9 articles
Gross Merchandise Value (GMV) হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি মার্কেটপ্লেস বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রিত সকল পণ্যের মোট মূল্য -- ডিসকাউন্ট, রিটার্ন বা ফি বাদ দেওয়ার আগে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার দোকানে ১০০টি পণ্য ১,০০০ টাকা করে বিক্রি হলে GMV = ১,০০,০০০ টাকা -- এটি আপনার আসল আয় (Revenue) নয়, বরং মোট লেনদেনের পরিমাণ। GMV বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটপ্লেস (যেমন Amazon, Daraz), রাইড-শেয়ারিং (Uber, Pathao), এবং ফুড ডেলিভারি (Foodpanda) ব্যবসায়। এই আর্টিকেলে GMV-এর সংজ্ঞা, সূত্র, Revenue-এর সাথে পার্থক্য, বাস্তব উদাহরণ, শীর্ষ কোম্পানিগুলোর GMV তুলনা, এবং GMV বাড়ানোর কৌশল বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ই-কমার্স ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রথমেই বিশ্লেষণ করতে হবে মার্কেট, সেই সাথে গ্রাহক কিংবা পণ্য বা সেবা এসব বিষয়ও চিহ্নিত করতে হবে। কিন্তু তারও আগে জানতে হবে ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট বিজনেস মডেল গুলো সম্বন্ধে। আপনার ই-কমার্স ব্যবসাটি কিভাবে পরিচালনা করবেন এবং নানাবিধ কার্যক্রম কিভাবে সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করে আয়ের পথ উম্মোচন করবেন, তাঁর পুরোটাই কিন্তু নির্ধারণ করে দিতে পারে বিজনেস মডেল। তাই আপনি যদি ই-কমার্স ব্যবসায় সাফল্য পেতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক এবং উপযোগী বিজনেস মডেলটি গ্রহণ করতে হবে।

প্রচলিত একটা কথা আছে যে, প্রচারেই প্রসার। বাস্তবিক অর্থে কথাটি কিন্তু সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। তাইতো যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই প্রচারণার জন্য প্রচুর অর্থ, শ্রম, মেধা ব্যয় করে থাকে। এই কাজ থেকে বাদ যায় নি নামীদামী ব্রান্ডগুলোও। স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরেই অ্যামাজন শুধু মার্কেটিং খাতেই ব্যয় করেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার।

ড্রপসিপিং একটি অন-লাইন ভিত্তিক বিজনেস মডেল, যাকে ই-কমার্স বিজনেস মডেল ও বলা যেতে পারে। তবে ই-কমার্স এরসাথে ড্রপসিপিং এর মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে এইখানে একজন ড্রপসিপার নিজেই পণ্যের মজুদ করে না। অর্থাৎ যখন কোন পণ্যের অর্ডার আসে অর্ডারটি ড্রপসিপার অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেয় তারা পণ্যটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়। এইখানে একজন ড্রপসিপার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

ই-কমার্স শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অবিশ্বাস্য বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে, এবং সব রকমের বিজনেস গুলো এই লাভজনক বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে, অনলাইনে পণ্য অফার করার ক্ষেত্রে, যে দুটি কৌশল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে তারা হল, হোয়াইট লেবেলিং এবং প্রাইভেট লেবেলিং। উভয় পদ্ধতিরই নিজস্ব সুবিধা এবং ত্রুটি রয়েছে। আমেরিকার বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠান Shopify, WooCommerce, BigCommerce এর মত কোম্পানি হোয়াইট লেবেল ই কমার্স বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন প্রাইভেট লেবেল ই কমার্স কে প্রাধান্য দিচ্ছে। স্ট্যাটিসটিশিয়ার একটি গবেষণা মতে, USA এর টোটাল রিটেল বিজনেস এর ১৭.৭ পার্সেন্ট প্রাইভেট লেবেল ই কমার্স এর দখলে আর এর ভ্যালু ১৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই, আপনার ই-কমার্স জার্নিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এদের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত কয়েক দশকে ই-কমার্স ল্যান্ডস্কেপ অসাধারণ একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। অনলাইন শপিংয়ের প্রথম দিকে যখন ক্রেতাদের কাছে তেমন অপশন ছিল না, এবং পণ্যের গুণমান সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। মূল পন্য কয়েক ধাপ পার হয়ে কাস্টমারের হাতে পৌঁছাতো। সেখান থেকে, আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে সিঙ্গেল-ব্র্যান্ডেড ই-কমার্স গুলো মার্কেটে জায়গা করে নিয়েছে। এই নতুন বিজনেস মডেল টি ব্রান্ড-কাস্টমার সম্পর্ককে নতুন ভাবে সজ্ঞায়িত করেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো পাইকারি রিটেইলার বা মিডলম্যান এর সাহায্য ছাড়াই কাস্টমারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছে। এতে করে ব্রান্ড ও কাস্টমার উভয়কেই সমানভাবে লাভবান করছে। সৌভাগ্যক্রমে, বর্তমানে প্রায় ৫৮ শতাংশ নতুন উদ্দোক্তা রা সিঙ্গেল ব্রান্ডেড ই-কমার্সে আগ্রহী হচ্ছে।

গত দুই শতাব্দীতে যা কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছিলাম, মাত্র গত দুই দশকে আমরা তার চেয়েও বেশি অর্জন করেছি। একই সাথে, আমরা অনলাইন অর্থনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্য করতে পারছি, মার্কেটপ্লেস তাদের মধ্যে একটি। শিল্প বা বিজনেস ভার্টিকাল, যাই হোক না কেন, এর জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আর বর্তমানে অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে Multi Vendor E-commerce সাইট গুলো। একটি মাল্টি ভেন্ডর ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস তৈরি করার মূল কারণই হল এন্ড-ইউজার কে কেনাকাটা ও ট্রানজেকশন এর জন্য একটি কনভিনিয়েন্ট মেথড ওপেন করে দেওয়া। যেমন, Amazon, eBay, Etsy, Flipkart এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি নিশ্চিত করে যে তাদের গ্রাহকরা যেন কম্পিটিটিভ মূল্যে এবং তাদের বাড়িতে বসে সহজেই হোম-ডেলিভারি সহ সবকিছুর একসেস এক ছাদের নিচেই পেয়ে যায়।

"অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোনো ব্যক্তি (বা কোম্পানির) পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে কমিশন উপার্জন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, এখানে আপনি আপনার পছন্দের একটি প্রোডাক্ট খুঁজে বের করেন, অন্যদের কাছে এটি প্রচার করেন এবং আপনার প্রতিটি সেলস এর জন্য লাভের একটি অংশ ইনকাম করেন।" জনপ্রিয় লেখক এবং উদ্দোক্তা প্যাট ফ্লিন, এর সংজ্ঞা অনুসারে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয় হল অন্যের প্রোডাক্টের প্রমোশন করিয়ে এবং সেলস বাড়িয়ে কমিশন নেয়া।

ই-কমার্স কে ইলেকট্রনিক কমার্স কিংবা ইন্টারনেট কমার্স নামেও অভিহিত করা হয়। ই-কমার্স হলো কোনো পণ্য কিংবা সেবা আমরা যখন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদনা করি।

ই-কমার্স উদ্যোক্তাকে গণতান্ত্রিক করেছে, যেকেউ বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবা বিক্রি করতে সক্ষম। সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া থেকে চেকআউট ফ্লো অপটিমাইজ করা এবং পূরণ ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত, আমাদের নিবন্ধগুলো ধাপে ধাপে গাইডেন্স প্রদান করে।