ক্যাপিটাল ফ্লাইট বা পুঁজি পাচার হলো একটি দেশ থেকে হঠাৎ করে এবং বড় আকারের সম্পদ বা মূলধন অন্য দেশে চলে যাওয়া। এটি সাধারণত ঘটে যখন বিনিয়োগকারী বা ধনী ব্যক্তিরা তাদের দেশের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের সম্পদ বিদেশে স্থানান্তর করে।
পুঁজি পাচারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল শাসন ও দুর্নীতি, উচ্চ করের হার, এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের আশঙ্কা।
এটি একটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পায়, মুদ্রার মান কমে, বিনিয়োগ কমে, কর্মসংস্থান হ্রাস পায় এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশে পুঁজি পাচার একটি গুরুতর সমস্যা। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (GFI)-এর মতো সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি প্রধানত অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে (যেমন আন্ডার-ইনভয়েসিং, ওভার-ইনভয়েসিং, হুন্ডি) ঘটে। সরকার এই সমস্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেমন - মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন কঠোর করা এবং অপ্রদর্শিত আয় প্রকাশে উৎসাহিত করা।