10 articles
১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ বিদেশ সচিব আর্থার জেমস বেলফোর মাত্র ৬৭ শব্দের একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি 'জাতীয় আবাসভূমি' তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল — এমন একটি ভূমি যা ব্রিটেনের দেওয়ার অধিকার ছিল না, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ ছিল আরব। সেই একটি দলিল থেকেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টি, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং আজও জ্বলতে থাকা একটি সংঘাতের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। বেলফোর ঘোষণা কী ছিল, কেন দেওয়া হয়েছিল, কারা এর পেছনে ছিলেন এবং ১০০ বছরেরও বেশি সময় পরে এর প্রভাব কী — এই বিস্তারিত বিশ্লেষণে সব প্রশ্নের উত্তর।

১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে অটোমান সাম্রাজ্যের আরব ভূখণ্ড নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার চুক্তি করে। মার্ক সাইক্স ও ফ্রাঁসোয়া জর্জ-পিকো নামক দুই কূটনীতিকের তৈরি এই গোপন চুক্তিই আজকের ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের সীমান্ত নির্ধারণ করেছিল। আরবদের সাথে করা স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের বীজ বপন করেছিল।

জলবায়ু পরিবর্তন বা জলবায়ু বিজ্ঞান কোন সহজ বিষয় নয় এবং এটি মোকাবেলা করতে তাই সকল দেশ এবং পৃথিবীর সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। সেটি বুঝতে পেরেই, এই সংকট মোকাবেলার জন্য বহু সময়ে, অনেক রাষ্ট্র একত্রিত হয়ে, অনেক চুক্তি বা নীতি প্রণয়ন করেন। পৃথিবীতে এমন যত চুক্তি রয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বড় চুক্তিটি হচ্ছে প্যারিস চুক্তি।

বিশ্ব ব্যাংক খাতকে সহজ ও এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে, নানান সময়ে নানান ধরনের ব্যাংকিং নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম Basel Accodrs. Basel Committee of Banking Supervision (BCBS) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এর তিনটি সংস্করন, Basel I, Basel II, এবং Basel III, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং ঝুকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং সেক্টরে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনন্য মাত্রা প্রদান করে।

North American Free Trade Agreement (NAFTA) হল একটি ত্রি-দেশীয় চুক্তি যা, কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বানিজ্যিক সমঝোতায় একত্রিত করে। ১৯৯২ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় এবং এটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে। পণ্যের উপর বেশিরভাগ শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্যে অন্যান্য বাধা দূর করার মাধ্যমে, NAFTA তিনটি দেশের মধ্যে বানিজ্যের প্রবৃদ্ধি, প্রসার ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ও ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের বন্ধুত্ব আজ থেকে বহু বছর আগে থেকে। কিন্তু তর্ক সাপেক্ষে এই দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো হলেও, একটা বিষয় যেন দুই দেশের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেটি হচ্ছে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি। এই আন্তঃসীমান্ত নদীটির পানির সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে ২০১১ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত বাস্তবতার মুখ দেখতে পারেনি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি। যদিও তিস্তা নদীর পানির অসম বন্টনের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যা এবং গ্রীষ্মকালে সম্মুখীন হয় ভয়াবহ পানি সংকটের।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৈত্রী চুক্তি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে কষ্টার্জিত স্বাধীনতার পর, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা দৃঢ় করতে বাংলাদেশের কঠোর সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত হয় এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি যা স্বাধীন জাতি হিসাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে কাজ করে।

World Trade Organization (WTO), ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বিশ্বের সব দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের নিয়মগুলি তত্ত্বাবধান ও রক্ষনাবেক্ষণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য তৈরি ১৯৪৭ সালের শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তি (GATT) এর উত্তরসূরি হিসেবে এই WTO চালু হয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত, WTO এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬৪টি।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য ইতিহাসে কখনোই একই সরলরেখায় চলতে পারেনি। সময়ের পরিক্রমায় মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিক অনেক কারণ, পৃথিবীর অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করে। এসব বাধা বিপত্তি ও ক্ষতির হাত থেকে বিশ্ব অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য অনেক সময় নীতি নির্ধারণকেরা অনেক নীতি বা চুক্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমনই একটি চুক্তি হচ্ছে The General Agreement on Tariffs and Trade, সংক্ষেপে GATT.

সময় ১৯৪৪, বিশ্বজুড়ে চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা। ধস নেমেছে মানুষের জীবনমানে, ধসে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিশ্বের অর্থনীতিকে শিথিল ও সমস্যা সমাধানের জন্য যুদ্ধের মিত্র দেশগুলো আলোচনা ও একত্র হওয়ার চেস্টা করছিল। অবধারিত এই সম্মেলনে তখন বিশ্বের ৪৪ টি দেশের প্রায় ৭৩০ জন শীর্ষস্থানীয় নেতারা ব্রেটন উডস-এ, মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে জাতিসংঘের মুদ্রা ও আর্থিক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিল। এবং এই সম্মেলনের ফলাফলই ব্রেটন উডস চুক্তি এবং ব্রেটন উডস সিস্টেম। চুক্তিটি বেশ কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামঞ্জসতা রক্ষা করতে পারলেও, ১৯৭০-এর দশকে এসে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। তবে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এর সৃষ্টি এই চুক্তি সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিক।

ব্যবসায়িক চুক্তি সকল বাণিজ্যিক সম্পর্কের আইনি ভিত্তি গঠন করে। অংশীদারিত্ব, কর্মচারী নিয়োগ বা বৌদ্ধিক সম্পত্তি লাইসেন্সিং যাই হোক না কেন, চুক্তির কাঠামো ও প্রয়োগযোগ্যতা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।