GeoRenus Editorial Team

ব্র্যান্ডের জন্য নাম সিলেক্ট করার সময় আপনাকে অবশ্যই এমন একটি নাম বেছে নিতে হবে যেটি কাস্টমাররা সহজেই মনে রাখতে পারেন এবং তা দ্বারা আপনার ব্র্যান্ডের একটি ইমপ্রেশন তাদের মনে জেগে ওঠে। তবে নামটি লিগ্যালি এভেইলএবল কি না এবং ভবিষ্যৎ-এ এই নাম দিয়ে আপনার প্রোডাক্ট লাইন বড় করতে পারবেন কি না এগুলোও বিবেচ্য বিষয়।
বন্ধুদের সাথে ব্রেইনস্টর্মিং করে খুব চমৎকার একটি প্রোডাক্ট আইডিয়া পেলেন। মার্কেট রিসার্চ এবং কম্পিটিশন অ্যানালিসিস করে প্রোডাক্টের সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনাও বুঝে ফেললেন। এখন প্রোডাক্ট লঞ্চ করার জন্য প্রয়োজন কোম্পানীর একটি নাম। ব্র্যান্ডের নাম যেকোনো নতুন কোম্পানীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নামটি এমন হতে হবে যাতে তা আপনার কোম্পানীর উদ্দেশ্য ধারণ করতে পারে, ইন্টারনেটে সার্চ করলে সহজেই পাওয়া যায় এবং কাস্টমাররা সহজে মনে রাখতে পারেন।
ব্র্যান্ডের নাম ঠিক করার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত ১০টি বৈশিষ্ট্য মাথায় রাখতে হবে।
একটি ভালো ব্র্যান্ড নামের প্রথম এবং প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে এটি খুব সহজে উচ্চারণ করা এবং মনে রাখা যায়। তাই ব্র্যান্ডের নাম যতো ছোট হবে ততো ভালো। এখানে মূলত দুটি ফ্যাক্টর আপনাকে মনে রাখতে হবে -
প্রথমত, নিজের ব্র্যান্ডের কার্যক্রমের সাথে মানানসই একটি নাম ঠিক করা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি করতে গিয়ে নাম অনেক বড় করে রাখা যাবে না। যদি আপনার ব্র্যান্ডের সাথে মানানসই নামটি অনেক বড় হয়ে যায়, তাহলে এখানে একটি হ্যাক ব্যাবহার করতে পারেন। সেটি হচ্ছে নামের শর্ট ফর্ম দিয়ে ব্র্যান্ডিং করা।
উদাহরণ হিসেবে এখানে বহুল পরিচিত একটি ব্র্যান্ডের কথা উল্লেখ করা যায় - তা হচ্ছে HP। এটি মূলত ‘Hewlett-Packard’ এর একটি শর্ট ফর্ম। উচ্চারণে যেন সহজ হয় এবং কাস্টমাররা যেন সহজেই মনে রাখতে পারেন তাই তারা শুধু ‘HP’ এই দুটি অ্যালফাবেট দিয়েই ব্র্যান্ডিং করেছেন।
দ্বিতীয়ত, সহজে উচ্চারণ করার স্বার্থে নামের মাঝে যতো কম সম্ভব সিলেবল রাখতে হবে। যেমন - ‘বাটা’ - এই নামটি মাত্র দুটি সিলেবল ব্যবহার করা হয়েছে; একটি হচ্ছে ‘বা’ এবং অপরটি ‘টা’।
ভালো ব্র্যান্ড নামের আরেকটি বৈশিষ্ঠ হচ্ছে যে এটি আপনার ব্যবসায়কে নির্দিষ্ট একটি পরিধির মাঝে বেধে ফেলবে না। ভবিষ্যতে ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি করতে চাইলে যেন আপনি এই নাম দিয়েই করতে পারেন।
উদাহরণস্বরুপ, এখানে রকমারি ডট কমের কথা বলা যায়। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। যাত্রার শুরু হয়েছিল বই নিয়ে এবং এখনো বই তাদের প্রধান পণ্য, তবে তাদের নামের মাঝে কিন্তু কোথাও বইয়ের স্পর্শ নেই।
রকমারি ডট কম - রাখার পেছনে মূল উদ্দেশ্যই ছিল যাতে তারা ভবিষ্যতে প্রোডাক্ট লাইন বড় করতে পারেন। যার ফলে এখন তারা বিভিন্ন স্টেশনারি আইটেম, ইলেক্ট্রনিক্স, গিফট আইটেম, মুদি পণ্য তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রয় করতে পারছেন।
‘রকমারি ডট কম’ না রেখে যদি ‘বই চাই ডট কম’ নাম রাখা হতো তবে কিন্তু তাদের জন্য এই কাজটি করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতো।
ভালো ব্র্যান্ড নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই নামটির লিগাল অ্যাভেইলিবিলিটি চেক করতে হবে। ছোট-খাটো ব্যবসায় হিসেবে শুরু করে একসময় বড় ব্যবসায় পরিণত হওয়ার পর আপনি যখন নামটির নিবন্ধন করতে যাবেন তখন যদি দেখা যায় যে নামটি আগে থেকেই অন্য কেউ নিবন্ধন করে রেখেছে তাহলে কিন্তু সমস্যায় পরে যাবে। অনেক সময় আপনাকে আইনী জটিলতার মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে।
তাই নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই তার লিগাল অ্যাভেইলিবিলিটি চেক করে নিবেন।
একটি কোম্পানী অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলার উদ্দেশ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করে। তাই আপনার ব্র্যান্ডের নাম’ও যাতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত রেলেভেন্ট থাকে তা আপনার মাথায় রাখতে হবে। ইন্টারনেটে একের পর এক ট্রেন্ড আসবে এবং চলে যাবে, তবে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রোডাক্ট লাইনের সাথে আপনার ব্র্যান্ডের নামকে অবশ্যই মানিয়ে নিতে হবে।
বিশেষ করে আপনি যদি ট্রেন্ডি আইটেম বা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসায় করেন, তাহলে আপনাকে এমন নাম ঠিক করতে হবে যেটি ট্রেন্ড চলে যাওয়ার পর ইরিলিভেন্ট হয়ে পরবে না।
আপনার ব্যবসায় যদি অনলাইন কাস্টমারদের টার্গেট করে আবর্তিত হয়, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও ফ্যাক্টর আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। আপনার প্রোডাক্ট বা ইন্ডাস্ট্রির সাথে রিলেটেড কোনো কিওয়ার্ড দিয়ে নাম ঠিক করার চেষ্টা করুন এবং সেই কিওয়ার্ড অ্যানালিসস করে দেখুন যে উক্ত কিওয়ার্ডে পেইড এবং অর্গানিক সার্চ কেমন, সময়ের সাথে সাথে সার্চের পরিমাণ বাড়ছে কি না ইত্যাদি।
ব্র্যান্ড নামের সাথে প্রপার এসইও করা গেলে আপনার ওয়েবসাইট প্রতিমাসে প্রচুর পরিমাণ অর্গানিক ভিজিটর পাবে যাদেরকে আপনি কাস্টমার হিসেবে কনভার্ট করতে পারবেন।
ব্রেইনস্টর্মিং করে যদি এমন কোনো নাম বের করতে পারেন যা ডিকশনারিতে নেই তাহলে আপনার অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যেমন -
• কম্পিটিটরদের থেকে ব্র্যান্ডকে ডিফারেনশিয়েট করতে সাহায্য করবে।
• ডোমেইন ক্রয় করতে সমস্যা হবে না।
• ইচ্ছা মতো সোশ্যাল মিডিয়া ইউআরএল তৈরি করতে পারবেন।
• সহজেই এসইও করে র্যাংকে চলে আসা যাবে।
ইন্ডাস্ট্রির সাথে মিলিয়ে রাখতে এবং রিলিভেন্ট কিওয়ার্ড অ্যাড করতে গিয়ে নামের স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে ফেলবেন না যেন। ইন্ডাস্ট্রিতে যদি একই ধরণের নামের অনেক কোম্পানী থাকে, যেমন - চাকরি চাই, চাকরির বাজার, চাকরি খুজুন ইত্যাদি, তাহলে আপনার নামকে আরেকটু ইউনিক হতে হবে। এতে করে আপনি স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারবেন এবং ব্র্যান্ডিং সহজ হবে।
এটি আগের পয়েন্টটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। কোনো বড় প্লেয়ারের নাম কপি করে যদি আপনি আপনার ব্র্যান্ডের নাম রাখেন, তাহলে কাস্টমাররা আপনার ব্র্যান্ডকে সেই বড় প্লেয়ারের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে নয় বরং কপি হিসেবেই দেখবে। তাই চেষ্টা করুন অরিজিনাল কোনো একটি নাম ডিসাইড করতে, যেই নামের কাছাকাছি কোনো নামে অন্য কোনো কোম্পানী নেই।
আপনার পছন্দের নামটির আদি অর্থ কী? এই শব্দের সমার্থক শব্দ কি কি আছে? এটির ইংরেজি, স্প্যানিশ, চাইনিজ বা ফ্রেঞ্চ মিনিং কি দাঁড়ায়?
বর্তমান গ্লোবালাইজড মার্কেটে কোনো কিছুই নির্দিষ্ট বাউন্ডারির ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। আজ হোক বা কাল, আপনাকে ন্যাশনাল বাউন্ডারির বাইরে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা নিয়ে ভাবতে হবে। তাই গ্লোবাল ভাষাগুলোতে আপনার ব্র্যান্ডের নামের কি অর্থ দাঁড়ায় সেই বিষয়ে জেনে নেয়া চাই। এমন একটি নাম ঠিক করতে হবে যেই নামের সব ভাষাতেই গ্রহণযোগ্যতা আছে।
স্টোরিটেলিং ব্র্যান্ডিং-এর ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার ব্র্যান্ড নামের পাশাপাশি একটি ইন্টেরেস্টিং স্টোরি যদি আপনি লাগিয়ে দিতে পারেন তাহলে নামটি স্থায়ীভাবে কাস্টমারদের মনে জায়গা করে নিতে পারবে। ফিউচারে এই বিষয়ে আপনি মার্কেটিং করার সুবিধাও পাবেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এটি লেগাসি তৈরি করতে সাহায্য করবে।
আপনার যদি একটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনাকে ব্র্যান্ডের নাম ঠিক করার পেছনে অবশ্যই পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। ব্যাপারটা কিছুটা যন্ত্রনাদায়ক হলেও, একটি আকর্ষণীয় নাম যখন আপনি খুজে বের করে ফেলবেন, তখন পুরো ব্যাপারটি ওর্থ ইট মনে হবে। একই সাথে একটি ওয়েল কিউরেটেড নামের মাধ্যমে এই ম্যাসেজটিও ডেলিভার হয় যে আপনি আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস।

অ্যাড অন মডেলে মূলত কোনো একটি পণ্য বা পরিসেবার জন্য বাজারে অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্য) নির্ধারণের মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা সৃষ্টি করা হয়। আর পণ্য বা সেবাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন গ্রাহক মনে ঐ নির্দিষ্ট পণ্য বা পরিষেবার বাইরেও ঐ পণ্য সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ফিচার কিংবা সেবার প্রতি প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রাহক ঐ পণ্যটির বাইরেও অন্যান্য পরিষেবা গুলোও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে। এভাবে এই অ্যাড অন বিজনেস মডেল টি মূলত কাজ করে থাকে।








