ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর বা এক ত্রৈমাসিক) একটি দেশের সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে সংঘটিত সকল আর্থিক লেনদেনের একটি পদ্ধতিগত হিসাব। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অবস্থান বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
BoP-কে প্রধানত দুটি প্রধান অ্যাকাউন্টে ভাগ করা হয়:
কারেন্ট অ্যাকাউন্ট: এটি পণ্য (আমদানি-রপ্তানি), পরিষেবা, বিনিয়োগ আয় এবং একতরফা হস্তান্তর (যেমন রেমিট্যান্স) এর লেনদেন নিয়ে গঠিত।
ক্যাপিটাল ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট: এটি মূলধন স্থানান্তর এবং আর্থিক সম্পদের লেনদেন (যেমন FDI, পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, ঋণ) অন্তর্ভুক্ত করে।
একটি দেশের BoP হিসাবগতভাবে সর্বদা ভারসাম্যপূর্ণ হয়। তবে, যদি কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি থাকে, তাহলে ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্টে উদ্বৃত্ত থাকবে (বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমবে)। এটি দেশটির আন্তর্জাতিক আর্থিক অবস্থান এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বাংলাদেশের ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস সাম্প্রতিক সময়ে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির কারণে বেশ অস্থির ছিল। তবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণের ফলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ভারসাম্য কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের BoP-এ রেমিট্যান্সের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে, যা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।