আরভিং ফিশারের ডেট ডিফলেশন থিওরি বা ঋণ-মুদ্রাস্ফীতি তত্ত্ব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক মন্দার একটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ঋণের সাথে মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) এর মিথস্ক্রিয়া।
ফিশার দেখান যে, অর্থনীতিতে যখন অতিরিক্ত ঋণ জমে যায় এবং এরপর পণ্যের দাম কমতে থাকে, তখন একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি হয়:
ঋণের প্রকৃত বোঝা বৃদ্ধি: ডিফ্লেশনের কারণে প্রতিটি মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, ফলে ঋণের প্রকৃত মূল্য বেড়ে যায়। অসহায় বিক্রি: ঋণের বোঝা মেটাতে ঋণগ্রহীতারা সম্পদ সস্তায় বিক্রি করে। আরও মূল্যহ্রাস: সস্তায় বিক্রির কারণে বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং দাম আরও কমে। মুনাফা ও কর্মসংস্থান হ্রাস।
এভাবে, ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা আসলে মূল্যহ্রাসকে আরও বাড়িয়ে দেয় — এটাই 'ডেট ডিফ্লেশন প্যারাডক্স'।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, সরাসরি ব্যাপক ডিফ্লেশন দেখা না গেলেও, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং সম্পদ বুদবুদ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি ফিশারের তত্ত্বের সাথে প্রাসঙ্গিক।