ড, সম্পত্তি; প্রভৃতি ক্রয় করাকে Investment বা বিনিয়োগ বলে।

সেলস ক্যারিয়ারে মোটামুটি সকল বিক্রয়কর্মীই কিছু কমন ভুল করে থাকেন। যেমন - কম শোনা এবং বেশি কথা বলা অথবা সঠিক সমাধানের দিকে ফোকাস না করা ইত্যাদি। কমন ভুলগুলো একবার জেনে নিলে পরবর্তীতে আপনিও এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে পারবেন এবং উপযুক্ত টেকনিক অবলম্বন করতে পারবেন।

সেলস ফানেল হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যা শুরু হয় গ্রাহকের পণ্য বা সেবা ক্রয়ের আগ্রহ থেকে আর সম্পন্ন হয় যখন গ্রাহক অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা ক্রয় করে এবং বিক্রেতা মুনাফা লাভের আশায় তা বিক্রয় করে থাকে।সেলস ফানেল কে ক্রয় ফানেলও বলা হয় কারন গ্রাহকের ক্রয় প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এর প্রক্রিয়াগুলো সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং সবশেষে গ্রাহকের ক্রয় সম্পন্ন হয় এবং বিক্রয় ফানেল বা সেলস ফানেল এর প্রক্রিয়া শেষ হয়। সহজ কথায় যখন কেউ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পাশ দিয়ে যায় আর ভাবে তার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা আছে আর স্টোরে প্রবেশ করে তখন সে একজন গ্রাহক। এই প্রবেশ করা শুরু থেকে বিক্রতের সাথে কথা বলা,পণ্য পচ্ছন্দ করা,দামাদামি করা,দাম নির্দিষ্ট করা আর অবশেষে তা গ্রাহকের ক্রয়ের মাধ্যমে আর বিক্রেতা বিক্রয়ের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা পুরো প্রক্রিয়ার কাজ টা হচ্ছে সেলস ফানেল।

Sales বা বিক্রয় হলো ব্যবসার প্রাণ — শূন্য সেলস মানে শূন্য রাজস্ব। আধুনিক সেলস মানে পণ্য চাপিয়ে দেওয়া নয়, গ্রাহকের সমস্যার সমাধান দেওয়া। B2B, B2C, Inside, Field, Direct, E-commerce সহ ৮ ধরনের সেলস আছে। সেলস প্রসেসের ৭টি ধাপ — Prospecting থেকে Follow-up পর্যন্ত — প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ। HubSpot-এর তথ্য অনুযায়ী ৮০% বিক্রয়ে ৫+ ফলো-আপ লাগে। বাংলাদেশে RMG ($55B), FMCG, ফার্মা ও ই-কমার্স খাতে সেলসের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

অর্থশাস্ত্রের যে অংশে সামগ্রিক বা জাতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় তাকে সামষ্টিক অর্থনীতি বা Macro Economics বলে। অর্থাৎ সামষ্টিক অর্থনীতিতে পৃথক পরিমাণের পরিবর্তে সমষ্টিগত পরিমাণ, ব্যক্তিগত আয়ের পরিবর্তে জাতীয় আয়, নির্দিষ্ট দ্রব্যের দামের পরিবর্তে সাধারণ দামস্তর এবং ব্যক্তিগত উৎপাদনের পরিবর্তে জাতীয় উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) হলো অর্থনীতির সেই শাখা যা ব্যক্তি, পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে। চাহিদা ও সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ, বাজার কাঠামো, Elasticity, Utility, Opportunity Cost -- এগুলো এই শাখার মূল ধারণা। এই লেখায় Microeconomics-এর সংজ্ঞা, মূল ধারণাসমূহ, পরিধি, বাজার কাঠামো (Perfect Competition, Monopoly, Oligopoly, Monopolistic Competition), বাস্তব প্রয়োগ, Macro-র সাথে পার্থক্য, সুবিধা-সীমাবদ্ধতা, মূল চিন্তাবিদ, এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অর্থনীতি হলো সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম চাহিদা পূরণের বিজ্ঞান — কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার, ব্যবসা এবং সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কী উৎপাদন করবে, কীভাবে বণ্টন করবে এবং কার জন্য করবে। Adam Smith per published 'Wealth of Nations' (1776) থেকে শুরু করে আজকের behavioral economics পর্যন্ত — অর্থনীতি শুধু GDP আর মুদ্রাস্ফীতি নয়, এটা আপনার প্রতিদিনের চায়ের দাম থেকে চাকরির বাজার পর্যন্ত সব কিছু ব্যাখ্যা করে।

সহজ কথায় Rebranding হচ্ছে আপনি কোন কোম্পানি বা কোম্পানির পণ্যকে নতুন করে গ্রাহকের কাছে উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন। যেমন বাংলাদেশের ডাকবিভাগ বর্তমান নেটওয়ার্কিং যুগে একদমই পিছিয়ে পরা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই ডাক বিভাগের ব্রান্ড ভ্যালু দিয়ে শুরু হয় নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।যা খুব সহজেই গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।এখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগ একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান দেশের মানুষের কাছে কিন্তুু যুগোপযোগী সেবা না দিতে পারায় পিছিয়ে পরছিলো ঠিক তখন সেবা হিসেবে নিয়ে আসে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং যা রিব্র্যান্ড হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এটার মালিকানার ৫১ শতাংশ হচ্ছে ডাকবিভাগের।

ব্র্যান্ডিং হল আপনার ব্যবসায়কে অন্য সব ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা ভাবে চেনার বা শনাক্ত করার একটি উপায়।এইভাবে আপনার গ্রাহকরা আপনার ব্যবসাকে চিনতে এবং অনুভব করতে পারেন। একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড শুধুমাত্র একটি লোগোর চেয়েও বেশি কিছু - এটি আপনার গ্রাহক পরিসেবা ব্যাবস্থা, স্টাফ ইউনিফর্ম, ব্যবসায়িক কার্ড এবং প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে আপনার বিপণন সামগ্রী এবং বিজ্ঞাপন সবকিছুতেই প্রতিফলিত হয়।

শেয়ার বা স্টক কে ইক্যুইটি বলে যা একটি কোম্পানীতে মালিকের বা শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার অংশ কে বুঝায় । বিভিন্ন প্রকারের ইক্যুইটি রয়েছে যেমন :- মালিকের ইক্যুইটি : কোম্পানিতে কোম্পানির মালিকের নিয়ন্ত্রণকে বোঝায়। শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি: শেয়ারহোল্ডারের ইক্যুইটি, যাকে স্টকহোল্ডারের ইক্যুইটিও বলা হয় এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি সাধারণত এমন কোম্পানিগুলির মূল্যায়নকে বোঝায় । রিটার্ন অন ইক্যুইটি (ROE) যত বেশী হবে তত ই ভালো ।

ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমাজকে কেন্দ্র করেই তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে, এর ফলে সমাজের মানুষজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়ের কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমাজের বা দেশের মানুষের কাছে তার পণ্য, সেবা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে থাকে। তাই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গুলোর সমাজ এবং দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে, এই দায়িত্ববোধ থেকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমাজ, দেশ এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রতি যে জনকল্যাণমূলক বা জনহিতকর কাজ করে থাকে তাকেই CSR/Corporate Social Responsibility বা ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে।

হোরেকা (HORECA) শব্দটি নিজেই হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং ক্যাফে শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এই মার্কেটিং চ্যানেলটি ইউরোপ এশিয়া হয়ে মার্কিংযুক্তরাষ্ট্রসহ এখন সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে । এর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে এর কার্যকারীতাকে আরো গতিশীল করে তুলেছে । প্রকৃতপক্ষে আতিথেয়তার বাইরেও অন্যান্য খুচরা খাদ্য পরিষেবা সেক্টর যেমন বিনোদন পার্ক, অবকাশ কেন্দ্র, হোটেল এবং ভ্রমণ শিল্প অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এর পরিধি প্রসারিত করেছে।

একটি ব্যবসায় পরিচালনা করে প্রাপ্ত যাবতীয় আয় থেকে যাবতীয় ব্যয়গুলো বাদ দিলে নিট মুনাফা পাওয়া যায়। একটি প্রতিষ্ঠান ঠিক কতোটা লাভজনক, তা নিট মুনাফা’র মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। প্রতিষ্ঠানের কয়েক বছরের নিট মুনাফার ট্রেন্ড দেখেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করার বা না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বিক্রয় থেকে বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বিয়োগ করলে আমরা মোট মুনাফার পরিমাণ জানতে পারি। পণ্য বিক্রয় করে প্রতিষ্ঠানটি আদৌ লাভ করছে কি না তা জানতে মোট মুনাফা আমাদের সাহায্য করে। ব্যবসায়ের তিনটি মুনাফা সূচকের ভেতর প্রথম সূচকটি হচ্ছে “মোট মুনাফা”। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে প্রতিষ্ঠান ভালো পরিমাণ মোট মুনাফা অর্জন করতে পারে, এতে করে নিট মুনাফার পরিমাণও বেশি হয়।

একটি লোগো শুধুমাত্র একটি প্রতীকই নয়। একটি লোগো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও। একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্ত চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটে একটি লোগোতে। একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের সাধারণ ধারণাও আসে এই লোগোর মাধ্যমেই। তাই একটু বিচার বিশ্লেষণের মাধম্যে একটি লোগো তৈরী করাই প্রতিষ্ঠানের জন্যে উত্তম সিদ্ধান্ত।

একটি লোগো শুধুমাত্র একটি প্রতীকই নয়। একটি লোগো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও। একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্ত চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটে একটি লোগোতে। একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের সাধারণ ধারণাও আসে এই লোগোর মাধ্যমেই। তাই একটু বিচার বিশ্লেষণের মাধম্যে একটি লোগো তৈরী করাই প্রতিষ্ঠানের জন্যে উত্তম সিদ্ধান্ত।

মূলত সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিনিয়ত অসংখ্য লোগো দেখি। টুথপেস্টের গায়ে, হাতের ফোনে, রাস্তার বিলবোর্ডে, পরনের জামায় — সব জায়গাতেই কোনো না কোনো লোগো আছে। কিন্তু কখনো কি মনে হয়েছে যে প্রতিটা লোগো আসলে একটু আলাদা? কোনোটায় শুধু অক্ষর, কোনোটায় ছবি, কোনোটায় আবার দুটো মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে? আসলে লোগো ডিজাইনের পুরো একটা জগৎ আছে। আর্টিস্টভেদে লোগোর প্রকারভেদ ৫ থেকে ১১ রকম পর্যন্ত হতে পারে। কেউ ৫ ভাগ করেছেন, কেউ আবার সেটাকে আরও বিস্তারিত করে ১১ ভাগে ভাগ করেছেন। মূলত আর্ট বা ডিজাইনের বিষয়গুলো কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় আটকে রাখা যায় না — এটা পুরোটাই দেখার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে।

বি -টু- বি অর্থ হলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে ব্যবসা হয়ে থাকে আর বি- টু- সি হচ্ছে যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি পণ্য অথবা কোন সেবার আদান প্রদান হয় এবং বি- টু- জি মানে হচ্ছে যখন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ও সরকার বা কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক কোন লেন দেন হয় ।

Red Ocean হলো বিদ্যমান বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা যেখানে সবাই একই গ্রাহকদের জন্য লড়াই করে। Blue Ocean হলো সম্পূর্ণ নতুন বাজার তৈরি যেখানে প্রতিযোগিতা অপ্রাসঙ্গিক। W. Chan Kim ও Renée Mauborgne-এর ২০০৫ সালের বেস্টসেলার বই থেকে উদ্ভূত এই কৌশলে Four Actions Framework (Eliminate, Reduce, Raise, Create) ব্যবহার করে Value Innovation অর্জন করা হয়। Netflix, Apple, Tesla ও বাংলাদেশের bKash সফল Blue Ocean-এর উদাহরণ।

Needs বা প্রয়োজন, আমাদের বেঁচে থাকার জন্যে বা টিকে থাকার জন্যে আমরা যা যা কিছুর অভাব অনুভব করি তাই Needs বা প্রয়োজন এই প্রয়োজন শারীরিক, মানসিক, সামাজিক যেকোনো কিছু হতে পারে। Wants বা চাওয়া, প্রয়োজনকে পরিপূর্ণ করার জন্যে মানুষ যে ইচ্ছের প্রকাশ ঘটায় তাই Wants বা চাওয়া। মানুষের এই চাওয়া সবসময় তার পারিপার্শ্বিক আবস্থা বা অন্যান্য আরো অনেক কিছু দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। Demands বা চাহিদা, মানুষ যখন তার চাওয়াকে কেনার সামর্থ্যে অর্জন করে তাই Demands বা চাহিদা।

একটি কোম্পানি যখন তার একটি (প্রচলিত আইনে বিজ্ঞাপনের জন্য বৈধ নয় এমন) পণ্যকে বিজ্ঞাপন করার জন্য অন্য একটি (বৈধ) পণ্যকে ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন করে থাকে তাই সারোগেট মার্কেটিং। যেমন: বিয়ার বিজ্ঞাপনের জন্য বৈধ নয় কিন্তু "Kingfisher" এয়ারলাইন্স এর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে "Kingfisher" এর বিজ্ঞাপন করে যাচ্ছে। এতে করে আইনও যেমন ভাঙ্গা হলো না তেমনি আবার মানুষের মাঝে নিজ প্রতিষ্টানকে পরিচয় করিয়েও দেওয়া গেলো।

মূলত মার্কেটিং এর যে প্রক্রিয়া বা ধারণাগুলো রয়েছে সেসব ধারণাগুলোকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিকভাবে উপস্থাপন বা ব্যবহার করাই ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং-এ একদিকে যেমন ব্যয় হয় স্বল্প ঠিক তেমনই সময়’ও লাগে কম। আর তাছাড়া বয়স, লিঙ্গ, অঞ্চল ইত্যাদি বিষয় একদম নির্দিষ্ট করে দিয়ে প্রচারণা চালানো সম্ভবপর হয়ে উঠে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

মার্কেটিং-এর ৭’পি বলতে মূলত বোঝানো হয় প্রোডাক্ট, প্রাইস, প্লেইস, প্রোমোশন, পিপল, প্রসেস ও ফিজিকাল এভিডেন্স। ৭’পি-এর সবগুলো এলিমেন্ট ব্যবহার করে একটি পরিপূর্ণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হয় যেখানে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, প্রাইসিং, ডিস্ট্রিবিউশন, কমিউনিকেশন ও কাস্টমার এক্সপিরিয়েন্সকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এতে করে কাস্টমারের চাহিদাকে পূরণ করে ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।

সাবস্ক্রিপশন মডেল এ গ্রাহকরা মূলত কোনও সেবা বা পণ্য ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদান করে থাকে। মাসিক বা বাৎসরিক ভিত্তিতেই বেশিরভাগ সাবস্ক্রিপশন মডেল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চার্জ বা সাবস্ক্রিপশন ফি নিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানভেদে এই সময়ের ব্যতিক্রম হয়ে থাকে। এটি সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কৌশলের উপর নির্ভর করে।

ফ্রিমিয়াম মডেলে মূলত গ্রাহকদের মূল সেবাটির সীমিত কিছু ফিচার বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন গ্রাহকদের বিনামূল্যে ফিচারগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেবাটির প্রতি আস্থা এবং নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়।

বেইট এন্ড হুক মডেলে মূলত দুই ধরনের পণ্য কে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে তৈরী করা হয়। এক্ষেত্রে মৌলিক বা ব্যসিক যে পণ্যটি সেটিই মূলত হুক। আর এই মডেল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মৌলিক বা ব্যসিক পণ্যটি একদম সস্তা কিংবা বিনামূল্যে গ্রাহককে দিয়ে থাকে। আর এর সহায়ক বা পরিপূরক যে পণ্যটি থাকে সেটিই মূলত বেইট। মানে এই সহায়ক বা পরিপূরক পণ্যটি বিক্রয়ের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি মূল লাভ করে থাকে।

কাস্টমার ডেটা মনিটাইজেশন মডেলে গ্রাহকদেরকে মূল সেবাটি বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। অতঃপর সুষ্ঠু পদ্ধতিতে গ্রাহকদের যাবতীয় তথ্যাবলি সংগ্রহ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রয় করা হয়। আর এই গ্রাহক তথ্য বিক্রয়ের মাধ্যমেই মূলত এই কাস্টমার ডেটা মনিটাইজেশন মডেল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূল আয় করে থাকে।

শেয়ারিং ইকোনমি মূলত দুই পক্ষের (Peer to Peer) সমন্বয়ে গঠিত এমন একটি বিজনেস মডেল, যেখানে মূল প্রতিষ্ঠানটি একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। এক্ষত্রে প্রতিষ্টান গুলো মূলত দুই পক্ষ অর্থাৎ সেবা প্রদানকারী এবং সেবা গ্রহণকারীদের মাঝে প্রযুক্তির সহায়তায় নিজস্ব কৌশলে সংযোগ করে দেয়।

মূলত ব্যবসা শুরু করার আগে যেকোনো উদ্যোক্তাকে একটা স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান নিয়ে আগাতে হয়, তার ব্যবসার সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে কিভাবে পরিচালনা করবেন! সনাতনী পদ্ধতি অনুসরণ করে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখার চেয়ে বিজনেস মডেল ক্যানভাস অনুসরণ করা অধিকতর সহজ এবং কার্যকর। কারণ এই মডেল ব্যবহার করে আপনি নয়টি ব্লক তৈরি করে একটা পৃষ্ঠায় সবকিছু আলোকপাত করতে পারবেন যা আপনার নিজের এবং ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যাক্তির বুঝতে অনেকটা সহজ হবে।

লিন ক্যানভাস মডেল মূলত একটি এক পৃষ্ঠার নয়টি ব্লকের মাধ্যমে তৈরি করা সমস্যা-সমাধান ভিত্তিক মডেল যা একটি আইডিয়াকে ব্যবসায়ে রুপান্তরিত করতে কিংবা স্টার্টআপ এর প্রসারে সহায়তা করে। এই মডেলটি মূলত স্টার্টআপ লেভেলের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগান্তকারী মডেল হিসেবে কাজ করে যেকারণে অনেক বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও তাদের শুরুর দিকে এই মডেলটি ব্যবহার করে নানাভাবে উপকৃত হয়েছে।

সামাজিক উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আরো সহজ করে দেয় সোশ্যাল বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল। মূলত বহুল ব্যবহৃত বিজনেস মডেল ক্যানভাস টুল থেকেই সামাজিক সংগঠনের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী করে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সামাজিক উন্নয়নে কোনো আইডিয়া এই টুলের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সিন্ধান্তে আসা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।

কাস্টমার এক্সপ্লোরেশন ম্যাপ মূলত এক ধরনের টেমপ্লেট বা চার্ট। যা অনেকাংশে একটা স্টোরিবোর্ড এর মতো ও কাজ করে থাকে। নিতান্তই ছোট এবং সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ এই টেমপ্লেট কিংবা স্টোরিবোর্ড আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইম্প্যাথি ম্যাপিং মূলত একধরনের ট্যুলস। এটি গ্রাহকদের ভাবনা-চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভব, উপলব্ধি সহ নানাবিধ তথ্য, উপাত্ত এর সমন্বয়ে গঠিত সুশৃঙ্খল এবং সুবিন্যস্ত একটি চার্ট। উল্লেখিত বিষয় সমূহ সম্পর্কিত তথ্য উপাত্তের খুব চমৎকার একটা ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন পাওয়া যায় এই ইম্প্যাথি ম্যাপিং এর মাধ্যমে। যা মূলত আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহককে ভালভাবে বুঝতে সহায়তা করে।

প্রতিটি উদ্যোক্তাই চায় তার পণ্য বা সেবা বাজারে আনার আগে সেটাকে একদম নিখুঁত করে তুলতে। কিন্তু মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সময় আর অর্থ ব্যয় করে একটা পণ্য পুরোপুরি তৈরি করার পর যদি দেখা যায় বাজারে তার কোনো চাহিদাই নেই — এটা একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মূলত এই সমস্যার সমাধান দিতেই তৈরি হয়েছে মিনিমাম ভায়েবল প্রোডাক্ট বা এমভিপি কৌশল। পুরো পণ্য একসাথে না বানিয়ে শুধু সবচেয়ে জরুরি ফিচারগুলো নিয়ে বাজারে আসুন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সত্যিকারের মতামত নিন এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে পণ্য উন্নত করুন। বাংলাদেশের পাঠাও, বিশ্বের উবার এবং ড্রপবক্স — এরা সবাই এই একই পথ ধরে এগিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।
