13 articles
বিজনেস অ্যানালিসিসের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রসেসের এফিশিয়েন্সি এবং ইফেক্টিভিটি যাচাই করা সম্ভব। আর এই কাজে বিভিন্ন বিজনেস অ্যানালিসিস টুল অনেক সাহায্য করতে পারে। বিভিন্ন কোলাবোরেশন টুল যেমন Jira এবং Trello, মডেলিং টুল যেমন Bizagi এবং Pencil, প্রজেক্টমেন্ট টুল যেমন Microsoft Visio এবং IBM Rational Requisite Pro এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

MoSCoW অ্যানালিসিস হচ্ছে একটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট মেথড যা ব্যবহার করে যেকোনো প্রজেক্টের বিভিন্ন কাজকে তাদের গুরুত্ব অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয় এবং এক এক করে সেগুলোকে কমপ্লিট করা হয়। Must Have, Should Have, Could Have, Won’t Have - এই ৪টি শব্দ নিয়ে MoSCoW অ্যানালিসিস শব্দটি তৈরি করা হয়েছে।

SCRS Analysis হচ্ছে একটি প্রজেক্ট অ্যানালিসিস ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে কোনো প্রজেক্ট শুরু থেকে শেষ পর্যান্ত কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কি কি ফলাফল বের করে আনতে হবে তা নির্ধারণ করা হয়। SCRS Analysis - এর উপাদানগুলো হচ্ছে - Strategy, Current State, Requirements এবং Solution।

VPEC-T Analysis হচ্ছে একটি অ্যানালিসিস ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ইনফরমেশন সিস্টেমের ইফেক্টিভিটি এবং ক্রেডিবিলিটি অ্যানালাইজ করা হয়। VPEC-T Analysis - এর উপাদানগুলো হচ্ছে - Values, Policies, Events, Content এবং Trust।

STEER Analysis হচ্ছে একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বাইরের এক বা একাধিক কমপোনেন্ট অ্যানালাইজ করা হয় এবং সেই অ্যানালিসিস থেকে প্রাপ্ত ইনসাইট ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। STEER Analysis - এর কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে - Sociocultural, Technological, Economic, Environmental এবং Regulatory Factors।

MOST - এর ফুলফর্ম হচ্ছে Mission, Objectives, Strategies এবং Tactics। MOST অ্যানালিসিস হচ্ছে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক, যা ব্যবহার করে একটি কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অ্যানালাইজ করা হয় এবং এতে করে কোম্পানীর কালচার এবং বিভিন্ন ইন্টার্নাল প্রসেসকে আরো বেশি এফিশিয়েন্ট করে তোলা সম্ভব হয়। MOST অ্যানালিসিসের মাধ্যমে কোম্পানীর মিশন এবং ভিশনকে ছোট ছোট এবং আরো বেশি অর্জনযোগ্য অবজেক্টিভ-এ রুপান্তর করা হয়।

CATWOE অ্যানালিসিস হচ্ছে যেকোনো সমস্যা বা সিচুয়েশনকে অ্যানালাইজ করার একটি রোবাস্ট এবং সাবজেক্টিভ মেথড। এই স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করে যেকোনো সমস্যার সাথে জড়িত ৬টি উপাদান বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো Customers/Clients, Actors, Transformation Process, Worldview, Owners এবং Environmental Restraints।

৫ বার ‘কেনো?’ প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান খুজে বের করাকে রুট কজ অ্যানালিসিস বলে। মূলত রুট কজ অ্যানালিসিসের আরও কিছু পদ্ধতি থাকলেও এই পদ্ধতিটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন্যসকল পদ্ধতির থেকে এর কার্যকারিতা অনেক বেশি।

ব্যবসা শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — ঠিক কতটি পণ্য বিক্রি করলে আমার ব্যবসা লাভের মুখ দেখবে? ব্রেক-ইভেন অ্যানালিসিস সেই উত্তর দেয়। এই আর্টিকেলে সূত্র, তিনটি বাস্তব উদাহরণ (চায়ের দোকান, টি-শার্ট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট), ৯টি ডেটা টেবিল, সীমাবদ্ধতা, ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট কমানোর কৌশল এবং ধাপে ধাপে গণনা পদ্ধতি — সব কিছু সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Six Thinking Hats হচ্ছে একটি ডিসিশান মেকিং ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে কোনো টিম একটি সমস্যার সকল এস্পেক্ট চিহ্নিত করে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌছাতে পারে। Six Thinking Hats-এর ৬টি হ্যাট হচ্ছে Blue Hat, White Hat, Green Hat, Yellow Hat, Red Hat এবং Black Hat। মূলত এই ৬টি হ্যাট দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের সকল প্রকার চিন্তা করার প্রবণতাকে রিপ্রেজেন্ট করার চেষ্টা করা হয়।

বিজনেস অ্যানালিসিস - এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বাহিরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনার মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করা হয়। মূলত এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন চাহিদা আইডেন্টিফাই করা হয় এবং সেই চাহিদা পূরণের উপায় খুজে বের করা হয়। শুধু আইডেন্টিফাই এবং সমাধান বের করার মাঝেই বিজনেস অ্যানালিসিস সীমাবদ্ধ নয় বরং সমাধান অ্যাপ্লাই করার জন্য যথার্থ পরিকল্পনা তৈরিতেও বিজনেস অ্যানালিসিস কাজে আসে।

PESTLE বিশ্লেষণ একটি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক যার মাধ্যমে কোম্পানীর বাহ্যিক পরিবেশের উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করা স্ট্র্যাটেজিক মার্কেটিং পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। PESTLE - এর পূর্ণরূপ হলো Political, Economic, Social, Technological, Legal এবং Environmental Factors। PESTLE বিশ্লেষণ করার জন্য কোম্পানীর বাইরে থেকে ইনফরমেশন কালেক্ট করে সেগুলোকে উপরিউক্ত ছয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হয়।

‘SWOT’ Analysis বা বিশ্লেষণ মূলত একটি পরিকল্পনা করার প্রক্রিয়া যা একটি অর্গানাইজেশনের চ্যালেঞ্জ গুলো কাটিয়ে উঠে নতুন কোন কোন দিকগুলোকে অনুসরণ করতে পারে তা নির্ধারণ করতে সহায়তা করে। ‘SWOT’ এই এক্রোনিমটি ভাঙলে যথাক্রমে Strengths, Weaknesses, Opportunities & Threats অর্থাৎ শক্তিমত্তা, দুর্বলতা, সুযোগ এবং হুমকিসমূহ এই বিষয়গুলো বের হয়ে আসে। সুতরাং, একটি ‘SWOT’ বিশ্লেষণ কোন অর্গানাইজেশনের জন্য এই চারটি দিক মূল্যায়ন করার চমৎকার একটি কৌশল। খুব সহজভাবে বলতে গেলে, “নিজের সম্পর্কে ভালো দিক গুলো কি তা জানা, কি কি দুর্বল দিক নিজের রয়েছে তা খুঁজে বের করা, সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে আশেপাশের সুযোগসুবিধা গুলোর দিকে খেয়াল রাখা এবং আগত বিপদসমূহ কৌশলের সাথে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকা” এইযে বিষয়গুলোই একসাথে ‘SWOT’ Analysis।

বিশ্লেষণ হলো জটিল ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বোধগম্য উপাদানে ভেঙে ফেলার শিল্প। SWOT এবং PESTLE ফ্রেমওয়ার্ক থেকে আর্থিক অনুপাত বিশ্লেষণ এবং বাজার গবেষণা পর্যন্ত, বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনা উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।