ফিয়াট মানি বা আদেশ মুদ্রা হলো সরকার-কর্তৃক জারি করা একটি মুদ্রা, যার কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য (intrinsic value) নেই এবং এটি কোনো ভৌত পণ্য (যেমন — সোনা বা রূপা) দ্বারা সমর্থিত নয়। এর মূল্য সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ বা ঘোষণার ওপর এবং জনগণের এর ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।
ফিয়াট মানির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: অন্তর্নিহিত মূল্য নেই — এটি কাগজ বা ধাতু দিয়ে তৈরি, যার নিজস্ব কোনো মূল্য নেই। সরকার কর্তৃক আইনি অনুমোদন — সরকার এটিকে 'আইনি টেন্ডার' (legal tender) ঘোষণা করে, যার মানে এটি ঋণ পরিশোধ এবং পণ্য-সেবা কেনাবেচার জন্য অবশ্যই গ্রহণীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ — কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন — বাংলাদেশ ব্যাংক) এর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। জনগণের আস্থা — এর মূল্য মূলত জনগণের বিশ্বাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর আরোপের ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
১৯৭১ সালে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ফিয়াট মানি প্রচলিত। যেমন — মার্কিন ডলার, ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং বাংলাদেশের টাকা সবই ফিয়াট মানি।
ফিয়াট মানি সরকারের জন্য মুদ্রানীতি প্রণয়নে অনেক বেশি নমনীয়তা নিয়ে আসে, কারণ তারা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সরবরাহ বাড়াতে বা কমাতে পারে। তবে, যদি সরকার অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপায় বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়, তাহলে এটি মুদ্রাস্ফীতি এমনকি অতি-মুদ্রাস্ফীতির (hyperinflation) দিকেও নিয়ে যেতে পারে, যা অর্থের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করে।