20 articles
আপনি যদি বর্তমান সময়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তাহলে আপনাকে আপনার নিত্য দিনে ব্যবসার যে লাভ লোকসান তার হিসাব রাখতে হবে। তার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিদিনকার হিসাবের জন্য তিন ধরনের হিসাব খাতা ব্যবহার করে থাকেন। আই বিবৃতির খাতায় কোম্পানি তার প্রতিদিনকার লাভ এবং খরচ লিখে থাকে। ব্যালেন্স শীটে কোম্পানি তার সম্পদ, দায় এবং স্টকহোল্ডার ইকুইটির হিসাব রাখে।এবং নগদ প্রবাহ বিবৃতিতে কোম্পানি ব্যবসায় টাকা কোথা থেকে আসে এবং সেই টাকা কোথায় ব্যয় হয় সেটার হিসাব রাখে।

ট্যাক্সেশন বা করপ্রদান হলো সরকার দ্বারা ব্যক্তি বা সংস্থার উপর বাধ্যতামূলক শুল্ক আরোপ করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের ৮০ শতাংশই আসে করপ্রদান থেকে। এপ্রিল ২০২৩ এ বাংলাদেশের ট্যাক্সের মধ্য দিয়েই আয় হয়েছে ২.৩৭৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে কর ধার্য করা হয়, প্রাথমিকভাবে সরকারী ব্যয়ের জন্য রাজস্ব বাড়ানোর জন্য, যদিও তারা অন্যান্য উদ্দেশ্যেও কাজ করে। ট্যক্সেশন এর মধ্যে দিয়ে সরকার বিভিন্ন পলিসি প্রয়োগ, সরকারি বিনিয়োগে ব্যয়, অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

আয়কর হলো ব্যক্তি, ব্যবসা এবং অন্যান্য সংস্থার দ্বারা অর্জিত আয়ের উপর সরকার কর্তৃক আরোপিত প্রত্যক্ষ কর। এটি এই নীতির উপর ভিত্তি করে যে যারা বেশি উপার্জন করে তাদের উচিত তাদের আয়ের একটি বড় অনুপাত সরকারি পরিষেবা, অবকাঠামো এবং সরকারী ব্যয়কে সমর্থন করার জন্য। ব্যক্তিরা আয়ের বিভিন্ন উৎসের উপর আয়কর প্রদান করে, যেমন মজুরি, বেতন, স্ব-কর্মসংস্থান আয়, ভাড়া আয়, সুদ, লভ্যাংশ, মূলধন লাভ এবং অন্যান্য উপার্জন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলো আয়কর প্রদান করে থাকে তাদের লাভের.একটি নির্দিষ্ট অংশের উপর।

ব্যক্তি এবং ব্যবসার ট্যাক্সেশন যে কোনো আধুনিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ট্যাক্সেশন যে কোনো আধুনিক অর্থনীতির মেরুদন্ড গঠন করে, সরকারী কার্যক্রম এবং জনসেবাকে ত্বরান্বিত করে। আপনি আয় উপার্জনকারী একজন ব্যক্তি হোক বা মুনাফা সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী হোন না কেন, আর্থিক পরিকল্পনা এবং সম্মতির জন্য ট্যাক্সের জটিলতা বোঝা অপরিহার্য। এতে সরকারী ক্রিয়াকলাপ এবং জনসেবা প্রদানের জন্য আয়, মুনাফা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের উপর কর ধার্য করা এবং সংগ্রহ করা জড়িত। ব্যক্তি এবং ব্যবসা উভয়কেই ট্যাক্স আইন এবং প্রবিধান মেনে চলতে হয়। কর্তৃপক্ষ যথাযথ সম্মতি নিশ্চিত করতে অডিট এবং তদন্ত পরিচালনা করে। কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা অথবা অ-সম্মতি জানানো হলে জরিমানা, সুদ, বা অন্যান্য আইনি পরিণতি হতে পারে।

ব্যক্তিদের উপর কর আরোপ যে কোনো আধুনিক সমাজের একটি মৌলিক দিক। ব্যক্তি এবং ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত কর একটি দেশের সরকারকে দেশ পরিচালনায় সহায়তা করে। মজুরি, বেতন, বিনিয়োগ আয় এবং ব্যক্তিগত আয়ের অন্যান্য উৎস সহ ব্যক্তিদের উপার্জনের উপর সরকার দ্বারা ব্যক্তিগত কর আরোপ করা হয়। কর ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে যেখানে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা করের বোঝার একটি বড় অংশ বহন করবে। প্রতিটি কর্মজীবী ব্যক্তির জন্য কর প্রদান অপরিহার্য, কারণ এটি আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।

ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স এবং রিপোর্টিং হল একটি আদর্শ ট্যাক্স সিস্টেমের ভিত্তি । ট্যাক্স সম্মতির মধ্যে ট্যাক্স আইন, নিয়মকানুন মেনে চলা, ব্যক্তি এবং ব্যবসাগুলির দায়িত্ব। জরিমানা এড়াতে এবং কর ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে সময়মত এবং সঠিক ট্যাক্স রিপোর্টিং অপরিহার্য। অন্যদিকে ট্যাক্স রিপোর্টিং ট্যাক্স রিটার্নের মাধ্যমে কর কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক এবং সঠিক আর্থিক তথ্য প্রদান করে। ট্যাক্স রিপোর্টিং ট্যাক্স সম্মতি যাচাই করতে সাহায্য করে, সঠিক কর সংগ্রহ নিশ্চিত করে এবং পাবলিক সার্ভিসের অর্থের হিসাব ঠিক রাখে। ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স এবং ট্যাক্স রিপোর্টিং উভয়ই ট্যাক্স সিস্টেমের স্বচ্ছলতায় অবদান রাখে, ব্যক্তি এবং ব্যবসার জন্য দায়ী আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রচার করে।

আর্থিক বা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং এ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপের লেনদেনের রেকর্ডিং, সংক্ষিপ্তকরণ এবং রিপোর্ট করা হয় । এই লেনদেনগুলি আর্থিক বিবৃতি তৈরিতে সংক্ষিপ্ত করা হয় - ব্যালেন্স শীট, আয় বিবৃতি এবং নগদ প্রবাহ বিবৃতি সহ - যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোম্পানির অপারেটিং কর্মক্ষমতা রেকর্ড করে৷ একজন আর্থিক হিসাবরক্ষক এর কাজের সুযোগ সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে। একজন আর্থিক হিসাবরক্ষকের দায়িত্বগুলি একজন সাধারণ হিসাবরক্ষকের থেকে আলাদা হতে পারে, যারা সরাসরি কোম্পানি বা সংস্থার জন্য কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করে।

আর্থিক রেকর্ডিংয়ে একটি ব্যবসার সমস্ত অর্থ-সম্পর্কিত হিসাবের বিস্তারিত রেকর্ড রাখা হয়। আর্থিক লেনদেন এ অর্থ বিনিময়, বিক্রয় এবং ব্যয়ের মতো ঘটনা হিসেব করা হয় । উভয়ই অপরিহার্য কারণ তারা ব্যবসাগুলিকে তাদের অর্থের ট্র্যাক রাখতে, সিদ্ধান্ত নিতে, কর দিতে, বাজেট তৈরি করতে এবং বিনিয়োগকারী এবং ঋণদাতাদের মতো অন্যদের কাছে তাদের আর্থিক অবস্থা দেখাতে সহায়তা করে। সঠিক রেকর্ডিং এবং ট্র্যাকিং ব্যতীত, ব্যবসাগুলি বুঝতে পারে না তাদের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তারা কত উপার্জন করছে বা কার্যকরভাবে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করছে।

ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার সময়, আপনি আপনার করের বোঝা কমাতে পারেন। আপনি আপনার মোট করের উপর বিভিন্ন ছাড় পেতে পারেন। করের পরিমাণ কমানোর এই প্রক্রিয়া কে বলা হয় কর রিবেইট। ট্যাক্স রিবেট মূলত ট্যাক্স কমানোর দাবিকে বোঝায় যা একজন করদাতা কর দাখিল করার সময় তার করের উপর করতে পারেন। এক বা একাধিক প্রযোজ্য ট্যাক্স রিবেটের জন্য ফাইল করা একজন করদাতাকে তার সামগ্রিক করের পরিমাণ অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাকাউন্টিং একটি কোর সাবজেক্ট হলেও অ্যাকাউন্টিং এর চারটি ফ্লেভার বা টাইপ রয়েছে। ট্যাক্স অ্যাকাউন্টিং , প্রজেক্ট অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং , কস্ট অ্যাকাউন্টিং । ফিল্ড ভেদে এই টাইপগুলোর আলাদা মেথড রয়েছে এবং আলাদা স্ট্রাকচার রয়েছে। প্রতিটা ফিল্ড ই সমান গুরুত্বপূর্ণ আর বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই এই অ্যাকাউন্টিং প্রিন্সিপালগুলো ফলো করা হয়।

অডিটিং এ একটা কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল আর অ্যাকাউন্টিং এর রেকর্ড করে চেক করে নিশ্চিত করা হয় কোম্পানির হিসাব এবং স্টেটমেন্ট গুলো সম্পূর্ণ ঠিক রয়েছে কিনা। এই অডিট পরিচালনার জন্য কিছু প্রিন্সিপাল রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে রিস্ক এসেসমেন্ট এবং প্ল্যানিং। সিএ ফার্মগুলোকে কোম্পানি অনুসারে প্ল্যানিং এবং রিস্ক এসেসমেন্ট পরিবর্তন করতে হয়। প্ল্যনিং আর রিস্ক এসেসমেন্ট ফার্মের একটা ওভারল স্কেচ তাদের সামনে তুলে ধরে।

অডিটিং একটা কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল আর অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন চেক করার প্রক্রিয়া যেখানে দেখা হয় কোম্পানি টা ফাইন্যান্সিয়ালি কত ভালো করছে আর কোম্পানির হিসেব আর বাকি বিষয় ঠিক আছে কিনা। ওডিট যারা করে থাকেন তাদের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বলা হয় এবং তারা সি এ ফার্মে কাজ করে থাকে। প্রতিটি বড় বড় প্রতিষ্ঠানকেই বছরে কমপক্ষে অডিট করতে হয়। Deloitte, PwY, EY বিশ্বর কিছু নামকরা অডিট ফার্ম। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে সি এ ফার্মগুলোর যাত্রা শুরু হয়। এখন ICAB এর আন্ডারে প্রায় ১৫০ টির মতো সি এ ফার্ম র্যয়েছে।

এক্রুয়াল একাউন্টিং আপনাকে আপনার বিজনেসের ইনকাম, এক্সপেন্স, লসেস কিংবা সেভিংস এর একটি টোটাল ওভারভিউ প্রোভাইড করে। সাথে আপনার কোম্পানির প্রেজেন্ট ফাইনান্সিয়াল কন্ডিশনের একটা একুরেট লে আউট অফার করে। সার্বজনীনভাবে, আয় পরিমাপ করার জন্য এক্রুয়াল একাউন্টিং, বিজনেসের আর্থিক পরিস্থিতি এবং গ্রোথ এর একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।

একটি ব্যবসায় টাকার হিসাব রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ এবং এগুলোর জন্য অ্যাকাউন্টেন্ট নিয়োগ করা হয়ে থাকে। একজন অ্যাকাউন্টেন্ট এর স্যালারি তার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে হাজার থেকে লাখের ঘরে পৌছুতে পারে। যারা নতুন ব্যবসায় শুরু করে তাদের জন্য শুরুতে এরকম জায়গায় খরচ করার সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই এই সকল স্টার্টআপ এর ক্ষেত্রেও অ্যাকাউন্টিং এর কিছু নিয়ম রয়েছে। স্টার্টআপ অ্যাকাউন্টিং একটি নতুন ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন, ডেটা রেকর্ডিং, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করার পদ্ধতিগত প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এটিতে অর্থের প্রবাহ, এবং স্টার্টআপের ক্রিয়াকলাপ এবং কর্মক্ষমতার একটি স্পষ্ট আর্থিক চিত্র প্রদান করা হয়।

ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিং বলতে একটি কোম্পানির দৈনন্দিন আর্থিক ক্রিয়াকলাপগুলি পরিচালনা করার জন্য হিসাবরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনাগত অ্যাকাউন্টিং বোঝায় যেটি দিয়ে পরবর্তীতে ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করা হয় । ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিং আর্থিক ট্র্যাকিং, বিশ্লেষণ, রেকর্ডকিপিং, বাজেট এবং আরও অনেক কিছুর মাধ্যমে বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন স্তরের সাথে জড়িত। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিং সাধারণত বড় কর্পোরেশনের সাথাসাথি ছোট ব্যবসার জন্য হয়। কোম্পানির আকার এবং চাহিদার উপর নির্ভর করে ব্যবসাগুলি তাদের ব্যবসার অ্যাকাউন্টিং ইন-হাউস বা একটি অ্যাকাউন্টিং ফার্মের সাথে পরিচালনা করতে পারে। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টিংয়ের মূল হল ব্যবস্থাপনা, তাই বেশিরভাগ মূল উপাদানের মধ্যে নগদ প্রবাহ, খরচ এবং ইনভেন্টরির মতো জিনিসগুলি নিরীক্ষণ করার পদক্ষেপ জড়িত। আর্থিক উপদেষ্টারা ব্যবসার মালিকদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য ব্যবসার অ্যাকাউন্টিং দ্বারা সংগৃহীত আর্থিক ডেটা ব্যবহার করতে পারেন।

GAAP (সাধারণত গৃহীত অ্যাকাউন্টিং নীতিগুলি) হল হিসাববিজ্ঞানের একটি গাইডলাইন এবং অনুশীলনের একটি সেট যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আর্থিক অ্যাকাউন্টিং এবং রিপোর্টিং কীভাবে প্র্যাকটিস করা উচিত তা সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। এই নীতিগুলি ব্যবসা এবং সংস্থাগুলিকে তাদের আর্থিক লেনদেন সঠিক এবং ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড, সংক্ষেপ এবং উপস্থাপন করার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে। GAAP নিশ্চিত করে যে আর্থিক বিবৃতিগুলি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তুলনার সুবিধা দেয়, স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা, নিয়ন্ত্রক এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করে। GAAP বিস্তারিতভাবে নিয়ম এবং ধারণাগুলিকে ব্যাখা করে যা অ্যাকাউন্টিং পেশাদারদের আয় , ব্যয়ের মিল, সম্পদ মূল্যায়ন এবং আর্থিক বিবৃতি উপস্থাপনা সহ বিভিন্ন দিকগুলিতে গাইড করে। এই নীতিগুলি ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (FASB) এর মতো বিশ্বস্ত সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং সমস্যাগুলির সমাধান করতে এবং ব্যবসায়িক ল্যান্ডস্কেপের পরিবর্তনগুলি প্রতিফলিত করার জন্য সময়ের সাথে সাথে আপডেট করা হয়।

সম্পদ, দায় এবং স্টকহোল্ডার ইকুইটি এই তিনটিকে ঘিরেই হিসাব বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি ঘটিত। সম্পদ বলতে আমরা সেই সকল জিনিসকে বুঝে থাকি যেগুলো আপনি কাজে লাগাতে পারবেন যেমন টাকা । দায় বলতে আমরা সে সকল বিষয়কে বুঝিয়ে থাকি যখন আপনি কারো কাছে কোন কিছুর জন্য দায়ী থাকবেন। যেমন আপনি যদি কোন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন তাহলে আপনি ব্যাংকের কাছে ঋণী। এবং সবশেষে স্টক হোল্ডার ইকুইটি সেটি হচ্ছে আপনার এসেট থেকে দায় যদি আপনি বাদ দিয়ে থাকেন তাহলে যেটি অবশিষ্ট থাকে।

ইন্ট্যারশনাল ট্যাক্স হলো বহুজাতিক কর্পোরেশনের উপর আরোপিত কর । এই কর আইনের একটি জটিল ক্ষেত্র যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে মুনাফা এবং ট্যাক্স নিয়ে কাজ করে। মূল দিকগুলির মধ্যে স্থানান্তর মূল্য, ট্যাক্স চুক্তি, এবং বৈদেশিক-উৎস অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক কর বিধির কাজ হল ডাবল ট্যাক্সেশন হতে না দেওয়া, সঠিক কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বহুজাতিক কোম্পানির কর পরিহার রোধ করা। বৈশ্বিক অর্থনীতি যত বেশি বড় হয়ে উঠছে, সমস্যাগুলো তত জটিলাকার রূপ ধারণ করছে। দেশগুলি বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির দ্বারা ব্যবহৃত ডিজিটালাইজেশন, মুনাফা স্থানান্তর এবং ট্যাক্স পরিকল্পনার কৌশলগুলির সাথে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলায় একসাথে কাজ করছে।

অ্যাকাউন্টিং ব্যবসার জন্য একটি নোটবুকের মতো। এখানে অর্থের হিসেব রাখা হয় এবং তা ট্র্যাক করা হয়। এটি মূলত ব্যবসা এবং সংস্থাগুলির আর্থিক মেরুদণ্ড হিসাবে কাজ করে। হিসাবরক্ষকরা এই রেকর্ডগুলিকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে। আপনি যেমন আপনার পরীক্ষার স্কোর দেখে আপনার পড়ালেখার অবস্থা বোঝেন, কোম্পানিগুলি অ্যাকাউন্টিং ব্যবহার করে জানতে পারে যে তারা কি অর্থ উপার্জন করছে নাকি ব্য্যবসায় লস করছে। তারা কীভাবে করছে তা তাদের স্টকহোল্ডারদের বোঝানোর জন্য তারা আর্থিক বিবরণী নামে কিছু খাতা এবং ফাইল তৈরি করে থাকে। অ্যাকাউন্টিং এর বিভিন্ন ধরনে আছে। একধরনের অ্যাকাউন্টিং কিছু হিসাবরক্ষক কোম্পানিগুলিকে পরিকল্পনা করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সবধরনের হিসেব সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করে যাচাই করা হয়।

বিক্রয় থেকে বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বিয়োগ করলে আমরা মোট মুনাফার পরিমাণ জানতে পারি। পণ্য বিক্রয় করে প্রতিষ্ঠানটি আদৌ লাভ করছে কি না তা জানতে মোট মুনাফা আমাদের সাহায্য করে। ব্যবসায়ের তিনটি মুনাফা সূচকের ভেতর প্রথম সূচকটি হচ্ছে “মোট মুনাফা”। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে প্রতিষ্ঠান ভালো পরিমাণ মোট মুনাফা অর্জন করতে পারে, এতে করে নিট মুনাফার পরিমাণও বেশি হয়।

অ্যাকাউন্টিং হলো আর্থিক লেনদেনের পদ্ধতিগত রেকর্ডিং, শ্রেণিবিভাগ এবং সংক্ষিপ্তকরণের প্রক্রিয়া যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দরকারি তথ্য প্রদান করে। মৌলিক বুককিপিং থেকে উন্নত আর্থিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত, ব্যবসা, অর্থ বা উদ্যোক্তাদের জন্য অ্যাকাউন্টিং বোঝা অপরিহার্য।