ডেট-বেজড মানি ক্রিয়েশন হলো আধুনিক অর্থনীতির একটি প্রক্রিয়া যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের মাধ্যমে নতুন টাকা সৃষ্টি করে। এটি একটি প্রচলিত ধারণা যে, ব্যাংকগুলো শুধু তাদের কাছে জমা থাকা টাকাই ঋণ দেয়, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
যখন একটি ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ অনুমোদন করে (যেমন — একটি হোম লোন বা ব্যবসায়িক ঋণ), তখন ব্যাংক সেই পরিমাণ অর্থ ঋণগ্রহীতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে। এই জমা করার মুহূর্তে, নতুন ডিজিটাল টাকা তৈরি হয়। ব্যাংক তার ব্যালেন্স শিটে ঋণকে একটি অ্যাসেট বা সম্পদ হিসেবে এবং নতুন তৈরি হওয়া ডিপোজিটকে একটি লায়াবিলিটি বা দায় হিসেবে রেকর্ড করে।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের মাধ্যমে নতুন টাকা সৃষ্টি করে। যেমন — একজন ব্যবসায়ী যখন ব্যাংক থেকে তার ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নেন, তখন সেই ঋণের অর্থ তার অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং অর্থনীতিতে নতুন তারল্য যোগ হয়।
এই পদ্ধতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক) এর মুদ্রানীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা সুদের হার এবং রিজার্ভের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে ঋণের পরিমাণকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে, এই ঋণ-ভিত্তিক মুদ্রা সৃষ্টির কারণেই অর্থনীতিতে ঋণ এবং মুদ্রা সরবরাহের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।