38 articles
বাজেটের আকার দেখে ভালো-মন্দ বিচার করা যায় না। আসল মাপকাঠি পাঁচটা। টাকা আসছে কোথা থেকে? খরচ ভবিষ্যৎ গড়ছে, নাকি শুধু ঋণ শোধ করছে? ঘাটতি মেটানো হচ্ছে কীভাবে? সরকার আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিকে যাচ্ছে কি না? এবং ভর্তুকির বড় অংশ যাচ্ছে কাদের কাছে? FY27 বাজেট পাঁচটা মাপকাঠির একটাতেও ভালো করছে না। সিঙ্গাপুর, নরওয়ে, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। মূলত বাজেটের শৃঙ্খলাই ৩০ বছরে একটা প্রজন্মের ভাগ্য বদলায়।

বাংলাদেশ ২০২২-২০২৬ সালে এক বিরল ও বিপজ্জনক অর্থনৈতিক অবস্থায় ঢুকেছে — উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (১০%+), নিম্ন GDP প্রবৃদ্ধি এবং taka depreciation একসাথে। এর নাম stagflation — ১৯৭০-এর US-কেও যা মাটিতে নামিয়েছিল। সাধারণ মুদ্রানীতি এটির বিরুদ্ধে কাজ করে না, কারণ inflation কমাতে rate বাড়ালে growth আরো কমে। এই লেখায় বাংলাদেশের stagflation কোথা থেকে এলো, কেন এটি এত বিপজ্জনক এবং কীভাবে এর থেকে বের হওয়া সম্ভব, সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ২০০৯-২০২২ সালের ১৪ বছরের অর্থনৈতিক উত্থানের ভেতরেই ভেঙে পড়ার বীজ লুকিয়ে ছিল — যা ২০২২-২০২৪ সালের সংকটে প্রকাশ পেয়েছে। GDP দ্রুত বাড়ছিল, মেগা-প্রজেক্ট চলছিল, RMG export $৪২ বিলিয়ন ছুঁয়েছিল — কিন্তু এর নিচে ছিল গভীর ঋণ-নির্ভরতা, banking capture এবং রিজার্ভ ক্ষয়। এই লেখায় Boom-Bust Cycle তত্ত্ব দিয়ে বাংলাদেশের এই সংকট কীভাবে এলো, কোন signals miss হয়েছিল এবং সামনে কী আশা করা যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

Adam Smith-কে 'পুঁজিবাদের জনক' বলা হয় তাঁর Invisible Hand (অদৃশ্য হাত) ধারণার জন্য -- যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাজের কল্যাণ করে। কিন্তু একটি চমকপ্রদ তথ্য: Smith তাঁর সমগ্র রচনায় 'Invisible Hand' শব্দটি মাত্র ৩ বার ব্যবহার করেছেন (The Theory of Moral Sentiments-এ ১ বার, The Wealth of Nations-এ ১ বার, History of Astronomy-তে ১ বার)। অন্যদিকে তাঁর প্রথম এবং প্রিয় বই The Theory of Moral Sentiments (১৭৫৯)-এর কেন্দ্রীয় ধারণা 'Impartial Spectator' (নিরপেক্ষ দর্শক) -- একটি অভ্যন্তরীণ নৈতিক কণ্ঠ যা সহানুভূতি, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে মানুষকে পরিচালিত করে। তাহলে পুঁজিবাদ কেন Smith-এর নৈতিক দর্শন বাদ দিয়ে শুধু স্বার্থের তত্ত্ব গ্রহণ করলো? এই আর্টিকেলে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।

Adam Smith (১৭২৩-১৭৯০) কে 'আধুনিক অর্থনীতির জনক' বলা হয়, কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় ছিল একজন নৈতিক দার্শনিক। তাঁর প্রথম এবং প্রিয় বই The Theory of Moral Sentiments (১৭৫৯)-এর কেন্দ্রীয় ধারণা 'Impartial Spectator' -- সহানুভূতি ও ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অভ্যন্তরীণ নৈতিক কণ্ঠ। Emma Rothschild-এর (Harvard UP 2001) প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী Smith 'Invisible Hand' শব্দটি সমগ্র রচনায় মাত্র ৩ বার ব্যবহার করেছেন। তবু পুরো বিশ্ব তাঁকে শুধু Invisible Hand-এর জন্য মনে রাখে এবং Impartial Spectator ভুলে গেছে। এই আর্টিকেলে Smith-এর জীবনী, উভয় বইয়ের বিশ্লেষণ, মূল ধারণা, ভুল বোঝাবুঝি, প্রভাব এবং আজকের প্রাসঙ্গিকতা -- সবকিছু সেই হারিয়ে যাওয়া নৈতিক দর্শনের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অর্থনীতি কখনো সরলরেখায় চলে না — এটি সবসময় উঠানামা করে। Boom হলো দ্রুত প্রবৃদ্ধির সময়: কর্মসংস্থান বাড়ে, দাম বাড়ে, আশাবাদ তুঙ্গে। Bust হলো পতনের সময়: GDP কমে, ছাঁটাই হয়, হতাশা ছড়ায়। ১৮৫৪ সাল থেকে NBER-এর তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪টি ব্যবসায়িক চক্র হয়েছে। ২০০৬ সালে সবাই বাড়ি কিনছিল, ২০০৮-এ ক্র্যাশ, ২০২০-এ COVID crash, ২০২১-এ boom, ২০২২-এ inflation bust — এই প্যাটার্ন বারবার পুনরাবৃত্তি হয়। কেন ঘটে, কীভাবে কাজ করে, ইতিহাসের বড় চক্রগুলো কেমন ছিল এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব কী — এই বিস্তারিত গাইডে সব বিশ্লেষণ।

মুদ্রাস্ফীতি কি জনগণের সম্পদ চুরি করার নীরব কর নাকি অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়োজনীয় জ্বালানি? Milton Friedman বলেন এটা সরকারের চুরি, Paul Krugman বলেন এটা ছাড়া অর্থনীতি থেমে যায়। এই নিবন্ধে দুই পক্ষের যুক্তি, ঐতিহাসিক প্রমাণ, বাংলাদেশের ডেটা ও বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদদের মতামত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে: মাঝারি মুদ্রাস্ফীতি (২-৪%) জ্বালানি, অনিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি (৮%+) নীরব কর।

GDP (Gross Domestic Product) হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মোট আর্থিক মূল্য -- কিন্তু এটি কি সত্যিই উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র দেখায়? ইকুয়েটোরিয়াল গিনির GDP per capita $7,000+ অথচ জনগণের ৭৭% দরিদ্র। আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি কিন্তু সুখ সূচকে ১৫তম। ভুটানের GDP ক্ষুদ্র কিন্তু Gross National Happiness-এ বিশ্বনেতা। এই আর্টিকেলে GDP-র সংজ্ঞা, গণনা পদ্ধতি, ১০টি মৌলিক সীমাবদ্ধতা, বিশ্বব্যাপী GDP প্যারাডক্স, বিকল্প মেট্রিক (HDI, GNH, Gini, GPI), এবং Beyond GDP আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট হলো হঠাৎ ও তীব্র অর্থনৈতিক পতন যেখানে GDP কমে, বেকারত্ব বাড়ে, ব্যাংক ব্যর্থ হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। ১৯২৯-এর মহামন্দা থেকে ২০০৮-এর বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, ২০২০-এর কোভিড ধাক্কা থেকে ২০২২-এর মুদ্রাস্ফীতি -- ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে সংকট অনিবার্য কিন্তু পুনরুদ্ধারও সম্ভব। এই আর্টিকেলে সংকটের কারণ, ইতিহাসের ভয়াবহ উদাহরণ, যুদ্ধ ও সংকটের সম্পর্ক, সরকারি মোকাবেলা কৌশল, পুনরুদ্ধারের ধরন এবং ব্যক্তিগত করণীয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অর্থনীতি শুধু অর্থনীতিবিদদের বিষয় নয় — এটি আপনার প্রতিদিনের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। চালের দাম কেন বাড়ে, বেতন কেন কমে, সরকার কেন সবকিছু বিনামূল্যে দিতে পারে না — এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে একটি মাত্র শব্দে: দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity)। এই আর্টিকেলে অর্থনীতির মূল ভিত্তি থেকে শুরু করে GDP, মুদ্রাস্ফীতি, চাহিদা-যোগান, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে — সহজ ভাষায়, বাস্তব উদাহরণে।

Debt Trap Diplomacy হলো সেই ভূ-রাজনৈতিক কৌশল যেখানে শক্তিশালী দেশ দুর্বল দেশকে বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পের জন্য ঋণ দেয় — জেনেশুনে যে দেশটি ফেরত দিতে পারবে না। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণগ্রহীতা দেশকে বন্দর, খনি বা সামরিক ঘাঁটির মতো কৌশলগত সম্পদ হস্তান্তর করতে হয়। চীনের Belt and Road Initiative (BRI) এই কৌশলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ — শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর থেকে জিবুতির সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত। তবে ঋণকূটনীতি শুধু চীনের নয় — IMF, বিশ্বব্যাংক এবং ঔপনিবেশিক শক্তিরাও ভিন্নভাবে একই খেলা খেলেছে।

IIF-এর ২০২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী বৈশ্বিক ঋণ $315 trillion ছাড়িয়েছে -- বৈশ্বিক GDP-র ৩৩০%। IMF Fiscal Monitor বলছে সরকারি ঋণ $100 trillion+ -- WWII-এর পর সর্বোচ্চ। ৬০%-এর বেশি নিম্ন-আয়ের দেশ IMF-এর debt distress classification-এ। ইতিহাসের প্রতিটি বড় অর্থনৈতিক সংকট -- ১৯২৯, ১৯৮২, ১৯৯৭, ২০০৮, ২০২২ -- মূলে ছিল অনিয়ন্ত্রিত ঋণ। এই আর্টিকেলে IMF, World Bank, IIF, BIS-এর ডেটার ভিত্তিতে প্রমাণ করা হয়েছে: পাগলা ঘোড়া ইতিমধ্যেই ছুটছে।

White Elephant বা "সাদা হাতি" হলো এমন কোনো সম্পদ, প্রকল্প বা বিনিয়োগ যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এত বেশি যে সেটা মালিকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় — কিন্তু সেটা থেকে বের হওয়াও কঠিন। শব্দটি এসেছে প্রাচীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি কিংবদন্তি থেকে, যেখানে রাজারা অপ্রিয় দরবারীদের সাদা হাতি উপহার দিতেন — যেটা ফেলে দেওয়া যায় না কিন্তু পালতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়। আধুনিক ব্যবসা, সরকারি প্রকল্প এবং ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে এই ধারণা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

যুদ্ধ মানেই ধ্বংস — এই ধারণাটা আমরা ছোটবেলা থেকে জানি। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। কিছু দেশের জন্য, কিছু শিল্পের জন্য, কিছু মানুষের জন্য — যুদ্ধ মানে বিশাল মুনাফা। এই ব্যবস্থার নাম "ওয়ার ইকোনমি" বা যুদ্ধ অর্থনীতি। দুটো বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত পর্যন্ত — প্রতিটি বড় যুদ্ধের পেছনে কাজ করছে এই অদৃশ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই লেখায় আমরা জানবো কীভাবে যুদ্ধ অর্থনীতির জন্ম হলো, কীভাবে এটি কাজ করে এবং কীভাবে আধুনিক সাম্রাজ্যগুলো এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখছে।

আজ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তেল কিনতে হোক, ঋণ নিতে হোক বা বিমান টিকিট কাটতে হোক — সবকিছুর পেছনে একটাই মুদ্রা: আমেরিকান ডলার। কিন্তু এই আধিপত্য একদিনে আসেনি। দুটো বিশ্বযুদ্ধ, একটি গোপন সম্মেলন, সোনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন এবং তেলের সাথে এক অলিখিত চুক্তি — এই সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ডলারের অদৃশ্য সাম্রাজ্য। এই লেখায় আমরা জানবো কীভাবে একটি কাগজের টুকরো পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অস্ত্র হয়ে উঠল এবং ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার কী হতে পারে।

১৯৭০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP) গৃহীত হওয়ার পর দারিদ্র্য হ্রাস, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে পাম তেল, ইলেকট্রনিক্স, এবং প্রযুক্তি খাতে মালয়েশিয়া বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

Forex Market = এক মুদ্রা থেকে আরেক মুদ্রায় কনভার্সনের বাজার — বিশ্বের সবচেয়ে বড়, দৈনিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লেনদেন। Currency Pair (Major, Minor, Exotic), Spot/Forward/Swap — এই হলো কাঠামো। Exchange Rate তিন স্তরে নির্ধারিত — চাহিদা-সরবরাহ, Interest/Inflation, PPP। বাংলাদেশ ব্যাংক Crawling Peg Regime চালাচ্ছে ২০২৪ থেকে। ২০২২-২৪-এর ডলার সংকটের পাঁচ কাঠামোগত কারণ এবং পাঁচ সমাধানের পথ। ১৯৪৪ ব্রেটন উডস থেকে ২০২৬-এর De-dollarization পর্যন্ত ইতিহাস।

মনিটারি পলিসি হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা তৈরি এক সেট নিয়মকানুন যার মাঝে ঐ অর্থবছরে দেশে মুদ্রার সরবরাহ, সুদের হার, ব্যাংকের রিজার্ভের হার কেমন হবে তা নির্ধারণ করা হবে। সাধারণত ৩টি টুলের মাধ্যমে যথা - ব্যাংক রেট, খোলাবাজার নীতি ও ব্যাংকের রিজার্ভের হার নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই ধরণের মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করতে পারে, যথা - সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতি মূল উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রাখা, বেকারত্বের হার কমানো ও এক্সচেঞ্জ রেটকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

কোনো অর্থবছরে সরকার কোন খাত থেকে কি পরিমাণ অর্থ কর হিসেবে সংগ্রহ করবে এবং কোন খাতে কি পরিমাণ অর্থ খরচ করবে, তার পরিকল্পনাকেই মূলত ফিসকাল পলিসি বা রাজস্বনীতি বলা হয়। ফিসকাল পলিসির উৎপত্তি হয়েছিল জন ম্যায়নার্ড কিনেসের হাত ধরে। বর্তমানে দুই ধরণের ফিসকাল পলিসি দেখতে পাওয়া যায়, যথা সম্প্রসারণমূলক ফিসকাল পলিসি এবং সংকোচনমূলক ফিসকাল পলিসি। ফিসকাল পলিসির কমপোনেন্টগুলো হচ্ছে - সরকারি খরচ, করারোপণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা।

প্যারিস অলিম্পিকস ২০২৪ - এর সাথে সামাজিক ব্যবসায় মডেল ইন্টিগ্রেট করে একটি ইতিবাচক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ন্যুনতম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে ও সামাজিক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পার্টনারশিপে কাজ করা হয়েছে।

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমাজের কোনো সমস্যাকে সমাধান করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাই হচ্ছে সামাজিক ব্যবসায়। সর্বপ্রথম ড. মুহাম্মদ ইউনুস দ্বারা শুরু করা এই মডেল এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে। সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সাশ্রয়ী মূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঋণ রিলেটেড পণ্য বা সেবা অফার করে থাকে।

থ্রি জিরো মডেলের উদ্ভাবক হচ্ছেন বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস। তার ২০১৭ সালের বই “A World of Three Zeros” - এ তিনি প্রথম এই মডেল প্রকাশ করেন। ৩টি পিলার নিয়ে এই মডেল গঠিত, যথা - শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ।

ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীকে স্বল্প পরিমাণ ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে তারা ব্যবসায় শুরু করেন, শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় করেন এবং নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জনের চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে দারিদ্যের হার হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব হলেও রয়েছে ঋণে জর্জরিত হয়ে পরার সম্ভাবনা।

সাধারণত মার্কেট বলতে একটি নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায়, যেখানে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয়। কিন্তু অর্থনীতির ভষায় মার্কেট বলতে কোন স্থানকে বোঝায় না, বরং ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করাকে বাজারে বলে। ক্ষেত্রবিশেষে বাজার অনেক রকমের হয়ে থাকে: পাটের বাজার, স্বর্ণের বাজার, গমের বাজার, সবজির বাজার ইত্যাদি।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া এবং বেশ কয়েকমাস এই অবস্থা স্থায়ী হওয়াকেই মন্দা বা অর্থনৈতিক মন্দা বলে। অর্থনীতির ভাষায়, ধারাবাহিক ভাবে দুটি অর্থনৈতিক পিরিয়ডে বা ৬ মাস পর্যন্ত জিডিপি গ্রোথ রেট নিম্নমুখী বা নেগেটিভ থাকলে তাকে মন্দা বা রেসিশন বলে। ৬ মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে কোন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনাতীত ভাবে হ্রাস পাওয়াকে মন্দা বুঝায়। এই পরিস্থিতিতে একটি দেশের জিডিপি কমবে, উৎপাদন কমবে, আয় কমবে, বেকারত্বের হার বাড়বে, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে, জীবন-যাত্রার উপর খারাপ প্রভাব পরবে। এই অবস্থা যখন দীর্ঘায়িত হয় এবং চরম আকার ধারণ করে তখন তাকে মহামন্দা বলে।

সাধারণ অর্থে কোন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কোন পণ্য বা সেবার দাম টাকার অঙ্কে বেড়ে গেলে তাকে মূল্যস্ফীতি বলে। অর্থনীতির ভাষায় মূল্যস্ফীতি বলতে বুঝায়, অর্থের চাহিদার তুলনায় যদি যোগান বেড়ে যায় বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি ঋণের প্রসার ঘটায় কিংবা শ্রমিক সংঘ যদি উচ্চ মজুরি দাবি করে, এই পরিস্থিতিতে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে মূল্যস্ফীতি বলে।

বাজেট হলো কোন দেশের সরকার একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করবে এবং কোন খাত থেকে কত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করবে বা আয় করবে সেই হিসেবকে বুঝায়। অল্প কথায়, বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য সব আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব-নিকাশের বিবরণী। যা একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সরকারের ব্যয় ও রাজস্বসমূহের একটি পূর্বাভাষ।

আমরা যখন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তখন অনেকগুলো ভালো অপশন থেকে সর্বোত্তম টা গ্রহণ করি, যার ফলে দ্বিতীয় সর্বোত্তম অপশনটি আমরা ছেড়ে দেই, যাকে সুযোগ ব্যয় বা Opportunity Cost বলে। একটি জিনিস পাওয়ার জন্য যে সর্বোত্তম বিকল্পটি হারাতে হয়, তাকেই সুযোগ ব্যয় বলে।

ট্যাক্সেশন শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে করারোপণ বা করারোপ। এককথায় করবিধি হচ্ছে ট্যাক্সেশন। ট্যাক্সেশন শব্দটি ট্যাক্স শব্দের বিশেষ্য বা ক্রিয়া রূপ। ট্যাক্স শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'ট্যাক্সো' থেকে যার অর্থ হল একটি আজ্ঞাধীন আর্থিক মূল্য যা করদাতা একক কিংবা অন্যান্য আইনগত সত্তা'র উপর সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আরোপিত হয়েছে সর্বসাধারণের বিভিন্ন ব্যয়ের তহবিল গঠনের জন্য।সহজ কথায় ট্যাক্সেশন হলো ট্যাক্স ধার্য করা।রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার জনসাধারণের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে তাকে ট্যাক্স বা কর বলে।আর এই ট্যাক্স ধার্য করা,আদায় করা সম্পূর্ণ কাজটাই হচ্ছে ট্যাক্সেশন।

GDP এর পূর্ণরুপ হল "Gross Domestic Product'', অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (সাধারণত ১ বছর) একটি দেশের মধ্যে উৎপাদিত (এবং বাজারে বিক্রি হওয়া) সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার মোট আর্থিক মূল্যকে জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বলা হয়ে থাকে। সাধারণত কোনো একটি দেশে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদিত অথবা তৈরীকৃত মোট পণ্য এবং সেবার সমষ্টিকেই জিডিপি বলে।

ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) হল একটি অর্থনৈতিক সূচক যা সময়ের সাথে সাথে সাধারণ ভোক্তাদের দ্বারা ক্রয়কৃত পণ্য ও সেবার গড় মূল্য পরিবর্তনকে পরিমাপ করে। এটি মূলত মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy অর্থনীতির এমন একটি বিষয় যেখানে একটি দেশের সামুদ্রিক পরিবেশ কিংবা সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতিকেই সুনীল অর্থনীতি বা Blue Economy বলা হয়। অর্থাৎ ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। অর্থাৎ সমুদ্র থেকে আহরণকৃত যেকোনো সম্পদ যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে বা যুক্ত হয়, তাই ব্লু-ইকোনমির পর্যায়ে পড়বে।

সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) পুরো দেশ বা বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলে — GDP, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, মুদ্রানীতি। ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) একটি ব্যক্তি, পরিবার বা কোম্পানির সিদ্ধান্ন নিয়ে কথা বলে — চাহিদা-সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ, বাজার কাঠামো। সহজ ভাষায়: Macro = বড় ছবি, Micro = ছোট ছবি। এই আর্টিকেলে দুই শাখার সংজ্ঞা, পার্থক্য, সম্পর্ক, বাস্তব উদাহরণ এবং কেন দুটোই জানা দরকার।

সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকলে দ্রব্যের দাম কমলে যোগান কমে এবং দাম বাড়লে যোগান বাড়ে। দাম এবং যোগানের এই সম্পর্ককেই যোগান বিধি বা Law of Supply বলে। দামের সঙ্গে যোগানের যে আপেক্ষিক বা ক্রিয়াগত সম্পর্ক বিদ্যমান তাকেই যোগান বিধি বলে।

দাম ও চাহিদার মধ্যে যে আপেক্ষিক বা ক্রিয়াগত সম্পর্ক বিদ্যমান তাকে চাহিদা বিধি বা Law of Demand বলে। সাধারণত কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদা হ্রাস পায় এবং দাম কমলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। দাম এবং চাহিদার মধ্যকার এই ক্রিয়াগত সম্পর্ক যে বিধির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকেই চাহিদা বিধি বলে।

অর্থশাস্ত্রের যে অংশে সামগ্রিক বা জাতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় তাকে সামষ্টিক অর্থনীতি বা Macro Economics বলে। অর্থাৎ সামষ্টিক অর্থনীতিতে পৃথক পরিমাণের পরিবর্তে সমষ্টিগত পরিমাণ, ব্যক্তিগত আয়ের পরিবর্তে জাতীয় আয়, নির্দিষ্ট দ্রব্যের দামের পরিবর্তে সাধারণ দামস্তর এবং ব্যক্তিগত উৎপাদনের পরিবর্তে জাতীয় উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) হলো অর্থনীতির সেই শাখা যা ব্যক্তি, পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে। চাহিদা ও সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ, বাজার কাঠামো, Elasticity, Utility, Opportunity Cost -- এগুলো এই শাখার মূল ধারণা। এই লেখায় Microeconomics-এর সংজ্ঞা, মূল ধারণাসমূহ, পরিধি, বাজার কাঠামো (Perfect Competition, Monopoly, Oligopoly, Monopolistic Competition), বাস্তব প্রয়োগ, Macro-র সাথে পার্থক্য, সুবিধা-সীমাবদ্ধতা, মূল চিন্তাবিদ, এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অর্থনীতি হলো সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম চাহিদা পূরণের বিজ্ঞান — কীভাবে ব্যক্তি, পরিবার, ব্যবসা এবং সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কী উৎপাদন করবে, কীভাবে বণ্টন করবে এবং কার জন্য করবে। Adam Smith per published 'Wealth of Nations' (1776) থেকে শুরু করে আজকের behavioral economics পর্যন্ত — অর্থনীতি শুধু GDP আর মুদ্রাস্ফীতি নয়, এটা আপনার প্রতিদিনের চায়ের দাম থেকে চাকরির বাজার পর্যন্ত সব কিছু ব্যাখ্যা করে।

অর্থনীতি ব্যাখ্যা করে সমাজ কীভাবে সীমিত সম্পদ বরাদ্দ করে। চাহিদা ও যোগানের মাইক্রোইকোনমিক নীতি থেকে সমগ্র জাতিকে প্রভাবিত করে এমন ম্যাক্রোইকোনমিক নীতি সিদ্ধান্ত পর্যন্ত, অর্থনীতি বোঝা আপনাকে উন্নত আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে ক্ষমতায়ন করে।